× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Who is Awami Leagues rival in Chapainawabganj?
hear-news
player
google_news print-icon

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী কে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে-আওয়ামী-লীগের-প্রতিদ্বন্দ্বী-কে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মু. জিয়াউর রহমান (বাঁয়ে), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনে একই দলের প্রার্থী আব্দুল ওদুদ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মাহিয়া মাহি নৌকা প্রতীক চেয়ে শীতের রাজনীতিতে খানিকটা উত্তাপ ছড়িয়েছিলেন বটে, তবে আওয়ামী লীগ ভরসা রেখেছে গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মু. জিয়াউর রহমানের ওপর। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনেও গত তিনবারের প্রার্থী আব্দুল ওদুদের বিকল্প দেখেনি দলটি। এখন প্রশ্ন হলো ওদুদ ও জিয়াউরের লড়াই হবে কার সঙ্গে। অন্য কোনো দলের কেউ নাকি নিজ দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র- এ নিয়েই আছে আলোচনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী কারা, এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি এখনও।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারির ভোট সামনে রেখে সেখানে ক্ষমতাসীন দল প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও অন্য দলগুলো এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি। এই জেলায় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও ভীষণ শক্তিশালী। আর বিএনপির জোটে থেকেও কখনও সেখানে ছাড় দেয়নি জামায়াত। অন্য দলগুলোর অস্তিত্ব নামমাত্র, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার মতো অবস্থানে নেই কেউ।

বিএনপি সংসদ থেকে আচমকা পদত্যাগ করার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও ৩ সংসদীয় আসন ফাঁকা হয়। নির্বাচনি নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ৫ জানুয়ারি।

সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মাহিয়া মাহি নৌকা প্রতীক চেয়ে শীতের রাজনীতিতে খানিকটা উত্তাপ ছড়িয়েছিলেন বটে, তবে আওয়ামী লীগ ভরসা রেখেছে গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মু. জিয়াউর রহমানের ওপর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনেও গত তিনবারের প্রার্থী আব্দুল ওদুদের বিকল্প দেখেনি দলটি। ১৯৯১ সালে এই আসনে ভোটের হিসাবে তলানিতে থাকা আওয়ামী লীগ প্রতিটি নির্বাচনে ভোট বাড়িয়ে ২০০৮ সালে ওদুদের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো পায় জয়।

এখন প্রশ্ন হলো, ওদুদ ও জিয়াউরের লড়াই হবে কার সঙ্গে। অন্য কোনো দলের কেউ নাকি নিজ দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র- এ নিয়েই আছে আলোচনা।

অতীতে ভোটের হিসাব বিবেচনায় নিলে বলা যায়, যদি আওয়ামী লীগের কেউ নৌকার প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলেই ভোটে কিছুটা উত্তাপ দেখা যেতে পারে, নচেৎ নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ দুটি আসনেই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জিয়াউর রহমান ছাড়াও রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার ও খুরশিদ আলম বাচ্চু আওয়ামী লীগ নেতা। নবিউল ইসলাম নামে ফরম তোলা অন্য জন কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম উঠিয়েছেন পাঁচজন। নৌকা পেতে যাওয়া আব্দুল ওদুদ ছাড়াও আছেন ও জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির এবং কামরুজ্জামান খান, তাহরিমা ও আমানুল হক, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

১৪-দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সদর আসনে জাসদ ভোটের মাঠে থাকে কি না, সেটা নিয়েও আছে আলোচনা। দলটিকে বগুড়া-৪ আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বিষয়টা এখনই খোলাসা করতে চান না। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। দেখি কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটা পরে জানাব সবাইকে।’

জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অবস্থান এই জেলায় খুবই দুর্বল। দলের জেলা শাখার হাল ধরা ছিল নজরুল ইসলাম মিয়া ও শাহজাহান আলীর ওপর। তারা ছিলেন যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের মৃত্যুর পর দলের অবস্থান অনেকটাই নাজুক।

জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক নওশাদ আলী বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ ও ৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক প্রার্থী আবেদন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে দল থেকে। তবে এই দুই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কে হবেন বা জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকবে কি না, সেটা জানতে আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে, এখনো দল থেকে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।’

ছেড়ে দেয়া আসনের উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনো ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন দলটির জেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তো বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। এখন উপনির্বাচন নিয়ে তো বিএনপির কোনো চিন্তাভাবনা না থাকাই স্বাভাবিক, আমরা আমাদের দলের কর্মসূচি নিয়েই ব্যস্ত আছি।’

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন যারা
উপনির্বাচনে মনোনয়ন ফরম নিলেন আবদুস সাত্তার
চাঁপাই ও বগুড়ার তিন আসনে নৌকার প্রার্থী ঘোষণা
‘শেখ হাসিনাকে হটাতে অতিবাম-অতিডান মিশে একাকার’
তত্ত্বাবধায়কে ফেরা কি আসলে সম্ভব?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Dry production in Howar has fallen by one fourth

