কুমিল্লায় খিরার বাম্পার

কুমিল্লায় খিরার বাম্পার

বিস্তৃর্ণ প্রান্তরজুড়ে সবুজ মখমলের মত বিছিয়ে রয়েছে খিরার গাছ। সবুজ পাতার মাঝে হলুদ ফুলে ভ্রমর মৌমাছির উড়াউড়ি। আর খিরার ডগায় ডগায় রয়েছে সবুজ কচকচে খিরা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কুমিল্লায় খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। খিরাগাছের যত্নআত্তি ও খিরা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর ১২শ ৩১ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জেলার দাউদকান্দি, হোমনা, মেঘনা, দেবিদ্বার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি খিরা চাষ হয়েছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ প্রান্তরজুড়ে সবুজ মখমলের মত বিছিয়ে রয়েছে খিরার গাছ। সবুজ পাতার মাঝে হলুদ ফুলে ভ্রমর মৌমাছির উড়াউড়ি। আর খিরার ডগায় ডগায় রয়েছে সবুজ কচকচে খিরা।

খিরার ভালো ফলনে খুশি কুমিল্লার চাষিরা। জমির পাশে ভিড় করছেন পাইকাররা।

জমির পাশ থেকে খিরা ১২ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। তবে কুমিল্লার খুচরা বাজারে খিরা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জমিতে মা ও ভাইকে নিয়ে খিরা সংগ্রহ করছিলেন ফারুক হোসেন। তিনি জানান, এ বছর ৬০ শতক জমিতে খিরা চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে কুড়ি হাজার টাকা।
কুমিল্লায় খিরার বাম্পার ফলন

খিরার ফলন ভালো হয়েছে উল্লেখ করে ফারুক হোসেন বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে অন্তত ১ লাখ টাকার খিরা বিক্রি করতে পারব। খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা হবে ৮০ হাজার টাকা।’

আলামিন ৬০ শতক ও রুবেল হোসেন ৯০ শতক জমিতে খিরা চাষ করেছেন। তাদের অভিযোগ খিরার পাতায় কুঁচকানো ও পাতা পঁচা রোগ শুরু হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের। বলছেন, যথাসময়ে সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে খিরার ফলন আরও বাড়ানো যেতো।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান বলেন, ‘আমাদের কিছু লোকবল সমস্যা রয়েছে। তবে কৃষকের যে কোনো সমস্যায় কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে সেবা দিয়ে আসেন। আমি নিজেও মাঠে পড়ে থাকি। কৃষকদের সমস্যার কথা শুনি। যে কয়েক কৃষক অভিযোগ করেছেন তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সেবা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫৭ লাখ কৃষককে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা

৫৭ লাখ কৃষককে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা

কৃষি মন্ত্রণালয় করোনাকালে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিযেছে বলে জানিয়েছে। ফাইল ছবি

৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনা ও বন্যায় ক্ষতি পোষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা প্রভৃতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা।

করোনা মহামারি মোকাবিলা ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকের ৩৭২ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

সোমবার কৃষি মন্ত্রণালয় প্রায় ৫৭ লাখ কৃষককে এই প্রণোদনা দেয়ার কথা জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট জমির পরিমাণ ২৩ লাখ ৬৪ হাজার বিঘা। প্রণোদনার আওতায় রয়েছে বীজ, চারা, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনবার্সন সহায়তা খাতের বরাদ্দ হতে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনা ও বন্যায় ক্ষতি পোষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা প্রভৃতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা।

এ ছাড়া বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ ১৩৬ কোটি টাকা, পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২৫ কোটি টাকা ও ৬১ জেলায় হাইব্রিড বোরো ধান চাষের জন্য ৯ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

ধান চাষ পাল্টে দেবে ‘সমলয়’

ধান চাষ পাল্টে দেবে ‘সমলয়’

রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ উদ্বোধন উপলক্ষে কৃষক সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে এক ঘণ্টায় এক একর জমিতে ধান রোপন করা যায়। ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক সারাদিনে এই পরিমাণ চারা রোপন করতে পারে। এই যন্ত্র কিনতে অর্ধেক থেকে ৭০ শতাংশ টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার। আশা করা হচ্ছে ধান চাষ ও কাটার খরচ নেমে আসবে অর্ধেকে।

বাংলাদেশ যখন ফসলের মাঠে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চেষ্টা করছে, তখন ধান চাষ পদ্ধতি পাল্টে দেয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সমলয়’ নামে একটি উদ্যোগ।

সরকার বলছে, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকের সময়, শ্রম ও ব্যয় কমাতে চায় তারা। এর মাধ্যমে চাষের খরচ কমে আসলে ধান চাষ আবার লাভজনক হয়ে উঠবে বলে আশা করছে তারা।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর কেন্দুয়া গ্রামে ‘সমলয়’ পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ উদ্বোধন উপলক্ষে কৃষক সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই যন্ত্র দিয়ে এক একর জমিতে ধানের চারা রোপন করা যায় এক ঘণ্টায়। সনাতন পদ্ধতিতে এই পরিমাণ চারা রোপন করলে সারাদিন লেগে যাবে। আর শ্রমিক ভাড়া করতে হয় ১০ থেকে ১২ জন।

একদিনের শ্রমিক খরচ এখন সাতশ থেকে আটশ টাকা। এই হিসাবে ধানের রোপন খরচ লাগবে সাড়ে আট হাজার থেকে সাড়ে নয় হাজার টাকা। কিন্তু সমলয় এই খরচ কমিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজারে নামাবে।

মন্ত্রী জানান, সমতলের কৃষকরা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কিনলে এর দামের অর্ধেক পরিশোধ করবে তারা। বাকি টাকা দেবে সরকার।

হাওরের কৃষকদের বাড়তি সুবিধা দেয়া হবে। সেখানে ৩০ শতাংশ টাকা দিলেই একটি যন্ত্র কেনা যাবে, সরকার দেবে বাকি টাকা।

আকারভেদে যন্ত্রের দাম ১৭ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সমতলের কৃষকরা সাড়ে আট থেকে সাড়ে ১২ লাখ আর হাওরের কৃষকরা পাঁচ লাখ ১০ হাজার থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা দিয়ে যন্ত্রটা কিনতে পারবে।

চারা রোপণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী

ধান রোপনের মতো কাটাও যাবে এই যন্ত্র দিয়ে। তখনও চাষির খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশা করা হয়, কেউ যন্ত্র কিনে ভাড়া দিলে সনাতন পদ্ধতির অর্ধেক খরচে চাষ করা যাবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে তিন হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ তরান্বিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলীর ২৮৪টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।‘

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে দেশ। আমাদের দেশে ক্ষেতগুলো ছোট। তাছাড়া, কৃষকেরা বিভিন্ন জমিতে বিভিন্ন সময়ে চারা রোপন করেন। ফলে কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার সঠিকভাবে করা যায় না। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চাষে প্রতি একর জমিতে কৃষকের খরচ কমবে সাড়ে চার হাজার টাকা। ৪-৫ বছর পরে কেউ আর হাতে ধান রোপণ করবে না।‘

কৃষক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন বিএডিসির চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম, ধান গবেষণা কেন্দ্র ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর।

কৃষি অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপপরিচালক বাশার আহমেদ জানান, ‘সমলয়’ চাষের এক নতুন পদ্ধতি। একটি ব্লক বা মাঠে যৌথভাবে একই জাতের ধান একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করা হয়। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহসহ সব প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে সমসময়ে সম্পাদন করা হয়।

এ পদ্ধতিতে ধান আবাদে চারা তৈরি করতে হয় ট্রেতে। ট্রেতে চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। কৃষক ফসল একত্রে মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারেন।

কারণ, একসঙ্গে চারা রোপণ করায় সব ধান পাকে একই সময়ে। তখন ধান কাটার মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কাটা ও মাড়াই করা যায়।

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

পাসপোর্ট অফিস চত্বরে ফুল-সবজি-মাছ

পাসপোর্ট অফিস চত্বরে ফুল-সবজি-মাছ

নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সবজি ও মাছ চাষের উদ্যোক্তা সহকারী পরিচালক শওকত কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যতিক্রমী কাজের উদ্যোক্তা নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক শওকত কামাল। স্টাফদের নিয়ে প্রতিদিন তিনি এগুলোর যত্ন করেন। উৎপাদিত সবজি ও মাছ নিজেদের জন্য কিছুটা রেখে বাড়তিটা বিলিয়ে দেন দরিদ্রদের মাঝে।

নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চত্বরে এখন আর কোনো খালি জায়গা নেই। ভরে গেছে সবজি ও ফলের গাছে। সেই সঙ্গে আছে বাহারি ফুলের বাগানও।

শুধু সবজি ও ফুলই নয়। অফিসের পানি বের হওয়ার ড্রেনেজ লাইনে চাষ হচ্ছে তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, কই, খলিশা ও সরপুঁটির।

এই ব্যতিক্রমী কাজের উদ্যোক্তা অফিসের সহকারী পরিচালক শওকত কামাল। স্টাফদের নিয়ে প্রতিদিন তিনি এগুলোর যত্ন করেন। উৎপাদিত সবজি ও মাছ নিজেদের জন্য কিছুটা রেখে বাড়তিটা বিলিয়ে দেন দরিদ্রদের মাঝে।

পাসপোর্ট অফিসের ফুলের বাগান
নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ফুলের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা

শওকত কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস শুরুর আগে অফিস চত্বরের জায়গা খালি পড়ে ছিল। তারপর শুরু হলো মহামারি। এই সংকট মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, “এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে”। এক জন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমিও শামিল হয়েছি তার ঘোষণা বাস্তবায়নে।’

অফিস চত্বরের ১০ কাঠা জমিতে গত বছরের ২০ মার্চ থেকে চাষাবাদ শুরু করেন। লাগিয়েছেন লালশাক, ডাঁটাশাক, ঢ্যাঁড়শ, করোলা, সিম, বেগুন, বরবটি, রসুন, পেঁয়াজ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, কদর, লাউ, পেঁপে, লেবু, টমেটো, কাঁচা মরিচ, আমলকী, পেয়ারা, আম, জাম, আতা, বড়ই, ড্রাগন ফলের গাছ।

পাসপোর্ট অফিসে সবজি চাষ
পাসপোর্ট অফিসে লাগানো গাছে ধরে আছে ফুলকপি। ছবি: নিউজবাংলা

শওকত বলেন, ‘আমরা যেমন ফরমালিনমুক্ত ফ্রেশ সবজি পাচ্ছি তেমনি আশপাশের মানুষদেরও দিচ্ছি। সেবাগ্রহীতাদেরও উৎসাহ দিচ্ছি যাতে বাড়ির পাশে জায়গা খালি না রেখে সবজি চাষ করে। এতে খরচ বাঁচার পাশাপাশি বাড়তি আয়ও হবে।’

নওগাঁর রাণীনগর থেকে পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো অফিসে এসে অবাক হয়ে গেছি। পাসপোর্ট অফিসে ফুল, সবজি, মাছ তো কোথাও দেখিনি। এই উদ্যোগ আসলেই প্রশংসার যোগ্য।’

সদর উপজেলার রুবেল হোসেনও এসেছেন পাসপোর্টের কাজে। তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখলাম। দেখে মনে হলো কোনো কৃষিখামার দেখছি। দেখে সত্যিই অনুপ্রাণিত হলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়ির চারপাশে অনেক জমি পতিত থাকে। সেগুলোতেও এমন উদ্যোগ নিলে সংসারে বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা

বাউকুল চাষে লাভবান ঈদগড়ের চাষিরা

জেলার প্রথম বাউকুল চাষের উদ্যোক্তা রহিম উল্লাহ জানান, বাউকুল চাষে লাভ দেখে বেকার যুবকরা এই ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেকে এই ফল চাষ করতে পারছেন না।

