দেশেই তৈরি হবে কৃষি যন্ত্রপাতি: কৃষিমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) কাউন্সিল হলে ‘বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

দেশেই তৈরি হবে কৃষি যন্ত্রপাতি: কৃষিমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে জাপানের ইয়ানমার কোম্পানি এ দেশে যন্ত্রপাতির অ্যাসেম্বল কারখানা স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছে।

কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকায়নের জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোর অ্যাসেম্বল কারখানা দেশেই স্থাপনের কথা সরকার ভাবছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) কাউন্সিল হলে ‘বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিযন্ত্রপাতির বেশির ভাগ আসে বিদেশ থেকে, যার দামও অনেক বেশি। তাই, আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কম দামে, সাশ্রয়ী মূল্যে এসব যন্ত্রপাতি সরবরাহে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

দেশেই যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরিতে গুরুত্ব আরোপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা জাপানের ইয়ানমার কোম্পানি, ভারতের মাহিন্দ্রসহ অনেকের সাথে আলোচনা করেছি। তাদেরকে এ দেশে যন্ত্রপাতি তৈরির বা অ্যাসেম্বল কারখানা স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যন্ত্রপাতি তৈরি করতে পারলে একদিকে যেমন যন্ত্রপাতির দাম কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে জাপানের ইয়ানমার কোম্পানি এ দেশে যন্ত্রপাতির অ্যাসেম্বল কারখানা স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছে।

কৃষি যন্ত্রপাতির জন্য কৃষককে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৫০-৭০% ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো, পরামর্শ প্রদান ও জনপ্রিয় করতে কৃষি সম্প্রসারণের অধীনে মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

কৃষিমন্ত্রী এসময় কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ও এগ্রো প্রসেসিংয়ে প্রকৌশলীদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণের সকল কম্পোনেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। কৃষি প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল হতে হবে।

সেমিনারে আইইবির কৃষি কৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হুসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল আলম, প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন শিবলু, প্রকৌশলী মিছবাহুজ্জামান চন্দন, প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

মূল প্রবন্ধ পড়েন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আইয়ুব হোসেন।

বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের সময় কৃষিশ্রমিক পাওয়া দিন দিন দুষ্কর হয়ে পড়ছে। কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদনে সময় যেমন কম লাগবে, তেমনি উৎপাদন খরচও কমে যাবে। বাণিজ্যিক চাষে উৎসাহিত হবে কৃষক ও শ্রমিক সংকটের সমাধান হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য