অ্যাসিডিটি সমাধানে ঘরোয়া পদ্ধতি

অ্যাসিডিটি সমাধানে ঘরোয়া পদ্ধতি

এক লিটার পানিতে এক চা-চামচ জিরা ও এক চা-চামচ কাঁচা জোয়ান ভেজান। সকালে খালি পেটে এই পানিটা ছেঁকে পান করুন।

অ্যাসিডিটির সমস্যায় কম-বেশি সবাই ভুগছি। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা অ্যান্টাসিডের আশ্রয় নিই। তবে দীর্ঘদিন অ্যান্টাসিড খেলে নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া সমাধানের দিকে নজর দিন।


লেবুপানি

ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে লেবুপানি খেয়ে দেখতে পারেন। বেশির ভাগ অ্যাসিডিটির সমস্যা এতেই চলে যাবার কথা। লেবুর প্রভাবে আপনার সিস্টেম অ্যালকালাইজড বা ক্ষারীয় হবে, বাড়তি অ্যাসিডের প্রভাব কেটে যাবে। তবে যারা লেবুপানি হজম করতে পারেন না, তারা এটি এড়িয়ে চলবেন।


জিরা ও জোয়ানের পানি

এক লিটার পানিতে এক চা-চামচ জিরা ও এক চা-চামচ কাঁচা জোয়ান ভেজান। সকালে খালি পেটে এই পানিটা ছেঁকে পান করুন। জিরা আর জোয়ান হজমশক্তি বাড়ায়। কমে অ্যাসিডিটির সমস্যা।



মৌরি ভেজানো পানি

এক চা-চামচ মৌরি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে খালি পেটে ছেঁকে খেয়ে নিন। বিশেষ করে গর্ভবতী ও স্তন্যদান করছেন এমন মায়েদের ক্ষেত্রে এই ঘরোয়া সমাধানটি দারুণ কাজের।



ঠান্ডা দুধ

ঠান্ডা দুধের ক্যালশিয়াম বাড়তি অ্যাসিড শোষণ করে নেয়। তাই অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ঠান্ডা দুধ পান করেন। আপনিও করে দেখতে পারেন। তবে যাদের দুধ হজম করতে সমস্যা হয়, এটা পান করবেন না।



মাঠা

মাঠার ল্যাকটিক অ্যাসিডও কিন্তু বাড়তি অ্যাসিডের হাত থেকে মুক্তি দিতে খুব কার্যকর। তা ছাড়া এর প্রোবায়োটিকের প্রভাবেও অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে আসে।



আদা

হজম-সংক্রান্ত নানান সমস্যার সমাধানে আদা দারুণ কার্যকর। যারা অ্যাসিডিটিতে ভুগছেন, তারা এক ইঞ্চি আদা আর গোটা চার-পাঁচ পুদিনার পাতা ভালো করে ধুয়ে ফুটিয়ে নিন। ফোটানো পানিটা চায়ের মতো চুমুক দিয়ে দিয়ে পান করুন।

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাগ বশ করবেন যেভাবে

রাগ বশ করবেন যেভাবে

নিজেকে সময় দিন। যে কারণে রাগ উঠেছে সেটা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ভুলতে না পারলে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করুন। তাতে রাগ কমবে।

কথায় আছে রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। কথাটা জানার পরেও আমরা অনেকেই অল্পতে রেগে যাই। রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি না। দিন শেষে দেখা যায়, রাগের কারণে ক্ষতিটা হয়েছে নিজেরই। তাই আসুন দেখে নিই, কীভাবে রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

কারও ওপরে রেগে গেলে কথা না বাড়িয়ে সেই জায়গা থেকে সরে আসুন। খানিকটা হাঁটুন। মনকে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত করুন। মূল বিষয়টা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারলে রাগ কমে যাবে।

নিজেকে সময় দিন। যে কারণে রাগ উঠেছে সেটা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ভুলতে না পারলে সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করুন। তাতে রাগ কমবে।

সমালোচনা এড়ানোর চেষ্টা করুন। অভিযোগ না করে দেখুন সমঝোতা করে কাজ হাসিল করা যায় কি না। সর্বোপরি নিজেকে ক্ষমাশীল করে তুলুন। এটি রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার সব থেকে কার্যকর উপায়।

যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে ফুরফুরে রাখার চেষ্টা করুন। কৌতুক শুনতে পারেন। শুনতে পারেন পছন্দের কোনো গান। তাতে মন শান্ত হবে।

যখন মনে হবে রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন। মুখ দিয়ে ছাড়ুন। রাগ কমানোর ক্ষেত্রে ইয়োগা বেশ উপকারী।

নিজের সমস্যাগুলো নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে আলোচনা করুন। রাগ কমাতে তাদের সাহায্য নিতে পারেন।

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

চশমার যত্ন কীভাবে

চশমার যত্ন কীভাবে

চশমা মাথার ওপর তুলে রাখবেন না। এতে চশমার অ্যালাইনেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। চশমার লেন্স ঠিক থাকলেও অ্যালাইনেন্ট ঠিক না হলে দেখতে অসুবিধা হয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই চশমা ছাড়া চলে না। জীবনের এই অপরিহার্য সঙ্গীটির যত্ন না নিলে অল্পতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হতে পারে। চলুন দেখে নেই কীভাবে চশমার যত্ন নিতে হবে।

ব্যবহারের নিয়ম

চশমা মাথার ওপর তুলে রাখবেন না। এতে চশমার অ্যালাইনেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। চশমার লেন্স ঠিক থাকলেও অ্যালাইনেন্ট ঠিক না হলে দেখতে অসুবিধা হয়।

মাথা ঢুকিয়ে জামাকাপড় পরার সময় চশমা খুলে রাখুন। নাহলে চশমায় ক্রমাগত চাপ পড়ে ফ্রেম বেঁকে যেতে পারে। আবার চশমা পড়ে গিয়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

ব্যবহার না করলে

ঘুমানোর সময় চশমা খুলে রাখুন। বালিশের পাশে বা নিচে না রেখে কেস ব্যবহার করুন।

চশমা খুলে রাখার সময় লেন্সের দিকটা সবসময় ওপরের দিকে রাখুন। লেন্স নিচের দিকে রাখলে ঘষা লেগে দাগ হতে পারে।

চশমা সরাসরি রোদে রাখবেন না। এমনকি নিজের চশমা অন্য কাউকে পরতে দেবেন না। এতে চশমার ফিটিংস নষ্ট হয়ে যায়। কয়েক মাস অন্তর দোকানে গিয়ে চশমার স্ক্রু অ্যাডজাস্ট করিয়ে নিতে হবে।

চশমা পরিষ্কার করা

নরম সুতি কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চশমার লেন্স পরিষ্কার করুন। শক্ত বা খসখসে কাপড় ব্যবহার করবেন না।

সপ্তাহে এক দিন চশমা ধুয়ে পরিষ্কার করুন। বাটিতে কুসুম গরম পানি নিয়ে কয়েক ফোঁটা তরল সাবান মেশান। ওই পানিতে চশমা কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। চশমা ধোওয়ার পর নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

চশমা পরিষ্কার করার জন্য বাজারে লেন্স ক্লিনার স্প্রে পাওয়া যায়। এই স্প্রে লাগিয়ে সুতি কাপড় দিয়েও চশমা মুছে নিতে পারেন।

চশমা পরিষ্কার করার জন্য অ্যামোনিয়া, ব্লিচ, ভিনিগার বা উইনডো ক্লিনার জাতীয় জিনিস ব্যবহার করবেন না। এগুলো চশমার লেন্স ও কোটিংয়ের ক্ষতি করে।

সতর্কতা

চশমায় ঘাম লাগলে মুছে নিন। ঘাম বসে গেলে ফ্রেমে দাগ হয়ে যায়। তা ছাড়া ঘাম লেন্সেরও ক্ষতি করে। হাত দিয়ে চশমার লেন্স ধরা যাবে না। এতে লেন্সে আঙুলের ছাপ পড়ে যায় এবং দেখতে অসুবিধা হয়।

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

দাগ দূর করার উপায়

দাগ দূর করার উপায়

সুতি কাপড়ে বেবি অয়েল লাগিয়ে নিন। দাগটিতে ভালো করে ঘষুন। ব্যাগ অথবা জুতাটি শুকাতে দিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে এটি কয়েকবার করুন।

বিভিন্ন কারণে মোবাইল ফোন, গাড়ি, সানগ্লাস, চামড়ার জুতায় দাগ পড়ে। অনেকেই ভাবেন, এই দাগগুলো ওঠানো যায় না।

চাইলে সহজ কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব দাগ তুলে ফেলতে পারেন।

গ্লাসের দাগ

মোবাইল ফোনের স্ক্রিন ছাড়াও অন্য যেকোনো কাচের গ্লাসের ওপরে পড়া দাগ তুলতে এক টুকরা সুতি কাপড় অথবা তুলার বলে অল্প টুথপেস্ট লাগিয়ে গ্লাসের স্ক্রিনে ১০ সেকেন্ড ঘষুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মাইক্রোফাইবার ক্লথে সামান্য ভেজিটেবল অয়েল লাগিয়ে মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড ঘষলেও উপকার পাওয়া যাবে। ভেজিটেবল অয়েল না থাকলে ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন।

বেকিং সোডা এবং পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সুতি কাপড়ে সেই পেস্ট নিয়ে মুছলেও দাগ ওঠে যাবে।

চামড়ার দাগ

সুতি কাপড়ে বেবি অয়েল লাগিয়ে নিন। দাগটিতে ভালো করে ঘষুন। ব্যাগ অথবা জুতাটি শুকাতে দিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে এটি কয়েকবার করুন।

নেইল পলিশ দিয়েও চামড়ার ব্যাগের দাগ দূর করা যায়। চামড়ার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নেইল পলিশ নিন। এবার দাগের ওপরে নেইল পলিশ লাগিয়ে দাগ অদৃশ্য করে ফেলতে পারেন।

দাগ তুলতে ব্যবহার করতে পারেন মোমও। সামান্য পরিমাণ মোম আগুনের তাপে গলিয়ে নিন। গলানো মোম ব্যাগ অথবা জুতার দাগের ওপর লাগান। একটি ফ্লানেলের কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

কাঠের দাগ

কাঠের দাগ দূর করতে ওয়ালনাট কার্নেল কার্যকরী। অর্ধেকটা ওয়ালনাট কার্নেল নিয়ে আঁচড়ের ওপর কিছুক্ষণ ঘষুন। আঁচড়ের দাগ গাঢ় হয়ে এলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। তারপর বার্নিশ করে নিন।

প্লাস্টিকের দাগ

প্লাস্টিকের দাগ দূর করতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করুন। দাগের ওপরে হেয়ার ড্রায়ার ধরে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রয়োজন বুঝে তাপমাত্রা বাড়াতে পারেন। ড্রায়ার শেষে কাপড় দিয়ে পলিশ করে ফেলুন।

মেটালের দাগ

স্টেইনলেস স্টিল বা মেটালের দাগ দূর করতে নেইল বাফার ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে দাগের ওপর কিছুক্ষণ ঘষুন।

দাগ তুলতে সাদা টুথপেস্টও ব্যবহার করা যায়। দাগের ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। তবে এই পদ্ধতিতে কেবল হালকা দাগ দূর করা সম্ভব।

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

আমেরিকার বিমানবন্দরে কেন মুসলিম বিদ্বেষ, করণীয় কী?

আমেরিকার বিমানবন্দরে কেন মুসলিম বিদ্বেষ, করণীয় কী?

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এক নারী যাত্রী। ছবি: এএফপি

টিএসএর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় দেখা যায়, যাত্রীদের প্রতি ভদ্র, কিন্তু সতর্ক আচরণ করতে বলা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে- এমন উঁচু গলার আওয়াজ বা শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শন না করার নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হিজাব ও বোরকার মতো ঢিলেঢালা পোশাকে নিষিদ্ধ বস্তু লুকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে ধর্মীয় কারণে যাত্রীদের এটা খুলে ফেলতে বাধ্য করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় প্রায়ই বিমানবন্দরে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন মুসলিম যাত্রীরা। এমন অভিজ্ঞতা, সংকটে করণীয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ভিত্তিক ওয়েবসাইট ভাইস। নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য সেটি অনুবাদ করেছেন রুবাইদ ইফতেখার


নাইন-ইলেভেন হামলার জের ধরে ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিসিএ) প্রতিষ্ঠার পর অনেক মুসলিমের জন্য গত ২০ বছরে আমেরিকান বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর বিমানবন্দরে ইসলামোফোবিয়ার (ইসলাম বিদ্বেষ) শিকার হওয়া মানুষের কী করা উচিৎ সেটি নির্ধারণ করে দেয়া বেশ কঠিন।

সূক্ষ্ম ও স্থূল দুইভাবেই বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন অনেকে। টিএসএ প্রি-চেক করার পরেও স্বাভাবিক সময়ের দুই-তিন ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হন তাসমিহা খান। টিএসএর জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার তার বিমানে চড়তে দেরি হয়েছে। একটি ঘটনা বিশেষভাবে মনে আছে তাসমিহার; ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে স্বামী-সন্তান ও মাসহ তাকে চেকপয়েন্টে আটকানো হয়।

ইলিনয় রাজ্যের বাসিন্দা তাসমিহা বলেন, ‘(আমার ও আমার মার) দুজনের পরনেই হিজাব ছিল। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তারা শুধু আমাদের ডেকেছে।’

টিএসএর কর্মকর্তারা তাকে একটা বডি স্ক্যানারের মধ্যে দিয়ে যেতে বলেন। তাসমিহা অস্বস্তি প্রকাশ করলে তাকে জানানো হয়, স্ক্যানারে না গেলে শরীরে হাত দিয়ে তল্লাশি করা হবে।

টিএসএর এই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার অস্বস্তি প্রতিবারই তাসমিহা অনুভব করেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুবই অপমানজনক। প্রতিবার ফ্লাইটে চড়তে আমি ভয় পাই, কারণ একই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ফ্লাইট ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকলে সেভাবে আমি যেতাম। মুসলিম হওয়া দৃশ্যত আমাকে একটি টার্গেটে পরিণত করেছে।’

তাসমিহার অভিজ্ঞতা ইসলামবিদ্বেষের এমন একটি ধরন যেটি কঠোর কোনো পরিস্থিতি থেকে উদ্ভব হয়। মুসলিম যাত্রীদের টিএসএ চেকপয়েন্টে বিদ্বেষের শিকার হওয়ার বিষয়টি ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্টের (এফওআইএ) অধীনে করা অভিযোগগুলো দেখলেই বোঝা যায়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে পরের বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুসলিম যাত্রীদের প্রতি ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অফিসারদের (টিএসও) করা অপমানসূচক মন্তব্য, জোরপূর্বক তল্লাশি ও আটকসহ বিদ্বেষমূলক আচরণের অন্তত ৭৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এফআইওয়ের কাছ থেকে পাওয়া টিএসএর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় দেখা যায়, যাত্রীদের প্রতি ভদ্র, কিন্তু সতর্ক আচরণ করতে বলা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে- এমন উঁচু গলার আওয়াজ বা শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শন না করার নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হিজাব ও বোরকার মতো ঢিলেঢালা পোশাকে নিষিদ্ধ বস্তু লুকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে ধর্মীয় কারণে যাত্রীদের এটা খুলে ফেলতে বাধ্য করা যাবে না।

জমা পড়া অসংখ্য অভিযোগের মধ্যে আছে, চেকিংয়ের সময় সূক্ষ্ম ও স্থূল বিদ্বেষ ঘটনা এবং জোরপূর্বক তল্লাশির অনেক উদাহরণ। কিছু ক্ষেত্রে অহেতুক যাত্রীর শরীরে হাত দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে, সেই সঙ্গে ছিল ইসলাম বিদ্বেষী মন্তব্য (এক যাত্রী অভিযোগ করেন, টিএসও কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি হিজাব পছন্দ করি না’), জোর করে তল্লাশির সময় এক যাত্রীর স্তনে হাত দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

টিএসএর এক মুখপাত্র অবশ্য এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এই নিরাপত্তা তল্লাশি যাত্রীর ‘জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম বা প্রতিবন্ধিতা’ নির্বিশেষে করা হয়। টিএসএর ওয়েবসাইটে তল্লাশি প্রক্রিয়া ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীলতার গাইডলাইন দেয়া আছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বিদ্বেষমূলক আচরণের ঘটনা আদতে জানাই যায়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরের পাশাপাশি প্রাত্যহিক জীবনে ইসলাম বিদ্বেষ ও ঘৃণামূলক অপরাধ এখনও বিদ্যমান। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) ২০২১ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ছয় হাজারের বেশি অভিযোগ পেয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল বিদ্বেষ সংক্রান্ত।

