‘চাহিবামাত্র বাহককে টাকা দিতে বাধ্য’ থাকার অর্থ কী?

‘চাহিবামাত্র বাহককে টাকা দিতে বাধ্য’ থাকার অর্থ কী?

ছবি: সংগৃহীত

অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, ১০ টাকা বা এর বেশি মূল্যমানের টাকার গায়ে কেন লেখা থাকে: ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’। এই বাক্যটির অর্থ নিহীত আছে মুদ্রার ইতিহাসের মধ্যে।

টাকা বিনিয়ম মাধ্যম। কিন্তু এই টাকা কেউ চাইলেই কি তাকে দিতে হবে? বা দিতে কি বাধ্য?

এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ টাকার মধ্যে লেখা ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’।

কেন টাকায় লেখা থাকে এমন কথা? এর অর্থ কী?

‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকা’ কথাটার অর্থ কিছুটা জটিল। ব্যবহারকারী বা বিনিময়ের সঙ্গে এটির কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের সরকারি মুদ্রা হলো দুটি। এক ও দুই টাকার নোট কিংবা কয়েন হলো সরকারি মুদ্রা। আর বাকিগুলো হলো সমপরিমাণ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ছাপানো ‘বিল অব এক্সচেঞ্জ’।

ধরুন, আপনি কোনো কারণে ব্যাংক নোটের উপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই আপনি ২০০ টাকার একটি নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কাউন্টারে জমা দিয়ে বিনিময় চাইলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিবামাত্র এর বাহককে অর্থাৎ আপনাকে সমপরিমাণ এক ও দুই টাকা দিয়ে দেবে। অর্থাৎ চাওয়ামাত্রই বাহককে টাকা দিয়ে দায়মুক্ত হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এটিই হচ্ছে বাধ্য থাকার মূল বিষয়।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিদেশি আমল থেকে লেখা হয়েছে বলে সেই ধারাবাহিতা এখনও বজায় রাখা হয়েছে। এটা লেখার আসলে কোনো কারণ নেই। ডলারে কিন্তু ‍এটা লেখা থাকে না। যখন স্বর্ণের মূল্যমানের সমপরিমাণ টাকা ছাপানো হতো, তখন এটা লেখা হতো। কারণ তখন টাকা দিয়ে সমপরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন গোল্ড স্ট্যান্ড্যার্ডে টাকা ছাপানো হয় না। অন্যভাবে হিসেব-নিকেশ করা হয়। এ জন্য বর্তমানে এটা লেখা থাকার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। যেহেতু আগে থেকে লেখা ছিল, সে জন্য ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এখনও লেখা হয়। তবে এখন অনেক দেশ এটা পরিবর্তন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে প্রত্যেকটা ব্যাংকের নোট ইস্যু করা হতো স্বর্ণ মুদ্রার বিপরিতে। যত টাকা নোট ইস্যু করা হবে, ঠিক তত স্বর্ণ বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষণ করা থাকবে।

‘কিন্তু এখন আমাদের কারেন্সি কত লাগবে, এটা নির্ভর করে মানুষের স্পেন্ডিং বিহেভিয়ারের (ব্যয়ের প্রবণতা) উপর। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ নগদ টাকা পছন্দ করে। চেক বা কার্ডে লেনদেন অনেকে করতে চায় না। এ জন্য আমাদের কারেন্সি বেশি প্রয়োজন হয়।’

বাহককে দিতে বাধ্যবাধকতা

বাংলাদেশের মুদ্রা ছাপার একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারি মুদ্রা হলো তিনটি। এক, দুই ও পাঁচ টাকার নোট কিংবা কয়েন হলো সরকারি মুদ্রা আর বাকিগুলো হলো সমপরিমাণ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ছাপানো ‘বিল অব এক্সচেঞ্জ’।

বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার বিপরীতে নোট ছাপে। তাই এটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন কোনো নোট বাজারে ছাড়ে, তখনই সমপরিমাণ এক, দুই ও পাঁচ টাকার নোট বা কয়েন সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে নেয়। আবার যখন এক, দুই ও পাঁচ টাকা বাজারে ছাড়ে, তখনই সমপরিমাণ নোট সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের নিকট থেকে টাকা নিয়ে টাকা ছাড়ে। সে হিসেবে বাজারে যত টাকার নোট (বিল অফ এক্সচেঞ্জ) আছে, ঠিক সমপরিমাণ টাকা (এক, দুই ও পাঁচ টাকা) বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত আছে। সুতরাং সব নোট ব্যাংকে জমা করলেও এক, দুই, পাঁচ টাকার কয়েন বা নোট দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এক, দুই, পাঁচ টাকা হলো টাকা। বাকিগুলো বিল অব এক্সচেঞ্জ। আর এ জন্য টাকায় লেখা থাকে না ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’। অথচ বাকি নোটগুলোয় (বিল অফ এক্সচেঞ্জ) ঠিকই লেখা থাকে।

মুদ্রা দুই প্রকার: ঐচ্ছিক ও বিহিত মুদ্রা

ঐচ্ছিক মুদ্রা বিনিময়ের এমন এক মাধ্যম যা চাইলে অপরপক্ষ গ্রহণ করতেও পারে, নাও করতে পারে। যেমন ব্যাংক চেক। কোনো কিছু কিনে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যাংক চেক প্রদান করা হলে গ্রহিতা চাইলে ব্যাংক চেকটি গ্রহণ করতে পারেন অথবা বলতে পারেন নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হব। এটা পুরোপুরি ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।

বিহিত মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে নিতে অপরপক্ষ বাধ্য থাকে এবং বাহক দিতে বাধ্য থাকে। যেমন ব্যাংক নোট। কোনো কিছুর বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যাংক নোট দেয়া হলে গ্রহিতা সেটি গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবেন। তাই এই ধরনের মুদ্রাকে বিহিত মুদ্রা বলা হয়ে থাকে। তাই টাকার গায়ে লেখা থাকে ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে (বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে) দিতে বাধ্য থাকিবে।’

ব্যাংক নোট বাংলাদেশ ব্যাংক বের করে বলে এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সই থাকে। কিন্ত সরকারি নোট বের করে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ-মন্ত্রণালয়। এ জন্য এতে থাকে অর্থসচিবের সই।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে সকল নোট ছাপায়, তা সরাসরি টাকা না। সেগুলো হলো সমপরিমাণ সরকারি মুদ্রার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাপানো ‘বিল অব এক্সচেঞ্জ’।

ব্যাংক নোটগুলো যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের টাকা নয়, বরং বিল অফ এক্সচেঞ্জ, আর এগুলো ছাপাচ্ছে স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংক, সেহেতু এটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা দায়।

যেহেতু এটা ব্যাংকের দায়, তাই তারা সমপরিমাণ বিনিময়মূল্য দিতে বাধ্য। এই কারণেই সকল প্রকার ব্যাংক নোটের উপর তারা লিখে দেয়, ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে।’

টাকার জন্মের ইতিহাস

স্বর্ণ মুদ্রার প্রচলন থাকার যুগে ধাতুর তৈরি টাকা ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এ ধরনের টাকা ক্ষয় হয়ে যেত এবং এর পরিমাণ কমে যেত, অন্য দিকে বেশি পরিমাণে স্বর্ণমুদ্রা পরিবহন করা ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টসাধ্য কাজ ছিল।

এরপর মানুষ স্বর্ণকারের কাছে স্বর্ণ রেখে একটা স্লিপ বা রশিদ নিয়ে আসতো। এই রশিদ অনেকটা চেকের মত কাজ করতো। লেনদেনের সময় রশিদ ধরিয়ে দিত এবং সেই রশিদ সেই স্বর্ণকারের কাছে জমা দিলে স্বর্ণকার তাকে ধাতব মুদ্রা দিতে বাধ্য থাকত। সেই রশিদে এই কথাটা লেখা থাকতো: ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে মুদ্রা দিতে বাধ্য থাকিবে।’

এরপর এটার আধুনিকায়ন এবং জাতীয়করণের ফলে এটা কাগজের মুদ্রা কিংবা টাকায় পরিণত হয়েছে।

১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত টাকা স্বর্ণের মজুদের ভিত্তিতে ছাপা হত।

অর্থাৎ সরকারের রিজার্ভে যদি ১০ টন স্বর্ণ জমা থাকে, তবে বাংলাদেশ ১০ টন স্বর্ণের মূল্য মানের টাকা ছাপাতে পারবে।

১৯৭১ সালে আমেরিকা এই আন্তর্জাতিক নিয়ম অস্বীকার করে এবং ইচ্ছামতো টাকা ছাপাতে শুরু করে।

বর্তমানে মুদ্রার মূল্য স্বর্ণের উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দেশের জিডিপি, ব্যয়ের প্যাটার্নের উপর।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সার্কুলারে বলা হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ যত বছর থাকবে, তত বছরের জন্য একসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা যাবে। তবে বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম করতে পারবে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

বি‌দেশ ভ্রমণে ডলার এনডোর্সমেন্ট সহজ করে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থে‌কে পাসপোর্টের মেয়াদ যত‌ বছর থাক‌বে, তত বছ‌রের জন্য একস‌ঙ্গে বৈ‌দে‌শিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা‌ যা‌বে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে পারবে না।

বৃহস্প‌তিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হ‌য়ে‌ছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকসংশ্লিষ্ট নিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তির অনুকূলে তার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন আন্তর্জাতিক কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় ও নির্ধারণ করতে পারবে। ত‌বে এডি ব্যাংককে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত মেনে চলতে হবে।

বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম কর‌তে পার‌বে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

এ ছাড়া বিদেশে চাকরি ও ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে কিংবা শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদকালীন এনডোর্সমেন্ট করা যাবে না বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে।

তবে সম্পূরক কার্ডধারী ব্যক্তি তার ভ্রমণ কোটার আওতায় এ সুবিধা পাবে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণ কোটা প্রযোজ্য হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট ভ্রমণ পরবর্তী বছরের মধ্যে পড়লে ৩১ ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত একটি কোটা এবং ১ জানুয়ারি থেকে অন্য বছরের কোটা ব্যবহার করতে হবে।

পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় বা নির্ধারণ সুবিধা গ্রহণ করা না হলে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘটনাত্তর এনডোর্সমেন্ট করার সুবিধা রাখা হয়েছে।

যৌক্তিক কারণে কার্ডের মাধ্যমে ভ্রমণ ব্যয় বাৎসরিক কোটা সীমা অতিক্রম করলে ওই অর্থ গ্রাহকের নিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের স্থিতি দ্বারা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জাতীয় হিসাব না থাকলে পরবর্তী বছরের ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার সমন্বয় করা যাবে।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন

৬৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

৬৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। ফাইল ছবি

২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত করে এই ফাঁকি উদঘাটন করা হয়। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দেয়ার কথা ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। উৎসে ভ্যাট বাবদ ৮ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু দেয়ার কথা ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৬৭ কোটি টাকর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি উদঘাটন করার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান।

তিনি জানান, ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে একটি দল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত করে এই ফাঁকি উদঘাটন করে।

তবে এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

গ্রামীণ ব্যাংক একটি নন-ব্যাকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে না। নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো ভ্যাট নিবন্ধন নেই, যা ভ্যাট আইনের পরিপন্থি।

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর হতেই ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেনি।

এনবিআর বলেছে, গ্রামীণ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা হিসেবে সেবার বিপরীতে কমিশন, ফি বা চার্জ গ্রহণ করে থাকে। যে কারণে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে থাকে। এসব ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে চার্জ, ফি ও কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

ভ্যাট গোয়েন্দারা বলেছেন, তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন এবং অন্যান্য দলিল যাচাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য আমলে নেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত চলাকালে সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দেয়ার কথা ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯০ টাকা।

যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ায় জরিমানা দাঁড়ায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বাবদ ৮ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু দেয়ার কথা ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

এ ক্ষেত্রে অপরিশোধিত ভ্যাট ১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যথাসময়ে পরিশোধ না করায় জরিমানা হিসেবে আসে ৭ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৭ টাকা।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৬ টাকা এবং জরিমানা বাবদ ২১ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

এ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন

ভারতে আরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি

ভারতে আরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি

দুই দফায় মোট ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে গত সোমবার ২ হাজার ৮০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়।

প্রথম দফা অনুমোদনের মাত্র চার দিনের মাথায় আরও ৬৩ প্রতিষ্ঠানকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় দফায় অনুমতি মিলেছে ২ হাজার ৫২০ টন ইলিশ রপ্তানির। অনুমোদিত রপ্তানিকারকদের প্রত্যেকে ৪০ টন করে ইলিশ রপ্তানি করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দ্বিতীয় দফায় ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, অনুমতির মেয়াদ কার্যকর থাকবে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এর ফলে দুই দফায় মোট ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে গত সোমবার ২ হাজার ৮০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়।

তবে ইলিশ রপ্তানির ক্ষেত্রে আগের মতোই ছয়টি শর্ত রপ্তানিকারকদের মেনে চলতে হবে। শর্তগুলো হচ্ছে, বিদ্যমান রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ এর বিধিবিধান মানতে হবে; শুল্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রপ্তানি করা ইলিশের কায়িক পরীক্ষা করাতে হবে; প্রতিটি চালান (কনসাইনমেন্ট) শেষে রপ্তানিসংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে; অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ইলিশ রপ্তানি করা যাবে না, অনুমতির মেয়াদ কার্যকর থাকবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত; অনুমতি কোনোভাবে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং অনুমোদিত রপ্তানিকারক ছাড়া ঠিকায় (সাব-কন্ট্রাক্ট) রপ্তানি করা যাবে না।

দেশের বাজারে ইলিশের জোগান কম থাকার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এরপর গত ৯ বছরে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮৬ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে মেঘনা ও পদ্মায় বর্ষাশেষে ধরা পড়া ইলিশ খুবই সুস্বাদু বলে মনে করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের কদর বেশি।

বাংলাদেশে পোনা ইলিশ বা জাটকা ধরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ নানান উদ্যোগের কারণে গত দেড় দশকে ইলিশের উৎপাদন অনেক বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন

নড়াইলে স্বপ্নের আউটলেট উদ্বোধন

নড়াইলে স্বপ্নের আউটলেট উদ্বোধন

নড়াইলে স্বপ্নের আউটলেট উদ্বোধন করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

নতুন আউটলেট উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চলছে। এ ছাড়াও ‘ফ্রি অফার’ রয়েছে।

নড়াইলে উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্নের আউটলেট।

শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আউটলেটের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জায়েদুর রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন খান ডালু।

উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চলছে। এ ছাড়াও ‘ফ্রি অফার’ রয়েছে।

এ সময় লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু, নড়াইল ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আশরাফ আলী, ক্রীড়াব্যক্তিত্ব আয়ূব খান বুলু, স্বপ্নের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট রাজিবুল হাসান, হেড অব অপারেশন সামির কুমার ঘোষসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন ব্যাংকের সেই ১৯ কোটি টাকা ‘ভিআইপির কাছে’

ইউনিয়ন ব্যাংকের সেই ১৯ কোটি টাকা ‘ভিআইপির কাছে’

ব্যাংকটির ডিএমডি হাসান ইকবাল বলেন, ‘ব্যাংকিং আওয়ারের পর একজন ভিআইপি গ্রাহককে ওই টাকা দেয়া হয়েছিল। ব্যাংকিং রুলস ভায়োলেট হলেও এমন ঘটনা নতুন নয়। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কে এমন লেনদেন হয়।’

বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হওয়ার যে খবর এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হাসান ইকবাল। জানিয়েছেন, ব্যাংকের একজন ভিআইপি গ্রাহককে দেয়া হয়েছে এই টাকা।

গুলশানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হাসান ইকবাল। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং আওয়ারের পর একজন ভিআইপি গ্রাহককে ওই টাকা দেয়া হয়েছিল। ব্যাংকিং রুলস ভায়োলেট হলেও এমন ঘটনা নতুন নয়। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কে এমন লেনদেন হয়।’

তবে কে এই ভিআইপি গ্রাহক এবং তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে এই টাকা নিয়েছেন কি না, এ বিষয়ে কিছু জানাননি হাসান ইকবাল।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান ব্যাংকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বলেন, ‘ঘটনায় ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের উপস্থিতিতেই ১৯ কোটি টাকার হিসাব সমন্বয় করা হয়।’

ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হয়েছে বলে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল জানতে পারে। তবে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এসেছে বৃহস্পতিবার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগ-৭-এর এক যুগ্ম-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা পরিদর্শনে আসে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই পরিদর্শক দল ভল্ট পরিদর্শন করে। কাগজে-কলমে শাখার ভল্টে ৩১ কোটি টাকা দেখানো হলেও সেখানে ১২ কোটি টাকা পায় পরিদর্শক দল। ব্যাংকটি থেকে এর কোনো সদুত্তরও পায়নি তারা।

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন ইউনিয়ন ব্যাংকের সব শাখার ভল্ট পরিদর্শন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ইউনিয়ন ব্যাংকের ভল্টের টাকায় গরমিল হতে পারে। কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে ভল্টের টাকায় গরমিলের মতো প্রমাণ যদি বাংলাদেশ ব্যাংক পায়, তবে অবশ্যই যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন ব্যাংকের কাছে আমরা ব্যাখ্যা জানতে দিয়েছি। এখনও উত্তর দেয়নি। এর জবাব পেলে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

প্রতিদিন লেনদেনের শুরুতে এবং শেষে ভল্টের টাকা মিলিয়ে রাখার দায়িত্ব শাখার ব্যবস্থাপক, সেকেন্ড অফিসার এবং ক্যাশ ইনচার্জের। ভল্টে টাকার হিসাবে কোনো গরমিল হলে তা মিলিয়ে নেয়ার দায়িত্ব এসব কর্মকর্তার।

অনেক সময় হিসাবের ভুলে সামান্য টাকার গরমিল হতে পারে। তবে বড় অঙ্কের টাকার গরমিল হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করার বিধান আছে।

তবে ইউনিয়ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার আওতাধীন গুলশান থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি।

বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৭ জুন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে পৌনে ৪ কোটি টাকার হিসাবে গরমিল পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, এ টাকা সরিয়ে নেন ওই ব্যাংকেরই একজন কর্মকর্তা।

ওই ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শাখাটির দুই কর্মকর্তাকে পুলিশ হেফাজতে দেয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এ ছাড়া কয়েক মাস আগে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ব্যাংকটির একজন আইটি অফিসার ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। ঘটনাটি ব্যাংকের অডিটে ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন

পণ্য বিপণনে ৪৯৩ উপজেলায় ‘ডিজিটাল ডিসপ্লে সেন্টার’

পণ্য বিপণনে ৪৯৩ উপজেলায় ‘ডিজিটাল ডিসপ্লে সেন্টার’

বিসিক ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪৯৩টি উপজেলায় প্রদর্শনী ও বিপণন কেন্দ্র চালু হবে। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বেসরকারি সংস্থা ঐক্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ৪৯৩ টি উপজেলায় ‘বিসিক-ঐক্য ডিজিটাল ডিসপ্লে অ্যান্ড সেলস সেন্টার’ চালু করা হবে।

সারাদেশে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) পণ্যের বাজার তৈরিতে ৪৯৩টি উপজেলায় প্রদর্শনী ও বিপণন কেন্দ্র স্থাপিত হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বেসরকারি সংস্থা ঐক্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বিসিক-ঐক্য ডিজিটাল ডিসপ্লে অ্যান্ড সেলস সেন্টার’ নামে কেন্দ্রগুলো চালু হবে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় বিসিক ও ঐক্য ফাউন্ডেশন এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের পণ্য সরাসরি ও ডিজিটাল মাধ্যমে বাজারজাতকরণে বিসিক ও ঐক্য ফাউন্ডেশন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসানের (এনডিসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।

সংযুক্ত ছিলেন ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি (সিএমএসএমই উদ্যোক্তা উন্নয়ন উইং) শাহীন আকতার রেনী।

চুক্তিতে সই করেন বিসিক সচিব মো. মফিদুল ইসলাম ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অপু মাহফুজ।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিএমএসএমই উদ্যোক্তাগণের পণ্য বাজারজাতকরণে শিল্পমন্ত্রণালয় ও বিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সিএমএসএমই শিল্পখাতের পণ্য বাজারজাতকরণে বিসিক বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকে।

পণ্য বিপণনের জন্য সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বিসিক অনলাইন মার্কেট (www.bscic-emarket.gov.bd) নামে একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন

টাকা ফেরত চেয়ে ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের বিক্ষোভ

টাকা ফেরত চেয়ে ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের বিক্ষোভ

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের বিক্ষোভ। ছবি: সৌগত বসু/নিউজবাংলা

ই-অরেঞ্জের সঙ্গে জড়িত ওসি সোহেলের বিচার ও টাকা ফেরত পেতে বিক্ষোভ করছেন গ্রাহকরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। প্রায় দুই শ গ্রাহক এতে অংশ নেন।

টাকা ফেরত ও ই-কমার্স সাইট ই-অরেঞ্জের সঙ্গে জড়িত ওসি সোহেলের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন গ্রাহকরা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন গ্রাহকরা। প্রায় দুই শ গ্রাহক এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে গ্রাহকদের দাবিগুলো হলো

. ই-অরেঞ্জ ও ওসি সোহেলের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেয়া।

. ই-অরেঞ্জ, অরেঞ্জ বাংলাদেশের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, তাই ভুক্তভোগী গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির দায় অরেঞ্জ বাংলাদেশকে নেয়া।

. ই-অরেঞ্জ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সরকারি আমলা ও কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া।

. এ প্রতারণায় যেসব মামলা হয়েছে সব মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইবুনাল গঠন।

. ই-অরেঞ্জ প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড ওসি সোহেলকে অচিরেই দেশে ফিরে আনা। একই সঙ্গে ই-অরেঞ্জ নিয়ে করা তদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করা।

. এ ঘটনায় মামলায় রিমান্ডে নেয়া আসামিদের কাছ থেকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেয়া।

. ই-ক্যাবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে আইনের আওতায় আনা।

. ই-অরেঞ্জসহ সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা দেয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ভুক্তভোগী সব গ্রাহকের ক্ষতির দায়ভার নিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা।

. সুষ্ঠু সমাধান না আসা পর্যন্ত আসামিদের জামিন আবেদন নাকোচ করা।

আরও পড়ুন:
নগদ টাকার চাহিদা, নতুন টাকায় আগ্রহ কম
কুড়িয়ে পাওয়া দুই লাখের বেশি টাকা ফেরত দিলেন যুবক
টঙ্গীতে জাল নোটসহ আটক ১
ঘরে জাল টাকার কারখানা, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
কালোটাকা সাদার রেকর্ডের নেপথ্যে ‘পাচার করতে না পারা’

শেয়ার করুন