দেশেই তৈরি হবে কৃষি যন্ত্রপাতি: কৃষিমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) কাউন্সিল হলে ‘বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

দেশেই তৈরি হবে কৃষি যন্ত্রপাতি: কৃষিমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে জাপানের ইয়ানমার কোম্পানি এ দেশে যন্ত্রপাতির অ্যাসেম্বল কারখানা স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছে।

কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকায়নের জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোর অ্যাসেম্বল কারখানা দেশেই স্থাপনের কথা সরকার ভাবছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) কাউন্সিল হলে ‘বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিযন্ত্রপাতির বেশির ভাগ আসে বিদেশ থেকে, যার দামও অনেক বেশি। তাই, আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কম দামে, সাশ্রয়ী মূল্যে এসব যন্ত্রপাতি সরবরাহে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

দেশেই যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরিতে গুরুত্ব আরোপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা জাপানের ইয়ানমার কোম্পানি, ভারতের মাহিন্দ্রসহ অনেকের সাথে আলোচনা করেছি। তাদেরকে এ দেশে যন্ত্রপাতি তৈরির বা অ্যাসেম্বল কারখানা স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যন্ত্রপাতি তৈরি করতে পারলে একদিকে যেমন যন্ত্রপাতির দাম কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে জাপানের ইয়ানমার কোম্পানি এ দেশে যন্ত্রপাতির অ্যাসেম্বল কারখানা স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছে।

কৃষি যন্ত্রপাতির জন্য কৃষককে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৫০-৭০% ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো, পরামর্শ প্রদান ও জনপ্রিয় করতে কৃষি সম্প্রসারণের অধীনে মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

কৃষিমন্ত্রী এসময় কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ও এগ্রো প্রসেসিংয়ে প্রকৌশলীদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণের সকল কম্পোনেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। কৃষি প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল হতে হবে।

সেমিনারে আইইবির কৃষি কৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হুসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল আলম, প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন শিবলু, প্রকৌশলী মিছবাহুজ্জামান চন্দন, প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

মূল প্রবন্ধ পড়েন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আইয়ুব হোসেন।

বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের সময় কৃষিশ্রমিক পাওয়া দিন দিন দুষ্কর হয়ে পড়ছে। কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদনে সময় যেমন কম লাগবে, তেমনি উৎপাদন খরচও কমে যাবে। বাণিজ্যিক চাষে উৎসাহিত হবে কৃষক ও শ্রমিক সংকটের সমাধান হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাবনায় ক্যাপসিকামে সফলতা

পাবনায় ক্যাপসিকামে সফলতা

ক্যাপসিকাম চাষে সফল হয়েছেন পাবনার কৃষকরা। তাই বাড়ছে জেলায় বিদেশি এই সবজির আবাদ।ছবি: নিউজবাংলা

পাবনায় এ বছর পাঁচ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টর প্রতি ৪০ টন ফলন পাওয়া যাবে।

পাবনায় ক্যাপসিকামের বাণিজ্যিক চাষে বাড়ছে সফলতা। সফল হওয়ায় বিদেশী এই সবজি আবাদের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।

বাজারের চাহিদায় সারাদেশে সরবরাহ করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় জেলায় দিনদিন বাড়ছে ক্যাপসিকামের আবাদ।

উচ্চমূল্যের ফসলটির আর্থিক সম্ভাবনার কথা জানিয়ে চাষিদের উৎসাহ দিচ্ছেন জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

পাবনা সদরের মধুপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি দুই বছর শখের বসে চার বিঘা জমিতে ক্যাপসিকামের পরীক্ষামূলক আবাদ করেন। অভিজ্ঞতা না থাকায় ফলন ভালো হয়নি। তবুও দমে যাননি তিনি। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আবাদের বিষয়ে জানেন এবং গাজীপুরে গিয়ে ক্যাপসিক্যাম আবাদ দেখেও আসেন, পরে নিজের চাষের প্রক্রিয়ার ভুল-ত্রুটি শুধরে এই বছর দুই বিঘা জমিতে আবার চাষ করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মৌসুমের শুরুতেই পেয়েছেন ভালো ফলন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ক্যাপসিকাম ক্ষেতে আগাছার কারণে ফলন ভালো হয়নি, খরচও বেশি হয়েছে। সে ঝামেলা এড়াতেই এবার জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে পলিথিন বিছিয়ে চারা লাগিয়েছি।’

