পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?

টোকিও অলিম্পিকসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৮০০ ড্রোনের তৈরি বৃত্তাকার পৃথিবী। ছবি: এএফপি

বিশ্বে এমন অসংখ্য লোক আছেন যারা বিশ্বাস করেন, পৃথিবী গোল নয়, ফ্ল্যাট বা সমতল। তাদের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হলো, বিজ্ঞান ও আধুনিক মিডিয়া চক্রান্ত করে কখনও দেখাবে না যে, পৃথিবীর আকৃতি আসলে সমতল।

পৃথিবী সৌরজগতে সূর্য থেকে দূরবর্তী তৃতীয় গ্রহ। অন্যসব গ্রহের মতোই এটি নিজ অক্ষের ওপর ঘুরছে। প্রাণের বিকাশ ঘটা গ্রহটির আকার কমলালেবুর মতো, অর্থাৎ বৃত্তাকার দেহের মেরু দেশ কিছুটা চাপা। এটা একেবারে ছেলেবেলার বিজ্ঞান বইয়ের জ্ঞান।

মজার বিষয় হলো, বিশ্বে এমন অসংখ্য লোক আছেন যারা বিশ্বাস করেন, পৃথিবী গোল নয়, ফ্ল্যাট বা সমতল। তাদের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হলো, বিজ্ঞান ও আধুনিক মিডিয়া চক্রান্ত করে কখনও দেখাবে না যে, পৃথিবীর আকৃতি আসলে সমতল। এই মত সমর্থন করা তাত্ত্বিকদের নিয়ে দুনিয়া জুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ‘ফ্ল্যাট আর্থারস সোসাইটি’।

এই ফ্ল্যাট আর্থারদের উদ্ভট দাবি যদি সত্যি হতো, অর্থাৎ পৃথিবী যদি সত্যিই সমতল হলে কেমন হতো? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজেছে বিজ্ঞানবিষয়ক জনপ্রিয় সাইট সায়েন্স অ্যালার্ট। পাঠকদের তারা একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছে, সমতল পৃথিবীর বৈশিষ্ট্য কেমন হতো তা নিয়ে।

১. বিদায় নিত অভিকর্ষ

বৃত্তাকার পৃথিবীতে সব জায়গায় সব বস্তুর ওপর অভিকর্ষ বলের প্রভাব সমান। সমতল পৃথিবীতে অভিকর্ষের কোনো প্রভাব থাকতো না। কারণ অভিকর্ষ থাকলে সেটার টানেই পৃথিবী বৃত্তাকার হয়ে যেত।

১৮৫০ এর দশকে গণিতবিদ জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল হিসাব করে দেখান, সত্যিকার অভিকর্ষ বলের ক্ষেত্রে সমতল পৃথিবীর ধারণাটা টেকে না। যে কারণে সমতল পৃথিবীতে অভিকর্ষ বল কাজ না করার সম্ভাবনাই বেশি।

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের বাইরে অভিকর্ষ শূন্য পরিবেশে কাজ করছেন দুই নভোচারী। ছবি: এএফপি



অথবা চাকতি আকৃতির সমতল পৃথিবীতে অভিকর্ষ সবকিছুকে কেন্দ্র বা উত্তর মেরুর দিকে টানবে। তেমনটা হলে, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির লামোন্ট-ডর্টি আর্থ অবজারভেটরির ভূতত্ত্ববিদ জেমস ডেভিসের মতে, উত্তর মেরু থেকে আপনি যতটা দূরে থাকবেন আপনার প্রতি চাকতির কেন্দ্রের দিকে সমান্তরাল অভিকর্ষের প্রভাব ততটা বেশি থাকবে। বিশ্বজুড়ে এটা একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।

তবে লং জাম্পের বিশ্বরেকর্ড খুব সহজেই ভাঙা যাবে (যদি আপনি উত্তরের দিকে মুখ করে লাফ দেন)।

২. বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব থাকত না

অভিকর্ষ বল না থাকলে চাকতি পৃথিবী এর চারদিক ঘিরে রাখা গ্যাসের স্তর যা বায়ুমণ্ডল নামে পরিচিত, তাকে ধরে রাখতে পারত না। অভিকর্ষের কারণেই এই আবরণটি আমাদের গ্রহকে ঘিরে থাকে। এই সুরক্ষা বলয় ছাড়া পৃথিবীর আকাশের রঙ হবে কালো। কারণ সূর্যের আলো পড়ার পর প্রতিসরিত হওয়ার আর কোনো মাধ্যম থাকবে না, যার কারণে আমাদের বহু পরিচিত নীল আকাশ আর দেখা যাবে না।

বিবিসির সায়েন্স ফোকাসে প্রাণিবিদ লুইস ভিলাজোন লিখেছেন, বায়ুমণ্ডলের চাপ না থাকায় মহাকাশের শূন্যতায় উন্মোচিত হবে গাছ ও সব জীব। নিঃশ্বাস নিতে না পারার কারণে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুবরণ করবে সব প্রাণি ও উদ্ভিদ।

