গবাদিপশুর জন্য ৩৫ লাখ টিকা আমদানি

গবাদিপশুর জন্য ৩৫ লাখ টিকা আমদানি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় এসব টিকা আমদানি করা হয়েছে।

গবাদিপশুর রোগ নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া থেকে উন্নতমানের ৩৫ লাখ ডোজ টিকা আমদানি করেছে সরকার।

মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় এসব টিকা আমদানি করা হয়েছে।

টিকাগুলোর মধ্যে পাবনায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০; সিরাজগঞ্জে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০; মানিকগঞ্জে ৬ লাখ ৭০ হাজার এবং ভোলায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার ডোজ পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের নিশ্চয়তা প্রদান ও বিশ্ববাজারে দেশের প্রাণিজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দেশের ডেইরি খাত ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বিধায় পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানি করছে সরকার।’

৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ২৮৬ ডোজ টিকা আমদানির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ ডোজ অতিসম্প্রতি রাশিয়া থেকে দেশে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক গরু, ছাগল, মহিষ এবং ভেড়া ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হচ্ছে, যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’

করোনা মহামারির এ সময়ে খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এ ভ্যাকসিন কার্যকর ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‌‘করোনা সংকটে সরকার খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।’

অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীলতার দিক থেকে গবাদিপশুর সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, যা সংক্ষেপে এফএমডি নামে পরিচিত।

সাধারণত গবাদিপশুর ক্ষুর বেশি আক্রান্ত হয় বলে একে ক্ষুরা রোগ বলা হয়। এ রোগ দেশের ডেইরি শিল্পের অন্যতম প্রধান রোগ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

শেয়ার করুন

‘প্রণোদনায় মজবুত খাদ্য-কৃষির অবস্থান’

‘প্রণোদনায় মজবুত খাদ্য-কৃষির অবস্থান’

সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী কৃষিতে আওয়ামী লীগের অবদান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০ বছর আগে ১৯৯৯-২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। সেটা বর্তমান সরকারের সময়ও ধরে রেখেছে।

বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষির অবস্থা খুব মজবুত অবস্থানে আছে বলে উল্লেখ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক

কৃষিমন্ত্রী মঙ্গলবার খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৪২তম সম্মেলনে ‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার’ আয়োজনে বাংলাদশের অবস্থা তুলে ধরে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলক কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ওই সম্মেলনে যুক্ত হন।

সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী কৃষিতে আওয়ামী লীগের অবদান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০ বছর আগে ১৯৯৯-২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। সেটা বর্তমান সরকারের সময়ও ধরে রেখেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছি।’

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকেই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ অব্যাহত রাখা ও দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনতে নানামুখী প্রণোদনা দেয়া হয়। এ ছাড়া কৃষিখাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘কোভিড পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও নির্দেশনায় দেশে কৃষির উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের ধারা অব্যাহত থাকে এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ১১ লাখ রোহিঙ্গাও দেশে রয়েছে। যা আমাদের সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’

তিনি এ সময় উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এফএও ৩৬তম এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওনাল কনফারেন্স (এপিআরসি-৩৬) ২০২২ সালের মার্চের ৮-১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলন সাফল্যমণ্ডিত করতে কৃষিমন্ত্রী এফএও দেশগুলোর সহযোগিতা চান।

গত বছর এপিআরসি ৩৫তম সম্মেলনে বাংলাদেশ ৩৬তম সম্মেলনের আয়োজক হিসাবে মনোনীত হয়।

করোনার কারণে ভার্চুয়ালি ১৪-১৮ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের সম্মেলন। কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।

ঢাকা থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার, যুগ্ম সচিব তাজকেরা খাতুন, উপসচিব আলী আকবর ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব বিধান বড়াল অংশগ্রহণ করছেন।

ইতালির রোম থেকে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ও ইকনোমিক কাউন্সিলর মানস মিত্র।

শেয়ার করুন

১০ কেজি মরিচের দামে ১ কেজি চাল

১০ কেজি মরিচের দামে ১ কেজি চাল

নীলফামারীতে মরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পারছেন না চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা

আবাদ খরচ না ওঠার অভিযোগে মোমেনের মতো অনেক চাষি ক্ষেতেই মরিচ নষ্ট করার চিন্তা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই মরিচের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা।

