জন্মদিনে এ কেমন উদযাপন

বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দুই হাত বেঁধে রাখ হয় কিশোরের। ছবি: নিউজবাংলা

জন্মদিনে এ কেমন উদযাপন

পরিস্থিতি দেখে যে কারও মনে হতে পারে, নির্যাতন করা হচ্ছে ওই কিশোরকে। তবে প্রশ্ন করে জানা যায়, এটা তার জন্মদিনের ‘উদযাপন’। রাত ১২টার পরই ১৫ বছরে পা দেবে সে, আর সেই উপলক্ষ উদযাপনে বন্ধুদের সঙ্গে এই আয়োজন।

রাজধানীর ধানমন্ডির শঙ্কর বাসস্ট্যান্ড। বুধবার রাত সাড়ে ১১টা। কয়েক গজ দূর থেকে দেখা যাচ্ছে ১৪ বছরের এক ছেলেকে ঘিরে হল্লা করছে একদল কিশোর।

কাছ থেকে দেখতে এগিয়ে যান নিউজবাংলার প্রতিবেদক। দেখা গেল বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দুই হাত বাঁধা ওই কিশোরের। তাকে ঘিরে থাকা বাকি কিশোরেরা যে যার ইচ্ছেমতো গায়ে মেখে দিচ্ছে ডিম, ময়দা, পানি, এমনকি রাস্তার ধুলোবালি।

পরিস্থিতি দেখে যে কারও মনে হতে পারে নির্যাতন করা হচ্ছে ওই কিশোরকে। তবে প্রশ্ন করে জানা যায়, এটা তার জন্মদিনের ‘উদযাপন’। রাত ১২টার পরই ১৫ বছরে পা দেবে সে, আর সেই উপলক্ষ উদযাপনে বন্ধুদের সঙ্গে এই আয়োজন।

প্রশ্ন করে জানা যায়, এ ধরনের উদযাপন শুধু তারই হচ্ছে না, এর আগে তার বাকি বন্ধুদের জন্মদিনও পালন হয়েছে একইভাবে।

উদযাপন নিয়ে রাস্তার পাশে হাত বাঁধা বার্থডে বয় ধুলো, ময়দায় ঢাকা মুখে নিউজবাংলাকে বলে, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। আমাদের সব বন্ধুদের জন্মদিন আসলে এমনটাই করা হয়।’

বন্ধুকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কেন জন্মদিন উদযাপন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তার এক বন্ধুর বক্তব্য ছিল এ রকম, ‘জন্মদিনে বার্থডে বয়ের নড়াচড়া বা কথা বলতে নেই। সে যাতে আনন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে সে জন্য তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তারপর মজা আর মজা।’

কথায় কথায় জানা যায়, এসব কিশোরের সবার দিনরাত কাটে রাস্তারই ধারে, তাই জন্মদিনের আয়োজনেও নেই কোনো ‘ঘরোয়া’ বিশেষ উৎসব।

বার্থডে বয়-এর বন্ধু বলছিল, ‘শুধু আনন্দের জন্য আমরা এমনটা করি। অন্যদের মতো ঘটা করে কিছু করা আমাদের হয় না। তাই নিজেদের সামর্থ্যমতো মজা করি।’

দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে, প্রশ্ন করলে কিশোরের জবাব, ‘দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনা, কিন্তু মজা তো করতেই হবে।’

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেরিনারের সামনে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের চ্যালেঞ্জ   

মেরিনারের সামনে দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের চ্যালেঞ্জ   

কোরিয়ান, ফিলিপিনো, ইন্ডিয়ান ক্রুদের সঙ্গে লেখকসহ ৪ বাংলাদেশি।

যদিও একজন ব্যক্তিকে দিয়ে সামগ্রিকভাবে কোনো দেশ বা জাতিকে যাচাই করা যায় না, কিন্তু সামান্য হলেও একজনের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে জাহাজের ক্রুরা বাকিদের যাচাই করার চেষ্টা করেন

মেরিনারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য থাকে নিজের দেশ, নিজের দেশের মানুষ সম্পর্কে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মানুষের মাঝে একটি ভালো ধারণা তৈরি করা। এটি একটি চ্যালেঞ্জ, একটি বড় দায়িত্ব এবং একইসঙ্গে দেশ ও দেশের বাকি মেরিনারদের জন্য কিছু একটা করার সুযোগ।

যখন আমি জাহাজের ২১ জন ফিলিপিনো, ইন্ডিয়ান, রাশিয়ান, কোরিয়ান বা টার্কিশ ক্রুদের মাঝে একা বাংলাদেশি তখন আমার আচরণ, ম্যানার, কার্টেসি অনুযায়ী বাংলাদেশ আর বাংলাদেশিদের ব্যাপারে বাকিরা একটা ধারণা পান।

আমি কীভাবে চলি, কীভাবে খাই, কীভাবে কথা বলি, কীভাবে কাজ করি সবকিছুই সবাই লক্ষ্য করেন এবং আমার ভিত্তিতেই বাকি বাংলাদেশিদের বিচার করেন। তার মানে, আমার একার ওপর পুরো বাংলাদেশ আর বাংলাদেশিদের ইমেজ নির্ভর করছে, অন্তত ছবির এই ২১ জনের কাছে।