ভ্রমণে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং টিএসএর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইসলাম বিদ্বেষের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করা যায় সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



বৈষম্যের শিকার হলে, ওই মুহূর্তের যতটা সম্ভব তথ্য সংরক্ষণের চেষ্টা করুন

বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হলে কী কী তথ্য যোগাড় করতে হবে সে বিষয়ে সিএআইআরের ‘নিজের অধিকার জানুন’ ফ্যাক্ট শিটে তথ্য দেয়া আছে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইডি নম্বর ও নাম লিখে রাখার পরামর্শ দেয়। এছাড়া আপনি টিএসও কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করতে পারেন, আপনাকে আলাদা করে ডাকা হয়েছে কিনা। সিএআইআরের গাইডলাইনে আরও বলা আছে, আশেপাশের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ফোন নম্বরও আপনি সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

আইনি, শিক্ষামূলক ও নীতিগত সহয়তা দেয়া নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠান মুসলিম অ্যাডভোকেটের আইনজীবী সানা আনসারি বলেন, ‘আপনি অভিযোগ করতে চাইলে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত তথ্য দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। যেমন এয়ারলাইনের নাম, ফ্লাইট নম্বর, নির্দিষ্ট সময়, প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট টিএসএ কর্মকর্তাদের নাম।’

তিনি বলেন, ‘এ রকম চাপের মুখে দ্রুত কোনো ঘটনা লিখে রাখা কঠিন, কিন্তু যতটুকু সম্ভব নিজের ফোনে, কোনো কাগজে বা দুই জায়গাতেই এগুলোর বিস্তারিত লিখে রাখার চেষ্টা করুন।’

অভিযোগ করবেন কোথায় সেটা ঠিক করুন

সানা আনসারি বলেন, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার যাত্রীরা টিএসএ, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), ডিএইচএস অফিস ফর সিরভিল রাইটস অ্যান্ড সিভিল লিবার্টিসের যে কোনটিতে বা তিনটিতেই অভিযোগ করতে পারেন। টিএসএর কাছে অভিযোগ জানাতে চাইলে দ্রুত সেটি করতে হবে, কারণ টিএসএ ১৮০ দিনের মধ্যে অভিযোগ আমলে নেয়। তাছাড়া দ্রুত অভিযোগ করলে সে সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়গুলোও আপনার মনে থাকবে।

অভিযোগ করার ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে, এটি আপনার নাগরিকত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা। আপনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে থাকলে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে আপনাকে ব্যক্তিগত তথ্য টিএসর সামনে নিয়ে আসতে হবে। টিএসএ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ব্যবস্থার একটি অংশ। ফলে বাড়তি যাচাইয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আনসারি জানান, আপনি যদি সরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান তাহলে মুসলিক অ্যাডভোকেসির মতো সংস্থাগুলো আইনিভাবে সহায়তা করবে বা আপনার প্রতিনিধিত্ব করবে।

দেশে প্রবেশের সময় কাস্টমস যে সব যাত্রীর ফোন নিয়ে গেছে, নো-ফ্লাই তালিকায় নাম থাকার কারণে যে সব যাত্রী ভিনদেশে আটকা পড়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়রানির কারণে যেসব ব্যক্তি দেশ ছেড়েছেন সিএআইআর তাদের ঘটনা শুনেছে ও প্রতিনিধিত্ব করেছে।

মামলা করার বিষয়টিতে কিছু চ্যলেঞ্জ রয়েছে। মুসলিম অ্যাডভোকেটসের সাবেক আইনজীবী ম্যাথিউ ক্যালাহান জানান, মামলার বিষয়টি সময় ও খরচ সাপেক্ষ। অনেকেই মামলার বিষয়ে সহায়তা চান, কিন্তু নিজেদের নাম প্রকাশ্যে আসা নিয়ে সংকোচবোধ করেন। নিজের অফিস ও সহকর্মীরা সন্দেহের চোখে দেখতে পারেন এমন ধারণা থেকেই এই সংকোচ।



আপনার অধিকার চর্চা ও পদক্ষেপ নেয়া আরেকজনকে সহায়তা করতে পারে



বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েও অনেকে অভিযোগ করেন না। এর কারণ হলো, তারা বিষয়টি স্বীকার করার দায়িত্ব নিতে চাযন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে সরকারকে জবাবদিহিতামুক্ত রাখে।

সানা আনসারি বলেন, ‘টিএসএ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার টার্গেট হওয়া ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনা অপমানজনক, হতাশাজনক ও ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা। তবে আমি অবাক হব না যদি এমন কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েও কেউ পুরো বিষয়টিকে ভুলে যেতে চান।’

আনসারি যোগ করেন, ‘যে সব মুসলিম মনে করেন, অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না; তাদেরকেও অভিযোগ জমা দিতে উৎসাহ দিচ্ছে মুসলিম অ্যাডভোকেটস।’

তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছরের একটি ইতিবাচক পরম্পরা হচ্ছে, আমেরিকান মুসলিমরা নিজেদের কথা জানাতে শুরু করেছেন। তারা সরকারি অফিসে যাচ্ছেন, আমেরিকান মুসলিম হওয়ার অভিজ্ঞতা অন্যদের বলছেন কিংবা বৈষম্যমূলক অভিযোগগুলো দাখিল করছেন। অভিযোগ করার মাধ্যমে অন্যায়কে আপনি প্রকাশ্যে আনছেন।

‘কেউ যদি টিএসএ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বৈষম্যমূলক আচরণ সম্বন্ধে কথা না বলেন, তাহলে মুসলিম অ্যাডভোকেটসের মতো সংস্থাগুলো সমস্যা অনুধাবন করতে পারবে না এবং আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে পারবে না।’

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

ঝালে আছে অনেক গুণ

ঝালে আছে অনেক গুণ

ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ক্যাপসেইসিনের ভূমিকা আছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি ভালো কাজ করে।

ঝালের মূল উপাদান হলো ক্যাপসেইসিন। এটি বিভিন্নভাবে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে।

হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মোটেও ঝাল খান না, তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঝাল খান, তাদের হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস ও ক্যানসারজনিত রোগে মৃত্যুহার কম।

এমন নানা রকম উপকারিতা পাওয়া যাবে ঝাল থেকে। চলুন দেখে নিই সেগুলো।

১. মরিচের ক্যাপসেইসিন পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ও বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে।

২. ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ক্যাপসেইসিনের ভূমিকা আছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি ভালো কাজ করে।

৩. ক্যাপসেইসিন একধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি রক্তনালিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়।

৪. হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির স্নায়ুগুলো ক্যাপসেইসিনে সংবেদনশীল। এই স্নায়ুগুলোর সুস্থতায় ভূমিকা রাখে এই উপাদান।

শুকনা মরিচ না কাঁচা মরিচ?

শুকনা বা গুঁড়া মরিচের তুলনায় কাঁচা মরিচে ক্যাপসেইসিনের পরিমাণ বেশি। তাছাড়া কাঁচা মরিচে ভিটামিন সির পরিমাণও বেশি। তাই রান্নায় বা সালাদে কাঁচা মরিচ থাকলে ভালো।

আবার দেখা গেছে, সবুজ কাঁচা মরিচের চেয়ে লাল রঙের তাজা কাঁচা মরিচ আরও ভালো। একই গুণ পাওয়া যাবে ক্যাপসিকামেও।

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু রোগীর খাবার

ডেঙ্গু রোগীর খাবার

ডেঙ্গু হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। ডাবে রয়েছে ইলেকট্রোলাইটসের ঘাটতি পূরণের সব উপাদান। তাই এ সময় বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি রোগীর খাবারের দিকেও মনোযোগী হতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর দ্রুত সেরে ওঠার জন্য ডাক্তাররা কিছু খাবার খেতে পরামর্শ দেন। চলুন দেখে নেই, সেই খাবারগুলো কী কী।

কমলা

কমলা ও কমলার রস ডেঙ্গু জ্বরে ভালো কাজ করে। এতে আছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই দুটি উপাদান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে।

ডালিম

ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল। যদি আপনি নিয়ম করে ডালিম খান, তাহলে বেড়ে যাবে প্লাটিলেটের সংখ্যা। এই উপকারি ফলটি খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূতিও দূর হবে।

ডাবের পানি

ডেঙ্গু হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। ডাবে রয়েছে ইলেকট্রোলাইটসের ঘাটতি পূরণের সব উপাদান। তাই এ সময় বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

পেঁপে পাতার জুস

ডেঙ্গু হলে রোগীর শরীরে কমে যেতে পারে প্লাটিলেট। তাই এ সময় আপনার উপকার করতে পারে পেঁপে পাতা। পেঁপে পাতায় পাপাইন এবং কিমোপেইনের মতো এনজাইমসমৃদ্ধ, যা হজমে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি করতে পারে প্লাটিলেটের পরিমাণও। সেজন্য আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ এমএল পেঁপে পাতার তৈরি জুস খেতে হবে।

হলুদ

ডেঙ্গু জ্বরে কাজে আসতে পারে হলুদও। এর জন্য আপনাকে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পান করতে হবে। এটি আপনাকে অতিদ্রুত সুস্থ করে তুলবে।

মেথি

ডেঙ্গু হলে কাজে আসবে মেথি। এটি অতিরিক্ত জ্বর কমিয়ে আনতে কাজ করে। তবে মেথি গ্রহণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ব্রুকলি

ব্রুকলি ভিটামিন কে এর উৎস। অন্যদিকে ভিটামিন কে রক্তের প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং খনিজ সমৃদ্ধ। যদি কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন; তাহলে অবশ্যই তাকে বেশি করে ব্রুকলি খেতে দিতে হবে।

পালংশাক

পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। এটি আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এই শাকটি বেশি করে গ্রহণ করলে অতিদ্রুত প্লাটিলেট বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন

ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন

ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন

শক খাওয়া ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড চালুর চেষ্টা করুন। এ সময় রোগীর মুখ দিয়ে বাতাস প্রবেশ করিয়ে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

আমাদের সবার বাড়িতেই ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি আছে। এসব চালাতে গিয়ে অসাবধানতায় ইলেকট্রিক শক খাওয়ার ঘটনাও বেড়ে চলছে। তাই ইলেকট্রিক দুর্ঘটনার ব্যাপারে জানা থাকা খুব জরুরি। একটু সচেতনতা বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনকে।

চলুন আজ দেখে নেই, কেউ ইলেকট্রিক শক খেলে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে।

১. কেউ ইলেকট্রিক শক খেলে তাকে ধরা যাবে না। তেমন করলে আক্রান্তকে তো বাঁচাতে পারবেনই না, উল্টো আপনিও একই সঙ্গে শক খাবেন।

২. কেউ শক খেয়েছে বুঝতে পারলে প্রথমেই কারেন্টের সুইচ বন্ধ করুন। যদি সম্ভব না হয় তাহলে শুকনো খবরের কাগজ, উলের কাপড়, শুকনো কাঠের টুকরা অথবা পলিথিন ব্যাগে হাত মুড়িয়ে শক খাওয়া ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ইলেকট্রিক শকের উৎস থেকে আলাদা করে দিন। যদি কিছুতেই কাজ না হয়, তাহলে দ্রুত বৈদ্যুতিক অফিসে খবর দিন।

৩. শক খাওয়া ব্যক্তির শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করুন। সাধারণত বলা হয় যে ৩ মিনিটের ভেতর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা গেলে ১০ জনের ভেতর ৭ জনকে বাঁচানো সম্ভব। দেরি করলে বাঁচানোর সম্ভাবনা কমে আসে। এমন জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ওপর আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ভর করে। একই সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থাও করুন।

৪. শক খাওয়া ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড চালুর চেষ্টা করুন। এসময় রোগীর মুখ দিয়ে বাতাস প্রবেশ করিয়ে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

৫. শক খাবার পরও শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে তবে খুব বেশি ভয়ের কিছু নেই। রোগীকে শুয়ে থাকতে বলুন। এ সময় একজন ডাক্তারকে খবর দিন অথবা হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন:
দাঁতের শিরশির ভাব দূর করুন ঘরে বসেই
বিকেল বেলা কী খাবেন
ঘরের কাজ করেই সেরে নিন দিনের ব্যায়াম
কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন যেভাবে

শেয়ার করুন