পাটবীজে ভর্তুকি দেবে সরকার

পাটবীজে ভর্তুকি দেবে সরকার

‘পাটবীজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রী বলেন, পাটবীজের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। পাটবীজে কৃষকদের আগ্রহী করতে ও কৃষকেরা যাতে চাষ করে লাভবান হয় সেজন্য প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে।

স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষে পাটবীজে ভর্তুকি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

‘পাটবীজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত হয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, পাটবীজের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। পাটবীজে কৃষকদের আগ্রহী করতে ও কৃষকেরা যাতে চাষ করে লাভবান হয় সেজন্য প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে। পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে ‘একটি সমন্বিত প্রকল্প’ নেয়ার কাজ চলছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম সভা সঞ্চালনা করেন। আলোচনায় অন্যান্যের মাঝে অংশ নেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার ও হাসানুজ্জামান কল্লোল, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী উদ্যোগে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছে। সেই জিনোম ব্যবহার করে দেশের বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন করেছেন; যার ফলন ভারতের পাটজাতের চেয়ে অনেক বেশি। কৃষক পর্যায়ে এসব পাটজাতের চাষ জনপ্রিয় করতে পারলে বীজেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব।

পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে রোডম্যাপ বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সম্প্রসারণকর্মী ও বিজ্ঞানীদের শিগগির স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম বলেন, পাটবীজ চাষের জন্য জমির স্বল্পতা রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সুগার মিলের জমি পাটবীজের উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় জানানো হয়, দেশে বর্তমানে উৎপাদিত পাটের ৮৫ ভাগই তোষা জাতের। এ পাটবীজের চাহিদার প্রায় ৮৫-৯০ ভাগ আনতে হয় ভারত থেকে। বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ৫ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ এই ৫ বছরের মধ্যে দেশে ৪ হাজার ৫০০ টন পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উচ্চমূল্যের রবি ফসলের পরিবর্তে কৃষক পাটবীজ উৎপাদনে তেমন আগ্রহী হয় না। দেখা গেছে, তোষা পাটবীজ চাষ করে একর প্রতি কৃষকের নিট লাভ ৪৮ হাজার টাকা, যেখানে ফুলকপি চাষে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বাঁধাকপি চাষে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিট লাভ হয়।

তাই পাটবীজ উৎপাদনের পরিবর্তে বাজার থেকে বীজ কিনে পাট চাষ লাভজনক বলে মনে করেন কৃষক।

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

নওগাঁয় ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় বিপাকে কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে। তবে গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

আমন চাষের মধ্যবর্তী সময়ে হঠাৎ নওগাঁয় বেড়েছে ইউরিয়া সারের দাম। ধান চাষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারটির প্রতি বস্তায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রায় ৬৬ হাজার প্রান্তিক কৃষক।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এই মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিশস্য রয়েছে আরও ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

ভরা মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া সারের আনুমানিক চাহিদা ৩৩ হাজার টন। এসব সার সরবরাহে জেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিবন্ধিত সার ডিলার রয়েছেন ১২৭ জন।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ৬৬ হাজার পরিবার কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে।

তবে গত ১০-১৫ দিন আগে নানা অজুহাতে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

এ বিষয়ে সঠিক তদারকি ও বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাশিয়ারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন জানান, ‘হামি পাঁচ বিঘা জমিত আমনের আবাদ করিছি। ধান লাগানার শুরুত ইউরিয়া সারের দাম আছিল বস্তাপ্রতি ৮১০-৮২০ টেকা করা। বর্তমানে প্রতি বস্তা দাম ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টেকা পর্যন্ত বাড়া গেছে।

‘প্রতি বস্তায় যদি কয়েক দিনের মধ্যে ৮০ থ্যাকা ১০০ টেকা পর্যন্ত বাড়া যায় তালে হামরা কীভাবে আবাদ করা পোষামু। বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াছে ইচ্ছা করা।’

রাণীনগর উপজেলার তিলাবদুর গ্রামের কৃষক সুবল দাস বলেন, ‘হামি ১০ বিঘা জমিত আমন ধানের আবাদ করিছি। প্রতি বিঘাত জমি হালচাষ, নিড়ানি, সার, সেচ, শ্রমিক খরচ দিয়া মোট সাড়ে ৭ হাজার থ্যাকা ৮ হাজারের মতো খরচ হয়। আর ফলন ভালো হলে সর্বোচ্চ ৮ থ্যাকা ১০ মণের মতো ধান পাওয়া যায় প্রতি বিঘাত।

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

‘এখন আমনের ভরা মৌসুম, তাই এখন ইউরিয়া সার জমিত দেওয়া লাগে। তবে বাজারোত প্রতি বস্তাত প্রায় ৮০-১০০ টেকার মতো বেশি দাম বাড়া গেছে। দোকানদাররা কচ্ছে, সারের নাকি সাল্পাই কম, তাই দাম বেশি। এত দাম যদি সারোত বাড়া যায়, জমির অন্য খরচ তো আছেই, সব মিলা তো কুলা উঠা পারমু না হামরা।’

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন বলেন, ‘হামাকেরে এটি ইউরিয়া সার বস্তাপ্রতি কেনা লাগিচ্ছে ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টাকা দরে। কয়েক দিন আগেই ৮১০ থ্যাকা ৮২০ টেকা বস্তা দাম আছল। হঠাৎ দাম বাড়া গেল। কৃষকরা ধান উৎপাদন করে সবার চাহিদা মিটায়, কিন্তু কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা সেভাবে কেউ দেখে না।’

নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা জাহিদুর রহমান জানান, ডিলারদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আমন মৌসুমের শুরুতে ৮০০ টাকায় এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনে খুচরায় বিক্রি করেছেন ৮২০ থেকে ৮৩০ টাকা দরে।

এখন ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে সেই সার তারা কৃষকের কাছে ৮৯০ কেউ ৯২০ টাকা বস্তা হিসেবে বিক্রি করছেন।

নিয়ামতপুর উপজেলার স্থানীয় ছাতড়া বাজারের সার ডিলার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরিয়া সারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পাচ্ছি না। এ ছাড়া গাড়ি ভাড়াও বৃদ্ধি হয়েছে। এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে সার কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। তবে আমরা ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছি। অতিরিক্ত দামে বিক্রি তো করছি না।’

জেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই এবং নির্ধারিত দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের কোনো সংকট হয়নি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। ইতিমধ্যে বিসিআইসি ডিলাররা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাফার গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সার উত্তোলন করেছেন।

‘এখন পর্যন্ত ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কোনোভাবেই যাতে সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি না নেয়া হয় সেটা ডিলারদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ জানান, ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি। তবে কৃষকরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন তাহলে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়ার কথা বললেন, সে ক্ষেত্রে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

পাটের আবাদ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষির মুখে। ছবি: নিউজবাংলা

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম চৌকিদার। এবার ৫৬ শতাংশ জমিতে তিনি পাটের আবাদ করে করেছিলেন। ফলন হয় ১৫ মণ ২০ কেজি। এর জন্য নুরুলকে গুনতে হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা।

গত সোমবার নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারে মণপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাট বিক্রি করেন নুরুল। উৎপাদন খরচ ১৫ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তার লাভ হয় ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা।

নুরুল ইসলামের মতো এবার পাটের আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছেন অনেক কৃষক।

কৃষক নুরুল জানান, গত বছর প্রতি শতাংশ জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ৯ কেজি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১১ কেজি। এ ছাড়া ২০২০ সালে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এবার ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরে পাট বেচাকেনার সবচেয়ে বড় হাট নড়িয়ার ভোজেশ্বর। সোমবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও খুলনার বিভিন্ন বেসরকারি পাটকলের পাইকাররা পাট কিনছেন।

বাজারে তোষা জাতের পাট প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। মেছতা জাতের বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। আর সাদা পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজেশ্বরের পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি। সামনে কী হবে বুঝতেছি না। এ জন্য এখনই পাট কিনে মজুত করছি না। মিলের চাহিদা অনুযায়ী কিনে সরবরাহ করছি।’

নড়িয়ার রাজনগর এলাকার কৃষক আব্বাস শেখ বলেন, ‘উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে পাট বিক্রি করে দিতে হয়। এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পেয়ে পাট বিক্রি করেছি। আমার দুই বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক গোলাম রসুল বলেন, ‘গত বছর এ অঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। যার ফলে কৃষিজমিতে পলি জমেছিল। এ জন্য উৎপাদন এবার বেশি হয়েছে। আর পাটের নানাবিধ চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় বাজার দামও ভালো।’

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

আইএইএ পুরস্কার পেল বিনা

আইএইএ পুরস্কার পেল বিনা

এ ছাড়া, প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অসামান্য অবদান রাখার জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) এর সম্মাননা পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)।

সংস্থার আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার অর্জন করে বিনা।

এ ছাড়া, প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার দুটি হস্তান্তর করেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা গত কয়েক বছর ধরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মিউটেশন ব্রিডিং-এ অসাধারণ অবদান রাখার জন্য তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

ক্যাটাগরিগুলো হলো: আউটস্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট, নারী বিজ্ঞানীদের মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অনন্য অবদান এবং তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার।

এ বছর ১৭৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে আউটস্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, নারী বিজ্ঞানীদের মিউটেশন ব্রিডিং ক্যাটাগরিতে ১০ জন নারী বিজ্ঞানী ও তরুণ বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে ৭ জন তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার পেয়েছেন।

এর আগেও ২০১৪ সালে বিনার বর্তমান মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অসাধারণ সফলতা পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় বিনার মহাপরিচালক মির্জা মোফাজ্জল জানান, বিনার বিজ্ঞানীরা পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে মিউটেশন ব্রিডিং (কনভেনশনাল ব্রিডিং ও অন্যান্য উন্নত কলাকৌশলের সংমিশ্রণ) প্রয়োগ করে এখন পর্যন্ত ১৮টি ফসলের ৮৩টি মিউট্যান্ট জাতসহ সর্বমোট ১১৭টি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে।

এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিনা ও বিনার বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা হতে পুরস্কৃত হয়েছেন বলে জানান মোফাজ্জল।

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

আমেরিকায় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম

আমেরিকায় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের দেশে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। এই তিন জেলায় প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টন কাজু উৎপাদিত হয়। আমরা উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পাবে।’

নীলফামারীতে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমেরিকায় রপ্তানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চিনিকুটিতে জ্যাকপট ক্যাশুনাটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শনের সময় সোমবার দুপুরে মোহাম্মদ ইউসুফ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কাজুবাদাম গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় বৈদেশিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। নীলফামারীতে প্রক্রিয়াজাত কাজু চার মাস হলো আমেরিকায় রপ্তানি করা হচ্ছে। এর উৎপাদন বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

‘আমাদের দেশে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। এই তিন জেলায় প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টন কাজু উৎপাদিত হয়। আমরা উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পাবে।’

জ্যাকপট ক্যাশুনাটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল আরিফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় প্রতি মাসে ৪২ টন কাজু প্রক্রিয়াজাত করে ৭ টন উৎপাদিত হয়। কাঁচামালের জোগান কম হওয়ায় এখানে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে না।

‘স্থানীয় পদ্ধতিতে নারী শ্রমিকরা কাজটি করছেন। কারখানায় নিয়মিত ৭৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।’

চারা রোপণের ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর ফলন শুরু হয়। নীলফামারীতেও এর চাষ শুরু হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার জাতীয় বিপণন নীতিমালা তৈরি করেছে বলে জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। ভোক্তারাও পণ্যের মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ

প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ

আবাদি জমি ছেয়ে আছে ধানের সবুজ গাছে। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সার-বীজের পর্যাপ্ত জোগানের কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে।

নেত্রকোণার আবাদি জমিগুলো গত বছরও ছিল পানিতে থইথই। টানা বৃষ্টি হওয়ায় ধান চাষে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি চাষিরা। এ বছর সেগুলো ছেয়ে আছে ধানের সবুজ গাছে। কিছু কিছু জমিতে এখনও চলছে আমনের রোপণ।

প্রত্যাশার চেয়ে আবাদ বেশি হওয়ায় এবার বাড়তি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন এ জেলার চাষিরা।

কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের কনুরা গ্রামের কৃষক মনতোষ বিশ্বশর্মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই একর জমিতে রোপা আমন লাগায়াম। ৭০ ভাগ জমি লাগায়া শেষ কইরালছি। টানের জমি আগেই লাগাইছি। অহন নিচের জমি থেইক্যা পানি নাইম্যা গেছে। হেইহানে লাগাইতাছি। আবহায়াডা এইবার ভালা আছিল। গতবারের থেইক্যা ৩ কাটা জমিতে বেশি ধান লাগাইছি।’

মদনের কাইটাইল গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, ‘গত দুই-তিন বছর ধইর‌্যা পানির লাইগ্যা নামার জমিতে ধান লাগাইতে পারি না। এবার জমি তেইক্যা পানি নাইম্যা গেছে তাড়াতাড়ি। তাছাড়া কৃষি অপিসের বীজ, সার পাইছি। ভালাই লাগাইতাছি। আল্লায় দেয়তো ভালাই ধান অইব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সার-বীজের পর্যাপ্ত জোগানের কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে।

প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ
কিছু কিছু জমিতে এখনও চলছে আমনের রোপণ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি। তবে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ হেক্টরে উফশী জাতের, ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টরে হাইব্রিড ও ১৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টরে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

এসব জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪১০ টন ধান।

মোবারক জানান, গত বছর ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৬ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়। এতে ৫ লাখ ৫ হাজার ৫৩০ টন ধান উৎপাদিত হয়। এবার আবাদ বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে কম করে হলেও ৩১ হাজার টন বেশি ধান উৎপাদিত হতে পারে।

মোবারক আরও বলেন, এ বছর ধাপে ধাপে বৃষ্টি হওয়ায় নিচু জমি থেকে পানি দ্রুত নেমে গেছে। অতিবৃষ্টি বা বন্যা হয়নি। এতে কৃষকরা বাড়তি জমিতে আবাদ করতে পেরেছেন। তা ছাড়া সরকারিভাবে প্রণোদনাও কৃষকদের উৎসাহিত করেছে। এ কারণে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

ছাদে সবজি চাষ করে লাভবান হয়েছেন সাঈদ। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা খাতুন বলেন, ‘বাসায় যাদের নিজস্ব ছাদ আছে তারা এখন বাক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হচ্ছে।’

বাড়ির ছাদের পুরোটা জুড়েই মাচা। তাতে ঝুলছে ঝিঙে। মাচার উপরে হলুদ ফুলে উড়ছে ভ্রমর আর মৌমাছি।

এটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুন্দরঘোড়া গ্রামের আবু সাঈদের বাড়ির ছাদ। সেখানে বাক্স পদ্ধতিতে ঝিঙের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, শিম ও লাউ চাষও করছেন তিনি; জানালেন ফলনও চমৎকার।

আবু সাঈদরা তিন ভাই। বড় ভাই থাকেন ইস্তাম্বুলে ও ছোটজন স্পেনে। সাঈদ থাকেন বেলারুশে।

বছরের বিভিন্ন সময় পালা করে তারা দেশে আসেন। কৃষির প্রতি সব ভাইয়েরই আছে ঝোঁক। যে যখন বাড়িতে থাকেন, বাড়ির ছাদ বাগানের পরিচর্যা করেন। এখন দেশে আছেন সাঈদ, নিউজবাংলার সঙ্গে ছাদবাগান নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আবু সাঈদ বলেন, ‘গত দুই বছর আগে বাসার ছাদে কাঠ দিয়ে বাক্স বানিয়েছি। সেখানে প্রথমে মিষ্টি কুমড়া চাষ করি। প্রচুর মিষ্টি কুমড়া হয়; আমার উৎসাহ বাড়ে। পরে ইস্তাম্বুল ও স্পেন থেকে আমার বড় ও ছোট ভাই আসে। তারাও কাজ শুরু করে।’

সাঈদ জানান, মাসখানেক আগে ছাদে দেড় ফুট উঁচুতে কাঠের বাক্স তৈরি করেন। জৈব সার দিয়ে মাটি তৈরি করে তাতে রোপন করেন ঝিঙের ৩৫টি বীজ।