কক্সবাজারের সদর উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের কৃষকেরা একসময় তাদের জমিতে চাষ করতেন বিষাক্ত তামাক। সেসব জমিতে এখন দেখা মিলছে মিষ্টি বাউকুলের।

অল্প সময়ে দ্বিগুণ লাভ দেখে ঈদগড়ের বহু চাষি তামাক চাষ ছেড়ে বাউকুল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ঈদগড়ের মিষ্টি বাউকুলের সুনাম এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। বাউকুল চাষ করে এখন অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর ঈদগড়ে ১৬ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে বাউকুল। প্রতি হেক্টর জমিতে ৭২০টি বাউকুল গাছের চারা রোপণ করা যায় ।

প্রতি হেক্টর জমিতে বাউকুল চাষে খরচ হয় ৯ লাখ টাকা। এক হেক্টর বাউকুল গাছ থেকে চাষিরা ৩৫-৪০ মেট্রিক টন কুল সংগ্রহ করেন, যার বাজারমূল্য ১৮ লাখ টাকা।

সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় ঈদগড়ের বাউকুল বাগান থেকে কুল কিনছে জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনও।

বাউকুল
বাউকুল বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত এক কৃষক

বাউকুল চাষি নুরুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাউকুল চাষ লাভজনক দেখে আমরা দুই বন্ধু আগ্রহী হয়ে ঈদগড়ের বড়বিল এলাকায় ৫ একর জায়গায় প্রথমে কয়েক শ বাউকুল গাছের চারা রোপণ করি।

‘সেখানে বাউকুল মৌসুমে দেখি প্রচুর পরিমাণে কুল ধরেছে। সেগুলো বিক্রি করে কয়েক লাখ টাকা লাভ হয়। পরে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে বাউকুল চাষ করি। বর্তমানে আমরা বাউকুল বাগান থেকে প্রতিবছর দ্বিগুণ টাকা লাভ করছি।’

জেলার প্রথম বাউকুল চাষের উদ্যোক্তা রহিম উল্লাহ জানান, বাউকুল চাষে লাভ দেখে বেকার যুবকরা এই ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেকে এই ফল চাষ করতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেকারদের সংঘবদ্ধ করে বাগান করার উদ্যোগ নিলে তারা উপকৃত হতেন।

ঈদগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি নুরুল আলম বলেন, ‘ঈদগড়ে বাউকুল চাষ করে অনেক বেকার যুবক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাউকুল চাষের আরও প্রসার ঘটবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিক উল্লাহ বলেন, ‘তামাকের চেয়ে কৃষকরা বাউকুল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন, যার কারণে বাউকুলের চাষ বাড়ছে। এই বাউকুল চাষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধ করছে।’

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে ইফাদের আরও বিনিয়োগ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশে ইফাদের আরও বিনিয়োগ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। ফাইল ছবি

সম্প্রতি প্রণয়ন করা পাঁচ বছর মেয়াদি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নসহ করোনাপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গ্রামীণ অর্থায়ন হিসেবে এই বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কৃষি তহবিলের (ইফাদের) বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হাউংবোর সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান ।

এ সময় সম্প্রতি প্রণয়ন করা পাঁচ বছর মেয়াদি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নসহ করোনাপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গ্রামীণ অর্থায়ন হিসেবে এই বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী।

বুধবার থেকে দুই দিনব্যাপী ইফাদের ৪৪তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছর গভর্নিং কাউন্সিলের এই বৈঠক ইতালির রোমে ইফাদের সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। এবারই করোনার কারণে প্রথম ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই সভার প্রাকপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী ইফাদ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

বৈঠকে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাতের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন মুস্তফা কামাল। এ সময় তিনি গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে ইফাদের অনুদান সহায়তা তথা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান বাড়ানোর অনুরোধ করেন। ভবিষ্যতে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য জিইএফ, জিসিএফ এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী তহবিল থেকে ইফাদকে বাংলাদেশে অর্থায়নের জন্যও আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

