গুটি ঝরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

গাছ থেকে ঝরে যাচ্ছে গুটি। ছবি: নিউজবাংলা

গুটি ঝরা নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

‘খরা চলছে। এই খরা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমের ক্ষতি হবে। সম্ভাব্য এই ক্ষতি ঠেকাতে সেচ দেয়ার বিকল্প নাই। যাদের সেচ দেয়ার সুযোগ নেই, তারা যদি গাছে সাদা স্প্রে করে, তাতেও কিছুটা সুফল মিলবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গাছে গাছে এখন আমের গুটি।

চলতি মৌসুমে জেলায় আমের ফলন কেমন হবে, তা নির্ভর করছে এই গুটি টেকার ওপর। আমের গুটি ঝরে যায় মূলত মাটিতে রসের অভাব হলে।

আম বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিলে বৃষ্টিপাত কম হলে দেখা দেয় এই সংকট।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উত্তরের এই জেলায় সবশেষ বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯ অক্টোবর। অর্থাৎ প্রায় ছয় মাস দেখা নেই বৃষ্টির। খরার কারণে বিপাকে আমচাষিরা।

গাছ থেকে ঝরে যাচ্ছে গুটি। ক্ষতি মোকাবিলায় বাগানিদের দেয়া হচ্ছে সেচ দেয়ার পরামর্শ।

সরকারি হিসাবে, জেলার ৫ উপজেলায় আমবাগান রয়েছে ৩৪ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে। এসব বাগানে গাছের সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ ৬৫ হাজার।

বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, মুকুল থেকে গুটি আসার প্রক্রিয়া আছে শেষ পর্যায়ে। মটরদানা থেকে মারবেল আকার ধারণ করছে গুটি। কোনো কোনো গাছে ছোট ছোট আম দৃশ্যমান।

যারা বাগানে সেচ দিয়েছেন, তাদের গাছ থেকে গুটি ঝরেছে কম। মহারাজপুর উপজেলার আমবাগানের মালিক সোহাগ মিয়া জানান, বাগানে এবার মুকুল ভালোই এসেছে, গুটিও এসেছে।

এখন এই গুটির কতটি টিকে শেষ পর্যন্ত, তার ওপরই নির্ভর করবে আমের উৎপাদন।

এখন একটা বৃষ্টির খুবই দরকার, বৃষ্টি হলে আমের গুটি ঝরে পড়বে না, বোঁটা শক্ত হবে। আর বড়ও হবে দ্রুত।

সদরের বাগানমালিক আব্দুল হামিদ জানান, খরার কারণে বেশ কয়েকবার বাগানে সেচ দিয়েছেন। তারপরও খুব বেশি কাজে আসেনি। গুটি ঝরে পড়েছে। আসলে আকাশের পানি না হলে সেচ দিয়ে কত পারা যায়। পানি হলেই আমের গুটি দ্রুত বড় হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাছে গাছে ফ্রুট সেটের প্রক্রিয়া অর্থাৎ গুটি আসার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অনেক গাছে ছোট ছোট আমও দৃশ্যমান।

‘খরা চলছে। এই খরা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমের ক্ষতি হবে। সম্ভাব্য এই ক্ষতি ঠেকাতে সেচ দেয়ার বিকল্প নাই। যাদের সেচ দেয়ার সুযোগ নেই, তারা যদি গাছে সাদা স্প্রে করে, তাতেও কিছুটা সুফল মিলবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০ বছরে কমেছে ২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

১০ বছরে কমেছে ২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিকল্পনার অভাবে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা বলেন, ‘কৃষিজমি হ্রাস পাওয়ার মূল কারণ এসব জমিতে ইটভাটা স্থাপন, শিল্পকারখানা, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর নির্মাণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং উর্বর মাটি তুলে ফেলায় কমে আসছে ফসল উৎপাদনের জমির পরিমাণ। একে ত্বরান্বিত করছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ফসলি জমির মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণ।

জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল আমিন জানান, এসব কারণে গত ১০ বছরে জেলায় ২ হাজার ৩৮ হেক্টর কৃষিজমি কমেছে। এর আগে নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে যে হারে আবাদি জমি কমত, বর্তমানে বাড়ি নির্মাণ বা পুকুর খুঁড়ে মাছ চাষের কারণে তার চেয়ে বেশি হারে কমছে।

