সূর্যমুখীতে টেনে এনে চাষিকে ‘পানিতে ফেলল’ কৃষি বিভাগ 

বীজ সার দিয়ে সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ যোগালেও ফসল ওঠার পর কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না কৃষি বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

সূর্যমুখীতে টেনে এনে চাষিকে ‘পানিতে ফেলল’ কৃষি বিভাগ 

কিশোরগঞ্জে এই ফসলটির চাষ বাড়াতে নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে কৃষকদের বিপাকে ফেলেছে কৃষি বিভাগ। ফলন ভালো হলেও বীজ ভাঙানোর সুবিধা নেই। এই অবস্থায় তারা ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। কৃষি বিভাগ বলছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তেল ভাঙানো হয়। তাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছে।

হাওরে সূর্যমুখী চাষ নিয়ে কয়েক মাস ধরে দর্শনার্থীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হলেও কৃষকের জন্য এই বীজ এখন তৈরি করেছে বিপত্তি।

কৃষি বিভাগ চাষিদের এই বীজ চাষে উৎসাহ দিয়েছে বিনা মূল্যে বীজ আর সার দিয়ে। কৃষক ঘরে ফসল তুলেছে যখন বীজ বিক্রি করতে পারছে না, তখন তাদের পাশে দাঁড়ায়নি কৃষি বিভাগ।

এই বীজ দিয়ে তেল ভাঙানোর ব্যবস্থা নেই জেলায়। বাজারে বীজ নিয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা যে দাম বলেন, তাতে চাষের খরচই ওঠে না। এ অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

চাষিদের এই ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক ছাইফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূর্যমুখীর বীজ এ মুহূর্তে বিক্রি করার করার ক্ষেত্রে সমস্যা হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা আমরাই করে দেব। যে সমস্যা এখন হচ্ছে, সেটা কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান হবে।’

কৃষকদের এই তথ্য জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও নিউজবাংলার সঙ্গে যে কজন চাষি কথা বলেছেন, তাদের কেউই এ ধরনের তথ্য দেননি।

কেবল হাওর নয়, জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কম-বেশি চাষ হয়েছে। ৩৩৫ হেক্টর জমিতে এই তেলবীজের ক্ষেতগুলো গত কয়েক মাস ধরেই এলাকাবাসী ও দূরের মানুষদের আগ্রহের বস্তু হয়ে রয়েছে।

দল বেঁধে ছবি তুলতে গিয়ে কখনও কখনও গাছের ক্ষতিও করেছে তারা। কেউ আবার কৃষকের ক্ষতি করে ফুলও ছিঁড়ে নিয়ে এসেছে।

ফুল আসার পর কৃষকের বিরক্তি এ কারণে ছিল ছবি তুলতে আসা মানুষদের ভিড় নিয়ে। পাহারা দিয়েও রাখতে হতো জমি।

কদিন আগে কালবৈশাখি অনেক ক্ষেতের ফুল নষ্ট করে দিয়েছে। তবে যারা ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন, তারাও যে স্বস্তিতে আছেন, তা নয়।

নতুন ফসল হওয়ায় এই বীজ নিয়ে কী করতে হবে, তা-ও বুঝে উঠতে পারছে না কৃষকেরা। পাওয়া যাচ্ছে না ক্রেতা। বাজারে নিয়ে গেলেও কেউ জিজ্ঞেস করে না বলে জানিয়েছেন তারা।

বিক্রি না করতে পেরে বীজ ভাঙিয়ে তেল বানানোর চেষ্টাও সফল হচ্ছে না। যে মেশিন দিয়ে সরিষা ভাঙানো হয়, সেটা দিয়ে সূর্যমুখী ভাঙতে গেলে পরিমাণে অনেক কম তেল পাওয়া যাচ্ছে।

জেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী ভাঙানোর মেশিন কিশোরগঞ্জে নেই। পরিমাণে সঠিক তেল পেতে হলে বা বীজের ন্যায্যমূল্য পেতে চাইলে যেতে হবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।

কিন্তু একেকজন কৃষকের যে পরিমাণ বীজ আছে, সেগুলো নিয়ে রূপগঞ্জে আসাও লাভজনক হওয়ার কথা না।

