সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হতে চান?

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হতে চান?

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনাকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বেশ কয়েক ধরনের কাজে। এর মধ্যে পেনিট্রেশন টেস্টার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (সিআইএসও), সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, ইনসিডেন্ট রেসপন্ডার, সিকিউরিটি সফটওয়্যার ডেভেলপার, সিকিউরিটি অডিটর, সিকিউরিটি কনসালটেন্টসহ আরও অনেক পদ।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বেড়েছে ইন্টারনেট বা সাইবার নির্ভরতা। এ সময় তাই বেড়েছে অনলাইন অপরাধীর সংখ্যা। অনলাইন বা সাইবার স্পেসকে নিরাপদ করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেড়েছে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগও।

বর্তমান সময়ে পেশা হিসেবে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ আপনাকে করে তুলতে পারে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। অবশ্য ভিন্ন পেশার জন্য আপনাকে অবশ্যই দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। কীভাবে সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতা অর্জন, এই খাতে পেশা গড়ার আদ্যোপান্ত নিয়েই এই আয়োজন।

কেন বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা

বেশি নয়, বছর দুয়েক আগের ইন্টারনেট দুনিয়ার সঙ্গে এখনকার পার্থক্য খোঁজার চেষ্টা করুন। ইন্টারনেট দুনিয়ার খোঁজ যারা রাখেন তারা জানেন, র‍্যানসামওয়্যারের আক্রমণ কতটা বেড়েছে। ওয়ানাক্রাই, পেতায়সহ কয়েকটি ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে সারা বিশ্ব থেকে হ্যাকাররা বিপুর পরিমাণ ডেটা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রাহকদের ডেটা সুরক্ষা দিতে ও কোম্পানির নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ইন্ডাস্ট্রি এখন সাইবার বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিচ্ছে।

যেসব পদে নিয়োগ হয়

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনাকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বেশ কয়েক ধরনের কাজে। এর মধ্যে পেনিট্রেশন টেস্টার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (সিআইএসও), সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, ইনসিডেন্ট রেসপন্ডার, সিকিউরিটি সফটওয়্যার ডেভেলপার, সিকিউরিটি অডিটর, সিকিউরিটি কনসালটেন্টসহ আরও অনেক পদ।

কতটা দক্ষতা প্রয়োজন

দক্ষতার বিষয়টি নির্ভর করে আপনার পদ বা পদবির ওপর। সেখানে মূলে থাকে প্রতিষ্ঠানের চাহিদা। তবে সাধারণভাবে একজনকে পেনিট্রেশন টেস্টিং, রিস্ক অ্যানালিসিস এবং সিকিউরিটি অ্যাসেসমেন্ট সম্পর্কে ভালো জানাশোনা থাকতে হবে।

তার থাকতে হবে সার্টিফাইড ইন রিস্ক অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম কন্ট্রোল বা সিআরআইএসসি, সার্টিফাইড ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজার (সিআইএসএম) এবং সার্টিফাইড ইনফরমেশন সিস্টেম সিকিউরিটি প্রফেশনাল (সিআইএসএসপি) সনদ।

যারা নিয়োগ দেয়

বিশ্বে এখন সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে খুবই সতর্ক। কারণ, সবাই চায় নিজেদের এবং গ্রাহকদের ডেটার সুরক্ষা দিতে।

গত কয়েক বছরের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সাইবার বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে অ্যাপল, লকহেড মার্টিন, জেনারেল মটরস, ক্যাপিটাল ওয়ান এবং সিসকো।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস মহামারিতে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা খাত। এ খাতে এখন গুরুত্ব সর্বাধিক। পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও সাইবার সিকিউরিটির চাহিদা বাড়ছে। ফলে এই খাতগুলোতে সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষদের জন্য চাকরির বাজার তৈরি হচ্ছে।

বেতন কত

সাইবার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের বেতন-ভাতা নির্ভর করে তার পজিশনের ওপর। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে মাঝারি মানের একজন কর্মীর বেতন হয় বছরে এক লাখ মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসস্টিক জানাচ্ছে, মধ্যম সারির সিআইএসও (CISO) পজিশনের একজনের বার্ষিক বেতন হয় গড়ে ২ লাখ ২২ হাজার ডলার। এটা অবশ্য দেশভেদে কম-বেশি হয়। এমনকি নিউইয়র্ক ও সান ফ্যান্সিসকোতে এই বেতন আরও বেশি হয়।

ইন্টারভিউয়ে মুখোমুখি

পোস্ট এবং আপনার অবস্থান থেকেই প্রশ্ন করবেন ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি এই খাতে নতুন হন, তাহলে মুখোমুখি হতে হবে টেকনিক্যাল প্রশ্নের।

