× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Will you leave Twitter and go to Mastodon?
hear-news
player
google_news print-icon

টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?

টুইটার-ছেড়ে-এবার-কি-ম্যাস্টোডনে-যাবেন?
মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণার পরদিনই ম্যাস্টোডনে যুক্ত হয়েছেন ৭০ হাজার নতুন ব্যবহারকারী। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ম্যাস্টোডন একক কারও অধীনে না থেকে একটি একত্রিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। এর প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রোগ্রামার জার্মানির ইউজেন রচকো বলেন, ‘সার্ভারগুলো আদতে সেবাদাতা হিসেবে কাজ করে। তবে স্কুল ফোরামের মতো সার্ভারগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একটি অ্যাকাউন্ট দিয়েই আপনি এ বৈশ্বিক বহুকেন্দ্রিক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’

ইলন মাস্ক টুইটার কিনে নেয়ার পর জনপ্রিয় এই মাইক্রো ব্লগিং সাইট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিকল্প নতুন প্ল্যাটফর্মের সন্ধান করছেন অনেকে।

টুইটার ব্যবহারকারীদের একটি অংশ ঝুঁকছে ম্যাস্টোডন-এর দিকে। ছয় বছরের পুরোনো ম্যাস্টোডন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বাম ঘেঁষা একটি ব্যবহারকারী গোষ্ঠী রয়েছে। হাতি ও ম্যামথের আদি প্রাণী ম্যাস্টোডনের নামে তৈরি হয় সাইটটি। এর বিশেষত্ব হচ্ছে একে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে না। এর নিয়ন্ত্রণ বহুকেন্দ্রিক।

টেকজায়ান্টদের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিপরীতে এ বিষয়টি ম্যাস্টোডনকে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণার পরদিনই ম্যাস্টোডনে ৭০ হাজার নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হন।

অবশ্য টুইটারের ৪৫ কোটি অ্যাকটিভ ব্যবহারকারীর তুলনায় এ সংখ্যা নগণ্য। ম্যাস্টোডনের জন্য বড় সমস্যা হচ্ছে তাদের বহুকেন্দ্রিক সফটওয়্যার যেটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কঠিন।

ম্যাস্টোডনে অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে বেশ কিছু বিষয় আলাদা। যেমন, এখানে টুইটের বদলে ‘টুট’ করতে হয়।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও জটিলতা রয়েছে। ম্যাস্টোডন কোনো একটা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট নয়। হাজারো সংযুক্ত ওয়েবসাইটের নেটওয়ার্ক। এ ধরনের সাইটকে বলা হয় ইনস্ট্যানস।

এগুলো মূলত আলাদা আলাদা সার্ভার থেকে পরিচালিত। সার্ভারগুলো ফেডারেটেড অর্থাৎ এগুলো আলাদাভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালিত তবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে সক্ষম। এ জন্য তাদের নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রীয় সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না। তাদের যোগাযোগের জায়গাটি ফেডিভার্স বা ফেডি নামে পরিচিত।

ম্যাস্টোডনে সাইন আপ করার পর আপনাকে একটি সার্ভার বেছে নিতে হবে। যেগুলোর মধ্যে ম্যাস্টোডন ডটকমের মতো সাধারণ সার্ভার থেকে শুরু করে কেপপ ডটসোশ্যাল বা লিনাক্সরকস ডটঅনলাইন এর মতো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য সার্ভারও রয়েছে।

একবারে নিছক মজার জন্য ডলফিন ডটটাউন নামের সার্ভারও আছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা শুধু ইংরেজি ‘ই’ অক্ষরটি লিখতে পারেন। যে সার্ভারটি নির্বাচন করা হয় সেটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের নামের শেষে যুক্ত হয়ে যায়, যেমন rubaid@kpop.social

টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?

আপনি যে টুট বা পোস্টগুলো দেখতে পান সেগুলো একই সার্ভার ব্যবহারকারীদের পোস্ট, পুরো ফেডিভার্সের নয়। তবে, চাইলে অন্য সার্ভার ব্যবহারকারীদেরও টুট করা যায় এবং তাদের টুটকে বুস্ট করা যায়।

এভাবেই ম্যাস্টোডন একক কারও অধীনে না থেকে একটি একত্রিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। ম্যাস্টোডনের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রোগ্রামার জার্মানির ইউজেন রচকো ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘সার্ভারগুলো আদতে সেবাদাতা হিসেবে কাজ করে। যেমন হটমেইল ও জিমেইল আমরা ই-মেইলের জন্য ব্যবহার করি। তবে স্কুল ফোরামের মতো সার্ভারগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একটি অ্যাকাউন্ট দিয়েই আপনি এ বৈশ্বিক বহুকেন্দ্রিক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’