নজরুলের হিসাবে প্রতিটি গাছ থেকে তিনি গড়ে এক কেজি ফলন পেলে তার লাভ হবে চার লাখ টাকার বেশি।

এবার পাবনায় রেকর্ড পরিমাণে ক্যাপসিকাম চাষ হয়েছে। নতুন পদ্ধতি শিখে চাষে সফল হয়েছেন কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা

নজরুল আরও বলেন, ‘শখের বসে শুরু করলেও এখন এটি পেশা হয়ে গেছে। প্রথমে কিছু সমস্যার কারণে লাভ হয়নি তেমন। তবে এতে আগ্রহ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। জেদ চেপেছে মনে, হবে না কেন? এ বছর শীতের শুরুতে আবারও ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করি। আল্লাহর রহমতে এবার ফলন খুবই ভালো হয়েছে।

তিনি জানান, জেলায় উৎপাদিত ক্যাপসিকাম ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাঠাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের ফসল পৌঁছে যায়। স্থানীয় পর্যায়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোতেও তাদের ক্যাপসিকামের চাহিদা রয়েছে। পাবনাতে খুব বেশি কেউ এই সবজির আবাদ করে না। তিনিই প্রথম শুরু করেছেন।

নজরুলের সাফল্যে ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের গ্রামের চাষিরাও।

মকবুল হোসেন নামে এক কৃষক জানান, অল্প জমিতে বেশি পরিমাণ ক্যাপসিকাম আবাদ করা যায়। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা। বেশি খরচ নেই, পরিচর্যাও বেশি করতে হয় না। এ কারণেই সবার মধ্যে ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি পাবনার উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘ক্যাপসিকাম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষক যদি প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম এক শ টাকা করেও বিক্রি করে তাহলে এক একর জমি থেকে একজন কৃষক কয়েক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। পাবনার মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্য উপযোগী। ধীরে ধীরে আবাদের পরিধি বাড়ছে। আশা করি পাবনার কৃষকরা এই ফসল চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।

ক্যাপসিকাম চাষ বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পাশে থাকব।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, পাবনায় এ বছর পাঁচ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হেক্টর প্রতি ৪০ টন ফলন পাওয়া যাবে। ক্যাপসিকাম চাষ বৃদ্ধিতে কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

আম্রমুকুলের শহরে আমন্ত্রণ

আম্রমুকুলের শহরে আমন্ত্রণ

মুকুলে ছেয়ে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আমবাগান। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর এলাকার বাগান মালিক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘এ বছর বাগানে এত মুকুল এসেছে যে, গাছ ভ্যাঙ্গা পড়বে। গোটা গাছই মুকুলে ভরা। এখন শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিপদ না আসলে, এবার আমের ফলন ভালোই হবে।’ 

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বসন্তের শুরুতে এ জেলায় আসলে আপনাকে স্বাগত জানাবে আম্রমুকুল। যে দিকে চোখ যাবে, সবখানেই গাছভরা হলুদাভ মুকুল।

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল এসেছে প্রায় সব গাছেই। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯৫ ভাগ আম গাছ ভরে গেছে মুকুলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে বড় অবদান আমের। এ কারণে বাগান পরিচর্যায় এখন অনেক বেশি সময় দেন মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বছর জুড়েই চলে বাগান পরিচর্যা। নিয়মিত পরিচর্যায় এ বছর বেশি মুকুল আসার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।

বাগান মালিকদের যত্নের কথা উঠে এসেছে কৃষি বিশেষজ্ঞদের কথায়ও। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন জানান, গাছে পুষ্পায়নের ক্ষেত্রে দুটি শর্ত থাকে, যে শুট বা ডগা থেকে ফুল ফুটবে সেটার বয়স ৫-৭ মাস হতে হয়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কার্বোহাইড্রেট থাকা। পর্যাপ্ত খাবার থাকলে পুষ্পায়ন ভালো হয়।

