20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি

গারো পাহাড়ে মাল্টা গাছের সারি

শেরপুর জেলাসহ ঢাকায় এসব মাল্টার বেশ চাহিদা রয়েছে। শেরপুরের খোলা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

২০১২ সালে গাজীপুর থেকে শওকত আলম শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা গ্রামে বেড়াতে আসেন। গ্রামের আশপাশের পাহাড়ি এলাকা ঘুরে তার মনে হয়, এ এলাকায় মাল্টার আবাদ করলে ভালো ফলন হবে ও লাভবান হওয়া যাবে। এ চিন্তা থেকেই গারো পাহাড়ের উঁচু টিলায় তিন একর জমি কিনে ওই বছর থেকেই তিনি মাল্টার আবাদ শুরু করেন।

ময়মনসিংহে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ ফলদ বৃক্ষের গবেষণা কেন্দ্র ‘জার্মপ্লাজম সেন্টার’ থেকে মাল্টার চারা এনে রোপণ করেন শওকত। বছরখানেকের মধ্যেই গাছে মাল্টা ধরা শুরু হয়। তার উৎপাদিত মাল্টার স্বাদও বেশ ভালো।

শওকত আলমের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার এ প্রতিনিধির। তিনি বলেন, বর্তমানে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাল্টা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি। বাগান বড় করছি। শুধু তাই নয়, মাল্টার গাছ থেকে কলম কেটে চারা তৈরি করছি। এখন আর অন্যের কাছ থেকে চারা আনতে হয় না। এখন অনেকেই আমার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে মাল্টার আবাদ করছেন।’

পতিত জমিতে অন্য ফলের আবাদও করছেন শওকত। তিনি মনে করেন, গারো পাহাড়ি এলাকায় ফলের আবাদ করলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও অনেক এগিয়ে যাবে।

শুধু শওকত নন, গারো পাহাড়ে আরও অনেকে চাষী মাল্টার চাষ করছেন। বিভিন্ন টিলা ও টিলাঘেঁষা বিভিন্ন পতিত জমিতে এখন সারি সারি মাল্টা গাছ।

নিজের মাল্টা বাগানে শওকত আলম
নিজের মাল্টা বাগানে শওকত আলম। ছবি: নিউজবাংলা

বারি-২ ও বারি-৪ জাতসহ অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিভিন্ন জাতের মাল্টার চাষ হচ্ছে গারো পাহাড়ে। বিদেশি মাল্টা রঙিন হলেও গারো পাহাড়ের মাল্টা সবুজ। কিন্তু এ মাল্টার স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয় ।

চাষিরা জানান, রাসায়নিক ব্যবহার করলেই এর রং বিদেশি মাল্টার মতো হয়ে ওঠে। কিন্তু তারা সেটা করছেন না। তবে পাকা মাল্টার রং প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা হালকা কাঁচা হলুদের রং আসে।

শেরপুর জেলাসহ ঢাকায় এসব মাল্টার বেশ চাহিদা রয়েছে। শেরপুরের খোলা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে জানান, শেরপুর জেলায় এ বছর মোট ২৫ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। এ এলাকার আবহাওয়া সাইট্রাস লেবু জাতীয় ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপন ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় তিন বছর আগে ঝিনাইগাতী উপজেলার আরেক উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেনও মাল্টার আবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন। এভাবে আরও অনেকেই পেয়েছেন সফলতা।

এ বিষয়ে শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, জেলায় গারো পাহাড় এলাকার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী, শ্রীবর্দী ও সদর উপজেলাতে মোট ২৫ হেক্টর জমিতে মাল্টার চাষ হচ্ছে।

এসব মাল্টা বিদেশি ও দেশে উৎপাদিত অন্যান্য জেলার মাল্টার চেয়ে অনেক গুণ বেশি সুস্বাদু। আশা করা হচ্ছে, জেলায় আগামীতে মাল্টার আবাদ আরও বাড়বে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য