ফাল্গুনের শিলাবৃষ্টিতে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা

ফাল্গুনের শিলাবৃষ্টিতে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা

কৃষক মতিলাল দাস বলেন, ‘আমার দুই আল (৪৫৬ শতক) জমি একবারে নষ্ট হইয়া গেছেগা। এই জমির ধান দিয়া আমার জীবন চলে। পুলাপানরে লেখাপড়া করাই। অখন নিজেই কিতা খাইমু, পুলাপানরে কইতিক্কা লেখাপড়া করামু বুঝতেছি না।’

কয়েক জেলায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধান, লেবুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে বিভিন্ন সময় ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে শিলাবৃষ্টি।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচংয়ে মঙ্গলবার ভোরে প্রায় ঘণ্টাখানেক কালবৈশাখীসহ হয় শিলাবৃষ্টি। এতে হাওরের বোরো ধানের গাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার আড়িয়ামুকুর হাওর, হারুণী হাওর, কাটখালী হাওর, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর হাওর, ভেড়ারডোর হাওর, চর ভেড়ারডোর হাওর ও পাহারপুর হাওর এলাকায়।

তবে কৃষি বিভাগের দাবি, শিলাবৃষ্টিতে ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি।

বানিয়াচং উপজেলার কৃষক ব্রজেন্দ্র দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অখনও (এখনও) জমিত ধান আইছে না (আসেনি)। কিন্তু গতকাল রাত্রে পাথর পইরা (শিলা বৃষ্টিতে) সব গাছ নষ্ট হইয়া গেছেগা। কোন কোন (কোনো কোনো) জমির ধানগাছগুলো একবারে গুড়িত ভাইঙা শেষ। ইতাত আর ধান আইত না।’

শিলাবৃষ্টি

একই গ্রামের কৃষক মতিলাল দাস বলেন, ‘আমার দুই আল (৪৫৬ শতক) জমি একবারে নষ্ট হইয়া গেছেগা। এই জমির ধান দিয়া আমার জীবন চলে। পুলাপানরে লেখাপড়া করাই। অখন নিজেই কিতা খাইমু, পুলাপানরে কইতিক্কা লেখাপড়া করামু বুঝতেছি না।’

বদলপুর এলাকার কৃষক আহাদ আলী বলেন, ‘রাতে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে বড় বড় শিলাবৃষ্টিও শুরু হয়। সকালে হাওরে গিয়া দেখি জমিগুলো একেবারে মাটির সঙ্গে মিশাইলাইছে। এই জমিগুলা থাইক্কা আর ধান পাওয়ার আশা নাই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে জমির তেমন ক্ষতি হয়নি। আমাদের মাঠকর্মীরা হাওরে রয়েছেন। তারা এলেই আসলে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।’

নেত্রকোণায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধান, সবজি ছাড়াও লিচু ও আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে।

জেলার সদর, কলমাকান্দা, মদন, খালিয়াজুরি ও পূর্বধলা উপজেলায় মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা থেকে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে শিলাবৃষ্টি।

স্থানীয় লোকজন জানান, বেশি ক্ষতি হয়েছে সদর উপজেলায়। এর মধ্যে অনন্তপুর, ফচিকা, দেওপুর, বালি এলাকায় অনেক বাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে।

শিলাবৃষ্টি
শিলাবৃষ্টিতে ফুটো হয়ে গেছে টিনের চাল। ছবি: নিউজবাংলা

অনন্তপুর গ্রামের আছিয়া বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোরে পয়লা (প্রথমে) বৃষ্টি পড়তে থাকলেও শিল আছিলনা। কিছুক্ষণ পরেই শিল পড়া আরম্ভ হইছে। ছয় থেকে সাত মিনিট পড়ছে। চাল ভাইঙ্গা ছিদ্রি কইরালছে। তহন ঘরের ভিতরে শিল পড়ছে।’

একই গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, ‘আমার সবজি ক্ষেতের গাছ মাটিতে মিশাইয়া ফালাইছে।’

দেওপুর গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া। জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃষ্টিটা বোরো ফসলের লাইগ্যা ভালোই হতো। কিন্তু পাথর পইরা ধান গাছের গজানো শিষ নষ্ট অইয়া গেছে।’

ফচিকা গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এইবার আম ও লিচুগাছে ফলন ভালো অইতো। অনেক মুকুল ধরছিল। কিন্তু শিলে অনেক ক্ষতি অইছে। মুকুল পইরা গেছে। গাছে যা আছে ওইগুলাতেও ফলন অইব না। শিলের আঘাতের লাইগা টিকব না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলার সদরসহ পাঁচ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে সদরের তিন-চারটা গ্রামে বেশি শিলাবৃষ্টি হওয়ায় আম, লিচুর ক্ষতি হয়েছে।’

তবে বোরো জমির গাছ এখনও কোশা অবস্থায় ও সবজি মৌসুম শেষ দিকে থাকায় তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

এদিকে শিলাবৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে লেবুবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই জেলায় প্রায় তিন হাজার কৃষক লেবু চাষের সঙ্গে জড়িত। ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

সোমবার রাতে মৌলভীবাজারে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ঝরে পড়েছে বাগানের লেবু। কিছু কিছু লেবুতে শিলের আঘাতে গর্ত তৈরি হয়েছে। কৃষকরা জানান, এই লেবুগুলোও কদিনের মধ্যে ঝরে পড়বে। এ ছাড়া কিছু কিছু গাছও প্রায় উপড়ে গেছে।

লেবুচাষি শামছুল হক, অনিরুদ্ধ সেন ও রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, তাদের কারও ৬০ কেদার, কারও কারও ৫০ কেদার করে লেবুবাগান রয়েছে। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে বাগানের ৪০ শতাংশ লেবু ও ২০ শতাংশ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে।

তারা বলেন, সারা বছর কষ্ট করে গোবর, পানি সেচ দিয়ে চাষ করেছেন। এই সময়ে লেবু বিক্রির উপযোগী হয়, আর এখনই এই ক্ষতি হলো।

শিলাবৃষ্টি

তারা আরও জানান, সামনে রমজান মাসে প্রতিটি লেবু ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু ঝড় তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিল।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, শ্রীমঙ্গলে ১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়। লেবুচাষি আছেন ৩ হাজার ১৬৫ জন।

লেবুচাষি কাজল রায়, হারভিন ভর ও মনা সাঁওতাল নিউজবাংলাকে জানান, তারা অল্প পরিসরে ২০ থেকে ২৫ কেদার জায়গাতে লেবু চাষ করেন। কারও কিছু নিজের জমি আছে, আবার কারও বর্গা নেয়া জমি। অনেকেই ঋণ নিয়ে লেবু চাষ করেছেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে লেবুর এত ক্ষতি হওয়ায় কীভাবে ঋণ শোধ করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না এই চাষিরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি নিউজবাংলাকে জানান, শিলাবৃষ্টিতে কত হেক্টর জমির লেবু নষ্ট হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

এর আগে সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগ ও কুমিল্লা জেলার দুই-এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রায় শতভাগ বোরো ধান কাটা শেষ: টাঙ্গাইলে কৃষিমন্ত্রী

প্রায় শতভাগ বোরো ধান কাটা শেষ: টাঙ্গাইলে কৃষিমন্ত্রী

ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন প্রতি বছর বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও ভর্তুকি দেয়ার ফলেই এটি সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ দফায় সারের দাম কমানো বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।  

হাওরে প্রায় শতভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, এ বছর সারা দেশে আনন্দমুখর পরিবেশে বোরো ধান কাটা চলছে। ইতিমধ্যে হাওরের প্রায় শতভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আশা করা যায়, সারা দেশে সফলভাবে ধান কাটা শেষ করা যাবে।

