× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

১৫ আগস্ট
I cant walk on the ground where Sheikh Saab sleeps
hear-news
player
print-icon

‘যে মাটিতে শেখ সাহেব ঘুমিয়ে, তাতে আমি জুতা পায়ে হাঁটতে পারি না’

যে-মাটিতে-শেখ-সাহেব-ঘুমিয়ে-তাতে-আমি-জুতা-পায়ে-হাঁটতে-পারি-না
৪৬ বছর ধরে জুতো পরেন না মুজিব পাগল এই বৃদ্ধ। ছবি: নিউজবাংলা
ইসহাক আলী শরীফের বাড়ি বরগুনার তালতলীর ছোটবগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামে বসে রেডিওর খবরে জানতে পারেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। তখন থেকে তিনি খালি পায়ে ও কালো কাপড়, কালো জামা পরে জীবনযাপন শুরু করেন। এভাবে চলছে ৪৬ বছর। বিনিময়ে কিছুই চাননি। শেষ জীবনে চাওয়া, বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করা।

এলাকায় পরিচিতি মুজিবপাগল হিসেবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনার পর থেকে ৪৬ বছর ধরে তিনি জুতা পরেন না, কালো পোশাক পরে থাকেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও খুনিদের প্রতি ঘৃণায় এভাবেই জীবন যাপন করে আসছেন ইসহাক আলী শরীফ।

তিনি মনে করেন, যে মাটিতে বঙ্গবন্ধু ঘুমিয়ে আছেন, সেই মাটিতে তার পক্ষে জুতা পরা সম্ভব না।

ইসহাক আলী শরীফের বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। নব্বইয়ের কোটায় এখন বয়স।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামে বসে রেডিওর খবরে জানতে পারেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।

স্বাক্ষরজ্ঞানহীন ইসহাক আলী শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। স্ত্রী-সন্তানকে রেখে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যান।

ততক্ষণে খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে তার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া নিয়ে সমাহিত করে। পরে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি আর চট্টগ্রামে ফিরে যাননি। গ্রামের বাড়িতে দিনমজুরি করে দিনাতিপাত করতে থাকেন।

ওই সময় থেকেই তিনি খালি পায়ে ও কালো কাপড়, কালো জামা পরে জীবনযাপন শুরু করেন। এভাবে চলছে ৪৬ বছর।

বিনিময়ে কিছুই চাননি। তার শেষ জীবনে চাওয়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করা।

ইসহাক জানান, ১৯৭০ সালে তিনি জাহাজভাঙা শ্রমিক হিসেবে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামে যান।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল তার অকৃত্রিম ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি ছিল তার অগাধ বিশ্বাস। দেশ স্বাধীনের পরে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমতলীতে আসেন। খবর পেয়ে ৩৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে তিনি সেখানে যান। কিন্তু ততক্ষণে বঙ্গবন্ধু আমতলী ছেড়ে চলে যান।

অল্প সময়ের জন্য বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার দেখা হয়নি। হাল ছাড়েননি তিনি। ওই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরগুনায় আসেন। খবর পেয়ে তিনি বরগুনায় ছুটে যান। কাছাকাছি যেতে না পারলেও দূর থেকে দেখে মনের ক্ষুধা মেটান।

চরপাড়া গ্রামের আব্দুল হক মৃধা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার খবর পেয়েই ইসহাক আলী শরীফ কালো লুঙ্গি, গায়ে কালো জামা এবং খালি পায়ে হাঁটছেন। গত ৪৬ বছরই তিনি এ পোশাক পরে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘কখনও তার সামনে শেখ সাহেবকে নিয়ে কেউ খারাপ মন্তব্য করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। এ রকম প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি ৩-৪ বার হামলারও শিকার হয়েছেন। সারা জীবন শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা ও জয় বাংলার স্লোগান দেয়ার কারণে এলাকার মানুষ তাকে মুজিবপাগল বলে ডাকেন।’

