শিক্ষকের শখের জাদুঘর

পুরনো অনেক জিনিসপত্র সংগ্রহে আছে নাজমুল আবেদীনের। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষকের শখের জাদুঘর

তিনটি কক্ষে অনেক পুরনো জিনিস। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈজসপত্র, পুরনো ২৫০টি মডেলের তালা, টেপ রেকর্ডার, হাতি, উট ও মহিষের শিং, লাঙ্গল, জোয়াল, মাছ ধরার চাঁই, পুরোনো দা, ৫০ বছর আগের ইট, শিলা, টেলিফোন।

৩৫ বছর আগের কথা। দাদার হাতের ছড়ি আর দাদির পিতলের পানের বাটা স্মৃতি হিসেবে ঘরে রেখে দিয়েছিলেন। সেই থেকে পুরনো জিনিস দেখলেই নিজের কাছে রেখে দেয়ার নেশা তৈরি হয়।

দেশ-বিদেশ ঘুরে যত ধরনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র পেয়েছেন নিজের কাছে এনে রেখেছেন। এভাবে সংরক্ষণ করতে গিয়ে তিনি রীতিমতো একটি জাদুঘর বানিয়ে ফেলেন।

এই সংগ্রাহকের নাম নাজমুল আবেদীন। কুমিল্লা জিলা ও নবাব ফয়জুনেচ্ছা স্কুলের সাবেক শিক্ষক তিনি। বর্তমানে চাঁদপুর গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

৩৫ বছর ধরে তার জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে পুরোনো আমলের দৈনন্দিন ব্যবহৃত ও বিনোদনের জিনিসপত্র।

শুক্রবার নগরীর মগবাড়ী এলাকায় ওই জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি কক্ষে অনেক পুরনো জিনিস। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈজসপত্র, পুরনো ২৫০টি মডেলের তালা, টেপ রেকর্ডার, হাতি, উট ও মহিষের শিং, লাঙ্গল, জোয়াল, মাছ ধরার চাঁই, পুরোনো দা, ৫০ বছর আগের ইট, শিলা, টেলিফোন। এ ছাড়াও আছে কলের গানের যন্ত্রপাতি, ঢেঁকি, সুপারি কাটার ছড়তা, হারিকেন, লাউয়ের ডুগডুগি, পাললিক শিলা, হুক্কা, ঘোড়ার চামড়ার আসন, নান চাকু, পুরোনো ক্যামেরা, খড়ম।

তিনটি কক্ষে রাখা এসব সংগ্রহ দেখতে প্রায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন।

নাজমুল আবেদীন জানান, যেখানেই পুরোনো কিছুর সন্ধান পান ছুটে চলেন। ওই জিনিস উদ্ধার করে ঠাঁই দেন তার জাদুঘরে। অন্তত ২৫০ ধরনের বিলুপ্ত হওয়া তৈজসপত্র ও বিনোদনের উপকরণ তার সংগ্রহে রয়েছে।

তিনি জানান, পত্রিকায় যেকোনো প্রতিযোগিতার আহ্বান দেখলে তিনি অংশ নেন। একবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখলেন সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা। তিনি সেলফি তুলে পাঠালেন। গরুর সঙ্গে সেলফি তুলে উট পুরস্কারও পান।

হোটেল শেরাটনের নাম পরিবর্তন হবে। নতুন নাম আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। সেই প্রতিযোগিতায়ও নাম পাঠান হোটেল রূপসী বাংলা। তার নামটা পছন্দ করে কর্তৃপক্ষ। উপহার হিসেবে তিন দিন তিন রাত সপরিবারে হোটেলে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পান। বিপিএলে তার দেয়া নামেই দুটি দলের নামকরণ হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস।

বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) স্লোগান ‘দেশ ও মানুষের সেবায়’ তার দেয়া। কুমিল্লা পর্যটনের ‘দি সিটি অফ হেরিটেজ’ স্লোগানটিও তার দেয়া। এমন নামকরণে তিনি তিন বার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পান।

নাজমুল তার গড়ে তোলা জাদুঘরটি নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাড়া বাসায় থাকি। এখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। আমার স্ত্রী ও দুই ছেলে জাদুঘরটি দেখাশোনা করেন।

‘দর্শনার্থীরা যে একটু ভালো করে ঘুরেফিরে জাদুঘরটি দেখবেন সে জায়গা নেই।’

নাজমুল বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি জাদুঘরটিকে বড় করতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
জামিন নিতে এসে কারাগারে আরাফাত হত্যার আসামি
মাটি খুঁড়ে মিলল পাঁচ মর্টার শেল
শতবর্ষে কুমিল্লার বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়
‘গুড়া আলু বেইচ্চা জিলাফি খায়াম’
এতিম শিশুদের সঙ্গে কেক কেটে বিয়েবার্ষিকী

শেয়ার করুন

মন্তব্য