কৃষিমন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে ব্রাহ্মণবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে মধুপুর কৃষক লীগ আয়োজিত ধানকাটা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, এখন দেশে বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ধান হয়। একসময় এ মৌসুমে তেমন কোনো ধান হতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, সেচের মূল্য হ্রাস, সারের দাম হ্রাস, বীজ, কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ এবং নতুন উন্নত জাতের ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।

ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন প্রতি বছর বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও ভর্তুকি দেয়ার ফলেই এটি সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ দফায় সারের দাম কমানো বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার খান আবু, পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম হিরণ, উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক এসএম মইনুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

এক গিঁটে ৩০টি লাউ  

এক গিঁটে ৩০টি লাউ  

লাউয়ের গিঁট হাতে জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

চাটখিল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিরাজুল ইসলাম জানান, এটা এক ধরনের অস্বাভাবিক ফলন। সাধারণত এমন ফলন হয় না। কোনো কারণে যদি গাছে অতিরিক্ত ফ্লোরিজেন হরমোন উৎপাদন হয় সে ক্ষেত্রে গাছের কাণ্ড থেকে একাধিক ফুল এসে বেশি পরিমাণ লাউ আসতে পারে। এ ছাড়া জিন মিউটেশনের কারণেও হতে পারে।

নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায় একটি গাছের এক গিঁটে ৩০টি লাউ ধরেছে।

উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পুরুষোত্তমপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও রেহানা বেগম দম্পতির বাড়ির বাগানের ওই গাছটি দেখতে এখন উৎসুক মানুষের ভিড় লেগেই আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আমের মতো ঝুলে থাকা গিঁটে লাউ আছে ৩০টি। এর মধ্যে ২০টি লাউয়ের ওজন ২০০ গ্রামের মতো হবে। বাকি ১০টি লাউয়ের ওজন ৫০ থেকে ১০০ গ্রামের মধ্যে। নতুন করে একই স্থানে আরও কিছু ফুল আসছে।

রেহানা বেগম জানান, স্থানীয় সোমপাড়া বাজার থেকে লাউয়ের চারা কিনে তিনি নিজ হাতে লাগিয়েছেন। প্রথমদিকে গাছে তেমন লাউ না আসলেও কিছুদিন আগে পাঁচটি লাউ স্বাভাবিকভাবেই ধরেছে। সেগুলোর থেকে তিনটি লাউ খেয়েছেন আর দুইটি বীজের জন্য রেখেছেন।

১০/১২ দিন আগে তিনি দেখেন, একটি গিট (গাছের শাখার সংযোগ স্থল) ফেটে অসংখ্য লাউ ধরছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এসব লাউ দেখতে আসছেন।

স্থানীয় রফিকুল্লাহ জানান, আমার জীবনে এই প্রথম দেখেছি এমন ঘটনা।

লাউ বাগানটি দেখতে আসা সোমপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রিয়াদ হোসেন জানান আমাদের বাজারের অনেকে এই লাউগুলো দেখতে এসেছে। এটা নিয়ে প্রতিনিয়ত বাজারে আলোচনা হচ্ছে। তাই আমিও দেখতে এসেছি। একটি গিঁটে ৩০টি লাউ আমার কাছে অলৌকিক মনে হচ্ছে।

চাটখিল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিরাজুল ইসলাম জানান, এটা এক ধরনের অস্বাভাবিক ফলন। সাধারণত এমন ফলন হয় না। কোনো কারণে যদি গাছে অতিরিক্ত ফ্লোরিজেন হরমোন উৎপাদন হয় সে ক্ষেত্রে গাছের কাণ্ড থেকে একাধিক ফুল এসে বেশি পরিমাণ লাউ আসতে পারে। এ ছাড়া জিন মিউটেশনের কারণেও হতে পারে।

শেয়ার করুন

জয়পুরহাট সদরে ধান-চাল কেনা শুরু

জয়পুরহাট সদরে ধান-চাল কেনা শুরু

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় চাল কেনা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ইউএনও। ছবি: নিউজবাংলা

জয়পুরহাট সদর উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৪০ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৬৬১ টন চাল কেনা হবে। কার্যক্রম চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। এ ছাড়া সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৪০১ টন ধান কেনা হবে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল কেনা কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে চাল কেনা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেবেকা সিদ্দিকা লিপি, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, ওবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলামসহ খাদ্য কর্মকর্তারা।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৪০ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৬৬১ টন চাল কেনা হবে। কার্যক্রম চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। এ ছাড়া সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৪০১ টন ধান কেনা হবে।

শেয়ার করুন

হারভেস্টার মেশিনে কৃষকের মুখে হাসি

হারভেস্টার মেশিনে কৃষকের মুখে হাসি

‘ইলান যদি আমরারে প্রতি বছর দেয়া হয় তাইলে আমরা বন্যা অওয়ার আগে ধান কাটি ঘরে তুলতে পারমু। ধানের দামও আমরা ভালা ফাইরাম(পাচ্ছি)। সরাসরি গুদামে দিতে না পারলেও মণ প্রতি ৯০০-৯৫০ টাকা দাম ফাইরাম যা গত বছর ফাইছলাম ৫৫০-৬০০ টাকা।’

হাওরের জমিতে ফলানো ধান প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্যায়। তাই প্রতি বছরই ধান তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন কৃষকরা।

এ বছর হারভেস্টার মেশিন কৃষকের দুশ্চিন্তার ভার অনেকটাই লাঘব করে হাসি ফুটিয়েছে তাদের মুখে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে এই জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৯৮ শতাংশ ধানই কেটে ফেলা হয়েছে।

গত বছরের চেয়ে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৩০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ করায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার মেট্রিকটন। গতবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিকটন। উৎপাদন হারের লক্ষ্যমাত্রা এ বছর ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লক্ষ্যমাত্রার ধানের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও আধুনিক ধান কাটার মেশিন হারভেস্টার ব্যবহার করায় বন্যার অনেক আগেই কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন।

অন্যান্য জেলা থেকে এখানে ধান কাটতে এসেছেন ৯ হাজার ৮৭০ জন শ্রমিক। আর হাওরের ধান কেটেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার শ্রমিক।

হারভেস্টিং মেশিন
হারভেস্টিং মেশিনে কাটা হচ্ছে ধান

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল, জেলার ৭ হাজার কৃষককে বোরো প্রণোদনা ও ৩৫ হাজার কৃষককে হাইব্রিড বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কৃষকরা যেন সঠিক সময়ে সব ধান কেটে ফেলতে পারেন সেজন্য প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি থাকায় আমরা কোনো সমস্যা ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পেরেছি।’

তিনি জানান, ধান কাটার কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে কৃষির আধুনিক যন্ত্রপাতি। এ বছর ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ১১৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৯টি রিপার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য জেলা থেকে ৬৩টি হারভেস্টার ভাড়া করা হয়েছে ও পুরোনো মেশিন ছিল ১২৯টি।

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের কৃষানি মমিনা খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ কেয়ার জমিত ধান করছি। এবার কিছু ধান গরমে নষ্ট অইছে তবে বেশির ভাগ ধানই ভালা অইছে। এবার সরকার থাকি মেশিন দিসিল ধান কাটার। তাই আমরা তাড়াতাড়ি ধান কাটছি।

‘ইলান যদি আমরারে প্রতি বছর দেয়া হয় তাইলে আমরা বন্যা অওয়ার আগে ধান কাটি ঘরে তুলতে পারমু। ধানের দামও আমরা ভালা ফাইরাম(পাচ্ছি)। সরাসরি গুদামে দিতে না পারলেও মণপ্রতি ৯০০-৯৫০ টাকা দাম ফাইরাম যা গত বছর ফাইছলাম ৫৫০-৬০০ টাকা।’

