গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা

গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা

মামলাটি ‘অনেক ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুগল।

প্রতিযোগিতা আইন ভঙ্গের অভিযোগে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইন্টারনেট সার্চ ও অনলাইন বিজ্ঞাপনে একক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেশটির জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ও ১১টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল আদালতে মামলাটি করে।

গুগলের মতো বৃহদাকার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্তের পর গুগলের বিরুদ্ধে মামলা হলো।

এদিকে মামলাটি ‘অনেক ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুগল।

কোম্পানিটির ভাষ্য, অনলাইন খাত অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ। গ্রাহকদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয়াই তাদের নীতি।

গুগলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মানুষ বাধ্য হয়ে বা বিকল্প না পেয়ে গুগল ব্যবহার করে না। পছন্দ করে বলেই তারা গুগল ব্যবহার করে।’

ব্রাউজার ও মোবাইল ফোনের মতো অন্য যন্ত্রে সার্চ ইঞ্জিনে ডিফল্ট হিসেবে থাকতে গুগল প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে বলে মামলায় বলা হয়।

বাদীদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ সার্চ অনুসন্ধান নিয়ন্ত্রণ বা দখল করার মাধ্যমে ইন্টারনেটে ‘গেটকিপার’ হিসেবে কাজ করছে গুগল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘এতে ইন্টারনেটে সার্চে অন্য কোম্পানিদের প্রতিযোগিতা ব্যাহত করছে গুগল। সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনগুলো গুরুত্বপূর্ণ বণ্টন, মাত্রা ও পণ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুগলকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পায় না তারা।’

অভিযোগে আরও বলা হয়, গুগল এতই প্রভাবশালী যে, কোম্পানি বা সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে বুঝতে গুগল শব্দটি শুধু বিশেষ্যই নয়, ইন্টারনেটে অনুসন্ধানে এটা একটি ক্রিয়াপদও।’

গোপনীয়তা ও ডাটা সুরক্ষা এবং বেছে নেয়ার সুযোগ কমানো ও নতুনত্ব ব্যাহত করার মাধ্যমে সার্চের মান ক্ষতিগ্রস্ত করে গুগল মানুষের অনুভূতি আঘাত দিয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে সোচ্চার ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞ স্যালি হুবার্ড জানান, গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করতে তাদের সার্চ বণ্টন চুক্তিই যথেষ্ট।

তিনি এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘অনেক দিন ধরে মামলাটি ঝুলে ছিল। অবশেষে হয়েছে দেখে ভালো লাগছে।’

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন