× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বিশেষ
তাসনুভা হো চি মিন শোনালেন রূপান্তরিত নারীর প্রেমের গল্প
hear-news
player
print-icon

তাসনুভা-হোচিমিন শোনালেন রূপান্তরিত নারীর প্রেমের গল্প

তাসনুভা-হোচিমিন-শোনালেন-রূপান্তরিত-নারীর-প্রেমের-গল্প দুই ট্রান্সজেন্ডার নারী হোচিমিন ইসলাম (বাঁয়ে) এবং তাসনুভা আনান শিশির। ছবি: নিউজবাংলা
ভালোবাসা দিবসে নিউজবাংলার বিশেষ আয়োজন ‘আমাদের প্রেম’ অনুষ্ঠানে নিজেদের ভালোবাসার গল্প বলেছেন দুজন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান শিশির এবং হোচিমিন ইসলাম।

ভালোবাসা একটি ছোট্ট শব্দ হলেও এর মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে মনের গভীর অতল রহস্য। ভালোবাসা প্রকাশের ধরন বদলায় মানুষে মানুষে, এমনকি লিঙ্গভেদেও। আবার অনুভূতির তীব্রতা এবং প্রাপ্তিতেও আছে রকমফের।

ভালোবাসা দিবসে নিউজবাংলার বিশেষ আয়োজন ‘আমাদের প্রেম’ অনুষ্ঠানে নিজেদের ভালোবাসার গল্প বললেন দুজন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান শিশির এবং হোচিমিন ইসলাম।

তারা দুজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মাস্টার্স প্রোগ্রাম জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী শিক্ষার্থী।

নাট্যকর্মী তাসনুভার জীবনে প্রথম প্রেম আসে ২০১২ সালে। তবে সমাজ, পরিবারসহ নানা কারণে সেই প্রেম এগোতে পারেনি বেশিদূর।

নার্সিং-এ পড়াশোনা করা হোচিমিন প্রথম প্রেমে পড়েন সেই ক্লাস ফাইভে। এখনও সেই তীব্র প্রেমের অনুভূতি তাকে নাড়া দেয়। তবে কেটে গেছে সেই প্রেমের সুর। প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা থেকে গেলেও ঘর বাঁধার স্বপ্ন আর দেখেন না।

দুজনেই প্রেম প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পছন্দ করেন চিঠি লেখাকে। লিখেছেন বহু চিঠি। ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া চিঠির সংখ্যাও কম নয়।

এ ক্ষেত্রে তাসনুভার আছে মজার অভিজ্ঞতা। নানা হাত হয়ে চিঠি আসতে আসতে যুক্ত হয়েছে অনেক বাড়তি লাইন। এক চিঠিতে তাই পেতেন বহু মানুষের মনের কথা।

প্রেমের চূড়ান্ত পরিণতি কি বিয়ে?

নিউজবাংলার এমন প্রশ্নে হোচিমিন বলেন, বিয়ে করলে প্রেম আর থাকে না। তা ছাড়া বিয়ের সময় মানুষের সিদ্ধান্ত সমাজ দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত হয়। সমাজ কী ভাবল, কীভাবে দেখল সেটা ভাবা হয়। মানুষ এগুলোকে ঊর্ধ্বে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এর ঠিক বিপরীতটাই ভাবেন তাসনুভা। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, প্রেমের পরিণতি হওয়া উচিত বিয়ে। আর দশটা মানুষের মতো তিনিও বিয়ে করে সংসারী হতে চান। কিন্তু এই সমাজব্যবস্থায় এক জন ট্রান্সজেন্ডার নারী বা পুরুষের বিয়ের গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিয়ে তো দূরের বিষয় নিজেদের পরিবারেই তাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই দূরে থেকেও যে ভালোবাসা যায় সেটিই তাদের মেনে নিতে হয়েছে।

পুরুষের শরীরে আটকে পড়া দুই নারীই মনে করেন, বাংলাদেশে জেন্ডার শিক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। শুধু নারী আর পুরুষের মাঝেই যে জেন্ডার সীমাবদ্ধ নয় বা মানুষের যৌনতার যে নানা ধরন রয়েছে সেগুলো অনেকে জানেনই না। তাই যথেষ্ট জ্ঞান, পরিবেশ ও সুযোগের অভাবে পরিবার, সমাজের চাপে ট্রান্সজেন্ডারদের অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়।

উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম না পাওয়ায় সবাই তাদের কথাগুলো জানাতেও পারেন না। আবার অনেক সময় নিজেদের চিনতে, বুঝতে পারলেও সামর্থ্যের অভাবে ট্রান্সজেন্ডাররা কাঙ্ক্ষিত শরীরে রূপান্তরিত হতে পারেন না। কারণ ডাক্তার, সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, নিউরোলজিস্ট, সার্জারি এতো ধাপ পেরিয়ে যাওয়া সবার জন্য সম্ভব হয় না বলে জানান তাসনুভা।

‘Love is the most powerfull weapon in the world’ বলে মনে করেন হোচিমিন।তবে সমাজ মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবার আগেই তার লিঙ্গ, বর্ণ বিচার করা শুরু করে।

তিনি সমাজকে বলতে চান, 'মানুষকে মানুষের মতো করে মর্যাদা, ভালোবাসা দিতে হবে'।

ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি তার পরামর্শ, এই যে স্রোতের বিপরীতে তাদের পথচলায় হতে হবে কৌশলী। অপেক্ষা করতে হবে সঠিক সময়ের জন্য। এভাবেই তাদের এগোতে হবে।

ট্রান্সজেন্ডারদের গল্পগুলো, ভালো কাজগুলো তুলে আনলে মানুষের মাঝে পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন হোচিমিন।

হোচিমিনের এই বক্তব্যে একমত হলেও তাসনুভার আক্ষেপ, বেশিরভাগ মানুষ তাদের গল্পগুলো দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন।

মানুষের চিন্তায় পরিবর্তন আনার কার্যকর উপায় কী?

হোচিমিন বলেন, ‘সমাজের প্রতিটা মানুষ বুকে হাত দিয়ে বলুক, ভবিষ্যতে তাদের যে সন্তান আসবে সে এক জন নারী হবে অথবা পুরুষই হবে। যদি সেটা না পারেন, যদি আপনার আগত সন্তান আমাদের মতো হয় তখন কি আপনি আপনার সন্তানের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন? নাকি এখনই তার জন্য কথা বলা শুরু করবেন? প্রত্যেককেই তাদের অধিকারের জন্য কথা বলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতে বাধা কাটল ট্রান্সজেন্ডারদের
নাচের মাধ্যমে লিঙ্গ সহিংসতার প্রতিবাদ তৃতীয়লিঙ্গের শিল্পীদের
ট্রান্সজেন্ডার বন্দিদের সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়ায় আইন
ট্রান্সজেন্ডার মানে কী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিশেষ
The Muslim MLA played the chewed sweets of the Dalit priest

দলিত পুরোহিতের চিবানো মিষ্টি খেলেন মুসলিম বিধায়ক

দলিত পুরোহিতের চিবানো মিষ্টি খেলেন মুসলিম বিধায়ক বিধানসভার সদস্য জামির আহমেদের অনুরোধে নিজের চিবানো মিষ্টি এমএলএ-র মুখে পুড়ে দেন দলিত পুরোহিত। ছবি: এনডিটিভি
ভারতে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ইস্যুগুলোকে উসকে দিয়ে ফায়দা আদায় করা রাজনীতিকদের উদ্দেশ করে বিধায়ক জামির আহমেদ খান বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় উগ্রবাদী দল ভারতের মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিতে এবার দলিত পুরোহিতের চিবানো মিষ্টি হাসিমুখে খেয়ে নিলেন ভারতের এক মুসলিম রাজনীতিবিদ।

বেঙ্গালুরুর চামরাজপেট আসনের বিধায়ক (এমএলএ) জামির আহমেদ খান রোববার দলিত সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব আম্বেদকর জয়ন্তী এবং মুসলমানদের ঈদে মিলন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

সেখানে বক্তব্য দেয়ার মাঝে একটি মিষ্টি তিনি তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোহিতকে খাইয়ে দেন। এরপর পুরোহিতকে চিবানো মিষ্টি মুখ থেকে বের করে তার মুখে দেয়ার অনুরোধ করেন এমএলএ নিজেই।

এতে পুরোহিত কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বিধানসভার সদস্যের অনুরোধে নিজের চিবানো মিষ্টি পুড়ে দেন এমএলএ-র মুখে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তুলে ধরতে বিধায়কের এমন দৃষ্টান্তমূলক সম্প্রীতির ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ইস্যুগুলোকে উসকে দিয়ে ফায়দা আদায় করা রাজনীতিকদের উদ্দেশ করে বিধায়ক জামির আহমেদ খান বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় উগ্রবাদী দল ভারতের মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

চারবারের বিধায়ক জামির খান এর আগে খাদ্য ও নাগরিক অধিকার, ভোক্তা অধিকার এবং সংখ্যালঘুদের কল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
ধর্মান্ধতার অন্ধকার ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ
সামাজিক সম্প্রীতি কমায় ধর্মান্ধরা সুযোগ নিচ্ছে

মন্তব্য

বিশেষ
The first flight with all the female crew in Saudi

সৌদিতে সব নারী ক্রু দিয়ে উড়ল ফ্লাইট

সৌদিতে সব নারী ক্রু দিয়ে উড়ল ফ্লাইট সৌদি আরবে নারী ক্রুদের দিয়ে প্রথমবারের মতো ফ্লাইট পরিচালনা করে বেসামরিক এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল। ছবি: ফ্লাইডেল
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল দেশটিতে এ ঘটনাকে নারীর ক্ষমতায়নের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবে সাশ্রয়ী খরচে পরিচালিত এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল এটি পরিচালনা করে। নতুন মডেলের এয়ারবাস এ-৩২০-এর ফ্লাইটটি শনিবার রাজধানী রিয়াদ থেকে উড্ডয়ন করে উপকূলীয় শহর জেদ্দায় পৌঁছায়।’

সব নারী ক্রু দিয়ে এই প্রথম একটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল।

স্থানীয় সময় শনিবার ফ্লাইডেল কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা আরব নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ফ্লাইডেলের মুখপাত্র ইমাদ ইসকানদারানি বলেন, ‘ওই উড়োজাহাজের সাতজন ক্রুর মধ্যে বেশির ভাগই সৌদি নারী। ক্রুদের মধ্যে ফার্স্ট অফিসার একজন সৌদি নারী। তবে ফ্লাইটটির ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে ছিলেন বিদেশি একজন নারী।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল দেশটিতে এ ঘটনাকে নারীর ক্ষমতায়নের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবে সাশ্রয়ী খরচে পরিচালিত এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল এটি পরিচালনা করে। নতুন মডেলের এয়ারবাস এ-৩২০-এর ফ্লাইটটি শনিবার রাজধানী রিয়াদ থেকে উড্ডয়ন করে উপকূলীয় শহর জেদ্দায় পৌঁছায়।’

ফ্লাইডেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটিই প্রথম ফ্লাইট যেখানে সব নারী ক্রুর পাশাপাশি একজন সৌদি নারী কো–পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সৌদিতে সব নারী ক্রু দিয়ে উড়ল ফ্লাইট
সৌদি আরবের বেসামরিক এয়ারলাইনস ফ্লাইডেলের নারী ক্রু। ছবি:আরব নিউজ

রক্ষণশীল এই আরব দেশটিতে গত কয়েক বছর যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান নারীদের গাড়ি চালনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের বাইরে যাওয়ার ওপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে দেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ অ্যাভিয়েশন খাতের উন্নয়নে চেষ্টা চালাচ্ছেন, যাতে দেশটি আকাশপথে বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় নারীদের ভূমিকা আরও জোরালো করার আশ্বাস দেয়।

এই ফ্লাইটে কো-পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী সৌদি নাগরিক ইয়ারা জান। তিনি দেশটির সবচেয়ে কম বয়সী নারী পাইলট।

তিনি বলেন, ‘দেশটির এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারায় নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে।

‘একজন সৌদি নারী হিসেবে আমি চাইব দেশের এমন সব অগ্রযাত্রার সঙ্গে নিজের নাম স্মরণীয় করে রাখতে।’

ইয়ারা জান ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি ফ্লাইট স্কুল থেকে পাইলট হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ফ্লাইডেল এয়ারলাইনসে পাইলট হিসেবে তিনি চাকরি শুরু করেন ২০২১ সালের জুনে।

তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ এই ফ্লাইটটিতে কো-পাইলট হিসেবে পাইলটকে সহযোগিতা করতে নেভিগেশন ও বিভিন্ন চেকলিস্ট সম্পন্ন করতে হয়েছে আমাকে।’

‘যদিও একজন সৌদি নারীর জন্য পাইলট হওয়া নতুন তবে আমাদের প্রজন্মের জন্য এখন এটি আর অসম্ভব কিছু নয়। বিশেষ করে আমরা আমাদের প্রিয় দেশ এবং আমাদের সম্মানিত নেতাদের কাছ থেকে যে সমর্থন পাচ্ছি। এর ফলে আমি সৌদিতে সর্বকনিষ্ঠ নারী পাইলট হতে অনেক সহায়ক হয়েছে। আমি সব সময় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে সহায়ক হয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে আরও বেশি উচ্ছ্বসিত হব।’

সম্প্রতি সৌদি আরবে নারী পাইলটের সংখ্যা বাড়ছে।

এই ক্ষেত্রে আরও তিনটি নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। হানাদি জাকারিয়া আল-হিন্দি যিনি সৌদি বাণিজ্যিক পাইলটের লাইসেন্স নিয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনা করা প্রথম নারী পাইলট।

রাওয়াইয়া আল-রিফি প্রথম নারী যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট এয়ারবাস এ-৩২০ পরিচালনা করে নিজ দেশ সৌদি আরবে নিয়ে আসেন।

ইয়াসমিন আল-মাইমানি, যিনি সৌদি আরবে প্রথম একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নারী কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:
চোয়ালের ব্যথাও হতে পারে মেনোপজের লক্ষণ
পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি

মন্তব্য

বিশেষ
Jaw pain can also be a sign of menopause

চোয়ালের ব্যথাও হতে পারে মেনোপজের লক্ষণ

চোয়ালের ব্যথাও হতে পারে মেনোপজের লক্ষণ মেনোপজের সময় বিশেষ ধরনের চোয়ালের ব্যথা টিএমডি আরও তীব্র হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
‘এই গবেষণাটি যৌনতাসংশ্লিষ্ট হরমোন, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন এবং ব্যথার অভিজ্ঞতার মধ্যে সম্পর্কের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। পরিষ্কার প্রমাণ মিলেছে, টিএমডির লক্ষণগুলো মেনোপজের বিভিন্ন লক্ষণের সঙ্গে যুক্ত এবং মেনোপজের বিভিন্ন পর্যায়জুড়ে ভিন্ন মাত্রায় প্রকাশ পায়।’

নারীর মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়ার অংশ। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের শরীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়েন প্রায় সবাই।

বয়সের সঙ্গে ডিম্বাশয়ের সক্রিয়তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ৩৫ বছর বয়স থেকেই। মেনোপজের সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাশয়ের কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়। এর অর্থ হলো ডিম্বাশয় ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোন তৈরিসহ ডিম নিঃসরণের প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটিয়েছে।

সাধারণভাবে নারীদের মেনোপজের গড় বয়স ৪২ থেকে ৫৩ বছর। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে আরও আগেই এটা ঘটতে পারে। স্থায়ী মেনোপজের আগে টানা ১২ মাস বা এক বছর মাসিক বন্ধ থাকতে দেখা যায়।

ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় প্রকৃত মেনোপজের কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর আগে থেকেই হট ফ্ল্যাশ ও অনিয়মিত পিরিয়ডের মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পর্যায়কে বলা হয় পেরিমেনোপজ

মেনোপজের প্রক্রিয়ার সময় অনেকে প্রচণ্ড মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন। কারও কারও অনিদ্রা, জ্বরের অনুভূতি, যৌনাঙ্গ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এমনকি আলঝেইমারসের লক্ষণও দেখা যেতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজের সময় বিশেষ ধরনের চোয়ালের ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ব্যথার নাম টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার ডিস-অর্ডার (টিএমডি)। মেনোপজের সময় অনেক নারীর ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি চোয়ালের গোড়ায় ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ধারণা করা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানদের মধ্যে ৪.৮ শতাংশ বা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ টিএমডিতে আক্রান্ত। পুরুষের তুলনায় নারীদের টিএমডিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ। সাধারণভাবে এর পেছনে হরমোনজনিত পরিবর্তনকেই দায়ী মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মেনোপজের সময় টিএমডির মাত্রা বেড়ে যাওয়া নিয়ে খুব বেশি গবেষণা নেই। তবে ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজ-পরবর্তী সময়ের তুলনায় মেনোপজের প্রক্রিয়া শুরুর সময়ে নারীদের টিএমডিতে ভোগার প্রবণতা বেশি।

সম্প্রতি আরেক গবেষণাতেও এর প্রমাণ মিলেছে। ব্রাজিলের একদল গবেষক দেখেছেন, টিএমডি সম্পর্কিত ব্যথার সঙ্গে মেনোপজের চূড়ান্ত সময়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে মেনোপজের পর ধীরে ধীরে এর মাত্রা কমে আসতে শুরু করে।

নর্থ আমেরিকান মেনোপজ সোসাইটির (এনএএমএন) জার্নাল মেনোপজে গত ১০ মে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি

ব্রাজিলের সাও পাওলো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলেসান্দ্রা পুচি মানটেলি গলহার্দো ও তার সহকর্মীরা গবেষণাপত্রের উপসংহারে লিখেছেন, মেনোপজের দিকে যাওয়া নারীদের ক্ষেত্রে টিএমডির মাত্রাও পর্যালোচনায় আনা উচিত।

গবেষণাটির ফলাফল চমকপ্রদ বলে মনে করছেন এনএএমএস মেডিক্যাল ডিরেক্টর ড. স্টেফানি ফাউবিওন। তিনি বলছেন, ‘এই গবেষণাটি যৌনতাসংশ্লিষ্ট হরমোন, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন এবং ব্যথার অভিজ্ঞতার মধ্যে সম্পর্কের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। পরিষ্কার প্রমাণ মিলেছে, টিএমডির লক্ষণগুলো মেনোপজের বিভিন্ন লক্ষণের সঙ্গে যুক্ত এবং মেনোপজের বিভিন্ন পর্যায়জুড়ে ভিন্ন মাত্রায় প্রকাশ পায়।’

আরও পড়ুন:
মোহামেডানে সালমা-রুমানা, আবাহনীতে জাহানারা
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর
ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে

মন্তব্য

বিশেষ
Holiday approval in the Spanish cabinet due to period complications

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন নারীর সবেতনে ছুটি অনুমোদন করেছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। ছবি: সংগৃহীত
খসড়ায় মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।   

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় শারীরিক জটিলতায় ভোগা নারীদের কর্মক্ষেত্রে ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে স্পেন সরকার। মন্ত্রিসভা বৈঠকে মঙ্গলবার প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।

এ ছাড়া ১৬ বছর বয়স হলে বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই কিশোরীদের গর্ভপাতের অধিকারে সায় দিয়েছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত আরও বেশকিছু পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে।

চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বিষয়গুলো এরপর পার্লামেন্টে তোলা হবে। আর সেখানে আইন হিসেবে পাশ হলে ইউরোপের প্রথম দেশের নাগরিক হিসেবে ঋতুস্রাবের সময় ছুটির অধিকার ভোগ করবেন স্পেনের নারীরা।

খসড়ায় এ ক্ষেত্রে মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।

বর্তমানে শুধু জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

মন্ত্রিসভা বৈঠক সামনে রেখে স্পেনের সমতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রদ্রিগেজ গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব লক্ষণ (তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর) কারও মধ্যে দেখা গেলে সাময়িক শারীরিক জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাজেই পিরিয়ডের সময়কার এসব জটিলতাকেও আমাদের স্বীকার করা প্রয়োজন। এ সময়টি অত্যন্ত কষ্টকর, তাই এতে আক্রান্ত নারীদের বাড়িতে বিশ্রামের সুযোগ দেয়া উচিত।’

পাশাপাশি এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমরা উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করছি, যাতে করে ব্যথা নিয়ে নারীদের কাজ করতে যাওয়া আর স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত না হয়। পিরিয়ডকে ঘিরে কলঙ্ক, লজ্জা ও নীরবতার অবসান যাতে ঘটে। আমরা অধিকার প্রশ্নে অগ্রগতি ঘটাতে চাই।’

স্পেনের বামপন্থি সরকারের এ উদ্যোগ অবশ্য বিরোধিতার মুখেও পড়ছে। বামপন্থি জোটের মধ্যে থাকা কিছু দল এবং ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভক্তি। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপের বিপরীত ফল হতে পারে। নারীদের নিয়োগ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে হেয় করার প্রবণতা বাড়তে পারে।

স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ, প্রান্তিক এলাকার নারীদের স্যানিটারি প্যাড ও ট্যাম্পন বিনা মূল্যে প্রদান এবং সুপার মার্কেটে এসব পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিল।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর
ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি

মন্তব্য

বিশেষ
The female staff of the movie coffeeshop will get leave during the period

চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি

চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি চালচিত্র নামের এই কফিশপে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে নারীদের জন্য পিরিয়ডের সময় ছুটির কথা জানানো হয়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
চালচিত্র নামের এই কফিশপটি রাজধানীর লালবাগ কেল্লার পাশে চালু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১ জুন। ছোটখাটো উদ্যোগ, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেজের এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই উদ্যোক্তার।  

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান নারীরা। নানান শারীরিক জটিলতার মাঝেও অনেকে মুখ বুজে সামলান কর্মস্থলের দায়িত্ব।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথায় ভোগা নারীদের সর্বোচ্চ তিন দিন কাজ থেকে ছুটি দেয়ার প্রস্তাব মঙ্গলবার অনুমোদন পেয়েছে স্পেনে। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

তবে বাংলাদেশে নারীর ঋতুস্রাব এখনও নানান গোপনীয়তার বেড়াজালে বাঁধা। মাসিকের কারণে নারীর বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিও ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত।

এমন প্রেক্ষাপটে ব্যতিক্রমী ঘোষণা এসেছে চালু হতে যাওয়া একটি কফিশপের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপনে তারা বলছেন, নারী কর্মীদের পিরিয়ডের সময় থাকবে সবেতন ছুটি।

চালচিত্র নামের এই কফিশপটি রাজধানীর লালবাগ কেল্লার পাশে চালু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১ জুন। ছোটখাটো উদ্যোগ, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেজের এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই উদ্যোক্তার।

চালচিত্র কফিশপে পার্টটাইম ওয়েটার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে ফেসবুকে। তাতে বলা হয়েছে, নারী ওয়েটার হলে তাকে মাসে দুই দিন বৈতনিক মেনস্ট্রুয়াল লিভ দেয়া হবে।

চালচিত্রের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নোশিন আঞ্জুমের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। নোশিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের ছাত্র রিয়াদ হোসেনের সঙ্গে মিলে তিনি চালু করতে যাচ্ছেন কফিশপটি।

চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি
চালচিত্র কফিশপের উদ্যোক্তা নোশিন আঞ্জুম (বাঁয়ে) ও রিয়াদ হোসেন

নোশিন নিউজবাংলাকে জানান, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের জন্য এই সুবিধা চালু করতে চান। এতে তার পুরুষ ব্যবসায়িক পার্টনারও সায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বিজনেসের প্ল্যান করছিলাম, তখন থেকেই বিষয়টা (নারী কর্মীদের পিরিয়ডের সময় ছুটি) ইন্ট্রোডিউস করার ইচ্ছা ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং আমার ফ্রেন্ড বা রিলেটিভদের মধ্যে যারা জব করছেন তাদের সমস্যা দেখেই বিষয়টি মাথায় এসেছে।

‘পিরিয়ডের সময় মানুষ অনেক স্ট্রেসড থাকে। হরমোনাল অনেক ধরনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে যায়। এ সময় যেখানে তার একটু এক্সট্রা কেয়ার দরকার, সেখানে তাকে অন্য দিনের মতোই কাজে যেতে হয়, কাজ করতে হয়। প্রথমত ইমোশনের জায়গা থেকে, দ্বিতীয়ত আমরা আমাদের ওয়ার্কপ্লেস এমন করতে চেয়েছি যেখানে একজন নারীকে এ রকম ফিজিক্যাল স্ট্রেস নিয়ে কাজ করতে হবে না।’

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

নোশিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি একজন পিরিয়ডের সময় সুস্থ ফিল না করেন তাহলে আমি যে আউটপুটটা চাই, দিন শেষে সেটা পাব না। আর একজন ওয়েটারকে সরাসরি কাস্টমারদের সঙ্গে ডিল করতে হয়। তিনি যদি ফিজিক্যালি-মেন্টালি ভালো ফিল না করেন তাহলে নরম্যালি বিহেভ করতে পারবে না। তাহলে আমি যে আউটকাম চাই তা নেগেটিভ হয়ে যাওয়ার চান্স আছে।

‘এর চেয়ে আমি তাকে একটা লিভ দিলাম। তিনি সুস্থ হয়ে পরদিন এলেন। এতে দুজনেরই সুবিধা হবে। এটা কিন্তু অন্য যে সিক লিভ আছে তার মধ্যে পড়বে না।’

এই ছুটির কারণে উদ্যোক্তা হিসেবে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন না নোশিন। বরং তিনি মনে করছেন, এই ছুটির বিনিময়ে যা তারা পাবেন তার অর্থমূল্য নির্ধারণ করা যায় না।

তিনি বলেন, ‘যখন কোনো পার্টটাইম ওয়েটার পিরিয়ডের কারণে ছুটিতে থাকবেন, তখন তাকে তার কাজ নিয়ে ভাবতে হবে না। সে সময় অন্য কোনো ওয়েটার ওভারটাইম করতে পারবেন বা কাউকে পাওয়া না গেলে আমি বা আমার পার্টনার রিয়াদ কাজগুলো করব।’

নোশিন জানান, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত তারা অন্য পদের কর্মীদের জন্যও এই ছুটি চালু করতে পারছেন না। তবে ভবিষ্যতে সার্বক্ষণিক নারী কর্মীদের জন্যও এই ছুটি চালুর ইচ্ছা আছে।

নোশিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যত সিভি এসেছে তাতে নারী-পুরুষের রেশিও ৪০-৬০। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর আগে আমরা যখন বারিস্তা বা ফুলটাইম ওয়েটারের জন্য সিভি চেয়েছি, তখন একজন নারীরও সিভি আসেনি।

‘আমার কাছে মনে হয় এবার অনেক মেয়ে এই পিরিয়ডের সময় ছুটির কারণেই অ্যাপ্লাই করেছেন। হয়তো পেমেন্ট কম, কিন্তু মাসের একটা নির্দিষ্ট সময় পেইড লিভ পাওয়া যাবে। এটা ভেবেই তারা সিভি পাঠিয়েছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই দুই শিক্ষার্থীই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী। তাই তারা কফিশপটি সাজাচ্ছেন সিনেমাটিক থিমে। শপ চালুর কিছুদিনের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে সেখানে।

নোশিন বলেন, ‘যেসব উদীয়মান নির্মাতা আর্থিক সমস্যার কারণে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জায়গা পান না, তাদের আমরা একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে চাই। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন উদীয়মান নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে সামান্য কিছু ফি নেয়া হতে পারে, যার পুরোটাই দেয়া হবে ওই নির্মাতাকে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
ময়মনসিংহ থেকে রোনালডোর দেশে যাচ্ছেন তিন নারী ফুটবলার

মন্তব্য

বিশেষ
Thirty years later France has a female prime minister

৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স

৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নি। ছবি: এএফপি
চলতি বছর এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাখোঁর দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ের পর সরকারে ব্যাপক রদবদল আনার আভাস দিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদে এমন পরিবর্তন আনলেন মাখোঁ। আগামী জুনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একজন বামপন্থী নেতা এবং যার পরিবেশ বিষয়ে পর্যাপ্ত দখল রয়েছে তাকেই প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্য মনে করেছেন মাখোঁ।

ফ্রান্সের শ্রমমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নিকে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে ৩০ বছরের বেশি সময় পর দেশটিতে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর এলিসি প্যালেস সোমবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এলিজাবেথ বর্নির নিয়োগের বিষয়টি জানায়। ৬১ বছর বয়সী এই নারী রাজনীতিক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এর আগে সামাজিক সংস্কারে নেয়া দেশটির প্রেসিডেন্টের ঘোষিত প্যাকেজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ফ্রান্সে। সেই সময় একজন দক্ষ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান এলিজাবেথ বর্নি। বর্নির কার্যকর পদক্ষেপ আন্দোলন প্রশমনে মাখোঁ সরকারকে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

দেশটিতে সবশেষ নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন ইডিথ ক্রেসন। তিনি ১৯৯১ সালের মে মাস থেকে ১৯৯২-এর এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স এর আগে তার পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দিয়েছেন।

চলতি বছর এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাখোঁর দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ের পর সরকারে ব্যাপক রদবদল আনার আভাস দিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদে এমন পরিবর্তন আনলেন মাখোঁ।

আগামী জুনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হবার কথা রয়েছে ফরাসি পার্লামেন্টে। এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার লড়াইয়ে মধ্যপন্থী মাখোঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বামপন্থী ও কট্টর ডানপন্থীদের জোট।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একজন বামপন্থী নেতা এবং যার পরিবেশ বিষয়ে পর্যাপ্ত দখল রয়েছে তাকেই প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্য মনে করেছেন মাখোঁ।

এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে সামাজিক সংস্কার ও নারী উন্নয়নে মাখোঁর দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিমানসেকে দেয়া বক্তব্যে ইডিথ ক্রেসন বলেন, ফ্রান্সের রাজনীতি এখনও পুরুষতান্ত্রিক হয়ে আছে। ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হলে নতুন নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’

মন্তব্য

বিশেষ
Spanish women get three days off a month due to period complications

পিরিয়ড জটিলতায় মাসে তিন দিন ছুটি পাচ্ছেন স্পেনের নারীরা

পিরিয়ড জটিলতায় মাসে তিন দিন ছুটি পাচ্ছেন স্পেনের নারীরা পিরিয়ডের সময় শারীরিক জটিলতায় ভোগা নারীদের জন্য তিন দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে স্পেনে। ছবি: সংগৃহীত
প্রস্তাবের খসড়াটি মঙ্গলবার স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে। এতে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হচ্ছে।

পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথায় ভোগা নারীদের সর্বোচ্চ তিন দিন কাজ থেকে ছুটি দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করতে যাচ্ছে স্পেন সরকার।

আগামী সপ্তাহেই প্রস্তাবের খসড়াটি অনুমোদন পেতে পারে। এটি কার্যকর হলে প্রথম পশ্চিমা দেশের নাগরিক হিসেবে ঋতুস্রাবের সময় ছুটির অধিকার ভোগ করবেন স্পেনের নাগরিকরা।

বর্তমানে শুধু জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

স্পেনের সমতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রদ্রিগেজ এল পেরিওডিকো সংবাদপত্রকে বলেন, ‘এসব লক্ষণ কারও মধ্যে দেখা গেলে সাময়িক শারীরিক জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাজেই পিরিয়ডের সময়কার এসব জটিলতাকেও আমাদের স্বীকার করা প্রয়োজন। এ সময়টি অত্যন্ত কষ্টকর, তাই এতে আক্রান্ত নারীদের বাড়িতে বিশ্রামের সুযোগ দেয়া উচিত।’

প্রস্তাবের খসড়াটি মঙ্গলবার স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে। এতে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ, প্রান্তিক এলাকার নারীদের স্যানিটারি প্যাড ও ট্যাম্পন বিনা মূল্যে প্রদান এবং সুপার মার্কেটে এসব পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিল।

খসড়া প্রস্তাবে ১৬ এবং ১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই সরকারি হাসপাতালে গর্ভপাতের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
লবণাক্ততা: পিল খেয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখছে কিশোরীরা
ময়মনসিংহ থেকে রোনালডোর দেশে যাচ্ছেন তিন নারী ফুটবলার
মাসিক নিয়ে ভ্রান্তি ও অধিকারহীনতার শৃঙ্খলে নারী

মন্তব্য

p
উপরে