তিনি বলেন, ‘মাত্র এক মাসেই ছাদ বাগান থেকে দেড় মণ ঝিঙে পেয়েছি। তার মধ্যে ৩০ কেজি আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়েছি। বাকি ৩০ কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।’

বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শীতকালীন বিভিন্ন সবজিও চাষ করেছেন তারা তিন ভাই মিলে।

সাঈদ বলেন, ‘দুই বছর আগে চিন্তা করি, বাসার খালি ছাদটাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। সেই চিন্তা থেকে কাজ শুরু করি। কাঠ দিয়ে বাক্স তৈরি করি। তারপর নানা জাতের সবজির চাষ করি। এ কাজে বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা খাতুন জানান, প্রবাসী আবু সাঈদ একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তাকে উৎসাহিত করতে উন্নত জাতের ঝিঙের বীজ দেয়া হয়েছে। পরামর্শ নিয়ে চাষে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের বাসায় ছাদ রয়েছে তারা এখন বাক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন

প্রতি কেজি সারে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

প্রতি কেজি সারে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

কৃষকদের অভিযোগ, প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার প্রতি এলাকায় ডিলার নিয়োগ করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত দামে সার কেনার কথা খুচরা ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকদের। তবে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরে সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশিতে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসির) ডিলারদের বিরুদ্ধে। নির্দিষ্ট স্থানে সার বিক্রি না করে বেশি দামে অন্য স্থানে সার বিক্রির অভিযোগও করছেন চাষিরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলাররা বলছেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি বা এলাকার বাইরে গিয়ে কোনো সার বিক্রি করা হচ্ছে না। আর জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, সার কারসাজি এবং কৃষক হয়রানির প্রমাণ পেলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরে আমনের ভরা মৌসুমে দেখা দিয়েছে রাসায়নিক সারের সংকট। ডিলারর বেশি দামে সার বিক্রির জন্য কৃত্রিম এ সংকট তৈরি করেছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে ধানের আবাদ। উপায় না থাকায় তারা বেশি দামে ইউরিয়া, টিএসপিসহ অন্যান্য সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার পাঁচ উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়ন এবং চার পৌরসভায় বিসিআইসি ও বিএডিসির সারের ডিলার রয়েছেন ৯০ জন। আর খুচরা ডিলার রয়েছেন ৪৪৭ জন।

জেলায় এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। সব মিলিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় ইউরিয়া, টিএসপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা প্রায় ৪০ হাজার টন।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার প্রতি এলাকায় ডিলার নিয়োগ করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত দামে সার কেনার কথা খুচরা ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকদের। তবে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

চররুহিতার কৃষক তোফায়েল আহমদ, চররমনী মোহনের দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, সরকারনির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি কেজি ইউরিয়া ১৬ টাকা, টিএসপি ২২ টাকা, এমওপি ১৫ টাকা, ডিএপি (ড্যাব) ১৬ টাকা। তবে ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি কেজিতে ৪-৭ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন।

কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের মতো একই অভিযোগ করেছেন রামগতির বড়খেরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাসান মাহমুদ নিজাম।

তিনি বলেন, ‘ডিলাররা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ডিলারের কাছে খুচরা বিক্রেতা ও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। সত্যিকার অর্থে কোনো ডিলার ঠিকমতো কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছে না।’

তবে বড়খেরী এলাকায় বিসিআইসির ডিলার শাখাওয়াত হোসেনের দাবি, নির্ধারিত মূল্যের বেশি এবং এলাকার বাইরে গিয়ে কোনো সার বিক্রি করা হচ্ছে না। সরকারনির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ব্যবসায়ীরা ষড়যন্ত্রের শিকার।

জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির একাধিক ডিলারও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে অনেক কাজ করা যাচ্ছে না। তারপরও সার কারসাজি ও কৃষকদের হয়রানির প্রমাণ পেলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
‘হিট শকে’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৪২ কোটি টাকার প্রণোদনা
কৃত্রিম ফুলের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
ক্ষমতায়ন দরকার সাড়ে ৮ কোটি নারীর: কৃষিমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

শেয়ার করুন