যদিও একজন ব্যক্তিকে দিয়ে সামগ্রিকভাবে কোনো দেশ বা জাতিকে যাচাই করা যায় না, কিন্তু সামান্য হলেও একজনের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে জাহাজের ক্রুরা বাকিদের যাচাই করার চেষ্টা করেন।

ধরুন, আমি যদি অভদ্র বা রগচটা আচরণ করি তাহলে বাকিরা হয়ত ভেবে নেবেন বাংলাদেশি মানেই অভদ্র আর রগচটা। একইভাবে আমি আন্তরিক আর ভদ্র হলে সবাই সে ধারণাই পাবে আমাদের সম্পর্কে। কয়েক লিটার দুধ নষ্ট করতে যেমন এক ফোঁটা লেবুর রসই যথেষ্ট তেমনি একজন ব্যক্তিই যথেষ্ট পুরো দেশ এবং জাতির নাম ডোবানোর জন্য।

বোঝানোর সুবিধার্থে দুটি বাস্তব উদাহরণ দেই। এই কয়েক বছর আগে একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি মালয়েশিয়ান এক মেয়েকে ছুরি মেরে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর মালয়েশিয়ার সাধারণ জনগণ শুধু সেই একজনের জন্য মালয়েশিয়াতে থাকা সমস্ত বাংলাদেশিকে বের করে দেয়ার জোর দাবি করেছিল!

মাত্র একজনের জন্য মালয়েশিয়ার পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি কতটা লজ্জিত আর অপদস্ত হয়েছে সেটা সহজেই অনুমেয়। অপরদিকে, সিঙ্গাপুরে লাখ ডলার কুড়িয়ে পেয়ে পুলিশকে ফেরত দিয়ে সততার অনন্য নজীর স্থাপনকারী একজন মাত্র বাংলাদেশিই কিন্তু আমাদের সমস্ত বাংলাদেশ-বাংলাদেশিদের গর্বিত করে।

মেরিনারদের নিয়েও এ রকম দুটি ঘটনা বলি। প্রায় এক যুগ আগে বিদেশি কোম্পানির জাহাজে এক বাংলাদেশি তার সিনিয়র অফিসারকে মারার জন্য তাড়া করেছিল বলে রিপোর্ট করা হয়! ফলে সেই কোম্পানি চিরতরে বাংলাদেশিদের নেয়া বন্ধ করে দেয়।

একইভাবে জাহাজে করে তথাকথিত উন্নত দেশে পালিয়ে গিয়ে বাকি হাজার হাজার জাহাজির ভালো কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ বন্ধ করার জন্য মাত্র একজন বাংলাদেশি জাহাজিই যথেষ্ট।

অপরদিকে, কয়েক বছর আগে চায়নার একটা বড় শিপিং কোম্পানি একজন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে আরও বাংলাদেশি জুনিয়র অফিসার নিতে আগ্রহী হয়েছে, নিয়োগ দিয়েছে। মাত্র একজন বাংলাদেশি ক্যাপ্টেনের চমৎকার আচরণ আর দক্ষতার জন্য আরও ১০ জন বেকার জুনিয়রের চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। অর্থাৎ আমার-আপনার মতো মাত্র একজন নগণ্য জাহাজি বাকি জাহাজিদের পথ যেমন সুগম করতে পারেন, তেমনি দুর্গমও করতে পারেন।

দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশি মেরিনাররা বছরে মিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েও সরকারিভাবে তেমন কোনো বাড়তি বা বিশেষ সুবিধা পান না। নিজেদের দেশে আমরা মূল্যহীন, শিকড়হীন। অথচ দেশের বাইরে বা ভিনদেশিদের সামনে দেশের জন্য, দেশের বাকি জাহাজিদের জন্য ‘একজন আমি’ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

জাহাজে এসে যখন বিদেশিদের কাছে একজন বাংলাদেশি সম্পর্কে কোনো ভালো কথা বা তার ভালো অভিজ্ঞতার কথা শুনি তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই অচেনা, অজানা বাংলাদেশির প্রতি কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে ওঠে, শ্রদ্ধা জন্মে।

আবার এর বিপরীতে বাংলাদেশিদের নিয়ে কেউ খারাপ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেও লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে, অস্বস্তি লাগে। আমাদের মনে রাখা উচিত, জাহাজে একজন জাহাজির মাত্র ৬/৯ মাসে তৈরি করা ইমেজ কিন্তু শুধু ৬/৯ মাস, আর এই ২০-২৫ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সেই ইমেজ ২০-২৫ জনের মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে হয়ত অন্য কোনো বাংলাদেশি জাহাজি বা তাদের স্বজাতির কারো কাছে।

তাই আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে প্রত্যেকের এমন একটা ইমেজ তৈরি করা উচিত যেন পরবর্তীতে কোনো বাংলাদেশি জাহাজি কোনো ভিনদেশির কাছে আমার-আপনার গল্প শুনে গর্বিত হন, লজ্জিত বা নীচু না হন। এই কথাগুলো প্রবাসী সমস্ত বাংলাদেশিদের জন্যও সমান প্রযোজ্য।

লেখক: এক্স ক্যাডেট (বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি ৪৭তম ব্যাচ)

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন

‘নয়া দামানে’ ভাইরাল ঢামেক হাসপাতালের ৩ চিকিৎসক

‘নয়া দামানে’ ভাইরাল ঢামেক হাসপাতালের ৩ চিকিৎসক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩ চিকিৎসকের নাচের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহিত

নাচে পারফর্ম করেন ডা. শাশ্বত চন্দন, ডা. কৃপা বিশ্বাস, ডা. আনিকা ইবনাত শামা। মনোমুগ্ধকর এই নাচের উদ্দেশ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাওয়া চিকিৎসকদের অনুপ্রেরণা দেয়া।  

ঢাকা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের নাচের একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

এতে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারের অ্যাপ্রোন পরে হাসপাতালের করিডরে ‘নয়া দামান’ গানের সঙ্গে নাচছেন তিন চিকিৎসক। তাদের একজন তরুণ, বাকি দুজন তরুণী।

সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার তুমুল জনপ্রিয় ‘নয়া দামান’ গানটি অনেকেই গেয়েছেন। তবে কিছুদিন আগে এই গানে কণ্ঠ দেন তসিবা ও মুজা।

এ জুটির গাওয়া গানের সঙ্গেই পারফর্ম করেন ডা. শাশ্বত চন্দন, ডা. কৃপা বিশ্বাস, ডা. আনিকা ইবনাত শামা। মনোমুগ্ধকর এই নাচের উদ্দেশ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাওয়া চিকিৎসকদের অনুপ্রেরণা দেয়া।

এই নাচের পেছনের গল্প নিউজবাংলাকে শুনিয়েছেন ডা. শাশ্বত। তিনি বলেন, ‘আমরা যে তিনজন নাচে অংশগ্রহণ করেছি, তারা সবাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে কাজ করি। আমাদের ইউনিট কিন্তু করোনা ডেডিকেটেড না, তবে এখানে অনেক রোগী ভর্তি হন, যাদের করোনার কারণে অপারেশন ক্যানসেল হয়ে যায়। আমাদের ইউনিটের অনেক ডাক্তার এখন করোনা ইউনিটে ডিউটি করছেন।’

চিকিৎসকদের বিরামহীন সেবা দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারাও কিন্তু অনেক সময় করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। আর এই মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা ডিপ্রেশন থেকে একটু স্বস্তি দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা।

‘অনেকেই মনে করেন যে ডাক্তাররা একটু মনে হয় রসকষহীন। তাই আমরা নাচের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি যারা সেবা দিচ্ছেন, তারা যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন।’

নাচের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল জানতে চাইলে ভোলার ছেলে ডা. চন্দন বলেন, ‘আসলে আমাদের ইচ্ছা ছিল একটা কিছু করার, কিন্তু সেটা তো হাসপাতলের বাইরে করা যায় না। সবাই তখন এটাকে আবার চিয়ারলিডার টাইপের ভাবত।’

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কখনও নাচ শেখেননি ডা. চন্দন। তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু ওইভাবে পারি না। তবে আমার সঙ্গে যারা পার্টনার ছিলেন, ওনারা ভালো নাচেন।’

নাচে অংশ নেয়া ডা. আনিকা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আর চন্দন দুই জনই ইন্টার্ন চিকিৎসক। আমরা এখানে সার্জারি বিভাগে কর্মরত আছি। আমাদের সিনিয়র আপু ডা. কৃপা বিশ্বাস এখানকার এইচএমও হিসেবে আছেন।’

‘নয়া দামানে’ ভাইরাল ঢামেকের ৩ চিকিৎসক
ডা. শাশ্বত চন্দন ও ডা. আনিকা ইবনাত শামা

ডা. আনিকা বলেন, ‘আমাদের পাশের দেশের অবস্থা খুব খারাপ। অক্সিজেনের অভাব হয়েছে ওখানে। আবার এক মাস ধরে আমাদের অবস্থাও ভালো না। এতে করে অনেক চিকিৎসক মানসিক ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছেন। একটা চাপে আছেন তারা। এগুলো মাথায় রেখেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।’

নাচের পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এটা খুবই ক্ষুদ্র একটা পরিকল্পনা ছিল। আমাদের রুটিন ওটি থাকে। আমরা যে ইউনিটে কাজ করি, সেটা সার্জারি ইউনিট ওয়ান। এই ইউনিটের রুটিন ওটিটা হয় সোমবারে। ওই দিন সব ওটিগুলো ওয়াশ দিয়ে শেষ হবার পর যখন আমাদের ফ্রি সময় ছিল, তখন তিনজন মিলে গল্পের ছলে এই পরিকল্পনা করি।’

তিনি বলেন, ‘বাইরের দেশের ডাক্তাররাও এমন এক্সট্রা কারিকুলার কাজ করে থাকেন। আমরা ছোটখাটো একটা কোরিওগ্রাফি করেছে নিজেরাই। তিনজন মিলেই করি। সঙ্গে সঙ্গে ওখানেই শুট হয়েছে।’

ঢাকার মেয়ে ডা. আনিকা ক্লাসিক্যাল নাচে আগে থেকেই পারদর্শী।

তিনি বলেন, ‘আসলে এটা তো অনেক সিম্পল ছিল। নাচ শিখেছি, তবে এটা নিজেরাই করেছি। খুবই সাধারণ কোরিওগ্রাফি ছিল। এই টাইপের ফ্রি স্টাইল নাচ কখনও শিখিনি। আমি আর কৃপা আপু একসঙ্গেই নাচ শিখেছি বুলবুল লতিতকলা একাডেমি থেকে। আমরা ক্লাসিক্যাল ডান্সার।’

