× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

hear-news
player
google_news print-icon

আমনের ফলন ‘ভালো’, কৃষকের মুখে হাসি

আমনের-ফলন-ভালো-কৃষকের-মুখে-হাসি
শেরপুর জেলায় আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।

চলতি রোপা আমন মৌসুমে শেরপুর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৯৫ হেক্টর বেশি জমিতে শস্যটির আবাদ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। শুরু হয়ে গেছে সোনালি ধান কাটা। কৃষকের মুখে তাই ফুটেছে হাসি।

ঝিনাইগাতীর বন্দভট পাড়ার কৃষক আব্দুল হাই নিউজবাংলাকে বলেন, তিনি পায়জাম ধানের আবাদ করেছিলেন। ধান পেকেছে, কাটা শুরুও করেছেন। তার ক্ষেতে অনেক ধান হয়েছে। বাজারে নতুন ধানের দামও বেশ। তাই তিনি খুশি।

আমনের ফলন ‘ভালো’, কৃষকের মুখে হাসি

একই এলাকার কৃষক আশরাফুল বলেন, তিনি দানিগুল ধানের চাষ করেছেন। এ ধান আগাম পাকে। তার পরিবারের লোকজন ধান কাটা ও শুকানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ জেলায় তিন দফা বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ২৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ফসল। ২০ হাজার ৫৫০টি কৃষক পরিবার এ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। কৃষকেরা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মনোযোগ দেন আমন চাষে।

জেলায় ৯২ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। ৯১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল।

এবার পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক খেতে ধান পেকে সোনার বরণ ধারণ করেছে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

আমনের ফলন ‘ভালো’, কৃষকের মুখে হাসি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মুহিত কুমার দেব জানান, এবার জেলায় আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। এ জেলায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় ধানের খেতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হয়নি।

তিনি আশা করেন, এবার আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

কৃষি
Religious minorities have no holidays in the media

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনো উৎসবে ছুটি নেই সংবাদমাধ্যমে

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোনো উৎসবে ছুটি নেই সংবাদমাধ্যমে হিন্দু. বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের কোনো উৎসবে ওই ধর্মের অনুসারী ছাড়া অন্যদের ছুটি ভোগ করার সুযোগ নেই সংবাদমাধ্যমে। ছবি: নিউজবাংলা  
হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয় দশমী, জন্মাষ্টমী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন ও বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমায় সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে সংবাদপত্রে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও এর ব্যতিক্রম নেই।

দেশের সংবাদমাধ্যম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিয়ে কথা বললেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ছুটি নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংবাদকর্মীরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে সরকার ঘোষিত ছুটির দিনে ‘ঐচ্ছিক’ ছুটি ভোগ করার সুযোগ পান। তবে সংবাদমাধ্যমে এসব দিনে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই।

সংবাদপত্রে ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে ৯ দিনের ছুটি রয়েছে, তবে সবগুলোই ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক। আর টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ধর্মীয় উৎসবকেন্দ্রিক ছুটির নিয়ম প্রতিষ্ঠান ভেদে আলাদা। তবে সেখানেও হিন্দু. বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের কোনো উৎসবে ওই ধর্মের অনুসারী ছাড়া অন্যদের ছুটি ভোগ করার সুযোগ নেই।

সংবাদপত্রে ছুটির বিষয়টি মূলত সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার’স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা নোয়াব নির্ধারণ করে। নোয়াবের সিদ্ধান্ত অনুসারে বছরে ১১দিন বন্ধ থাকে সংবাদপত্র প্রকাশনা।

এই ১১ দিনেরমধ্যে ৯ দিনই ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক ছুটি। এগুলো হলো: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ৩ দিন করে ৬ দিন, ঈদে মিলাদুন্নবিতে একদিন, শবে বরাতে একদিন এবং আশুরাতে একদিন। এছাড়া পহেলা বৈশাখে একদিন ও মে দিবসে একদিন ছুটি রয়েছে।

এর বাইরে জাতীয় তিন দিবসে সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা বের করা হয়।

অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয় দশমী, জন্মাষ্টমী, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন ও বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমায় সরকারি ছুটি থাকলেও এসব দিনে সংবাদপত্রে সার্বজনীন কোনো ছুটি নেই। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও এর ব্যতিক্রম নেই।

বিষয়টিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি ছুটি দিতে হয় সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি থাকা উচিত। আর যদি ছুটি না দেয়, যেহেতু গণমাধ্যম প্রতিদিন মানুষের দোরগাড়ায় যায়, সেক্ষেত্রে ছুটি বাতিল হলে নিজস্ব উদ্যোগে পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

‘এক সম্প্রদায় ধর্মীয় ছুটি পেল, অন্য সম্প্রদায় পেল না এটা শোভন নয়। এটা এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা বলে আমি মনে করি।’

সাংবাদিক সংগঠন থেকে কখনও বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে এ ধরনের দাবি কখনও জানানো হয়নি। সাংবাদিক সংগঠনগুলো আলোচনা করে গণমাধ্যমের মালিক, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিডিয়ায় এ ছুটিগুলো যখন নির্ধারণ করা হয় তখন মিডিয়া মূলত সংবাদপত্র ও এজেন্সি নির্ভর ছিল। অর্থাৎ সব অফলাইনের ছিল।

‘এখন কালের বিবর্তনে অনলাইন পত্রিকা, নিউজ এজেন্সি, অনলাইনে টেলিভিশন এগুলো সব ২৪ ঘণ্টার হয়ে গেছে। মিডিয়া এখন অত্যাবশ্যকীয় সেবার আওতায় এসে গেছে। ঈদের দিনেও মানুষ সংবাদ দেখতে চায়।‘

তিনি বলেন, ‘তবে সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন মিলিয়ে গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের ছুটির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। নির্ধারিত উৎসবের দিনেই ছুটি নিতে হবে বিষয়টি তেমন নয়। আলোচনার মাধ্যম আগে পিছে করে ছুটি নেয়া উচিত।’

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব ধর্মীয় উৎসবে ছুটি একসময় সংবাদমাধ্যমে ছিল। তবে কালের পরিক্রমায় দেখা যায় হিন্দু বা অন্য সম্প্রদায়ের কোনো ধর্মীয় ছুটি নেই। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

‘আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলি, সব ধর্মের সমন্বয়ের কথা বলি, সব ধর্মের সমান সযোগের কথা বলি, অথচ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের উৎসবে কোনো ছুটি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করে। কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। সংবাদপত্রে ছুটি তো সরকার নয়, নোয়াব নির্ধারণ করে। তারা কেন এগুলো বিবেচনা করে না আমি ঠিক জানি না।

‘বাংলাদেশে এখন অধিকাংশ ওনার বা মালিকরাই সম্পাদক। তারা চাইলে এ সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারে।’

