হাওরে নতুন দুর্যোগে দিশেহারা কৃষক

গরম বাতাসে পুড়ে গেছে তিন জেলার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরে নতুন দুর্যোগে দিশেহারা কৃষক

এর সঠিক কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না কৃষিবিজ্ঞানীরা। তবে কেউ কেউ বলছেন ‘লু হাওয়া’ তথা গরম বাতাসের কারণে এমনটি হয়েছে। যদিও আবহাওয়াবিদদের দাবি, বাংলাদেশে এখন যে তাপমাত্রা তাতে লু হাওয়া বয়ে যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই।

দেশের বোরো ধানের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার কৃষকদের মাথায় হাত। হঠাৎ অচেনা এক দুর্যোগ ‘গরম বাতাসে’ এসে এলোমেলো করে দিয়েছে সব। পুড়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। একই দশা গোপালগঞ্জেরও কয়েকটি উপজেলায়।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গরম বাতাসে তিন জেলায় অন্তত ৪২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর সঠিক কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না কৃষিবিজ্ঞানীরা। কৃষকদের স্বপ্ন তছনছ করে দেয়া এই দুর্যোগকে কৃষিবিদদের কেউ বলছেন ‘হিট শক’, কেউ বলছেন ‘লু হাওয়া’। আর আবহাওয়াবিদদের দাবি, বাংলাদেশে এখন যে তাপমাত্রা তাতে লু হাওয়া বয়ে যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই।

নেত্রকোণা

জেলাটিতে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।

চলতি বোরো মৌসুমে নেত্রকোণার ১০ উপজেলায় ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতি এত দিন চমৎকার থাকলেও রোববার হানা দেয় অচেনা বিপত্তি।

সেদিন সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ কালবৈশাখির দমকা বাতাস বয়ে যায় জেলার ওপর দিয়ে। এই বাতাস শুরুর কিছু সময় পর বইছিল গরম বাতাস। এই প্রথম তখন ১০ থেকে ১৫ মিনিট নাগাদ বয়ে যাওয়া গরম বাতাসে ফুল অবস্থায় থাকা জমির পুরোটাই শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে মদন, খালিয়াজুরী ও কেন্দুয়া উপজেলায় বেশি ক্ষতি হয়েছে।

মদনে ৪ হাজার হেক্টর, কেন্দুয়ায় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর ও খালিয়াজুরী উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ১৪ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১৬ কোটির বেশি টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা ঋণ করে ফসল করছেন। হাওরাঞ্চলে একটাই ফসল হয়। এখন ঋণ পরিশোধ হবে কীভাবে, আর কীভাবে সংসার চলবে, সেটি বুঝে উঠতে পারছেন না তারা।

মদন উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রহমান বলেন, ‘জীবনে এইরম গরম বাতাস দেখছি না। অক্করে আগুনের লুক্কার মতো গরম। ঝড় কইম্যা গেলে ঘরতে বাইর অয়া দেহি পুড়ার গন্ধ। পয়লা বুঝতে পারছি না। বেইন অক্ত (সকালে) হাওরে গেয়া দেহি, ধানের ভিতরে যে চাউল অয় হেইডা অক্করে ঝইরা পুইড়া গেছে।’

কেন্দুয়া উপজেলা রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কইলাটি গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, ‘রাইতে যে হাওয়াডা অইছে এইডায় জমি পুইরা গেছেগা। আমার ২৫ কাঠা জমির ধান শেষ অইয়া গেছে।’

খালিয়াজুরী উপজেলার আদমপুর বোয়ালবাড়ি গ্রামের কৃষক বাবলু চৌধুরী এবার ৮ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। তার অর্ধেক জমির ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘ভাটি অঞ্চলে একডাই ফসিল অয়। ঋণ ফিন কইরা বোরো করছিলাম। সব গেছেগা। অহন আমরা কী খাইয়া বাঁচব।’

মোহনগঞ্জ উপজেলার বানিহারি গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, ‘কী কষ্ট কইরা রেনাদেনা কইরা একডাই ফসিল করলাম। সব নষ্ট অইয়া গেছে। কিবায় চলাম?’

কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় গরম বাতাসে মাঠের পর মাঠ ধান পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কিশোরগঞ্জ

গরম বাতাসের প্রভাবে গত রোববার কিশোরগঞ্জে হাজার হাজার একর জমির বোরো ধান পুড়ে গেছে।

জেলার ১৩টি উপজেলার হাওরে মাত্র ১০ মিনিটের গরম বাতাসে প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২০০ কোটি টাকার মতো।

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, বোরো ধানের জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ৩ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির ধান।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের কৃষক পালন মিয়া। এই চাষি ধান আবাদ করেছিলেন ছয় একর জমিতে। আশা করছিলেন ধান পাবেন কমছে কম চার শ মণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। মাত্র ১০ মিনিটের গরম বাতাসে নষ্ট হয়েছে কৃষক পালন মিয়ার জমির ফসল।

রায়টুটী এলাকার তলার হাওরে ১২ একর জমি আবাদ করেছিলেন কৃষক আ. হেকিম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর ধানের দাম বেশি ফাইছি, হের লাইগ্যা এইবার আরও বেশি কইরে জমি করছি। জমির মইধ্যে ফসলও অইছিন বালা। কিন্তু গত রাইতেই ১০ মিনিডের একটা গরম বাতাসে সব পুইড়ে ছারকার কইরে দিসে। আমার সত্তর বছর বয়সে এই যাইত্তে বাতাস আমি জীবনেও দেখছি না। সহালে ঘুমেত্তে উইট্টে জমিতে গিয়া দেহি সব শেষ।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কৃষি বিভাগকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তালিকা হাতে পেলে সহায়তা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত পাঠানো হবে।’

গোপালগঞ্জের অনেক ধান মাঠেরও একই একই অবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা

গোপালগঞ্জ

গরম বাতাসে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে গোপালগঞ্জের বোরোচাষিরাও। জেলা কৃষি বিভাগ ক্ষতির পরিমাণ এখনও সুনির্দিষ্ট করতে না পারলেও তাদের ধারণা অন্তত হাজার- বারো শ হেক্টর জমির ধান পুড়ে গেছে।

জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, অন্তত ১০টি ইউনিয়নে এই হাওয়ার প্রভাব দেখা গেছে। হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনায় একদিকে যেমন কৃষকেরা হতবাক অন্যদিকে, এর জুতসই কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কৃষি বিভাগ।

এর আগে এ ধরনের ঘটনা কোথাও ঘটেছে কি না কারও জানা নেই। যে কারণে গোপালগঞ্জ কৃষি অফিস থেকে বিষয়টির ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অবস্থিত ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছে।

গত রোববার রাতে ৩০ মিনিটের মতো জেলার বিভিন্ন এলাকায় গরম বাতাস বয়ে যায়। আর এতে ক্ষেতে উঠতি বোরো ধান যেগুলেতে কেবল ধানের শিষ (দুধ) এসেছে সেই ধান সব চিটায় পরিণত হয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করে। আর এতে জেলার শত শত কৃষক কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি, পিঞ্জুরী, হিরণ ও আমতলী ইউনিয়ন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর, ডুমুরিয়া, পাটগাতি ও বর্নি ইউনিয়ন, কাশিয়ানীর রাতইল ইউনিয়ন, সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের শ শ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকেরা আগামী বছর কী খেয়ে বাচঁবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। রোববার বিকেলেও কৃষকেরা তাদের ধান ক্ষেতে সবুজ দেখে আসলেও সকালে জমির আলে গিয়ে দেখেন সব ধান সাদা হয়ে গেছে। কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। কীভাবে কী হলো।

জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর এক দল বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন জমি পরিদর্শন করেন। এই দলে ছিলেন ইনস্টিটিউটের ড. মো. নজরুল বারী, মোহাম্মদ আসিক ইকবাল খান, ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম শাহজাহান কবীর জানান, বিজ্ঞানী দলের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন। তারা উপজেলার তাম্বুলিপাড়া, গোগ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে যান। সেখানে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে ধানের ফুল ও দুধ অবস্থায় তাপ প্রবাহের দরুণ ‘হিট শক’ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন দলের সদস্যরা ।