ম্যাস্টোডনের মডেলের ঝামেলা হলো, যে সার্ভারে আপনি যুক্ত হয়েছেন সেটি অকেজো হয়ে পড়লে আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা সবকিছু হারাতে হবে। ম্যাস্টোডনের সার্ভার অ্যাডমিনের হাতে আপনি যা করেন তার নিয়ন্ত্রণ থাকছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেপপ ডটসোশ্যালের মালিক যদি দেখেন তার সার্ভার ব্যবহারকারী ডলফিন ডটটাউন থেকে করা কোনো পোস্ট বা টুট বুস্ট করেছেন তাহলে তিনি চাইলে সেটি মুছে দিতে পারেন। এমনকি সার্ভারকে আলাদা করে রাখতে পারেন, যাতে ডলফিন থেকে কোনো ব্যবহারকারীর কেপপের সার্ভারে ঢুকতে না পারেন। সার্ভার অ্যাডমিন চাইলে একজন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত টুট দেখতে পারেন এবং চাইলে তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে পারেন।

রচকোর মতে, একজন নতুন ব্যবহারকারীর উচিত কোনো সার্ভারে যোগ দেয়ার আগে সেটি সম্বন্ধে খোঁজ নেয়া এবং সেটি কে চালাচ্ছে জানার চেষ্টা করা।

তিনি বলেন, ‘সার্ভার পরিচালনাকারী কোনো প্রতিষ্ঠান নাকি ব্যক্তি, তার অতীত রেকর্ড কেমন, নির্ভরযোগ্য কিনা, দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, মডারেশনের নীতিমালা আছে কিনা সেগুলো দেখে নেয়া উচিত।

‘ঘৃণামূলক বার্তার বিরুদ্ধে নিয়ম রয়েছে ও সার্ভারের মালিকের কিছু হলে যেন সার্ভারের কিছু না হয় সে কারণে ব্যাকআপের মতো প্রয়োজনীয় সার্ভিস যাদের রয়েছে সেগুলোই মূলত নির্ভরযোগ্য।’

রচকো আরও বলেন যে, ম্যাস্টোডনের হোমপেজে পরীক্ষিত সার্ভারের একটা তালিকা আছে। তবে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সেটা ব্যবহার করা ঝক্কির ব্যপার।

ম্যাস্টোডনের সঙ্গে টুইটারের মতো কোনো সাইটের পার্থক্য নাটকীয় মনে হতে পারে। জার্মান প্রবাসী ব্রাজিলিয়ান ট্রান্সনারী এলাইলা দ্য গার্ডিয়ানকে জানান তার কাছে ম্যাস্টোডনক অনেক বেশি নিরাপদ মনে হয়।

কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, ইনস্ট্যানসগুলোকে এখানে খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ব্যবহারকারীরা নিজেদের মতামত অজান্তে বা দুর্ঘটনাবশত প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকেন না।

তিনি বলেন, ‘ভাইরাল হিসেবে যে পোস্টগুলো বিবেচিত হয় সেগুলোতে সাধারণত ৫০ থেকে ১০০টি বুস্ট থাকে। আমার অধিকাংশ টুটে দুই থেকে ২০টি লাইক রয়েছে। সেখানে যখন ২০টি লাইক আসে তখনও আমি যারা লাইক দিয়েছে তাদের সবার নাম, রুচি ও আগ্রহের বিষয় জানতে পারি। পারস্পরিকতার যে অনুভূতি সেটা আমি টুইটারে কখনও পাই না। এখানে কেউ সেলেব্রিটি না। সবার মতামতই পড়া হয়।’

এ কারণে এলাইলা এখানে একটি কমিউনিটি তৈরি করতে পেরেছেন, যার মাধ্যমে তিনি বন্ধুত্ব, রোমান্টিক সম্পর্ক এমনকি চাকরিও খুঁজে পেয়েছেন। যৌনতাপূর্ণ পোস্ট করার সময়েও তিনি ঘৃণা বা বিদ্বেষের শিকার হননি। টুইটারের মতো সাইটের ক্ষেত্রে এলাইলা মনে করেন এমনটা ঘটা অভাবনীয়।

তিনি বলেন, ‘ফেডিভার্স আমাকে শিখিয়েছে কমিউনিটিতে থাকতে কেমন লাগে আর কমিউনিটি আমাকে শিখিয়েছে একজন ট্র্যান্স হওয়ার আনন্দ।’

দুর্ভাগ্যবশত মাস্টোডনের বিকেন্দ্রীকরণের খারাপ একটি দিক হলো নিজেদের স্বার্থে কেউ এটিকে ব্যবহার করতে পারে।

২০১৯ সালে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের সামাজিক নেটওয়ার্ক ‘গ্যাব’ ম্যাস্টোডনের ফ্রি সফটওয়্যারের একটি সংস্করণ ব্যবহার করা শুরু করে। ম্যাস্টোডন গ্যাবকে এটি থেকে বিরত রাখতে পারেনি, তবে ম্যাস্টোডনের প্রধান সার্ভারগুলো গ্যাব সার্ভারগুলোকে ‘ডি-ফেডারেট’ করেছে, যাতে তারা যোগাযোগ করতে না পারে। ট্রাম্পের সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যালকে শক্তিশালী করতে ম্যাস্টোডনের কোড ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষক নেইথান স্নাইডারের মতে, ম্যাস্টোডনের প্রভাব ক্রমবর্ধমান হলেও ডিজাইনের কারণে এর তহবিল পাওয়া কঠিন এবং এ কারণে টুইটারের মতো একটি ওয়েবসাইটের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কার্যত অসম্ভব।

তিনি বলেন, “ম্যাস্টোডন মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্প যা আদতে একজন ব্যক্তির দ্বারা তৈরি। টুইটার দৃশ্যত ৪৪ বিলিয়ন ডলারের একটি কোম্পানি। যদি একদল ব্যবহারকারী একত্রিত হন ও বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে ও একটি বিকল্প তৈরি করতে চাই’ তাহলেও তাদের তহবিল পাওয়ার ক্ষমতা ইলন মাস্কের তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতার চেয়ে অনেক কম হবে।”

প্রযুক্তি সমালোচক ও টেক ওন্ট সেইভ আস পডকাস্টের হোস্ট প্যারিস মার্কস জানান, তিনি ম্যাস্টোডন ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন কিন্তু তেমন কোনো দর্শক পাননি। যেখানে টুইটারে তার ৩৫ হাজার ফলোয়ার রয়েছে এবং তার পোস্ট প্রায়ই ভাইরাল হয়।

তিনি বলেন, ‘এটি (টুইটার) এখনও একটি প্রভাবশালী সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। আদতে যার সমতুল্য কেউ নেই। তাই টুইটারে আর কী কী আসছে সেটা জানতে অনেকেই এখানে আটকে আছেন।’

মার্কস টুইটার ব্যবহার বন্ধ করতে না পেরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে বিজ্ঞাপন পাঠানো হয় আমি সেগুলো ব্লক করে দেই। আমি টুইটারের ব্লু টিকের জন্য অর্থ দিইনি। আমাকে তারা আর্থিকভাবে যেন খুব বেশি মূল্যবান মনে না করে সে বিষয়টি আমি নিশ্চিত করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করতে চান ইলন মাস্ক
কবে টুইটারে ফিরছেন ট্রাম্প
টুইটারে ব্লু টিকের ফি মাসে ৮ ডলার
ইলন মাস্ক এবার টুইটারের সিইও
টুইটার ব্লু ব্যাজে টাকা নেয়ার পরিকল্পনায় মাস্ক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Harry Potter is invisible when wearing a coat

কোট পরলেই হ্যারি পটারের মতো অদৃশ্য

কোট পরলেই হ্যারি পটারের মতো অদৃশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আইএ) ক্যামেরার নজর এড়াতে সক্ষম এই কোট। ছবি: সংগৃহীত
এক গবেষক বলেন, ‘আমাদের চারপাশে গোপনে নজরদারি চালাচ্ছে এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ক্যামেরা। এগুলো আমাদের জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে; আমাদের গোপন বিষয়গুলো সবার সামনে প্রকাশ করে দেয়।’

সিনেমায় হ্যারি পটারের ছিল অদৃশ্য হওয়ার পোশাক। আলখাল্লার মতো পোশাকটি গায়ে দিলেই অদৃশ্য হয়ে যেতেন হ্যারি। সেই সিনেমা দেখে অনেকের হয়তো হ্যারির মতো অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে জাগতে পারে।

এমন সব রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষের জন্য সুখবর দিল চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র। তারা হ্যারির সেই পোশাকের আদলে একটি কোট তৈরি করেছেন। তবে এটি কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আইএ) ক্যামেরার নজর এড়াতেই সক্ষম!

এক গবেষক বলেন, ‘আমাদের চারপাশে গোপনে নজরদারি চালাচ্ছে এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ক্যামেরা। এগুলো আমাদের জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে; আমাদের গোপন বিষয়গুলো সবার সামনে প্রকাশ করে দেয়।

কোট পরলেই হ্যারি পটারের মতো অদৃশ্য
হ্যারি পটার সিমেনার একটি দৃশ্য

খালি চোখে এটিকে অন্যসব সাধারণ কোটের মতোই দেখায়। তবে এটি পরলে যে কেউ স্রেফ অদৃশ্য যাবেন...ধরা পড়বেন না নিরাপত্তা ক্যামেরায়।

কোটের কাস্টমাইজড ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টটি অ্যালগরিদমের সাহায্যে ডিজাইন করা। এ কারণে দিনের আলোয় ক্যামেরায় ধরা পরে না এটি।

রাতের বেলা সাধাণরত ইনফ্রারেড থার্মাল ইমেজিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে শনাক্ত করে নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো। এই প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিতে বিশেষ এই কোটে যুক্ত করা হয়েছে থার্মাল ডিভাইস; যেগুলো কোট থেকে বিভিন্ন তাপমাত্রা ছাড়ে। তাপের এমন অস্বাভাবিক আচরণের কারণে কোটটি রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে।

চীনের উহান ইউনিভার্সিটির চার ছাত্র মিলে ‘অদৃশ্য প্রতিরক্ষামূলক’ কোটটি তৈরি করেছেন। এটি এমন একটি প্রকল্প যা ‘হুয়াওয়ে কাপ’-এ প্রথম পুরস্কার জিতেছে।

হুয়াওয়ে কাপ হলো সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে একটি উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা; চীনা প্রযুক্তিগত জায়ান্ট হুয়াওয়ে এটির আয়োজক।

কোটের মূল অ্যালগরিদম ডিজাইন করেছেন কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র ওয়েই হুই। তিনি বলেন, ‘এই কোট তৈরিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি আমরা। এটি নিরাপত্তা ক্যামেরায় ব্যবহৃত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মানুষ শনাক্ত করার প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিতে পারে।’

ছাত্ররা শুরুতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ক্যামেরায় কোটটি পরীক্ষা করেন। এ সময় ক্যামেরার মানুষ শনাক্ত করার ক্ষমতা ৫৭ শতাংশ কমে যায়।

গবেষকরা বলছেন, কোটটি তৈরিতে প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে ছিল ক্যামেরা এবং মানুষের চোখ। এ দুটোকেই বোকা বানানোর জন্য ভারসাম্য রাখতে হয়েছে।

ওয়েই বলেন, ‘আমরা এই কোটটিকে “অন্যায়ভাবে” শনাক্তকরণের বিরুদ্ধে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় ডিজাইন করেছি।’

নজরদারির জন্য চীন সরকারের পরিচিত অনেক আগে থেকে। সবচেয়ে বেশি নগরদারি হয় এমন শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় ২০১৯ সালে চীন ছিল আট নম্বরে। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্যামেরা ব্যবহার করে জিনজিয়াং প্রদেশের ‘সন্দেহজনক’ মুসলিমদের শনাক্ত করা হয়। পাশাপাশি গভীর রাতে শিশুদের গেম খেলাকেও নজরদারি চালায় চীন সরকার।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Controversial mask to get bed at Twitter office

টুইটার কার্যালয়ে বিছানা পেতে বিতর্কিত মাস্ক

টুইটার কার্যালয়ে বিছানা পেতে বিতর্কিত মাস্ক টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। ছবি: এএফপি
সান ফ্রান্সিসকো শহরের ভবন পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা প্যাট্রিক হান্নান ফোর্বসকে বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ভবনটি উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। আবাসিক ভবনগুলোর জন্য আলাদা বিল্ডিং কোড রয়েছে। বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন হলে আমরা টুইটারকে নোটিশ পাঠাব।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার ইস্যুতে আবারও আলোচনায় বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

ক্লান্ত কর্মীদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে টুইটার কার্যালয়ে কয়েকটি রুমকে বেডরুমে পরিণত করেন মাস্ক। আর এ নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে টুইটারের বিরুদ্ধে বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির এক ব্যবহারকারী।

এ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে সান ফ্রান্সিসকো কর্তৃপক্ষ।

শহরের ভবন পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা প্যাট্রিক হান্নান ফোর্বসকে বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ভবনটি উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। আবাসিক ভবনগুলোর জন্য আলাদা বিল্ডিং কোড রয়েছে। বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন হলে আমরা টুইটারকে নোটিশ পাঠাব।’

শহরটির ভবন পরিদর্শন অধিদপ্তরের মুখপাত্র দ্য সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে টুইটারের কার্যালয় পরিদর্শন করা হবে।

এদিকে সান ফ্রান্সিসকো শহর কর্তৃপক্ষের কাছে টুইটারের কার্যালয়ের কয়েকটি রুমকে বেডরুম করার বিষয়ে কোনো আবেদন দেয়া হয়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইলন মাস্ক। সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র লন্ডন ব্রিডের সমালোচনা করে এক টুইটবার্তায় মাস্ক বলেন, ‘ক্লান্ত কর্মচারীদের জন্য বিছানা রাখা হয়েছে। কোম্পানিটিকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।’

ফোর্বস জানায়, টুইটারের কার্যালয়ের বেশ কয়েকটি রুমকেই বেডরুমে পরিণত করেন মাস্ক। এসব বেডরুমে ছোট ছোট বেড, পর্দা, বেডসাইড টেবিল, অফিস আর্মচেয়ার ও গালিচা আছে।

৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কেনার পরই মাস্ক প্রতিষ্ঠানটির সিইওসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন। পরে টুইটার থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেন তিনি।

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Niko from Comilla can tell the biodata by looking at the appearance

চেহারা দেখে বায়োডাটা বলে দিতে পারে কুমিল্লার ‘নিকো’

চেহারা দেখে বায়োডাটা বলে দিতে পারে কুমিল্লার ‘নিকো’ রোবট নিকোর সঙ্গে কোয়ান্টা রোবটিক্স টিম। ছবি: নিউজবাংলা
টিম লিডার সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই রোবট ছবিতে যে কারও চেহারা দেখেই তার বায়োডাটা বলে দিতে পারে। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।’

দেশের সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট তৈরি হলো কুমিল্লায়। দীর্ঘ এক বছর গবেষণার পর রোবটটি তৈরি করেছে কোয়ান্টা রোবটিক্স টিম। রোবটটির নাম দেয়া হয়েছে নিকো।

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী রোবটটি তৈরি করেছেন। তারা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও টিম লিডার সঞ্জিত মণ্ডল, আইসিটি বিভাগের ত্রয়োদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও হেড প্রোগ্রামার জুয়েল নাথ, আইসিটি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌসিফ বিন পারভেজ ও একই বিভাগের চতুর্দশ ব্যাচের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন খান মাহি।

কোয়ান্টা রোবটিক্স টিম জানায়, তাদের তৈরি রোবটটির ভার্সন ১.০, স্পিড ১.৫ গিগাহার্জ, সিক্সটি ফোর বিট কোয়াড-কোর এআরএম প্রসেসর, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, ১২০ গিগাবাইট রম। ২৯টি শক্তিশালী সার্ভো মোটর ব্যবহার করা হয়েছে রোবটটির বিভিন্ন বডি পার্টস মুভমেন্টের জন্য। চলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চ টর্কের ডিসি মোটর। পরিচালনা করার জন্য রয়েছে সেভেন ইঞ্চি রাসবেরি পাই টাচ ডিসপ্লে।

এটিকে দেশে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে অ্যাডভান্স রোবট হিসেবে দাবি করেন নির্মাতারা। কোনো তার সংযোগ ছাড়া শুধু কথা বলেই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

টিম লিডার সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই রোবট ছবিতে যে কারও চেহারা দেখেই তার বায়োডাটা বলে দিতে পারে। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।’

নির্মাণব্যয় ৪ লাখ টাকা উল্লেখ করে সঞ্জিত দাবি করেন, রোবটটিকে কর্মক্ষেত্রে যেকোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে। মানুষের মতোই নানা কাজ করতে সক্ষম এই রোবট। আর একবার চার্জ দিয়ে এটিকে প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা সচল রাখা যাবে।

সঞ্জিত বলেন, ‘আমাদের টিম কোয়ান্টা রোবটিক্স এর আগে আরও দুটি রোবট তৈরি করেছিল। নিকো আমাদের তৈরি তৃতীয় রোবট। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে অ্যাডভান্সড রোবট। এর আগে বাংলাদেশে কখনোই ফুল থ্রিডি প্রিন্টেড রাসবেরি পাই বেইস কোনো রোবট তৈরি হয়নি।’

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ফ্যাব ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে রোবটটি। সেখানেই মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রোবটটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘আমি কুমিল্লায় জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকে একটা বিষয় মাথায় কাজ করছিল, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। প্রযুক্তিজ্ঞান ছাড়া এই বিপ্লবে শামিল হওয়া সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আমরা ফ্যাব ল্যাব তৈরি করেছি। এখানে যে কেউ গবেষণা করতে পারেন।

‘এ ছাড়াও একটি রোবটিকস স্কুল নির্মাণ করেছি। যার নাম দিয়েছি স্কুল অব রোবটিকস। জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব তৈরি তৈরি করেছি। কুমিল্লার বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তি শিক্ষায় দারুণ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকলে কুমিল্লাসহ পুরো দেশের মানুষ উপকৃত হবে।’

চেহারা দেখে বায়োডাটা বলে দিতে পারে কুমিল্লার ‘নিকো’

কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসেই চালু হয়েছে স্কুল অব রোবটিক্স। অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার নিজ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এটিরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে স্কুলটিতে বিভিন্ন বয়সী দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করেন। সপ্তাহে শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে এ ক্লাস।

অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথ ইস্ট, ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীরা এখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত। আর তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৫০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরাও এখানে ক্লাস করেন।’

আরও পড়ুন:
যুদ্ধ-রোবট আনছে সাউথ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান
রোবট ছাগল বেক্স
কুমিল্লা ডিসি অফিসে সেবা দেবে রোবট
রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ৪ স্বর্ণপদক জয়
বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশকে জানাবে নাঈমের রোবট

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
Nuclear bus in northern region tour

উত্তরাঞ্চল পরিভ্রমণে ‘নিউক্লিয়ার বাস’

উত্তরাঞ্চল পরিভ্রমণে ‘নিউক্লিয়ার বাস’ পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার সারা দিন অবস্থান করেন নিউক্লিয়ার বাসের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
রুশ সরকারের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে। এ কারণেই নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরমাণু প্রযুক্তি এবং মানব জীবনে এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে জানাতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

পরমাণু প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পরিভ্রমণ করছে ‘নিউক্লিয়ার বাস’ ।

মঙ্গলবার সারা দিন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ক্যাম্পাসে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দেন নিউক্লিয়ার বাসের কর্মীরা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের তথ্যকেন্দ্রের কর্মীরা জানান, নিউক্লিয়ার বাস নামে বিশেষভাবে ব্র্যান্ডিং করা বাসটি গত ৩০ নভেম্বর ঢাকা থেকে যাত্রা করে রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা ভ্রমণ শেষে পাবনা পৌঁছেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরমাণু প্রযুক্তি এবং মানব জীবনে এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তারা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহায়তায় বাসে ভ্রমণ করছেন পরমাণু শক্তি তথ্যকেন্দ্র ও পরমাণু শক্তি কমিশনের কয়েকজন তরুণ কর্মী ও প্রকৌশলী।

তারা কুইজ ও গেম শোর মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এর বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা দেন।

রুশ সরকারের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে। এ কারণেই নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরমাণু প্রযুক্তি এবং মানব জীবনে এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে জানাতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

রূপপুর কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে স্থাপিন হবে থ্রি প্লাস প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম।

আরও পড়ুন:
রূপপুরের দেড় হাজার টনের যন্ত্রাংশ মোংলায়
ডেঙ্গুতে রূপপুর প্রকল্পের আরেক শ্রমিকের মৃত্যু
রূপপুর এনপিপি: দ্বিতীয় ইউনিটে ব্রিজক্রেন স্থাপন
রূপপুরে ইউরেনিয়াম আমদানি আগামী সেপ্টেম্বরে
অক্টোবরে রূপপুরে বসছে দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
The referees are using the latest technology watches in the World Cup

বিশ্বকাপে রেফারিরা ব্যবহার করছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঘড়ি

বিশ্বকাপে রেফারিরা ব্যবহার করছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঘড়ি
অফসাইড, গোললাইনসংক্রান্ত, খেলোয়াড় বদল, এক্সট্রা টাইম ইত্যাদি তথ্য মাঠের ভেতরের রেফারিকে জানানোর মাধ্যম এই ঘড়ি। তথ্য এলে ঘড়িটি কেঁপে ওঠে বা ভাইব্রেশন দেয়। তথ্য দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন রেফারি।

বরাবরের মতো এবারও ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারিদের ঘড়ি তৈরি করেছে সুইজারল্যান্ডের হাবলট। সাধারণ ঘড়ির সঙ্গে এটাকে মেলালে চলবে না। রেফারি এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের সুবিধার জন্য এতে রয়েছে নানা ফিচার

মাঠে কিক অফ হলেই ঘড়িটি অটোমেটিক ‘ম্যাচ মুড’ এ চলে আসে। এক-দুই করে সময় গুনতে শুরু করে সে। নির্ধারিত সময় শেষে ঘড়িটি অটোমেটিক এক্সটা টাইম গুনতে শুরু করে।

ম্যাচ চলাকালে মাঠের ভেতরের রেফারি ঘড়ির সাহায্যে সাইড লাইনের রেফারি এবং অন্য অফিশিয়ালদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এই ঘড়িতে রয়েছে একটি চিপ। চিপের সাহায্যে যাবতীয় তথ্য আদান-প্রদান চলে।

বিশ্বকাপে রেফারিরা ব্যবহার করছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঘড়ি

অফসাইড, গোললাইনসংক্রান্ত, খেলোয়াড় বদল, এক্সট্রা টাইম ইত্যাদি তথ্য মাঠের ভেতরের রেফারিকে জানানোর মাধ্যম এই ঘড়ি। তথ্য এলে ঘড়িটি কেঁপে ওঠে বা ভাইব্রেশন দেয়। তথ্য দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন রেফারি।

গোল হলে ঘড়িতে অ্যানিমেশন দেখায়। উঠে আসে গোলদাতার নাম। একই ভাবে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা পেনাল্টি হলেও ঘড়িতে অ্যানিমেশন দেখায়।

সাধারণ মুডে ঘড়ির ডিসপ্লেতে বার, তারিখ এবং সময় প্রদর্শিত হয়। নিচের দিকে থাকে কাতার বিশ্বকাপের লোগো।

১.৩৯ ইঞ্চি বা ৩৫.৩ মিলিমিটারের ঘড়িটিতে আছে এএমওএলইডি টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে। ৩২৭ ডিপিআই রেজল্যুশনের ঘড়িটিতে আছে ৪০০ এমএএইচ ব্যাটারি। রিচার্জেবল ব্যাটারিটি দুই ঘণ্টায় ফুল চার্জ হয়।

ঘড়িতে সংরক্ষিত আছে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের পতাকাও। রেফারি চাইলে যেকোনো দেশের পতাকা মনিটরে তুলে এনে তথ্য নিতে পারেন।

এবার আসা যাক দামের প্রসঙ্গে। ঘড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হাবলট এই ঘড়ির দাম ধরেছে ৫ হাজার ৪৮০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় কিনতে গেলে খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি।

বিশ্বকাপে রেফারিরা ব্যবহার করছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঘড়ি

মোট এক হাজারটি ঘড়ি তৈরি করা হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের জন্য। ৩৬ জন রেফারি, ৬৯ জন সহকারী রেফারি এবং ২৪ জন ভিএআর রেফারি ব্যবহার করছেন এই ঘড়ি।

পাশাপাশি ভিভিআইপি অতিথিরাও এই ঘড়ি উপহার পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
সিসে অসুস্থ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডাগআউটে থাকা নিয়ে সংশয়
ইংল্যান্ডের সামনে সেনেগালের চ্যালেঞ্জ
কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেন নেইমার
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি পোল্যান্ড
লালমনিরহাটে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
3 astronauts landed in China after spending six months in space

ছয় মাস মহাকাশে কাটিয়ে চীনে নামলেন ৩ নভোচারী

ছয় মাস মহাকাশে কাটিয়ে চীনে নামলেন ৩ নভোচারী চীনে ফিরলেন তিন নভোচারী। ছবি: বিবিসি
চীনের প্রথম নারী মহাকাশচারী লিউ ইয়াং বলেছেন, মহাকাশ স্টেশনে আমার অবিস্মরণীয় স্মৃতি রয়েছে। মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত।

চীনের মহাকাশ স্টেশনে ছয় মাসের অভিযান শেষে ফিরলেন তিন নভোচারী।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় মহাকাশ স্টেশন তিয়ানহ থেকে স্থানীয় সময় রোববার তারা চীনের মাটিতে নামেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি

গত ৫ জুন মহাকাশ স্টেশনটির নির্মাণসহ নানা বিষয় পর্যবেক্ষণে যান এই নভোচারীরা। অভিযান শেষে মহাকাশযান শেনঝৌতে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ইনার মঙ্গোলিয়ায় পৌঁছান তারা।

নভেম্বরে এই স্টেশন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রচারিত অডিওতে নভোচারী কমান্ডার চেন ডং, লিউ ইয়াং ও কাই জুজে বলেছেন, অবতরণের পর তারা সুস্থ বোধ করছেন।

চীনের স্পেস এজেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৯ ঘণ্টার যাত্রা শেষে ভালোভাবে ফিরে এসেছেন তিন নভোচারী। অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

চীনের প্রথম নারী মহাকাশচারী লিউ ইয়াং বলেছেন, মহাকাশ স্টেশনে আমার অবিস্মরণীয় স্মৃতি রয়েছে। মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত।

এর আগে গত বছরের জুনে একই মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে সেপ্টেম্বরে ফিরে আসেন চীনের তিন নভোচারী। ৯০ দিন তারা সেখানে কাটিয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সফল এই অভিযানের ফলে মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল চীন।

মহাকাশে থাকাকালীন নভোচারীরা পৃথিবীতে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটাসহ দৈনন্দিন নানা কাজ সম্পন্ন করেছেন।

মহাকাশ স্টেশনটির কেন্দ্রীয় অংশ তিয়ানহে মডিউলে প্রত্যেক নভোচারীর জন্য পৃথক থাকার জায়গা, মহাকাশে চলতে সক্ষম বিশেষ নকশার ট্রেডমিল-বাইসাইকেলসহ শরীরচর্চাকেন্দ্র ইত্যাদি রয়েছে।

গত কয়েক বছরে মহাকাশ গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বেইজিং। এমনকি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের সবচেয়ে দূরের অংশে একটি রোবটচালিত রোভারও পাঠিয়েছে তারা।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অংশ নেই বলে নিজস্ব মহাকাশ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হয়েছে চীনকে।

আরও পড়ুন:
ভারতের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় চীনকে চুপ থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
হতাশা থেকেই চীনে বিক্ষোভ: শি চিনপিং
চীনের গুয়াংজুতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

মন্তব্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
US school finds turning off phones results in fewer bathroom trips

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলটিতে ফোন বন্ধে মিলছে সুফল, কমেছে ওয়াশরুমে যাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলটিতে ফোন বন্ধে মিলছে সুফল, কমেছে ওয়াশরুমে যাওয়া স্মার্টফোন হাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
পিটার বেক বলেন, বাসায় স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে আসার পর শিক্ষার্থীরা সামনাসামনি কথা বলাটাই পুরো ভুলে গিয়েছিল। অনেক সময় প্রয়োজনের কথা বলতে গিয়েও জটিলতায় পড়ছিল তারা।

করোনা সংকট কাটিয়ে ওঠার পর খুলে দেয়া হলেও আর আগের চেহারায় ফিরছিল না যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলটি। ক্লাসে এসে শিক্ষার্থীদের ছিল না মনোযোগ। সামনাসামনি সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলাতেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছিল না।

এই সংকট কাটাতে স্কুলে বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল ফোনের ব্যবহার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা কর্মচারী; সবার জন্যই চালু হয় এক নিয়ম। এতেই মিলেছে সুফল। আর ওয়াশরুমে গিয়ে ফোন টিপতে টিপতে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের যে প্রবণতা ছিল সেটাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

উত্তর-পশ্চিম ম্যাসাচুসেটসের বাক্সটন স্কুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান পিটার বেকের বরাত দিয়ে এ ঘটনা প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট

পিটার বেক বলেন, বাসায় স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে আসার পর শিক্ষার্থীরা সামনাসামনি কথা বলাটাই পুরো ভুলে গিয়েছিল। অনেক সময় প্রয়োজনের কথা বলতে গিয়েও জটিলতায় পড়ছিল তারা।

এমন পরিস্থিতিতে স্কুলে সবার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়, ক্যাম্পাসের পুরো ১১৪ একরের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মচারীদের কেউই আইফোন বা অ্যান্ড্রোয়েড ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সময় থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হলে এর সুফল মিলতে থাকে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

স্কুলপ্রধান পিটার বলেন, শিক্ষার্থীরা সমৃদ্ধ হচ্ছে। তারা পরিবর্তনের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। পরিবর্তন দরকার ছিল, তবে এটা সম্ভব হবে ভাবিনি।

তিনি জানান, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে যে ফোন তারা ব্যবহার করছে, এটা ছাড়া তাদের কীভাবে চলবে তা নিয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর যেসব শিক্ষার্থীর বাড়ি স্কুলের পাশে তাদের বাড়িতে ফোন রেখে আসতে হয়। আর দূরের শিক্ষার্থীদের ফোন জমা রাখতে হয় স্কুলে। সেমিস্টার ফাইনালের আগে পর্যন্ত এমন অবস্থা চলে।

ফোন নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে স্কুলের ওয়েব সাইটে বলা হয়, এখন সাধারণ ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। শুধু কথা বলা ও মেসেজ পাঠানো যায় এমন ফোন ব্যবহার করতে পারছে তারা।

ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা যায়, ই-মেইলে ঢোকা যায় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করা যায়- এমন ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই কার্যকর রয়েছে। তবে স্কুল শেষে কেউ চাইলে ডেস্কটপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন।

পিটার বেক বলেন, তারা একাডেমিক কাজে আরও বেশি সময় ব্যয় করছে। শিল্পের মাধ্যমে সৃজনশীলভাবে নিজেদের প্রকাশ করছে। একে অন্যকে জানছে।

একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রবণতাও কমেছে। তারা অনেক সময় দরকার না হলেও মেসেজ ও টিকটক চেক করার জন্য বিশ্রামাগার ব্যবহার করত। ওয়াশরুমে গিয়ে বেশি সময় ব্যয় করত এই ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে। এটা কমেছে।

আরও পড়ুন:
আলট্রা-স্লিম ডিজাইনের বাজেট স্মার্টফোন রিয়েলমি সি৩০
শিশুর মোবাইল ফোনে আসক্তি কমানোর উপায়
দেশের বাজারে এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন রিয়েলমি সি৩০

মন্তব্য

p
উপরে