নোয়াব থেকে কখনও অন্য ধর্মের উৎসবে ছুটির বিষয়ে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি জানিয়ে শ্যামল দত্ত বলেন, ‘বিজয় দশমী, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিনে একদিন করে ছুটি থাকা দরকার্। এ ব্যাপারে নোয়াবকে কখনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাও কখনও উদ্যোগ নেননি।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে নোয়াব সভাপতি ও সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে নোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমানে সদস্য দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কখনও অন্য সংবাদমাধ্যমকে কমেন্ট দিই না। আমি কোনো বিষয়ে আমার যেটা বক্তব্য সেটা নিজের কাগজে লিখি, নিজের কলমে লিখি। তাই সচারচর আমার কোনো মন্তব্য অন্য কোথাও দেখবেন না।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা অবশ্য মনে করছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবে সংবাদমাধ্যমে সবার জন্য ছুটি থাকার যৌক্তিকতা নেই।

গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীরা ছুটির জন্য চাকরি করেন না। তারা জানেন এটা একটা অন্যরকম পেশা। অন্য পেশা থেকে আলাদা, এখানে সময় বেশি দিতে হয়, কাজের পরিবেশ ও ঝুঁকিও বেশি।

‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম জরুরি সেবার আওতায় পড়ে। জরুরি সেবার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসা, পরিবহন, আইনশৃংখলা বাহিনী এদের মতো গণমাধ্যমকেও সবসময় ছুটি দেয়া যায় না। আমি মনে করি, সেই বিবেচনায় গণমাধ্যম সব ছুটি পাবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনে ঈদের দিনও কাজ করা হয়। সংবাদপত্র বন্ধ থাকলেও তাদের অনলাইন ভার্সন চালু থাকে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের কাজ করতে হয়।

‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে সবাই কিন্তু সব ধর্মীয় উৎসবে ছুটি দিচ্ছে না। বড়দিনে ছুটি দেয়া হয়। কারণ এটা তাদের বড় ধর্মীয় উৎসব। তেমনি আমাদের এখানে ঈদে বড় ছুটি দেয়া হচ্ছে। অন্য ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিনে স্ব স্ব ধর্মালম্বীদের ছুটি দেয়া হয়।’

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় কারণে আমরা যে অনেকগুলো ছুটি কাটাই সেগুলো সংক্ষিপ্ত করা উচিত। এর পরিবর্তে জাতীয় উৎসব হিসেবে ঈদে আর একটু বেশি ছুটি দিলে মানুষের বাড়িতে যাওয়ার ছোটাছুটি আরও সহজ করে ফেলা সম্ভব বলে আমি মনে করি।’

অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংবাদপত্রে যারা কাজ করে তারা বছরে মাত্র ১১ বা ১২ দিন ছুটি পায়। তবে অনলাইন গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের ঈদের দিনেও কাজ করতে হয়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের নির্ধারিত ছুটি না থাকলেও তাদেরকে স্ব স্ব অফিস ছুটি দেয়।

‘তবে এসব ছুটির একটা নীতিমালা থাকা উচিত। অন্তত দুর্গাপূজায় একটি দিন ছুটি দেয়া উচিত। কারণ মুসলিমরা দু্ই ঈদে ছুটি পায়। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গা উৎসব। এজন্য গণমাধ্যমে অফিসিয়ালি একটা ছুটি দেয়া উচিত। কারণ, কাজের বাইরে পরিবারকে সময় দেয়া জরুরি।’

আরও পড়ুন:
‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি
গণমাধ্যম আইনের কিছু দিক নিয়ে সংবাদকর্মীদের আপত্তি

মন্তব্য

কৃষি
The thought of putting Roshan Kader at one table

রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা

রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি: সংগৃহীত
রওশনপন্থি এক নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের বসলেই মীমাংসা হয়ে যাবে। হয়তো শেষ পর্যন্ত সেটাই হবে।’

একদিকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদপত্নী বেগম রওশন এরশাদ, অন্যটিকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার ভাই জি এম কাদের। দুজনের বিপরীতমুখী অবস্থানে ভাঙনের কবলে দল। ওদিকে জাতীয় নির্বাচনের দামামা বাজার অপেক্ষা। এই সময়ে এই দ্বন্দ্ব দলটিকে নতুন কোনো সংকটে ফেলে কি না, তা নিয়ে আছে আলোচনা।

সমস্যার শুরু গত ৩১ আগস্ট। দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ হঠাৎ করেই আগামী ২৬ নভেম্বর দলের সম্মেলন ডেকে বসেন। সেটি আবার জানতেন না দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সেদিনই বিষয়টি স্পষ্ট করেন তার অনুসারী নেতারা।

পরদিন জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল বৈঠক করে রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরাতে স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীকে চিঠি দেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এরশাদ অনুসারী হিসেবে পরিচিত হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলের মধ্যে যে সংকট, তা আসলে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে। অতীতেও নির্বাচন এলেই দলটিতে এমন সংকট দেখা গেছে। আগামী দিনে কারা ক্ষমতায় থাকবে, সেদিকেই দৃষ্টি এখন দলের। এ কারণেই বেশ কিছু কৌশল নিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

রওশন-কাদেরকে এক টেবিলে বসানোর চিন্তা

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে দলে রওশন- কাদেরের দ্বন্দ্ব হলেও পরে মীমাংসা হয়ে যায়। এবারও তা-ই হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

রওশনপন্থি এক নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের বসলেই মীমাংসা হয়ে যাবে। হয়তো শেষ পর্যন্ত সেটাই হবে।’

রওশন চিকিৎসার জন্য এখন দেশের বাইরে। আগামী ৮ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা আছে, যদিও তা পিছিয়ে যেতেও পারে। তিনি দেশে এলে দুই নেতাকে এক টেবিলে বসানোর একটি উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।

দলের প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য বলেন, ‘আমার মনে হয় না রওশন এরশাদ দলের জন্য ক্ষতিকর কিছু করবেন। তবে তিনি দেশে ফিরলে বিষয়টি বোঝা যাবে। তবে আমি ৮০ শতাংশ মনে করি, ভাবি-দেবরের বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন। তার মানে এই নয় যে তিনি আওয়ামী লীগ বিমুখ হয়ে গেছেন। তিনি নির্বাচনবিমুখ হননি। সে হিসেবে তো এখনও জাতীয় পার্টি সরকারের সঙ্গেই রয়েছে। যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা না হয় তাহলে মনে হয় এবার সরকারের বাইরেও যেতে পারেন তিনি।’

রওশনপন্থি নেতারা আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মতোই কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী।

এই অংশের এক নেতা বলন, ‘দলের বিভক্তি প্রকাশ্যে এসেছে যখন থেকে জাতীয় পার্টি বিএনপির সুরে কথা বলা শুরু করেছেন। বিএনপি এখন যা-ই বলে জি এম কাদেরও সেই লাইনেই কথা বলেন। কিন্তু রওশন এরশাদ কোনো অবস্থাতেই বিএনপির সঙ্গে যেতে চান না।’

তবে জাতীয় পার্টির জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সম্প্রতি বলেছেন, তারা বিএনপির সঙ্গে যাবেন- এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে জাতীয় পার্টি আগামী দিনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট নাও করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেয়া হবে।

রওশনপন্থি আরেক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রওশন এরশাদ সবাইকে নিয়ে কাউন্সিল করতে চেয়েছিলেন। তিনি দেশে এসে যে রাজধানী একটি হোটেলে জি এম কাদেরপন্থিদের ডাকলেও তারা কেউ সাড়া দেননি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কাউন্সিলের ডাক দিয়েছেন।’

রওশন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তেমনভাবে তার খোঁজ নেননি জি এম কাদের। এ বিষয়টি ভালোভাবে নেননি তিনি। দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা তার কাছে গিয়ে বলেছেন, জি এম কাদের তাদের একঘরে করে রেখেছেন। এটিও ভালোভাবে নেননি রওশন।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একনায়কতন্ত্র চালু করেছে: জি এম কাদের
ব্যানারে নেতার ছবি না থাকায় জাপার ২ গ্রুপে সংঘর্ষ
রওশনের অপসারণ: স্পিকারের দিকে তাকিয়ে জাতীয় পার্টি
রওশন এরশাদ তার ছেলে ও দুই-একজনের কাছে জিম্মি: চুন্নু
রাঙ্গাদের ফেরাতে কাদেরকে চিঠি রওশনের

মন্তব্য

কৃষি
34 percent of e TIN holders are not traced

৩৪ শতাংশ ই-টিআইএনধারীর খোঁজ নেই

৩৪ শতাংশ ই-টিআইএনধারীর খোঁজ নেই প্রতীকী ছবি
বাড়ি, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ নানা কাজে দরকার হয় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন। প্রয়োজনে ই-টিআইএন নেয়া অনেকেই আয়কর রিটার্ন জমা দেন না। ই-টিআইএনধারী অনেকেই মারা গেছেন, কেউ কেউ বিদেশ চলে গেছেন, আবার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকেরই।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন আসলাম সিকদার। আয়কর রিটার্ন জমা দিতেন নিয়মিত।

দুই বছর আগে মৃত্যু হয় আসলামের, কিন্তু বাতিল করা হয়নি তার আয়কর ফাইল।

কুয়েতপ্রবাসী বাচ্চু মিয়া বিদেশ যাওয়ার আগে জমি কিনতে ই-টিআইএন নেন, কিন্তু রিটার্ন দেননি।

আসলাম, বাচ্চুর মতো লাখ লাখ ব্যক্তি প্রয়োজনে ই-টিআইএন নিলেও তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই সব টিআইএন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এসব করদাতা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে কর অঞ্চলগুলোর জন্য।

বাড়ি, গাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ নানা কাজে দরকার হয় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন। প্রয়োজনে ই-টিআইএন নেয়া অনেকেই আয়কর রিটার্ন জমা দেন না।

ই-টিআইএনধারী অনেকেই মারা গেছেন, কেউ কেউ বিদেশ চলে গেছেন, আবার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকেরই।

তাদের অনেকের নামে থাকা আয়কর ফাইলও বাতিল করা হয়নি। ফলে লাখ লাখ ই-টিআইএন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিবন্ধন নেয়ার পর খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন টি-আইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

বর্তমানে ই-টিআইএনের সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে নিষ্ক্রিয় করদাতার সংখ্যা ২৭ লাখ, যা শতকরা হারে ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

এই ২৭ লাখ বাদ দিলে নিট টিআইএনধারীর সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৫৩ লাখে।

আইন অনুযায়ী, টিআইএনধারী প্রত্যেকের বার্ষিক রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার পরও রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়ছে না প্রত্যাশা অনুযায়ী।

রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বছরে আয়কর রিটার্ন জমার সংখ্যা ২৫ লাখ।

আয়কর রিটার্নের সংখ্যা বাড়াতে এ বছরের বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

রিটার্নের সঙ্গে অ্যাকনলেজমেন্ট বা প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয় ৩৪টি সেবা খাতে। এই উদ্যোগের ফলে এনবিআর আশা করছে, আগামী করবর্ষে আয়কর রিটার্ন বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়কর বিভাগের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকেই জমি ক্রয়, গাড়ি কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন সেবা নিতে ই-টিআইএন নিবন্ধন নিয়েছেন, কিন্তু বছরের পর বছর রিটার্ন জমা দেননি। আবার অনেকেই মারা গেছেন, কেউ আবার বিদেশ চলে গেছেন।

‘ওই সব টিআইএন সিস্টেম থেকে বাতিল না করায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এ কারণে নিষ্ক্রিয় নম্বরগুলো কর বিভাগের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নিষ্ক্রিয় ই-টিআইএন বাতিল করতে সম্প্রতি কর অঞ্চল থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ই-টিআইএনের সঙ্গে রিটার্ন জমার পার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তোলে। ফলে নিষ্ক্রিয় টিআইএন বাতিল করা হলে রিটার্ন জমার হার বেড়ে যাবে।

এনবিআর বলছে, ই-টিআইএন সার্ভারে এটি বাতিলের অপশন বা সুযোগ রাখা হয়নি।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিবন্ধন বইয়ে করদাতার নাম ও তথ্য নিবন্ধন করা হতো। এতে যে নম্বর পড়ত, সেটাই হতো করদাতার নম্বর। একে বলা হতো জেনারেল ইনডেক্স রেজিস্ট্রেশন নম্বর।

কোনো কারণে করদাতা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে যাচাই করে সেই নম্বর বন্ধ করে দেয়া হতো।

১৯৯৩ সালে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর চালু করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের জুলাই থেকে টিআইএন পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করা হয়।

১২ ডিজিটের এ নম্বরকে বলা হয় ইলেকট্রনিক ট্যাক্সপেয়ার’স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ই-টিআইএন। স্বয়ংক্রিয় এ পদ্ধতিতে টিআইএন নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের আগস্ট নাগাদ নিবন্ধিত ই-টিআইএনের সংখ্যা ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৪।

সে হিসাবে এক বছরে করদাতা বেড়েছে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬১ বা ১৮ শতাংশ।

মন্তব্য

কৃষি
The Prime Ministers affection is not good

ভালো নেই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের শম্পা

ভালো নেই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের শম্পা এই ছবি দেখে শম্পার পরিবারের জন্য সহায়তা পাঠান প্রধানমন্ত্রী।
‘ভালাই দিন যাইতাছিল। রোজার ইদের পরের দিন রাইতে হঠাৎ কইরে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু করে। মেলাক্ষণ রক্ত পড়ছে। পরে মাথাত পানি দিয়ে এডা (একটি) বড়ি (ট্যাবলেট) খায়ে ঘুমাইছি। পরের দিন ডাক্তার দেহাইছি। ডাক্তার ওষুধ দিছিল। ওষুধ খাওয়ার পর এহন কিছুটা কমছে। তাও দুই-এক দিন একটু একটু কইরে পড়ছে।’

বাবার চিকিৎসা করতে ভ্যান চালিয়ে তোলপাড় ফেলা জামালপুরের শিশু তাহাজ্জুদ শম্পা ভালো নেই। গলায় ঘা হয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যেই নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে তার। তার মা নেবুজা খাতুনের হাত-পা প্রায়ই অবশ হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। বাবার পা-ও পুরোপুরি ঠিক হয়নি এত দিনেও।