বোরো ধান কাটা

এই হাওরের ধান চাষ করা আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, ‘এইবার ধান ভালা অইছে। মেঘও বেশি অইছে না। ধান কাটছিও তাড়াতাড়ি। এখন ধান শুকাইয়া বেছতে পারলে বউ বাচ্চা নিয়া চলতে পারমু। যা ধান অইছে তা মহাজন আর আমি ভাগাভাগি করিয়া নিমু।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের ১১টি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে ও বাকিগুলোতে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত কৃষকরা ১ হাজার ৮০ টাকা দরে সরকারি গুদামে চাল দেবেন। এ বছর সরকার সুনামগঞ্জ থেকে ২৯ হাজার টন ধান কিনবে।

ডিসি কৃষকদের অনুরোধ করেন, এই কৃষকরা যেন দালালের মাধ্যমে না দিয়ে সরাসরি এসে ধান বিক্রি করেন।

শেয়ার করুন

রাজশাহীর আম পেতে ১৫ মে পর্যন্ত অপেক্ষা

রাজশাহীর আম পেতে ১৫ মে পর্যন্ত অপেক্ষা

সব ধরনের গুটি জাতের আম নামানো যাবে আগামী ১৫ মে থেকে। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রাণীপছন্দ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে থেকে গাছ থেকে পাড়া যাবে।

বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে এবারও গাছ থেকে নামানোর সময় বেঁধে দিল প্রশাসন। ভালো দামের আশায় অপরিপক্ক আম যাতে কেউ বিক্রির সুযোগ না পায় সেজন্য এই সিদ্ধান্ত।

বৃহস্পতিবার কৃষিবিদ, ফল গবেষক, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করে জেলা প্রশাসন আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে। দুপুরে ভার্চুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সবার মতামত পর্যালোচনা করে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবার আগে পাড়া যাবে গুটি আম। সব ধরনের গুটি জাতের আম নামানো যাবে আগামী ১৫ মে থেকে। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রাণীপছন্দ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে থেকে গাছ থেকে পাড়া যাবে।

এর আগে গাছ থেকে আম পাড়া বা বাজারজাত করা নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে ফজলি ও আম্রপালি এবং ১০ জুলাই থেকে আশি^না ও বারি আম-৪ নামানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম বাজারে পেলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। তবে কারও বাগানে নির্ধারিত সময়ের আগেই আম পাকলে তা প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।

ভুার্চুয়াল সভা শেষে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, বাজারে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে প্রতিবছরই রাজশাহীতে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এবারও সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে তারিখ ঠিক করা হয়েছে।


জেলা প্রশাসক আরও জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে আমের বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়েছে। হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনাররাও বিষয়টি দেখভাল করবেন।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। এছাড়া বাঘার আড়ানী, মনিগ্রাম, বাউসা ও পাকুড়িয়া এবং মোহনপুরের কামারপাড়ায় পাইকারী আমের হাট বসে। হাটগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে এরইমধ্যে প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এবার বাগান বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমিতে। এ বছর হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলায় এ বছর মোট দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিম উদ্দীন বলেন, এখন পর্যন্ত যে আম গাছে রয়েছে তাতে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে এবার রাজশাহীতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আমের স্বাদ এবং মানও এবারে ভালো হবে বলে আশা করেন তিনি।

শেয়ার করুন

সেবার মানসিকতায় এগিয়ে আসুন, মিল মালিকদের খাদ্যমন্ত্রী

সেবার মানসিকতায় এগিয়ে আসুন, মিল মালিকদের খাদ্যমন্ত্রী

চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ঠিক সময়ে সরকারকে চাল বুঝিয়ে দেবেন।

চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সরকারের তালিকাভুক্ত। সবসময় সরকার আপনাদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করে এবং এবারও আপনারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তি মোতাবেক সঠিক সময়ে সরকারকে চাল বুঝিয়ে দেবেন।’

করোনা মহামারিকালে সেবার মনোভাব নিয়ে চালকল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ঠিক সময়ে চাল দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সরকারি গুদামের মজুত বাড়াতে খাদ্যশস্য কেনায় গতি বাড়াতেও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বৃহস্পতিবার খুলনা ও বরিশাল বিভাগের চালকল মালিকদের সঙ্গে বোরো সংগ্রহ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুন। এই করোনাকালীন সময়ে মানুষকে সেবা করার উপযুক্ত সময়, সেবার মনমানসিকতা নিয়ে আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারের তালিকাভুক্ত। সবসময় সরকার আপনাদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করে এবং এবারও আপনারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তি মোতাবেক সঠিক সময়ে সরকারকে চাল বুঝিয়ে দেবেন।’

গুদামে চাল সরবরাহের সময় বস্তার গায়ে খাদ্যগুদামের নাম, তারিখ এবং খাত (খাদ্য বান্ধব, ওএমএস, টিআর, কাবিখা) স্পষ্ট করে স্টেনসিলের মাধ্যমে অমোচনীয় কালি দিয়ে লেখারও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

সরকারের সঠিক দিক নির্দেশনায় এবার বোরোতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বাজার দর ধরে রাখতে সরকারি সংগ্রহের গতি বাড়াতে হবে। এ ছাড়া নির্দেশ মোতাবেক খাদ্যশস্যের মান যাচাই করে সংগ্রহ করতে হবে।’

করোনা মহামারিতেও খাদ্য অধিদপ্তর এবং মাঠ পর্যায়ের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করায় ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ধান চাল সংগ্রহের সময় কোনো কৃষকের সঙ্গে অসদাচারণ করবেন না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হবেন না।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমানারা খানুমের সমন্বয় ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, মিল মালিক প্রতিনিধিরা।

শেয়ার করুন

মাছ মাংস দুধ ডিমের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ২০৪ কোটি টাকা

মাছ মাংস দুধ ডিমের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ২০৪ কোটি টাকা

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে মাছ-মাংস, দুধ-ডিম বিক্রি হচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রে এলাকাভেদে প্রতি লিটার দুধ ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকায়, প্রতিটি ডিম ৬ টাকায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকায়, প্রতি কেজি খাসির মাংস ৭০০ টাকায়, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২২০ টাকায় এবং প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১১৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

চলমান সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউনে বিভিন্ন জেলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ মাছ-মাংস বিক্রিতে সাড়া পড়েছে। এই সময়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গাড়িতে করে মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয়েছে ২০৪ কোটি টাকার।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, গত ৪ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত এক মাসে ন্যায্যমূল্যে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে মোট ২০৪ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার এসব পণ্য বিক্রি হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ বিক্রি কার্যক্রম তদারকি করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নিজেই।

মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আলাদা দুটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ এসব পণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ৪ মে পর্যন্ত এক মাসে দেশের ৬৪টি জেলায় ৫৩ লাখ ৫ হাজার ২১৬ লিটার দুধ, ২ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৬৮১টি ডিম, ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৯১ কেজি গরুর মাংস, ৯৮ হাজার ৭২১ কেজি খাসির মাংস, ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯২ কেজি দেশি, সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি এবং ৪ হাজার ১২৪ মেট্রিকটন মাছ বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া ৩ কোটি ৬৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৫ টাকার বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যও বিক্রি হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ডিম কিনছেন এক ক্রেতা। ছবি: নিউজবাংলা

গত এক মাসে সারা দেশে ১৭ হাজার ৯৫৪টি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রে এলাকাভেদে প্রতি লিটার দুধ ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকায়, প্রতিটি ডিম ৬ টাকায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকায়, প্রতি কেজি খাসির মাংস ৭০০ টাকায়, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২২০ টাকায় এবং প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১১৯ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রয় হয়েছে।

সারা দেশেই ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে মাছ-মাংস, ডিম, দুধসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি গত এক মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের মাছ অনলাইনে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যক্রমটিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্যে উৎপাদিত পণ্য সহজে বিপণনের সুযোগ পেয়েছেন। আর ভোক্তারা করোনা পরিস্থিতিতে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পেরেছেন।

শেয়ার করুন