হাওরে শুঁটকির উৎপাদন কমেছে এক-চতুর্থাংশ

হাওরে শুঁটকির উৎপাদন কমেছে এক-চতুর্থাংশ আজমিরীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ গ্রামের এক বাসিন্দা শুঁটকির জন্য মাছ শুঁকাচ্ছেন। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নদী, খাল, বিল, হাওর কমে আসছে। এখন হাওরে মাছই খুব একটা পাওয়া যায় না। খাবারের মাছের বড় জোগান দেয় চাষ করা মাছ। যে কারণে শুঁটকি কমে আসছে। হয়তো কয়েকবছর পর আর দেশি মাছের শুঁটকি পাওয়া যাবে না। সাগরের মাছের শুঁটকিতেই স্বাদ নিতে হবে।’

হাওরে মাছ কমে যাওয়া, শুঁটকির দাম কম ও যথেষ্ট পরিমাণে সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় হবিগঞ্জের হাওর অঞ্চলে কমেছে শুঁটকির উৎপাদন। ২০২০ সালে জেলায় শুঁটকির উৎপাদন দাঁড়ায় ৪৫ টনে, এক দশক আগেও যা ছিল ৫০০ টন।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ গ্রামের প্রতাপ চন্দ্র দাস। ৫ বছর আগেও প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কেজি মাছ শুঁটকি করতেন। সেই সুদিন এখন আর তার নেই। মাছ সংকটে হাজার কেজির হিসেবে এ বছর ঠেকেছে একশোর কোটায়। তাই আগামী বছর থেকে শুঁটকি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করছেন তিনি।

প্রতাপ চন্দ্র দাস বলেন, ‘এক সময় আমার গ্রামের ৬০ শতাংশ পরিবার কম বেশি শুঁটকি বানাইত। এখন হাওরে মাছ নাই। যে কারণে কেউ শুঁটকি করে না। এই বছর মাত্র তিনটি পরিবার শুঁটকি করতেছে। তাও আগের মতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ বছর আগের হিসাব করার দরকার নাই। গত বছরও প্রতিদিন ১০০ কেজি মাছ শুঁকাইছি। এই বছর এক সপ্তাহেও ১০০ কেজি মাছ পাই না। এগুলা কইরা এখন লস। তাই ভাবতাছি আগামী বছর আর করতাম না।’

দিঘলবাগ গ্রামের মতোই উপজেলার নোয়াগাঁও, বিরাট, কোদালিয়া, বদলপুরসহ শুঁটকি উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ সবগুলোর গ্রামের একই অবস্থা। এসব গ্রামের অধিকাংশ পরিবার শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত থাকলেও এখন দুই-একটি পরিবার ছাড়া কেউ শুঁটকি করেন না।

আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং এবং লাখাই উপজেলার প্রতিটি জেলে পল্লীতেই অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত হতো শুঁটকির উৎপাদন। খোলা মাঠ কিংবা জলাশয়ের পাশে উঁচু মাচাং বেঁধে (স্থানীয় ভাষায় ডাঙাই) মাছ শুকানো হতো। এক সময় শোল, গজার, বাইমসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের শুঁটকি তৈরি হলেও গত ৫ বছর ধরে পুঁটি মাছের শুঁটকিই তৈরি হয় এখানে।

হাওরে শুঁটকির উৎপাদন কমেছে এক-চতুর্থাংশ
পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা মৎস অধিদপ্তরের তথ্য আনুযায়ী, এক দশক আগে জেলায় ৫ হাজার পরিবার শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে একশোর নিচে। তখন প্রতি বছর শুঁটকি উৎপাদন হতো অন্তত ৫০০ টন। যার বাজার মূল্য ছিল ১০ কোটি টাকার বেশি। তবে বর্তমানে জেলায় শুঁটকির উৎপাদন কমেছে এক চতুর্থাংশের বেশি।

গত দুই যুগ ধরেই শুঁটকির উৎপাদন নিম্নমুখী ছিল। তবে সর্বশেষ ৫ বছরে তা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। ২০১৭ সালে জেলায় শুঁটকির উৎপাদন হয় ২০০ টন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানেই তা নেমে আসে অর্ধেকে। অর্থাৎ ২০১৮ সালে উৎপাদন হয় মাত্র ১০০ টন, ২০১৯ সালে ৬৬ টন এবং ২০২০ সালে উৎপাদন হয় ৪৫ টন। ২০২১ ও ২০২২ সালে শুঁটকি উৎপাদনের কোনো তথ্যই সংগ্রহ করেনি মৎস অধিদপ্তর।