তিনি আরও জানান, এ বছর প্রচুর ফুল এসেছে, কারণ প্রতিটি শুটের মাথায় কার্বোহাইড্রেট বেশি ছিল। অর্থনৈতিক কারণে মালিকটা বাগানের যত্ন নিচ্ছেন। গাছের স্বাস্থ্যগত দিক ভালো থাকায়, ফুলও বেশি হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাগানে দেখা গেছে মুকুলের সমারোহ। কোনো কোনো গাছে গুটি আসতেও শুরু করেছে।

জেলার মহারাজপুর এলাকার বাগান মালিক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘এ বছর বাগানে এত মুকুল এসেছে যে, গাছ ভ্যাঙ্গা পড়বে। গোটা গাছই মুকুলে ভরা। এখন শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিপদ না আসলে, এবার আমের ফলন ভালোই হবে।’

শিবগঞ্জ উপজেলার ইসমাইল হোসেন শামিম জানান, সারা বছরই তারা এখন বাগানের যত্ন নিয়ে থাকেন। এবার আবহাওয়া বেশ ভালো থাকায় মুকুল এসেছে প্রায় সব গাছে। কিছু কিছু গাছে গুটি আসতেও শুরু করেছে।

আমের নতুন বাজার তৈরির ওপর জোর দিয়ে এ বাগান মালিক জানান, আমের ফল যতই ভাল হোক না কেনো, ক্রেতা না থাকলে বা সঠিকভাবে বাজারজাত করতে না পারলে ভালো ফলনের সুফল মিলবে না। তাই এদিকটা বেশি করে খেয়াল রাখতে হবে।

গুটি আসতে শুরু করায় এ সময় মুকুলে কোনো ধরনের স্প্রে না করতে বলেছেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন।

জেলার আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, জেলার ১০-১৫ ভাগ আমের মুকুলে গুটি আসতে শুরু করেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ গাছে গুটি চলে আসবে। এ সময় কোনো ধরনের স্প্রে করা যাবে না।

তিনি আরও জানান, গুটি আসার জন্য পরাগায়ন প্রয়োজন। যেসব পতঙ্গের মাধ্যমে পরাগায়ন হবে, স্প্রে করলে সেগুলো মারা যেতে পারে। পরাগরেণুও ধুয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের গোড়ায় সেচ দেয়া ছাড়া কোনো কিছু করার দরকার নেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার পাঁচ উপজেলায় আম বাগান রয়েছে ৩৪ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে। এ সব বাগানে গাছের সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ ৬৫ হাজার।

শেয়ার করুন

হাওর রক্ষাবাঁধের কাজ শেষ হলেই সংবাদ সম্মেলন: বিভাগীয় কমিশনার

হাওর রক্ষাবাঁধের কাজ শেষ হলেই সংবাদ সম্মেলন: বিভাগীয় কমিশনার

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকার নিউজ দেখে আমরা সতর্ক হই, আমার স্বার্থে আঘাত লাগলেই যদি বলি পরিবেশিত সংবাদ অসত্য, তা ঠিক নয়। এ পর্যন্ত ৬২ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আরও ২০ কোটি টাকা শিগগিরই আসবে।’

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হলেই সংবাদ সম্মেলন করে তা জনগণকে জানাতে উপজেলা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান।

শনিবার সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজ সম্মেলনকক্ষে হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধের কাজের অগ্রগতি নিয়ে জেলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় কাজ করতে হবে, তাহলেই আগামী বোরো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলার বাঁধের কাজ বেশি ধীরগতিতে হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে শাল্লা, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর ও তাহিরপুর।

এসব উপজেলার কাজ আরও দ্রুতগতিতে করতে আরও লোকবল নিয়োগের তাগিদ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রপত্রিকার নিউজ দেখে আমরা সতর্ক হই, আমার স্বার্থে আঘাত লাগলেই যদি বলি পরিবেশিত সংবাদ অসত্য, তা ঠিক নয়। এ পর্যন্ত ৬২ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আরও ২০ কোটি টাকা শিগগিরই আসবে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুশিমোহন সরকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মোহাম্মদ সবিবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মোহাম্মদ সামসুদদোহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী।

পরে বিভাগীয় কমিশনার হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ পরিদর্শন করেন।

শেয়ার করুন

বিচ্ছিন্ন চর ভরে গেছে আগাম তরমুজে

বিচ্ছিন্ন চর ভরে গেছে আগাম তরমুজে

জাহাজমারা চর ভরে আছে তরমুজে। ছবি: নিউজবাংলা

ফারুক বলেন, ‘গেল বার মোর তিন লাখ টাহা লাভ অইছিল কিন্তু এবার বৃষ্টি না অওয়ায় আর মিডা পানির অভাবে ফলন নিয়া মুই ট্যানশনে আছি।’

পটুয়াখালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এক চর জাহাজমারা। মানুষের আনোগোনা তেমন না থাকায় চাষবাসও কোনোদিন এখানে হয়নি। সেই জমিই এখন ছেয়ে গেছে সবুজে। পাতার মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে তরতাজা তরমুজ।

এই চরের অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। আর এই জেলায় উৎপাদিত তরমুজের অর্ধেক পাওয়া যায় রাঙ্গাবালীতে। রাঙ্গাবালীর অধিকাংশ মানুষ তরমুজ চাষের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত।

কৃষকরা জানান, পটুয়াখালীর কৃষি অনেকটাই আমন ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। ডিসেম্বরে আমন ধান ঘরে তোলার পর জানুয়ারি থেকে তরমুজের আবাদ শুরু হয়। এপ্রিল মাসে ক্ষেতের তরমুজ বাজারে বিক্রি শুরু হয়।

কিন্তু জাহাজমারা চরে অন্য কোনো ফসলের আবাদ করা হতো না। চরের এই পোড়ো জমিতে চাষিরা বেশি লাভের আশায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আগাম তরমুজের আবাদ শুরু করেন।

জাহাজনামা চরসহ একই উপজেলার কলাগাছিয়া চরেও বালুর মধ্যে আগাম তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন ভূমিহীন কৃষকরা। এই দুটি চরের প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে এ বছর আগাম তরমুজ চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

তরমুজ চাষ
তরমুজ খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক ফারুক হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভরদুপুরে মাথার উপর জ্বলন্ত সূর্য, পায়ের নিচে গরম বালু। এর মধ্যেই জাহাজনামায় তরমুজ ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক ফারুক হোসেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত হাত-আষ্ট (সাত-আট) বছর মানষের জমিতে তরমুজের চাষ হরছি (করেছি)। ছিজন শ্যাষে আতে টাহা ত্যামন থাকতো না। হ্যারপর চিন্তা হরছি মোর নিজের যদি এট্টু জমি থাকতো হ্যারে (তাহলে) ভালো অইতো। দুইডা টাহা বেশি পাইতাম।’

আফসোস করে ফারুক বলেন, ‘কিন্তু তা মোর কপালে নাই। মুই (আমি) থাহি আবাসনে। ঊনিশ সালে এক বেডায় এইহানে (জাহাজনামা সৈকত) ঘুরতে আইছিল। হেই বেডায় মোরে কইছিল যে, এই বালিতে তরমুজ লাগাইলে ভালো অয়।’

তরমুজ চাষ

চরের পাশে বেড়িবাঁধের ধারে সরকারি আবাসন প্রকল্প এলাকায় থাকেন ফারুক। তার উদ্যোগে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে আবাসনে বসবাসকারীরা এই বালুচরে আগাম তরমুজের আবাদ শুরু করেন। প্রতিদিন তারা ভোরবেলা চরে আসেন। সারা দিন কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরেন।

ফারুক বলেন, ‘গেলবার মোর তিন লাখ টাহা লাভ অইছিল কিন্তু এবার বৃষ্টি না অওয়ায় আর মিডা পানির অভাবে ফলন নিয়া মুই ট্যানশনে আছি।’

স্ত্রী হাসি বেগম আর সন্তান রুবেলকে নিয়ে ফারুক দিনভর পরিচর্যা করে যাচ্ছেন তার সাত একর জমিতে করা তরমুজের। অনাবাদি জমি হওয়ায় তরমুজ আবাদে খরচও অনেক কম হয়েছে।

তরমুজ চাষ

এখন পর্যন্ত তার সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। বিক্রি করতে পেরেছেন ৩৭ হাজার টাকার তরমুজ।

মিঠাপানির তীব্র সংকটে চাষিরা

তরমুজচাষে প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ মিঠাপানি। সেজন্য চাষিরা ডিসেম্বর থেকেই বালুচরের মধ্যে বড় বড় কূপ খনন করে সেখানে বৃষ্টির পানি জমা করেন। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরোটা সময় তরমুজ গাছের গোঁড়ায় সেই মিঠাপানি দিতে হয়। এর ফলে গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং অল্প সময়ে গাছে তরমুজ ধরে।

কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পানি সংগ্রহ করতে পারেননি চাষিরা। মিঠা পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে জাহাজমারা আর কলাগাছিয়া চরে। পানি সংকটে দুশ্চিন্তায় আছেন তরমুজ চাষিরা।

আবাসনে বসবাসকারী মোহন গাজী বলেন, ‘কুয়ায় যেডু (যতটুকু) পানি আছে হ্যাতে (তাতে) হাত-আষ্ট দিন যাইতে পারে। হ্যার মধ্যে সব তরমুজ ওঠবে না।’

মোহন গাজীর মতে, একদিকে সাগরের লোনা পানি, আরেকদিকে ঘের সেখানেও লবণ পানি। দুই পাশে লবণাক্ততার কারণে গাছগুলো মরে যাওয়া শুরু করেছে। যে কারণে এ বছর লোকসান গোনার আশঙ্কা করছেন তিনি।

পাঁচ একর জমিতে এবার মোহন তরমুজ চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছেন।

সোমবার দুপুরে জাহাজমারা চরে চাষিদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গাবালী উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, মিঠাপানির সংকট সরেজমিন পরিদর্শনেও পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ওপর মহলের সঙ্গে আলাপ করে যাতে এখানকার চাষিরা পর্যাপ্ত মিঠাপানি পায় সে ব্যবস্থা করবেন।

তিনি আরও জানান, গত বছরের মতো এ বছরও জাহাজমারা চরের ৩০ জন চাষিকে বিনা মূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক দেয়া হয়েছে।

গাছের গোঁড়ায় দেয়ার জন্য কুয়া থেকে কলসিতে পানি নিচ্ছিলেন জুলেখা বেগম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই রৌদ্দের মধ্যে এত কষ্ট হইরা (কইরা) যদি দুডা টাহা না পাই হ্যারে মনডায় ক্যামন লাগে কন? আম্মেরা দোয়া হলেন (করেন) মোর ফসলডু য্যান ভালো দামে ব্যাচতে পারি।’

জুলেখার স্বামী ফেরদৌস প্যাদা জানান, ৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। সোয়া লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তরমুজ বিক্রির টাকা সমান সমান হয় কি না সন্দেহ।

তরমুজ চাষ
তরমুজ চাষি দম্পতি জুলেখা বেগম ও ফেরদৌস প্যাদা। ছবি: নিউজবাংলা

অধিকাংশ কৃষকের দাবি, সরকার যদি এই সব এলাকায় সেচের ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে তাদের অভাব অনটন দূর হবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, একাধিক চর ও নৌপথে যোগাযোগ সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই উপজেলায় তরমুজ চাষ। এ বছর রাঙ্গাবালীতে ৭ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০০ হেক্টর বেশি।

তিনি আরও জানান, চাষিদের জন্য প্রয়োজনীয় মিঠাপানি সরবরাহের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ হৃদয়েশ্বর দত্ত নিউজবাংলাকে বলেন, গত বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছিল। এতে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়।

এ বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হতে পারে বলে তিনি আশা করেন।

শেয়ার করুন

৫৭ লাখ কৃষককে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা

৫৭ লাখ কৃষককে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা

কৃষি মন্ত্রণালয় করোনাকালে ৩৭২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিযেছে বলে জানিয়েছে। ফাইল ছবি

৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনা ও বন্যায় ক্ষতি পোষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা প্রভৃতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা।

করোনা মহামারি মোকাবিলা ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকের ৩৭২ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

সোমবার কৃষি মন্ত্রণালয় প্রায় ৫৭ লাখ কৃষককে এই প্রণোদনা দেয়ার কথা জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট জমির পরিমাণ ২৩ লাখ ৬৪ হাজার বিঘা। প্রণোদনার আওতায় রয়েছে বীজ, চারা, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনবার্সন সহায়তা খাতের বরাদ্দ হতে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩৭২ কোটি টাকার মধ্যে করোনা ও বন্যায় ক্ষতি পোষাতে দেয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার প্রণোদনা। রবি মৌসুমে মাসকলাই, মুগ, সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা প্রভৃতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা।

এ ছাড়া বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ ১৩৬ কোটি টাকা, পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২৫ কোটি টাকা ও ৬১ জেলায় হাইব্রিড বোরো ধান চাষের জন্য ৯ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ধান চাষ পাল্টে দেবে ‘সমলয়’

ধান চাষ পাল্টে দেবে ‘সমলয়’

রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপণ উদ্বোধন উপলক্ষে কৃষক সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে এক ঘণ্টায় এক একর জমিতে ধান রোপন করা যায়। ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক সারাদিনে এই পরিমাণ চারা রোপন করতে পারে। এই যন্ত্র কিনতে অর্ধেক থেকে ৭০ শতাংশ টাকা ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার। আশা করা হচ্ছে ধান চাষ ও কাটার খরচ নেমে আসবে অর্ধেকে।

বাংলাদেশ যখন ফসলের মাঠে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চেষ্টা করছে, তখন ধান চাষ পদ্ধতি পাল্টে দেয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সমলয়’ নামে একটি উদ্যোগ।

সরকার বলছে, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকের সময়, শ্রম ও ব্যয় কমাতে চায় তারা। এর মাধ্যমে চাষের খরচ কমে আসলে ধান চাষ আবার লাভজনক হয়ে উঠবে বলে আশা করছে তারা।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর কেন্দুয়া গ্রামে ‘সমলয়’ পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ উদ্বোধন উপলক্ষে কৃষক সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই যন্ত্র দিয়ে এক একর জমিতে ধানের চারা রোপন করা যায় এক ঘণ্টায়। সনাতন পদ্ধতিতে এই পরিমাণ চারা রোপন করলে সারাদিন লেগে যাবে। আর শ্রমিক ভাড়া করতে হয় ১০ থেকে ১২ জন।

একদিনের শ্রমিক খরচ এখন সাতশ থেকে আটশ টাকা। এই হিসাবে ধানের রোপন খরচ লাগবে সাড়ে আট হাজার থেকে সাড়ে নয় হাজার টাকা। কিন্তু সমলয় এই খরচ কমিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজারে নামাবে।

মন্ত্রী জানান, সমতলের কৃষকরা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কিনলে এর দামের অর্ধেক পরিশোধ করবে তারা। বাকি টাকা দেবে সরকার।

হাওরের কৃষকদের বাড়তি সুবিধা দেয়া হবে। সেখানে ৩০ শতাংশ টাকা দিলেই একটি যন্ত্র কেনা যাবে, সরকার দেবে বাকি টাকা।

আকারভেদে যন্ত্রের দাম ১৭ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সমতলের কৃষকরা সাড়ে আট থেকে সাড়ে ১২ লাখ আর হাওরের কৃষকরা পাঁচ লাখ ১০ হাজার থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা দিয়ে যন্ত্রটা কিনতে পারবে।

চারা রোপণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী

ধান রোপনের মতো কাটাও যাবে এই যন্ত্র দিয়ে। তখনও চাষির খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশা করা হয়, কেউ যন্ত্র কিনে ভাড়া দিলে সনাতন পদ্ধতির অর্ধেক খরচে চাষ করা যাবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে তিন হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ তরান্বিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলীর ২৮৪টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।‘

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে দেশ। আমাদের দেশে ক্ষেতগুলো ছোট। তাছাড়া, কৃষকেরা বিভিন্ন জমিতে বিভিন্ন সময়ে চারা রোপন করেন। ফলে কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার সঠিকভাবে করা যায় না। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চাষে প্রতি একর জমিতে কৃষকের খরচ কমবে সাড়ে চার হাজার টাকা। ৪-৫ বছর পরে কেউ আর হাতে ধান রোপণ করবে না।‘

কৃষক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন বিএডিসির চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম, ধান গবেষণা কেন্দ্র ব্রির মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর।

কৃষি অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপপরিচালক বাশার আহমেদ জানান, ‘সমলয়’ চাষের এক নতুন পদ্ধতি। একটি ব্লক বা মাঠে যৌথভাবে একই জাতের ধান একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করা হয়। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহসহ সব প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে সমসময়ে সম্পাদন করা হয়।