আপনি বিষটিতে কতটা দক্ষ সেটিই বোঝার চেষ্টা করবেন তারা। অন্যদিকে আপনি যদি আরও পরিপক্ব বা অভিজ্ঞ হন তাহলে প্রশ্নের ধরন বদলে যাবে। তখন টেকনিক্যালের চেয়ে বেশি লিডারশিপ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন।

দক্ষতার জন্য রিসোর্স পাবেন অনলাইনে

সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে দক্ষতা চাইলে অবশ্যই আপনাকে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নজর দিতে হবে। তাই আপনার দক্ষতার জন্য রিসোর্স পেতে দেশীয় কিছু সাইটে ঢুঁ মারতে পারেন। আর আন্তর্জাতিকভাবে আপনি আইএসএসিএ (ISACA), আইএসসি২ (ISC2), আইএসএসএ (ISSA) এবং দ্য সসান্স ইনস্টিটিউটের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে রিসোর্স পাবেন। এখন অবশ্য দেশে ও বিদেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে পড়াশোনা করাচ্ছে। অনলাইনেও সাইবার সিকিরিউরিটি নিয়ে বিনা মূল্যের ও পেইড কোর্স পাবেন। সেখান থেকে সাইবার নিরাপত্তায় কিছু ডিগ্রিও পেতে পারেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তারুণ্যের প্ল্যাটফর্ম হতে চায় কিউকম

তারুণ্যের প্ল্যাটফর্ম হতে চায় কিউকম

কিউকম ডটকমের সিইও রিপন মিয়া। ছবি; সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠানটির সিইও রিপন মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, পাঁচ মাসের এই পথচলায় দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নানা স্বীকৃতি পেয়েছে কিউকম। প্রতিষ্ঠানটি এখন ২১ দিনে তাদের পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছে।

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সময়ে কম মূল্যে, মানসম্মত পণ্য, অল্প সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে কাজ করছে কিউকম ডটকম। প্ল্যাটফর্মটি দেশের তরুণদের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে কাজ করছে কিউকম।

প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের ই-কমার্সগুলোর মধ্যে তারাই সেরা ক্যাম্পেইন উপহার দিয়ে সবার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে চায়।

এ জন্য ‘বিগ বিলিয়ন রিটার্নস’ নামের ক্যাম্পেইন দিয়ে দরকারি সব পণ্যে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।

এসব পণ্যের তালিকায় আছে বাইক, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফোন, সবজি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। প্রকারের হিসাবে লক্ষাধিক পণ্য রয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে।

প্রতিষ্ঠানটির সিইও রিপন মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, পাঁচ মাসের এই পথচলায় দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নানান স্বীকৃতি পেয়েছে কিউকম। প্রতিষ্ঠানটি এখন ২১ দিনে তাদের পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছে।

রিপন জানান, তারা দেশের তরুণদের আস্থায় পরিণত হতে চান। এ জন্য তারা চান প্রতিশ্রুতিশীল অনলাইন মার্কেটপ্লেস হতে।

ভিন্নধর্মী বাণিজ্যিক কৌশলের পাশাপাশি সমস্যা সমাধানকারী নানা উদ্যোগের কারণে এরই মধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে কিউকম।

সিইও রিপন মিয়া বলেন, ‘অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ অভ্যস্ত হয়েছে, যেটা আগে ছিল না। আগে অনলাইনে ১ লাখ টাকার পণ্য কেনার সাহস পেত না, কিন্তু এখন অনেকে অনলাইনে কেনাকাটা করছে। সারা বিশ্ব এভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর হবে।’

কিউকমের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের প্রিয় ব্রান্ডে পরিণত হতে চাই। আমাদের ভিশন দ্রুততম সময়ে ডেলিভারি সার্ভিস দিয়ে মানুষকে সর্বোত্তম সেবা দেয়া।

‘কিউকম বিশ্বাস করে তরুণদের সঙ্গে যেমন তাল মেলাতে হবে, আস্থা তৈরি করতে হবে সারা দেশে।’

বাংলাদেশের ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ খুব ভালো মন্তব্য করে রিপন বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির আগেও ই-কমার্স ছিল। সে সময় এতটা জনপ্রিয় ছিল না। যেটা এখন খুব বেড়েছে।’

‘মহামারিতে সব জায়গায় কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। কিন্তু ই-কমার্সে এই সময়েই সাড়ে ৩ লাখ কর্মীর নতুন করে কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছি।’

কিউকম ডটকম ই-কমার্স মুভারস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে এ বছর। ‘বেস্ট প্রমিজিং ই-কমার্স’ ক্যাটাগরিতে অর্জন করেছে চ্যানেল আই ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড।

ই-কমার্সের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই বড় করে আসবে নারীদের রাইড শেয়ারিং পিকমি নিয়ে। যেখানে নারীরাও রাইড শেয়ার করতে পারবেন।