মিঠামইন উপজেলার মহিষারকান্দি বেড়িবাঁধ এলাকায় ৪০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন বাহাউদ্দীন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কৃষি অফিস আমরারে বিনা পয়সায় বীজ আর সার দিছে। এর লাইগ্যা সূর্যমুখির চাষ করছিলাম।

‘সারা বছর পাহারা দেয়া ফসল ঘর তুইল্যা বিপদে পড়ছি। ছয় মণ বীজ আছে আমার ঘরো। কিন্তু কেমনে কী করাম কিছুই বুঝতাছি না। কই বেচন যাইব এইডাও জানি না। কেউ জিগায়ও না।

‘উপায় না পায়া অহন এক কেজি, দুই কেজি কইরা যারা পক্ষী (পাখি) পালে হেরার কাছে বেচতাছি। ভাঙানোরও জাগাও পাইতাছি না।’

এই চাষি বলেন, ‘জমিত ফুল আওনের (আসার) পরে যেমনে মাইনষে দেখত আইছিন, সেইবালা (সে সময়) খুব ভালা লাগত। কিন্তু কেডা জানত, পরে এই অবস্থা হইব। এই ফসল ফলায়া আমি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।’

ইটনা উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের ময়নাহাটি হাওরে এক একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন আবদুল হেকিম। তিনি বলেন, ‘ফসল বালাই অইছে। কিন্তু এই বীজ লইয়া কিবা কী করবাম তা বুঝতাছি না। ধানের বেপারী তো হারাদিনই আয়ে। কিন্তু সূর্যমুখী কিনত কেউ আয়ে না।’

পাকুন্দিয়া উপজেলার আদিত্যপাশা এলাকার কৃষক মো. শফিক ও জাকির হোসেন সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন ৩০ শতাংশ জমিতে। ফলন খুব খুব ভালো হয়েছে। তবে ক্রেতা পাচ্ছেন না তারাও।

মিঠামইনের কুনকুনি হাওরে তিন একর জমিতে ফসল ফলানো মজিবুর রহমান ফসল ঘরে তুলতে পারেননি কালবৈশাখির কারণে।

তিনি বলেন, ‘ঝড়ে আমার সব শেষ। জমিতে ফসল পাওনের কথা ৬০ মণ। পাইছি না ছয় মণও।’

মজিবুর জানান, তার ৪০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে এই ফসল চাষ করে।

নিকলী সদর ইউনিয়নের চারিদ্বার এলাকার পাটছাড়া কান্দায় ৭৫ শতাংশ জমিতে চাষ করেছিলেন মিয়া হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি ফসল ঘরই আনতাম পারছি না। জমিতেই শেষ। হেই বালায় পর্যটকদের ভিড় বেশি বাইড়া গেছিল। সামলাতাম না পাইরা না টেহা নেয়া ছবি তুলতাম দিছি।

‘চাষ করছিলাম ফসলের আশায়। কিন্তু আর কোনো উপায় আছিন না।’

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক ছাইফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূর্যমুখী পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ফসল হওয়ায় কৃষকেরা একটু সমস্যায় পড়েছে। তার মধ্যে আবার ঝড়েও ক্ষতি করেছে।’

‘সরিষা যে ঘানিতে ভাঙে সেখানেও সূর্যমুখী ভাঙানো যায় তবে পরিমাণে তেলটা কম পাওয়া যায়। সূর্যমুখী ভাঙানোর জন্য আলাদা স্পেশালাইজড মেশিন রয়েছে, তবে কিশোরগঞ্জে সেটা এখনও আসেনি।’

তাহলে কৃষক এখন কী করবে, এমন প্রশ্নে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটা অয়েল মিল রয়েছে। তারা বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী কিনে ভাঙায়। আমরা সেখানেও যোগাযোগ করছি। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, আমরা সেই উদ্যোগ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজশাহীর গুটি আম বাজারে

