৫৭ লাখ কৃষককে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা

কৃষি মন্ত্রণালয় করোনাকালে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিযেছে বলে জানিয়েছে। ফাইল ছবি

৫৭ লাখ কৃষককে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা

৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনা ও বন্যায় ক্ষতি পোষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা প্রভৃতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা।

করোনা মহামারি মোকাবিলা ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকের ৩৭২ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

সোমবার কৃষি মন্ত্রণালয় প্রায় ৫৭ লাখ কৃষককে এই প্রণোদনা দেয়ার কথা জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট জমির পরিমাণ ২৩ লাখ ৬৪ হাজার বিঘা। প্রণোদনার আওতায় রয়েছে বীজ, চারা, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনবার্সন সহায়তা খাতের বরাদ্দ হতে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনা ও বন্যায় ক্ষতি পোষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা প্রভৃতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা।

এ ছাড়া বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ ১৩৬ কোটি টাকা, পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২৫ কোটি টাকা ও ৬১ জেলায় হাইব্রিড বোরো ধান চাষের জন্য ৯ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী

হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী

হবিগঞ্জে ধান কাটায় ব্যস্ত শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। এ মুহূর্তে হাওরে ধান কাটার জন্য শ্রমিকের কোনো সংকট নেই।’

হাওরের ৪০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, লকডাউনের মধ্যে হাওরের ধান কাটায় কোনো ঝামেলা হবে না।

বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। এ মুহূর্তে হাওরে ধান কাটার জন্য শ্রমিকের কোনো সংকট নেই।

‘পর্যাপ্ত শ্রমিক রয়েছে। একই সঙ্গে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ পর্যাপ্ত ধান কাটার যন্ত্র হাওরে এ বছর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এ বছর ধান-চালের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের প্রাণপণ চেষ্টা ছিল জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। বেশি জমি চাষের আওতায় আনা, উন্নত জাতের ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল।

‘বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। হাইব্রিড ধানের বীজ সহায়তা বাবদ ৭৬ কোটি টাকার প্রণোদনা কৃষকদেরকে দেয়া হয়েছে।’

কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে কৃষকের পাশে থেকেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন উন্নত জাতের ধান চাষের জন্য চাষিদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন।’

সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ৩ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। আশা করা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরোতে ৯-১০ লাখ টন বেশি উৎপাদন হবে।’

এ বছর সারা দেশে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৮ লাখ ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টরে।

আর তাই এবার বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ধান কাটায় এগিয়ে আসার ও এ বিষয়ে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর হাওরভুক্ত সাতটি জেলা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওরে আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরভুক্ত ৭টি জেলায় ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ২৫ ভাগ। অন্যদিকে শুধু হাওরের ১ লাখ ৮০ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৪০ ভাগ।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৮২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে।

এ বছরের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪৯.১০ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৪১.৯২ শতাংশ।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন

আমবাগানের চাপে কমছে ধানের জমি

আমবাগানের চাপে কমছে ধানের জমি

আমবাগানের কারণে ধানের জমি কমে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষি ও কৃষিশ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। ছবি: নিউজবাংলা

১০ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ধানি জমি কমেছে অন্তত ৭ হাজার হেক্টর। এতে ধান চাষের সঙ্গে যুক্ত প্রান্তিক চাষি ও শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষে সরাসরি যুক্ত থাকেন প্রান্তিক কৃষক ও শ্রমিকরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক জমিতেই কৃষক তিন বা চারবার ফসল ফলান। কিন্তু জেলায় ধান চাষের জমির পরিমাণ ক্রমশ কমছে। এতে প্রান্তিক কৃষক, বর্গাচাষি ও শ্রমিকদের কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকি দিন দিন বেড়ে চলছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধান চাষের জমি কমেছে অন্তত ৭ হাজার হেক্টর।