‘এক বিঘা জমিত মরিচ আবাদ করছু। বাজারোত দাম নাই। জমি থাকি মরিচ তুলি নাই। মরিচ ক্ষেতে নষ্ট হয়া গেইছে। তারপরও কিছুটা উঠায় বিক্রি করিবার নাগেছে। মনে হয়ছে মরিচগুলো রাস্তাত ছিটি দেও।’

আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারীর পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের মৌজা পাঙ্গা গ্রামের মরিচচাষি আব্দুল মোমেন।

চাষের খরচ না ওঠার অভিযোগে মোমেনের মতো অনেক চাষি ক্ষেতেই মরিচ নষ্ট করার চিন্তা করছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই মরিচের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা।

জেলার ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কারেন, জিরা, বিন্দু, সাপ্লাই, হটমাস্টার, জামাই ও করিম বিন্দু জাতের মরিচ আবাদ হয়ে থাকে।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারদর কম। লোকসান এড়াতে চাষিদের মরিচ পাকাতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটকটপুর ইউনিয়নের মরিচের হাট পাঙ্গা বাজারে গিয়ে কথা হয় চাষিদের সঙ্গে।

কয়েকজন চাষি জানান, এক মণ (৪০ কেজি) হাইব্রিড ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বিন্দু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং জিরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থ্যাৎ প্রতি কেজি মরিচ হাতবদল হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১২ টাকায়।

চালের কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকা ধরলে তা হবে ৫ টাকা করে ১০ কেজি মরিচের দামের সমান।

১০ কেজি মরিচের দামে ১ কেজি চাল

গোমনাতি ইউনিয়নের উত্তর গোমনাতি গ্রামের চাষি আবুজার রহমান বলেন, ‘বিঘা প্রতি ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ। সবচেয়ে বেশি খরচ হইছে ওষুধে।

‘এখন পর্যন্ত বিক্রি করি কোনো রকমে খরচাটা উঠার চেষ্টা করছি। এইভাবে দাম পড়ি গেইলে মরিচ আবাদ করমো ক্যাং করি।’

একই এলাকার আরেক কৃষক মমিনুর রহমান বলেন, ‘গত বছর বাজার ভালো ছিল। দুই হাজার টাকা পর্যন্ত মণ বিক্রি হয়েছিল। এইবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা বিক্রি হয় প্রথম দিকে।

‘তারপর দাম হেটাইতে হেটাইতে কমে দুই শ টাকাত নামিছে। আগামীতে আর মরিচ চাষ করব কি না সন্দেহ আছে।’

মরিচ বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, ‘এক কেজি চালের দাম ৪৫-৫০ টাকা। যদি ভালো চাল কিনতে যান তাহলে ১০ কেজি মরিচ বিক্রি করে এক কেজি চাল কিনতে হবে। কোন জিনিসটার দাম নাই। সবগুলোরেই দাম বাড়েছে, আর কমিল মরিচের।’

হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঙ্গা বাজার থেকে ট্রাকে ট্রাকে মরিচ যায় রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায়।

পাইকারি ক্রেতা নুরুল আমিন বলেন, পাবনা, কুষ্টিয়ার দিকে মরিচ উঠছে, যার প্রভাব পড়েছে এখানকার বাজারে। ওইদিকে দুই টাকা কেজিতে মরিচ পাওয়া যাচ্ছে।

হাট ইজারাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, মরিচের দাম ভালো না থাকার কারণ হচ্ছে কুষ্টিয়া পাবনায় মরিচ উঠেছে। তা ছাড়া এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। সে কারণে বাজারে দামেরও প্রভাব পড়েছে। গতবারের চেয়ে এবার বাজার আরও খারাপ। এর ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

১০ কেজি মরিচের দামে ১ কেজি চাল

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোলা বাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে।

জেলা শহরের শাখামাছা বাজারের পাইকারি মরিচ বিক্রেতা রুবেল ইসলাম বলেন, ‘গেল এক সপ্তাহ থেকে মরিচের বাজার একই রকম বিরাজ করছে। তার আগে আরেকটু কম ছিল। বৃষ্টিপাত হলে বাজারে দাম বাড়বে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর অতিরিক্ত উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘বাম্পার ফলন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এ জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি মরিচ না তুলে জমিতে পাকানো যেতে পারে। এতে লাভ বেশি। এটি করছেনও অনেকে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ১ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও হয়েছে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। অনেকে মরিচ ওঠানো শেষ করেছেন।

শেয়ার করুন

ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়ার স্তূপ, বেচতে পারছেন না কৃষক

ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়ার স্তূপ, বেচতে পারছেন না কৃষক