এ পদ্ধতিতে ধান আবাদে চারা তৈরি করতে হয় ট্রেতে। ট্রেতে চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। কৃষক ফসল একত্রে মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারেন।

কারণ, একসঙ্গে চারা রোপণ করায় সব ধান পাকে একই সময়ে। তখন ধান কাটার মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কাটা ও মাড়াই করা যায়।

শেয়ার করুন

পাসপোর্ট অফিস চত্বরে ফুল-সবজি-মাছ

পাসপোর্ট অফিস চত্বরে ফুল-সবজি-মাছ

নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সবজি ও মাছ চাষের উদ্যোক্তা সহকারী পরিচালক শওকত কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যতিক্রমী কাজের উদ্যোক্তা নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক শওকত কামাল। স্টাফদের নিয়ে প্রতিদিন তিনি এগুলোর যত্ন করেন। উৎপাদিত সবজি ও মাছ নিজেদের জন্য কিছুটা রেখে বাড়তিটা বিলিয়ে দেন দরিদ্রদের মাঝে।

নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চত্বরে এখন আর কোনো খালি জায়গা নেই। ভরে গেছে সবজি ও ফলের গাছে। সেই সঙ্গে আছে বাহারি ফুলের বাগানও।

শুধু সবজি ও ফুলই নয়। অফিসের পানি বের হওয়ার ড্রেনেজ লাইনে চাষ হচ্ছে তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, কই, খলিশা ও সরপুঁটির।

এই ব্যতিক্রমী কাজের উদ্যোক্তা অফিসের সহকারী পরিচালক শওকত কামাল। স্টাফদের নিয়ে প্রতিদিন তিনি এগুলোর যত্ন করেন। উৎপাদিত সবজি ও মাছ নিজেদের জন্য কিছুটা রেখে বাড়তিটা বিলিয়ে দেন দরিদ্রদের মাঝে।

পাসপোর্ট অফিসের ফুলের বাগান
নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ফুলের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা

শওকত কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস শুরুর আগে অফিস চত্বরের জায়গা খালি পড়ে ছিল। তারপর শুরু হলো মহামারি। এই সংকট মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, “এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে”। এক জন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমিও শামিল হয়েছি তার ঘোষণা বাস্তবায়নে।’

অফিস চত্বরের ১০ কাঠা জমিতে গত বছরের ২০ মার্চ থেকে চাষাবাদ শুরু করেন। লাগিয়েছেন লালশাক, ডাঁটাশাক, ঢ্যাঁড়শ, করোলা, সিম, বেগুন, বরবটি, রসুন, পেঁয়াজ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, কদর, লাউ, পেঁপে, লেবু, টমেটো, কাঁচা মরিচ, আমলকী, পেয়ারা, আম, জাম, আতা, বড়ই, ড্রাগন ফলের গাছ।

পাসপোর্ট অফিসে সবজি চাষ
পাসপোর্ট অফিসে লাগানো গাছে ধরে আছে ফুলকপি। ছবি: নিউজবাংলা

শওকত বলেন, ‘আমরা যেমন ফরমালিনমুক্ত ফ্রেশ সবজি পাচ্ছি তেমনি আশপাশের মানুষদেরও দিচ্ছি। সেবাগ্রহীতাদেরও উৎসাহ দিচ্ছি যাতে বাড়ির পাশে জায়গা খালি না রেখে সবজি চাষ করে। এতে খরচ বাঁচার পাশাপাশি বাড়তি আয়ও হবে।’

নওগাঁর রাণীনগর থেকে পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো অফিসে এসে অবাক হয়ে গেছি। পাসপোর্ট অফিসে ফুল, সবজি, মাছ তো কোথাও দেখিনি। এই উদ্যোগ আসলেই প্রশংসার যোগ্য।’

সদর উপজেলার রুবেল হোসেনও এসেছেন পাসপোর্টের কাজে। তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখলাম। দেখে মনে হলো কোনো কৃষিখামার দেখছি। দেখে সত্যিই অনুপ্রাণিত হলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়ির চারপাশে অনেক জমি পতিত থাকে। সেগুলোতেও এমন উদ্যোগ নিলে সংসারে বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে।’

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg