20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
বগুড়ায় বীজের আলুই নেই

বগুড়ায় বীজের আলুই নেই

চলতি মৌসুমে বীজ লাগবে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। মজুদ আছে ৬৫ হাজার। প্রতিদিন মজুদ কমছে ৪০০ থেকে ৫০০ টন। ফলে মৌসুমে ৩০ হাজার টন বীজের ঘাটতির আশঙ্কা।

চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত উৎপাদনের জেলা বগুড়া এবার আলুর ঘাটতিতে। যে পরিমাণ মজুদ আছে, তা বীজ হিসেবেই পর্যাপ্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে খাওয়ার আলুর জন্য অন্য জেলার দিকে তাকিয়ে বগুড়ার মানুষ।

খাওয়ার আলুর চেয়ে বড় আশঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে আগামী মৌসুমে বীজ হিসেবে পর্যাপ্ত আলু পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে।

চলতি বছর বগুড়ায় আলু চাষের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে বীজ লাগবে কমসে কম ৭৫ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু হিমাগারে মজুদ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।

আরও দুই সপ্তাহ পর আগাম আলুর বীজ রোপন হবে। নিয়মিত চাষাবাদ শুরু হবে আরও এক মাস পর।

প্রতিদিন বগুড়ায় আলুর চাহিদা কত, সে হিসাব নেই। তাই এক মাসে খাওয়ার আলু কত লাগবে, সেটা জানাতে পারছে না কেউ।

Bogura-potato

তবে প্রতিদিন চার থেকে ৫০০ মেট্রিক টন মজুদ কমছে, এটা নিশ্চিত করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছেন আলু।

ফলে এক মাসে যদি আরও ১৫ হাজার মেট্রিক টন আলু কমে যায়, তাহলে বীজের ঘাটতিই দাঁড়াবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন।

বগুড়ায় আলুর হিমাগার রয়েছে ৩৫টি। চলতি বছরের শুরুতে মজুদ ছিল দুই লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম ছিল প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা।

দাম বেড়ে যাওয়ায় হিমাগার মালিকরা বেশি করে আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন। বগুড়া ছাড়াও পাঠাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে।

উত্তরবঙ্গের সবজির সবচেয়ে বড় হাট মহাস্থানগড়ের আলু ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, ‘আলুর দাম বেশি হওয়ার কারণে হিমাগার থেকে প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণ আলু ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন। কোনটা বীজ আলু আর কোনটা খাবার, তা দেখার সময় নেই কারও।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, লোকসানের কারণে বগুড়ায় আলু উৎপাদনে চাষির আগ্রহ কমছে। গত অর্থবছরে বগুড়ায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি। তবে আবাদ হয় ৫৮ হাজার ২৩৫ হেক্টরে।

এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু বীজ সংকটে এবারও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

তবে এই হিসাব মানতে নারাজ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. দুলাল হোসেন। শনিবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগের হিসাবে বগুড়ার সব হিমাগার মিলে ৮০ হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু ছিল। এই বীজ দিয়ে বগুড়ার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। আর এর বাহিরে খাওয়ার আলু রয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টন।’

তবে গত ১৯ অক্টোবর দুলাল বলেছিলেন, ‘বগুড়ায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন আলুর বীজ লাগে। ঠিক এই পরিমাণ আলু এখন হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। খাওয়ার আলু নেই বললেই চলে। উল্লেখ করার মতো খাওয়ার আলু স্টোরে নেই।’



বগুড়ায় আলু সংরক্ষণের পরিসংখ্যান পাওয়া গেল জেলা বাজার বিপণন কর্মকর্তার তথ্যে। তিনি বলেন, ‘বগুড়ায় হিমাগারে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে কী পরিমাণ বীজ আছে, তা আমাদের জানা নেই। এর মধ্যে খাওয়ার আলু কতটুকু, তাও বলতে পারব না।’

এই কর্মকর্তা আরও জানান, জেলায় প্রতিদিন স্টোর থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন আলু বের করা হচ্ছে। এই চাহিদা বেড়েছে বাজারে আলুর দাম বেশি হওয়ার কারণে।’

নর্থ বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দাম বেশি হওয়ার অনেকেই আলু বিক্রি করছেন।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য