সেই সঙ্গে ‘পিকমি এক্সপ্রেস’ নামে লজিস্টিকস কোম্পানিও এনেছে তারা। এর মাধ্যমে কিউকম ডটকমের পুরো ডেলিভারি সাপোর্ট সারা দেশে দেয়া হয়। সঙ্গে অন্য উদ্যোক্তাদেরও সেবা দেয়া হচ্ছে।

ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদেরও বড় ধরনের সাপোর্ট দিচ্ছে কিউকম। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিন হাজার উদ্যোক্তার প্রতিনিয়ত লজিস্টিকস সেবাদান করছে বলে জানান রিপন।

রিপন তার স্বপ্ন নিয়ে বলেন, সকল সেরা রেস্টুরেন্টকে জনমানুষের কাছে আনতে সামনে আসছে কিউফুড। অসংখ্য প্রবাসীর অর্ডার পড়ে কিউকমে, সম্ভব হলে নিজেও ডেলিভারি টিমকে সহযোগিতা করতে নেমে পড়েন কাজে।

কিউকমের বিজনেস কমিউনিকেশন প্রধান হুমায়ন কবির বলেন, ‘আমরা চাই কেউ যেন সুবিধার নামে গরিব মানুষকে ঠকাতে না পারে, প্রান্তিক ক্রেতা যেন সকল সুবিধা পায় সে জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা।’

শেয়ার করুন

লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

সাভারের আমিনবাজার এলাকায় রহমতউল্লাহর সঙ্গে তার পোষা বিড়াল পিকো। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পিকোকে নিয়ে বাড়ি যাবেন বলে এই খাঁচাটা বানিয়েছেন রহমত। পথে তার যেন কষ্ট না হয়, সে জন্য খাঁচাটি একটু বড়সড় করেই তৈরি করা হয়েছে। আর রোদ যেন না লাগে সে জন্য খাঁচার ওপরে দেয়া আছে কাপড়ের একটি ছাউনি। আর পিকোর বসার জন্য কয়েক স্তরে মখমলের কাপড়ের বিছানা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করতে চারপাশের চার জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার দিন নিজ জেলা মানিকগঞ্জ যেতে উদগ্রীব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রহমতউল্লাহ।

রহমত থাকেন পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জে। সকালেই ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জমুখী বাস বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি চলে আসেন গাবতলীতে। আশায় ছিলেন, একটা না একটা গাড়ি পেয়েই যাবেন।

তবে ছিল না কোনো বাহন। পরে শুরু করেন হাঁটা। আমিনবাজার বা সাভারের দিকে এগিয়ে গেলে একটা না একটা উপায় হবে- এই বিশ্বাস মনে।

হাঁটছেন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে রহমতউল্লাহ দৃষ্টি কেড়ে নেন তার সঙ্গীর কারণে।

পিঠে ব্যাগ আর হাতে লোহার খাঁচায় রহমতের সঙ্গী পিকো।

পিকো একটি বিড়াল। রহমতের খুব আদরের।

৯ দিনের জন্য ঢাকাকে অবরুদ্ধ করে মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই কয়টা দিন বাড়িতেই কাটাতে চান রহমত। আর আদরের পোষা প্রাণীটিকে রেখে একা যেতে চাইছিলেন না তিনি। তাই তাকে নিয়েই ছুটে চলা।

লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

পিকোকে নিয়ে বাড়ি যাবেন বলে এই খাঁচাটা বানিয়েছেন রহমত। পথে তার যেন কষ্ট না হয়, সে জন্য খাঁচাটি একটু বড়সড় করেই তৈরি করা হয়েছে। আর রোদ যেন না লাগে সে জন্য খাঁচার ওপরে দেয়া আছে কাপড়ের একটি ছাউনি। আর পিকোর বসার জন্য কয়েক স্তরে মখমলের কাপড়ের বিছানা।

বিড়ালের নাম কী- এমন প্রশ্ন শুনেই আপত্তি করেন রহমত।

বলেন, ‘এইডার নাম বিড়াল না, এইডা আমার পিকো। পিকোকে ঢাকায় কার কাছে রাইহা যাব? জন্মের পর আমার কাছে বড় হইছে। পিকোর মা কয়ডা দিন ছিল, পরে একদিন আর দেহা নাই।’

লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

ছোটবেলায় প্রথমে গরুর দুধ, পরে পাউডারের দুধ খাইয়ে বড় করেছেন পিকোকে। বেশ যত্ন যে নেন, সেটি দেখলেই বোঝা যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণীটির গলায় বেশ যত্ন করে একটি ঘণ্টা বেঁধে দিয়েছেন।

আরও বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল রহমতের কাছে। তবে তিনি হাঁটতে হাঁটতে আর কথা চালিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। এর মধ্যে আবার তার মোবাইল ফোনে আসে কল। আকাশেও মেঘের ঘনঘটা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও শুরু হয়। তাই কথা না বাড়িয়ে রহমতের চেষ্টা ছিল পিকোকে বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর।