নেত্রকোণায় গরম বাতাসে পুড়ে যাওয়া ধান মাঠ পরিদর্শনে যান কৃষি বিজ্ঞানীরা। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে বারির পরিদর্শন টিমের সদস্যরা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের পরামর্শ, যেসব ধান এখনও শীষ বের হয়নি অর্থাৎ বুটিং ও হেডিং স্টেজ এ আছে, সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। তাই এই স্টেজে থাকা ধানের ক্ষেতগুলোতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা এবং ম্যাজিক স্প্রে (১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম এমওপি সার, ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ২০ গ্রাম চিলেটেড জিংক) জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা ধানগাছগুলো কিছুটা শক কাটিয়ে উঠতে পারবে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছাইফুল আলম বলেন, ‘বৃষ্টিবিহীন ঝড়ো বাতাসে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাওরের ধানের গাছগুলো এখন মিল্কিং স্টেজে (দুধ অবস্থায়) আছে। এই সময়ে প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম বাতাসে ধান পুড়ে চিটা হয়ে গেছে।’

গরম বাতাস তথা ‘লু হাওয়ার’ কারণেই এসব ধান নষ্ট হয়েছে বলে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিদের বরাতে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায়।

তিনি বলেন, ‘জেলার টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া এবং কাশিয়ানীতে এক রাতের মধ্যে শত শত হেক্টর জমির ধান সবুজ থেকে সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে ধানের শিষ (দুধ অবস্থায়)। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন লু হাওয়া বা গরম বাতাসের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’

মঙ্গলবার ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের ভাঙ্গা (ব্রি) এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. একলাচুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মনোজিৎ কুমার মল্লিক, গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. অরবিন্দ কুমার রায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

তারা জানান, গরম বাতাসের কারণে যেসব ধান কেবল দুধ অবস্থায় বা ফ্লাওয়ারিং অবস্থায় রয়েছে সেসব ধানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা কৃষকদের ধান গাছে পানি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাতে যেসব ধান ফ্লাওয়ারিং অবস্থায় রয়েছে সেগুলো বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জয়পুরহাট সদরে ধান-চাল কেনা শুরু

জয়পুরহাট সদরে ধান-চাল কেনা শুরু

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় চাল কেনা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ইউএনও। ছবি: নিউজবাংলা

জয়পুরহাট সদর উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৪০ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৬৬১ টন চাল কেনা হবে। কার্যক্রম চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। এ ছাড়া সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৪০১ টন ধান কেনা হবে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল কেনা কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে চাল কেনা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেবেকা সিদ্দিকা লিপি, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, ওবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলামসহ খাদ্য কর্মকর্তারা।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৪০ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৬৬১ টন চাল কেনা হবে। কার্যক্রম চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। এ ছাড়া সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৪০১ টন ধান কেনা হবে।

শেয়ার করুন

হারভেস্টার মেশিনে কৃষকের মুখে হাসি

হারভেস্টার মেশিনে কৃষকের মুখে হাসি

‘ইলান যদি আমরারে প্রতি বছর দেয়া হয় তাইলে আমরা বন্যা অওয়ার আগে ধান কাটি ঘরে তুলতে পারমু। ধানের দামও আমরা ভালা ফাইরাম(পাচ্ছি)। সরাসরি গুদামে দিতে না পারলেও মণ প্রতি ৯০০-৯৫০ টাকা দাম ফাইরাম যা গত বছর ফাইছলাম ৫৫০-৬০০ টাকা।’

হাওরের জমিতে ফলানো ধান প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্যায়। তাই প্রতি বছরই ধান তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন কৃষকরা।

এ বছর হারভেস্টার মেশিন কৃষকের দুশ্চিন্তার ভার অনেকটাই লাঘব করে হাসি ফুটিয়েছে তাদের মুখে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে এই জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৯৮ শতাংশ ধানই কেটে ফেলা হয়েছে।

