বগুড়া সারিয়াকান্দিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাকিম (১৭) হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০ টার দিকে ওই স্কুলের শতশত শিক্ষার্থী উপজেলার পৌর এলাকার মাদ্রাসা মোড়ে সমবেত হন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেছে। মিছিলটি উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমান কুমার সাহা, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপ্লব, উপজেলা যুব জামায়াতের সহ সভাপতি বেলাল হোসেন, পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি সোহাগ মিয়া, উপজেলা শিবির সভাপতি আসিফ খান, বগুড়া জেলা শিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুস সোবহান, চন্দনবাইশা ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রঞ্জু মিয়া, হত্যার শিকার মুস্তাকিমের বোন শিরিনা আক্তার, তার সহপাঠী শিক্ষার্থী জাকারিয়া ইসলাম প্রমুখ। পরে শিক্ষার্থীরা মোস্তাকিন হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ৮ দফা দাবির মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গত ২১ মে উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাকিমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি আমরা হাতে পেয়েছি। তাদের দাবির ভিত্তিতে মুস্তাকিম হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ছবি: নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা খনন করে পুকুর তৈরী করে টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যসহ কয়েকটি পরিবারের লোকজন। এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ১৫ বছর আগে ৪ ফুট রাস্তাসহ কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই কাজী হোসেন আলী গংদের কাছ থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯ জন মিলে ৪০ শতক জমি কিনেন। পরবর্তীতে তারা বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ১৫ বছর ধরে সাধারণ জনগনসহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন। সম্প্রতি কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই হোসেন আলীর পারিবারিক দ্বন্দ্বে চলাচলের রাস্তা কেটে পুকুর তৈরী করে টিন দিয়ে বেড়া দিয়েছেন। এতে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯টি পরিবারের সদস্যদের চলাচল চরমভাবে ব্যহত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের রাস্তা ঘেঁষেই পুকুর খনন করে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। পুকুরে কোন পাড় ও প্যালাসাইডিং না থাকায় রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অভিভাবকেরা তাদের বাচ্চাদের হাত ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তা ক্রমাগত ভেঙ্গে যাওয়ায় পাশে থাকা চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবনও অনেকটাই ঝুঁকিতে রয়েছে। আরেকটু সামনে গেলে দেখা যায় চলাচলের পুরা রাস্তায় কেটে ফেলা হয়েছে। সেইখানে পচা পানি দিয়ে এক হাতে জুতা নিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁদের।
ভুক্তভোগীরা জানান,আমরা ৯ সদস্য মিলে রাস্তাসহ ৪০ শতক জমি ক্রয় করে বাসাবাড়ি করেছি। যা আমাদের দলিলেও উল্লেখ আছে। এ রাস্তা আমরাসহ অন্যান্যরাও ব্যবহার করে শান্তিপূর্ন ভাবে চলাচল করে আসছি। হঠাৎ তাদের দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে কাজী হোসেন আলী রাস্তা কেটে পুকুর বানিয়েছেন। কতক জায়গায় পুরো রাস্তায় কেটে ফেলেছেন। এখন আমরা তাদের ভাইদের দ্বন্দ্বের শিকার হয়েছি।
তামান্না আক্তার বলেন, আমাদের জমি কেনার সময় দাতা নিজ দক্ষিণ পাশে রাস্তা দিয়েছেন। দুই ভাইয়ের পারিবারিক কলহে এখন আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দিছেন। আমরা এখন কোন কাজ করতে পারতেছিনা। আর যারা বাসা করেছে তারাও চলাচল করতে পারতেছেনা। তাদের ভাইয়ে -ভাইয়ে সমস্যায় আমাদের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে। আমরা তাদের দ্বন্দ্বের নিরসন ও রাস্তা চাই।
লীমা আক্তার বলেন, জীবনের সব শেষ করে জমি কিনে এখানে বাসা করেছি। তাঁদের পারিবারিক দ্বন্দ্বে আমাদের বাসার সাথে রাস্তা কেটে পুকুর বানিয়েছেন। এখন বাসা থেকে বের হতে পারি না , গেইটে প্রায় সবসময়ই তালা দিয়ে রাখতে হয়। মাঝখানে আমার বাচ্চা পা ফসকে পুকুরে পড়ে যায়। আল্লাহ জানে আবার কখন কোন বাচ্চা পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমরা চাই তারা দ্রুত আমাদের রাস্তার সমাধান করে দিক। আমরা আর বন্ধি থাকতে চাই না।
মোশারফ হোসেন বলেন, এটি আগে থেকেই চলাচলের রাস্তা ছিল। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে বিল্ডিং ভেঙ্গে পুকুর খনন করেছে। এতেই আমাদের চলাচলের রাস্তা ধ্বসে গেছে। আমার বিল্ডিংটিও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমার ছোট্ট চারটি বাচ্চা আছে তারাও স্কুলে যেতে পারছেনা। আমরা খুব আতংকে আছি কখন জানি কোন বাচ্চা ঐ গর্তে পড়ে মারা যায়। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে ভোগান্তি থেকে পরিত্রানের দাবি জানান তিনি।
এ নিয়ে অভিযুক্ত কাজী হোসেন আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন ,আমার ভাই জোর করে শুধু আমার জমি দিয়েই রাস্তা নিতে চায় তাই রাস্তা আটকে দিয়েছি। এ জমি ছাড়াও আরো সমস্যা আছে। মিলেঝিলে পরে রাস্তা নিতে হবে এর আগে কোন রাস্তা হবে না।
কাজী ইমান আলী বলেন, আমিসহ আমরা ৪ ভাই রাস্তা দিয়েই তাদের কাছে জমি বিক্রি করেছি। আর ওই রাস্তাটি নতুন রাস্তা নয় এটি বহু বছরেরই পুরনো রাস্তা।
আমার সাথে ছোট ভাই হোসেন আলীর অন্য জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় খামাখা সে ওই পরিবারগুলোর রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলেছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ দৈনিক বাংলা কে বলেন, এ বিষয়ে পৌর প্রশাসককে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
ছবি: নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন এই কর্মশালার আয়োজন করে।
‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ জনপদে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারবে। এর ফলে আদালতে মামলার জট যেমন কমবে, তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই অল্প সময়ে ও নামমাত্র খরচে সঠিক বিচার পাবেন। এজন্য উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে গ্রাম আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
উক্ত কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলগত আলোচনার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের প্রচার ও প্রসারে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
ছবি: নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামে এক চিকিৎসাকর্মীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা ঘরে ঢুকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মতি মিয়া জানান, রাতের কোনো এক সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর বাড়ির জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরে থাকা তাঁর ছোট ভাই আব্দুস সালামকে বেঁধে ফেলে ডাকাতেরা। পরে তারা আলমারি ভেঙে ঘরের বিভিন্ন মালামাল তছনছ করে।
ডা. মতি মিয়া বলেন, “ডাকাতেরা আমার আলমারিতে থাকা ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতেরা বেশ কিছু সময় ধরে বাড়ির ভেতরে অবস্থান করে মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজে নেয়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
ড. ইউনুসের বিচার চেয়ে আইনজীবীদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন একদল আইনজীবী। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কারাগারে থাকা ৬১ জন আইনজীবীর কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এসময় আইনজীবীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন এবং ‘ইউনূসের বিচার চাই’ বলে স্লোগান দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আওয়ামীপন্থী ৬১ জন আইনজীবী একসাথে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ ও নিজেদের ওপর হওয়া কথিত অবিচারের প্রতিবাদ জানাতেই আইনজীবীরা এই কর্মসূচির ডাক দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কারামুক্ত আইনজীবী মাহফুজুর রহমান লিখন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া এবং বিভিন্ন আদালতে মামলা পরিচালনা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানান। কর্মসূচিতে ওবায়দুল ইসলাম, লিটন মিয়া, তৌহিদ, শামীম আল সোহাগ ও সাইফুলসহ কারামুক্ত অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমূলক মামলা বন্ধের দাবিতেই মূলত আইনজীবীরা এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এঘটনার সিসি ক্যামেরা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গুলিতে আহত ফারুক হোসেন(২৭) হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কালামিয়ার পোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , সকালে ফারুক হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তারা তাকে টেনে নিয়ে অটোরিকশায় উঠানোর চেষ্টা করে। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তার তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত ফারুককে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা.রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ফারুকের তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লেগেছে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাসীরা ওই যুবককে আকস্মিক গুলি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটা লোকাল গ্যানের গুলি। ঘটনার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
যশোরের কেশবপুর গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, কেশবপুর এবং ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায়।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বেগম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালি রানী দাস, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কো-অর্ডিনেটর শংকর কুমার দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, গ্রাম আদালত হলো সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি সহজ, দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী মাধ্যম। গ্রামের মানুষকে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি দিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও জনপ্রিয় করতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর পদ্ধতি। ভূমি সংক্রান্ত ক্ষুদ্র বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে এটি সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মামলা জট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি মানুষ এই সেবার সুফল ভোগ করতে পারবেন।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, অনেক ছোটখাটো বিরোধ সময়মতো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। গ্রাম আদালত এসব বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয় এবং জনগণের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে।
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট মহিতোষ কুমার রায় বলেন, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত এ আদালত অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের নির্দিষ্ট দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে অল্প খরচে, দ্রুত সময়ে এবং আইনজীবী ছাড়াই বিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই গ্রাম আদালতকে জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিচারিক এখতিয়ার, আবেদন প্রক্রিয়া, বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালতের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে— অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য