ভাইরাল নাচের দৃশ্যটির ভিডিও করেছেন একজন ওটি বয়। ডা. চন্দন নিজেই সেটি সম্পাদনা করে ফেসবুক পেজে আপলোড করেন।

এর আগে ১২ এপ্রিল ভারতের কেরালা রাজ্যে দুই মেডিক‌্যাল শিক্ষার্থীর নাচের ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে রাজ্যটির মেডিক্যাল শিক্ষার্থী নাভিন কে রাজাক ও জানাকি এম ওমকুমার ভিডিওটি পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন: ঘৃণার বিরুদ্ধে নাচ

রিল ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লেখা হয়, ‘যদি মনে করেন ঘৃণা ছড়াবেন, তাহলে জেনে রাখুন আমরা তার প্রতিরোধ করব।’

হ্যাশট্যাগ দিয়ে রাসপুতিনচ্যালেঞ্জ নামের ওই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হলে ভারতের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরাও একই রকম ভিডিও তৈরি ও পোস্ট শুরু করেন।

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন

ইউটিউবেই বাজিমাত করলেন শেরপুরের সুমন

ইউটিউবেই বাজিমাত করলেন শেরপুরের সুমন

ইউটিউবে বিভিন্ন সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি তৈরির প্রযুক্তি দেখে সুমন নিজে নিজেই শিখেছেন কৌশল। ছবি: নিউজবাংলা

সুমন প্রথমে খালি ম্যাচের প্যাকেট দিয়ে একটি এয়ারকপ্টার তৈরি করেন। এরপর ভিডিওটি ইউটিউবে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভিডিওটির প্রায় ৯ কোটি ভিউ হলে বদলে যায় সুমনের জীবন। এ পর্যন্ত ছয় শতাধিক ভিডিও ইউটিউবে দিয়েছেন। এতে মাসে তার ইউটিউব থেকে আয় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

শেরপুর বাজিতখিলা ইউনিয়নের রিকশাচালক দুলাল মিয়ার ছেলে সুমন। পেশায় ‘ইলেকট্রিক মিস্ত্রি’। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক কাজ করার পাশাপাশি লেখাপড়াও করছেন সুমন। গত বছর এইচএসসি পাসের পর স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন শেরপুর সরকারি কলেজে।

অনেকটা সাদামাটা জীবনযাপনের মাঝেই সুমন ‘বিস্ময়কর’ কিছু কাজ করে চমকে দিয়েছেন সবাইকে। ইতোমধ্যে ছয় শতাধিক যন্ত্রপাতি তৈরির ভিডিও তিনি ছেড়েছেন ইউটিউব চ্যানেলে। এখন মাসিক আয় প্রায় লাখ টাকা। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সুমন প্রতিদিনই নতুন কিছু করছেন। এ ক্ষেত্রে বই কিংবা প্রশিক্ষণ নয়, সুমনের ভরসা ইউটিউবেই।

রিকশাচালক বাবা দুলাল মিয়া ও সমতা বানুর তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সুমন তৃতীয়। ইউটিউবে বিভিন্ন সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি তৈরির প্রযুক্তি দেখে সুমন নিজে নিজেই শিখেছেন কৌশল।

ক্যামেরাসহ ড্রোন, ফ্যান, রিচার্জেবল হট এয়ারগান, রিচার্জেবল পাওয়ারফুল এয়ারকুলার, ওয়্যারলেস, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফ্লাইং হেলিকাপ্টার, পাঁচ ধরনের এয়ারফোন, সিম ছাড়া ওয়াইফাই রাউটার, পাওয়ারফুল ওয়াটার পাম্প, হ্যান্ড কন্ট্রোল আরসি ড্রোনসহ অসংখ্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন নিজেই।

পুরাতন ফেলে দেয়া ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ, কাগজ, গাম, আর কিছু নতুন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নানা আকর্ষণীয় খেলনা, ব্যবহার্য সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি তৈরি করেন তিনি। এসব যন্ত্রপাতি হাতেকলমে তৈরির ভিডিও ধারণ করেন সুমন। সেগুলো নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ছেড়ে দিয়ে মাসে আয় করছেন ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

সুমন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবা অনেক কষ্ট করে আয় করতেন। আমরা একটা ঝুপড়ি ঘরে গাদাগাদি করে থাকতাম। একপর্যায়ে আমি বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ শুরু করি। এসএসসি পাস করার পর শেরপুরের ডা. সেকান্দর আলী কলেজে ভর্তি হলে সেখানে ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা পাই ওয়াইফাই লাইনের মাধ্যমে। তখন ইউটিউবে ঢুকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরির ভিডিও দেখি। একসময় আমিও বিভিন্ন যন্ত্র তৈরি শুরু করি।’

সুমন বলেন, ‘প্রথমে খালি ম্যাচের প্যাকেট দিয়ে একটি এয়ারকপ্টার তৈরি করে ইউটিউবে দিই। এটিতে ব্যাপক সাড়া পড়ে, ভিডিওটিতে প্রায় ৯ কোটি ভিউ হয়। ছয় শতাধিক যন্ত্রপাতি তৈরির ভিডিও আমি ইউটিউবে ছেড়েছি। এতে মাসে ইউটিউব থেকে আয় হয় ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ পর্যন্ত। আমাদের সংসারে এখন আর আগের মতো অভাব নেই।’

সুমন বলেন, ‘আমি একটি ড্রোন বানিয়েছি, যা অনেক উঁচুতে এবং দূরত্বে যেতে পারে। আমি দেশের সবচেয়ে বেশি ওজনবাহী একটি ড্রোন তৈরি করতে চাই। ওই ড্রোন মশা নিধনে কীটনাশক ছিটাতে পারবে। এ ছাড়া ড্রোনটি বিভিন্ন ধরনের তথ্যচিত্র ধারণ করতে পারবে।’

বাবা দুলাল মিয়া বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে রিকশা চালাইতাম, এহন আমার অটোগাড়ি। এখন ঝুপড়ি ঘর নেই, আধাপাকা ঘরে থাহি। সবকিছুই সম্ভব ঐইছে আমার পোলার জন্য।’

মা সমতা বানু বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করছি একসময়। ভাবি নাই আমার পোলা সুমন গরিব ঘরে থাইক্কা এত কিছু করব। আমি ওর জন্য বোতলের পাস, ম্যাচের খুল, পালাস্টিকের কৌটা আরও কত কিছু কুড়াই আনয়্যা দিতাম। ওই এইলা দিয়া ঘরো বইয়া সারা দিন কী যে করত বুঝতাম না। পরে দেহি আমার পোলা ঐলা দিয়া ভালা কিছ বানাইয়া টেহাও কামাই করে। এহন আমার পোলারে নিয়া গর্ব হই আমার।’

স্থানীয় কিশোর মো. মোশারফ বলেন, ‘ড্রোন তো আমি জীবনে দেখি নাই। সুমন ভাই বানাইছে, তাই দেখবার আইছি। এইডা আকাশে উঠলে তো দেহা যায় না।’

ইউপি সদস্য ইউনুস আলী মনু বলেন, ‘সুমনের মধ্যে বড় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। সুমনকে সরকারিভাবে সহায়তা করলে সে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুমনের মতো মেধাবীদের জন্য আমাদের দুয়ার খোলা। তাকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন

বাঙ্গির পক্ষে-বিপক্ষে রীতিমতো দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে ফেসবুকে। ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুটি গ্রুপে সক্রিয় কয়েক হাজার সদস্য। বেলে দোআঁশ ও পলি মাটিতে জন্মানো গ্রীষ্মকালীন ফলটি নিয়ে তাদের মুখোমুখি অবস্থান। একটি পক্ষ বাঙ্গির গুণ বর্ণনায় মেতেছে, আর আরেক পক্ষ ফল হিসেবেই মানতে চাচ্ছে না।

দেশজুড়ে লকডাউনে রাজপথ যখন শান্ত, যুদ্ধ তখন জমে উঠেছে অনলাইনে। একটি দেশি ফল নিয়ে গত এক মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা।

বেলে দোআঁশ ও পলি মাটিতে জন্মানো গ্রীষ্মকালীন ফল বাঙ্গি নিয়েই এই মুখোমুখি অবস্থান। বিতর্কের আশু সুরাহার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

একটি পক্ষ বাঙ্গির নানান গুণ বর্ণনায় মেতেছে, আর আরেক পক্ষ ফল হিসেবেই মানতে চাচ্ছেন না। বাঙ্গির পক্ষে-বিপক্ষে রীতিমতো দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে ফেসবুকে। ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুটি গ্রুপে সক্রিয় কয়েক হাজার সদস্য।

বাঙ্গির গুণে মুগ্ধ যারা

বাঙ্গিকে অতি পছন্দ করেন, এমন কয়েক হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী যোগ দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতি- BABA JOSH’ নামের গ্রুপে। এই ফেসবুক গ্রুপের সদস্য এখন ৪ হাজার তিন শ। গ্রুপের সদস্যরা বাঙ্গিকে জনপ্রিয় ফল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন
বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতি- BABA JOSH’ নামের ফেসবুক গ্রুপে সদস্য ৪ হাজারের বেশি

গ্রুপটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বেশিরভাগই বৈচিত্র্য পছন্দ করে না। হাতে গোনা কয়েকটা বিদেশী ফল চিনে। তা নিয়েই সন্তুষ্ট। মূলত বাঙ্গি একটি রূপক, আন্দোলনটা আসলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় ফলগুলোকে লাইমলাইটে ফিরিয়ে আনা নিয়ে। তাছাড়া দেশীয় ফল ও কৃষিপণ্যের উপর চলমান কুৎসা রটনা নিবারণ, আত্মপরিচয় সংকট নিরসন ও হীনমন্যতা দূরীকরণও আমাদের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতির অ্যাডমিন অপু নজরুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাঙ্গি যদি জনপ্রিয়ই না হবে তাহলে বাজারের এত বাঙ্গি কোথায় যায়। আসলে গ্রুপটা খোলা হয়েছে রূপক অর্থে। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বেশিরভাগই বৈচিত্র্য পছন্দ করে না। হাতে গোনা কয়েকটা বিদেশি ফল চেনে। তা নিয়েই সন্তুষ্ট। মূলত বাঙ্গি একটি রূপক, আন্দোলনটা আসলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় ফলগুলোকে লাইমলাইটে ফিরিয়ে আনা নিয়ে।’

অপু নজরুল আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটা প্রজন্ম বাঙ্গি না খেয়েও বাঙ্গি নিয়ে ট্রল করে। আসলে সেই জায়গা থেকেও তারা জানতে পারবে বাঙ্গি নিয়ে। আমার এই গ্রুপ খোলার পর আরেকটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানে ফলটি বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। এতে কিন্তু আমি অনেক বেশি খুশি হয়েছি। ওখানেও অনেকে যোগ দিচ্ছে। তারাও বাঙ্গির পক্ষে কথা বলছে। নেতিবাচিক কোনো কিছু থেকে যদি ভালো কিছু হয় তবে সেটাই ভালো।’

এই গ্রুপের একজন সদস্য মন্তব্য করেছেন, ‘বাবাজোসের রাজনৈতিক সংগঠনের নাম হতে পারে হেফাজতে বাঙ্গি! আর এর মূলনীতি হবে, “বাঙ্গি লাভার জনগণ, বাঙ্গি হেফাজতে সারাজীবন!” আরও কিছু হয় কিনা জানান’

আরেকজন কয়েক কৃষকের ছবি দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘যারা বাঙ্গি নিয়ে নেতিবাচক গ্রুপ বানিয়েছে তারা কৃষকের শত্রু, দেশের শত্রু। বাঙ্গি খান কৃষক বাঁচান’

একজন লিখেছেন, ‘বাঙ্গীর ভূবনে আমি প্রেম উদাসী, যতই খাই ১মবার বাঙ্গী খাওয়ার সাধ ২য় বার হয়নি আর হবে না।

ঠিক ১ম প্রেমের মত—’

বাঙ্গি বিলুপ্তির দাবিতেও শক্ত অবস্থান

বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতির ঠিক বিপরীত অবস্থান নিয়ে বাঙ্গি বিলুপ্তির দাবি তুলেছেন আরেকটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা। ‘বাংলাদেশ বাঙ্গি বিলুপ্তকরণ সমিতি– বাবাবিস’ নামের এই গ্রুপের সদস্য ৪ হাজার সাত শ। গ্রুপের অ্যাবাউট অংশে বলা হয়েছে, ‘বাঙ্গি নামের অখাদ্য, ফলরূপী ইম্পোস্টর দুর্গন্ধবোমা থেকে মানবসমাজকে উদ্ধার করতে আমাদের এই উদ্যোগ।’

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন
'বাংলাদেশ বাঙ্গি বিলুপ্তকরণ সমিতি– বাবাবিস’ নামের ফেসবুক গ্রুপে সদস্য প্রায় ৫ হাজার

বাবাবিসের অ্যাডমিন আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, বাঙ্গি তার এক বন্ধুর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এই গ্রুপের জন্ম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমে বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ গ্রুপটি করা হয়। সেটা দেখে আমাদের গ্রুপের আরেক এডিমিন ইসতিয়াক আকিবের ছোটবেলায় বাঙ্গি খাওয়ার কথা মনে পড়ে। বাঙ্গির যে গন্ধ তা নিয়ে বিরক্তি থেকেই আসলে এই গ্রুপের যাত্রা। তবে নেহাত মজা করার উদ্দেশ্যে এমন করা হয়েছে। এই যে একটা নেগেটিভ প্রচার চলছে তাতেও তো মানুষ বাঙ্গি কিনে দেখতে চাইছে এটা কেমন!’

বাঙ্গি বিরোধী গ্রুপ করেও বাঙ্গির ‘অত্যাচার’ থেকে মুক্তি পাননি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। সেই করুণ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রুপ নিয়ে একটা পত্রিকায় প্রতিবেদন করা হয়েছিল, আর সেটা আমি বাবাকে জানানোর পর বাবা ওইদিন সন্ধ্যায় বাঙ্গি কিনে নিয়ে আসে।’

এই গ্রুপের এক সদস্য লিখেছেন, ‘বাসায় বাঙ্গি এনেছে।সবাই দোআ করবেন আমার জন্য। সেখানে একজন কমেন্ট করেছেন, না বাবা এত সহজে বাঙগি থেকে তোমাকে রেহাই দেয়া হবে না, খেতেই হবে।’

আরেক জন লিখেছেন, ‘আমি ছোট থেকে ভাবতাম, শুধু আমি ই বোধহয় বাঙ্গী পছন্দ করি না। এই গ্রুপে আইসা মনে হইতেছে, my whole life was a lie! বাংলাদেশ থেকে বাঙ্গি বিলুপ্তকরণের এই সমিতিতে যুক্ত হয়ে নিজেকে ধন্য বোধ করছি!প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত। আপনারা এগিয়ে চলুন।’

একজন লিখেছেন, ‘বাঙ্গি খাওয়ার জন্য বাসা থেকে অনেক চাপাচাপি করতেছে। প্লিজ হেল্প মি।’

সেখানে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘কল ৯১১’।

আরেকজন লিখেছেন, ‘ফালুদায় বাংগি দেওয়ার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রেস্টুরেন্ট মালিকের।’