রাজশাহীর গুটি আম বাজারে

‘এখনও আসলে আম সেভাবে পাকেনি। বৈশাখী জাতের কিছু গুটি আছে সেগুলো পাকছে কেবল। প্রথম দিন সেভাবে আম পাড়াও শুরু হয়নি। দুচারজন পেড়েছে আম। এসব গুটি আমের দাম সাত-আটশ টাকা থেকে শুরু করে হাজার বারোশ টাকা মণ।’

বাজারে উঠেছে রাজশাহীর রসাল গুটি আম। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুসারে শনিবার শুরু হয়েছে আম পাড়া।

আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় নামবে গোপালভোগ আম। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য জাতের আম পাড়া হবে।

গাছের কাঁচাপাকা আম নিয়ে বিকেলের আগেই চাষিরা হাজির হন নগরীর শালবাগান, বাগাবাজার, পুঠিয়া ও চারঘাটের বাজারে। কিন্তু ক্রেতার সমাগম ছিল না তেমন। কয়েকজন চাষি বলেন, প্রথম দিন বলে বাজারে পাইকার কম। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে পুরোদমে শুরু হবে বেচাবিক্রি।

রাজশাহীর আড়ানী এলাকার ব্যবসায়ী মাহতাব উদ্দিন বাদশা বলেন, এখনও আসলে আম সেভাবে পাকেনি। বৈশাখী জাতের কিছু গুটি আছে সেগুলো পাকছে কেবল। প্রথম দিন সেভাবে আম পাড়াও শুরু হয়নি। দুচারজন পেড়েছে আম। এসব গুটি আমের দাম সাত-আটশ টাকা থেকে শুরু করে হাজার বারোশ টাকা মণ।

বাঘা উপজেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের আমচাষিরা এখন প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে। আগামী সপ্তাহ থেকে জমবে বাজার। এখন যেগুলো পাকছে সেগুলোর তেমন চাহিদা নেই, দামও কম।

শালবাগান এলাকার আম ব্যবসায়ী সিরাজুর ইসলাম বলেন, শালবাগানে মূলত গোপালভোগ আম দিয়ে মৌসুম শুরু হয়। গুটি আম দুএকজন আনলেও বাজার জমবে মূলত গোপালভোগ আম পাড়া শুরুর পর। ২০ তারিখের পর এসব আম বাজারে আসবে।

সিরাজুল ইসলাম জানান, এখানকার আম রাজশাহী শহর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাবে। এজন্য তারা প্রস্তুতি নিয়ে আছেন। বেশি চাহিদা থাকে গোপালভোগ, ল্যাংড়া এবং হিমসাগরের।

নগরীর সাহেব বাজার এলাকার আমের ক্রেতা মাহফুজুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই শহরে কিছু আম দেখা যাচ্ছিল। ভ্যানে ভ্যানে পাড়া মহল্লাতেও এসব আম আজ বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে আমের তেমন স্বাদ নেই। একটু টকটক লাগে। তবু বাচ্চাদের জন্য অল্প সামান্য কিনতে এসেছি। তিনি বলেন, আমের মান অনুযায়ী দাম একটু বেশিই নেয়া হচ্ছে। প্রতি কেজি আম ৬০/৭০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মের আগে কোনো আম পাকলে জানাতে হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)। তখন প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে।

জেলায় সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি জাতের আম। উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানিপছন্দ ২৫ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা পাড়া যাবে ২৫ মে থেকে এবং খিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে থেকে পাড়া যাবে।

ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি আম ১৫ জুন থেকে পাড়া যাবে। আর সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে পাড়া যাবে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম।


অপরিপক্ব আমের বাজারজাত ঠেকাতে গত কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে আম নামানোর তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এবারও সিদ্ধান্ত নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে জুম মিটিং করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলায় এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার টন।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত গাছে যে পরিমাণ আম রয়েছে তাতে এবারে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশাবাদী। এবারে আমের স্বাদ ভালো বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন

তরমুজের ‘ঈদ নেই’, ২০ টাকায়ও ক্রেতার আপত্তি

তরমুজের ‘ঈদ নেই’, ২০ টাকায়ও ক্রেতার আপত্তি

রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়ানো এই বিক্রেতাকে বেশ তোপের মুখেও পড়তে দেখা গেছে। এক দিন আগেই যে তরমুজ তিনি বিক্রি করেছেন দুই-তিনশ টাকায়, সেগুলোরই দাম শুক্রবার হাঁকছিলেন ২০ টাকা করে।

রোজা শেষ হতেই তরমুজের গরম শেষ। ঈদের দিনে পানির দামেও গ্রীষ্মকালীন এই ফল ক্রেতাকে ধরিয়ে দিতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন ধানমণ্ডির বিক্রেতা নেওয়াজ মোল্লা।

রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়ানো এই বিক্রেতাকে বেশ তোপের মুখেও পড়তে দেখা গেছে। এক দিন আগেই যে তরমুজ তিনি বিক্রি করেছেন দুই-তিন শ টাকায়, সেগুলোরই দাম শুক্রবার হাঁকছিলেন ২০ টাকা করে।

তবে এই দামেও আপত্তি আশরাফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতার। ক্ষুব্ধ স্বরে তিনি বলছিলেন, ‘২০ টাকা না, ১০ টাকা হইলে দাও; নাইলে দাঁড়ায়ে দাঁড়ায়ে পচাও তোমার তরমুজ। রোজার ভিতরে তো তরমুজ বেইচ্চা লাল হইছো। ৩০০-৪০০ টাকার নিচে কথা কওন যায় নাই।’

আশরাফুলের ক্ষোভের কারণ, আগুন দামের কারণে রোজার সময়ে ইচ্ছা থাকলেও অনেক দিন তরমুজের দিকে হাত বাড়াতে পারেননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আরে ভাই, রোজার ভিতরে দাম জিগাইলেই কইতো তিন শ সাড়ে তিন শ। তরমুজের মইদ্দে লাল, কালা নাকি সাদা তাও কাইটা দেখানোর সময় তাগো ছিল না। তহন ওগো দিন গ্যাছে, এহন আমগো দিন।’

ফুটপাতে দাঁড়ানো মোহাম্মদ আলী নামে একজন আশরাফুলকে শান্ত করার চেষ্টা করেন, ‘যাই হোক ঈদের দিন এই ভাবে বইলেন না।’

আশরাফুলের পাল্টা জবাব, ‘ঈদের দিনই আমাগো দিন। রোজায় মানুষ সারাদিন রোজা রাইখা ফলমূল খায়, তহন অত দাম ওরা দিয়া রাখছিলো ক্যান। ক্যান রোজার দিন দিন না? আপনাগো ট্যাকা আছে আপনাগো সমস্যা নাই। ৬০০ ট্যাকায় তরমুজ খাওনের মুরদ কয়জনের ছিল কইতে পারেন?’

এবার মুখ খোলেন তরমুজ বিক্রেতা নেওয়াজ মোল্লা। অসহয় ভঙ্গিতে বলেন, ‘সব লাভ কি আমরাই রাখছি মামা?? আমগো কিন্না আইন্না ব্যাচন লাগে। যত বেশি লাভ মনে করতাছেন তত না। ২০-৫০ ট্যাকার বেশি লাভ করতে পারি নাই। এর মইদ্দে রোডে খরচ খচ্চা আছে। লাভ যাগো করনের তারা করছে। পুঞ্জিয়ালা (পুঁজি) লাভ করছে। ওগো গিয়ে কন।

‘তহনও আমরা জন (কামলা) বেচছি, আজ ঈদের দিনেও তাই।’

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন

‘ছেলেমেয়েরারে এইবার ঈদের কাপড় দিতে পারছি’

‘ছেলেমেয়েরারে এইবার ঈদের কাপড় দিতে পারছি’

শাহ ফজলুল হক বলেন, ‘গেল কয়েক বছর ধরি তো ছেলেমেয়েরারে ভালা কিচ্ছু দিতে পারছি না। এইবার সবার লাগি কাপড় কিনছে আমার বাচ্চার মায়। সবাইরে নিয়া আমরা খুশিতে ঈদ করমু।’

হাওরের চাষিদের হাসি-কান্না ধানকে ঘিরেই। ধানের ফলনের ওপরই নির্ভর করে, কেমন যাবে তাদের পুরো বছর।

২০১৭ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওরের ধান তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। ফলন ভালো হলেও সব ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না, এই ভাবনায় দিন পার করেন।

এ বছরের ধান কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তাদের ঘরে ঘরে বয়ে এনেছে ঈদের আনন্দ। ধান বিক্রি পুরোদমে শুরু না হলেও ঈদ উপলক্ষে প্রিয়জনদের জন্য পোশাক কিনতে শেষ সময়েও তারা ভিড় করছেন দোকানে।

সুনামগঞ্জের দেখার হাওর ও খরচার হাওরের ধান কাটা মোটামুটি শেষ। এখন চলছে ধান শুকানোর কাজ।

এ বছর ফলনের পাশাপাশি ধানের দরও বেশ ভালো। সরকার বোরো ধানের দাম নির্ধারণ করেছে মণ প্রতি ১ হাজার ৮০ টাকা। পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়।

সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের খরচার হাওরে ১০ কেয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন শাহ ফজলুল হক।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর আমরার ধান গত বছর অখলতের থাকি বেশি ভালা অইছে। আবহাওয়া ঠিক আছিল, বৃষ্টি কম অইছে। আল্লাহ দিলে আমি ধান পাইছি ১০০ মণ৷’

তিনি আরও বলেন, ‘গেল কয়েক বছর ধরি তো ছেলেমেয়েরারে ভালা কিচ্ছু দিতে পারছি না। এইবার সবার লাগি কাপড় কিনছে আমার বাচ্চার মায়। সবাইরে নিয়া আমরা খুশিতে ঈদ করমু।’

হাওরের ধান

কিশোর উসমান আলীর ঈদের পোশাক কেনা শেষ। তার এখন অপেক্ষা, কবে ঈদের চাঁদ উঠেবে।

সে বলে, ‘এইবার আমরার ধান ভালা অইছে। আব্বায় টাকা দিসেন। গত বছর খালি শার্ট দিসলা। এ বছর আমারে সবতা দিসোইন নতুন কিনিয়া।’

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের দেখার হাওরের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘ধান বিক্রি শুরু হইছে না ভালা করি। আট কেয়ার জমিত ধান করছিলাম। ৮০ মণের মতো ধান ফাইছি। আমরা সত্যিকারের খুশি অইমু ধান বেছতে পারলে। তবুও এতো বছর পরে নিজের কষ্টের ফসল ভালা অইছে এইটাই আনন্দ।

‘নতুন ধানের চাল দিয়া পিঠা খাওয়া অইবো। এরপরে ছেলেমেয়েরারে এইবার ঈদের কাপড় দিতে পারছি। সবকিছুর লাগি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’

শহরের ফুটপাতের কাপড়ের দোকান ও শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা যায়, সব জায়গাতেই কমবেশি ভিড় আছে মানুষের।

সদরের হোসেনপুর গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। বেশি দামি জিনিস কিনার সামর্থ্য নাই। তবে আমরা আমাদের মতো করে ছোট ছোট দোকানগুলা থাকি বাজার কররাম। দাম বেশি চায় অনেক, দরদাম করিয়া লওয়া লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আমরা খুশি কারণ আমরার ধান খুব ভালা অইছে। ইলান যদি সব বছর অইতো তাইলে আমরা চিন্তা আর আতঙ্ক ছাড়া থাকতাম।’

পোশাক ব্যবসায়ী রনি তালুকদার জানান, এ বছর কাস্টমার কম। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় বিভিন্ন হাওর এলাকা থেকে বেশি মানুষ আসছে। লকডাউন না থাকলে ব্যবসা খুব ভালো হতো।

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সুনামগঞ্জের একমাত্র ফসল বোরো ধান কাটা শেষ। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শের ফলে আমরা সব ধান বন্যার আগেই ভালোভাবেই কাটতে পেরেছি। তাই বলা যায় এ বছর হাওরে ঈদের আনন্দ থাকবে।’

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন

চালের মান নিয়ে আপস নয়: খাদ্যমন্ত্রী

চালের মান নিয়ে আপস নয়: খাদ্যমন্ত্রী

চলতি বোরো মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

বোরো মৌসুমে সংগ্রহ করা চালের মান নিয়ে কোনো আপস হবে না জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘চালের মান ঠিক রেখে, সঠিকভাবে শতভাগ সংগ্রহ সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

‘ডিজিটাল রাইস প্রকিউরমেন্ট’ নামের অ্যাপ দিয়ে খুলনায় সরকারি চাল কেনা কর্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। বুধবার সকালে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ কোনো স্বপ্ন নয়। এটা এখন বাস্তবতা। প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকও এখন এর সুবিধা পাচ্ছে।’

‘কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এবারের বোরো সংগ্রহে ধান-চাল ক্রয়ে ধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং কোনোভাবেই কৃষককে হয়রানি করা যাবে না।’

চলতি বোরো মৌসুমে প্রতিটি জেলার খাদ্য অফিসে ১৩টি নির্দেশনা পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা মেনে এ বছর কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

‘ডিজিটাল রাইস প্রকিউরমেন্ট’ অ্যাপের সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয়ের ফলে একদিকে যেমন অল্প সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে; অপরদিকে খাদ্য বিভাগ, কৃষক এবং মিলারদের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে গতি আনয়ন করা সম্ভব হবে।’

গত মৌসুমে খুলনা জেলায় ‘ডিজিটাল রাইস প্রকিউরমেন্ট’ অ্যাপ দিয়ে মিলারদের কাছ থেকে চাল কেনা শুরু হয়।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধন আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাজমানারা খানুম, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, খুলনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, খুলনা জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, খুলনা জেলার কৃষক ও মিলমালিক প্রতিনিধি, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন

নওগাঁয় ২০ মে থেকে পাড়া যাবে আম

নওগাঁয় ২০ মে থেকে পাড়া যাবে আম

নওগাঁর একটি আম বাগান। ছবি: নিউজবাংলা

নওগাঁয় ২০ মে থেকে শুরু হচ্ছে আম পাড়া। তবে আবহাওয়া, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতসহ বিশেষ কারণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আগে আম পাড়া যাবে।

নওগাঁয় জাতভেদে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পরিপক্ব আম বাজারজাত নিশ্চিতে স্থানীয় আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলায় ২০ মে থেকে শুরু হচ্ছে আম পাড়া। তবে আবহাওয়া, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতসহ বিশেষ কারণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আগে আম পাড়া যাবে।

মঙ্গলবার নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক হারুণ-অর রশিদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০ মে থেকে গুটি জাতের আম পাড়া যাবে। উন্নত জাতের আমের মধ্যে গোপালভোগ ২৭ মে ও ক্ষীরশাপাত বা হিমসাগর ২ জুন থেকে পাড়া যাবে।

এ ছাড়া নাগ ফজলি ৪ জুন, ল্যাংড়া ১০ জুন, ফজলি ২০ জুন ও আম্রপালি ২২ জুন থেকে পাড়তে পারবেন চাষিরা। সর্বশেষ ৮ জুলাই থেকে পাড়া যাবে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম।

জেলা প্রশাসক হারুণ-অর রশিদ বলেন, ‘অসময়ে আম পাড়া বন্ধ এবং ক্যালসিয়াম, কার্বাইড, পিজিআর, ফরমালিন, ইথিফনের মতো কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে যেন আম পাকানো না হয়, সেজন্য গাছ থেকে আম নামানোর সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং পুলিশ কঠোরভাবে মনিটরিং করবে।’

‘তবে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে কোথাও নির্ধারিত সময়ের আগে গাছে আম পাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে চাষিরা আম পাড়তে পারবেন।’

কৃষি ও খাদ্যপণ্যবাহী পরিবহন লকডাউনের আওতার বাইরে থাকায় চাষিরা আম সরবরাহে কোনো বেগ পাবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি মৌসুমে নওগাঁতে ২৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২০ টন।

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন

কালবৈশাখীতে ৩০৮ হেক্টর ফসলের ক্ষতি

কালবৈশাখীতে ৩০৮ হেক্টর ফসলের ক্ষতি

কালবৈশাখী ঝড়ে মান্দার একটি ক্ষেতের পাটগাছ পড়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝড়ে মান্দা উপজেলার ১৩৮ হেক্টর পাট, ৩০ হেক্টর তিল, নিয়ামতপুর উপজেলার ১১০ হেক্টর বোরো ধান এবং মহাদেবপুর উপজেলার ২০ হেক্টর বোরো ধান, পাঁচ হেক্টর পাট ও পাঁচ হেক্টর মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জমিতে কেটে রাখা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্দা উপজেলা।

এই জেলায় সোমবার মাঝরাতের পর থেকেই শুরু হয় ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। ভোরের দিকে ঝড়, শিলাবৃষ্টি থেমে গেলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস হয়েছে।

ঝড়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু কিছু বাড়ির চালে শিল পড়ে বড় বড় ছিদ্র হয়েছে, কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে পুরনো টিন। ঝোড়ো বাতাসে কিছু বাড়ির চালও উড়ে গেছে।

মান্দার মৈনম ইউনিয়নের বৌদ্ধপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের তাইজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, হঠাৎ করেই প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই তার আধাপাকা ঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে পাশে পড়ে। রাত থেকেই স্ত্রী, সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছেন।

নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝড়ে মান্দা উপজেলার ১৩৮ হেক্টর পাট, ৩০ হেক্টর তিল, নিয়ামতপুর উপজেলার ১১০ হেক্টর বোরো ধান এবং মহাদেবপুর উপজেলার ২০ হেক্টর বোরো ধান, পাঁচ হেক্টর পাট ও পাঁচ হেক্টর মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জমিতে পানি জমায় কেটে রাখা ধান ভিজে নষ্ট হচ্ছে। যে ধানগুলো এখনও কাটা হয়নি সেগুলো জমিতে পড়ে গেছে। ভেঙে গেছে ভুট্টা, পাট ও কলাগাছ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের টিন ও টাকা দেয়া হবে। তবে বৃষ্টির কারণে কাজে একটু দেরি হচ্ছে।’

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল ওয়াদুদ জানান, জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটা রিপোর্ট তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষতির পরিমাণ জানতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগতে পারে।

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন

গবাদিপশুর জন্য ৩৫ লাখ টিকা আমদানি

গবাদিপশুর জন্য ৩৫ লাখ টিকা আমদানি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় এসব টিকা আমদানি করা হয়েছে।

গবাদিপশুর রোগ নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া থেকে উন্নতমানের ৩৫ লাখ ডোজ টিকা আমদানি করেছে সরকার।

মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় এসব টিকা আমদানি করা হয়েছে।

টিকাগুলোর মধ্যে পাবনায় ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০; সিরাজগঞ্জে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০; মানিকগঞ্জে ৬ লাখ ৭০ হাজার এবং ভোলায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার ডোজ পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের নিশ্চয়তা প্রদান ও বিশ্ববাজারে দেশের প্রাণিজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দেশের ডেইরি খাত ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বিধায় পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানি করছে সরকার।’

৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ২৮৬ ডোজ টিকা আমদানির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ ডোজ অতিসম্প্রতি রাশিয়া থেকে দেশে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক গরু, ছাগল, মহিষ এবং ভেড়া ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হচ্ছে, যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’

করোনা মহামারির এ সময়ে খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এ ভ্যাকসিন কার্যকর ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‌‘করোনা সংকটে সরকার খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।’

অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীলতার দিক থেকে গবাদিপশুর সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, যা সংক্ষেপে এফএমডি নামে পরিচিত।

সাধারণত গবাদিপশুর ক্ষুর বেশি আক্রান্ত হয় বলে একে ক্ষুরা রোগ বলা হয়। এ রোগ দেশের ডেইরি শিল্পের অন্যতম প্রধান রোগ।

আরও পড়ুন:
হাসি বিলাচ্ছে সূর্যমুখী
সূর্যমুখী ফুলে ফুলে হাসে বাবা-ছেলের খেত
সেলফিবাজি: সূর্যমুখি চাষির মাথায় হাত

শেয়ার করুন