শেয়ার করুন

‘আগামী বছর প্রাথমিকের পাঠ্যতে যুক্ত হবে প্রোগ্রামিং’

‘আগামী বছর প্রাথমিকের পাঠ্যতে যুক্ত হবে প্রোগ্রামিং’

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সমাপনীতে বক্তব্য দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় দেশের সব জেলা ও ৪৪৪ উপজেলা থেকে ১১ হাজার ৬৯৩ শিক্ষার্থী চার ঘণ্টাব্যাপী প্রোগ্রামিং এবং আধা ঘণ্টাব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থীই মেয়ে।

মাধ্যমিকে এরই মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক পাঠ্যসূচি থাকলেও এবার প্রাথমিকে প্রোগ্রামিংকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা- এনএইচএসপিসির জাতীয় পর্বের চলতি বছরের সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন কথা বলেন।

পলক বলেন, ‘আমরা শিশু-কিশোরদের মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের মাটি থেকে স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে পারব। এমনকি ২০৪১ সালের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।

‘ডিজিটাল বিশ্বে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমাদের দেশের তরুণদের তৈরি করতে আবশ্যিকভাবে প্রোগ্রামিং শেখাতে হবে।’

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বিষয়কে আবশ্যিক করেছে। ফলে আমাদের যে শিক্ষার্থীরা আইসিটি পড়ে এসেছে, তারা আইসিটি বিষয়ে উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।’

পলক বলেন, ‘বুয়েট থেকে ভাষাগুরু নামের ভাষা শেখার সফটওয়্যারে ৯টা ভাষা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু শুধু প্রযুক্তির ভাষা শিখলে আমরা সব ভাষায় যোগাযোগ করতে পারব। প্রাইমারি থেকে প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য ২০২২ সালে যে বই শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে, সেখানে প্রোগ্রামিংকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।’

‘জানুক সবাই দেখাও তুমি’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রোগ্রামিং সংস্কৃতি চালুর লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে অনলাইনেই আয়োজিত হয় এবারের প্রতিযোগিতা।

সারা দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনলাইন প্রস্তুতি প্রতিযোগিতা, অনলাইন মহড়া প্রতিযোগিতা ও অনলাইন ন্যাশনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় দেশের সব জেলা ও ৪৪৪ উপজেলা থেকে ১১ হাজার ৬৯৩ শিক্ষার্থী চার ঘণ্টাব্যাপী প্রোগ্রামিং এবং আধা ঘণ্টাব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থীই মেয়ে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় এ বছর জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন দেবজ্যোতি দাশ সৌম্য (জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট)।

প্রথম রানার আপ কাজী নাদিদ হোসেইন (খুলনা জিলা স্কুল) এবং দ্বিতীয় রানার আপ শ্রেয়াস লাবিব অরিয়ন (এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা)।

সিনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন যারিফ রহমান (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, রাজশাহী)। প্রথম রানার আপ মামনুন সিয়াম (চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম) এবং দ্বিতীয় রানার আপ নাফিস উল হক সিফাত (হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম)।

এ ছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতার জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে যথাক্রমে চ্যাম্পিয়ন মাহির তাজওয়ার (সেন্ট যোসেফস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা )।

প্রথম রানার আপ নিতীশ সরকার সোম (লৌহজং মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সিগঞ্জ) এবং দ্বিতীয় রানার আপ সামিরা তাসনিম (সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা)।

সিনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে যথাক্রমে চ্যাম্পিয়ন নাহিয়ান ইয়াজদান রাহমান (সানবিমস, ঢাকা)। প্রথম রানার আপ ধ্রুব মণ্ডল (বরিশাল জেলা স্কুল, বরিশাল) এবং দ্বিতীয় রানার আপ শ্রেয়া চক্রবর্তী (মুমিনুন্নিসা সরকার মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ)।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ এনামুল কবির, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

বিজয়ীদের মধ্য থেকে প্রোগ্রামিংয়ের দুই ক্যাটাগরির সেরা তিনজনকে ল্যাপটপ এবং কুইজে দুই ক্যাটাগরির সেরা তিনজনকে স্মার্টফোন উপহার দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মেরিন একাডেমির ক্যাডেট মানেই অবিচ্ছিন্ন বন্ধন

মেরিন একাডেমির ক্যাডেট মানেই অবিচ্ছিন্ন বন্ধন

মায়ের সঙ্গে লেখক।

আমার দুই বছরের একাডেমিক জীবনে মাত্র এক বছর করে সিনিয়র-জুনিয়রদের পেয়েছি। কেবল ইমিডিয়েট সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে নয়, একাডেমির প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের এত আন্তরিক সম্পর্ক যা সাধারণত দেখা যায় না। শুধু বললেই হলো, আমি একাডেমি ক্যাডেট, ব্যাস!