কয়েক বছর ধরে জেলায় ধানের জমিতে আমবাগান করার হিড়িক চলছে। এমনকি ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত বরেন্দ্র এলাকাতেও বাড়ছে আমসহ বিভিন্ন ফলের বাগান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কিছু উদ্যোক্তা মালিকের কাছ থেকে ১৫-২০ বছরের জন্য জমি ইজারা নিয়ে আমসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তুলছেন। প্রতিবছর বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে মালিকের কাছ থেকে জমি ইজারা নেয়া হয়। এতে মূল জমির মালিক খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও কর্মহীন হয়ে পড়ছেন বর্গাচাষি বা প্রান্তিক কৃষক পরিবার।

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের টকটকা এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে আমবাগান গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় বাধা দেন ওই এলাকার বর্গাচাষিরা। এ নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

টকটকা এলাকার বর্গাচাষি সাদিকুল ইসলাম কর্মহীন হওয়ার পথে। তিনি যে জমিতে কাজ করতেন, সেটিও লিজ দিয়ে দিয়েছেন মালিক।

Chapai Sadikul

সাদিকুল বলেন, ‘আজ ১৫ বছর থ্যাকা হ্যামি (আমি) জমিটা করতাম। এখন হ্যামার প্যাটে ল্যাথ ম্যারা জমিট্যা লিয়্যা লিবে। হ্যামি কী কইর‌্যা খাব?

‘হ্যামি জোরদারের (জমির মালিক) হাত ধরলাম, পা ধরলাম। কিছুই হইল না। কষ্টে হামার অন্তর ফ্যাটা যাছে।’

আরেক বর্গাচাষি ধীরেন টুডু বলেন, ‘আগে এসব জাগায় বাগান ছিল না। এখন যেখানে আবাদ করব, সেই সব জমিতেও বাগান করার ল্যাগা লোক ঘুরছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগান

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রান্তিক কৃষকের দুরবস্থা যে হবে, এটা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। তাদের চাষের জমি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়ে প্রান্তিক কৃষক দিন দিন বেকার হয়ে যাচ্ছে। এ সংকট থেকে বাঁচতে হলে কৃষক সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিআরডিবিকে (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড) আবারও সচল করতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু কৃষিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি প্রান্তিক কৃষকের স্বার্থরক্ষার কথা বলেছেন। আমরা মনে করি, লিজের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানি বা এক ব্যক্তির কাছে জমি চলে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারিভাবে বিআরডিবির মাধ্যমে জমির সঠিক বণ্টন হোক, সেখানে কাজের সুযোগ পাবে বর্গাচাষিরা।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইদানীং দেখা যাচ্ছে, আমাদের উর্বর জমির ধরন চেঞ্জ হচ্ছে। এটা এখন আমাদের জন্য খারাপ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে যে, যেগুলো উর্বর জমি, সেখানে কলকারখানা, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর করা যাবে না বা ধরন চেঞ্জ করা যাবে না।

‘তারপরও কিন্তু এটা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত প্রশাসন ও আমরা সজাগ আছি, যাতে জমির ধরন চেঞ্জ না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষককে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি, দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি করাসহ উৎপাদন বৃদ্ধির নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। এর মাঝে যদি জমির ধরন পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে এলাকার ভারসাম্য নষ্ট হবে।

‘বিশেষ করে উদ্বৃত্ত খাদ্যের জেলা হিসেবে এটির যে পরিচিতি, সেটাও অন্যদিকে যেতে পারে। তাই ফসলি জমির ধরন যাতে পরিবর্তন না হয়, সেদিকে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

ধানের জমিতে আমবাগান বা ধরন পরিবর্তনের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, সাময়িক লাভের চিন্তা না করে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে। ধান চাষ করতেই হবে। ধরন পরিবর্তন হলে বর্গাচাষিরা অসহায় হয়ে পড়বে। তাদের বিষয়ও ভাবতে হবে।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন

ধান কাটার শ্রমিক ‘সংকট’, ফসলের দর নিয়ে শঙ্কা

ধান কাটার শ্রমিক ‘সংকট’, ফসলের দর নিয়ে শঙ্কা

ধান কাটা শ্রমিক সংকটে ভুগছে হবিগঞ্জের চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা

‘কামলা না থাকায় এক কের ক্ষেতের ধানও কাটতে পারতাছি না। রাতে ঘুম আয় না, কখন ঝড়-তোফান আয়, শিলাবৃষ্টি আয়। পুলাপুরি (ছেলে-মেয়ে) নিয়া নিজে নিজেই কিছু কাটতাছি।’

পাকা ধানে নুয়ে আছে গাছ। সবুজের বুকে এখন তাই সোনালি আভার আধিক্য। বাতাসে ভেসে আসা শিষের শব্দে আনন্দিত চাষি। তার হাসির ঝলক ফসলের মাঠ থেকে ছড়িয়ে পড়ে নীল দিগন্তে।

এই দৃশ্য হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের। বোরো ফসল ঘরে তুলতে শুরু করেছেন চাষিদের কেউ কেউ। ধান কাটা নিয়ে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে ভীষণ।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফল হয়েছে। তবে শ্রমিক-সংকট ভাবাচ্ছে চাষিকে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ফসল কাটতে বিতরণ করা হয়েছে শতাধিক ধান কাটার যন্ত্র।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গেল বছর হবিগঞ্জে ১ লাখ ২১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৩০ হেক্টরে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

জেলায় চলতি বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার টন। যা গত বছর ছিল ৫ লাখ ৫ হাজার টন। চলতি বছর ৯ হাজার টন ধান বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলার হাওর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন হাওরে শ্রমিকরা ধান কাটছেন।

হবিগঞ্জে ধান কাটা শ্রমিক সংকট

কথা হয় আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের কৃষক হোসেন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ৬০-৭০ কের (২৮ শতকে ১ কের) জমি করছি। এর মধ্যে ২০-২৫ কের জমিতে কারেন্ট পোকায় ধরছে। এ ছাড়া বীজও বালা পড়ছে না। যে কারণে জমিত ধান কম হইছে।’

তিনি বলেন, ‘যাঅই ধান হইছে- ইতা ঘরে তুলা নিয়াও এখন দুশ্চিন্তায় আছি। শ্রমিকসংকটের কারণে ধান কাটতে পারতেছি না। ই-বছর বাহির থেকে শ্রমিক আইছে না, এলাকার শ্রমিকরাও রোজা রাইখা ধান কাটতে চায় না।’

তবে তিনি ছাড়া আর কোনো কৃষক ফলন কম হওয়া বা পোকার আক্রমণের অভিযোগ করেননি।

আগাম বন্যার শঙ্কায় নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলর কৃষকদের ২৫ এপ্রিলের মধ্যে ৮০ শতাংশ ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। এই খবর জেনেছেন হবিগঞ্জের চাষিরাও। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দেয়ার আগেই ফসল বিক্রি করতে চান তারা।

বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা গ্রামের কৃষক মোতাহের মিয়া বলেন, ‘আমি অত বড় কৃষক না। ১৫-২০ কের ক্ষেত করছি। এখন কামলা না থাকায় এক কের ক্ষেতের ধানও কাটতে পারতাছি না। রাতে ঘুম আয় না, কখন ঝড়-তোফান আয়, শিলা বৃষ্টি আয়। পুলাপুরি (ছেলে-মেয়ে) নিয়া নিজে নিজেই কিছু কাটতাছি।’

ধান কাটা শ্রমিক সংকট

আরেক কৃষক মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমার অনেকগুলা ক্ষেতের ধান পাইখা গেছেগা। কিন্তু কামলা (শ্রমিক) না পাওয়ায় ধান কাটতে পারতাছি না। গ্রামের কামলার কাছে গেলে কয় রোজার মাঝে তারা ধান কাটত না। আবার হবিগঞ্জের বাহির থাইকাও এ বছর কোনো কামলা আইছে না। এখন কীভাবে ধান কাটতাম বুঝতে পারতাছি না।’

দাম নিয়ে শঙ্কা

ভালো ফলন হওয়ায় ধানের দাম নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক কৃষক। তারা বলছেন, যে বছরই ধানের ভালো ফলন হয় সেই বছরই ধানের দাম কম থাকে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও এলাকার কৃষক মতিন মিয়া বলেন, ‘এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখেছি যে বছর ধানের ভালো ফলন হয় এই বছর ধানের দাম কম থাকে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের কৃষকদের কথা মাথায় রেখে যেন ধানের দামটা ঠিক রাখা হয়।’

বানিয়াচং উপজেলার হারুণী গ্রামের কৃষক সুশীল দাস বলেন, ‘জমি করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমাদের সারা বছরের পরিশ্রমের একমাত্র সম্ভল এই ধান। কিন্তু ধানের দাম যদি ঠিক না তাকে তহলে আমরা কীভাবে বাচমু। গেল কয়েক বছর ধরে বোরো চাষ করে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে আমরা যেন ধানের ন্যায্য দাম পাই।’

একই উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের কৃষক মঈন উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকরা রোজার কারণে ধান কাটতে চায় না। যারা কাটতে রাজি হন, তারা আবার দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি চায়। এর কের ক্ষেতের ধান কাটতে লাগে ৫-৬ জন শ্রমিক। আর এক কের জমি কইরা ২০ মণ ধান পাওয়া যায়। তাহলে আমারা কৃষকরা কীভাবে লাভবান হইতাম।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি ধানের দাম ঠিক রাখে তাহলে কিছুটা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। না হলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোনো গতি নাই।’

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। অন্য বছর ধান কাটার শ্রমিক-সংকট হলেও এ বছর তা হবে না। জেলায় স্থানীয় শ্রমিক রয়েছে ২০ হাজার ৫০০ জন এবং বাহির থেকে আনা হয়েছে ৬ হাজার ১০০ জন শ্রমিক। স্থানীয় ও বাইরের শ্রমিক মিলিয়ে ২৬ হাজার ৫০০ শ্রমিক রয়েছে। এ ছাড়া গেল বছর এবং চলতি বছর মিলিয়ে জেলায় ১০৩টি হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। যেগুলো পুরোদমে ধান কাটার কাজ করছে। এরপরও কেন কৃষকরা শ্রমিক-সংকট বলে আমি বুঝতে পারছি না।’

ধানের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত বছর ধানে অনেক দাম ছিল। ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে। সুতরাং এ বছরও ধানের দাম ঠিক থাকবে। দাম নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন

কৃষকের ধান কেটে দেবে কৃষক লীগ

কৃষকের ধান কেটে দেবে কৃষক লীগ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের সুতারপাড়া ইউনিয়নের গেরাজুরের হাওরে কৃষক জালাল মিয়ার ক্ষেতের ধান কেটে দেন কৃষক নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ বলেন, ‘গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশ কৃষক লীগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে কৃষকের ধান কেটে ঝাড়াই মাড়াই করে গোলায় তুলে দিবে।’

গত বছরের মতো এবারও কৃষকের ধান কেটে গোলায় তুলে দেয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে কৃষক লীগ।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বুধবার সকালে এক কৃষকের ধান কেটে দেয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের গেরাজুরের হাওরে কৃষক জালাল মিয়ার ক্ষেতের ধান কেটে দেন কৃষক নেতারা।

এ সময় কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ বলেন, ‘দুর্যোগ-দুর্বিপাকে এ দেশের কৃষক-কৃষাণীকে সঙ্গে নিয়ে কৃষক লীগের গৌরবময় পথচলার ৪৯ বছর চলছে। এ সময়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ এ দেশের কৃষি ও কৃষকের পাশে ছিল।

‘বৈশ্বিক মহামারি করোনার শুরুতে কৃষক যখন পাকা ধান নিয়ে বিপদে পড়েছিল, কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা তখন ধান কেটে ঝাড়াই মাড়াই করে গোলায় তুলে দেয়। গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশ কৃষক লীগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে কৃষকের ধান কেটে ঝাড়াই মাড়াই করে গোলায় তুলে দিবে।’

অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষার স্বার্থে অগ্রাধিকারভিত্তিতে হাওর অঞ্চলের ধান কেটে দিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান সমীর চন্দ।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন

বন্যার শঙ্কা: হাওরের ধান কাটতে ব্যস্ততা কৃষকের

বন্যার শঙ্কা: হাওরের ধান কাটতে ব্যস্ততা কৃষকের

আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকায় ধান কাটায় ব্যস্ততা দেখা গেছে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষক শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘প্রায় ১০ একরের ধান কাটা অইয়া পড়ছে। শ্রমিক, কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়া ধান কাটছি। আশা করতাছি আর সাত দিনের মধ্যে পুরা ধান কাইট্যে শেষ করবাম।’

চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়নি। তবে আগাম বন্যার আশঙ্কায় পাকতে থাকা ধান কাটায় ব্যস্ততা দেখা গেছে কৃষকদের মধ্যে।

সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়িয়ে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের ৮০ শতাংশ এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পুরো বোরো ধান কাটার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

নেত্রকোণার হাওরে এবার ৪০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যার অধিকাংশ পেকে গেছে। সেই ধান কাটতে এখন মাঠজুড়ে ব্যস্ততা কৃষকদের।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, ২৫ এপ্রিল নাগাদ হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামের বরাক অববাহিকাসহ চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর প্রভাবে আগাম বন্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আজ নাগাদ নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে এই পানির অবস্থান নদীর অনেক নিচেই রয়েছে। হাওরে ৩০০ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধের মধ্যে ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০১ দশমিক ২ কিলোমিটার ঝুকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে।

‘আগাম বন্যা হলেও কৃষকের ফসলহানির শঙ্কা নেই। তবুও যত দ্রুত সম্ভব ধান কেটে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে আমরা জানিয়েছি।’

Netrakona

মোহন লাল বলেন, ‘কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান ও আমি হাওরে গিয়ে সোমবার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি।’

ফসল নিয়ে সম্ভাব্য দুর্যোগের শঙ্কায় থাকা হাওরাঞ্চলের খালিয়াজুরীর পুরানহাটির কৃষক শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তিনি ১৬ একর জমিতে এবার বোরো আবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ একরের ধান কাটা অইয়া পড়ছে। শ্রমিক, কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়া ধান কাটছি। আশা করতাছি আর সাত দিনের মধ্যে পুরা ধান কাইট্যে শেষ করবাম।’

একই এলাকার কৃষক মনির হোসেন ধান চাষ করেছেন ৪০ একর জমিতে। এর মধ্যে ২০ একরের মতো জমির ফসল কাটা হয়েছে।

মনির বলেন, ‘আরও ৮-৯ দিন লাগব আমার সব ধান কাটা শেষ করতে। মাঠে ধান পাকছে। কাইট্যে আনার পরে ধান মাড়াই কইরা শুকানোর জাগা লাগে।

‘কিছু কাটছি আর মাড়াই, শুকানির পরে অন্য ধানগুলা কাইট্যে আনতাছি।’

খালিয়াজুরী উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক রহিম আলী ৮ একর জমিতে আগাম জাতের ব্রি ২৮ ধানের আবাদ করেছিলেন। তিনি তিন দিন আগেই পুরো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন।

রহিম বলেন, ‘কিছু ভিজা ধান বেচছি ৭০০ থেকে ৮০০ ট্যাহা মণ দরে। এইবার ভালাই ধান হইছে। ব্রি ২৮ একরে ৬০-৬৫ মণ হইছে।

‘আবহাওয়া ভালা আছিল। দরকারের সময় বৃষ্টি হইছে। সারও আছিল।’

Netrakona

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, নেত্রকোণায় সমতল, পাহাড়ি এলাকা ও হাওরসহ এবার মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাওরের ফসল আগাম বন্যাসহ সম্ভাব্য দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ২৫ এপ্রিলের মধ্যে ৮০ শতাংশ ও ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পুরো ফসল কাটার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ধান কাটার এ লক্ষ্য নিয়ে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করাসহ ধান কাটা তত্ত্বাবধান করছেন। হাওরে ২৬ হাজার শ্রমিক, ১৩৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টারে এবার ধান কাটা হচ্ছে।

হাবিবুর বলেন, ‘মঙ্গলবার পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে ২৮ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে, যা বলা যায় মোট আবাদের ৬৮ শতাংশ। এতে কৃষকরা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন।’

এই কর্মকর্তা জানান, হাওরে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টন। আর সমতল, পাহাড়ি অঞ্চল মিলিয়ে জেলায় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টন।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন

ধান কাটতে নওগাঁয় ১৭ কৃষিশ্রমিক

ধান কাটতে নওগাঁয় ১৭ কৃষিশ্রমিক

‘ঈদ আইসেছে, ঈদোত টাকা না থাকিলে ছোয়া-ছোটক কিছু দিবার পাবো না। লকডাউনে ধান কাটির যাবার পাইছি এইজন্য ইউএনও স্যারোক ধন্যবাদ দেই।’

‘লকডাউনের কারণে ১৫ দিন থাকি বাড়িত বসি আছি, কাম নাই। সংসার চলা কষ্ট হয়া গেইছে। খবর পাইনো নওগাঁর রানীনগরে ধান কাটা শুরু হইছে, শ্রমিক নিবে... ইউএনও স্যারের সাথে যোগাযোগ করি আইজ যাইছি। ওইঠে ১৫ দিন থাকির পাইলে নিহাইত দশ হাজার টাকা নিয়া আসির পামো।’

কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের নতিবাড়ি গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম। তার মতো ১৭ জন কৃষিশ্রমিককে ধান কাটার জন্য নওগাঁয় পাঠিয়েছে প্রশাসন।

সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণ থেকে মাইক্রোবাসে করে তারা নওগাঁয় যান।

ওই ১৭ জনের মধ্যে আছেন গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা এলাকার আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘এই রকম করি বসি থাকিলে শ্যাষ হয়া যামো। কাম করি হামাক দিন চলেবার নাগে।

‘ঈদ আইসেছে, ঈদোত টাকা না থাকিলে ছোয়া-ছোটক কিছু দিবার পাবো না। লকডাউনে ধান কাটির যাবার পাইছি এইজন্য ইউএনও স্যারোক ধন্যবাদ দেই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষিশ্রমিক হিসেবে তালিকা পাওয়ার পর আমরা সেগুলো যাচাই করে দেখি তারা শ্রমিক কিনা। নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠিয়ে থাকি।

‘ওই তালিকা অনুযায়ী তাদের নামের অনুকূলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত কপি নিয়ে তারা পৌঁছান কাঙ্ক্ষিত স্থানে।’

কৃষি বিভাগ জানায় নীলফামারী থেকে ধান কাটা শ্রমিক হিসেবে নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, লক্ষ্মীপুর, নওগাঁ, নোয়াখালী গিয়ে থাকে। গত বছর ২০ হাজার শ্রমিক পাঠানো হয়েছিল।

ইউনিয়ন থেকে তালিকা আসার পর যাচাইবাছাই শেষে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কোনো শ্রমিকের যদি করোনা ভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গ না পাওয়া যায় তাহলে তাকে কাজে পাঠানো হয়।

এ ক্ষেত্রে রুট পারমিট কিংবা সড়কে যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য সব ব্যবস্থা করে দেয়া হয় উপজেলা থেকে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এলিনা আকতার জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কৃষিশ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে কৃষি ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

ইউএনও জানান, ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে কৃষিশ্রমিক পাঠানো। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ শ্রমিক পাঠানো হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, স্বাভাবিকভাবে দক্ষিণের জেলাগুলোয় ধান কাটার জন্য কৃষিশ্রমিকরা গিয়ে থাকেন। গতবারও কোভিডের কারণে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শ্রমিক পাঠানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন

সৌরচালিত পাতকুয়ায় সুফল পাচ্ছে না কৃষক

সৌরচালিত পাতকুয়ায় সুফল পাচ্ছে না কৃষক

শেরপুর জেলায় প্রান্তিক কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়েছিল সৌরচালিত পাতকুয়া। ছবি: নিউজবাংলা

প্রকল্পের শুরুতে প্রতিটি পাতকুয়ার রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ৪১ জন করে কৃষক একটি করে সমিতি গঠন করেন। তারা প্রতিমাসে পাঁচ টাকা করে জমিয়ে নিজ নিজ পাতকোয়ার দেখভাল করার কথা। কৃষকদের অভিযোগ, ৪১ জন তো নয়ই, একটি পাতকোয়া থেকে এখন দুইজন কৃষকও ঠিকমতো পানি পায় না। তাই অন্য কৃষকরাও সমিতিতে টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়েছিল সৌরচালিত পাতকুয়া। প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ২৩টি পাতকুয়ার কোনো সুফলই পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। বিস্তর টাকা ব্যয়ে সেচের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনি এলাকা নকলা ও নালিতাবাড়ীতে কৃষকদের সুবিধা বিবেচনায় ডাগওয়েল বা পাতকুয়া স্থাপনের উদ্যোগ নেন।

২০১৬ সাল থেকে তিনটি অর্থবছরের ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় ২৩টি পাতকোয়া। এক একটি পাতকোয়া ৪১ জন কৃষককে পানি দিতে সক্ষম।

মূলত বিনা খরচে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা যেন সবজি ও ইরি ধান চাষে সেচ কাজ চালাতে পারেন সেজন্য সৌরবিদ্যুত চালিত এ কুয়াগুলো স্থাপন করা।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বিশেষ এ ‘ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে। এরপর কৃষি বিভাগ সেচ কাজের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে আসছিল। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই এসব পাতকুয়া থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়।

প্রকল্পের শুরুতে প্রতিটি পাতকুয়ার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪১ জন করে কৃষক একটি করে সমিতি গঠন করেন। তারা প্রতিমাসে ১০ টাকা করে জমিয়ে নিজ নিজ পাতকোয়ার দেখভাল করার কথা। কৃষকদের অভিযোগ, ৪১ জন তো নয়ই, একটি পাতকোয়া থেকে এখন দুইজন কৃষকও ঠিক করে পানি পায় না। তাই অন্য কৃষকরাও সমিতিতে টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

নালিতাবাড়ীর মানিক কুড়া গ্রামের কৃষক হযরত আলী বলেন, ‘পাতকুয়া দিয়ে আমাগো দুই শরীকেরই পানি অয়না। অন্যগোরে পানি দিমু কেমনে।

‘এডাতো নষ্ট অইতাছে। পানি বাইর অয়না। কেউ আহেও না। পানিই দিবার পাইনা, টেহা দিবো কেডা।’

নকলার রামপুড় গ্রামের পাতকোয়া কৃষক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে ৪১ জনকে পানি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পানি তো ঠিকমতো ওঠেনা। কৃষকদের পানি দেওন যায়না। তাই কেউ চাঁদাও দেয়না। যে উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছিল, তা পূরণ হয় নাই। দেখাশুনার কেউ না থাকায় এটা আস্তে আস্তে শেষ হইয়া যাইতাছে।’

নালিতাবাড়ীর রামচন্দ্রকুড়ার এক কৃষক বলেন, ‘এ পাতকুয়া দিয়ে এক বছর বালাই পানি বাইর অইছে। এহন নষ্ট। এহন আমরা টেহা দিয়ে পানি নিয়ে আইয়া আবাদ করতাছি। এডা এহন কেউ দেকবারও আহে না।’

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (ক্ষুদ্র সেচ) শেরপুরের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী আল বাকী বলেন, ‘পাতকুয়াগুলোর টেকনিক্যাল কাজগুলো আমরা করেছি। সৌর প্যানেল ও ব্যাটারিসহ সব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী। এটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের নেই। এগুলোর জন্য আমাদের কোনো বাজেট নেই।’

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, ‘এটি পুরাতন পদ্ধতি, তবে সিস্টেমটা ভালো। কিন্তু ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকায় এটি কাজে আসছে না। এখনও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে পাতকুয়াগুলো সচল করা সম্ভব।’

তিনি জানান, এই কাজটি কাবিটার এককালীন টাকা দিয়ে নির্মিত। ওইসময় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের সল্প পরিমাণ চাঁদা কৃষকদের নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। তারা না দেয়ায় এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ
পোশাকে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি সালাম মুর্শেদীর
প্রণোদনা প্যাকেজের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে সরকার
রপ্তানি বাড়াতে হাজার কোটি টাকার তহবিল
ক্ষুদ্র শিল্পের প্রণোদনার ঋণ বিতরণেও সময় বাড়ল

শেয়ার করুন