শুঁটকি উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হাওরে মাছ কমে যাওয়াই শুঁটকি উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। এ ছাড়া শুঁটকির দাম কম ও যথেষ্ট পরিমাণে সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় ধ্বংসের পথে এ খাত।

মৎস অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিমাণ ৮১ হাজার ৬৭১ হেক্টর। এক দশক আগে (২০১২ সালে) দেশীয় মাছের উৎপাদন ছিল ৩৩ হাজার ৬৯৩ টন। যা ২০২২ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ১৬৭ টনে। অর্থাৎ গত এক দশকে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমেছে ৭ হাজার ৫২৬ টন।

জেলায় খাবারের জন্য কাঁচা মাছের চাহিদা বছরে ৪৫ হাজার ৯২ দশমিক ১২ টন। উৎপাদন ৪৯ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৪৬ টন। যার মধ্যে প্রাকৃতিক জলাশয়ে ২৬ হাজার ১৬৭ এবং পুকুরে চাষ ২১ হাজার ৮৫৩ টন।

বর্তমানে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ, বিরাট ও কাকাইলছেও, বানিয়াচং উপজেলার হারুনী, ঝিলুয়া, আড়িয়ামুকুড়, ইকরাম এলাকার ৩টি গ্রাম এবং লাখাই উপজেলার একটি গ্রামে শুঁটকির উৎপাদন হয়। এ ছাড়া হবিগঞ্জ শহরের উপদনগর মৎস আড়তের পাশে দুইজন ব্যবসায়ী শুঁটকি তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাগ গ্রামের গণেশ দাস বলেন, ‘চারপাশের নদী-বিল-জলাশয় কমে আসছে। যে কারণে মাছও কমে গেছে আগের চেয়ে অনেক। এক সময় আমরা কাঁচা মাছের দাম পেতাম না বলে শুঁটকি করতাম। এখন কাঁচা মাছ নিয়েই টানাটানি শুরু হয়ে যায়। শুঁটকি দেয়ার মাছ পাওয়া যায় না।’

একই উপজেলার বদলপুর গ্রামের ব্রজবাসী দাস বলেন, ‘আমি প্রতি বছরই একটা বিল রাখি। সেখানে আগে প্রচুর পুঁটি মাছ ধরা পড়ত। তখন সেগুলো কাঁচা বিক্রি না করে শুঁটকি তৈরি করতাম। এখন বিলের পাশ থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা গিয়ে কাঁচা পুঁটিই কিনে নিয়ে আসেন।’

হাওরে শুঁটকির উৎপাদন কমেছে এক-চতুর্থাংশ
শুঁটকি তৈরির জন্য মাছ কাটছেন শিশু ও নারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম এলাকার আমজাদ হোসেন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগে ট্রাক লোড করে শুঁটকি ঢাকা-চট্টগ্রাম পাঠাতাম। গত দুই বছর যে পরিমাণ শুঁটকি কিনতে পারি তা হবিগঞ্জের বাজারগুলোতেই বিক্রি হয়। মাঝেমধ্যে হবিগঞ্জের বাজারেও সাপ্লাই দিতে সংকটে পড়ে যাই।’

জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নদী, খাল, বিল, হাওর কমে আসছে। এখন হাওরে মাছই খুব একটা পাওয়া যায় না। খাবারের মাছের বড় জোগান দেয় চাষ করা মাছ। যে কারণে শুঁটকি কমে আসছে। হয়তো কয়েকবছর পর আর দেশি মাছের শুঁটকি পাওয়া যাবে না। সাগরের মাছের শুঁটকিতেই স্বাদ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে জেলায় কি পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে তার কোনো তথ্য অফিসে নেই। আর এই বছরও কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। অন্য বছর গুণগত মানের শুঁটকি উৎপাদনে জেলেদের প্রশিক্ষণ দিলেও এবার আমরা প্রশিক্ষণার্থীই পাইনি।’

আরও পড়ুন:
পিরোজপুরে উৎপন্ন হচ্ছে বিষমুক্ত শুঁটকি
৪ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েও সুবিধাবঞ্চিত দুবলার শুঁটকিপল্লি
মাছ-ঋণের অভাবে সংকটে সিদল কারিগররা
শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করতে স্থায়ী জমি চান ব্যবসায়ীরা
শুঁটকিতে ফের লোকসানের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The rabbi of Comilla has been missing for 10 days after coming to Coxs Bazar with his friends

বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার এসে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ কুমিল্লার রাব্বী

বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার এসে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ কুমিল্লার রাব্বী বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে ১০দিন ধরে নিখোঁজ রাব্বী হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হুদা জানান, ঘটনা ঘটার ৬ দিন পর পরিবার জানিয়েছে। বিষয়টি জিডি হিসেবে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

কুমিল্লা আদর্শ সদরের বারপাড়া থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে আসা রাব্বী হোসেন গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রাব্বীর পরিবার। সে কি আত্মগোপন করেছে নাকি কেউ তাকে অপহরণ বা কোথাও বন্ধক রেখেছে তার সঠিক তথ্য মিলছে না।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি কুমিল্লা আদর্শ সদরের বারপাড়া থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন রাব্বী ও তার ৫ বন্ধু। তাদের বহরে ছিল আরও শতাধিক লোক। উঠেন কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সি ল্যান্ড-২ নামে একটা হোটেলে। যেখানে রাত্রী যাপনের পর ২৭ জানুয়ারি সকাল থেকে নিখোঁজ হন রাব্বী। নিখোঁজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে জানানোর কথা থাকলেও জানায়নি বন্ধুরা। থানায় অভিযোগ বা জিডিও করেনি। যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। অন্যদিকে পরিবারটিতে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

নিখোঁজ রাব্বী হোসেন কুমিল্লা আদর্শ সদরের বারপাড়া এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি। বাবা-মা, বোন ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন।

এদিকে রাব্বীকে না পেয়ে ১ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাব্বীর চাচা সবুজ মিয়া।

তিনি জানান, হাকিম, আরিফ, তোফাজ্জলসহ এক কক্ষে ছয়জন ছিলেন রাব্বীর সঙ্গে। সে ২৭ জানুয়ারি সকালে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। রাব্বীকে ছাড়াই ট্যুরে আসা লোকজন কুমিল্লায় ফিরে যান ২৮ জানুয়ারি। তাহলে রাব্বী গেল কোথায়। তার কোনো খোঁজ দিতে পারছে না কেউ।

তিনি আরও জানান, রাব্বীর গাঁজা সেবনের অভ্যাস রয়েছে। তবে কেউ টাকা-পয়সা পায় না তার কাছে, কোনো ঋণও নেই। হোটেলে রাতে বন্ধুদের সঙ্গে নাকি ঝগড়া করেছে। আসলে তার ভাগ্যে কী ঘটেছে জানি না।

রাব্বীর বড় ভাই প্রবাসী শাকিল বলেন, ‘এলাকায় আরিফ, হাকিম, তোফাজ্জল ওরা চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাদের নেতৃত্ব দেয় ফারুক। আমরা ধারণা করছি, তারা কোথাও আমার ভাইকে বন্ধক রেখেছে। কিন্তু বলছে না।’

রাব্বীর স্ত্রী লক্ষ্মী আক্তার বলেন, ‘২৫ জানুয়ারি যাওয়ার সময় সর্বশেষ কথা হয়। আমি মোবাইল ব্যবহার করি না। সে সকালে নিখোঁজ হলেও পরিবারে খবর দেয়া হয়েছে ২৭ তারিখ রাত নয়টার দিকে। তারা কোনো জিডি বা পুলিশেও খবর দেয়নি। আমাদেরকেও দেরিতে জানায়। সব রহস্যজনক। বন্ধুরাও এসে কিছু বলছে না। মেয়েটা এ দিকে তার বাবাকে খোঁজছে।’

রাব্বী কোনো কারণে কি আত্মগোপন করতে পারে কিনা জানতে চাইলে লক্ষ্মী আক্তার বলেন, ‘সেরকম কোনো কারণ দেখছি না। আমার দুই বছরের মেয়ে ইসরাত জাহান। প্রতিনিয়ত বাবাকে খোঁজছে। বাবা কোথায় জিজ্ঞেস করে করে আর্তনাদ করছে। কেউ কিছু বলতে পারছে না। আমি দ্রুত আমার স্বামীর সন্ধান চাই।’

সি ল্যান্ড-২ হোটেলের ম্যানেজার মোহাম্মদ রনি জানান, রাব্বীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো তথ্য নেই। রাব্বীর সঙ্গীরা তাদের জানায়নি কিছু। তারা চলে যাওয়ার পাঁচ দিন পর পরিবারের লোকজন খুঁজতে এলে বিষয়টা তারা জানতে পারেন। পরে পুলিশও এসে খোঁজ নিয়েছে।

কুমিল্লা ট্যুরটির নেতৃত্ব দেয়া তোফাইয়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে হাকিম এবং রাব্বী দুজনেই নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু পরে হাকিম ফিরে আসে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় রাব্বী তার সঙ্গে যায়নি। তখন আমরা ভেঙে পড়ি। যার যার মতো খোঁজ করতে থাকি। ২৮ তারিখ আমাদের চলে আসার দিন ছিল। সেদিন বাধ্য হয়ে চলে আসি।’

রাব্বীর বন্ধু হাকিম ও তোফাজ্জল জানান, রাতে একসঙ্গে ছিলেন তারা। ও পাগলামি করেছে, বাড়াবাড়ি হয়েছে। এটুকু ছাড়া আর কিছু হয়নি। তবে কক্সবাজারে খুচরা মাদক বিক্রির হাট হিসেবে পরিচিত সমিতিপাড়ায় যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন হাকিম।

রাব্বীর আরেক বন্ধু আরিফও ইয়াবা মামলার আসামি। তিনি ২০২১ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া হাইওয়ের মইজ্জারটেক এলাকায় র‌্যাব-৭ এর কাছে ১৫ হাজার ৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। ১০ মাস জেলে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আবারও টেকনাফের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। অভিযোগ আছে, এখনও মাদক ব্যবসা করেন আরিফ।

আরিফ বলেন, ‘মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছি। কিন্তু বন্ধু কোথায় আমি জানি না। এক সঙ্গে গিয়েছি। তাকে ছাড়া ফিরতে হয়েছে। পেশায় ট্রাকচালক। পরিবারের তাগিদে বাড়ি ফিরেছি।’

ইয়াবা নিয়ে বন্ধুকে বন্ধক রেখেছেন কি না এমন প্রশ্নে আরিফ বলেন, ‘কখনো সম্ভব না। কারণ আমি জেল থেকে বেরিয়ে আর ওই ব্যবসায় ফিরিনি। ট্রাক চালিয়ে সংসার চালাই।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হুদা জানান, ঘটনা ঘটার ৬ দিন পর পরিবার জানিয়েছে। বিষয়টি জিডি হিসেবে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কীর্তিনাশা নদীতে পড়ে যুবক নিখোঁজ
যুগলের সঙ্গে উধাও প্রেমিকার বান্ধবী, উদ্ধার করল পিবিআই
৩৫ বছর পর মা-বাবার কাছে ফিরলেন হাসিনা
নিখোঁজের ৪ দিন পর টয়লেটের ট্যাংকে মা-ছেলের মরদেহ
দুরন্ত বিপ্লব হত্যা মামলার তদন্তভার পিবিআইতে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What is cancer and how to prevent it

ক্যানসার কী, কেন হয়, প্রতিরোধ কীভাবে

ক্যানসার কী, কেন হয়, প্রতিরোধ কীভাবে মানবদেহের কোষের কিছু কিছু অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে দেহের অন্য স্থানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে যে রোগ হয়, সেটিই ক্যানসার হিসেবে পরিচিত। ছবি: হার্ভার্ড গেজেট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় বড় কারণ ক্যানসার, যে রোগে ২০১৮ সালে ৯৬ লাখের মতো প্রাণহানি হয়। অর্থাৎ সে বছর প্রতি ছয়জনের একজনের মৃত্যু হয় ক্যানসারে।

কোটি কোটি কোষ দিয়ে গঠিত মানবদেহ। এসব কোষের কিছু কিছু অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে দেহের অন্য স্থানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে যে রোগ হয়, সেটিই ক্যানসার হিসেবে পরিচিত। এ রোগের শুরু হতে পারে দেহের প্রায় সব প্রান্তে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় বড় কারণ ক্যানসার, যে রোগে ২০১৮ সালে ৯৬ লাখের মতো প্রাণহানি হয়। অর্থাৎ সে বছর প্রতি ছয়জনের একজনের মৃত্যু হয় ক্যানসারে।

এ ব্যাধি নিয়ে সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে প্রতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন দেশে পালন হয় ‘বিশ্ব ক্যানসার দিবস’। গত বছরের মতো এবারও দিবসটির প্রতিপাদ্য ধরা হয় ‘ক্লোজ দ্য গ্যাপ’, যার সম্প্রসারিত অর্থ হলো ক্যানসার চিকিৎসায় ত্রুটি রাখা যাবে না।

এ দিবস শুরুর আলোচনা হয় ফ্রান্সের প্যারিসে ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত বিশ্ব ক্যানসার সম্মেলনে। সেদিনই প্রতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব ক্যানসার দিবস বা বিশ্ব ক্যানসার সচেতনতা দিবস বা বিশ্ব ক্যানসার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নিয়ে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুল আহমেদ রিয়াদ নিউজবাংলাকে বলেন, “এবারের প্রতিপাদ্য যে বিষয়গুলোকে নিয়ে করা হয়েছে সেগুলো হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা, চিকিৎসা শুরুর পর কোনো ত্রুটি না রাখা এবং ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবার জন্য একই ধরনের ব্যবস্থাপনা রাখা। সমষ্টিগতভাবে এগুলোর মূল ভাব হলো ‘ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপ’।”

ক্যানসারকে মরণব্যাধি বলা হয়। সেটি কতটুকু সত্য, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে সব রোগই মরণব্যাধি যদি না সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। ক্যানসারের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে। সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিলে এই রোগ নিরাময় সম্ভব।

‘শুধু ব্রেইন ক্যানসারের একটি বৈশিষ্ট্য আছে যেটি হলে রোগী দুই বছরের বেশি বাঁচে না। সেটার নাম গ্লিওব্লাস্টোমা। তা ছাড়া অন্য সব সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিলে ক্যানসার নিরাময় সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাইফস্টাইলের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক খুব। যেমন: ধূমপানে ফুসফুস ক্যানসার, কিডনি, শ্বাসনালির ক্যানসার হতে পারে। আবার স্থুলতার জন্য ব্রেস্ট ক্যানসার হয়ে থাকে।

‘বাংলাদেশে সে রকম সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও গ্লোবোক্যান বৈশ্বিক অবস্থা নিয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। সেই অনুযায়ী ২০২০ সালে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৭৫ জন রোগী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। আর ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯০ জন মারা যান।

‘২০২২ সালের আরেকটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ১০ শতাংশের জন্য দায়ী ক্যানসার। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটি ১৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।’

ক্যানসারের কারণ

বিভিন্ন কারণে ক্যানসার হতে পারে।

১. জেনেটিক বা বংশগত কারণ।

২. ধূমপানের কারণে বিভিন্ন ধরনের ধরনের ক্যানসার হতে পারে। এর মধ্যে ফুসফুস ক্যানসার অন্যতম।

৩. তেজস্ক্রিয়তা ত্বকের ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। যেমন: চেরনোবিল ও জাপানের নাগাসাকির পারমাণবিক বিস্ফোরণের অনেক বছর পরও সেখানে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

৪. কিডনি, পিত্তথলির পাথর ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী হতে পারে।

৫. জরায়ুর সার্ভিক্স বা বোনের দীর্ঘ সংক্রমণ থেকে জরায়ু ও বোনের ক্যানসার হতে পারে।

৬. রাসায়নিক বা কেমিক্যাল এজেন্ট। যেমন: এনিলিন ডাই মূত্রথলির ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।

৭. খাদ্যে ব্যবহৃত ফরমালিন পাকস্থলির ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে চুলের কলব ত্বকের ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী হতে পারে।

উপসর্গ

একেক ধরনের ক্যানসারের একেক উপসর্গ থাকে, তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে।

১. দীর্ঘদিন ধরে শরীরের কোনো অংশের ছোট একটি টিউমারের হঠাৎ পরিবর্তন।

২. শরীরে কোনো চাকা হঠাৎ বড় হচ্ছে দেখলে সতর্ক হতে হবে। সেটি ক্যানসার কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

৩. কাশি ভালো হতে না চাইলে এবং ৪ সপ্তাহের বেশি হয়ে গেলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. হঠাৎ করে খাবারে অরুচি।

৫. মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ।

৬. শরীরে ব্যথা ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়া।

৭. মলত্যাগের অভ্যাসের হঠাৎ পরিবর্তন।

৮. নারীদের মেনোপোজের পর নতুন করে রক্তক্ষরণ।

প্রতিরোধ

এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুল আহমেদ রিয়াদ বলেন, ‘অনেক ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য নয়, তবুও নিয়ন্ত্রিত জীবনধারা ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। যেমন: তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচতে সতর্কতা গ্রহণ (যার মধ্যে রয়েছে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং সুরক্ষামূলক পোশাক পরা)। নিয়মিতভাবে সুপারিশকৃত ক্যানসার শনাক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং এইচপিভির টিকা গ্রহণ।’

চিকিৎসা

মাহফুজুল আহমেদ রিয়াদের ভাষ্য, যেকোনো ধরনের টিউমার হলেই সেটি অপসারণ করতে হবে। টিউমারটি মৃদু এবং সম্পূর্ণভাবে ফেলে দেয়া হলে ভয় নেই। এ ক্ষেত্রে সেটি আবার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বায়োপসিতে ক্যানসার ধরা পড়লে প্রথম কাজ রোগীর স্টেজিং করা ও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করা। অনেক ক্ষেত্রেই সার্জারি করবার আগে কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই ক্যানসার শনাক্ত হলেই সর্বপ্রথম একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন হোন ও সঠিক চিকিৎসা নিন। মনে রাখবেন, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন:
ক্যানসার চিকিৎসায় মেডিক্যাল ফিজিসিস্টদের কাজে লাগানোর আহ্বান
বিশ্ব ওভারিয়ান ক্যানসার দিবস: লজ্জা যেন না হয় ক্ষতির কারণ
ক্যানসারের ঝুঁকি থাকা ওষুধ সরাচ্ছে ফাইজার
কম বয়সী ফুসফুস ক্যানসার রোগী বাড়ছে
জেলা-উপজেলায় বিনা মূল্যে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bumper yield of onion in Teesta pasture

তিস্তার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

তিস্তার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন নীলফামারীর ডোমারে তিস্তা নদীর চর জুড়ে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, খগা খড়িবাড়ী, ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন।

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর বালুচরে যেদিকে চোখ যায় শুধুই পেঁয়াজের আবাদ। দাম বেশি পাওয়ার আশায় এবার কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চরাঞ্চলবাসী।

কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের সঙ্কট এবং দাম বেশি হওয়ায় এসব চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অন্যান্য বছরের মতো গম ও তামাক চাষ না করে এবার অধিকাংশ কৃষক পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, খগা খড়িবাড়ী, ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন। এসব চর এলাকার কৃষকরা বন্যায় রোপা আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পেঁয়াজ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষক নুর ইসলাম, হুকুম আলী, জুলহাস, আজাহার ও আবুল হোসেন জানান, তারা প্রত্যেকেই ৩/৪ বিঘা করে জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ১৫শ’ টাকার বীজ কিনে রোপণ করে শতক প্রতি এক থেকে দেড় মণ করে পেঁয়াজ ফলনের স্বপ্ন তাদের।

হুকুম আলী বলেন, সব মিলে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই ক্ষেতে। ৭০ শতক জমিতে ৭০ থেকে ৯০ মণ পেঁয়াজ পেলে বাজার অনুযায়ী মণ প্রতি ৫ থেকে ৬ শ’ টাকা দরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হবে।

জুলহাস বলেন, ‘খরচ ও পরিশ্রম কম হয়ে ভালো ফলন হওয়ায় চরের অধিকাংশ কৃষকই এখন পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকছে। সহজ সেচ ব্যবস্থা ও ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে চরে পেঁয়াজ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে। তাতে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতিও পূরণ হবে।’

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘তিস্তায় জেগে ওঠা চরে এখন বিভিন্ন ধরনের ফসল হচ্ছে। তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা-পরবর্তী ফসল হিসেবে এবার ৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘মসলা জাতীয় এই ফসলে কৃষকরা সময় সময় লাভবান হন। চরের কৃষকদের ভালো ফলনের জন্য আমরা কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ বীজ থেকে শুরু করে অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
নবম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শরীয়তপুরে
কৃষিপণ্য রপ্তানির নীতিমালা হচ্ছে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kamrans alternative to Anwaruzzaman in Sylhet?

সিলেটে কামরানের বিকল্প কি আনোয়ারুজ্জামান

সিলেটে কামরানের বিকল্প কি আনোয়ারুজ্জামান বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আনোয়ারুজ্জমান চৌধুরী। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। দলের অনেক নেতাই মনোনয়ন চাচ্ছেন। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান ও মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কে প্রার্থী হবেন, এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের এ পর্যন্ত সবগুলো নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ১৫ জুন মৃত্যু হয় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক এ সভাপতির। এমন বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনে তার বিকল্প কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা দলটির ভেতরে।

চলতি বছরের মাঝমাঝিতে সিলেট সিটি নির্বাচন হওয়ার কথা। আওয়ামী লীগের অন্তত অর্ধডজন নেতা এ নির্বাচনের মেয়র পদে দলীয় মনোয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন, তবে হঠাৎ করেই আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন প্রবাসী এক নেতা।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগে যুক্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীই সিলেটে কামরানের বিকল্প হচ্ছেন বলে গুঞ্জন চলছে। দলের হাইকমান্ড থেকে তাকে ‘সবুজ সংকেত’ দেয়া হয়েছে বলেও প্রচার চালাচ্ছেন আনোয়ারুজ্জামান অনুসারীরা। এমন ‘সংকেত’ পেয়ে সম্প্রতি দেশেও এসেছেন আনোয়ারুজ্জামান। যদিও এই প্রচারের সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন অন্য মনোয়নপ্রত্যাশীরা।

কে এই আনোয়ারুজ্জামান

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ারুজ্জমান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। দেশে থাকার সময় থেকেই তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। সেই ঘনিষ্টতার সূত্রে প্রবাসে অবস্থান করেও সিলেটের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আনোয়ারুজ্জামান। সিলেটে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে আড়ালে থেকেও অন্যতম কুশীলব হয়ে ওঠেন তিনি।

গত দুটি সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেন প্রবাসী এই নেতা। যদিও দল মনোনয়ন দেয়নি তাকে।

গুঞ্জন রয়েছে, তার আপত্তির কারণেই এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত থাকতে হয় সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে। দলের দুই প্রভাবশালী নেতার বিভক্তির কারণে দুইবারই এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ।