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে চান্স পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এইচএসসি পাস করার পরে কোথায় ভর্তি হব, না হব ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বড়দা’র সঙ্গে যখন আলোচনা করছিলাম তখন বড়দা বলল, ‘যাই করিস না কেন, আমার মতো ডাক্তার হবি না! আমি তোকে ডাক্তার হতে বললে পরে আজীবন আমাকে গালি দিবি যে, জেনেশুনে কেন তোকে মেডিক্যালে ভর্তি হতে বললাম!’

আমি বললাম, ‘তাহলে আর্মিতে ট্রাই করি?’

তাতেও তার খুব একটা আগ্রহ দেখা গেল না। এরপর মেরিনার হওয়ার কথা বলতেই বলল, ‘এটা তো খারাপ না, ট্রাই করতে পারিস। দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াবি, ছয় মাস পর পর ছুটিতে আসবি।’

সব ভেবে শেষমেশ মেরিনার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সত্যি বলতে মেরিন/মেরিনারদের সম্পর্কে স্বচ্ছ কোনো ধারণাই ছিল না একাডেমিতে ভর্তির আগ পর্যন্ত!

আমার দুই বছরের একাডেমিক জীবনে মাত্র এক বছর করে সিনিয়র-জুনিয়রদের পেয়েছি। অর্থাৎ আমি ৪৭তম ব্যাচের ক্যাডেট, ৪৬তম ব্যাচের স্যারদের সঙ্গে এক বছর আর ৪৮তম ব্যাচের জুনিয়রদের সঙ্গে এক বছর কাটিয়েছি।

এর মধ্যে নানা ধরনের ছুটিও ছিল, কিন্তু এত অল্প সময়ে এত গভীর সম্পর্ক আমাদের মাঝে গড়ে উঠেছে যেটা অবিশ্বাস্য!

কেবল ইমিডিয়েট সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে নয়, একাডেমির প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের এত আন্তরিক সম্পর্ক যা সাধারণত দেখা যায় না। শুধু বললেই হলো, আমি একাডেমি ক্যাডেট, ব্যাস!

পাসিং আউটের পর একাডেমি, একাডেমির সিনিয়র-জুনিয়র কী জিনিস তা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি। আমি ক্যাডেট হিসেবে জাহাজে জয়েন করার সুযোগ পাই ২৫তম ব্যাচের এক স্যারের মাধ্যমে।

স্যার আমাকে উনার ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে ২৬তম ব্যাচের আরেক স্যারের অফিসে পাঠিয়েছিলেন আমার জয়েনিংয়ের ব্যাপারে। পরে সেই স্যারের অনুরোধে আমি জাহাজে জয়েন করেছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে একটানা ১৫ মাস ১৪ দিন ক্যাডেট হিসেবে ছিলাম!

আমি পাসিং আউটের সাত মাস পর জাহাজে জয়েন করি। এই সাতটি মাস যে কীভাবে কেটেছিল সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। একদিকে আব্বার ডায়ালাইসিসের মাত্রাতিরিক্ত খরচ, অন্যদিকে আমি বেকার বসে আছি।

আমার দেখা আমাদের পরিবারের সবচেয়ে সংকটময় সময় ছিল সেটা। খুব আশা ছিল প্রথম ইনকামের টাকা আব্বার হাতে তুলে দেব, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে আশা পূরণের সুযোগ পাইনি।

সেই সাত মাসের দুঃসহ সময়ে আমাকে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দিয়েছিলেন ১৫তম ব্যাচের এক স্যার। আমি হতাশায় নির্ঘুম থেকে রাত ২/৩টায় মেসেজ দিয়ে দেখতাম ভোর ৬টায় স্যার রিপ্লাই দিয়েছেন! স্যারকে সময় অসময়ে মেসেজের পর মেসেজ দিয়েছি কিন্তু কখনও বিরক্ত হননি।

বড়দা বলতেন, ‘একমাত্র তোদের প্রফেশনেই হয়ত এমন মানুষ হয়। আমাদের কোনো সিনিয়র মেসেজ/মেইল পড়েও দেখেন না, রিপ্লাই তো দূরের কথা!’

সেই স্যার অনেকভাবে অনেকবার তার সিনিয়র, ব্যাচমেটকে বলেছিলেন আমার জবের জন্য, কিন্তু উপযুক্ত সুযোগের অভাবে জয়েনিং হয়নি। তবে স্যারের আন্তরিকতার এতটুকু কমতি ছিল না।

পাসিং আউটের পর থেকে এই আট বছরে কতভাবে যে কত সিনিয়র স্যারের সাহায্য পেয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। কয়েকটা ঘটনা বলি...