ইসহাক আলী বলেন, ‘যে মাটিতে নেতা শেখ সাহেব ঘুমিয়ে আছেন, সেই মাটিতে আমি জুতা পায়ে কখনও হাঁটতে পারি না। তাই শেখ সাহেবের মৃত্যুর পর আর জুতা পায়ে দেইনি। আমি শেখ সাহেবের শোক সইতে না পেরে কালো পোশাক পরে থাকি।’

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভালো লাগে না ইসহাকের। বলেন, ‘শেখ সাহেবকে আমরা রাজনৈতিক দল দিয়ে ভাগ করি। শেখ সাহেব কোনো দলের জন্য এ দেশ মুক্ত করেননি। তিনি বাংলার জনগণের জন্য মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। তাই শেখ সাহেবকে রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।’

বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখতে না পারার আক্ষেপ তার কন্যাকে দেখে মেটাতে চান ইসহাক আলী। বলেন, ‘শেখ হাসিনা ব্যস্ত মানুষ। যদি কখনো সময় দেন তা হলে মৃত্যুর আগে একবার হলেও দেখা করব। তবে তার কাছে আমার চাওয়ার কিছু নেই।’

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌফিকউজ্জামান তনু বলেন, ‘ইসহাক শরীফ গত ৪৬ বছর খালি পায়ে হেঁটে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু বিনিময়ে তিনি দলের কাছে কিছুই চাননি। এমন স্বার্থহীন ভালোবাসার মানুষ বর্তমানে বিরল।’

তনু বলেন, ‘ইসহাক আলী শরীফকে আমি সব সময়ই যথাসাধ্য সহায়তা করে আসছি। তিনি যেকোনো প্রয়োজনে আমার কাছে আসলে কখনোই ফিরিয়ে দিইনি।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু হত্যা: বরগুনায় বিদ্রোহের যে ঘটনা প্রচার পায়নি
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধু হত্যা: তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা খতিয়ে দেখার তাগিদ
নির্বাসনের দিনগুলো
শোক দিবস পালনে প্রস্তুত টুঙ্গিপাড়া

মন্তব্য

আরও পড়ুন

১৫ আগস্ট
Patia Boalkhali road is now in Pritilatas name

পটিয়া-বোয়ালখালী সড়ক এখন প্রীতিলতার নামে

পটিয়া-বোয়ালখালী সড়ক এখন প্রীতিলতার নামে চট্টগ্রামের পটিয়া-বোয়ালখালী সড়কের নাম এখন প্রীতিলতা সড়ক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দোহাজারী সড়ক বিভাগের অধীনে পটিয়া-বোয়ালখালী (কানুনগোপাড়া) ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ জেলা মহাসড়ক ‘প্রীতিলতা সড়ক’ নামে নামকরণ করা হলো।

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে বোয়ালখালী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার জেলা মহাসড়কের নাম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মী প্রীতিলতার নামে নামকরণ করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নতুন নামকরণের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দোহাজারী সড়ক বিভাগের অধীনে পটিয়া-বোয়ালখালী (কানুনগোপাড়া) ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ জেলা মহাসড়ক ‘প্রীতিলতা সড়ক’ নামে নামকরণ করা হলো।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।

প্রীতিলতার পুরো নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তার জন্ম ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামে। প্রীতিলতা মাস্টারদা সূর্যসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত সশস্ত্র সংগ্রামে প্রীতিলতাকে প্রথম আত্মোৎসর্গকারী নারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। পরে অবশ্য ঔপনিবেশিক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরের দিনই তিনি পটাশিয়াম সায়নাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

তাকে সম্মান জানাতেই সড়ক বিভাগ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানায়।

আরও পড়ুন:
টিজারে ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ রূপে দেখা দিলেন তিশা
কারামুক্তির পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসছেন পরীমনি
‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি ধর্ষকদের উৎসাহ দেয়’
প্রীতিলতা এবার নিজ শহর চট্টগ্রামে
‘প্রীতিলতার’ জন্য সব চেষ্টাই করছি: তিশা

মন্তব্য

১৫ আগস্ট
Most of the campaigners are involved in misdeeds Prime Minister

অপপ্রচারকারীদের বেশির ভাগই অপকর্মে জড়িত: প্রধানমন্ত্রী

অপপ্রচারকারীদের বেশির ভাগই অপকর্মে জড়িত: প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে শনিবার প্রবাসীদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
নিউ ইয়র্কে প্রবাসীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতার খুনিদের আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থ পাচারকারীসহ নানা অপরাধী এই অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগকেই অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অনেকে অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের কথায় কর্ণপাত করবেন না। বরং জনগণের সামনে আমাদের উন্নয়ন তুলে ধরুন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতার খুনিদের আত্মীয়স্বজন নানা অপপ্রচারে লিপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি এসব অপপ্রচারের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে সফররত প্রধানমন্ত্রী শনিবার নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতার খুনিদের আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থ পাচারকারীসহ নানা অপরাধী এই অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারের তাৎক্ষণিক উপযুক্ত জবাব দিন।

‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগকেই অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অনেকে অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের কথায় কর্ণপাত করবেন না, বরং আমাদের উন্নয়নকে জনগণের সামনে তুলে ধরুন।’

প্রবাসীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে আপনার এলাকার কংগ্রেসম্যান, সিনেটর ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবহিত করুন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন। বিএনপি-জামায়াত জোট ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাজেটের আকারের তুলনামূলক চিত্র দেখে তাদের দ্বারা কতটা উন্নয়ন হয়েছে তা বিচার করতে পারবেন।

‘বিএনপি আমলে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বাজেট ছিল ৬ লাখ কোটি টাকার ওপরে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে যে মর্যাদা ও সম্মান অর্জন করেছে, তা সমুন্নত রাখতে আপনাদের সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের তহবিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে। এই সেতু নির্মাণ প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ যা বলে তা করার ক্ষমতা রাখে।’

জলবায়ু পরিবর্তন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বে আসন্ন তীব্র খাদ্যসংকট সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করে সবাইকে আরও বেশি করে খাদ্য উৎপাদনের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটি প্রকট খাদ্যসংকট আসন্ন। তাই দেশে আপনাদের স্বজনকে বলুন- বিভাজনের কারণে দেশের কোনো জমিই অনাবাদি রাখা যাবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ এখন আর্থসামাজিকভাবে উন্নত হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট বারবার অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস ও হত্যার সংস্কৃতির আশ্রয় নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ কখনই তাদের কর্মকাণ্ডে সাড়া দেয় না। কারণ তারা হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত।’

সংকটকালীন দেশের পাশে থেকে প্রবাসীদের নিজ দেশে আরও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন:
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ে সম্মত বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া
দেশে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
প্রত্যাবর্তনই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান: প্রধানমন্ত্রী
লাখো প্রাণহানি ঘটাতে পারে এএমআর: শেখ হাসিনা
বৈশ্বিক আর্থিক-বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

১৫ আগস্ট
Disqualification of candidature if other is obstructed EC

অন্যকে বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি

অন্যকে বাধা দিলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন। ছবি: নিউজবাংলা
ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে এবং তার সত্যতা পেলে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আছে।’

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করা হলে বা বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ না এলে কীভাবে ব্যবস্থা নেব? সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে তো অভিযোগ করতে হবে কিংবা গণমাধ্যমে বিষয়টি এলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’

একজন প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পেপার কাটিং পেয়েছি, এই যে দেখলাম। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।’

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ, এখন আর কী ব্যবস্থা নেবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে এবং তার সত্যতা পেলে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আমাদের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আছে।’

সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জনশুমারির প্রাথমিক তথ্য নিয়ে আলোচনা করছি, চূড়ান্ত তথ্য পাইনি। চূড়ান্ত তথ্য পেলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ফেলব। নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। জনশুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে বসব। কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনিক পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে বসতে হবে।

‘আমরা জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এ কাজটা করি। ওই সফটওয়্যারটা পুরোনো হয়ে গেছে, এটা আবার নতুন করে করতে হবে। আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় করে দিয়েছিল, ওরাই আবার করে দেবে।’

আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। রোববার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৬ সেপ্টেম্বর হবে প্রতীক বরাদ্দ।

দেশের ৬১ জেলা পরিষদের নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে ১৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ১ হাজার ৯৮০ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৫০ জন প্রার্থী আছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন অন্তত ২২ জন চেয়ারম্যান ও দুজন সাধারণ সদস্য।

আরও পড়ুন:
৩৩ বছরেও হয়নি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২২ জন
জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ

মন্তব্য

১৫ আগস্ট
112 Additional District Judges have been promoted

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ হলেন ১১২ জন

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ হলেন ১১২ জন
রাষ্ট্রপতির আদেশে রোববার আইন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্বরত ১১২ জন যুগ্ম জেলা জজকে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার।

রাষ্ট্রপতির আদেশে রোববার আইন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্নবর্ণিত বিচারকদের বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৬-এর বেতন স্কেলের দ্বিতীয় গ্রেডে ৬২৩৫০-৭৫৮৮০ বেতনক্রমে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদ হতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি দিয়ে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত নতুন কর্মস্থলে নিয়োগ/বদলি করা হলো।

পদোন্নতি পাওয়া বিচারকদের জেলা ও দায়রা জজ/মহানগর দায়রা জজ/চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/দপ্তর প্রধান মনোনীত বিচারকের কাছে প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষে বর্তমান পদের দায়িত্ব নিয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মস্থলে অবিলম্বে যোগ দিতে হবে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যোগ দিতে প্রজ্ঞাপনে অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য

১৫ আগস্ট
Prime Minister mourns the loss of life in boat sinking in Karatoya

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির পর স্থানীয়দের উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী এক শোক বার্তায় নৌকাডুবিতে প্রাণ হারানোদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী এক শোক বার্তায় নৌকাডুবিতে প্রাণ হারানোদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রসঙ্গত, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের বেশিরভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু

মন্তব্য

১৫ আগস্ট
Sonali Bank will provide loans for wheat and corn cultivation

গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র সই করেছে সোনালী ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেবে। অংশগ্রহণ চুক্তি করা ব্যাংকগুলো চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেবে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করবে।

গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়াতে এ দুই খাতে ঋণ দেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।

চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত ১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র সই করেছে সোনালী ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে তহবিলের চুক্তিতে সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফজাল করিম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কৃষি ঋণ বিভাগের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ সই করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ ও জেনারেল ম্যানেজার মো. নূরুন নবী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগের উপপরিচালক মার্জিয়া আক্তার ও যুগ্ম পরিচালক মো. হাসান চিশতী।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেবে। অংশগ্রহণ চুক্তি করা ব্যাংকগুলো চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেবে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করবে।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গম ও ভুট্টা চাষের উপযোগী অঞ্চলগুলোতে বিতরণে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান-সিইওর শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সোনালী ব্যাংক চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা
জিয়াউল হাসান আবারও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

মন্তব্য

১৫ আগস্ট
Role of rich countries in climate issue is sad PM

জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর ভূমিকা দুঃখজনক: প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর ভূমিকা দুঃখজনক: প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে এক হোটেলে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জলবায়ু ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: এএফপি
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা ধনী ও উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব। তাদেরই এই ইস্যুতে এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু আমরা তাদের দিক থেকে সে ধরনের কোনো সাড়া পাচ্ছি না। এটাই দুঃখজনক। আমি জানি, ধনী দেশগুলো আরও ধনী হতে চায়। তারা অন্যদের নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়।’

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতাকে দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু খাতে কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী দেশগুলো জোরালো বক্তব্য দিলেও পরিস্থিতির গুরুত্বের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম সংগতিপূর্ণ নয়।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ফাঁকে এক হোটেলে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ধনী দেশগুলোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা শুধু কথা বলে, কিন্তু কাজ করে না। অথচ তারাই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।’

