এখনও কৃষকের পাশে কৃষক

এখনও কৃষকের পাশে কৃষক

কৃষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার এই কাজকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘গাতা’। যুগ যুগ ধরে এই এলাকার কৃষকদের মধ্যে চলে আসছে এই প্রথা।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আগুনিয়াপাড়া গ্রাম। বৃহস্পতিবার সকালে শীতের আমেজ। ঠান্ডা হাওয়া উপেক্ষা করে কৃষক নজরুল ইসলামের বীজতলা থেকে পেঁয়াজের চারা তুলছেন ১৫ জনের একটি দল।

এরা দিনমজুর নন, তারা সবাই কৃষক। সবাই এবার পেঁয়াজের আবাদ করছেন। বৃহস্পতিবার সারা দিন তারা নজরুলের জমিতেই এই পেঁয়াজের চারা তুলবেন ও রোপণ করবেন।

আর কৃষক নজরুলের বাড়িতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ভালোমন্দ রান্নাবান্না হচ্ছে। মাঠের কাজ শেষে দলটি একসঙ্গে বসে তাদের বাড়িতে খাবেন।

পর দিন একই দল যাবে আরেক জন কৃষকের জমিতে একই কাজ করতে। সেই কৃষকের বাড়িতে আয়োজন করা হবে খাওয়া-দাওয়ার। এভাবে কৃষকরা পরস্পরের পাশে দাঁড়ান। বিনা মূল্যে অন্যদের কাজ করে দেন।

কৃষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার এই কাজকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘গাতা’। যুগ যুগ ধরে এই এলাকার কৃষকদের মধ্যে চলে আসছে এই প্রথা।

বংশপরম্পরায় একে অন্যের সহযোগিতায় কৃষিকাজ করার জন্য গ্রামের কৃষকরা এই জোট বা ‘গাতা’ করে আসছেন। এক সময় ধান, পাটসহ প্রায় সব কৃষিকাজে গাতার চল ছিল।

Onionjhineidaha

কিন্তু কৃষিজমি তৈরি ও ধানের চারা রোপণের কাজে এখন যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়। এমনকি পাকা ধান কাটতে কৃষকদের আর কাস্তে হাতে দলবেঁধে মাঠে নামতে হয় না। সবই চলে যন্ত্রের সাহায্যে।

তবে পেঁয়াজ রোপণ এখনও হাতেই করতে হয়। আর এই সুবাদে কৃষকদের বাড়িতে আয়োজন করা হয় উৎসবের। এখনও টিকে আছে গাতার চল।

এ ব্যাপারে কৃষক নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ বছর দুই বিগে জমিতি পিঁয়াজ লাগাব। তাই গিরামের আরও যারা পিঁয়াজ লাগাবে, তাদের ডাকিছি। ১৫ জন আমার পিঁয়াজ লাগাই দেচ্ছে। সামনের ১৫ দিন আমি ওগের পিঁয়াজ লাগাই দেব। এতে একদিনি আমার পিঁয়াজ লাগানো হয়ে যাবি। আর ১৫ দিনি ওদেরও লাগানো হবি।’

উপজেলার উত্তর মির্জাপুর গ্রামের কৃষক রুহুল শেখ বলেন, ‘ধান লাগানে মেশিন হইছে। কাটা মেশিন হইচে। কিন্তু পিঁয়াজ লাগানো তো কোনো মেশিন হইনি। ছোটকাল থেকেই দেকে আসছি পিঁয়াজের সুমায় আসলিই গাতা করে পিঁয়াজ লাগানে। এতে আমারু লাব, আবার যারা গাতা দেচ্চে তাগেরও লাব।’

এ ব্যাপারে কৃষিবিদ জিএম আব্দুর রউফ বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা বিশেষ করে ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যুগের পর যুগ এমন পদ্ধতি চলে আসছে। এতে কৃষকরা প্রত্যেকে লাভবান হচ্ছেন। এক জন কৃষক বাড়তি শ্রমিক ছাড়াই অন্যের সহযোগিতার মাধ্যমে একদিনে তার কাজ করতে পারছেন। এমন সহযোগিতা আর সৌহাদ্যের কারণেই বাংলাদেশ সোনার বাংলা। এটি চলতে থাকুক।

শেয়ার করুন

মন্তব্য