পাটবীজের জন্য ভর্তুকি পাবে কৃষক: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

পাটবীজের জন্য ভর্তুকি পাবে কৃষক: কৃষিমন্ত্রী

‘আমরা পাটবীজের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারি না। আমরা পাটবীজের উৎপাদন বাড়াব; পাটের উৎপাদন বাড়াব।’

অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সমন্বিত উদ্যোগ ও কৃষককে ভর্তুকি দেয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার ‘উচ্চ ফলনশীল পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে রোডম্যাপ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পাটবীজ উৎপাদনের মূল সমস্যা হলো অন্য ফসলের তুলনায় কম লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা চাষ করতে চান না। পাটবীজে কৃষকদের আগ্রহী করতে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে।

‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছে। সেই জিনোম ব্যবহার করে আমাদের বিজ্ঞানীরা উচ্চ ফলনশীল পাটবীজ রবি-১ জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলন ভারতের পাটজাতের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি। কৃষক পর্যায়ে এটির চাষ বাড়াতে পারলে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব।’

পাট বীজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, কৃষি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে।

‘আমরা পাটবীজের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারি না। আমরা পাটবীজের উৎপাদন বাড়াব; পাটের উৎপাদন বাড়াব।’

সভায় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নাসিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম।

বাংলাদেশে তোষা পাটবীজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে আনতে হয় জানিয়ে কৃষি মন্ত্রী বলেন, এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ এই ৫ বছরের মধ্যে দেশে সাড়ে চার হাজার টন পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বছরে কৃষক পর্যায়ে বীজের চাহিদা পাঁচ হাজার ২১৫ টন। আর চাহিদার বিপরীতে বিএডিসি সরবরাহ করে ৭৭৫ টন (তোষা পাট ৫১৫ টন ও দেশি ২৬০ টন)।

সভায় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ভর্তুকি দিয়ে হলেও পাটবীজের উৎপাদন বাড়াতে হবে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকলে সবসময় অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়। পাটবীজ রপ্তানির ওপর সংশ্লিষ্ট দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ভয়ও থাকে।

পাট আঁশ এবং পাটবীজ দুইটি আলাদা ফসল। দেশে মূলত দেশি ও তোষা জাতের পাটের চাষ হয়। বর্তমানে দেশি পাট ১৫ ভাগ ও তোষা পাট ৮৫ ভাগ উৎপন্ন হয়। তোষা পাটবীজের চাহিদার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ ভারত থেকে আমদানিকরা জেআরও-৫২৪ জাতের মাধ্যমে মেটানো হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য