বাঙ্গি সম্পর্কে জরুরি তথ্য

সরকারের কৃষি বাতায়নে বাঙ্গির গুণাগুণ ও চাষের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বাঙ্গি এক রকমের শশা জাতীয় ফল যার অন্য নাম খরমুজ, কাঁকুড়, ফুটি। যার বৈজ্ঞানিক নাম Cucumis melo এবং ইংরেজি নাম Muskmelon. দেশের প্রায় সব এলাকাতেই গ্রীষ্মকালে বাঙ্গি জন্মে। তরমুজের পর এটিই অধিক প্রচলিত শসা গোত্রীয় ফল। বাঙ্গিগাছ দেখতে অনেকটা শসা গাছের মতো, লতানো।

কৃষি বাতায়নে বলা হয়েছে, ছোট এবং লম্বাটে জাতকে চিনাল বলা হয়। ফুটি বেশ বড় আকারের হয়, কাচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ রঙের হয় এবং ফেটে যায়। ফলের বাইরের দিকটা মিষ্টি কুমড়ার মতো হালকা ডোরা কাটা খাঁজযুক্ত। খেতে তেমন মিষ্টি নয়, অনেকটা বেলে বেলে ধরনের। এর ভেতরটা ফাঁপা থাকে। কাঁচা বাঙ্গি সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। বাঙ্গিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন।

বাঙ্গির বিভিন্ন জাত সম্পর্কে কৃষি বাতায়নে বলা হয়েছে, প্রধানত দুই জাতের বাঙ্গি দেখা যায়, বেলে ও এঁটেল বাঙ্গি। বেলে বাঙ্গির শাঁস নরম। খোসা খুব পাতলা, শাঁস খেতে বালি বালি লাগে, তেমন মিষ্টি নয়।

অন্যদিকে, এঁটেল বাঙ্গির শাঁস কচকচে, একটু শক্ত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি মিষ্টি। বাঙ্গি লম্বাটে সাধারণত লম্বাটে হলেও গোলাকার মিষ্টি কুমড়ার মতো বাঙ্গিও রয়েছে। এ প্রজাতির বাঙ্গির অপর নাম চীনা বাঙ্গি।

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন

কলেজছাত্রের তৈরি রোবট ‘বঙ্গ’

কলেজছাত্রের তৈরি রোবট ‘বঙ্গ’

'বঙ্গ' এর সঙ্গে সুজন পাল। ছবি: নিউজবাংলা

‘এই রোবট বাড়ি, অফিস-আদালত কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে কাছের ফায়ার সার্ভিসে খবর দিতে পারবে, আগুন থেকে মানুষকে বাঁচানো এবং অগ্নিকাণ্ডের স্থানে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

মানুষের মতো কথা বলতে পারে- এমন একটি রোবট তৈরি করেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কলেজছাত্র সুজন পাল। রোবটটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বঙ্গ’।

বাংলা, ইংরেজি, আঞ্চলিক ভাষাসহ বিভিন্ন দেশের ভাষায় কথা বলতে পারে এই রোবট।

সুজন পাল আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা এবং সরকারি গৌরনদী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

সুজন পাল বলেন, ‘এই রোবট বাড়ি, অফিস-আদালত কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে কাছের ফায়ার সার্ভিসে খবর দিতে পারবে, আগুন থেকে মানুষকে বাঁচানো এবং অগ্নিকাণ্ডের স্থানে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

‘আবার ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার লিক হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে ঘরের লোকজনকে। এ ছাড়া ‘বঙ্গ’ প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারবে। এমনকি প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার বিদ্যাও রপ্ত করেছে সে।পাশাপাশি কৃষককে গাছপালার রোগ বালাই মোকাবিলায় পরামর্শও দিতে পারবে।’

প্রাইভেট পড়িয়ে এবং পরিবার থেকে দেয়া হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে সুজন পাল চার মাসের প্রচেষ্টায় তৈরি করে এই রোবট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে তৈরি করা এই রোবটটিকে বঙ্গবন্ধুর নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গ’।

সুজন জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘বঙ্গ’কে আরও আধুনিকভাবে তৈরি করে দেশের সেবার কাজে লাগানো সম্ভব।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বলেন, সুজনের আবিস্কৃত রোবটটিকে আরও আধুনিকভাবে তৈরি করার লক্ষ্যে লিখিতভাবে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমরা সুপারিশ করে পাঠাব।

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন

ফোর্বসের অনূর্ধ্ব-৩০ প্রভাবশালীর তালিকায় ৯ বাংলাদেশি

ফোর্বসের অনূর্ধ্ব-৩০ প্রভাবশালীর তালিকায় ৯ বাংলাদেশি

২০১১ সাল থেকে তালিকাটি তৈরি করা শুরু করে ফোর্বস। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আরও ৯ বাংলাদেশি তরুণ এ তালিকায় জায়গা করে নেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসের এশিয়া মহাদেশের অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী ৩০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ৯ বাংলাদেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার বিকেলে তালিকাটি প্রকাশ করে ফোর্বস। এতে কাজের স্বীকৃতি দেয়া হয় প্রযুক্তি, সামাজিক প্রভাব আর খুচরা ও ই-কমার্স খাতে যুক্ত ৯ তরুণ বাংলাদেশিকে। তাদের মধ্যে আছেন দুই নারী।