শম্পার কাহিনি গণমাধ্যমে পড়ে আবেগে ভেসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে এরপর মেয়েটির জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা হয়, উদ্যোগ নেয়া হয় পড়াশোনা নিশ্চিত করার, বাবার চিকিৎসা হয় সরকারি খরচে, তার নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করতে করে দেয়া হয় দোকানও।

বাবার মুদি দোকানের উপার্জন দিয়ে তিনবেলা খেয়ে সুখেই দিন কাটছিল শম্পাদের। তবে পরিবারের ঘুম কেড়ে নিয়েছে অসুস্থতা। একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিছুটা কষ্টে দিন পার করছে তারা।

সোমবার দুপুরে নাকাটির গ্রামের বাড়িতে যাবার পথে শম্পার দাদি সরেবান বেগমের সঙ্গে দেখা হয় নিউজবাংলার। নাতনির কথা জিজ্ঞাসা করতেই ৮০ বছর বয়সী সরেবান ওঠেন, ‘আমার নাতির অবস্থা বেশি ভালা না। অসুখ।’

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিছানায় বসে লেখাপড়া করছে শম্পা।

সে বলে, ‘ভালাই দিন যাইতাছিল। রোজার ইদের পরের দিন রাইতে হঠাৎ কইরে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু করে। মেলাক্ষণ রক্ত পড়ছে। পরে মাথাত পানি দিয়ে এডা (একটি) বড়ি (ট্যাবলেট) খায়ে ঘুমাইছি। পরের দিন ডাক্তার দেহাইছি। ডাক্তার ওষুধ দিছিল। ওষুধ খাওয়ার পর এহন কিছুটা কমছে। তাও দুই-এক দিন একটু একটু কইরে পড়ছে।’

ভালো নেই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের শম্পা

শম্পার মা নেবুজা খাতুন বলেন, ‘মেয়ের অসুখ হইল, ডাক্তার দেহাইলাম। মেয়ে একটু ভালা হওয়ার পর আবার আমার অসুখ হইল। থাকতে থাকতে হাত-পা সব অবশ হয়ে জায়গা। পরে আমিও ডাক্তার দেহাইলাম। এহনও শরীর ঠিক হয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলার ইউএনও সার নিয়মিত আঙ্গর (আমাদের) খোঁজখবর রাখেন। লোক পাঠায়ে খবর নেন। নিজেও ফোনে খোঁজখবর নেন। আমরা প্রশাসনের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’

ছয় বছর আগে জামালপুর শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে যায় শম্পার বাবা শফিকুল ইসলাম ভাষানীর। প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে সাত লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসার পরও ভালো হয়নি তার ডান পা।

এরপর থেকেই সব সময় বিছানায় থাকতে হয় শফিকুলকে। সবজি বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেন শম্পার মা নেবুজা বেগম। সেই উপার্জনেও যখন সংসার চলে না, তখন বাবার ওষুধের টাকা সংগ্রহ করতে টানা দেড় বছর ভ্যান চালায় শম্পা।

২০২০ সালের নভেম্বরে শম্পার ভ্যান চালানোর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি জামালপুরের জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেন শম্পার। তার বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে এসে চিকিৎসা করানো হয়।

ডিসেম্বরের শুরুতে শম্পার জন্য বাড়ি করে দেয়ার কাজে হাত দেয় প্রশাসন। তার পরিবারকে দেয়া হয় টাকা। এরপর আর ভ্যান চালানোর দরকার পড়েনি শম্পার। সেই সময়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া শম্পা এখন কুটামনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির তারকা ছাত্রী। আর জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নাকাটি গ্রামের শম্পা পুরো জেলার এক পরিচিত মুখ।

ভালো নেই প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের শম্পা

দোকানে চা খেতে খেতে কথা হয় শম্পার বাবা শফিকুল ইসলাম ভাষানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার পা ভাঙা। এহনও ওষুধ খাওয়া লাগে। এছাড়াও পরিবারের সবার অসুখ। সবার ওষুধ কিনতে কিনতে আমার দিন শেষ। এই এক দোকানের কামাই দিয়ে সংসার চালান লাগে আবার সবার ওষুধও কিনা লাগে। এর জন্য দোকানে আগের মতো মালও তুলবার পাই না। দোকানের মালও কইমে গেছে গা। খুব একটা সমস্যার মধ্যে আছি।

‘প্রতি তিন মাস পর পর আমার ঢাকা যাওয়া লাগে। ডিসি স্যার, ইউএনও স্যার। আঙ্গর মেলা খোঁজখবর রাখেন। ঢাকা যাবার সব ব্যবস্থা করেন। আমার চিকিৎসার সব খরচও দিতাছেন।’

২০২০ সালের নভেম্বরে শম্পার ভ্যান চালানোর খবরটি সর্বপ্রথম ইউটিউবে আপলোড করেন বিজয় টিভির জামালপুর প্রতিনিধি জুয়েল রানা। এরপর ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

সাংবাদিক জুয়েল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল পরিবারটি। কিন্তু ভাগ্যের লীলাখেলায় আবারও পরিবারটিতে অন্ধকারের ছায়া নেমে এসেছে। এখন যদি উপজেলা প্রশাসন আরও কিছু সহায়তা করে তাহলে শম্পা ও তার পরিবার কিছুটা উপকৃত হতো।’

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, ‘শম্পা এবং তার পরিবারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি। নিয়মিত কথা হয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও নিয়মিত খবর রাখছেন। তাদের সব সহযোগিতায় আমরা ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।’

মন্তব্য

কৃষি
Crisis of Confidence in Capital Markets What BSEC Can Do

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী পুঁজিবাজারে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা। ফাইল ছবি
শেয়ারের ক্রয়মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার দাবি পূরণের পর দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে দৃশ্যত আর বড় কোনো দাবি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ রক্ষণশীল মনোভাবেও এসেছে পরিবর্তন, কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপও দৃশ্যমান, বন্ধ কোম্পানিগুলোকে আবার চালুর পদক্ষেপের পর উৎপাদনেও ফিরেছে অনেক। আরও কিছু কোম্পানি উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়। তবে পুঁজিবাজার গতটা গতিশীল থাকার আশা করা হয়েছিল, ততটা হয়নি।

পুঁজিবাজারে এক যুগ ধরে যে আস্থার সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে, সেটি কীভাবে ফিরবে- এ প্রশ্ন আবার বড় হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের বক্তব্যে।

পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগের কমিশনগুলোর তুলনায় শিবলীর কমিশন অনেক বেশি উদ্যোগী, কিন্তু বাজারে গতি ফিরতে গিয়েও ফেরেনি। টানা ১৬ মাস চাঙ্গাভাবের পর গত এক বছর ধরে পতনের ধারা।

পুঁজিবাজারের এই চিত্রের জন্য যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে, সেটি ভারতের ক্ষেত্রেও সত্য। ডলারের বিপরীতে সে দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে বাংলাদেশের সমানই। তবে সেখানে পুঁজিবাজার বাংলাদেশের মতো এভাবে ঝিমাচ্ছে না। এমনকি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বাজারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ারের ক্রয়মূল্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার দাবি পূরণের পর দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে দৃশ্যত আর বড় কোনো দাবি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ রক্ষণশীল মনোভাবেও এসেছে পরিবর্তন, কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপও দৃশ্যমান, বন্ধ কোম্পানিগুলোকে আবার চালুর পদক্ষেপের পর উৎপাদনেও ফিরেছে অনেক কোম্পানি। আরও কিছু কোম্পানি উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়।

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট: বিএসইসির করণীয় কী
গত ৩ অক্টোবর বিএসইসি কমিশনের হল রুমে ‘বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহ-২০২২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ফাইল ছবি

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো লভ্যাংশ না দিলেও গত দুই বছরে ইউনিট-মূল্যের তুলনায় বেশ ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। তবু বাজার নিয়ে যে আস্থার সংকটের কথা বলাবলি হচ্ছে একযুগ ধরে, সেটি ফিরছে না।

বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার প্রসঙ্গটি ওঠে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, ‌‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।'

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিবলী রুবাইয়াত হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শুনতে শুনতে কান ব্যথা হয়ে গেছে। আস্থা, এই আস্থা যে কোথা থেকে আনব সেটা আমরা বুঝি না।’

চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে যে প্রশ্নটি বড় হয়েছে, সেটি হলো আর কী হলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরবে?

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হতে সময় না লাগলেও সেটি ফেরাতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিনিয়োগ শিক্ষা বাড়ানো, সুশাসনের সঙ্গে ভালো কোম্পানিগুলোকে আইপিওতে আনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এটি ফেরানো সম্ভব।

‘শব্দটা ছোট, কিন্তু কাজটা কঠিন’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আস্থা বা কনফিডেন্স শব্দটি ছোট, কিন্তু কাজটা অনেক কঠিন। আস্থা বলতে আমরা যা বুঝি- বিশ্বাস, মার্কেটের ওপর বিশ্বাস। বিএসইসি যা করেছে, সবই প্রশংসার দাবিদার। যেগুলো অতীতে হয়নি সেগুলোও করেছে কমিশন।

‘আস্থা আসে ওইখান থেকে, যেখানে প্রতিটি কমিটমেন্ট ঠিক থাকে। ধরা যাক, ডিভিডেন্ড দিলে ঠিকঠাক পায়, এজিএম ঠিকমতো করে, ভালো কোম্পানি লিস্টেড করে। আস্থা নিয়ে আসার জন্য এটি প্রথম কাজ।’

উদাহরণ তুলে ধরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘ধরুন, ডিএসই মাছের বাজার বসিয়েছে। সেই বাজারের একটা কমিটি আছে, তারা সেভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে। আর সিটি করপোরেশনকে বিএসইসি বিবেচনা করুন, মানে তারা তদারকি করে। এখন এই কাঁচাবাজারে মানুষের আস্থা তৈরি করতে হলে কী কী করা দরকার?’

নিজের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, ‘গাড়িটা সুন্দরভাবে পার্ক করতে দিতে হবে, সবাই যাতে শৃঙ্খলভাবে থাকে। এই ধরনের কাজগুলো বিএসইসি করেছে, ঠিক করেছে।

কিন্তু যে মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর কী অবস্থা তা বিবেচনা করতে হবে। যদি পচা মাছ কিনে বাড়ি ফেরেন তাহলে কি আস্থা ফিরবে?

‘যতই লাইট দেয়া হোক, ঝকঝকে বাজার রাখা হোক। প্রোডাক্ট যদি ভালো না হয়, হবে না। যত ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে তত আস্থা বাড়বে। অন্য বিষয়গুলো তো বাস্তবায়ন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভালো কোম্পানি সংযোজন করতে হবে। আজকে একটি ভালো কোম্পানি লিস্টেড হলেও কাল সবাই আস্থা ফিরে পাবেন- এমনটি নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

তাহলে কি আস্থা ফিরবে না?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আস্থা ফেরাতে সময় লাগবে, এক বছর, দুই বছর বা তারও বেশি লাগতে পারে। একবার আস্থা চলে গেলে তা ফেরানো খুবই কষ্টসাধ্য, কিন্তু আস্থা ফেরার পরে তা চলে যেতে সময় লাগে না।’

শাকিল রিজভী জোর দেন কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদনের সত্যতার ওপর। বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলো লিস্টেড হবে সেগুলো যেন ফেইক ইনফরমেশন, ফেইক অডিটেড রিপোর্ট দিয়ে লিস্টেড না হয়। সিকিউরিটিজের দর কমতে বা বাড়তে পারে, কিন্তু কোম্পানির কাছ থেকে যেন না ঠকেন বিনিয়োগকারীরা। তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাজারে আসবে সেগুলোর বাস্তবায়ন যেন হয়। এসব যত ভালোভাবে করা যাবে, আস্থা সেভাবে ফিরে আসবে।’

বিএসইসির বারবার নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সমালোচনা করেন শাকিল রিজভী। বলেন, ‘ছোটখাটো আইন পরিবর্তন বা সংস্করণ ঠিক আছে। কিন্তু খেলা চলছে, এর মধ্যে একবার বলা হলো প্রতি দলে ১২ জন খেলবে, একবার বলা হলো ১১ জন আবার একবার ৯ জন নিয়ে খেলা হবে বলে ঘোষণা দিলে কীভাবে হবে।’

‘আমাদের শুনতে শুনতে কান ব্যথা হয়ে গেছে। আস্থা, এই আস্থা যে কোথা থেকে আনব, সেটা আমরা বুঝি না।’

ফ্লোর প্রাইস আশীর্বাদ নাকি সংকট

পুঁজিবাজার যখন ক্রমেই নিচের দিকে নামছিল, তখন ২৮ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস দেয় বিএসইসি। সব কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে দেয়ার পর ৩১ জুলাই থেকে সূচক বাড়তে শুরু করে।

এই দুই মাসে সূচক বেড়েছে প্রায় ৬০০ পয়েন্ট, তবে তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস নেই। কারণ ৩০ থেকে ৪০টি কোম্পানির দর বেড়েছে, আর ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে পৌনে দুই শটির বেশি কোম্পানি। এর মধ্যে আছে ডিএসই-৩০ এর আট থেকে ১০টি কোম্পানি।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও মনে করেন ফ্লোর প্রাইস বহু কোম্পানির লেনদেনে বাধা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এতগুলো শেয়ার যদি ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকে তাহলে মার্কেটটা জাজমেন্ট করবেন কীভাবে?

‘প্রথম থেকেই বলছি, আমি ফ্লোর প্রাইসের বিরোধী। মার্কেটকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। ফ্লোর প্রাইস না থাকলে হয়তো ইনডেক্সটা পাঁচ হাজার সাত বা আট শর নিচে নেমে যেত। কিন্তু পরে ঠিকই ব্যাক করে নিজের জায়গাটা খুঁজে নিত। নিজেই নিজের বায়ার করে নিত।’

‘এখন এতগুলো আইটেম ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর এই বাজারে কনফিডেন্স কীভাবে আসবে?’- বলেন ডিবিএ সভাপতি।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কি যথাযথ ভূমিকা রাখছেন?

এই প্রশ্নটি উঠছে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকেই। তারা বলছেন, শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ নেই, আর দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বছরের পর বছর ধরে মাতামাতি চলছে- এই বিষয়টি হয়ে আসছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আচরণের কারণে। তারাও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো ডে ট্রেডারের ভূমিকা পালন করছে- এমন বক্তব্য আসছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেই।

তবে ডিবিএ সভাপতি বলেন, ‘এটা আমি মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘মুখে পলিথিন দিয়ে যদি বলা হয় ভাত খেতে, আপনি পারবেন? তিন হাজার ৯৮০ পয়েন্টের সময় যা করা হয়েছে তা সব সময়েই করা ঠিক হবে না। ইনডেক্সকে পড়তে দিতে হবে। অযাচিতভাবে শেয়ারের রেট বাড়িয়ে দিলে সেটা কমতে হবে, কমিয়ে দিলে সেটা বাড়তে হবে।’

ফ্লোর প্রাইসে নতুন আইপিও বন্ধ রাখার পরামর্শ

আর কী প্রয়োজন আস্থা ফেরাতে? এই প্রশ্নের উত্তরে রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘কোনটা হলে কী হতো বলা যায় না। এ রকম একটা বাজারে, যেখানে এতগুলো শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আছে, সেখানে এখন এত আইপিও বাজারে দরকার নাই।

‘ফ্লোর প্রাইস দিয়েছেন মানে বায়ার নাই বা ডিমান্ড কম, আবার আইপিও নিয়ে আসছেন।

বলছেন ডিমান্ড নাই আবার সাপ্লাই বাড়াচ্ছেন। এটা সাংঘর্ষিক। আমি আইপিওর পক্ষে, ভালো আইপিও আসুক। বাজারে এনভায়রনমেন্ট ওকে করে নিয়ে ভালো আইপিও নিয়ে আসা হোক।’

তিনি বলেন, ‘কারণ বাজারের আকার বড় করতে হবে। এই বাজারে ৫০০ কোটি টাকা ইন করলে বের করা যায় না। এ জন্য অনেকেই আসে না। এটা যখন হবে তখন সবাই আসবে।’

বিনিয়োগ শিক্ষার তাগিদ

আস্থা ফেরাতে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ-আল-তারিক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা বাড়ানো দরকার। রেজিস্টার্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যাডভাইজার দরকার, যারা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বিষয়ে আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএসইসি যা করছে, সেটা ভালো। সামনে বাজারে বন্ড আসছে। আমরা ঠিক পথে আছি। সময় লাগবে। আর কিছু ম্যাক্রো-ইকোনমিকস ফ্যাক্ট আছে ওয়ার্ল্ডওয়াইড। সেগুলো তো আর রেগুলেটরের নিয়ন্ত্রণে না। এই মুহূর্তে কিছুই চাওয়ার নাই। যেভাবে আগাচ্ছে, সবাই সহযোগিতা করলে এগিয়ে যাবে আশা করি।’

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে শুধু আমাদের পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়ছে, তা নয়। বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। সময়টাই খারাপ যাচ্ছে, ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই ‘সেরা’ কোম্পানিরও, ফের রাজত্ব ওরিয়নের
আস্থা কোথা থেকে আনব জানি না: বিএসইসি চেয়ারম্যান
সঞ্চয়পত্র নয়, পুঁজিবাজারে আসুন: গভর্নর
ওরিয়ন-বেক্সিমকোর আবেদন হারানোর প্রভাব সূচক-লেনদেনে
পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিরীক্ষায় বিএসইসির কমিটি

মন্তব্য

কৃষি
Soil given to forbidden women is also mixed in the Durga statue

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়
পুরান ঢাকার প্রতিমা শিল্পী বলাই পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেবীর প্রতিমা তৈরিতে পাঁচ ধরনের মাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে যৌনপল্লীর মাটিও রয়েছে। যেসব জায়গায় অনেক আগে যৌনকর্মীরা থাকত সেখানকার মাটি আমরা সংগ্রহ করে রাখি। প্রতিবছর প্রতিমা তৈরিতে সেগুলো ব্যবহার করি।’

বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন। এই সার্বজনীনতা শুধু উৎসবে সবার অংশগ্রহণেই সীমিত নয়, দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণও সংগৃহীত হয় নানা জায়গা থেকে।

প্রতিমা তৈরি ও পূজায় ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা মাটি। সমাজের একদম প্রান্তিক অবস্থানে থাকা এবং মূল সমাজে ‘নিষিদ্ধ’ যৌনকর্মীদের দানের মাটিও মিশে আছে প্রতিমা ও দেবী বন্দনায়।

প্রতিমা শিল্পী ও পূজা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, চণ্ডী পুরাণের নির্দেশনা অনুসারে দেবী দুর্গার প্রতিমা বানানো ও পূজা করা হয়। সেখানে ‘বেশ্যাদ্বার’ বা যৌনপল্লীর মাটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

পুরান ঢাকার বাংলাবাজার জমিদার বাড়ির প্রতিমা তৈরি করেছেন বলাই পাল। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেবীর প্রতিমা তৈরিতে পাঁচ ধরনের মাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে যৌনপল্লীর মাটিও রয়েছে।’

ঢাকার শিল্পীরা কোথা থেকে এই মাটি সংগ্রহ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব জায়গায় অনেক আগে যৌনকর্মীরা থাকত সেখানকার মাটি আমরা সংগ্রহ করে রাখি। প্রতিবছর প্রতিমা তৈরিতে সেগুলো ব্যবহার করি।’

ঢাকায় আগে ইংলিশ রোড ও কুমারটুলি এলাকায় যৌনকর্মীরা থাকতেন উল্লেখ করে এই প্রতিমা শিল্পী বলেন, ‘আমরা সেখানকার মাটি সংগ্রহ করে রেখেছি। সেই মাটি অল্প পরিমাণে প্রতিমায় ব্যবহার করি।’

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

ঢাকার সিদ্ধেশরী কালী মন্দিরের পুরোহিত ননী গোপাল গাঙ্গুলি অবশ্য দাবি করছেন প্রতিমায় যৌনকর্মীদের বসতির মাটি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এই মাটি পূজার ঘট বসাতে অবশ্যই প্রয়োজন।

ননী গোপাল গাঙ্গুলি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মায়ের (দুর্গা) প্রতিমা তৈরিতে এই মাটি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রতিমার সামনে ঘট বসানোর জন্য আটটি স্থানের মাটি লাগে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা (মাটি)।

‘এই মাটি ছাড়া পূজা করার কোন অর্থ নেই। এটা বাধ্যতামূলক।’

অন্য সাতটি জায়গার মাটির বিষয়ে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো হলো গজদন্ত মৃত্তিকা (হাতির দাঁতে লেগে থাকা মাটি), পর্বতের মৃত্তিকা, নদীর দুই ধারের মৃত্তিকা, গঙ্গার দুই কূলের মৃত্তিকা, চৌমাথার মৃত্তিকা, রাজবাড়ির মৃত্তিকা, সাগরের নীচের মৃত্তিকা।’

তবে এসব মাটির সবগুলো বাংলাদেশে সব সময় পাওয়া যায় না বলেও জানান এই পুরোহিত।

তিনি বলেন, ‘পূজায় এখন যা ব্যবহার করা হয় তার সবই আসে ভারত থেকে। কলকাতা থেকে এগুলো নিয়ে আসা হয়। মূলত ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকায় পূজার সব উপকরণ বিক্রি করা হয়। সেখান থেকেই সবাই কিনে নিয়ে পূজায় ব্যবহার করেন।’

দুর্গাপূজায় এসব বিশেষ মাটি ব্যবহারের কথা চণ্ডী পুরাণ, বিষ্ণু পুরান, পুরোহিত পার্বণ, ব্রহ্মপুরাণে উল্লেখ আছে বলে জানান পুরোহিত ননীগোপাল।

বাংলাদেশ সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি বিশেষ স্থানের (যৌনপল্লী) মাটি লাগে। এটা কমবেশি সবাই মেনে আসছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও এই নিয়ম মানা হয় বলেই আমি জানি।’

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

তবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী সুকুমার পালের দাবি, তিনি বৈষ্ণব রীতি মেনে চলেন। এই রীতিতে দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে যৌনপল্লীর মাটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়।

ফরিদপুরের মধুখালীর পুরোহিত শংকর কুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, দুর্গা প্রতিমায় যৌনকর্মীদের বসতিসহ বেশ কয়েকটি জায়গার মাটি ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। তবে সেই মাটি পেতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় বলে অনেকে অন্য পদ্ধতি অনুসরণ করেন।

শংকর কুমার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন সব জায়গার মাটি পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। তাই আমরা শাস্ত্রমতে মন্ত্রের সাহায্যে সাধারণ এলাকার মাটিকে বিশেষ স্থানের মাটি কল্পনা করে ব্যবহার করে থাকি।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গা প্রতিমা গড়তেও যৌনপল্লীসহ বিভিন্ন জায়গার মাটি ব্যবহারের প্রচলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর কারণ হিসেবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সমাজ যাঁদের দূরে ঠেলে দিয়েছে, অবজ্ঞা আর বঞ্চনার পাহাড় জমে উঠেছে যাঁদের দেওয়াল বেয়ে, ঘৃণা আর নোংরা দৃষ্টি ছাড়া যাঁদের ভাগ্যে আর কিছুই জোটেনি, তাঁদের ঘরের মাটিই আবার দেবীমূর্তির অপরিহার্য অঙ্গ৷

‘কিন্তু কেন? বলা হয়, পুরুষ মানুষ পতিতালয়ে গিয়ে যখন বারাঙ্গনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়, তখন তিনি জীবনে সঞ্চিত সমস্ত পুণ্য সেখানেই ফেলে আসেন৷ আর সংগ্রহ করেন ঘড়া ভর্তি পাপ৷’

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চিরাচরিতভাবে মানুষ বিশ্বাস করেন যে, মানুষের মধ্যে যে কামনা, বাসনা, লালসার বাস... পতিতারা তা নিজেদের মধ্যে নিয়ে নেন। তাঁরা নিজেদের অশুদ্ধ, অপবিত্র করে সমাজকে শুদ্ধ রাখতে চান। পবিত্র রাখতে চান। ফলে হাজার হাজার পুরুষের পুণ্যে বেশ্যাদ্বারের মাটি হয়ে ওঠে পবিত্র৷

‘সে কারণেই এই মাটি দিয়ে গড়তে হয় দেবী মূর্তি৷ এই আচার থেকে বোঝানো হয় যে, নারী মায়ের জাতি। নারীর ঔরসেই পুরুষের জন্ম। নারীকে পতিতা বানায় পুরুষরাই। তাই ঐ পুরুষরাই অপবিত্র। মায়ের প্রতিমা তৈরীতে পতিতালয়ের মাটি দিতে হয় অর্থাৎ যাঁরা এই পরিস্থিতির শিকার তাঁদের সম্মান করতে হবে। নারী কখনও অপবিত্র হতে পারে না, এই ধারণাটিই লুকিয়ে থাকে এই রীতির আড়ালে৷’

দুর্গাপূজা উপলক্ষে #thesecondquestion হ্যাশট্যাগে পশ্চিমবাংলার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, যৌনকর্মীদের কাছ থেকে প্রতিবছর মাটি সংগ্রহ করে দুর্গা প্রতিমা গড়েন শিল্পী, তবে পূজার উৎসবে সেই যৌনকর্মীদের কোনো অংশগ্রহণ থাকে না।

ভিডিওতে এবারের পূজায় এক যৌনকর্মীর পরিবারকে অংশ নিতে প্রতিমা শিল্পীর আমন্ত্রণ জানানোর দৃশ্য রয়েছে। পূজার সার্বজনীনতাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এই ভিডিওতে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার যৌনকর্মীরা প্রতিবছর দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে মাটি দান করলেও পূজার উৎসবে এখনও তারা ‘নিষিদ্ধ’।

কলকাতার এক যৌনকর্মীর মেয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমি পঞ্চম শ্রেণিকে পড়ার সময় পর্যন্ত আমার মা যৌনপেশায় জড়িত ছিলেন। আমি দেখতাম যৌনকর্মীরা প্রতিমা গড়ার মাটি দান করার সময়ে পুরোহিতের কাছ থেকে কিছু মিষ্টি অথবা টাকা পেতেন। তবে তাদের কখনোই পূজার উৎসবে নিমন্ত্রণ করা হতো না।’

সার্বজনীন দুর্গোৎসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রতিবাদে কলকাতার যৌনকর্মীদের মাঝে প্রতিমার মাটির জোগান দেয়ার অনাগ্রহ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদ, পুরাণ বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি দাবি করছেন, দুর্গা প্রতিমায় যৌনকর্মীদের দান করা মাটি ব্যবহারের বিষয়ে ধর্মগ্রন্থে কিছু বলা নেই। বিশেষ প্রেক্ষাপটে এই চল অনেক পরে তৈরি করা হয়েছে।

‘নিষিদ্ধ’ নারীদের দেয়া মাটিও মিশে আছে দুর্গা প্রতিমায়

নৃসিংপ্রসাদ বলছেন, ‘জমিদারবাড়ির লোকেরা যখন পুজো শুরু করেন, তখন তাঁরাই তৈরি করেছেন। পুরানে এ রকম কোথাও নেই যে, যৌনপল্লির মাটি দিয়েই দুর্গাপুজো হবে।’

নৃসিংহপ্রসাদের কথায়, 'দুর্গাপুজো যেহেতু মহোৎসব, তাই ওই সময় সমাজে জাতিভেদ, অন্তজ শ্রেণি ইত্যাদি মনে রাখা হয় না। এটা হল সবচেয়ে বড় যুক্তি। যেমন, সমাজে নানা অস্পৃশ্যতা রয়েছে, ব্রাহ্মণ নিম্নজাতিকে ছোঁবে না, আবার ডোম যে মাদুর তৈরি করত, তার উপর পেতেই লোকে বসেছে। সে রকমই যৌনপল্লি থেকে মাটি এই কারণেই নিয়ে এসো, যাতে আমরা যৌনকর্মীদের ঘৃণা না করি। তাঁরাও তো সমাজের একপ্রকার উপকার করছেন।

‘চণ্ডীর মধ্যে একটা শ্লোক আছে, স্ত্রেয়ঃ সমৎসা সকলা জগৎসু। অর্থাৎ সব স্ত্রী-ই আমি, অন্য কেউ নেই। দেবী বলছেন, এই যে ব্রাহ্মবাদী ভক্তি, ব্যপ্তি, সর্বত্র তিনি-ই আছেন। তাই যৌনপল্লীর মাটি মিশিয়ে নেওয়া হয় দুর্গাপ্রতিমা তৈরির মাটির সঙ্গে।’

আরও পড়ুন:
অসুরের বদলে গান্ধী বধ, প্রতিমা ঘিরে বিতর্ক
কুমারী পূজার উৎসবমুখর আয়োজন
পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে মেয়রের নির্দেশ
দিনাজপুরে এবার কর্কশিটের দুর্গা
গুগল বদলে দিচ্ছে দুর্গার রূপ

মন্তব্য

কৃষি
Why is the Chhatra League reckless in Comilla University?

