বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

এবছর পাহাড়ে বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়নি।ছবি: নিউজবাংলা

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, ‘ঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়াতে একদিকে কমেছে ফলন অপরদিকে লিচুর আকারও ছোট হয়েছে।’

পাহাড়ে প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে লিচুর প্রচুর ফলন হলেও এ বছর তা দেখা যাচ্ছে না। এ সময়ে গাছে দেশীয় লিচু পাকা শুরু করে। গাছে গাছে দেখা যায় মৌমাছির দল। মৌমাছিরা লিচুর স্বাদ নিতে দলবেঁধে গাছে ভনভন করতে থাকে।

কিন্তু এ বছর পাহাড়ে বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়নি। যার কারণে হতাশ চাষিরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর ফলন অর্ধেকে নেমেছে। পাশাপাশি আমের ফলনেও প্রভাব পড়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, ‘সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়াতে একদিকে কমেছে ফলন অপরদিকে লিচুর আকারও ছোট হয়েছে।’

রাঙ্গামাটির সবুজ পাহাড়ে উৎপাদিত হয় লাল রঙের রসালো ও সুস্বাদু লিচু। রাঙ্গামাটিতে চাহিদা মেটানোর পরও চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয় পাহাড়ের এই মিষ্টি লিচু। প্রতিবছর মৌসুমের আগে থেকেই পাইকার ব্যবসায়ীরা পাহাড়ে ভিড় জমাতেন লিচুর পুরো বাগান কেনার জন্য। তবে এ বছর লিচুসহ আম চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় তাদের আনাগোনাও কমেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবের পাশাপাশি বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ের বাসিন্দাদের জীবিকা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

রাঙ্গামাটি কৃষি বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় প্রচুর পরিমাণে লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে। দেশীয় লিচুর পাশাপাশি ব্যাপক হারে বোম্বে লিচুর চাষ হয়। ফলন ও দাম বেশি হওয়ায় পাহাড়ে দেশীয় জাতের পরিবর্তে বেশি হারে চাষ হচ্ছে চায়না-২, চায়না-৩ জাতের লিচু।

এ বছর জেলার নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, কাপ্তাইসহ সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নে লিচুর চাষ হয়েছে। এসব লিচু পাকার পরে বেচা-কেনার জন্য আনা হয়ে থাকে রাঙ্গামাটির প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বনরূপা সমতাঘাট বাজার হাটে।

সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের লিচুচাষি শান্তিলাল চাকমা ও ভারত চাকমা জানান, এ বছর লিচুর ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি করোনাভাইরাসের প্রভাবে লিচুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। গত বছর এক শ লিচু এক শ টাকায় বিক্রি করলেও এ বছর করোনার কারণে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। তাই এ বছর লিচু চাষে তেমন লাভ হয়নি বলেও জানান চাষিরা।

নানিয়ারচর উপজেলার গর্জনতলী পাড়ার বাসিন্দা শান্তি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর উৎপাদন খুবই কম। শুধু তাই নয়, সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়াতে গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচু আকারেও ছোট হয়েছে।’

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, ‘রাঙ্গামাটিতে এ বছর এক হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে। গত বছর রাঙ্গামাটিতে লিচু ও আমের বাম্পার ফলন হলেও এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ২৯২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। কুতুকছড়ির দিকে বাগান পরিদর্শনে গিয়ে আমগাছে আমের মুকুল খুবই কম দেখা গেছে। তবে আরও এক সপ্তাহ পরে ফলন কতটুকু হতে পারে তা ধারণা করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
বৈশাখেই মিলছে লিচু

শেয়ার করুন

মন্তব্য