কৃষিপণ্য ও শ্রমিকের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে চিঠি

player
কৃষিপণ্য ও শ্রমিকের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে চিঠি

‘বোরো ধান কাটার কারণে আন্তঃজেলার মধ্যে কৃষি শ্রমিককে যাতায়াত করতে হবে। কৃষি শ্রমিকের এই যাতায়াতে যাতে কোনো রকম বাধার সম্মুখীন না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সহযোগিতা দেয়ারও অনুরোধ করা হচ্ছে।’

লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষি শ্রমিকদের চলাচলে বাধা না দিতে অনুরোধ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

একইভাবে রাসায়নিক সারসহ কৃষি উপকরণ এবং কৃষিপণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় বিবেচনায় রেখে এসব পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সার্বিক সহায়তা দিতে এই অনুরোধ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা থেকে চিঠিটি ইস্যু করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ও উপকরণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পণ্য পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া এই নিষেধাজ্ঞার সময়কালে সচল রাখার অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বোরো ধান কাটার কারণে আন্তঃজেলার মধ্যে কৃষি শ্রমিককে যাতায়াত করতে হবে। কৃষি শ্রমিকের এই যাতায়াতে যাতে কোনো রকম বাধার সম্মুখীন না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সহযোগিতা দেয়ারও নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিষ্টিপানে মলিন মহেশখালীর চাষিরা

মিষ্টিপানে মলিন মহেশখালীর চাষিরা

মহেশখালীর মিষ্টিপান। ছবি: নিউজবাংলা

হোয়ানকের পান চাষি মনির বলেন, ‘পান বিক্রির টাকায় সংসার চালাইতে হিমশিম খেতে হয়। আড়াই লাখ টাকার ঋণ আমার। কীভাবে শোধ করব বুঝে উঠতে পারি না।’

পান বিক্রির টাকায় মিটছে না শ্রমিকের মজুরি। বাড়ছে সার-উপকরণের দাম। অনেকে ক্ষুদ্র ঋণে আটকা। বিকল্প আয় না থাকায় সংসার চালাতে তাই হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিদের।

তার ওপর ভারত থেকে পান আমদানি করছে আড়তদাররা। ফলে চাহিদা কমেছে মিষ্টিপানের। মৌসুমের দুই মাস পেরোলেও দাম না পেয়ে হতাশ মহেশখালীর ৩৯ হাজার পান চাষি।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা ও রাজশাহীর আড়তদাররা স্থলপথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পান আমদানি করে সারা দেশে সরবরাহ করছেন- এ কারণে মিষ্টিপানের চাহিদা কমেছে। গত বছর ইউরোপে মিষ্টিপান রপ্তানি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরোতেই রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে।

মিষ্টিপানে মলিন মহেশখালীর চাষিরা
ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পান আমদানি করায় চাহিদা কমেছে মিষ্টিপানের। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, মহেশখালীর পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ে ও বিলে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। এ পেশায় ৩৯ হাজার চাষির পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ জড়িত।

কালারমারছড়ার এলাকার চাষি সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, পাঁচ লাখ টাকা খরচে দেড়কানি জমিতে পান চাষ করেছেন তিনি। অগ্রহায়ণ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত পান বিক্রি হয়। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকা পেয়েছেন।

এ অবস্থায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন হারানোর শঙ্কায় আছেন এ চাষি। পান বিক্রির টাকায় শ্রমিকের মজুরিও হচ্ছে না তার।

মিজ্জিরপাড়ার পান চাষি আবদুর রহমান জানান, ৮০ হাজার টাকা খরচে ৩০ শতক জমিতে পান চাষ করেছেন তিনি। মৌসুমের দুই মাসে আয় করেছেন মাত্র ১১ হাজার টাকা। বাকি চার মাসে যা খরচ হয়েছে তা উঠবে কি না সংশয়ে আছেন তিনি।

মিষ্টিপানে মলিন মহেশখালীর চাষিরা
মহেশখালীর পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ে ও বিলে ১৬শ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

হোয়ানকের চাষি মনির আলম বলেন, ‘পান বিক্রির টাকায় সংসার চালাইতে হিমশিম খাই। আড়াই লাখ টাকা ঋণ আমার। কীভাবে শোধ করব, বুঝে উঠতে পারি না।’

মিজ্জিরপাড়ার পান ব্যবসায়ী আবু নোমান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রামের আড়তদারদের কাছে মিষ্টিপানের চাহিদা কমেছে। চাষিদের কাছ থেকে এ বছর যে পান বিড়া প্রতি ১০০ টাকায় কিনেছেন তিনি, গত মৌসুমে সেগুলো কিনেছেন ৩০০-৩৫০ টাকায়। ছোট সাইজের যে পান ৩০-৪০ টাকায় কিনেছেন তা এবার কিনেছেন ১০০-১৫০ টাকায়।

নোনাছড়ি পানবাজার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, স্থলবন্দর হয়ে ঢাকা ও রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পান আমদানি করছেন। এই পান চট্টগ্রামের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করে যাচ্ছেন। আড়তদারদের কাছে মিষ্টি পানের চাহিদা নেই। এ কারণে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা। ব্যবসায়ীরাও লোকসান গুনছেন তাই।

মিষ্টিপানে মলিন মহেশখালীর চাষিরা
গত বছর ইউরোপে মিষ্টিপানের রপ্তানি শুরু হলেও বছর পেরোতেই তা বন্ধ হয়ে যায়। ছবি: নিউজবাংলা

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক মো. এখলাছ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর পানের আবাদ ভালো হয়েছে। পান উৎপাদন বেড়েছে। বছরখানেক আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পান রপ্তানি হতো। সেটি আপাতত হচ্ছে না। পান চাষের জন্য সরকারের কোনো প্রকল্প নেই। আমরা চাষিদের টেকনিক্যাল সাপোর্টটাই দেই।’

বিদেশ থেকে পান আমদানি কেন হচ্ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চলের পান চট্টগ্রামে আসে জানি। তবে ভারত থেকে পান আনা হচ্ছে এ ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই।’

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

বিজেএমএ মহাসচিব এম বারিক খান বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

প্রথমবারের মতো কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে পাট ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। প্রতিবছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবছর উচ্চসাঁট পাটের প্রতি মণ তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) নির্বাহী বোর্ডের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যদিও পাট আইনে এভাবে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে তা করা হয় না।

তবে পাট আইনে বলা আছে, ‘সরকার, আদেশ দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণির পাট বা পাটজাত পণ্যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে, এবং সব এলাকা বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কোনও এলাকা বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উক্তরূপে মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। এবং এই আদেশ দ্বারা নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যের কম বা সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে কোন ব্যক্তি পাট বা পাটজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব এম বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদন হয় তার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় পাটকলগুলো ব্যবহার করে। কিন্ত বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আর কৃষকরা যাতে ন্যায্য দাম পায় সেজন্য এবছর উচ্চাসাঁট কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পাট ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা একত্রিত হয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছে। আশা করি এ দামেই এ বছর পাট কেনা সম্ভব হবে।’

এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এ খাতের অসাধু মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে কাঁচাপাট মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে। এতে উৎপাদিত পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাজার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে, বিদেশী ক্রেতারা বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত চার থেকে পাঁচ কোটি কৃষক, শ্রমিকের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের পাটশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরও চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্য ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।

অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় গিয়ে ঠেকেছে অর্ধবিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে। বর্তমান বিনিময় হারে (৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই উল্লম্ফনে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক, চামড়া, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু ছিল পাট খাত।

২০২০-২১ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১১৬ কোটি ১৫ লাখ (১.১৬ বিলিয়ন) ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে রপ্তানি তালিকায় চামড়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল এই খাত।

সেই সুদিন ফুরিয়ে গেছে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে। অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৯ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এই ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এই হিসাবেই জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাট খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এদিকে, লোকসানের চাপে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই বন্ধ করে দেয় সরকার। সে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো পাটকল এখন উৎপাদনে নেই; সরকারিভাবে পাট ও পাটজাত পণ্য এখন আর রপ্তানি হয় না।

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন

কৃষকের কোটি টাকার বাজার

কৃষকের কোটি টাকার বাজার

প্রতিদিন দুই কোটি টাকারও বেশি ফসল ও সবজি কেনাবেচা হয় এ চাষী বাজারে। ছবি: নিউজবাংলা

মিরাসার চাষী বাজারের সভাপতি আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, ‘বাজারটি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল বিক্রি করেন কৃষকরা। তবে বাজারের সম্প্রসারণসহ ভেতরের অংশে যাতায়াতের জন্য পাকা সড়ক নির্মাণ জরুরি।’

শরীয়তপুরের জাজিরার মূলনা ইউনিয়নের মিরাসার চাষী বাজার। মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষক তার উৎপাদিত ফসল এখানে সরাসরি বিক্রি করছেন পাইকারদের কাছে। এতে উৎপাদিত পণের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পণ্য কিনতে প্রতিদিন বাজারটিতে ভিড় জামাচ্ছেন হাজারও পাইকার আর সবজি ব্যবসায়ী। একটি সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাজারটিতে গড়ে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার সবজি বেচাকেনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে ৩২ শতক জমির ওপর যাত্রা শুরু এই বাজারের। দিন দিন এর পরিধি বেড়ে এখন তা দুই একর ছাড়িয়েছে। শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের পাশে অবস্থিত এ বাজারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ১২০টি দোকান রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ১২৫ জন কৃষক সমিতি করে তাদের পণ্য বিক্রির জন্য বাজারটি চালু করলেও এখন স্থানীয় সকল কৃষক বাজারে ফসল ও সবজি বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন।

মিরাসার চাষী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শ শ কৃষক তার পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত। কৃষক আর পাইকারের ভিড়ে বাজারে পা ফেলার জায়গা নেই। ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন পাইকাররা। বাজার ঘুরেফিরে চাহিদা মাফিক তাদের পছন্দের ফসল ও সবজি কিনছেন।

কৃষকের কোটি টাকার বাজার
দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে জাজিরার এ চাষী বাজারটি। ছবি: নিউজবাংলা

বাজারের প্রবেশমুখেই রয়েছে শীতকালীন সবজির দোকান। ভেতরের দিকে বা শেষের অংশে রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কালোজিরা, ধনিয়াসহ বিভিন্ন শস্যের দোকান। আগের চেয়ে এ বছর শীতকালীন সবজির দাম বেশ চড়া। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, করোলা ৪২, বেগুন ২৮ থেকে ৩০, বাঁধাকপি ১৮ থেকে ২০, লাউ আকার ভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।

ট্রাকে সবজি বোঝাই করে বাজার থেকে বের হওয়ার সময় কথা হয় বরিশালের পাইকার আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই চাষী বাজারে টাটকা সবজি পাওয়া যায়। তাছাড়া বরিশাল থেকে সড়কপথে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এখান থেকে সবজি নিতে অনেক পাইকার আসেন।’

মাদারীপুরের শিবচর থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী জহিরুল আকন বলেন, ‘চাষী বাজারে সব ধরনের সবজি পাওয়া যায়। তুলনামূলক কম দামে ভালো সবজি কিনতেই এখানে এসেছি। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার সবজি কিনেছি। আড়তে ফিরে স্থানীয় বাজারে এগুলো বিক্রি করব।’

কাজিরহাট এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছরের বন্যা ও অসময়ের টানা বৃষ্টিতে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে সবজির দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন। এ বাজারে ফসল বিক্রি করতে কোনো টোল দিতে হয় না। কোনো দালাল বা ফরিয়া নেই। তাই ফসল বিক্রি করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