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বেপরোয়া ছাত্রলীগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বেপরোয়া ছাত্রলীগ গত শনিবার বিকেলে অস্ত্র হাতে মুখোমুখি অবস্থান নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। ফাইল ছবি: নিউজবাংলা
‘আমরা প্রথমে চিন্তা করেছি আমার কোনো শিক্ষার্থী যেন খুন না হয়, কোনো রক্তপাতের ঘটনা যেন না ঘটে। সে লক্ষ্যেই দ্রুত হল বন্ধ, পরীক্ষা বন্ধ করেছি। এতে করে কেউ যদি আমাদের দোষারোপ করে তাহলে বুঝতে হবে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সশস্ত্র মুখোমুখিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির ঘটনার রেশ ধরেই এই মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনাও ঘটেছে।

ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার এক জরুরি সভা শেষে আগামী ১০ থেকে ১৭ অক্টোবরের সব পরীক্ষা স্থগিত করে দেয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই ছাত্রদের এবং সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত হলগুলো বন্ধ থাকবে।

কেন এই অচলাবস্থা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে গত কয়েক দিনে বেশ কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক। তারা বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এমন অস্থিরতা নিয়ে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যেকোনো সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি দিতে পারেন, এমন খবর চাউর হয়েছে। খবর চাউরের পরই নিজেদের আধিপত্য জানান দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মনোযোগে আসতে চেষ্টা শুরু করেছেন ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ।

ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হত্যা মামলার আসামি ও ছাত্রত্ব নেই এমন পদপ্রত্যাশীদের। তাদের উদ্দেশ্য, যে করেই হোক আগামী কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেয়া।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়ার। কখনো প্রতিপক্ষের অনুসারীদের ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে মারধর করারও।

এসব অভিযোগ হত্যা মামলার আসামি বিপ্লব চন্দ্র দাস ও রেজা ই এলাহীর বিরুদ্ধে।

তাদের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং হল বন্ধ করে দেয়ার পরিস্থিতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কমপক্ষে ২০ শিক্ষার্থী।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বেপরোয়া ছাত্রলীগ

২০১৬ সালের ১ আগস্টের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে নিহত হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ।

ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি হত্যা মামলা করে। সে মামলায় ৫ দিন পর ৬ আগস্ট প্রধান আসামি ও মার্কেটিং চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী বিপ্লব চন্দ্র দাসকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বিপ্লব হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তবে তিনি এখন জামিনে মুক্ত।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জামিনে বেরিয়ে বিপ্লব আরও বেপরোয়া হয়েছেন। গত শনিবার মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেন বিপ্লবের অনুসারীরা, ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সামনে তাদের দেখা যায়।

বিপ্লবকে সমর্থন দিচ্ছেন কুবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা ই এলাহী। তিনি নিজেও কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার আসামি।

তার বিরুদ্ধে অটোরিকশাচালকসহ বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধতে পারে।

কী বলছেন গুলিতে নিহতের পরিবার

কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহর মা ফাতেমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ৬ বছরেও তার সন্তান হত্যার বিচার পাননি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের খুনিরা এখন ছাত্রলীগের পদ-পদবি চায়। এই বিপ্লব ও রেজা আমার ছেলের খুনের মামলার আসামি। বিপ্লব খুনের ঘটনা স্বীকারও করেছে। তারপরও কেন তাদের বিচার হচ্ছে না?’

তিনি আশঙ্কা করেন, আবারও তারা হত্যার রাজনীতি করবেন। তাই তাদের যেন কোনো পদ-পদবি না দেয়া হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের অনুরোধ করেন সাইফুল্লাহর মা ফাতেমা আক্তার।

যা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতারা

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাত্রলীগের সভাপতি রাফিউল আলম দীপ্ত বলেন, ‘সেদিন আমরা দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে হলে ঘুমাচ্ছিলাম। এ সময় আচমকা বহিরাগতরা এসে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোড়ে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বিকার দেখলাম না। ঘটনায় যারা জড়িত সবাই বিশ্ববদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র, তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অটো ও সিএনজি অটোরিকশার চালকদেরও দেখা যায়। যারা টাকার বিনিময়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বেপরোয়া ছাত্রলীগ

কাজী নজরুল ইসলাম হলের ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হাসান পলাশেরও একই প্রশ্ন, প্রধান ফটকে তালা মারা অবস্থায় বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশের সামনে দিয়ে অস্ত্র হাতে কীভাবে ককটেল বিস্ফোরণ করল, গুলি ছুড়ল।

তিনি এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ব্যর্থতা রয়েছে বলে জানান।

একই প্রশ্ন তুলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার সাকিবও। তার আশা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন ঘটনার সমাধান করবে। বহিরাগতদের প্রবেশ রুখে দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধই থাকে। কিন্তু শনিবার বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফটক খুলে দেয়া হয়। তারা ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আবার তা খুলে দেয়া হয়।

কারা এভাবে ফটক খুলে বহিরাগতদের অস্ত্রের মহড়া দিতে দিয়েছে, সেটি জানে না প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীকে বেশ কয়েকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, সেদিন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ছিল।

‘আমরা প্রথমে চিন্তা করেছি আমার কোনো শিক্ষার্থী যেন খুন না হয়, কোনো রক্তপাতের ঘটনা যেন না ঘটে। সে লক্ষ্যেই দ্রুত হল বন্ধ, পরীক্ষা বন্ধ করেছি। এতে করে কেউ যদি আমাদের দোষারোপ করে, তাহলে বুঝতে হবে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বেপরোয়া ছাত্রলীগ

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে- এমন প্রশ্নে ভিসি আবদুল মঈন বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হোক আর ক্লাস সবাইকে তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হবে। আমরা সিদ্ধান্তে অটল।’

অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, পুলিশ যদি অনড় থাকে এবং অস্ত্র উদ্ধার করে তাহলে ক্যাম্পাসে কেউ হট্টগোল করে বের হয়ে যেতে পারবে না।

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সম্ভব সব রকম কাজ করব। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় করতে হবে। বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে বন্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে ঘুরছে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ

মন্তব্য

p
উপরে