জেলার কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে ফসলি জমি রক্ষায় কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। কৃষিজমি রক্ষায় তাই তেমন কিছু করতে পারে না প্রশাসন। এ জন্য ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার কথা ভেবে নিয়মিত মনিটরিং এবং ফসলি জমি সুরক্ষায় সিটি করপোরেশন অথবা পৌরসভার মতো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়ও নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ দুই অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এক, দুই, তিন ও চার ফসলি মিলিয়ে মোট জমির পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৮ হেক্টর। দুই বছর আগে যা ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ হেক্টর। মাত্র দুই বছরেই জেলায় ১ হাজার ২০৭ হেক্টর জমি কৃষি খাত থেকে অকৃষি খাতে রূপান্তরিত হয়েছে।

১০ বছরে কমেছে ২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

জেলার বিজয়নগর, আশুগঞ্জ ও আখাউড়া উপজেলায় দেখা যায়, কৃষিতে লোকসানের কারণে অনেক চাষিই এখন মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ফসলি জমিতে তৈরি করা হচ্ছে বড় বড় পুকুর-দিঘি। তবে এই চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সদর উপজেলাসহ পূর্বাঞ্চলের কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলায়।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আবার অধিক মুনাফার লোভে কৃষিজমির মাটি কিনে বিক্রি করছেন। এসব মাটি দিয়ে রাস্তার পাশের জমি ভরাট করে কেউ নির্মাণ করছেন মার্কেট, কেউবা করছেন আবাসন প্রকল্প।

ধরখার এলাকার রহিম মিয়া, বিজয়নগরের ফজলু মিয়া ও আশুগঞ্জের আলমগীর মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক নিউজবাংলাকে জানান, গত ৫ থেকে ৭ বছরে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে বারবার লোকসানে পড়ায় তারা ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ জন্য কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে ফসলি জমিতে কেউ করছেন মাছ চাষ, আবার কেউ জমি ভরাট করে নির্মাণ করেছেন মার্কেট ও দালানকোঠা।

১০ বছরে কমেছে ২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের কারণে কমে আসছে ফসলি জমির পরিমাণ। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে সচেতন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আবদুর নূর বলেন, ‘দেশে যেভাবে ফসলি জমি কমছে এবং যেভাবে জ্যামিতিক হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, এতে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে যতই খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করুক না কেন, ভবিষ্যতে আমাদের খাদ্যঘাটতির সম্মুখীন হতে হবে।

‘এমতাবস্থায় কেউ যেন ফসলি জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে অবশ্যই কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।’

১০ বছরে কমেছে ২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষিজমি হ্রাস পাওয়ার মূল কারণ এসব জমিতে ইটভাটা স্থাপন, শিল্পকারখানা, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর নির্মাণ। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পনার অভাবেই দিন দিন কমছে ফসলি জমির পরিমাণ। পৌরসভার মতো যদি ইউনিয়ন পরিষদেও প্ল্যান পাস করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হতো, অথবা শহরের মতো যদি গ্রামেও সামান্য একটু জায়গার মধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণের মানসিকতা তৈরি হতো, তবে আমাদের দেশের ফসলি জমি এভাবে হ্রাস পেত না।’

কৃষিজমি হ্রাসের তথ্য স্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল আমিন জানান, জেলায় কী পরিমাণ কৃষিজমি কমেছে, তার কোনো সঠিক তথ্য বা পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। তবে বর্তমানে জেলায় যে ইটভাটা রয়েছে, তা আগের ১০ বছরের দ্বিগুণ।

তিনি বলেন, ‘একটা ইটভাটা স্থাপন করতে পাঁচ একর জমির প্রয়োজন। সেই হিসাবে ১০০টি ইটভাটা তৈরি করতে ৫০০ একর জমির প্রয়োজন। এতে দেখা যায়, গত ১০ বছরে শুধু ইটভাটা স্থাপন করতে ৫০০ একর জমি হ্রাস পেয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা বলেন, ‘কৃষিজমি হ্রাস পাওয়ার মূল কারণ এসব জমিতে ইটভাটা স্থাপন, শিল্পকারখানা, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর নির্মাণ। কোনো কৃষিজমি যেন অকৃষি খাতে রূপান্তরিত না হয়, সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি দাবি করেন, কৃষিজমি কমলেও জেলার খাদ্য উৎপাদনে তার প্রভাব পড়েনি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মাছ শিকারি একদল যাযাবর

মাছ শিকারি একদল যাযাবর

পলিথিনে বানানো অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরে গাদাগাদি করে যাযাবর জীবন যাপন করছে জেলে পরিবারগুলো। ছবি: নিউজবাংলা

বংশী নদীর তীর ঘেঁষে গোয়ালট্যাক চকে অস্থায়ী আবাস গেড়েছে মাছ শিকারি কিছু যাযাবর পরিবার। প্রায় তিন মাস পলিথিনের তৈরি ঘরে তারা বসবাস করছে নির্জন প্রান্তরে। প্রতিবছর এরা আসে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থেকে।

শহুরে কোলাহলের পাশে নিস্তব্ধ জঙ্গল। চারদিক পানিতে ঘেরা ছোট্ট টিলায় কাশবনের আড়ালে গুটি কয়েক মানুষের বসবাস। কোনো রকমে দুমুঠো খাবার আর মলিন পোশাক ছাড়া বাকি মৌলিক চাহিদা নাগালের বাইরে তাদের।

পলিথিনে বানানো অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরে গাদাগাদি করে যাযাবর জীবন যাপন করছে জেলে পরিবারগুলো। রাতে শিয়াল আর সাপের আতঙ্ক যেন তারা মেনেই নিয়েছে জীবনের অংশ হিসেবে। তবে শিশু আর বয়োবৃদ্ধদের নিয়ে উৎকণ্ঠা বেশি।

রাজধানীর নিকটবর্তী সাভার উপজেলা সবার কাছে পরিচিত শিল্পাঞ্চল হিসেবে। দ্রুত শিল্পায়নের ফলে একসময়কার পল্লিপ্রান্তর এখন আধুনিক শহর। এখানে বসবাস প্রায় ২০ লাখ মানুষের।

আশুলিয়ার নলাম এলাকায় বংশী নদীর তীর ঘেঁষে গোয়ালট্যাক চকে অস্থায়ী আবাস গড়েছে মাছ শিকারি কিছু যাযাবর পরিবার। প্রায় তিন মাস পলিথিনের তৈরি ঘরে তারা বসবাস করছে নির্জন প্রান্তরে। এরা নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার নগরথানাই খাড়া গ্রামের ৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের কয়েক মাস আগে থেকে ওই জঙ্গলের টিলা গোয়ালট্যাক চকে আসে যাযাবর পরিবারগুলো। রাতভর নৌকা নিয়ে তারা বংশী নদীতে মাছ ধরার জন্য চাই (ফাঁদ) পাতে। সকালে সেই মাছ আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করেন।

মাঝেমধ্যে এলাকার লোকজন তাদের কাছ থেকে দেশীয় প্রজাতির শিং, টাকি, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ কিনে নেয়। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের অনেকেই দাম কম দেন। আবার কখনও জোর করে মাছ নিয়েও চলে যান। এ জন্য স্থানীয় লোকজনের কাছে অনেক সময় তারা মাছ বিক্রি করতে চান না।

নলাম এলাকার কয়েক কিলোমিটার মেঠোপথ আর কাশবন পেরিয়ে এই চকে গিয়ে দেখা যায়, বংশী নদীর পাশে জঙ্গলের ভেতর ছোট ছোট বেশ কয়েকটি ঘর। বাঁশের কাঠামোর সঙ্গে পলিথিন মুড়িয়ে বসবাসের জন্য তৈরি করা হয়েছে এসব অস্থায়ী নিবাস। ভেতরে ছোট্ট পরিসরের মধ্যে একেকটি ঘরে গাদাগাদি করে থাকছেন পাঁচ-ছয়জন। ওই জায়গাতেই রান্নার জন্য বসানো হয়েছে চুলা। সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় দূর থেকে আনতে হয়।

মাছ শিকারি একদল যাযাবর

দুপুর ১২টা নাগাদ এসব জেলে পরিবারের কর্তাদের দেখা মেলে না। তারা চলে যান নদীতে রেখে আসা ফাঁদ থেকে মাছ সংগ্রহ করতে। আর স্ত্রীরা তখন রান্নাবান্না আর শিশুদের নিয়ে ব্যস্ত। মাছ শিকারিদের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তারা জানান তাদের নানান দুঃখ-দুর্দশা আর হতাশার কথা।

জেলে ইসরাফিল খাঁর স্ত্রী হাসি বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাগে দেশের বড়াইগ্রামে পরায় সবার এটাই পেশা। আমরা একিনে মাছ ধরি। তাই আমরা এই খালের পাড়েই থাকি। বাসা ভাড়া আমেগে দিলে পুসায় না। তাই পোলাপান লিয়া কষ্ট করে আমরা একিনেই থাকি। খালি খাওয়ার পানিটা টানেথেন টাইনা আনি। আর গোসল-মোসলতো সব নদীতেই করি। এভাবেই আমাগের জীবন কাটে।

‘পরায় ৫-৬ মাস থাকি আমরা এই জায়গায়। তারপরে আবার দ্যাশে যাই। বান আসার সময় হইলে আবার আমরা চইলা আসি।’

মাছ শিকারি একদল যাযাবর

বিরান জায়গায় নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন করলে হাসি বেগম বলেন, ‘পরায় আমরা অনেক দিন যাবৎ একিনে আসা-যাওয়া করি। এই গিরামডা আমাগে নিজেগো গিরামের মতো হয়্যা গেছে, সবাই পরিচিত। ত্যা আমার একিনে অন্য কোনো সমেস্যা নাই। অন্য গিরামে গেলেও আশেপাশেই থাকি। তারপরে অনেক পানি যখন হয়্যা যায়, তখন অন্য জায়গায় যাই।

‘শিয়াল বিরক্ত করে। অনেক সাপ আছে এই জায়গায়। আমরা সাপ দেখিও মারি না। অনেক সময় ঘরের ভিতর, বিছনার ভিতর সাপ দেখা যায়। আমরা তাড়ায়া দেই। তাগো শরীলে আঘাত করি না। শিয়াল-সাপের ডরে অনেকেই আসে না এই পাড়ার। তা-ও আমরা এই জাগায় বসবাস করি।’

নদীতে মাছ পাওয়া না গেলে সমস্যার বিষয়ে বলেন, ‘আমাগের কষ্টই হয়। হয়তে কেউ সাইডে কাজে যাই। কেউ কামলা দিতে যায়। এইভাবেই দিনকাল কাটে। আমরা সবাই খুব অভাবী মানুষ।'

সরকারি কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে বলেন, ‘প্রোকিতোই (প্রকৃত) আমরা মৎসজীবী। আমরা মাছ ধরি খাই। আমাদের মৎসজীবীর কাড করি দিছে সরকার থেকে। কতা ছিল, যে ছয় মাস পানি থাকে না, এই ছয় মাস আমাগের সরকার থাকি খাবার দিবি। এখন আমরা কোনো অনুদানি পাই না। গিরামের যারা নেতা আছেন তাগের কাছে বললে কয়, য্যাখিন সময় হয় তখুন দিবি। আমাগের কাড আছে কিন্তু আমরা এখুনো কোনো অনুদান পাইয়া সারি নাই।

মাছ শিকারি একদল যাযাবর

হাসি বেগমের ছোট ছেলে পুরোদস্তুর জেলে কিশোর আল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানির ভিতরে নিয়া মাছের ফাঁদ পাইতা থুই। রাতের দিক দিয়া পাতি। সকাল বেলা ওঠাই। আবার বিকালে পাইতা থুইয়া আসি। পরে চেংটি, টাহি, খইলশা, দুই-চারডা সিংগি মিংগি পাওয়া যায় আরকি। মাছ ধরতে অনেক ভাল্লাগে।’

নলাম এলাকার বাসিন্দা আশরাফ হোসেন কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম আসার আগে ওই চকে জেলেদের প্রায় ১০-১৫টি পরিবার আসে মাছ ধরতে। তারা বংশী নদীর তীরে জঙ্গলের মধ্যে পলিথিনের তৈরি ঘরে বসতি গড়ে। ওখানেই ছয়-সাত মাস থেকে আবার চলে যায়। আমরা যারা এলাকায় থাকি, তারা নদীর দেশীয় মাছ তাদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে পাই। কিন্তু এলাকার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি মাঝেমধ্যে মাছ নিয়ে নামমাত্র টাকা দেয়। আবার অনেকে টাকা না দিয়েই মাছ নিয়ে চলে যায়। এ জন্য তারা স্থানীয়দের কাছে মাছ বিক্রি করতে চান না।’

ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা না দিয়ে কেউ জোর করে মাছ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে বিষয়টা স্থানীয় থানাকে জানাতে হবে। পাশাপাশি ইউএনও মহোদয়কেও লিখিতভাবে অবহিত করলে এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর আগে একটা সরকারি প্রজেক্টের মাধ্যমে রাজশাহী প্রকল্প থেকে মৎসজীবী কার্ড দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে রাজশাহী প্রকল্প থেকে ৪০ জনের একটা বরাদ্দ দিয়েছিল কমিটির মাধ্যমে, ওটা দিয়েছি। এদিকে খাদ্য সহায়তা নাই। এদিকে মৎস্য আইন বাস্তবায়ন হয় না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যেখানে সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, সেসব অঞ্চলে দেয়া হয় এগুলো।’

শেয়ার করুন

নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড

নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড

সোহেলের বাগানের আম্রপালি আমের প্রথম চালান (প্রায় এক টন) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ফ্লাইটে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা করেছে। ছবি: নিউজবাংলা

তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানার সাপাহার গোডাউন পাড়ায় ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এ প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে আড়াই বছর বয়সি প্রায় দেড় হাজার আম্রপালি গাছ রয়েছে। যেখান থেকে এ বছর প্রায় ৪০ টনের মতো আম পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

দেশে আমের জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে নওগাঁ। জেলার বরেন্দ্র এলাকা সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা ও পত্নীতলার আংশিক এলাকা আম্রপালি আমের জন্য বিখ্যাত। আমগুলো অত্যান্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট।

এ বছর জেলার সাপাহার উপজেলার আম্রপালি (বারি আম-৩) জাতের আম ইংল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়েছে। উপজেলার ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’-এর মালিক সোহেল রানা তার নিজেস্ব বাগান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদেশে আমগুলো রপ্তানি করেন।

আম্রপালি আমের প্রথম চালান (প্রায় এক টন) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার ফ্লাইটে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা করেছে।

তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা সাপাহার গোডাউন পাড়ায় ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এ প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে আড়াই বছর বয়সি প্রায় দেড় হাজার আম্রপালি গাছ রয়েছে।

যেখান থেকে এ বছর প্রায় ৪০ টনের মতো আম পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। গাছের বয়স কম হওয়ায় একটু আগে পুরু হয়েছে। কারণ গাছের বয়স বেশি হলে আম দেরিতে পাকতে শুরু করে।

নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড

বিদেশে আম রপ্তানি করার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন তিনি। উত্তম কৃষি চর্চা পদ্ধতি বিশেষ করে- সুষম ও জৈব সার, নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক এবং সারা বছরই পরিচর্চা করতে হয়। কারণ রোগবালাই মুক্ত আমই বিদেশে যায়।

বিশেষ করে ১৫ দিন আগে গাছে সবধরনের স্প্রে বন্ধ করতে হয়। এ মেয়াদ শেষ হলে তার আর কার্যকারিতা থাকে না। এতে করে মানুষের শরীরের ক্ষতি করতে পারে না।

কিন্তু বিদেশে যেসব আম রপ্তানি করা হবে সেগুলো ঢাকাতে কোয়ারেন্টাইন হয়। আমের কোন রোগবালাই বা কীটনাশক আছে কি না। তারপর বিদেশে যাওয়ার অনুমোতি দেয়া হয় বলে জানান সোহেল।

নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড

সোহেল রানা বলেন, ‘বুধবার হারভেস্ট করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেজিং করা হয়। এরপর রাতে পিকআপে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সারাদিন রপ্তানির যাবতীয় প্রসিডিউর শেষ করে সন্ধ্যায় এক ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বিলেতে যাত্রা করেছে।

‘এতে আমের রাজধানী সাপাহারে সম্ভাবনার নতুন এক দ্বার উন্মোচিত হবে। সাপাহারের আম বিশ্ব বাজারে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের বাগানে বারি’র উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে ‘Global GAP’ অনুসরণ করে উৎপাদিত আমের প্রথম চালান ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা করেছে।

