20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
পানপাতা পচা রোগে চাষিদের মাথায় হাত

পানপাতা পচা রোগে চাষিদের মাথায় হাত

‘অবশ্যই কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের কাছে যাবেন। তাদের সমস্যা শুনবেন। পানচাষিদের যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে তা দেয়া হবে।’

অপরিপক্ব পান পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এরপর পানটি ঝরে পড়ে। দিন পনের ধরে চলছে এমন ঘটনা। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন কুমিল্লার পান চাষিরা।

বুড়িচং উপজেলার বাগিলারা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, অপরিপক্ব সবুজ পানে হলুদের ছোপ। কোনো কোনো গাছে আবার ছোট অবস্থায় পান শুকিয়ে গেছে। চাষিরা জানিয়েছেন, তারা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না এখন কী করবেন। তারা বিপুল অঙ্কের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর জেলার চান্দিনা উপজেলায় ৫১ হেক্টর, দেবীদ্বারে ৫০ হেক্টর, মুরাদনগরে ৫ হেক্টর, বরুড়ায় ৩০ হেক্টর, বুড়িচংয়ে ১ হেক্টর ও ব্রাহ্মণপাড়ায় ১ হেক্টর মিলিয়ে ১৩৮ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। কুমিল্লায় পান চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৬৬০ জন চাষি।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বাগিলারা এলাকার পানচাষি প্রান্তোষ চন্দ্র পাল জানান, তিনি ৪০ শতক জমিতে পান চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন যেভাবে পান পচা শুরু হয়েছে, তাতে তিনি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিপুল অঙ্কের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

ময়নামতি ইউনিয়ন পরিষিদের (ইউপি) সদস্য আবুল হোসেন জানান, পানচাষ বাগিলারা এলাকার ঐতিহ্য। এ এলাকার পান ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়। এ বছর পানের বরজে মড়ক লেগেছে। তাই দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা।
pan-final-1

চান্দিনার হারং এলাকার চাষি প্রমোদ পাল জানান, বংশ পরম্পরায় তিনি পান চাষ করে আসছেন। তবে এ বছরের মতো পানের বরজে এমন মড়ক আর কখনো দেখেননি।

দেবীদ্বারের পানচাষি নিতাই হালদার। তিনি ১০০ শতক জমিতে পানচাষ করেছেন। কয়েক দিন ধরে পান পচে মাটিতে ঝরে পড়ছে। কী করবেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সুরজিত চন্দ্র দত্ত জানান, ‘আমরা পানচাষিদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে এখন যেহেতু শুনেছি, অবশ্যই কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের কাছে যাবেন। তাদের সমস্যা শুনবেন। পান চাষিদের যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে তা দেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য