রাজধানীর মুগদা, যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে যাত্রাবাড়ী থানায় ২৪ জন, মুগদা থানায় ১২ জন ও তেজগাঁও বিভাগে ৩৫ জন। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আল আমিন (৪০), মো. মহসীন মিয়া (৫০), মো. মিলন মিয়া (৩৭), মো. শামিম মিয়া (২৩), হালিমা আক্তার (৩২), সেলিনা খাতুন (৪৫), মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (২৪), মো. ইসমাইল হোসেন (২০), ইয়াসিন মিয়া (১৯), মো. ইকবাল হোসেন (১৯), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে শান্ত (২৭), নাজমা বেগম (৫০), মো. আসিফ (২১), মো. সাজ্জাত হোসেন (২২), নাঈম মৃধা (২৫), মো. জাবেদ (৩৮), মো. সেলিম বাবু (৩৫), মো. জনি (৪২), শিলা (৫০), সজল (২৬), মো. নুর ইসলাম (১৯), মো. আবু তালেব সরকার (৩২), মো. ইউসুফ (৩২) ও নাজমুল (২১)।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো করা হয়েছে।
এদিকে মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সোহান (২০), রাহাদ (১৯), রাসেল (৩৭), মো. সিফাত (১৮), মো. শাহীন (১৯), আশিকুর রহমান (২৫), মো. রোমান (২৫), সজল (২৮), মো. মাহিম (২৫), মো. আল আমিন (২৬), মো. শাওন (২৬) ও মো. শামীম (৩৬)।
মুগদা থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার মুগদা থানা পুলিশ অত্র থানাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, প্রদীপ চন্দ্র দাস ওরফে হোসেন মোহাম্মদ ওরফে দীপু (৩৯), মো. আব্দুর রহমান (২৬), মো. হৃদয় (২৭), মো. তরিকুল ইসলাম (৩১), মো. গোলাম মোর্শেদ (২৮), মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৬), তরিকুল ইসলাম (২৮), মো. বাবুল (২৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৩), মো. কামাল (৩৫), ইয়াছিন হাসান সেন্টু (৩৩), মুয়ীদুল ওমর (নাহিদ), হৃদয় (২৬), মো. জুয়েল রানা (৩০), মো. বিল্লাল (২৭), মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার (৪৫), শাওন (১৯), মো. তালহা জোবায়ের (২০), মো. শফিউল ইসলাম (৩৫), মেহেদী হাসান (২৩), মো. জাকারিয়া (জাকারুল) (২২), মো. মেহেদী হাসান (২০), মো. জুনায়েদ (২০), মো. শরিফুল ইসলাম (২২), মো. ফয়জুল করিম (২৬), মো. পিয়াস (৩০), মো. আসিফ (২২), ফয়সাল (২৪), আল আমিন (২২), মো. জাহিদুল (২৫), মো. জাহিদ হোসেন (৪০), মো. সোহেল রানা (২৯), মো. নিপু (২৪), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩) ও মো. রফিকুল ইসলাম ডলার।
তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও থানার ৪ জন, শেরেবাংলা নগর থানার ৫ জন, মোহাম্মদপুর থানার ১৭ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ৪ জন ও হাতিরঝিল থানার ৫ জন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সেমাবার (৮ জুন) একজন এবং গতকাল দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বৃহত্তম ভূ-উপরিস্থ সেচ ব্যবস্থা গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের পাম্পিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও নকশা পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে উজানে পানি প্রবাহের দিক পরিবর্তনের কারণে গঙ্গা (বাংলাদেশে পদ্মা) নদীর পানি মারাত্মকভাবে কমে গেলেও নিরবচ্ছিন্ন পানি উত্তোলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রকৌশলগত নকশা অনুযায়ী, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ইনটেক চ্যানেলে পানি উত্তোলনের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় স্তর বর্তমান ৩.৯ মিটার থেকে কমিয়ে ২.৫ মিটারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে। এই কৌশলগত সমন্বয়ের ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেলেও বিশাল পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় জিকে প্রকল্প পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এই উন্নয়ন সম্পর্কে জানান।
১৯৬২ সালে চালু হওয়া জিকে প্রকল্পটি বাংলাদেশের কৃষি অবকাঠামোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে অতীব প্রয়োজনীয়। এই প্রকল্পের বিশাল কমান্ড এরিয়া প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সেচযোগ্য এলাকা প্রায় ৯৫ হাজার ৫০০ হেক্টর।
তবে পুরোনো অবকাঠামো, অচল পাম্প এবং পলি জমে ভরাট হওয়া খালগুলোর কারণে কয়েক দশক ধরে এর কার্যকর পরিধি (সেচ এলাকা) কমে ৫৫ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, গঙ্গার পানির স্তর ৪.৫ মিটারের নিচে নেমে গেলেই পাম্পের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকে এই সংকট আরো প্রকট হয়েছে, যা শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিবিন্যাসকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে এই দুর্বলতাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে। সে বছরের শুষ্ক মৌসুমে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টের কাছে পানির স্তর চার মিটারের নিচে নেমে যায়, যার ফলে পাম্পগুলো পানি উত্তোলনে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়ে এবং সকল সেচ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘পাম্পগুলো একেবারেই চালানো যাচ্ছিল না, ফলে পুরো প্রকল্প এলাকাটি অত্যাবশ্যকীয় সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।’ বারবার ফিরে আসা এই হুমকি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার নকশা পুনর্গঠন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
নদীর পানির নিম্নস্তর থেকে পানি উত্তোলনের সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং মৌসুমি পানি সংকটের মুখে প্রকল্পের সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তবে জিকে প্রকল্পের কর্মকর্তারা আশাবাদের পাশাপাশি সতর্ক করে বলেন, নদীর মূল প্রবাহ ক্রমাগত কমতে থাকলে কেবল কাঠামোগত পরিবর্তনই যথেষ্ট নাও হতে পারে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি পানি উত্তোলনের ন্যূনতম স্তর ১.৫ মিটার কমাতেও সফল হই, তবুও এর চূড়ান্ত সুফল নির্ভর করবে উজানের পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল পানি প্রবাহ পাওয়ার ওপর।’
উল্লেখ্য, দেশের কৃষি ইতিহাসে জিকে প্রকল্প এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৫১ সালে প্রাথমিক সমীক্ষা এবং ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। একটি ‘লিফট-কাম-গ্র্যাভিটি’ সেচ ব্যবস্থা হিসেবে পরিকল্পিত এই প্রকল্পটি পদ্মা থেকে পানি উত্তোলন করে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা বিশাল খাল নেটওয়ার্কে পানি সরবরাহ করে।
বছরের পর বছর ধরে উজানে পানির প্রাপ্যতা হ্রাস, ইনটেক চ্যানেলে অতিরিক্ত পলি জমা এবং পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে এর সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঐতিহাসিক নথিপত্র থেকে জানা যায়, পাম্পগুলোর মূল নকশার মানদণ্ড নদীর তৎকালীন যে অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছিল, শুষ্ক মাসগুলোতে নদীর সেই অবস্থা এখন আর বিরাজমান নেই।
এদিকে, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ টিপু সুলতান সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দলের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীতে পদ্মার পানিনির্ভর অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেন।
চলমান সংকট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি একটি ন্যায্য ও পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সমাধান অধরাই থেকে যায়, তবে গঙ্গার পানি বণ্টন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধটি জাতিসংঘের টেবিলে উত্থাপন করা উচিত।
শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান ও শাখা খাল নিয়ে গঠিত জিকে নেটওয়ার্ক গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আজও অপরিহার্য।
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সংযোগস্থলে পদ্মার চরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আজিজুল হক (৩৫) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে লালপুর থানার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান একটি স্পিডবোট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আজিজুল হক ওরফে ঝড় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আবদুল শেখ ও হাসিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি কুষ্টিয়ার বহুল আলোচিত ‘কাকন বাহিনী’র সদস্য। চরে বিভিন্ন পক্ষের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনাস্থলটি তিন জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে হওয়ায় ঠিক কোন থানায় মামলা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে লাশটি যেহেতু পদ্মা নদীতে ভাসমান স্পিডবোট থেকে উদ্ধার হয়েছে তাই লক্ষ্মীকুন্ডা নৌপুলিশ তদন্ত করবে। মামলা হবে লালপুর থানায়।
লালপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন উপজেলার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি নীল-সবুজ রঙের স্পিডবোট ভাসতে দেখেন। লাল রঙের ছাউনি দেওয়া স্পিডবোটের ভেতরে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে লালপুর থানার পুলিশ ও লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ সেখানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ লাশটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে রিজিয়া বেগম (৯৫) নামের এক বৃদ্ধা মাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার আপন মেয়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত রিজিয়া বেগম ওই এলাকার সোবহানের স্ত্রী। আর অভিযুক্ত ৬০ বছরের মেয়ে রোকেয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা যায়, সকালে মা ও মেয়ে একসাথে সকালের খাবার খান। এরপর ঘরের ভিতরে ঘুমিয়ে পড়েন রেজিয়া বেগম। তখন তার মেয়ে রোকেয়া বেগম তরকারি কাটার ধারালো বটি দিয়ে ঘুমন্ত মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির লোকজন তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পর মেয়ে রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সাবেক ওই কর্মকর্তার নাম সারোয়ার হোসেন (৪০)। তবে তিনি কোন ব্যাংকে চাকরি করতেন, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার সারোয়ার ‘একটি স্বনামধন্য’ ব্যাংকের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) ছিলেন। গত সোমবার ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, সারোয়ার হোসেন ২০১৭ সালে কর্মরত থাকা অবস্থায় এক গ্রাহক তার নামে একটি ক্রেডিট কার্ড নেন। পরে প্রয়োজন না হওয়ায় গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও সারোয়ার হোসেন কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন, যাতে সকল ওটিপি তার কাছে পৌঁছায়। এরপর সেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করেন।
এ দিকে সেই গ্রাহক সম্প্রতি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো রিপোর্ট (সিআইবি) থেকে জানতে পারেন, তার নামে ২০১৭ সালে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ আছে। তখন তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে ওই ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
এরপর গত ১৫ এপ্রিল ব্যাংকের পক্ষ থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল (ডিএমপি) থানায় মামলা করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি জানায়, ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়েও ওই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে লেনদেন অব্যাহত রাখেন সারোয়ার। সেই গ্রাহকের ফেরত দেওয়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়। মোট লেনদেনের বিপরীতে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়। সুদসহ সেই ঋণের পরিমাণ এখন ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার পশ্চিম তেজতুরী বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মোবারক হোসেন (৬৯) নামে এক ব্যক্তি তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মোবারক হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৈমুর খান মবিনের বাবা।
পরিবারের দাবি, গত ৬ জুন সকাল ১০টার দিকে তিনি নিখোঁজ হন। গত তিন দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বয়সজনিত কারণে তার মস্তিষ্কে কিছু জটিলতা রয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন। তিনি নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যেতেন এবং সবসময় সঙ্গে মোবাইল ফোন রাখতেন। তবে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবার জানায়, নিখোঁজ মোবারক হোসেনের পরনে ছিল হালকা লেবু রঙের পাঞ্জাবি ও কালো জুতা। তার মুখে সাদা দাড়ি রয়েছে। তিনি মাঝারি উচ্চতার, স্বাস্থ্যবান গড়নের এবং মুখে অল্পসংখ্যক দাঁত রয়েছে।
তেজগাঁও থানার ওসি কৈশ্যনুর জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঢাকার সাভারে এক নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত রিয়া মণির (২১) মা-বাবা বিদেশে থাকেন। বিয়ের আগে তিনি সাভারের সোবহানবাগ এলাকায় মামা সাদ্দাম হোসেনের বাসায় থাকতেন। গত সোমবার দুপুরে সাভারের ছায়াবীথি মহল্লার একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত রনি চৌধুরী (২২) কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকার ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের পৌর এলাকা ছায়াবীথি মহল্লায় বসবাস করছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে রিয়া মণিকে বিয়ে করেন রনি চৌধুরী। এরপর তারা ছায়াবীথি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
রিয়া মণির মামা সাদ্দাম হোসেন জানতে পারেন রিয়া মণি মারা গেছেন। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। তিনি রিয়া মণির স্বামী রনি চৌধুরীকে আশপাশে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি সাভার মডেল থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজার তালা ভেঙে খাটের ওপর থেকে রিয়া মণির মরদেহ উদ্ধার করে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রিয়া মণিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রনি চৌধুরীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে নিহত ব্যক্তির মামা সাদ্দাম হোসেন গত সোমবার রাতে মামলা করেছেন। রনি চৌধুরীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’
মন্তব্য