বার্তা সংস্থা বাসস শনিবার এ খবর জানায়।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা ধনী ও উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব। তাদেরই এই ইস্যুতে এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু আমরা তাদের দিক থেকে সে ধরনের কোনো সাড়া পাচ্ছি না। এটাই দুঃখজনক।

‘আমি জানি, ধনী দেশগুলো আরও ধনী হতে চায়। তারা অন্যদের নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সংযোজন করে এএফপি মন্তব্য করেছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ঘন জনবসতিপূর্ণ ডেল্টা ও নিম্নাঞ্চলীয় বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

‘বাংলাদেশ পৃথিবীকে উষ্ণায়নের জন্য দায়ী খুবই সামান্য পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে।’

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করে টিকে থাকার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার মতে, ওই বছর বেসরকারি মাধ্যমসহ ৮৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থাটি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, নভেম্বরে মিসরে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনটি সবচেয়ে বড় যে সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে তা হলো- ধনী দেশগুলোকে অভিযোজন ও প্রশমন ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্যও অর্থ দিতে হবে কি না।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই যে তহবিলটি আরও বৃদ্ধি পাক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি না।’

এএফপি জানিয়েছে যে ধনী দেশগুলো ২০২৪ সাল পর্যন্ত শুধু ক্ষয়ক্ষতির ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সম্মত হয়েছে।

এ বছর ইউএনজিএ জলবায়ু সুবিচারের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া ছোট্ট দেশ ভানুয়াতুর নেতা জীবাস্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের ভয়াবহ বন্যায় তার দেশের এক-তৃতীয়াংশ প্লাবিত হয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

রোহিঙ্গা প্রশ্নে এএফপি মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশ পশ্চিমের যে নিষ্ক্রিয়তা দেখছে তাতে জলবায়ুই একমাত্র ইস্যু নয়; রোহিঙ্গা সংকট আরেকটি বড় সমস্যা- করোনার প্রাদুর্ভাব ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যেখান থেকে ধনী দেশগুলোর মনোযোগ সরে গেছে।

আরও বলা হয়েছে, প্রতিবেশী মিয়ানমারে ২০১৭ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নির্মম অভিযানের কারণে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছিল।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘সহিংসতার কারণে পালিয়ে আসা এর আগের এক লাখসহ এসব রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বিশ্ব বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি ও বর্তমানে চলা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় সেখান থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরে গেছে।

‘যতক্ষণ তারা আমাদের দেশে আছে, আমরা মনে করি এটি আমাদের দায়িত্ব’- এমনটা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশি আশ্রয়দাতাদের ধৈর্য ক্ষীণ হয়ে আসছে।’

এএফপিও স্মরণ করেছে- জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট এই বছরের আগস্টে এক সফরে মন্তব্য করেছিলেন যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব বাড়ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণকে যথেষ্ট ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আমি বলব না যে তারা ক্ষুব্ধ, তবে তারা অস্বস্তি বোধ করছে। সব বোঝা আমাদের ওপর এসে পড়ছে। এটাই সমস্যা।’

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই মুসলিম, যারা বাস করছে ত্রিপল, টিন ও বাঁশের তৈরি ছাউনি ঘরে।

ব্যাচেলেট তার সফরকালে বলেছিলেন, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেনাশাসিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কোনো সম্ভাবনা নেই, যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

কিন্তু সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আভাস দেন, ক্যাম্পে বসবাসের বাইরে রোহিঙ্গাদের অল্প কিছু বিকল্প আছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের খোলা জায়গা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ তা তাদের নিজের দেশেই রয়েছে। তারা সেখানে ফিরে যেতে চায়। আর এটাই সবার মূল অগ্রাধিকার।

‘কেউ যদি তাদের নিতে চায়, তারা নিতে পারে’- এ কথাও যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
লাখো প্রাণহানি ঘটাতে পারে এএমআর: শেখ হাসিনা
বৈশ্বিক আর্থিক-বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর
বাইডেনের সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বেই গৃহহীন মানুষ চান না প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে