‘বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারিরা ঠাট্টা করে’

চাষির মাথায় ফুলকপি ধরে ঠাট্টা করছেন এক জন। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারিরা ঠাট্টা করে’

কৃষক শহর আলী বলেন, ‘এক মণ ফুলকপি বাজারে বিক্রি হসসে (হচ্ছে) মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারিরা ঠাট্টা করে। কেউ কেউ এসে মজা করে ফুলকপি মাথায় ধরে।’

সাতক্ষীরার কৃষক শহর আলী। নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত প্রতিটি ফুলকপি গ্রামের হাটে বিক্রি করছেন দুই থেকে আড়াই টাকায়। কিন্তু সেই ফুলকপিই সাতক্ষীরা শহরে বিক্রি হচ্ছে আট থেকে ১০ টাকায়।

দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে শহর আলীর খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু লাভ হওয়া তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না।

শহর আলীর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া এলাকায়।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক মণ ফুলকপি বাজারে বিক্রি হসসে (হচ্ছে) মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারিরা ঠাট্টা করে। কেউ কেউ এসে মজা করে ফুলকপি মাথায় ধরে।’

একই অবস্থা ওই এলাকার আরেক কৃষক আনোয়ার গাজীর। তিনি ফুলকপি চাষ করেছেন তিন বিঘা জমিতে। বিঘাপ্রতি প্রায় ১৭ হাজার করে মোট খরচ হয়েছে ৫১ হাজার টাকা। কিন্তু তিন বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করেছেন মোটে ১৩ হাজার টাকায়।

শুধু ফুলকপিই নয়, বেগুনেরও দাম পাচ্ছেন না চাষিরা।

কথা হয় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামের বেগুনচাষি আরিজুল ইসলাম ছালাম, সিরাজুল, আরশাদ আলী, মোশাররফ হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহিনুর রহমান ও রুহুল কুদ্দুসের সঙ্গে।

তারা কলারোয়া খোরদোর হাটে বেগুন বিক্রি করছেন ১০ টাকা কেজিতে। আর পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন আরও কমে ৬ থেকে ৮ টাকা কেজি দরে। সাতক্ষীরা শহরে সেই বেগুনই বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

সবজিচাষি মনসুর আলী মোড়ল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর বর্ষার কারণে জমিতে বেগুন, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা একাধিকবার নোয়া (রোপন) হইচে। সবজি চাষে বিরাট খাটা-খাটনি গেসে। কৃষি অফিস থেকে আমাদের কোনো সাহায্য করে না। যারা টাকা-পয়সা পাসসে তারা এসব রোয় (রোপণ) না। সবজি চাষ করে খরচ-খরচা উটতেছ না।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ৩০ টাকা, রসুন ৮৫ টাকা, বাঁধাকপি আট টাকা, মুলা দুই টাকা, পালং শাক সাত টাকা, শিম ১৬ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, টমেটো ৩৫ টাকা, ওলকপি সাত টাকা, বেগুন ১০ থেকে ১২ টাকা, কচু ২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শহরে এগুলোর দাম প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ।

সাতক্ষীরার সবজি
সাতক্ষীরার একটি বাঁধাকপি ক্ষেত। ছবি: নিউজবাংলা

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম জানান, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরায় নয় হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২ হাজার ২৫০ হেক্টর, তালা উপজেলায় ১ হাজার ৬৯০ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ১ হাজার ৭১০ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ৬১০ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ২০২০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। সবজির বাম্পার ফলনের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম কমে গেছে।

কৃষকদের সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘সার, বীজ, কীটনাশক দিয়ে কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়।’

আরও পড়ুন:
এক টাকায় মুলা তিন টাকায় ফুলকপি
বাজারের উত্তাপ কমাল শীতের সবজি

শেয়ার করুন

মন্তব্য