গত বছরের চেয়ে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৩০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার মেট্রিকটন। গতবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিকটন। উৎপাদন হারের লক্ষ্যমাত্রা এ বছর ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লক্ষ্যমাত্রার ধানের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও আধুনিক ধান কাটার মেশিন হারভেস্টার ব্যবহার করায় বন্যার অনেক আগেই কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন।

অন্যান্য জেলা থেকে এখানে ধান কাটতে এসেছেন ৯ হাজার ৮৭০ জন শ্রমিক। আর হাওরের ধান কেটেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার শ্রমিক।

হারভেস্টিং মেশিন
হারভেস্টিং মেশিনে কাটা হচ্ছে ধান

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল, জেলার ৭ হাজার কৃষককে বোরো প্রণোদনা ও ৩৫ হাজার কৃষককে হাইব্রিড বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কৃষকরা যেন সঠিক সময়ে সব ধান কেটে ফেলতে পারেন সেজন্য প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি থাকায় আমরা কোনো সমস্যা ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পেরেছি।’

তিনি জানান, ধান কাটার কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে কৃষির আধুনিক যন্ত্রপাতি। এ বছর ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ১১৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৯টি রিপার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য জেলা থেকে ৬৩টি হারভেস্টার ভাড়া করা হয়েছে ও পুরোনো মেশিন ছিল ১২৯টি।

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের কৃষানি মমিনা খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ কেয়ার জমিত ধান করছি। এবার কিছু ধান গরমে নষ্ট অইছে তবে বেশির ভাগ ধানই ভালা অইছে। এবার সরকার থাকি মেশিন দিসিল ধান কাটার। তাই আমরা তাড়াতাড়ি ধান কাটছি।

‘ইলান যদি আমরারে প্রতি বছর দেয়া হয় তাইলে আমরা বন্যা অওয়ার আগে ধান কাটি ঘরে তুলতে পারমু। ধানের দামও আমরা ভালা ফাইরাম(পাচ্ছি)। সরাসরি গুদামে দিতে না পারলেও মণপ্রতি ৯০০-৯৫০ টাকা দাম ফাইরাম যা গত বছর ফাইছলাম ৫৫০-৬০০ টাকা।’

বোরো ধান কাটা

এই হাওরের ধান চাষ করা আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, ‘এইবার ধান ভালা অইছে। মেঘও বেশি অইছে না। ধান কাটছিও তাড়াতাড়ি। এখন ধান শুকাইয়া বেছতে পারলে বউ বাচ্চা নিয়া চলতে পারমু। যা ধান অইছে তা মহাজন আর আমি ভাগাভাগি করিয়া নিমু।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের ১১টি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে ও বাকিগুলোতে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত কৃষকরা ১ হাজার ৮০ টাকা দরে সরকারি গুদামে চাল দেবেন। এ বছর সরকার সুনামগঞ্জ থেকে ২৯ হাজার টন ধান কিনবে।

ডিসি কৃষকদের অনুরোধ করেন, এই কৃষকরা যেন দালালের মাধ্যমে না দিয়ে সরাসরি এসে ধান বিক্রি করেন।

শেয়ার করুন

রাজশাহীর আম পেতে ১৫ মে পর্যন্ত অপেক্ষা

রাজশাহীর আম পেতে ১৫ মে পর্যন্ত অপেক্ষা

সব ধরনের গুটি জাতের আম নামানো যাবে আগামী ১৫ মে থেকে। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রাণীপছন্দ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে থেকে গাছ থেকে পাড়া যাবে।

বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে এবারও গাছ থেকে নামানোর সময় বেঁধে দিল প্রশাসন। ভালো দামের আশায় অপরিপক্ক আম যাতে কেউ বিক্রির সুযোগ না পায় সেজন্য এই সিদ্ধান্ত।

বৃহস্পতিবার কৃষিবিদ, ফল গবেষক, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করে জেলা প্রশাসন আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে। দুপুরে ভার্চুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সবার মতামত পর্যালোচনা করে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবার আগে পাড়া যাবে গুটি আম। সব ধরনের গুটি জাতের আম নামানো যাবে আগামী ১৫ মে থেকে। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রাণীপছন্দ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে থেকে গাছ থেকে পাড়া যাবে।

এর আগে গাছ থেকে আম পাড়া বা বাজারজাত করা নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে ফজলি ও আম্রপালি এবং ১০ জুলাই থেকে আশি^না ও বারি আম-৪ নামানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম বাজারে পেলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। তবে কারও বাগানে নির্ধারিত সময়ের আগেই আম পাকলে তা প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।

ভুার্চুয়াল সভা শেষে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, বাজারে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে প্রতিবছরই রাজশাহীতে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এবারও সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে তারিখ ঠিক করা হয়েছে।


জেলা প্রশাসক আরও জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে আমের বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়েছে। হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনাররাও বিষয়টি দেখভাল করবেন।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। এছাড়া বাঘার আড়ানী, মনিগ্রাম, বাউসা ও পাকুড়িয়া এবং মোহনপুরের কামারপাড়ায় পাইকারী আমের হাট বসে। হাটগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে এরইমধ্যে প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এবার বাগান বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমিতে। এ বছর হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলায় এ বছর মোট দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিম উদ্দীন বলেন, এখন পর্যন্ত যে আম গাছে রয়েছে তাতে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে এবার রাজশাহীতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আমের স্বাদ এবং মানও এবারে ভালো হবে বলে আশা করেন তিনি।

শেয়ার করুন

সেবার মানসিকতায় এগিয়ে আসুন, মিল মালিকদের খাদ্যমন্ত্রী

সেবার মানসিকতায় এগিয়ে আসুন, মিল মালিকদের খাদ্যমন্ত্রী

চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ঠিক সময়ে সরকারকে চাল বুঝিয়ে দেবেন।

চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সরকারের তালিকাভুক্ত। সবসময় সরকার আপনাদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করে এবং এবারও আপনারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তি মোতাবেক সঠিক সময়ে সরকারকে চাল বুঝিয়ে দেবেন।’

করোনা মহামারিকালে সেবার মনোভাব নিয়ে চালকল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ঠিক সময়ে চাল দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সরকারি গুদামের মজুত বাড়াতে খাদ্যশস্য কেনায় গতি বাড়াতেও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বৃহস্পতিবার খুলনা ও বরিশাল বিভাগের চালকল মালিকদের সঙ্গে বোরো সংগ্রহ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুন। এই করোনাকালীন সময়ে মানুষকে সেবা করার উপযুক্ত সময়, সেবার মনমানসিকতা নিয়ে আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারের তালিকাভুক্ত। সবসময় সরকার আপনাদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করে এবং এবারও আপনারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তি মোতাবেক সঠিক সময়ে সরকারকে চাল বুঝিয়ে দেবেন।’

গুদামে চাল সরবরাহের সময় বস্তার গায়ে খাদ্যগুদামের নাম, তারিখ এবং খাত (খাদ্য বান্ধব, ওএমএস, টিআর, কাবিখা) স্পষ্ট করে স্টেনসিলের মাধ্যমে অমোচনীয় কালি দিয়ে লেখারও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

সরকারের সঠিক দিক নির্দেশনায় এবার বোরোতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বাজার দর ধরে রাখতে সরকারি সংগ্রহের গতি বাড়াতে হবে। এ ছাড়া নির্দেশ মোতাবেক খাদ্যশস্যের মান যাচাই করে সংগ্রহ করতে হবে।’

করোনা মহামারিতেও খাদ্য অধিদপ্তর এবং মাঠ পর্যায়ের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করায় ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ধান চাল সংগ্রহের সময় কোনো কৃষকের সঙ্গে অসদাচারণ করবেন না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হবেন না।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমানারা খানুমের সমন্বয় ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, মিল মালিক প্রতিনিধিরা।

শেয়ার করুন

মাছ মাংস দুধ ডিমের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ২০৪ কোটি টাকা

মাছ মাংস দুধ ডিমের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ২০৪ কোটি টাকা

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে মাছ-মাংস, দুধ-ডিম বিক্রি হচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রে এলাকাভেদে প্রতি লিটার দুধ ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকায়, প্রতিটি ডিম ৬ টাকায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকায়, প্রতি কেজি খাসির মাংস ৭০০ টাকায়, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২২০ টাকায় এবং প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১১৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

চলমান সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউনে বিভিন্ন জেলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ মাছ-মাংস বিক্রিতে সাড়া পড়েছে। এই সময়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গাড়িতে করে মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয়েছে ২০৪ কোটি টাকার।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, গত ৪ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত এক মাসে ন্যায্যমূল্যে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে মোট ২০৪ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার এসব পণ্য বিক্রি হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ বিক্রি কার্যক্রম তদারকি করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নিজেই।

মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আলাদা দুটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ এসব পণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ৪ মে পর্যন্ত এক মাসে দেশের ৬৪টি জেলায় ৫৩ লাখ ৫ হাজার ২১৬ লিটার দুধ, ২ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৬৮১টি ডিম, ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৯১ কেজি গরুর মাংস, ৯৮ হাজার ৭২১ কেজি খাসির মাংস, ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯২ কেজি দেশি, সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি এবং ৪ হাজার ১২৪ মেট্রিকটন মাছ বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া ৩ কোটি ৬৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৫ টাকার বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যও বিক্রি হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ডিম কিনছেন এক ক্রেতা। ছবি: নিউজবাংলা

গত এক মাসে সারা দেশে ১৭ হাজার ৯৫৪টি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রে এলাকাভেদে প্রতি লিটার দুধ ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকায়, প্রতিটি ডিম ৬ টাকায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকায়, প্রতি কেজি খাসির মাংস ৭০০ টাকায়, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২২০ টাকায় এবং প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১১৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রয় হয়েছে।

সারা দেশেই ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে মাছ-মাংস, ডিম, দুধসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি গত এক মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের মাছ অনলাইনে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যক্রমটিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্যে উৎপাদিত পণ্য সহজে বিপণনের সুযোগ পেয়েছেন। আর ভোক্তারা করোনা পরিস্থিতিতে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পেরেছেন।

শেয়ার করুন

খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ব্রি৮১ ধান: মন্ত্রী

খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ব্রি৮১ ধান: মন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বৃহস্পতিবার ব্রি৮১ জাতের ধান কাটা ও কৃষক সমাবেশে যোগ দেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্রি৮১ জাতের ধানের ফলন অনেক ভালো। বিঘাপ্রতি ৩১ মণ, প্রতি শতকে প্রায় ১ মণ। এটি জনপ্রিয় ব্রি২৮ ও ব্রি২৯ জাতের মতো।’

দেশের জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকলেও নানা কারণে কমছে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ। এমন বাস্তবতায় ব্রি৮১-এর মতো নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করে খাদ্যসংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বৃহস্পতিবার ব্রি৮১ জাতের ধান কাটা ও কৃষক সমাবেশে যোগ দিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ১৭ কোটি মানুষ রয়েছে। আর প্রতি বছর বাড়ছে ২২-২৩ লাখ করে। অন্যদিকে নানা কারণে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে; রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও।

‘এ অবস্থায় দেশের মানুষকে খাওয়ানো, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।’

ফসলের অনেক নতুন জাত ও চাষাবাদের প্রযুক্তি উদ্ভাবন হওয়ার কারণে জনসংখ্যা ক্রমে বাড়লেও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্রি৮১ জাতের ধানের ফলন অনেক ভালো। বিঘাপ্রতি ৩১ মণ, প্রতি শতকে প্রায় ১ মণ। এটি জনপ্রিয় ব্রি২৮ ও ব্রি২৯ জাতের মতো।

‘এ দুটি ধান দীর্ঘদিন ধরে চাষ হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। সে জন্য এই নতুন ব্রি৮১ জাতটি কৃষক পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

এই ধান আবাদে চাষিরাও খুব আগ্রহ দেখাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অচিরেই ব্রি৮১ জনপ্রিয়তায় ব্রি২৮-এর মতো হবে। এ উচ্চফলনশীল জাতটি চাষের মাধ্যমে ধান উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় এটি আশানুরূপ ভূমিকা রাখবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর।

তিনি বলেন, ‘ব্রি ধান৮১, ব্রি ধান২৮ জাতের পরিপূরক। কিন্তু এটি ব্রি ধান২৮-এর চেয়ে চিকন। ঝড়বৃষ্টিতে ব্রি ধান২৮ হেলে পড়লেও নতুন ব্রি ধান৮১ হেলে পড়ে না।’

এ জাতের ধান পাকার পরও পাতাগুলো সবুজ থাকে জানিয়ে শাহজাহান কবীর বলেন, ‘মাঝারি উঁচু জমি থেকে উঁচু জমিতে খুব ভালো ফলন দেয়। নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ অঞ্চলে এই ধানের ফলন অনেক ভালো পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৬.৫ থেকে ৭ মেট্রিকটন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রান্না করার পর এটি বাসমতির মতো দেড় গুণ লম্বা হয়ে যায়। এই চালে অ্যামাইলোজ বেশি, যার পরিমাণ ২৫ শতাংশের ওপর। ভাত ঝরঝরে ও খেতে সুস্বাদু।

‘ধান থেকে তৈরি আতপ চাল বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। এতে প্রোটিন থাকে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ব্রি ধান২৮-এ থাকে মাত্র ৮ শতাংশ।’

সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, বিএডিসির চেয়ারম্যান অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি হামিদুর রহমান, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, বারির মহাপরিচালক ড. নাজিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব, কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক নজরুল ইসলামসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস হবে আম: কৃষিমন্ত্রী

রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস হবে আম: কৃষিমন্ত্রী

সরকার কৃষিপণ্য রপ্তানির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভ্যাপার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করছে। পণ্য প্যাকেজিংয়ের জন্য পূর্বাচলে এক একর জমি দেয়া হয়েছে। সেখানে ল্যাবরেটরিতে আম পরীক্ষার পর প্যাকেজিং হয়ে সরাসরি বিদেশে রপ্তানি হবে।

আগামীতে রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস আম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেছেন, সরকার কৃষিপণ্য রপ্তানির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার মতবিনিময় সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদশে কৃষি গবষেণা ইনস্টটিউিটের (বারি) মহাপরিচালক ড. নাজিরুল ইসলাম। মতবিনিময়ে অংশ নেন সংসদ সদস্য ড. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হরিদাস চন্দ্র মোহন্ত, আম চাষি ইসমাইল খান সামীমসহ অনেকে।

সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা কৃষিপণ্য রপ্তানীর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য ভ্যাপার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হবে। রাজশাহী, নওগাঁ ও ঢাকাতে প্ল্যান্ট করা হবে। প্যাকেজিংয়ের জন্য পূর্বাচলে প্রধানমন্ত্রী এক একর জমি দিয়েছেন। সেখানে ল্যাবটরিসহ সব সুবিধা থাকবে। আম পরীক্ষার পর প্যাকেজিং হয়ে সরাসরি বিদেশে রপ্তানি হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জুড়েই আছে পোশাক শিল্প। কিন্তু এটা কোনো কারণে যদি সমস্যায় পড়ে তাহলে আমরা কী করব? সেদিক বিবেচনায় আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাস, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, পুলিশের রাজশাহী বিভাগের কমিশনার আব্দুল বাতেন, চাঁপাইনচবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার এ এইচ এম আব্দুল রকিবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আম চাষিদের মাঝে বারি আম-৪ ও বারি আম-১১ চারা বিতরণ করেন। সকালে মন্ত্রী গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে ধানকাটা ও কৃষক সমাবেশে যোগ দেন।

শেয়ার করুন