কৃষকের বাড়ির সামনে এভাবেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে মিষ্টি কুমড়া। ছবি: নিউজবাংলা

সদর উপজেলার নারগুন এলাকার কৃষক মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাত বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করি। আশা করেছিলাম প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ভালো দাম পাব, কিন্তু বাজারের বর্তমান দামের কথা বিবেচনা করে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। খরচের টাকা উঠবে কিনা সে নিয়ে চিন্তায় আছি।’ 

গত বছর ভালো ফলনের পর সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে এবার অনেক চাষি বিস্তীর্ণ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেন। কৃষি বিভাগের বিনা মূল্যের বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের অনুপাতে দাম কম হওয়ায় বিক্রি করা যাচ্ছে না, ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টের মিষ্টি কুমড়া।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় এ বছর ১ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে খরিপ-১ জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়। আর রবি জাতের মিষ্টি কুমড়া হয় ৯৫০ হেক্টর জমিতে। জেলায় এবার সুইটি, মিতালি, সিটি সেরা ও সোহাগীসহ নানা জাতের মিষ্টি কুমড়া আবাদ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা জানান, সদর উপজেলার নারগুন, ভুল্লি, বড় বালিয়া, ছোট বালিয়া, আউলিয়াপুর, পুরাতন ঠাকুরগাঁও, আখানগর, ঢোলারহাট এলাকায় মিষ্টিকুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি কুমড়া ক্ষেত থেকে তুলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে কুমড়া জমিতেই রেখে দিয়েছেন। এতে বিপুল পরিমাণে কুমড়া পচে যাচ্ছে।

আকচা ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘এবার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিনা মূল্যে বীজ ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ কারণে ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে মিষ্টি কুমড়ার দাম না থাকায় কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের চাষি হাবলু বলেন, ‘গত বছর ভালো ফলনের পর সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় এ বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছিলাম। এ মৌসুমে ২৮ একর জমিতে কুমড়া লাগাই। কিছুদিন আগে বাজারে মণপ্রতি দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা থাকলেও এখন এক থেকে দেড় শ টাকায় মণ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে লোকসানের মুখে পড়লাম।’

সদর উপজেলার নারগুন এলাকার কৃষক মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাত বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করি। আশা করেছিলাম প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ভালো দাম পাব, কিন্তু বাজারের বর্তমান দামের কথা বিবেচনা করে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। খরচের টাকা উঠবে কিনা সে নিয়ে চিন্তায় আছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুই ধরনের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে, এর মধ্যে খরিপ-১-এর বিক্রি শেষের দিকে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘জেলায় এবার মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। এখন দাম কিছুটা কম থাকলেও সামনে বাড়বে বলে আশা করছি।’

তিনি জানান, কৃষকের মাঝে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ বিতরণ করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়েও কৃষককে প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হয়েছিল।

শেয়ার করুন

আসছে রুই মাছের নতুন জাত ‘সুবর্ণ রুই’

আসছে রুই মাছের নতুন জাত ‘সুবর্ণ রুই’

নতুন উদ্ভাবিত এই রুই মাছ দ্রুত বাড়ে। এটি খেতে সুস্বাদু। দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়। মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ হলে দেশে প্রায় ৮০ হাজার কেজি মাছ বেশি উৎপাদন হবে।

দেশের বিজ্ঞানীরা রুই মাছের নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন, যা ২০ শতাংশ বেশি উৎপাদনশীল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে হালদা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের রুই মাছের মধ্যে সংকর করে এটি উদ্ভাবন করেছেন।

বৃহস্পতিবার এটি সাধারণ চাষীদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।

এটিকে তারা বলছেন, চতুর্থ প্রজন্মের রুই মাছ। কারণ এর আগে একই পদ্ধতিতে আরও তিনটি জাত উদ্ভাবন হয়েছে গত এক যুগে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে চতুর্থ প্রজন্মের মাছটির নামকরণ করা হয়েছে 'সুবর্ণ রুই'।

বিএফআরআই থেকে জানা যায়, রুই মাছের নতুন এই জাত দ্রুত বাড়ে। এটি খেতে সুস্বাদু। দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, নতুন উদ্ভাবিত এই মাছ মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ হলে দেশে প্রায় ৮০ হাজার কেজি মাছ বেশি উৎপাদন হবে।