১০তম ব্যাচের এক স্যার সিংগাপুর থাকেন। ঢাকায় উনার ব্যবসা আছে। স্যার সিংগাপুর থেকে ফোন করে আমাকে বলেছিলেন, আমি চাইলে আপাতত জয়েন করতে পারি তার ঢাকা অফিসে। এরপর জাহাজে জয়েনিং এর সুযোগ হলে চলে যাব যে কোনো সময়। উনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, শুধু একাডেমির জুনিয়র হিসেবেই এ সুবর্ণ সুযোগ দিয়েছিলেন।

২৫তম ব্যাচের এক স্যার আমাকে পাসিং আউটের পর থেকেই সাপোর্ট দিচ্ছেন সেই সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে! যখন যেভাবে পেরেছেন আমাকে সাহায্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায়ই ফোন দিয়েছেন। বলেছেন, যদি কখনও টাকার দরকার হয় স্যারকে যেন জানাই! যেখানে নিজের অনেক আত্মীয়স্বজন থেকেই বিপদের সময় পাঁচ হাজার টাকা পাইনি সেখানে স্যার আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছেন শুধু একাডেমির জুনিয়র হিসেবে! তাও সে সময় যখন আমার সামনে কোনো আশা-ভরসা ছিল না। আজ পর্যন্ত স্যারকে সামনাসামনি দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার।

২০১৫ সালে জুনিয়র অফিসার হবার পরীক্ষায় পাস করার পর হোয়াটসঅ্যাপে দেশ-বিদেশের অসংখ্য সিনিয়র মেরিনারদের মেসেজ দিয়েছি একটা জবের জন্য। অনেকেই সাহায্যের জন্য চেষ্টা করেছিলেন, সিভি নিয়েছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে একদিন ২৯তম ব্যাচের এক স্যার সিংগাপুর থেকে ফোন করে বললেন, সিংগাপুরের অন্যতম সেরা একটা কোম্পানি থেকে শিগগিরই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আমি যেন সবসময় ফোন চালু রাখি, রেগুলার ইমেইল চেক করি। সঙ্গে এটাও বললেন, সিলেকশনের পর যদি এজেন্সি কোনো ধরনের চার্জ দাবি করে আমি যেন সরাসরি স্যারকে জানাই। আল্লাহর অশেষ রহমতে কোনো ধরনের তথাকথিত সার্ভিস চার্জ ছাড়াই, সরাসরি অফিসার হিসেবে র‍্যাংকের সেরা বেতনে জয়েন করেছিলাম। উল্লেখ্য, সেই কন্ট্রাক্টটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। সেই কন্ট্রাক্টটের জন্যই পরিবারের সমস্ত আর্থিক ঋণ দ্রুততম সময়ে শোধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

অফিসার হিসেবে প্রথম কন্ট্রাক্ট শেষ করার পর প্রায় নয় মাস অপেক্ষা করেছিলাম। এর পর দ্বিতীয় কন্ট্রাক্ট করার সুযোগ পেয়েছিলাম ২৪তম ব্যাচের এক স্যারের আন্তরিকতার জন্য। আমার জয়েনিং ডিল নিয়ে সমস্যার কথা বলার পর স্যার নিজে উদ্যোগ নিয়ে আমার ইউএসএ ভিসা করানোসহ রি-জয়েনিংয়ের সমস্ত কাজে সাহায্য করেছিলেন।

২৪তম ব্যাচের আর একজন স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে যিনি বিখ্যাত মার্কস লাইনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার। স্যার মার্কসে এমন কোনো কাজ নেই করেননি আমাকে জয়েন করানোর জন্য! স্যার আমাকে প্রতিনিয়ত মেসেজের রিপ্লাই দিতেন এত ব্যস্ততার মাঝেও। স্যারের সঙ্গে প্রথম যেদিন কাকতালীয়ভাবে ধানমন্ডিতে দেখা হলো সেদিন আমার স্ত্রী তিথিও সঙ্গে ছিল। ভাবী তিথিকে নিজের স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দিয়েছিলেন নতুন বউ দেখে। স্যার বাসায় অনেক সময় দিয়ে রেস্টুরেন্টে ডিনার করিয়ে এরপর আমাদের ছেড়েছেন। অথচ স্যারের সঙ্গে আমার পরিচয়-কথাবার্তা হোয়াটস অ্যাপে শুধু একাডেমির একজন জুনিয়র হিসেবে।

বছরখানেক আগে আমার এক আত্মীয়ের জরুরি কিছু টাকার দরকার হয়েছিল। আমি জাহাজ থেকে পাঠাতে গেলে সময়-ঝামেলা দুটোই বেশি লাগবে ভেবে ৩৪তম ব্যাচের এক স্যারকে মেসেজ দিয়েছিলাম। স্যার আমাকে তৎক্ষণাৎ রিপ্লাই দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কবে কত টাকা লাগবে! জানানোর এক দিনের মধ্যেই স্যার ১০০০ ডলার ট্রান্সফার করে দিয়েছিলেন!

২০১৮ তে সিংগাপুরে সিনিয়র অফিসার হবার পরীক্ষা দেয়ার সময়ে ৪৪, ৪৫, ৪৬তম ব্যাচের স্যারদের আর ৪৮তম ব্যাচের একমাত্র জুনিয়রের আন্তরিকতার কথাও কখনও ভোলার নয়।

কিছুদিন আগে করোনার লকডাউনে তিথি-তাজমীন অস্ট্রেলিয়া আটকা পড়লে সেখানে থাকা ১০তম ব্যাচের এক স্যার বলেছিলেন, ‘If your family needs any help please let me know.’ বিপদের সময় এমন ছোট্ট একটা মেসেজ যে কতবড় মানসিক সাপোর্ট তা বলে বোঝানো যাবে না।

শুধু যে একাডেমির সিনিয়ররাই আন্তরিক তেমন না। একাডেমির বাইরের অনেক ক্যাপ্টেন-চিফ ইঞ্জিনিয়ার স্যারের সাহায্য ভালোবাসা পেয়েছি যাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।

সিলেট ক্যাডেট কলেজের এক্স-ক্যাডেট একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার স্যার ২০১৫ থেকে বিভিন্নভাবে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। আমার জব দেয়া থেকে ইউএসএ ভিসা করানোর জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছিলেন।

সিংগাপুরে থাকাকালীন পহেলা বৈশাখের প্রোগ্রামে নিয়ে যেতে এক স্যার নিজে আমাদের বাসার নিচে এসেছিলেন পিক করতে। ভাবী-ভাতিজিদের সঙ্গে আমাদেরকে একই গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছেন, আবার নামিয়ে দিয়েছেন। কতটুকু আপন মনে করলে নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জুনিয়রদের নিয়ে একটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তা সহজেই অনুমেয়।

এমন আরও অনেক অনেক ঘটনা আছে সিনিয়র, জুনিয়রদের নিয়ে যা বলে শেষ করা যাবে না। সিনিয়রদের আন্তরিকতা দেখে আমি প্রতিনিয়ত অবাক হই।

ভালো খারাপ দুনিয়ার সবখানে, সব প্রফেশনে আছে। আমাদের একাডেমিক সিনিয়র বা প্রফেশনও তার ব্যতিক্রম নয়। আমি নিজেও বেশ কয়েকজন মেরিনারকে দেখেছি, যারা জুনিয়রদের নিয়ে ব্যবসা করে, একাডেমিক সিনিয়র বলে জুনিয়রদের থেকে বিভিন্নভাবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে জুনিয়রদের অজ্ঞতা বা বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে।

তবে সেসব গুটিকয়েক মেরিনার, এক্স-ক্যাডেটদের জন্য বাকি হাজারও সাদা মনের মেরিনারের ভালো ব্যাপারগুলো প্রকাশ না করাও আমার কাছে অন্যায় বলে মনে হয়। সবখানে, সব ব্যাচেই কিছু অপ্রত্যাশিত ভাইরাস থাকে, যা ফিল্টারিংয়ের সুযোগ নেই। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় যতটুকু দেখেছি, মেরিনারদের মধ্যে সে খারাপের অনুপাত খুবই নগণ্য। হয়ত হাজারে ৮-১০ জন! এই ৮-১০ জনের জন্যই বাকিরা কত ভালো তা সহজে উপলব্ধি করতে পেরেছি।

আমি অত্যন্ত গর্বিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির একজন ক্যাডেট হতে পেরে, বাংলাদেশ মেরিন কমিউনিটির একজন হতে পেরে। এ কমিউনিটির একজন না হলে হয়ত জানাই হতো না আল্লাহ দুনিয়াতে এত মহৎ আর উদার মনের বিনয়ী মানুষকে পাঠিয়েছেন।

লেখক: এক্স ক্যাডেট, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (৪৭তম ব্যাচ)

শেয়ার করুন

‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী

‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সদস্যদের জমজমাট পুনর্মিলনী

দিনব্যাপী আয়োজিত জমজমাট অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নতুন বন্ধুদের সপরিবারে ফুল দিয়ে বরণ, যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন এবং মধ্যাহ্নভোজ।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি উত্তীর্ণদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হয়েছে।

‘ইউকে ৯৪’ ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে শনিবার পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া পার্কে আয়োজিত হয় ইউকে ৯৪-এর দ্বিতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত শতাধিক বন্ধুর পরিবার অংশ নেয়।

দিনব্যাপী আয়োজিত জমজমাট অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নতুন বন্ধুদের সপরিবারে ফুল দিয়ে বরণ, যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন এবং মধ্যাহ্নভোজ।

গান, কবিতা ও আড্ডায় ভরপুর এই আয়োজনে বন্ধুরা নিজেদের স্কুলের স্মৃতিচারণও করেন।

অনুষ্ঠানের বাড়তি আকর্ষণ ছিল, যুক্তরাজ্যের বাঙালি পাড়ার সুপরিচিত মুখ পেশাদার আলোকচিত্রী ও ৯৪ সহপাঠী নাহিদ জায়গিরদারের ক্যামেরায় ছবি তোলার সুযোগ।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ‘ইউকে ৯৪’ গ্রুপের সুজন, বিপ্লব, মুশতাক, তানিয়া, নাসরিন, মামুন, যাবেদ, কবির, সুয়েয, সুমি,কামাল, হাশমি, দিনু, ফায়জুল, ফরিদুল, আব্দুর, নাগিফ, নিপা, বুলবুল, জুবায়ের, বাপ্পি, মুনমুন, নাজ, শাহিন, জামিল, রাজিব, অপু, রুহি, মনিরা, হাসান, জাহিরুল, তনয়, রুহেল, সাজু, ইস্তিয়াক, হিরা, গনি, আলি, সাইফ, পারভেজ, রুমেল, রাইহান, জাহিদ, শাফিকুল, শানুর, মাহিন, দেলোয়ার, আশ্রাফ, জিয়া, দলন, তানজিরা, ফারহানা, মাকবুল, জালাল, জুম্মনসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

ওবামার সাক্ষাৎকার নেয়া সেই শিশু সাংবাদিক আর নেই

ওবামার সাক্ষাৎকার নেয়া সেই শিশু সাংবাদিক আর নেই

বারাক ওবামার সঙ্গে ড্যামন ওয়েবার। ফাইল ছবি

২০০৯ সালে বারাক ওবামার ওই সাক্ষাৎকারটি নিয়ে সবার নজর কাড়েন এক সময়ের শিশু সাংবাদিক ড্যামন ওয়েড। যুক্তরাষ্ট্রের সে সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডো বাইডেন ও কিংবদন্তি বাস্কেটবল তারকা ডুয়াইন ওয়েডের সাক্ষাৎকারও নেন তিনি।

বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় তার সাক্ষাৎকার নিয়ে সবার নজরকাড়া শিশু সাংবাদিক ড্যামন ওয়েবার আর নেই। ২৩ বছর বয়সেই তাকে চলে যেতে হলো।

গত ১ মে ২৩ বছর বয়সী ওয়েবার মারা যান বলে জানিয়েছেন তার বোন ক্যানড্যান্স হার্ডি। জানান, তার ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

ওয়েবারের মৃত্যু নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ করা হয়নি। জর্জিয়ার আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিক্যাশসনের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

শিশু সাংবাদিক হিসেবে ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট হোয়াইট হাউজে বারাক ওমাবার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ওয়েবার। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। ১০ মিনিটের সেই সাক্ষাৎকার ইউটিউবে পোস্ট করা হয়।

ওবামার ওই সাক্ষাৎকারে বেশির ভাগ জুড়েই ছিল শিক্ষা নিয়ে আলোচনা। স্কুলে শিক্ষার্থীদের দেয়া মধ্যাহ্ন ভোজ আরও ভালো মানের করা যায় কি না ছিল সেই আলোচনাও।

নিজের ছাত্র জীবনে স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের খাবারের মানের বিষয়টি স্মৃতিচারণ করে ওবামা বলেন, ‘আমার মনে পড়ে, আমি যখন স্কুলে তখন মধ্যাহ্নভোজে যেসব খাবার পেতাম তা খেতে খুব ভালো লাগতো না।

‘স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের খাবার নূন্যতম স্বাস্থ্যসম্মত করা যায় কি না বিষয়টি আমরা দেখছি। কারণ, স্কুলে মধ্যাহ্নভোজে বিভিন্ন ধরনের ফ্রাই, পিজ্জা, টেটার টটস অনেক কিছুই দেয়। কিন্তু এসব স্বাস্থ্যসম্মত কোনো খাবার না।’

ওবামার সাক্ষাৎকার নেয়া সেই শিশু সাংবাদিক আর নেই
ড্যামন ওয়েবার

ওবামার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সে সময়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডুয়াইন ওয়েডেরও সাক্ষাৎকার নেন ওয়েবার। এর মধ্যে ওয়েড জানান, সুযোগ পেলে ওবামার বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলতে তিনি।

এ ব্যাপারে ওবামার কাছে প্রশ্ন রাখেন ওয়েবার- ‘আপনি কী তার (ওয়েডের) সঙ্গে সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ানে বাস্কেটবল খেলতে ইচ্ছুক?’

জবাবে ওবামা বলেন, ‘আমি ডুয়াইন ওয়েডের সঙ্গে খেলতে পারি। যদিও আমি এটা স্বীকার করছি, বাস্কেটবলে আমার চেয়ে ডুয়াইন ওয়েড একটু বেশি ভালো।’

শেয়ার করুন