জবাবে ইফাদ প্রেসিডেন্ট আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত পৃথিবী গড়তে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

১৯৭৯ সালে ইফাদের সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ। এরপর থেকে বাংলাদেশে ইফাদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গ্রামীণ অর্থনীতি ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাংলাদেশে ইফাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইফাদ বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রোগ্রামে অর্থায়নের পরিমাণ ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে ইফাদের অবদান ৪১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার; জিওবির অবদান ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার এবং অবশিষ্ট অবদান অন্যান্য দাতা সংস্থার। এ

পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩৪টি প্রকল্পে ঋণ ও অনুদান সহায়তা দিয়েছে ইফাদ। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১ কোটি ১৭ লাখ গ্রামীণ পরিবার উপকৃত হয়েছে। ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৭টি প্রকল্প শেষ হয়েছে এবং বাকি ৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পগুলোতে ইফাদ বিভিন্ন সহ-অর্থায়নকারী দাতাসংস্থা যেমন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, নেদারল্যান্ড, স্পেন এবং ডেনমার্কের মতো দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ঋণ ও অনুদান সহায়তা দিচ্ছে।

করোনা মহামারি মোকাবিলায়ও সহযোগিতা রয়েছে ইফাদের। বাংলাদেশের ২৬ হাজার কৃষক পরিবারকে বাড়ির উঠোনে সবজিবাগান করার লক্ষ্যে ৯ লাখ ১৫ হাজার ডলার অনুদান সহায়তা দিয়েছে ইফাদ।

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ

প্রণোদনার বীজে গজায়নি পেঁয়াজ

প্রণোদানর বীজে পেয়াঁজ না পাওয়ায় হতাশ এক কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে দুই দফায় দেয়া হয় পেঁয়াজ বীজ। প্রথম দফার বীজ জমিতে বপনের পরপর চারা গজিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় দেয়া বীজ উপজেলার ১৫০ বিঘা জমিতে বপন করা হয়। কিন্তু কোনোটিতেই চারা গজায়নি।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেয়া সরকারি প্রণোদনার পেঁয়াজের বীজে গজায়নি চারা।

চাষিদের অভিযোগ, তাদের নিম্নমানের বীজ দেয়া হয়েছে। এ বীজ বপন করে ক্ষতি পোষানোর বদলে উল্টো ক্ষতি হয়েছে তাদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পেঁয়াজের বীজের মান ভালো ছিল। তবে অতিরিক্ত শীতে হয়তো এই সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে দুই দফায় প্রণোদনা হিসেবে পেঁয়াজ বীজ দেয়া হয়। প্রথম দফায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর ৩০০ কৃষককে ২৫০ গ্রাম করে বীজ দেয়া হয়। ওই বীজগুলো জমিতে বপনের পর চারা গজিয়ে যায়।

দ্বিতীয় দফায় গত ২০ ডিসেম্বর আবার পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করে কৃষি বিভাগ। উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৫০ কৃষককে ৭৫০ গ্রাম করে বীজ দেয়া হয়। এর সঙ্গে আরও দেয়া হয় ২০ কেজি ড্যাপ ও ১০ কেজি এমওপি সার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দ্বিতীয় দফায় দেয়া বীজ উপেজলার ১৫০ বিঘা জমিতে বপন করা হলেও কোনো কৃষকের জমিতে চারা গজায়নি।

কাজলার কটাপুর গ্রামের চাষি মতিন খাঁ জানান, পাশের জমিতে চাষিরা বাজার থেকে বীজ কিনে বপন করছে। সেই বীজগুলো জমিতে গজিয়ে তরতর করে পেঁয়াজের গাছ বেড়ে উঠছে। কিন্তু তার জমিতে সরকারি বীজ লাগিয়ে ফলন তো দূরের কথা, কোনো বীজই গজায়নি।

ওই গ্রামেরই কৃষক ইব্রাহিম শেখ বলেন, তাদের জমিগুলো পতিত পড়ে আছে। অন্য কোনো ফসল করার সময় এখন আর নেই।

বর্গা জমি নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন ইব্রাহিম। জানালেন, এই অবস্থায় কী করণীয় তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। বললেন, ‘এইটাই ছিল আমাদের কপালে।’

এই বীজগুলো উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সংগ্রহ করে কৃষকদের সরবরাহ করেছিলেন কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার।

তিনি বলেন, তারা চরের গরিব, অসহায় চাষি। তার (চেয়ারম্যান) ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বীজের মান ভালো না থাকায় তা গজায়নি। এখন চাষিরা হা-হুতাশ করছেন।

সারিয়াকান্দির উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘আমরা গাজীপুর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন পেঁয়াজের বীজ বপনের পর জমিতে ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকার দরকার ছিল।

‘এ মৌসুমে সেখানে তাপমাত্রা ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করায় পেঁয়াজের বীজ ভালো গজায়নি। এ ছাড়াও বীজে ঠিকমতো পরাগায়ন না ঘটার কারণে বীজে সমস্যা হতে পারে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানালেন, পেঁয়াজ বীজের মান ভালো ছিল। তিনি বলেন, ‘এই সমস্যা তো কেবল আমাদের এখানে না। খোঁজখবর নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ সমস্যা হয়েছে। এই এলাকার কৃষকরা দেরিতে পেঁয়াজ বীজ বপন করার কারণে ঠিকমতো গজায়নি।’

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

টেকনাফে তরমুজ চাষে লাভবান কৃষক

টেকনাফে তরমুজ চাষে লাভবান কৃষক

নিজের তরমুজ ক্ষেতে মো. নুর

মো. নুর নিউজবাংলাকে জানান, গত বছর তরমুজ চাষ করে লোকসান গুনেছেন। এবার লাভের মুখ দেখছেন তিনি। এ বছর ঠিক সময়ে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ফলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এবার তিনি ৯০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হাবিব ছড়া এলাকার কৃষক মো. নুর চলতি শীত মৌসুমে ৯০ শতক জমিতে আগাম তরমুজের আবাদ করেছেন। বাম্পার ফলন হওয়ায় এখন লাখ টাকা মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন তার ক্ষেতে।

মো. নুর নিউজবাংলাকে জানান, গত বছর তরমুজ চাষ করে লোকসান গুনেছেন। এবার লাভের মুখ দেখছেন তিনি। এ বছর ঠিক সময়ে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ফলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এবার তিনি ৯০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তার ক্ষেত থেকে আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি।

মো. নুর ছাড়া আরও অনেক চাষি এবার হাবিব ছড়ায় তরমুজের আবাদ করেছেন। এই এলাকার আরেক তরমুজ চাষি আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, এবার তরমুজের ফলন অনেক ভালো। তরমুজের বাজারে করোনার কোনো প্রভাব নাই। আমরা মোটামুটি দাম ভালো পাচ্ছি।

তিনি জানান, এ বছর তিনি ৫০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তার ক্ষেত থেকে ১ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। সামনের মাসে আরও প্রায় ৬০ হাজার টাকার মতো তরমুজ বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তার ক্ষেতের কিছু তরমুজ টেকনাফের স্থানীয় বাজারে এবং কিছু তরমুজ ক্ষেত থেকেই বিক্রি হয়েছে।

তরমুজ

টেকনাফের আগাম তরমুজের ফলন নিয়ে সন্তুষ্ট টেকনাফ কৃষি বিভাগও। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, ‘আমি টেকনাফের বিভিন্ন জনের তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। এ উপজেলায় এবার প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো।

‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কারিগরি সহযোগিতা পাওয়ায় এবং সার ও কীটনাশক সহজলভ্য হওয়ার উৎপাদন ভালো হয়েছে। আগাম তরমুজ চাষ করে দাম বেশি পাওয়ায় টেকনাফের কৃষকরা আনন্দিত।’

আরও পড়ুন:
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি
বন্যায় তলিয়েছে লেবু, ঘুরে দাঁড়ানোর আকুতি কৃষকের
মুক্তা চাষে সফলতার আশা

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg