× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিশেষ
উবার সেবায় স্বেচ্ছাচার
hear-news
player
google_news print-icon

উবার-সেবায় স্বেচ্ছাচার

উবার-সেবায়-স্বেচ্ছাচার
সড়কের পাশে যাত্রীর জন্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের চালকদের অপেক্ষা। ছবি: নিউজবাংলা
গন্তব্য পছন্দ না হলে চালকেরা যেতে অস্বীকৃতি জানান। যাত্রীকে রিকোয়েস্ট বাতিল করতে বাধ্য করেন। বিকাশে ভাড়া পরিশোধে চালকেরা রাজি থাকেন না। এসব নিয়ে যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন জাহিদ হাসান। ভোরের আলস্যে ঘুম ভাঙতে একটু দেরি হয়ে যায় তার। থাকেন সিদ্ধেশ্বরীতে। গন্তব্য বনানী। আড়মোড়া ভেঙে রাস্তায় এসে ডাকেন উবার।

একটু অপেক্ষার পর একটি গাড়ির সন্ধান দিল উবার। ফোন করতেই চালক জানালেন, ‘টাকা ক্যাশে দেবেন নাকি বিকাশে?’ জাহিদের তখন অফিস পৌঁছানোর তাড়া। চালকের উদ্দেশে বললেন, ‘যেভাবে আপনার সুবিধা।’

আবারও প্রশ্ন এলো। এবার জানতে চাওয়া হলো, ‘কোন দিকে যাবেন?’

জাহিদ বললেন, ‘বনানীর দিকে।’ তবে এই গন্তব্য পছন্দ হলো না চালকের। তাই না করে দিলেন জাহিদকে।

বেশ বিরক্ত হলেন জাহিদ। উবারে যে রিকোয়েস্ট বাতিল করে দেবেন, সেটাও হচ্ছে না।
কারণ, অ্যাপটি এমনভাবে বানানো, যাত্রী যদি নিজের ইচ্ছায় কোনো রাইড রিকোয়েস্ট বাতিল করেন, সে ক্ষেত্রে তাকে জরিমানা গুনতে হয়।

অপরদিকে চালক যেতে রাজি না হলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চান না তারা। কারণ, তাতে তার রেটিং কমে যাবে। ফলে তাড়াহুড়োর মধ্যে যাত্রীকে ক্ষতিটা মেনে নিয়ে আরেকটি উবার বা বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে যেতে হয়।

জাহিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন হয়রানি যদি চলতে থাকে, তবে এই সেবা দিয়ে আমার কী লাভ হবে?’

গণপরিবহনে ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে উবারসহ রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোকে স্বাগত জানিয়েছিল নগরবাসী। কিন্তু বছর কয়েকের ব্যবধানে বদলে গেছে সেই ধারণা।

যাত্রীদের অভিযোগ, উবারে প্রতিনিয়ত বাড়ছে হয়রানি।

তিন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিকাশে পেমেন্ট নিতে অনীহা, লোকেশন পছন্দ না হওয়া আর যাত্রীদের রিকোয়েস্ট বাতিল করতে বাধ্য করা।

এ বিষয়ে উবারের বক্তব্য জানতে চাইলে সময়ক্ষেপণ করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য তারা দেয়নি।

দেশে রাইড শেয়ারিংয়ের শুরু ২০১৫ সালে। গণপরিবহনের হয়রানি থেকে রেহাই পেতে নগরে নতুন সুবিধা রাইড শেয়ারিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় যাত্রীরা। একই বছর আসে দেশি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’।

বেশি আলোচনা হয় বহুজাতিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘উবার’ চালু নিয়ে। অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি কল দিয়ে স্বল্প খরচে যেকোনো জায়গায় যাওয়ার সুবিধা রাজধানীতে ট্যাক্সির অভাব অনেকটাই পূরণ করেছিল।

তবে সেবাটির ‘মধুচন্দ্রিমা’ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। একের পর এক হয়রানির অভিযোগ বাড়তে থাকে রাইড শেয়ারিং সেবার বিরুদ্ধে।

উবার কিছু পদক্ষেপ ও সুবিধা যোগ করলেও তা অল্প দিনের জন্য স্থায়ী হয়। নতুন করে অভিযোগ আসতে থাকে যখন বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে চালকের টাকা পরিশোধের কথা বলা হয়।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে উবারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগগুলো স্পষ্ট হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, গন্তব্য বাছাইয়ে চালকের যথেচ্ছাচার। গন্তব্য পছন্দ না হলে চালকেরা যেতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সরোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাত্রীর গন্তব্যের সঙ্গে চালকের পছন্দ মেলে না। আর এতে চালক বারবার ট্রিপ ফরোয়ার্ড করতে থাকেন, যা একধরনের ভোগান্তি। এ ছাড়া চালকের অহেতুক বিরক্তি প্রকাশ ও অসদাচরণও মেনে নিতে হয়।

তিনি বলেন, ‘সেবা পাচ্ছি টাকার বিনিময়ে। তবে কেন এত ভোগান্তি হবে?’
সরোয়ার আরও অভিযোগ করেন, একবার এক চালক তার এক হাজার টাকার নোট ভাঙতি দিতে পারেননি। তখন তিনি বিকাশে পেমেন্টের কথা বললে তাতেও চালক রাজি হননি। বাধ্য হয়ে তাকে দোকান থেকে কিছু কিনে টাকা ভাঙাতে হয়েছে।

মেরুল বাড্ডায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাকরিম আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘চালকের প্রান্ত থেকে সমস্যা হলেও যাত্রীদের ট্রিপ ক্যানসেল করতে বাধ্য করা হয়। গন্তব্যের মিল না হলে চালক ট্রিপ ক্যানসেল করতে বলেন।’

তিনি বলেন, ‘রিকোয়েস্ট পাঠালে চালক যাত্রীর গন্তব্য দেখতে পান না। তিনি গন্তব্য জানার পর যেতে না চাইলে ট্রিপ ক্যানসেল করতে বলেন, যা আমার জন্য জরিমানা। এ ক্ষেত্রে আমাকে বাধ্য হয়ে ক্যানসেল করতে হয়। এটা অনেক বড় ধরনের হয়রানি।’

গত বছর ১১ আগস্ট করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে ক্যাশ টাকার পরিবর্তে বিকাশে পেমেন্টের কথা ঘোষণা করে উবার। তখন বলা হয়, এতে নগদ বা ভাঙতি টাকার ঝামেলা ছাড়াই রাইডের ভাড়া যাত্রীর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করা যাবে।

বিশেষ করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাত্রী ও চালক উভয়কে রক্ষা করতে ক্যাশলেস এই পেমেন্ট ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।

তবে বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ মানতে নারাজ চালকেরা। তাদের কথা, এই পেমেন্টের টাকা হাতে পেতে তাদের অনেক বেশি সময় লেগে যায়। ক্যাশ টাকা হাতে পেলে তাদের সুবিধা বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক নিউজবাংলাকে বলেন, সব চালকের ব্যবহার বা আচার-আচরণ এক হবে না। মাঝে মাঝে যাত্রীরাও গন্তব্য নিয়ে ঝামেলা করেন। তবে তারা মেনে নেন যে, বিকাশে পেমেন্ট দিলে তাদের টাকা পেতে ঝামেলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উবারের এক চালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো লোকেশন দেখতে পারি না। এমন অনেক সময় হয় যে দিনের শেষ ট্রিপ নেব নিজের বাসার কাছাকাছি। তখন যদি গন্তব্য না মেলে তবে ফরোয়ার্ড করে দিই।

‘এটা আমার ক্ষেত্রে হয়। অন্যদের কথা জানি না। কিন্তু লোকেশন না দেখতে পাওয়া একটা বড় সমস্যা আমাদের জন্য।’

উবার জবাব দেয় না

বাংলাদেশে উবারের নিজস্ব কার্যালয় নেই। বেঞ্চমার্ক পিআর নামে একটি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে উবারের কর্মকাণ্ড সমন্বয় করে।

এসব অভিযোগের জবাব পেতে বেঞ্চমার্ক পিআর-এর সঙ্গে ১১ ফেব্রুয়ারি যোগাযোগ করে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়। তখন বেঞ্চমার্ক পিআর থেকে জানানো হয়, এই প্রশ্নগুলো তারা উবারকে পাঠাবে।

এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি বেঞ্চমার্ক পিআরের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তারা উবারের ২০২০ সালের ‘ফিরে দেখা’ নামে একটি বিবৃতি পাঠায়, যেখানে সমস্যাগুলো নিয়ে কোনো উত্তর ছিল না।

বেঞ্চমার্ক পিআরের পরিচালক (পাবলিক অ্যাফেয়ার্স) এ এফ এম আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, তারা প্রশ্নগুলো উবারকে পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত উবার থেকে কোনো উত্তর তারা পাননি।

কবে উত্তর পাওয়া যাবে, জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উবার প্রশ্ন যাচাইবাছাই করে। আমরা এখান থেকে পাঠিয়েছি। ওরা বলল, আমরা দেখছি।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিশেষ
A Bangladeshi youth was killed in an explosion in Saudi Arabia

সৌদিতে বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সৌদিতে বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত ফয়সাল আহমেদ রানা। ছবি: সংগৃহীত
ফয়সালের বাবা ইদু মিয়া জানান, শুক্রবার ফয়সাল তার মামার সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন তার মামার দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফয়সাল উড়ে গিয়ে সড়কে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে দোকানের ভেতর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ফয়সাল আহমেদ রানা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় এ ঘটনা ঘটে। ৩২ বছর বয়সী ফয়সাল কুমিল্লা নগরীর হযরতপাড়া এলাকার ইদু মিয়ার ছেলে।

ইদু মিয়া জানান, তার এক মেয়ে এক ছেলের মধ্যে ফয়সাল বড়। ২০০৮ সালের দিকে ফয়সাল সৌদিতে যান। সেখানে তার মামারাও থাকেন। শুক্রবার ফয়সাল তার নিজের দোকান থেকে মামার দোকানে যান দেখা করতে। তখন তার মামার দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফয়সাল উড়ে গিয়ে সড়কে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তিনি বলেন, ‘ফয়সালের এক ছেলে এক মেয়ে। আমার নাতি-নাতিন এতিম হয়ে গেল। আমি সন্তান হারা হয়ে গেলাম।’

কুমিল্লা জনশক্তি রপ্তানি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনেছি। নিহতের পরিবার যেন ক্ষতিপূরণ পায় সে জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
গাংনীতে বিস্ফোরণে মামলা, বিএনপির ২০ নেতা-কর্মী আসামি
গাংনীতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ: বোমার মতো ৩টি বস্তু উদ্ধার
বোমা বিস্ফোরণের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
বেলুনে হাইড্রোজেন গ্যাস, ঝুঁকিতে শিশুরা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪

মন্তব্য

বিশেষ
The driver claimed that he did not know that anyone was trapped in the car

ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে

ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে পেছন থেকে ধাওয়া করে থামানো হয় আজাহার জাফরের প্রাইভেটকার। ছবি: নিউজবাংলা
জনতার পিটুনিতে আহত গাড়িচালক ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, কেউ তার গাড়ির সঙ্গে আটকে আছেন, সেটা তার জানা ছিল না। তবে পুলিশ বলছে, তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির নিচে চাপা পড়ে নিহত গৃহবধূ রুবিনা আক্তারকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহ। পুলিশের কাছে তার দাবি, গাড়িতে একজন আটকে থাকার বিষয়টি টেরই পাননি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থানা পুলিশের কাছে তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ। তবে পুলিশ বলছে, গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি থামেননি, বরং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

গাড়িটি আটকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফরকে পিটুনি দেয় জনতা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি নূর মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য আমরা পাইনি। গাড়িতে লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো কাগজ ছিল না।’

প্রতি সপ্তাহে নিজ বাসা তেজগাঁও তেজকুনি পাড়া থেকে হাজারিবাগে যেতেন গৃহবধূ রুবিনা আক্তার। অন্যান্য সপ্তাহের মতো শুক্রবার ননদের স্বামীর মোটরসাইকেল চড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে হাজারিবাগে যাচ্ছিলেন।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছাকাছি পর্যন্ত রুবিনাকে এভাবেই টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালকক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করেন পথচারীরা। শাহাবাগ থানার পুলিশ পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। আহত অবস্থায় বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে কথা হয় রুবিনার ভাগ্নে আশিকুর রহমান রাতুলের সঙ্গে। তিনি জানান, রুবিনার স্বামী মারা গেছেন দু বছর আগে। তাদের এক ছেলে রয়েছে। সে ক্লাস এইটে পড়ে।

রাতুল বলেন, ‘আমরা মামলা করব। আমার খালাকে হত্যা করা হয়েছে। থানায় যাচ্ছি।’

রুবিনার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

শহিদুল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, নিহত মহিলা দেবরের সঙ্গে বাইকে করে শ্বশুর বাড়ি থেকে তার বাপের বাড়ি হাজারিবাগে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘এরপরও উনি গাড়িটি না থামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে চলে যান। তাকে থামানোর অনেক চেষ্টা করা হয়। উনি টিএসসি পৌঁছলে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি না থামিয়ে আরও জোরে গাড়ি চালিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে থামতে বাধ্য করে। এই সম্পূর্ণ সময় সেই নারীটি গাড়ির সঙ্গে ছেঁচড়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা তাই আমরা একটা মামলা নেব। উনার গাড়িটা সিজ করেছি। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

কোন আইনে মামলা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটানোর শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা সেই শিক্ষকের নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। একটা নম্বর পেয়েছি। সম্ভবত ওনার স্ত্রীর নম্বর। তিনি ওনার অবস্থা জানার পর মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলে তিনি গাড়ি চালানোর সময় সুস্থ নাকি অসুস্থ ছিলেন সেগুলোসহ আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।’

আরও পড়ুন:
এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

মন্তব্য

বিশেষ
People cannot walk freely in the mountains

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ২৫ বছরেও হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ফাইল ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে এক গণসমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘পাবর্ত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বিতারণের চেষ্টায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এই বাহিনী, সেই বাহিনী, পঞ্চম বাহিনী গড়ে তোলে সমাধান নয়। যাদের সাথে চুক্তি করেছেন, তাদের সঙ্গে আরও বসেন।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উষাতন তালুকদার।

তিনি আরও বলেন,‘সন্তু লারমাকে বলা হচ্ছে দেশদ্রোহী। তিনি দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমিক বলে ২৫ বছর ধরে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অপক্ষো করে আছেন। সরকারকে বুঝতে হবে। সন্তু লারমা হয়তো মান অভিমান, ক্ষোভ, দুঃখ-বেদনার দুই-একটি কথা বলেছেন বলে কি উনি আপনাদের শত্রু হয়ে গেলেন নাকি?

‘পাহাড়ের মানুষ বাংলাদেশকে ক্ষতি করবে না। বরং আদিবাসীরা বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছে। নারী ফুটবল খেলোয়ার রিতুপর্ণা চাকমা, গোলরক্ষক রূপনা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনুচিং, আনাই, ময়মনসিংহের মারিয়া মান্ডা ও বক্সার সুরকৃষ্ণ চাকমা– এরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হয় দিনটি।

গণসমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ডাক্তার গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মামুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা ও যুব হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী শান্তি দেবী তনচংগ্যা।

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এত বড় শক্তিশালী নয় যে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। বরং আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরে স্বার্থ আদায় করে যাচ্ছেন। জেলা পরিষদের নির্বাচন না করে নিজেদের দলীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের চেয়ারে বসানো হচ্ছে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগের লোকেরা ভোগ করছেন। সরকার চাইলে এসব কিছু সমাধান দিতে পারত। ভূমি কমিশন আইন হলেও সরকারের সদিচ্ছা না থাকায় এ কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন হচ্ছে না। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ভূমি সমস্যা নিরসন হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?
পাহাড়ে শান্তির কপোত কি অধরা?

মন্তব্য

বিশেষ
It will be murder case DC Ramana

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা

এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা নারীকে রিকশা থেকে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় প্রাইভেট কারটি। এক পর্যায়ে চালককে আটকে পিটুনি দেয় পথচারীরা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারীকে প্রাইভেট কারের নিচে ফেলে টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মামলা হবে জানিয়ে রমনা বিভাগের ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি হত্যাকাণ্ড।’

শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ওই নারী দেবরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি হাজারীবাগে যাচ্ছিলেন। তারা যখন শাহবাগ থেকে টিএসসির আগে কাজী নজরুলের মাজারের উল্টো দিকের রাস্তায় পৌঁছান, তখন প্রাইভেট কারটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ওই নারী সড়কে পড়ে যান ও প্রাইভেট কারের সঙ্গে আটকে যান।

‘তবে চালক গাড়িটি না থামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে তাকে নিয়ে যান। অনেক চেষ্টা করেও তাকে থামানো যায়নি। উনি টিএসসি পৌঁছালে আমাদের মোবাইল টিমও তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তারপরও উনি গাড়ি না থামিয়ে নীলক্ষেত মোড়ের দিকে চলে যান। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে থামায়।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘যেহেতু এটা মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা, তাই আমরা একটা মামলা নেব। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সড়ক আইন অনুযায়ী রেকলেস ড্রাইভিংয়ে মৃত্যু ঘটনার শাস্তির বিধান আছে। এই আইনে তার যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটি আমরা চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ওই শিক্ষকের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। একটা নম্বর পেয়েছি। তবে ঘটনা জানাতে যোগাযোগের পর থেকে মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলে সাবেক ওই শিক্ষক সুস্থ নাকি অসুস্থ ছিলেন সে বিষয়ে জানা যেত।’

নিহতদের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করতে আসেননি জানিয়ে ডিসি শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘উনারা হয়তো ব্যস্ত আছেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’

এ বিষয়ে দুর্ঘটনার শিকার নারীর পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনগত সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নারী রুবিনা আক্তার তিনি গৃহবধূ ছিলেন। থাকতেন তেজগাঁওয়ে। তার ১২ বছরের একটি ছেলে আছে। দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন।

অন্যদিকে গাড়িচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজাহার জাফর শাহ।

আরও পড়ুন:
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি
মতিঝিলে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাবা-ছেলেকে পিষ্ট করে হোটেলে কাভার্ড ভ্যান, নিহত ৫
বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
মেয়েকে মাদ্রাসায় দিতে গিয়ে বাসচাপায় মা-বাবাও নিহত

মন্তব্য

বিশেষ
Metrorail recruitment exam postponed due to nepotism allegations

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরু হলেও ৫ মিনিট পরই ওএমআর শিট নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু কিছু কক্ষে দরজা আটকে অনেকের পরীক্ষা নেয়া হয়।

স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভের মুখে মেট্রোরেলের টিকিট মেশিন অপরাটের পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার মেট্রোরেলের স্বত্বাধিকারী সরকারি মালিকানাধীন ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড’ পরীক্ষা স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নেয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেট্রোরেলের টিকেট মেশিন অপারেটর পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

প্রবেশপত্রে উল্লেখ করা ছিল, পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষার হলে উপস্থিত থাকতে হবে। নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরাও উপস্থিত হয়েছিলেন।

ডিএমটিসিএল-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কথা ছিল পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায়। পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারিত ছিল ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হয় ৩০ মিনিট দেরিতে।

বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরু হলেও ৫ মিনিট পরই ওএমআর শিট নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো কোনো কক্সে মাত্র এক মিনিট পরও তা নিয়ে যাওয়া হয়।

তারা আরও অভিযোগ করেন, কিছু কিছু কক্ষে দরজা আটকে অনেকের পরীক্ষা নেয়া হয়।

এ অবস্থায় ১১টার পর পরীক্ষার্থীরা বাইরে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের পরীক্ষার্থীদের অনেকেই রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ দূর-দুরান্ত থেকে এসেছেন। তারা অভিযোগ করেন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষা নেয়ার নামে হয়রানি করেছে।

এক পর্যায়ে স্থগিত না করা পর্যন্ত পরীক্ষার হল ত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নেন চাকরিপ্রার্থীরা। তারা বলেন, ‘এর আগেও এমন অনেক পরীক্ষা হয়েছে। পরে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

পরীক্ষার্থীদের অনেকে জানান, ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে তারা মেট্রোরেলের পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক কর্মকর্তা এসে পরীক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরীক্ষা স্থগিতে সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘টিকিট মেশিন অপারেটর পদে ১৬২৫ আবেদনকারী ছিল। সবার পরীক্ষা এক জায়গায় হওয়ার কথা ছিল। টোটাল পরীক্ষাটা আমরা এই পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করেছি।’

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মেট্রোরেলের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল সিদ্ধান্তের কথা জানান ডিএমটিসিএল কর্মকর্তা

এ সময় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে আবারও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি-না জানতে চান ওই কর্মকর্তার কাছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সবাই আবারও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের পরে মেট্রোরেলের উদ্বোধন হবে। তখন থেকেই যেসব কাজ করবেন তাদের জন্যই এই পরীক্ষা। যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে, আপনাদের মনে প্রশ্ন এসেছে, এটাকে নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটা স্থগিত করেছে।’

দ্রুত পরীক্ষার নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতই আপনাদের জানাব। আপনাদের সব আবেদন আমাদের কাছে রেডি করা আছে।’

কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে পরীক্ষার হল ছাড়েন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা।

আরও পড়ুন:
২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের ৬ লাইন
মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে যাত্রী উঠবে কীভাবে
মেট্রোরেল: কলকাতায় ১০ বাড়িতে ফাটল, ঘরছাড়া শতাধিক
রেলে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের বিরোধিতায় অস্থায়ী শ্রমিকেরা
মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান নিয়ে মোংলায় ট্রাম্প

মন্তব্য

বিশেষ
Dont scare A League by showing rally Farooq Khan

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে শুক্রবার বি‌কে‌লে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের স‌ম্মেল‌ন উদ্বোধন করেন কর্নেল (অব.) ফারুক খান। ছবি: নিউজবাংলা
ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

বিএন‌পি‌ নেতাদের উ‌দ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, ‘স‌মাবেশ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না। আওয়ামী লীগ জা‌নে কীভা‌বে স‌মাবেশের মাধ্যমে, নির্বাচনের মাধ্যমে জিততে হয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হয়।’

শুক্রবার বি‌কে‌লে গাজীপু‌রের টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের ত্রি-বা‌র্ষিক স‌ম্মেল‌নে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক খান বলেন, ‘ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এখনই কমিটি গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক খান।

সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই দুই থানায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান আজমত উল্লাহ খান।

বিএনপি সূত্র জানায়, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে বিভাগীয় সমাবেশ করছে বিএনপি। এ পর্যন্ত আটটি সমাবেশ হয়েছে। শনিবার নবম সমাবেশটি হচ্ছে রাজশাহীতে।

মন্তব্য

বিশেষ
Brazil defeated Argentina in the field

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল খেলার আগে দুই পক্ষের খেলোয়াড়রা। ছবি: নিউজবাংলা
খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দল সমর্থনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। িএ ম্যাচে ব্রাজিল দল জয়লাভ করেছে।

শুক্রবার বিকেলে কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মাঠে ওই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

খেলায় প্রথম থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল সমর্থকরা। খেলা শুরুর ১০ মিনিটে রাজুর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল সমর্থক দল। এরপর আর্জেন্টিনা সমর্থক দল তাদের আক্রমণ শক্তিশালী করার চেষ্টা করলে ১৬ মিনিটে রাজুর আরও একটি গোল হজম করে তারা।

দুই গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা দল চেষ্টা চালাতে থাকে গোল পরিশোধ করার। খেলার ২০ মিনিটে আসে সফলতাও। গোল করে ব্যবধান কমান আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের জাহিদ। পরে আর কোনো গোল না হওয়ায় ব্রাজিল সমর্থক দল জয়ী হয়।

খেলা শেষে ব্রাজিল সমর্থক দলের অধিনায়ক নাজমুল সাগর বলেন, ‘আমরা একটি প্রীতি ম্যাচ খেললাম। বিভাগের প্রত্যেকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মজবুত করতে আজকের এ প্রীতি ম্যাচ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি।’

আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের অধিনায়ক তাজ হাসান বলেন, ‘একটি খেলায় হার-জিত থাকবেই। খেলা খেলার জায়গায়। এর জন্য আমাদের বন্ধুত্ব বা ভাইয়ের সম্পর্ক নষ্ট হোক এটা আমরা চাই না। প্রীতি ম্যাচ আনন্দ করার জন্যই।’

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে খেলা যেন এই মাঠের মধ্যেই থাকে। এ খেলার জন্য কেউ কারোর ওপর মনোমালিন্য যেন না হয়।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদার।

আরও পড়ুন:
জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবিতে ভর্তির তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি
গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পেলেন জবির ৩০ শিক্ষক
জবি ক্যাম্পাসে বদ্ধ নর্দমা, মশার রাজত্ব

মন্তব্য

p
উপরে