‘এ বছর প্রায় ১০ টন আম রপ্তানি করার ইচ্ছা আছে। আগামি সপ্তাহে এক টন বরাদ্দ আসতে পারে। এক্সপোর্টারের কাছে প্রায় চার হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি।’

নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড

গল্পে গল্পে সোহেল আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম না কীভাবে আম বিদেশে রপ্তানি করার উপযোগী করতে হয়। এটার ওপর আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সুইডেন ও ফিনল্যান্ড থেকেও আমরা ডাক পাচ্ছি।

‘আমার দেখাদেখি অনেকেই উৎসাহিত হবে কীভাবে আম রপ্তানি করতে পারবে। স্থানীয় বাজারে দাম কম পেলেও দেশের বাইরে ভালো একটা দাম পাওয়া যাবে। এতে আমরা লাভবান হতে পারব।’

নওগাঁর পত্নীতলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রাম গ্রামের কৃষক আজিজার রহমানের ছেলে সোহেল রানা। নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন।

কিছুদিন ঢাকায় চাকরি করার পর ২০১৫ সালে নিজ গ্রামের খাড়িপাড়া এলাকায় পৈতৃক ১২ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। নাম দেন ‘রূপগ্রাম এগ্রো ফার্ম’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মেধা, পরিশ্রম আর অটুট নৈতিক মনোবলের কারণে তিনি বর্তমানে সাপাহারে এখন ১৪০ বিঘা জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৪ টন হিসাবে জেলায় ৩ লাখ ৬২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাউন্সিল সদস্য বাংলাদেশ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাউন্সিল সদস্য বাংলাদেশ

রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তর। ফাইল ছবি

বিশ্বের ১৮৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে চলমান ৪২তম এফএও কনফারেন্সে বাংলাদেশকে সর্বসম্মতিক্রমে সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে ২০২২-২০২৪ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিশ্বের ১৮৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে চলমান ৪২তম এফএও কনফারেন্সে বাংলাদেশকে সর্বসম্মতিক্রমে সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অন্যান্য কাউন্সিল সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন বাংলাদেশ নীতি ও নির্বাহী পর্যায়ে এফএওর কার্যক্রম, বাজেট বাস্তবায়ন, ফলাফলভিত্তিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণসহ প্রশাসনিক দিকগুলো তদারকিতে নেতৃত্ব দেবে। এ ক্ষেত্রে রোমে বাংলাদেশের দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ এমন এক সময় এ সদস্যপদ লাভ করল যখন ঢাকায় ৩৬তম এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এফএও আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

২০২২ সালের ৮-১১ মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে ৪৬টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রোমের এফএও সদর দপ্তরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে চলমান কনফারেন্সে বাংলাদেশের আট সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও এফএওর স্থায়ী প্রতিনিধি মো. শামীম আহসান।

শেয়ার করুন

‘কাজুবাদাম, কফিতে পাল্টে যাবে পাহাড়ি অর্থনীতি’

‘কাজুবাদাম, কফিতে পাল্টে যাবে পাহাড়ি অর্থনীতি’

শনিবার সকালে বান্দরবান জেলায় কাজুবাদাম বাগান, কফি বাগান ও আমসহ অন্যান্য ফলবাগান পরিদর্শন শেষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে অল্প পরিসরে কাজুবাদাম এবং কফি উৎপাদন হচ্ছে। শুধু পাহাড়ী অঞ্চল নয়, সারাদেশের যে সব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফি চাষাবাদের প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে কিন্তু বর্তমানে চাষাবাদ হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে এমন এলাকাও কাজুবাদাম ও কফি চাষের আওতায় আনা হবে। সেলক্ষ্যে সম্প্রতি ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

কৃষিকে লাভজনক করতে হলে কাজুবাদাম, কফি, গোলমরিচসহ অপ্রচলিত অর্থকরী ফসল চাষ করতে হবে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এসবের বিশাল চাহিদা রয়েছে, দামও বেশি। সেজন্য এসব ফসলের চাষাবাদ ও প্রক্রিয়াজাত বাড়ানোর কথা বলেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

কৃষিমন্ত্রী শনিবার সকালে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় কাজুবাদাম বাগান, কফি বাগান ও আমসহ অন্যান্য ফলবাগান পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এখন কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে। পাহাড়ের বড় অঞ্চলজুড়ে এসব ফসল চাষের সম্ভাবনা অনেক।

আনারস, আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য ফল চাষের সম্ভাবনাও প্রচুর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কাজুবাদাম ও কফির উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এসব ফসলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। এটি করতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটবে। পাহাড়ী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। একইসঙ্গে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে অল্প পরিসরে কাজুবাদাম এবং কফি উৎপাদন হচ্ছে। শুধু পাহাড়ী অঞ্চল নয়, সারাদেশের যে সব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফি চাষাবাদের প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে কিন্তু বর্তমানে চাষাবাদ হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে এমন এলাকাও কাজুবাদাম ও কফি চাষের আওতায় আনা হবে। সেলক্ষ্যে সম্প্রতি ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

এসব অপ্রচলিত ফসলের চাষাবাদ ও উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রক্রিয়াজাতে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এসব ফসলের চাষ জনপ্রিয় করতে কৃষক ও উদ্যোক্তাদেরকে আমরা বিনামূল্যে উন্নত জাতের চারা, প্রযুক্তি ও পরামর্শসেবা দিচ্ছি। গতবছর কাজুবাদামের ১ লাখ ৫৬ হাজার চারা বিনামূল্যে কৃষকদেরকে দেয়া হয়েছে; আর এ বছর ৩ লাখ চারা দেয়া হবে।’

এছাড়া, দেশে কাজুবাদামের প্রক্রিয়াজাতের সমস্যা দূর করা ও প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কাঁচা কাজুবাদাম আমদানির উপর শুল্কহার প্রায় ৯০% থেকে নামিয়ে মাত্র ৫% নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক একেএম নাজমুল হকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএইর মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সমতল জমির অভাবে মাঠ ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ খুবই সীমিত। তবে, এ এলাকার মোট ভূমির প্রায় ২২ শত্যাংশ উদ্যান ফসলের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম, উদ্যান ও মসলা জাতীয় ফসল আবাদের অনেক সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া, দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চলের পার্বত্য বৈশিষ্ট্য অনুরূপ জমিও কাজুবাদাম ও কফি চাষের উপযোগী। এসব জমিতে কাজুবাদাম ও কফির আধুনিক জাত ও উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কাজুবাদাম ও কফির উৎপাদন বহুগুণে বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

আউশে আগ্রহ কমেছে নেত্রকোণার চাষিদের

আউশে আগ্রহ কমেছে নেত্রকোণার চাষিদের

পূর্বধলা উপজেলার মৌদাম গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আউশ আবাদের লাইগ্যা কৃষি অফিসের কেউই কিচ্ছু কইছে না। মাঠের মধ্যে অহন কোনো ফসল নাই। আউশ করলে পোকায় দরে। খরচা বেশি অইয়া যায়। সরকারে সহযোগিতা করলে তো করলাময়েই।’

এ বছর বোরো ধানে ব্যাপক সফলতার পর আউশ ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

সরকারি কর্মকর্তারা কৃষি প্রণোদনা দিয়েছেন জানালেও চাষিরা বলছেন তারা প্রণোদনার কথাই শোনেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, নেত্রকোণার ১০ উপজেলায় চলতি বছর আউশ ধান আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৭৩ টন।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২ হাজার ৪০০ কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে পাঁচ কেজি বীজ ও ৩০ কেজি সার। কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে। ধান লাগানো হয়নি ২৪০ হেক্টর জমিতে। গত বছর ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হয়েছিল আউশের আবাদ।

কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রণোদনার পরও অনীহার কারণে এবার আউশের আবাদ কম হয়েছে।

তবে কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা।

কলমাকান্দা উপজেলার পাগলা এলাকার কনুড়া গ্রামের কৃষক মনতোষ বিশ্বশর্মা এবার তার জমিতে আউশের আবাদ করেননি। তিনি বলেন, ‘কৃষি অফিসের কেউ আউশ আবাদের লাইগ্যা কইছে না। সরকার প্রণোদনা দিছে আপনের থেইক্যা পয়লা হুনলাম। বীজ, সার দিলে আমরাও করলাময়েই।’

পূর্বধলা উপজেলার মৌদাম গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আউশ আবাদের লাইগ্যা কৃষি অফিসের কেউই কিচ্ছু কইছে না। মাঠের মধ্যে অহন কোনো ফসল নাই। আউশ করলে পোকায় দরে। খরচা বেশি অইয়া যায়। সরকারে সহযোগিতা করলে তো করলাময়েই।’

মৌদাম গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তারও বলেন, ‘সরকার আগাইয়া আইলে আমরা কৃষকেরা আউশ লাগাইলাময়। কৃষি আফিসের লোকেরা তো কই কী করে হেরাই জানে। হেরা কি আর আমরার কাছে আয়ে?’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, বোরো আবাদের পরপরই জমিতে আউশ আবাদ শুরু হয়। এ সময় হাওরে আর কোনো ফসল থাকে না। এ কারণে আউশ আবাদে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়। পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের বেশি খরচ ও খাটনি হয়।

এসব কারণে কৃষকরা আউশ আবাদে কম ঝোঁকেন। তা ছাড়া এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় চাল উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার টনেরও বেশি। এতে কৃষকরা অনেকটা নিশ্চিন্ত আছেন।

এ অবস্থায় কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের চেষ্টার পরেও জেলায় আউশ আবাদে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

১৯৮২ সালে ৫৪ একর ভূমির ওপর দেশের বৃহত্তম এই মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে। এখানে রয়েছে ৭৫টি পুকুর। সংস্কার না হওয়ায় এর মধ্যে ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

জনবল-সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি।

সাত বছর ধরে কেন্দ্রটির ৮৩ পদের ৫৯টিই রয়েছে খালি। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে পোনা উৎপাদন।

কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেন্দ্র চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

১৯৮২ সালে ৫৪ একর ভূমির ওপর দেশের বৃহত্তম এই মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে। এখানে রয়েছে ৭৫টি পুকুর। সংস্কার না হওয়ায় এর মধ্যে ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কেন্দ্রর ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আছেন মাত্র ২৪ জন। সাত বছর ধরে শূন্য রয়েছে একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ছয়জন বৈজ্ঞানিক ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চারজন মৎস্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজার ও একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ ৫৯টি পদ।

কেন্দ্রটিতে রয়েছে সাতটি আবাসিক ভবন। লোকবল না থাকায় একটি চার তলা ও তিনটি এক তলা ভবন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

পুকুরের পাড়গুলোও ভেঙে গেছে। বছরের বেশির ভাগ সময় পুকুরগুলোয় পানি-সংকট থাকে। ফলে রুই, কাতল, কালবাউশ ও মৃগেলের মা মাছ মরে যায়।

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

স্থানীয় মাছচাষি মশিউর রহমান মিটু, আবদুল আজিজসহ কয়েকজন নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করেন, প্রকৃত মাছচাষিরা পোনা পাচ্ছেন না। চাষি নন এমন লোকও পোনা পাচ্ছেন।

এসব অনিয়ম ও জনবল সংকট দূর হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং কেন্দ্রটির পুরোনা ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

হ্যাচারির কর্মচারী মোক্তার মিয়াসহ কয়েকজন জানান, জনবল সংকটের কারণে রাত-দিন কাজ করতে হয়। একই সংকটের কারণে ঠিকমতো পোনা উৎপাদন করা যাচ্ছে না। হিমশিম খেতে হয়।

তাদের একজন বলেন, ‘তারপরও প্রতিষ্ঠানের পোনা উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ কোনো রকমে চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় বেশি পরিশ্রমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। একসময় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা যে কাজ করতেন, এখন সে কাজ করানো হয় হ্যাচারির গার্ড ও ফিশারম্যানদের দিয়ে।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে শূন্য পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনবল সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর আটজন ফিশারম্যানের পদসহ ৫৯টি পদ খালি রয়েছে। জনবল সংকটের পরও গত অর্থবছরে প্রায় ৬২ লাখ টাকার রেণু পোনা বিক্রি হয়েছে। জনবল সংকট না থাকলে এ বছর চাহিদার দ্বিগুণ রেণু উৎপাদন করা যেত।

শেয়ার করুন