মিরাসার চাষী বাজারের সভাপতি আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, ‘বাজারটি সমবায় সমিতির মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। পণ্য বিক্রিতে কৃষককে সমিতির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হয়। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল বিক্রি করেন কৃষকরা।

‘বাজারটি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে বাজারের সম্প্রসারণসহ ভেতরের অংশে যাতায়াতের জন্য পাকা সড়ক নির্মাণ জরুরি।’

জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার বলেন, ‘বাজারটি স্থানীয় কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেছে। শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের পাশে হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে হাজারের বেশি ক্রেতা ও বিক্রেতার সমাগম ঘটে এখানে।

‘বাজারটিতে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে আধুনিক বাজার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক

রংপুর থেকে আগাম জাতের গ্রানুলা আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুরে মাত্র সাড়ে চার টাকা কেজি দরে এবার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ২৫ শতক জমিতে গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে লোকসান গুনছেন কৃষকরা। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে শুধু আগাম আলুতেই প্রায় ১০ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে প্রান্তিক আলু চাষিদের।

এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলু চাষ হচ্ছে রংপুরে। আগাম জাতের এই গ্রানুলা আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানিও শুরু হয়েছে। এরপরও লোকসানের মুখে ওই অঞ্চলের কৃষকরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠে না আসার শঙ্কায় তারা।

চাষিরা জানান, গ্রানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করে বিগত বছরগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু মাত্র সাড়ে চার টাকা কেজি দরে এবার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ২৫ শতক জমিতে গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে লোকসান গুনছেন তারা।

এই হিসাবে চলতি মৌসুমে শুধু আগাম আলুতেই প্রায় ১০ কোটি টাকা গচ্ছা যাবে প্রান্তিক আলু চাষিদের।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের সূত্র মতে, ওই অঞ্চলে এবার আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। সেই আলু আরও ২০ দিন আগ থেকেই তুলছেন চাষিরা। ঢাকা-চট্টগ্রামের রপ্তানীকারকরাও আলু সংগ্রহ শুরু করেছেন।

মুন্সিগঞ্জের ওয়াদুদ ট্রেডার্সের কর্ণধার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এই অঞ্চলের আলুর মান ভালো। আমরা আশাবাদী এই আলু নিয়ে। রংপুরে আগাম আলু, তাই চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলু ক্রয় করে তা মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারব।’

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক
আলু বিদেশে রপ্তানি হলেও লোকসান গুনছেন ওই অঞ্চলের কৃষকেরা। ছবি: নিউজবাংলা

ওয়াদুদ ট্রেডার্সের পক্ষে রংপুরের ভুড়ারঘাট এলাকায় আলু কিনছেন হাসান আলী। তিনি জানান, ১৪ টনের ২০০টি ট্রাক চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠাতে হবে ২১ জানুয়ারির মধ্যে।

হাসান বলেন, ‘সরাসরি জমি থেকে আমরা আলু কিনছি। আলুর সাইজ সর্বনিম্ন ৭০ গ্রাম। সাড়ে চার টাকা কেজি দরে কিনে দুই কেজির প্যাকেট করে পাঁচটি প্যাকেট একসঙ্গে করা হচ্ছে। এ জন্য ১৭ নারী আর ১২ জন পুরুষ শ্রমিক মোকামে কাজ করছেন।’

রংপুর সদরের ভুরাড়ঘাট এলাকার আলু চাষি হাশেম আলী জানান, স্থানীয় হিসেবে ২৫ শতকে এক দোন জমি। এই পরিমাণ জমি ভাড়া নিয়ে আলু আবাদ করতে কম হলেও ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমানে তাদের এক দোন জমির আলু মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই। ইম্পোর্টাররা এসে বড় আলুটা নিয়ে যাচ্ছে। তাই ছোট আলুগুলোকে আরও কম দামে বিক্রি করতে হবে।’

আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক
আলু রপ্তানি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম বিটুল বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছি। এটা পোষানোর জন্য হয়তো জমি বন্ধক রাখতে হবে। নয়তো গরু ছাগল বিক্রি করা লাগবে। না হলে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ধার শোধ করা লাগবে। ঋণ করে আলু চাষ করছি। আবার ঋণ করেই শোধ করতে হবে।’

রংপুরের দর্শনা মাঞ্জাই এলাকার আহাম্মদ আলী জানান, এক দোন জমিতে রোপণের সময় আলু লাগে ১৬০ কেজি। আর তিন ধরনের ৬ বস্তা সার ছাড়াও কীটনাশক লাগে ৫-৬ ধরনের।

তিনি বলেন, ‘এবার তো সব জিনিসের দাম বেশি। আমরা খুব কষ্ট করে আলু চাষ করছি। আলু ভালো হইছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমরা পথে বসতে চাই না। বিদেশোত আলু বেশি করে পাঠাক, দাম যেন বেশি হয়। তাহলে কিছু লাভবান হতে পারব।’

রংপুরের মাহিগঞ্জ সরেয়ারতল এলাকার আলু চাষি রোস্তম আলী জানান, গত বছর ৩ একর জমিতে আলু চাষ করে তার ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তার পরও এবার আলু চাষ করেছেন তিনি।

রোস্তম বলেন, ‘গত বছর এই সময়- যে আলুর দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি; সেই আলু এখন সাড়ে চার থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউই পুঁজি উঠিয়ে আনতে পারবে না।’

দাম কম কেন

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আলু নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা, রপ্তানিযোগ্য ও শিল্পনির্ভর জাত উদ্ভাবন না করা, গুনগত মান পরীক্ষায় পর্যাপ্ত ল্যাব না থাকা, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে রপ্তানি না হওয়ার জন্যই আলুর দাম কম।

এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাষিদের পরিকল্পনাহীনভাবে আলু চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব থাকায়ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক।

রংপুর কৃষি বিপণন অফিস এবং কৃষি অফিসে ওই অঞ্চলের পাঁচ জেলায় (রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী) আলুর চাহিদা কত মেট্রিকটন তার সঠিক হিসাব নেই।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহবুবার রহমান বলেন, ‘গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৯৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ২ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে। এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, সব ঠিকঠাক থাকলে এবারও উৎপাদনে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত বছরের আলু এখনও বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। এর মাঝেই নতুন আলু আসায় এর দাম কম। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দিনে দিনে কদর এবং এর দাম কমে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছর সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, রাশিয়ায় আলু রপ্তানি হলেও করোনার সময় তা সম্ভব হয়নি। এবার এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করতে রংপুরের আলু কেনা হচ্ছে।

বিপণন বিভাগের বক্তব্য

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলু চাষ হচ্ছে রংপুর আঞ্চলে। অথচ আলুর বিক্রি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ছক নেই এই অঞ্চলের বিপণন কেন্দ্রের।

কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ইমপোর্ট এক্সপোর্ট আমাদের এখানে না থাকায় বিদেশে কী পরিমাণ আলু রপ্তানি হবে সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। আছে কেন্দ্রের কাছে। তবে আলু সংরক্ষণ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমরা মাচাং পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণের জন্য কাজ করছি।’

তিনি জানান, সংরক্ষণের জন্য হাতে নেয়া একটি প্রকল্প এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। এটি চালু হলে আলু চাষিরা ভরা মৌসুমে মাচাং পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফলে ভরা মৌসুমে কম দামে আলু বিক্রি করতে হবে না। সময় নিয়ে দাম দেখে কৃষকরা বিক্রি করবেন।

চেম্বারের প্রস্তাব

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার টিটু বলেন, ‘ধানের পরই আলুর আবাদ হচ্ছে রংপুরে। ৯৫টি হিমাগার রয়েছে বিভাগে। এরপরও জায়গা সংকুলান হয় না। এ জন্য আলু উৎপাদন নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তাদের ভর্তুকির আওতায় আনতে হবে।’

এ ছাড়া বিদেশে রপ্তানির জন্য দ্রুত পরীক্ষণ ল্যাবও দরকার বলে মনে করেন তিনি। কারণ গুনগত মান ঠিক থাকলে বিদেশে আরও বেশি আলু রপ্তানি হবে। দাম পাবেন চাষিরাও।

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

১৬৭টি চা বাগান রয়েছে দেশে। ছবি: সংগৃহীত

চা বোর্ড সূত্র মতে, ২০২১ সালের শুধু অক্টোবর মাসেই দেশে ১ কোটি ৪৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অতীতে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ চা আর কখনো উৎপাদিত হয়নি।

করোনাকালেও দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগানে ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা ২০২০ সালের চেয়ে ১ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার কেজি বেশি।

এবার উত্তরাঞ্চলে সমতলের চা বাগান ও ক্ষুদ্র চা চাষ থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

বুধবার বাংলাদেশ চা বোর্ডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুকূল আবহাওয়া, সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের নিয়মিত তদারকি, বাগানমালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে বলে জানায় চা বোর্ড।

চা বোর্ড সূত্র মতে, ২০২১ সালের শুধু অক্টোবর মাসেই দেশে ১ কোটি ৪৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অতীতে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ চা আর কখনো উৎপাদিত হয়নি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি বলেন, ‘প্রতি বছর চা উৎপাদনে বাংলাদেশ নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। কোভিড পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত বছর দেশের সব চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। মহামারিতেও উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা থেকে এটাই প্রতিয়মান, চা শিল্পের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে চা চাষীদের ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে’র মাধ্যমে চা আবাদ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করায় তারা এবার ৪১ শতাংশ বেশি চা উৎপাদন করেছে।

২০২০ সালে দেশে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৯ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ চান কৃষিমন্ত্রী

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ চান কৃষিমন্ত্রী

কৃষিপণ্য গ্রাম থেকে ঢাকায় আনতে বেশ কয়েক জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। ছবি: সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দিনাজপুরে কিংবা ঈশ্বরদী কিংবা সাতক্ষীরায় ফসল হলো, চাষী মাঠ পর্যায়ে বিক্রি করে ১৫ টাকা পাচ্ছে প্রতি কেজিতে, ঢাকায় এসে সেটা কেন ৪০-৪৫ টাকা হবে? এটা হলো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া। সারা পৃথিবীতেই মধ্যস্বত্বভোগী আছে। এর বাহিরে আরও কিছু আছে অপ্রত্যাশিত। বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক বা গাড়িতে তাদের এক্সট্রা খরচ করতে হয়।’

কৃষিপণ্যে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া ছাড়াও গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে নানা ধরনের চাঁদা দিতে হয়। ফলে রাজধানীতে এসে বেড়ে যায় পণ্যের দাম।

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীতে আসা কৃষিপণ্যের ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে বুধবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কি নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘শুরুতে আমরা যেটা বলার চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশ সব সময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল, যদিও আমাদের জলবায়ু উৎপাদনের উপযোগী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আধুনিক কৃষিতে যেতে পারিনি।

‘দিনাজপুরে কিংবা ঈশ্বরদী কিংবা সাতক্ষীরায় ফসল হলো, চাষী মাঠ পর্যায়ে বিক্রি করে ১৫ টাকা পাচ্ছে প্রতি কেজিতে, ঢাকায় এসে সেটা কেন ৪০-৪৫ টাকা হবে? এটা হলো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া। সারা পৃথিবীতেই মধ্যস্বত্বভোগী আছে। এর বাহিরে আরও কিছু আছে অপ্রত্যাশিত। বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক বা গাড়িতে তাদের এক্সট্রা খরচ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এটাকে কীভাবে কমানো যায়, এখানে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা বলেছি, এটা কতটুকু? প্রত্যেক ডিসিরাই বলেছেন তারা দায়িত্ব নেবেন। কেবিনেট সচিব বলেছেন তারা একটি স্টাডি আমাদের সাথে করাবেন। একটা ট্রাক ঈশ্বরদী বা দিনাজপুর থেকে যে এলো, এটি ঢাকায় এসে অ্যাকচুয়ালি কত দাম পেলো।

‘ট্রাকের খরচ বা কোথাও চাঁদাবাজির স্বীকার যদি তারা হয়ে থাকে তাহলে কতটাকা কোথায় দিলো, সেটা আমরা বের করি। বের করে তারপর আমরা চেষ্টা করবো জাতীয় পর্যায়ে একটি ব্যবস্থা নিতে, যাতে এটি বন্ধ করা যায়। এ বিষয়টি আজ তুলে ধরেছি আর ডিসিদের সহযোগিতা চেয়েছি।’

বিদেশে কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে যাওয়ার জন্য ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট করে, যেমন আমের পোকামাকড়। আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপনের। সেখান থেকে তারা একটি সার্টিফিকেট দেবে।

‘পূর্বাচলে প্রধানমন্ত্রী ২ একর জমি দিয়েছেন। সেখানে আমরা ল্যাবরেটরি এবং প্যাকিং হাউজ করছি, এর মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে নিতে পারি। আমরা নেদারল্যান্ড গিয়েছিলাম। তাদের সাথে আমাদের একটি সমঝোতা হচ্ছে। টেকনোলজিক্যাল সাপোর্ট দিবে, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করবে।’

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের চাষ, লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত

ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের চাষ, লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত

গম চাষি গণি মিয়ার অভিযোগ, ‘সরকারিভাবে গম সংগ্রহের সময় কৃষকরা সরকারি গোডাউনে দিতে পারে না। সরকার গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা এর সুফল পাই না। তাই গম চাষে আগ্রহ তেমন নাই।’

ঠাকুরগাঁওয়ের যেসব জমি আগে ভরে থাকত গমে, এখন সেসব জায়গায় চাষ হচ্ছে ভুট্টা, মরিচ ও আলু। কৃষকরা বলছেন, লাভ কম হওয়ায় তারা গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, এ অবস্থা এবারই প্রথম নয়। পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে গম চাষে কৃষকদের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।

সারা দেশে উৎপাদিত গমের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হতো এই জেলায়। তবে উৎপাদন খরচ না ওঠায় কৃষকরা অন্য আবাদে ঝুঁকছেন। এ কারণে গমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে ঠাকুরগাঁওয়ে গম চাষের জমি কমেছে ২২ হাজার ৬২৮ হেক্টর।

ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের চাষ, লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার গ্রামের হাশেম আলী বলেন, ‘আমি গত বছর এক বিঘা জমিতে ২৫ মণ গম পেয়েছিলাম। প্রতি মণ গম বিক্রি করি ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়। এতে এক বিঘায় লাভ পেয়েছি ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

‘এত পরিশ্রমের পর এই লাভে পোষায় না। যদি প্রতি কাঠায় এই লাভ হতো তাহলে ঠিক ছিল। এভাবে আর কত দিন চাষ করা যায়?’

সদর উপজেলার এক গম চাষি গণি মিয়ার অভিযোগ, ‘সরকারিভাবে গম সংগ্রহের সময় কৃষকরা সরকারি গোডাউনে দিতে পারে না। সরকার গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা এর সুফল পাই না। তাই গম চাষে আগ্রহ তেমন নাই।’

বাজারে ভালো গমের বীজ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন গাঙ্গর এলাকার নূর ইসলাম।

কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বীজ, সারের বিষয়টি মনিটরিংয়ের মধ্যে রেখেছি। তাদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে গিয়ে কথা বলছি, প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। নানাভাবে তাদের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’

গম উৎপাদন কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ডিলাররা।

বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ বীজ ডিলার ও ঠাকুরগাঁও শহরের মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘গমের বীজ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম বিক্রি হচ্ছে। যে ফসলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, সেই ফসলই বেশি আবাদ করছেন। এতে আমরা ডিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কমিশন গঠন
কৃষিপণ্যের রফতানিতে প্যাকেজিং বড় বাধা

শেয়ার করুন