কারা আছেন তালিকায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ গেজের প্রতিষ্ঠাতা শেহজাদ নূর তাওস প্রিয় (২৪) ও মোতাসিম বীর রহমান (২৬), বিজনেস ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ক্র্যামস্ট্যাকের প্রতিষ্ঠাতা মীর সাকিব (২৮), বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অ্যাওয়ারনেস থ্রি-সিক্সটির প্রতিষ্ঠাতা শোমী চৌধুরী (২৬) ও রিজভি আরেফিন (২৬), বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ ইমতিয়াজ জামি (২৭), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হাইড্রোকো প্লাসের প্রতিষ্ঠাতা রিজভানা হৃদিতা (২৮) ও মো. জাহিন রোহান রাজিন (২২) এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেস পিকাবোর সহপ্রতিষ্ঠাতা মোরিন তালুকদার (২৭)।

২০১১ সাল থেকে তালিকাটি তৈরি করা শুরু করে ফোর্বস। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আরও ৯ বাংলাদেশি তরুণ এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

এশিয়ার মোট ২২টি দেশ ও অঞ্চলের তরুণরা জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়। এ বছরের তালিকায় বাকি নামগুলোর বেশির ভাগই ভারত ও চীনের।

করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে নতুন স্বাভাবিক জীবনে খাপ খাইয়ে নেয়ার মধ্যে এই তরুণরা কঠিন লড়াই পার করে এসেছেন বলে মন্তব্য ফোর্বসের।

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন

করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

করোনা টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে ফেসবুক

ফেসবুক বাংলাদেশে কোভিড–১৯ টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে যাবে।

করোনা সচেতনতা বাড়াতে ও টিকা নিতে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বালাদেশে এটুআই, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে প্রচার চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে ফেসবুক।

দেশে করোনা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য-সুরক্ষা চর্চা এবং টিকাদান নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এর মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে আরো বলা হয়, ফেসবুক বাংলাদেশে কোভিড–১৯ টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে যাবে।

সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে ফেসবুকের কোভিড-১৯ তথ্যকেন্দ্রে বাংলা ভাষাতেই সব তথ্য পাওয়া যাবে। এই তথ্যকেন্দ্রে মাস্ক পরা থেকে শুরু করে কীভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি ভালোভাবে মেনে চলা যায়, তা সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যাবে।

এ ছাড়াও ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ করোনা সুরক্ষা ওয়েবসাইট www.corona.gov.bd তেও সহজে প্রবেশ করা যাবে। নিউজফিড নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ফেসবুক বাংলাদেশিদের আরও সহজে www.surokkha.gov.bd–এ গিয়ে টিকা নেবার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে সাহায্য করবে।

এ ছাড়া কোভিড–১৯ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা ভুল তথ্য চিহ্নিত করতে এবং এর প্রচার ঠেকাতে এই বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে বাংলাদেশে জনশিক্ষামূলক কার্যক্রম (www.fightcovidmisinfo.com) শুরু করেছে ফেসবুক। শিক্ষামূলক এই মডিউলগুলো বাংলাতেই পাওয়া যাবে, যাতে করে সর্বস্তরের মানুষের সেটা সহজে বুঝতে ও চর্চা করতে সুবিধা হয়।

এ বিষয়ে ফেসবুকের বাংলাদেশ বিষয়ক পাবলিক পলিসির দায়িত্বে থাকা সাবহানাজ রশীদ দিয়া বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক এবং টিকাদান বিষয়ক সচেতনতা গণমানুষের মধ্যে আরও ছড়িয়ে দেয়া খুবই জরুরি।

‘স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে করে ফেসবুকের বিশাল নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও টিকাদানের মাধ্যমে মানুষ যেন আবার নিরাপদভাবে সামাজিক জীবনে ফিরতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

এ টুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী বলেন, ‘আজ সমাজের সর্বস্তরে ডিজিটাল জীবনধারায় অভ্যস্ততা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য যেমন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে তেমনি অনলাইনে ভুল কোনো পদক্ষেপের কারণে মারাত্মক সব ঝুঁকিতে পড়ার আশংকাও থাকছে।

‘নিজেদের সুরক্ষার জন্য আমাদের প্রত্যেকের হাতে হাত রেখে কাজ করে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুককে সাহসী এই পদক্ষেপ নেওয়া জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং টিকাদান কর্মসূচি, মাস্ক পরা এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার ক্যাম্পেইনকে আরও বেশি সংখ্যক নাগরিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

ফেসবুক জানায়, কোভিড–১৯ ইনফরমেশন সেন্টারের মাধ্যমে পৃথিবীতে দুইশ কোটিরও (২ বিলিয়ন) বেশি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক থেকে সরানো হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ কোভিড বিষয়ক ক্ষতিকর ভুল তথ্যও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলায় গৃহবধূ গ্রেপ্তার
গৃহবধূর চুল, ভুরু কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাকা না দেয়ায় স্ত্রীর কবজি কেটে দেয়ার অভিযোগ
স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
ছাত্র পেটানোয় মাদ্রাসা শিক্ষকের সাত দিন জেল

শেয়ার করুন