হ্যাচারিতে উৎপাদিত কার্পজাতীয় মাছে জেনেটিক অবক্ষয় হয়। এছাড়া অন্তঃপ্রজননজনিত সমস্যার কারণে মাছের কঠিন। এ থেকে উত্তরণের জন্যই 'সুবর্ণ রুই' উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিএফআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহা আলী জানান, তিন নদীর রুই মাছের মধ্যে দ্বৈত অ্যালিল ক্রসিংয়ের মাধ্যমে ৯টি গ্রুপ থেকে প্রথমে বেইজ পপুলেশন তৈরি করা হয়েছে। পরে বেইজ পপুলেশন থেকে সিলেকটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ২০০৯ সালে রুই মাছের উন্নত জাতের প্রথম প্রজন্মের মাছ উদ্ভাবন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সিলেকটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে রুই মাছের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের জাত উদ্ভাবন করা হয়।

সবশেষে ২০২০ সালে উন্নত জাতের চতুর্থ প্রজন্মের জাত উদ্ভাবনে সাফল্য এসেছে।

আসছে রুই মাছের নতুন জাত ‘সুবর্ণ রুই’

বৃহস্পতিবার বিএফআরআইয়ের ময়মনসিংহের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা সভা শেষে নতুন জাতের এ মাছটি অবমুক্ত করা হয় এবং হ্যাচারি-মালিকদের কাছে এই মাছের পোনা হস্তান্তর করা হয়।

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘সুবর্ণ রুই’ মাছ স্বাদু পানি ও আধা লবণাক্ত পানির পুকুর, বিল, বাওড় এবং হাওরে চাষ করা যাবে। এ ছাড়া এ জাতের রেণুপোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে নার্সারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকেই লাভবান হতে পারবেন। অর্থাৎ দ্রুত বর্ধনশীল এই মাছটি চাষিদের মুখে হাসি ফোটাবে।

শেয়ার করুন

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা

বিনামরিচ-১ জাতের ফলন (গ্রিন চিলি) প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৩৫ টন পাওয়া যায়। জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ১৩০ থেকে ১৪০ ভাগ বেশি ফলন দেয়। আর বিনারসুন-১ জাতটি প্রতি হেক্টরে ১৩ থেকে ১৫ টন উৎপাদন করা সম্ভব। যা অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মরিচ ও রসুন কৃষকদের কাছে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

ময়মনসিংহ সদরের সুতিয়াখালির কাশিয়ারচর এলাকায় বিনার তত্ত্বাবধানে বিনামরিচ-১ চার বিঘা জমিতে চলতি বছরের (অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর) ও বিনারসুন-১ পাঁচ বিঘা জমিতে শীতকালীন মৌসুমে চাষাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, এ জাতের মরিচের ফলন প্রচলিত জাতের তুলনায় অনেক বেশি হয়। ঝাল তুলনামূলকভাবে কম ও সুগন্ধিযুক্ত এবং সাকুলেন্ট (পানি শোষণের ক্ষমতা)। এ গাছটি আকারে খাটো ও ঝোপালো। প্রথম মরিচ সংগ্রহের পর গাছে ফলনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটি আকারে বড় ও মাংসল।

চারা লাগানোর মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর গাছে ফুল আসা শুরু করে এবং পরবর্তী ২৮ দিনের মধ্যে কাঁচা মরিচ পাওয়া যায়। সাধারণত এভাবে ৯ থেকে ১২ বার কাঁচা মরিচ তোলা যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, বিনারসুন-১ জাতটি প্রতি হেক্টরে ১৩ থেকে ১৫ টন উৎপাদন করা সম্ভব। যা অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি। ঝাঁজ বেশি হওয়ায় রান্নায় রসুনের পরিমাণও লাগবে কম।

এ ছাড়া প্রচলিত জাতের তুলনায় এ রসুনের কার্যক্ষমতা বেশি। রোপণের পর মাত্র ১৩৫ থেকে ১৪৫ দিনের মধ্যে রসুন ঘরে তোলা যায়। আকারে বড় হওয়ায় উৎপাদন বেশি হয়। এ রসুনের উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে খুবই কম।

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা


এ দুটি জাতের উদ্ভাবক বিনার বিজ্ঞানী ও উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বিনামরিচ-১ জাতটি দেশের বিভিন্ন মসলা উৎপাদনকারী অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোনো ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়নি।

তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ, থ্রিপস এবং জাবপোকার প্রতি সহনশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। সে ক্ষেত্রে জমিতে চারা রোপণের আগে ডিডি মিকচার বা ফুরাডন-৫ জি দ্বারা মাটি শোধন করে নিলে এসব রোগের প্রকোপ নিশ্চিত কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মিউট্যান লাইন Chilid75P1-এর জার্মপ্লাজমটি ২০১২ সালে চীনের স্থানীয় জাত (Landrace) থেকে কৌলিক সারি হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। এই কৌলিক সারিটি সাইবারডর্ফ ল্যাবরেটরি ভিয়েনা, অস্ট্রিয়ায় বীজে বিভিন্ন মাত্রায় রেডিয়েশন (৭৫ গ্রে, ১৫০ গ্রে এবং ৩০০ গ্রে) প্রয়োগের ফলে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়।

‘সেখান থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম মিউট্যান্ট প্রজন্ম ময়মনসিংহ, ঈশ্বরদী, মাগুরা, রংপুর, বগুড়া, খাগড়াছড়ি ও কুমিল্লার উপকেন্দ্র এবং কৃষকের মাঠে ৪ থেকে ৫ বছর শীত মৌসুমে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তুলনামূলক ফলন মূল্যায়ন করা হয়।

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা


‘এরপর অগ্রগামী মিউট্যান্টটি (ChiliD75P1) শীত মৌসুমে রোপণের জন্য (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য এপ্রিল) ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০১৭ সালে বিনামরিচ-১ উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে চাষাবাদের জন্য নিবন্ধিত হয়। আমরা বিনা মূল্যে চাষিদের এ জাতটি দিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পরিকল্পনা করছি।’

বিনারসুন-১-এর উদ্ভাবনের সাফল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চফলনশীল জাতের অপ্রতুলতার কারণে বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় রসুনের ফলন কম৷ ফলে এর উন্নত জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু হয়।

ভারতের নদীয়া থেকে রসুনের তিনটি জেনোটাইপ সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে AC-৫ কোলিক সারিটির ফলন বাংলাদেশে চাষাবাদকৃত অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি এবং দেশের বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে যথাযথভাবে ট্রায়াল সম্পন্ন করে জেনোটাইপটি বিনারসুন-১ নামে ২০১৭ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক কৃষক পর্যায়ে সারা দেশে চাষাবাদের জন্য নিবন্ধিত হয়। এর আগে দীর্ঘ তিন বছর এ জাতটি নিয়ে গবেষণা করে সাফল্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বিনামরিচ-১ জাতের ফলন (গ্রিন চিলি) প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৩৫ টন পাওয়া যায়। জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ১৩০ থেকে ১৪০ ভাগ বেশি ফলন দেয়।

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা


এ ছাড়া বিনারসুন-১ জাতটি অন্যান্য জাতের তুলনায় আকারে বড় হয়। এর প্রতিটি রসুনের কন্দে ২৪ থেকে ৩০টি কোয়া থাকে। এর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক কম এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে খুবই কম।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘দীর্ঘ গবেষণার পর এই জাতগুলো উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তের চাষিদের কাছে এ জাতটি ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ দুটি জাত চাষাবাদ করলে খরচ কমার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হবে চাষিরা।’

শেয়ার করুন

এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

পরিবেশ বিপর্যয় ও অতি আহরণের ফলে পিয়ালি সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের সাফল্যে চাষের মাধ্যমে খাবার টেবিলে ফিরবে মাছটি।

দীর্ঘ তিন বছর গবেষণার পর কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা পিয়ালি মাছের রেণু উৎপাদনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা।

পরিবেশ বিপর্যয় ও অতি আহরণের ফলে এটি এখন সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যে চাষের মাধ্যমে খাবার টেবিলে ফিরবে পিয়ালি।

বিএফআরআই সূত্রে জানা যায়, বগুড়া জেলার সান্তাহার প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার পর পিয়ালি মাছের রেণু উৎপাদনে সফল হয়েছেন।

এই মাছ দ্রুত বর্ধনশীল ও খুবই সুস্বাদু। মাছটি আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম পিয়ালি মাছে ৭৫০ মিলিগ্রাম মেথিয়োনিন, ৪২০ মিলিগ্রাম সিস্টিন, ৪৩০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৬৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৫০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ১২ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম জিংক, ২৫ মিলিগ্রাম আয়রন, ৮ দশমিক ২১ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ ও ১ দশমিক ৪০ মিলিগ্রাম কপার রয়েছে। অন্য অনেক দেশীয় ছোট মাছের তুলনায় এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণে এই মাছ অত্যন্ত কার্যকরী।
এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

গবেষক দলে ছিলেন প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডেভিড রিন্টু দাস, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও মালিহা খানম।

ডেভিড রিন্টু দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিন বছর গবেষণার পর পাঁচজোড়া পিয়ালি মাছে এ বছর জুনের প্রথম সপ্তাহে ১:১ দশমিক ৫ অনুপাতে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। হরমোন প্রয়োগের ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর মাছগুলো ডিম ছাড়ে এবং ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর নিষিক্ত ডিম থেকে রেণু উৎপাদিত হয়।

‘ডিম নিষেকের হার ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের হ্যাচারিতে রেণুগুলো পালন করা হচ্ছে। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই পিয়ালি মাছকে চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, মে থেকে আগস্ট এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে নদীতে প্রজননক্ষম স্ত্রী পিয়ালি মাছ পাওয়া যায়। এ ছাড়া জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জলাশয়ে পিয়ালির পোনার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এই মাছের ডিম ধারণ ক্ষমতা আকারভেদে দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার।’

উপকেন্দ্রে আরও ২৫ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ নিয়ে গবেষণা চলছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, গবেষণায় এ পর্যন্ত পাবদা, গুলশা, টেংরা, বাটা, ফলি, মহাশোল, খলিশা, বৈরালী, জাতপুঁটি, গজার, আঙ্গুস, খলিসা, মেনি, বালাচাটা, দাতিনা, গুতুম, ঢেলা, বাতাসি ও পিয়ালিসহ বিলুপ্তপ্রায় ২৯টি প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

বিএফআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শাহা আলী জানান, পিয়ালি মাছ এলাকাভেদে জয়া, পিয়ালি বা পিয়াসী নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাসপিডোপারিয়া জায়া (Aspidoparia jaya)। এ মাছটি সিপ্রিনিডি (Cyprinidae) পরিবারভুক্ত মিঠা পানির একটি মাছ।

বাংলাদেশ (পদ্মা ও যমুনা এবং তাদের শাখা নদীতে), ভারত (আসাম, উত্তরাঞ্চল, উত্তরপ্রদেশ), নেপাল, ইরান, মিয়ানমার, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও আফগানিস্তানে এই মাছের বিস্তৃতি রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা, যমুনার শাখা নদীর এলাকার মানুষের কাছে মাছটি পরিচিত।

একসময় পদ্মা, যমুনা ও শাখা নদী এবং বাঙ্গালী ও আত্রাই নদীতে প্রচুর পাওয়া যেত এই মাছ।

শাহা আলী বলেন, ‘এই মাছ দৈর্ঘ্যে পাঁচ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর দেহ লম্বা ও পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। পরিণত পুরুষ মাছের পেট হলুদাভ থাকে এবং স্ত্রী মাছের চেয়ে আকারে অপেক্ষাকৃত বড় হয়। স্ত্রী মাছের পেট ধবধবে সাদা ও হালকা স্ফীতাকার হয়।’
এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, বাঙ্গালী ও আত্রাই নদীসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পিয়ালি মাছের পোনা সংগ্রহ করে উপকেন্দ্রের পুকুরে নিবিড়ভাবে প্রতিপালন করা হয়েছে। গবেষকরা পিয়ালি মাছের খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে খাবার সরবরাহ করেন।

তিনি জানান, প্রাকৃতিক জলাশয়ের পিয়ালি মূলত প্লাংকটন (শ্যাওলা) খেয়ে থাকে। তা ছাড়া বছরব্যাপী জেনেরিক সিস্টেম ইমেজ (জিএসআই) ও হিস্টোলজি পরীক্ষার মাধ্যমে পিয়ালি মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়। এ প্রজাতির মাছ সাধারণত বর্ষাকালে অগভীর জলাশয়ে প্রজননে অংশগ্রহণ করে থাকে।

ইয়াহিয়া আরও জানান, শিগগিরই আরও দুটি দেশীয় মাছের পোনা উৎপাদনের সাফল্যের খবর আসছে। গত ১২ বছরে চাষের মাধ্যমে দেশীয় ছোট মাছের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএফআরআইয়ের ময়মনসিংহে অবস্থিত স্বাদুপানি কেন্দ্রে ২০২০ সালে একটি ‘লাইভ জিন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং পোনা উৎপাদনে গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০২০ সালে ‘একুশে পদক’ পায়।

শেয়ার করুন