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
নাসার আঁকা ছবিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব। ছবি: এএফপি



গ্রহের চারদিকে বায়ুমণ্ডল না থাকলে, পৃথিবীপৃষ্ঠের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মহাশূন্যে উড়ে যাবে। কারণ এর বাষ্পের চাপ পৃথিবীর বায়ুচাপের সমান হলে পানি ফুটতে শুরু করে। নিম্ন বায়ুমণ্ডলের চাপ মানে, পানির স্ফূটনাঙ্কও কমে আসবে।

গ্রহকে উষ্ণ রাখার মতো বায়ুমণ্ডল চারদিকে না থাকলে, ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হ্রাস পাবে ও অবশিষ্ট পানি জমে যাবে।

তবে সবই যে খারাপ হবে তা কিন্তু নয়। গভীর সমুদ্রের কিমোসিন্থেটিক ব্যাকটিরিয়ার মতো অনুজীব, যাদের বেঁচে থাকতে অক্সিজেন প্রয়োজন হয় না, তারা টিকে থাকবে। সে ধরনের ব্যাকটিরিয়াগুলো মহাকাশে যাত্রা করেও ফিরে এসেছে।

৩. বৃষ্টি হতো আনুভূমিক

পৃথিবীর চাকতির কেন্দ্র বা উত্তর মেরুর দিকে যদি অভিকর্ষ বল কাজ করে, তাহলে বৃষ্টিও সেদিকে হবে। এর কারণ হচ্ছে, অভিকর্ষের জন্যে বৃষ্টি পৃথিবীতে পড়ে। একই কারণে অভিকর্ষের টান সবচেয়ে শক্তিশালী যেদিকে হবে, সেদিকেই বৃষ্টিপাত হবে।

একমাত্র চাকতির কেন্দ্রেই বায়ুমণ্ডল আমরা সাধারণ পৃথিবীতে যেমনটা দেখি তেমন আচরণ করবে, অর্থাৎ বৃষ্টি ওপর থেকে নিচে পড়বে। কেন্দ্র থেকে যতটা দূরে যাওয়া যাবে, বৃষ্টি ততটা সমান্তরাল হতে থাকবে।

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় টেনিস সেন্টারের বাইরে বৃষ্টিপাত। ছবি: এএফপি



কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির লামোন্ট-ডর্টি আর্থ অবজারভেটরির মতে, নদী এবং সমুদ্রের পানিও উত্তর মেরুতে প্রবাহিত হবে। যার অর্থ বিশাল সমুদ্রগুলো গ্রহের কেন্দ্রস্থলে জমা হবে ও প্রান্তের দিকে কার্যত কোনো পানি থাকবে না।

৪. আমরা সবাই পথ হারিয়ে ফেলতাম

পৃথিবী চাকতির মতো হলে এর কোনো স্যাটেলাইট থাকবে না, কারণ কোনো কক্ষপথ থাকবে না তাদের। জেমস ডেভিস বলেন, ‘আমাদের সামাজিক জীবন নির্ভর করে এমন অনেক স্যাটেলাইট কাজই করবে না। সমতল পৃথিবীতে জিপিএস কীভাবে কাজ করবে সেটা আমার জানা নেই।’

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
যুক্তরাষ্ট্রের একটি জিপিএস কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট। ছবি: সংগৃহীত



সুপারমার্কেটের একেবারে তরতাজা প্রোডাক্ট পাওয়ার জাস্ট-ইন-টাইম থেকে শুরু করে ভ্রমণের তথ্য ও জিপিএস সার্ভিসের জন্য আমাদের নির্ভর করতে হয় গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমস (জিএনএসএস) এর ওপর। আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে ইমার্জেন্সি সেবাগুলো জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করে কলারের অবস্থান যাচাই করে। এর অর্থ, জীবন বাঁচাতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ-ব্যবস্থা ভূমিকা রাখছে।

জিপিএসহীন একটি পৃথিবী কল্পনা করা সহজ নয়। বলাই বাহুল্য আমরা হারিয়ে যাব।

৫. কিছু যাত্রা শেষ হতে সারাজীবন লেগে যেত

ভ্রমণের সময় বেড়ে যাবে, এটা কেবল জিপিএস না থাকার কারণেই নয়, যে দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে সে জন্যেও। সমতল-পৃথিবীর বিশ্বাস অনুসারে, আর্কটিক গ্রহের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, আর অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর চারপাশে একটি বিশাল বরফের প্রাচীর গঠন করেছে। এই প্রাচীরটি আক্ষরিক অর্থে মানুষকে পৃথিবী থেকে পড়ে যেতে বাধা দেয়। তবে কেউ যদি উড়তে অক্ষম হন ও বিশ্বজুড়ে উড়ে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন তবে ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
চিলির সান্তিয়াগো বিমানবন্দর থেকে উড়ছে একটি যাত্রীবাহী বিমান। ছবি: এএফপি



উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়া থেকে (যা ফ্ল্যাট-আর্থ মানচিত্রের একপাশে) অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমারডো স্টেশনে (ফ্ল্যাট-আর্থ মানচিত্রের অন্যদিকে) যেতে, আপনাকে পুরো আর্কটিক, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ওপর দিয়ে উড়ে যেতে হবে।

অ্যান্টার্কটিকার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়াটাও মুশকিল হয়ে পড়বে কারণ, চতুর্দিকের বরফের প্রাচীর ভ্রমণকে বাধা দেবে।

৬. অরোরা থাকত না, আমরা পুড়ে যেতাম

নাসার মতে, বৃত্তাকার পৃথিবীর ভেতর লোহার তৈরি কেন্দ্রকে ঘিরে ঘুরতে থাকা গলিত ধাতব পদার্থের ঘূর্ণনের জন্য বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি হয়। এটি পৃথিবীর এক মেরু থেকে আরেক মেরু পর্যন্ত উপস্থিত চৌম্বকীয় ক্ষেত্র সৃষ্টির মূল কারণ।

সমতল পৃথিবীতে, কোনো নিরেট কেন্দ্র থাকবে না ওইরকম একটা চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে সুরক্ষা দেয়াল বা ম্যাগনিটোস্ফিয়ার সৃষ্টি করার জন্য। যার কারণে থাকবে না অরোরাও।

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
নরওয়ের উনস্তাদের আকাশে নর্দার্ন লাইটস। ছবি: এএফপি



নর্দার্ন লাইটস নামে পরিচিত এই আলোক ছটাগুলো আসলে সূর্য থেকে আসা চার্জযুক্ত কণা ম্যাগনিটোস্ফিয়ারে উপস্থিত অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের কণায় ধাক্কা খাওয়ার ফলে উৎপন্ন হওয়া এনার্জি।

তবুও, অরোরার অভাবের চেয়ে বড় মাথাব্যাথা হয়ে দাঁড়াবে সৌর বায়ু থেকে অরক্ষিত হয়ে পড়া পৃথিবী। নাসার মতে, পৃথিবী ও এর পৃষ্ঠের সবকিছুর উপর ক্ষতিকারক সৌর বিকিরণের বর্ষণ হবে। যার কারণে প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহের মতো একটি বন্ধ্যা গ্রহে পরিণত হবে পৃথিবী।

৭. আমাদের সবার আকাশ একরকম হতো

সমতল পৃথিবীতে বর্তমান বৃত্তাকার পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডল বিভক্ত থাকবে না। ফলে উত্তর গোলার্ধ বা দক্ষিণ গোলার্ধে আছি কিনা সেটার ওপর নির্ভর করে দিন বা রাতের তারতম্য হতো না। আর চাকতি আকৃতির গ্রহের যেকোনো জায়গা থেকেই শুধু রাতের আকাশ দেখা যেত।

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
উরুগুয়ের মন্তেভিদিওর রাতের আকাশে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির দৃশ্য। ছবি: এএফপি



আমরা যদি রাতের আকাশের একটা অংশই সবসময় দেখতাম তাহলে ভূ-পৃষ্ঠের অনেক আবিষ্কার, যেগুলো পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান মহাবিশ্বে আমাদের ৩৬০ ডিগ্রি দেখার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে, হতো না। আমাদের শুধু মহাকাশ-নির্ভর টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাবিশ্বের দিকে তাকাতে হতো।

৮. ঘূর্ণিঝড় বা হারিকেন হতো না

প্রতিবছরই সাইক্লোন, বা হারিকেনে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। ২০১৭ সালে হারিকেন হার্ভি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছিল। এই সাইক্লোনের ঘূর্ণন তৈরি হয় পৃথিবির কোরিওলিস এফেক্ট থেকে। উত্তর গোলার্ধে সাইক্লোনের ঘূর্ণন ঘড়ির কাঁটার দিকে আর দক্ষিণ গোলার্ধে কাঁটার বিপরীতে।

পৃথিবী গোল না হয়ে সমতল হলে কী হতো?
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর সেন্টার ফর কো-অপারেটিভ রিসার্চ ইন দ্য অ্যাটমস্ফিয়ার প্রকাশিত সাইক্লোন ইয়াসের ছবি। ছবি: এএফপি



সমতল পৃথিবীতে কোনো কোরিওলিস এফেক্ট থাকবে না। যার অর্থ কোনো, হারিকেন, টাইফুন বা সাইক্লোনও থাকবে না। নাসার মতে, এই একই কারণে আমরা বিষুবরেখার ৫ ডিগ্রি উত্তর বা দক্ষিণে কখনই এই ধরনের ঝড় দেখি না, কারণ বিষুবরেখা বরাবর কোরিওলিস এফেক্ট শূন্য।

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে মহাকাশে ফের অভিযান চীনের

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ২য় মহাকাশযান পাঠাল চীন। ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাকাশযানটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

মহাকাশে নিজেদের একটি স্টেশনের কোর মডিউলের উদ্দেশে তিন নভোচারীসহ রকেট পাঠিয়েছে চীন। নভোচারীদের একজন নারী ও দুজন পুরুষ। চীনের আগামী স্পেস স্টেশনটির কোর মডিউলে তারা ছয় মাস কাজ করবেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, লং মার্চ-২এফ নামের রকেটটি শেনঝাউ-১৩ মহাকাশযান বহন করে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এটি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গানসুর জিকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়।

চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রকেটটি সফলভাবে স্পেস স্টেশনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। নভোচারীরা সকাল ১০টার দিকে স্পেস স্টেশনের কোর মডিউলে প্রবেশ করেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে স্পেস স্টেশন নির্মাণ শুরু করে চীন। ওই সময় স্টেশনটির তিনটি মডিউলের মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে বড় মডিউল তিয়ানহে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। স্পেস স্টেশনটির নির্মাণ শেষ হলে বাসের চেয়ে আকৃতিতে কিছুটা বড় তিয়ানহেতে থাকবেন নভোচারীরা।

শেনঝাউ-১৩ চারটি মহাকাশ অভিযানের মধ্যে দ্বিতীয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্পেস স্টেশন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে মহাকাশে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রথম মহাকাশযানে চড়ে অন্য তিন নভোচারী তিয়ানহেতে ৯০ দিন অবস্থান করেন।

সাম্প্রতিক অভিযানে তিয়ানহের মূল প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স পরীক্ষা করবেন নভোচারীরা।

এই অভিযানের কমান্ডার ৫৫ বছর বয়সী ঝাই ঝিগ্যাং। নব্বই দশকের শেষের দিকে চীনের নভোচর প্রশিক্ষণার্থীদের প্রথম ব্যাচের একজন ঝিগ্যাং। চীনের এক গ্রামে জন্ম নেয়া ঝিগ্যাং ২০০৮ সালে দেশটির প্রথম মহাকাশ অভিযানে ছিলেন।

শেনঝাউ-১৩ ঝিগ্যাংয়ের দ্বিতীয় মহাকাশ অভিযান।

মহাকাশে যাত্রার আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ঝিগ্যাং বলেন, ‘সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হচ্ছে, কক্ষপথে টানা ছয় মাস থাকা। এ অভিযান শরীর ও মনের একাগ্রতা দাবি করে।’

স্পেস স্টেশন নির্মাণে ঝিগ্যাংয়ের সঙ্গে থাকছেন ৪১ বছর বয়সী ওয়াং ইয়াপিং ও ইয়ে গুয়াংফু।

দৃঢ় মনোবলের জন্য সহকর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত ইয়াপিং। চীনের বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট ইয়াপিং ২০১৩ সালে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশে যাওয়া চীনের নারী নভোচারীদের মধ্যে ইয়াপিং দ্বিতীয়। এর আগে ২০১২ সালে লিউ ইয়াং মহাকাশে যান।

তৃতীয় নভোচারী গুয়াংফুর এটাই প্রথম মহাকাশ অভিযান।

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন

১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর

১২ হাজার বছর আগেও ছিল পোষা কুকুর

কোস্টারিকায় পাওয়া গেছে ১২ হাজার বছর আগের এক কুকুরের জীবাশ্ম। ছবি: এএফপি

কোস্টারিকার গবেষক গুইলেরমো ভারগাস বলেন, ‘হাড়টির জীবাশ্ম নিয়ে পরীক্ষার একপর্যায়ে জানতে পারি, ১২ হাজার বছর আগে কোস্টারিকায় মানুষের সঙ্গে ওই কুকুর বসবাস করত। এটি মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর হতে পারে।’

১২ হাজার বছর আগের একটি চোয়ালের হাড়ের জীবাশ্ম সম্প্রতি পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ভাষ্য, ওই হাড়টি মধ্য আমেরিকায় পোষা কোনো কুকুরের। আর এ বিষয়ে নিশ্চিত হলে ওই কুকুরটিই হবে ওই অঞ্চলে বাস করা সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাইস্টোসিন যুগের কয়েকটি হাড়ের জীবাশ্ম নব্বই দশকে হন্ডুরাসের নাকাওম শহরে পান গবেষকরা।

ওই সব হাড়ের জীবাশ্মের মধ্যে অতিকায় ঘোড়া ইকুয়াস, বিশালাকৃতির আর্মাডিলো গ্লিপটোডোন, আধুনিক যুগের হাতির পূর্বপুরুষ মাস্টোডোন ও একটি চোয়াল ছিল। চোয়ালের হাড়ের জীবাশ্মকে শুরুতে কোয়োটির খুলি ভেবেছিলেন গবেষকরা।

কোস্টারিকার গবেষক গুইলেরমো ভারগাস বলেন, ‘১২ হাজার বছর আগে প্লাইস্টোসিন আমলের একটি কোয়োটির হাড়ের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে শুনে প্রথমে আমরা বেশ অবাক হই। কারণ কোস্টারিকায় বিংশ শতাব্দীতে কোয়োটিরা এসেছিল, তার আগে নয়। বুঝতে পারি, ওই হাড় কোনোভাবেই কোয়োটির হতে পারে না।

‘আমরা হাড়টি পরীক্ষা করা শুরু করি। পরীক্ষার পর আমাদের ধারণা হয়, এটি কোনো কুকুরের হতে পারে।

‘আমরা এটি নিয়ে আরও পরীক্ষা করি। একপর্যায়ে জানতে পারি, ১২ হাজার বছর আগে কোস্টারিকায় মানুষের সঙ্গে ওই কুকুর বসবাস করত। এটি মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কুকুর হতে পারে।’

কোয়োটি পোষা কুকুর প্রজাতির। তবে তাদের চোয়ালের গড়ন ভিন্ন। দাঁতও অনেক ধারালো।

ধারণা করা হয়, বরফ যুগের শেষের দিকে মানুষ সাইবেরিয়া থেকে আলাস্কায় আসা শুরু করে। পরে আমেরিকাজুড়ে তারা ছড়িয়ে পড়ে।

মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনমাস ইউনিভার্সিটির বায়োলজিস্ট ও জু আর্কিওলজিস্ট রাউল ভ্যালাডেজ বলেন, ‘প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে এশিয়া থেকে বেরিং প্রণালি পাড়ি দিয়ে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে প্রথম পোষা কুকুর আসে।

‘মানুষের সঙ্গ ছাড়া কোনো কুকুর সে সময় একা থাকত না।’

প্লাইস্টোসিন যুগে মেক্সিকো, চিলি ও প্যাটাগনিয়ায় মানব বসতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে মধ্য আমেরিকায় সে সময় মানব বসতির অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আমেরিকায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন কুকুরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে আলাস্কায়। ১০ হাজার ১৫০ বছর আগে ওই কুকুরটি উত্তর আমেরিকায় বাস করত।

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন

২৭০০ বছর আগেও বিয়ার খেত মানুষ

২৭০০ বছর আগেও বিয়ার খেত মানুষ

অস্ট্রিয়ার লবণ খনির শ্রমিকদের মলের নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকরা বিয়ার ও ব্লু চিজ খাওয়ার প্রমাণ পান। ছবি: এএফপি

ইতালির ইরিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও গবেষণা প্রতিবেদনটির মূল লেখক ফ্র্যাঙ্ক মেক্সনার বলেন, ‘দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে লবণ খনির শ্রমিকরা গাঁজন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছি। সে সময়ের মানুষ চিন্তার দিক থেকে অনেক উন্নত ছিল।’

বিয়ার আর ব্লু চিজ বহু বছর ধরে মানুষ খেয়ে আসছে। এটা নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে ২ হাজার ৭০০ বছর আগেও যে ইউরোপীয়রা এসব খেত, এটা কারো ধারণায়ও ছিল না। সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে স্থানীয় সময় বুধবার এসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ হাজার ৭০০ বছর আগে অস্ট্রিয়ার হলস্ট্যাট শহরের একটি লবণ খনির শ্রমিকদের মলের নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকরা জানতে পারেন, ওই শ্রমিকরা বিয়ার ও ব্লু চিজ খেতেন।

ইতালির ইরিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও গবেষণা প্রতিবেদনটির মূল লেখক ফ্র্যাঙ্ক মেক্সনার বলেন, ‘দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে লবণ খনির শ্রমিকরা গাঁজন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছি। সে সময়ের মানুষ চিন্তার দিক থেকে অনেক উন্নত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ওই শ্রমিকরা বেশ অগ্রসর ছিলেন। আমি এটা আশা করিনি।’

ওই আমলে মানুষজন মদ খেত, তা প্রত্নতাত্ত্বিকদের লেখা ঘাটলেই পাওয়া যায়। তবে অস্ট্রিয়ার শ্রমিকদের মধ্যে এত আগে বিয়ার খাওয়ার চল ছিল, তা এই প্রথম জানা গেল।

অস্ট্রিয়ার মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির কর্মকর্তা কারস্টিন কোয়ারিক বলেন, ‘নতুন এই তথ্য এটাই প্রমাণ করে, প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষজন রান্নাবান্নায় শুধু অগ্রসর ছিল, তা-ই নয়; তারা গাঁজনের মতো জটিল ও তুলনামূলক আধুনিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে খাবারও তৈরি করত।’

ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে পরিচিত অস্ট্রিয়ার হলস্ট্যাট শহরে তিন হাজার বছরের বেশি আগ থেকেই লবণ উৎপাদন হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লেখক মেক্সনার বলেন, ‘ওই শ্রমিকরা অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালায় বসবাস করতেন। শ্রমিকদের ওই পুরো সম্প্রদায় খনিতে কাজ করতেন। খনিতে কাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।

‘পুরোটা দিন ওই শ্রমিকরা খনিতে কাজ করার পাশাপাশি সেখানেই খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে মলমূত্র ত্যাগ করতেন।’

আল্পসের সারা বছরের প্রায় আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের গড় তাপমাত্রা ও খনিতে লবণের উচ্চ ঘনত্ব- এই দুইয়ের কারণে শ্রমিকদের মল এত বছর সুরক্ষিত ছিল।

গবেষকরা শ্রমিকদের মলের চার ধরনের নমুনা পরীক্ষা করেন। একটি মল ব্রোঞ্জ ও দুটি মল লৌহ যুগের। আর শেষেরটি অষ্টাদশ শতাব্দীর মল।

ওই মলগুলোর মধ্যে একটি প্রায় ২ হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো। এটিতে পেনিসিলিয়াম রকেফরটি ও সাকারোমাইসিস সিরেভিসিআই নামের দুটি ছত্রাক পাওয়া যায়। এই দুটি ছত্রাক আজকের যুগে খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

গবেষকরা ওই শ্রমিকদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও গবেষণা করেন। তারা জানতে পারেন, মূলত সিরিয়াল, ফল, বিনস ও মাংস প্রোটিনের উৎস হিসেবে ওই অস্ট্রিয়ানরা খেতেন।

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন

‘কেমিক্যালের সংস্পর্শে’ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে মৃত্যু ১ লাখ

‘কেমিক্যালের সংস্পর্শে’ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে মৃত্যু ১ লাখ

বহুল ব্যবহৃত ক্যামিকেলের সংস্পর্শে বছরে ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদনের মূল লেখক লিওনার্দো ট্রাসেনডে বলেন, ‘বেশি মাত্রায় থেলেটের সংস্পর্শে এলে অকাল মৃত্যু বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে।’

প্লাস্টিকের পাত্র থেকে শুরু করে কসমেটিক্স পণ্যে রাসায়নিক পদার্থ থেলেটের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। এসব সামগ্রীর সংস্পর্শে প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখ বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলনা, কাপড়, শ্যাম্পুসহ হাজারো পণ্যে থেলেটজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ পদার্থ ‘হরমোনের জন্য ক্ষতিকারক’ হিসেবে পরিচিত। এটি মানুষের এন্ডোক্রিন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ওই সব পণ্য থেকে ক্ষতিকর পদার্থ মানবদেহে প্রবেশ করে। এসব পদার্থ স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের জন্য দায়ী।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিন পরিচালিত গবেষণায় ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী পাঁচ হাজার ব্যক্তি অংশ নেন।

গবেষণা বলছে, ওই ব্যক্তিদের প্রস্রাবে থেলেটের উচ্চ ঘনত্ব তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

প্রস্রাবে থেলেটের উচ্চ ঘনত্ব অংশগ্রহণকারীদের ক্যানসারে মৃ্ত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়, এমনটা গবেষণায় জানা যায়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লেখক লিওনার্দো ট্রাসেনডে বলেন, ‘বেশি মাত্রায় থেলেটের সংস্পর্শে এলে অকাল মৃত্যু বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি, হৃদরোগের সঙ্গে রাসায়নিক পদার্থের সংযোগ রয়েছে। আর হৃদরোগ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

‘তবে রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সংযোগ আমরা এখনও পাইনি। কারণ থেলেটের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্কের নির্দিষ্ট জৈবিকপ্রক্রিয়া আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।’

গবেষক ট্রাসেনডে বলেন, ‘আশপাশে এই রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি। কম মাত্রায় থেলেটের ব্যবহার আমেরিকানদের শারীরিকভাবে সুরক্ষা দেবে- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন

১৫ লাখ বছর আগের জলহস্তীর দাঁত

১৫ লাখ বছর আগের জলহস্তীর দাঁত

সম্প্রতি প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক জলহস্তীর দাঁত খুঁজে পান গবেষকরা। ছবি: ইউনিভার্সিটি অফ লেস্টার

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্যালিওন্টলজিস্ট ড্যানিয়েল স্ক্রিভ বলেন, ‘জলহস্তীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে তাদের সম্পর্কেই শুধু জানা যায়, তা নয়; একই সঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক আমলের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।’

প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক জলহস্তীর দাঁত সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ওই দাঁত পরীক্ষা করে তারা জানতে পেরেছেন, আমাদের ধারণারও অনেক আগে অর্থাৎ প্রায় ১৫ লাখ বছর আগে যুক্তরাজ্যজুড়ে জলহস্তীরা ঘুরে বেড়াত।

পাশাপাশি জলহস্তীর ওই দাঁত প্রাচীনকালের জলবায়ু সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ লেস্টারের জীবাণুবিদ নিল অ্যাডামস টুইটবার্তায় বলেন, ‘বিলুপ্ত হিপোপটেমাস অ্যান্টিকুয়াস প্রজাতির জীবাশ্মের সঙ্গে দাঁতটির মিল পাওয়া গেছে।’

যুক্তরাজ্যে একসময় অতিকায় পশমাবৃত ম্যামথ, কেইভ লাওন, পশমাবৃত গণ্ডার, সিংহাকৃতির হায়েনা, বিশাল জলহস্তীর মতো প্রচুর বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। এখন শুধু রেড ডিয়ারই দেশটিতে দেখা যায়।

৩ হাজার ২০০ কেজি ওজনের প্রাগৈতিহাসিক জলহস্তী এখনকার জলহস্তীর চেয়ে আকারে দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে গ্রিস, জার্মানি ও ফ্রান্সে এসব প্রজাতির জীবাশ্ম পাওয়া যায়।

ইংল্যান্ডের সামারসেট কাউন্টিতে পাওয়া দাঁতটি অন্যান্য জলহস্তীর দাঁতের সঙ্গে তুলনা করেন জীবাণুবিদ অ্যাডামস ও তার সহকর্মীরা। এটি ১৫ লাখ থেকে ১০ লাখ ৭০ হাজার বছর আগের এক জলহস্তীর বলে ধারণা তাদের।

অ্যাডামস বলেন, ‘ইংল্যান্ড থেকে এই প্রথম জলহস্তীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তা নয়; বরং ৭ লাখ ৫০ হাজার বছরের বেশি পুরোনো জলহস্তীর জীবাশ্মপ্রাপ্তি এটাই প্রথম।’

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, বিলুপ্ত হিপোপটেমাস অ্যান্টিকুয়াস প্রজাতির জলহস্তী আজকের যুগের জলহস্তীর চেয়ে বেশি জলজ জীবনধারায় নির্ভরশীল ছিল। ওই প্রাণীর অন্যান্য জীবাশ্ম পরীক্ষা করে জানা যায়, তাদের অক্ষিকোটরের অবস্থান খুলির বেশ ওপরে। দেহের আকারের তুলনায় এদের পা ছোট। অতিকায় প্রাগৈতিহাসিক জলহস্তী প্রথম দিকে জলজ উদ্ভিদ খেত।

ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের প্যালিওন্টলজিস্ট ড্যানিয়েল স্ক্রিভ বলেন, ‘প্রকাণ্ড জলহস্তীর জীবাশ্মের খোঁজ পাওয়াই শেষ কথা নয়। জলহস্তীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে তাদের সম্পর্কেই শুধু জানা যায়, তা নয়; একই সঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক আমলের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন

দেশে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন

দেশে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়। একে মাছের ক্যান্সারও বলা হয়। প্রতি বছর অনেক মাছ ক্ষত রোগে মারা যায়। বাইরের অনেক দেশে মাছের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলেও আমাদের দেশে এখনও শুরু হয়নি।’

বাংলাদেশে মাছের জন্য প্রথম ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) এক শিক্ষক।

এই ভ্যাকসিন মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত একাধিক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে ও মৃত্যুহার কমিয়ে উৎপাদন বাড়াবে বলে আশা এর উদ্ভাবক সিকৃবির মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের।

২০১৬ সাল থেকে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করা এই অধ্যাপক নিউজবাংলাকে জানান, এরোমোনাস হাইড্রোফিলা নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাছের ক্ষত রোগ, পাখনা পচাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এতে প্রতি বছর প্রচুর মাছ মারা যায়। তবে এই উপমহাদেশে মাছের ভ্যাকসিন নিয়ে তেমন কাজ হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের নাম দেয়া হয়েছে বায়োফ্লিম।

উদ্ভাবক বলেন, ‘আমরা সিকৃবির গবেষণাগারে কিছু পাঙ্গাশ মাছের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রবেশ করিয়ে ৮৪ শতাংশ সফলতা পেয়েছি। এরপর মাঠ পর্যায়ে এটি প্রয়োগ করা হবে।

‘আগামী মার্চ থেকে সিলেটের বিভিন্ন পুকুরের মাছের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি পুকুরও নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফলতা মিললেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে মাছকে খাওয়ানো হবে জানিয়ে মামুন বলেন, ‘এই ভ্যাকসিন ব্যাপক আকারে উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের যে সক্ষমতা আছে তাতে প্রতি মাসে ১০০ মিলিলিটার উৎপাদন করতে পারব। এই পরিমাণ ভ্যাকসিন ১ কেজি মাছের খাবারের সঙ্গে মেশানো যাবে।

‘এই গবেষণা কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়। একে মাছের ক্যান্সারও বলা হয়। প্রতি বছর অনেক মাছ ক্ষত রোগে মারা যায়।

‘বাইরের অনেক দেশে মাছের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলেও আমাদের দেশে এখনও শুরু হয়নি। ক্ষত রোগ থেকে মুক্ত রাখতে আমরা সাধারণনত জলাশয়ে চুন ও লবণ ব্যবহার করে থাকি।’

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের বিষয়টি তিনি এখনও না জানলেও বলেন, ‘মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা গেলে উৎপাদন অনেক বাড়বে।’

সিকৃবির মৎস্য অনুষদ সূত্রে জানা যায়, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, চিলিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছের জন্য ২৮ ধরনের ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হয়েছে। স্বাদুপানিতে চাষযোগ্য মাছে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৪০ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে মাছের বিভিন্ন রোগের কারণে মড়ক দেখা দেয়। এতে প্রচুর পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় চাষি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আমার আশা, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত ভ্যাকসিন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অবদান রাখবে।’

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন

একা কথা বলা সারায় তোতলামি: গবেষণা

একা কথা বলা সারায় তোতলামি: গবেষণা

শ্রোতা না থাকলে তোতলামি বন্ধ হয়ে যায় বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়। ছবি: সায়েন্স এলার্ট

গবেষক জ্যাকসন বলেন, ‘ওই পরিবেশে অংশগ্রহণকারীরা একা রয়েছেন, এটা তাদের বিশ্বাস করাতে আমরা অভিনব পদ্ধতির আশ্রয় নিই। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা ওই পরিবেশে তোতলান না।’

বিশ্বের সাত কোটির বেশি মানুষ তোতলায় বলে ধারণা করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও মাঝেমধ্যে ভাষণে তোতলান। কেন মানুষ তোতলায় এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তোতলামির সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। এর মাধ্যমে তোতলামির চিকিৎসা করা যাবে বলেও মনে করছেন তারা।

সাম্প্রতিক ওই গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা জানতে পারেন, প্রাপ্তবয়স্করা যদি মনে করেন, তাদের কথা কেউ শুনছে না, তাহলে তাদের তোতলামি আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যায়।

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এতে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন, কথা বলার সময় তাদের চারপাশে কেউ ছিল না। তারা কী বলছেন, তা কেউ শোনেনি। ভিন্ন এই পরিস্থিতি সৃষ্টির ফলে তোতলামো থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তায় পরিবর্তন এ গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজিস্ট ও গবেষক এরিক জ্যাকসন বলেন, ‘বলা হয়, একা থাকলে তোতলামি থাকা ব্যক্তিরা তোতলান না।

‘তবে ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ তোতলানো ব্যক্তিরা ল্যাবে একা রয়েছেন, চারপাশে কেউ নেই, এটি তাদের আশ্বস্ত করা বেশ কঠিন।’

গবেষকরা ২৩ জন অংশগ্রহণকারীকে এ গবেষণায় যুক্ত করেন। পাঁচটি ভিন্ন পরিবেশে তাদের কথা বলা পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার অংশ হিসেবে ভলান্টিয়ারদের জোরে জোরে পড়তে বলা হয়। কখনো বা তাদের নিজে নিজে কথা বলতে বলা হয়, যেখানে তাদের বোঝানো হয় তাদের কথা কেউ শুনছে না। দুজন শ্রোতাকে একা একা বলা ওই কথাগুলো শোনানোর পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের গবেষকদের সঙ্গে আলাদা দুটি বাক্যালাপ করতে বলা হয়।

নিজে নিজে কথা বলার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের তিনটি কম্পিউটার কোডিং টাস্ক সম্পূর্ণ করতে বলা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের গবেষকরা মিথ্যা বলেন যে কম্পিউটার টাস্ক করার সময় তাদের কথা কেউ শুনছে না। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি সেসব রেকর্ডও করেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একমাত্র ওই পরিবেশেই সব অংশগ্রহণকারীর তোতলামো একেবারে ছিল না বললেই চলে।

গবেষক জ্যাকসন বলেন, ‘ওই পরিবেশে অংশগ্রহণকারীরা একা রয়েছেন, এটা তাদের বিশ্বাস করাতে আমরা অভিনব পদ্ধতির আশ্রয় নিই। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা ওই পরিবেশে তোতলান না।’

পরীক্ষা চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যে মিথ্যা বলা হয়, তা পরে তাদের জানানো হয়। জানার পর সব অংশগ্রহণকারী ওইভাবে পরীক্ষা চালিয়ে যেতে সম্মত হন।

কোনো শ্রোতা না থাকায় কেন অংশগ্রহণকারীদের তোতলামি বন্ধ হয়ে যায়, এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি গবেষকরা।

তবে গবেষকরা মনে করছেন, কথা বলার সময় মানুষজন থাকলে তারা তাদের মূল্যায়ন করবে- এমন অনুভূতি অংশগ্রহণকারীদের কথাবার্তার সাবলীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

জেনেটিক্স ও নিউরোফিজিক্স মিলে তোতলামিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে সামাজিক কোনো বাস্তবতায় শিশুরাও তোতলায়, তা এখনো জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

জ্যাকসন বলেন, ‘আমি মনে করি, তোতলামি শুধু স্পিচ সমস্যা নয়। শক্তিশালী সামাজিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমার ধারণা।’

আরও পড়ুন:
মানসিক প্রশান্তি পেতে লেখালেখি
এই অণুজীবের আয়ু ২৪ হাজার বছর
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির
গাড়ি কেনার আগেই তেলে গেল ২৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা!
ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

শেয়ার করুন