মেয়র পদে যেভাবে আলোচনায় আনোয়ারুজ্জামান

এতদিন সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালালেও চলতি মাসে হঠাৎ করেই সিলেট সিটি নির্বাচনের মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নাম।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেটের প্রবীণ নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছা হককে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়। এরপর তিনি দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান। ওই সাক্ষাতেই সিলেট সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠে আসে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আনোয়ারুজ্জামানের নাম বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে জানান জেবুন্নেসা হক। এরপর থেকেই মেয়র পদে আলোচনায় ওঠে আসে আনোয়ারুজ্জামানের নাম। এখন নগর ছেঁয়ে গেছে তার ছবি সংবলিত পোস্টার-ফেস্টুনে।

এ বিষয়ে সৈয়দা জেবুন্নেছা হকের সঙ্গে সম্প্রতি মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জেবুন্নেছা হকের বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে আনোরুজ্জামানের কথা বিবেচনা করার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমনটি জেবুন্নেছা হক আমাকেও বলেছেন। আরও অনেককেই এ কথা বলেছেন তিনি।’

নাদেল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কিছু শীর্ষ নেতার কাছ থেকেও এ ব্যাপারে আমি ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছি।’

এদিকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনা শুরুর পর ২২ জানুয়ারি দেশে আসেন আনোয়ারুজ্জান চৌধুরী। তাকে সংবর্ধনা জানাতে ওই দিন বিমানবন্দরে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে তাকে নগরে নিয়ে আসেন নেতা-কর্মীরা।

এরপর ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আনোয়ারুজ্জামান। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

মহানগর আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে আনোয়ারুজ্জামানকে ‘সবুজ সংকেত’ দেয়া হয়েছে, এমন খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ বিরাজ করছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে। বিশেষত মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য নেতারা এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। যদিও দলীয় প্রধানের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করতে চাননি, তবে এই আলোচনা শুরুর পর থেকেই উল্লসিত আনোয়ারুজ্জামান অনুসারীরা।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট সিটিতে আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে অর্ধডজন নেতা তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এবং বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে আরমান আহমদ শিপলু।

কামরানের মৃত্যুর পর থেকেই মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শেষ সময় এসে প্রবাসী এক নেতার নাম আলোচনার শীর্ষে উঠে আসায় হতাশ তাদের সবাই।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্ত বলেন, ‘যারা দেশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতি করছেন, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে রয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে প্রবাসে বিলাসী জীবন কাটানো কাউকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়াটা আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।’

ওই নেতা আরও বলেন, ‘সিলেট নগরবাসীর জন্য আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর কোনো অবদান নাই। গত ভয়াবহ বন্যায়ও তাকে পাশে পায়নি নগরবাসী। তিনি নগরের বাসিন্দাও নন।’

মেয়র পদে আনোয়ারুজ্জামানকে দলীয় প্রধানের বিবেচনায় রাখার প্রচার সত্য নাও হতে পারে উল্লেখ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া এত সহজ না। এমন প্রচারণা মিথ্যে হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভার আগে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।’

এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক কর্মী। গত সংসদ ও সিটি নির্বাচন সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই শহরেই বড় হয়েছি, পড়ালেখা করেছি। তাই সিলেট নগরের মানুষ আমার আপনজন।’

প্রধানমন্ত্রী সবুজ সংকেত দিয়েছেন জানিয়ে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘গত বহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। সিটি নির্বাচনের জন্য তিনি আমাকে কাজ করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। দলের অনেক নেতাই মনোনয়ন চাচ্ছেন। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান ও মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কে প্রার্থী হবেন, এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতি হতে চান জগদীশ, ইসির ‘‌বাধা’
সাত্তার চমকের শেষটা দেখার অপেক্ষা
ফোনালাপ ফাঁস: আসিফ স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে?
ডিসির নম্বর ক্লোন করে নির্বাচনী প্রার্থীর কাছে অর্থ দাবি
ডিসিদের বলেছি দেশবাসী সুষ্ঠু নির্বাচন চাইছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Poison free cucumber village

বিষমুক্ত শসার গ্রাম

বিষমুক্ত শসার গ্রাম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা চাষ হচ্ছে। ছবি: কোলাজ নিউজবাংলা
মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে ৬ কোটি টাকার বিষমুক্ত শসা বিক্রির আশা করছে কৃষি কর্মকর্তারা। গত বছর এই গ্রামে সাড়ে চার কোটি টাকার শসা বিক্রি হয়। এবার কীটনাশকমুক্ত পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করায় বেড়েছে শসার চাহিদা। কৃষকদের আশা তারা বেশি দাম পাবেন। আগামী দিন পনেরর মধ্যে এই গ্রামের শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্য প্রাচ্যের দেশ দুবাইতে যাবে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

মুগুজি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের ৩৫ হেক্টর জমিতে শসার চাষ হয়েছে। যেদিকে চোখ যায় সেখানে সবুজ আর সবুজ। কোথাও শসার হলুদ ফুল মাথা উঁকি দিয়ে আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। কোথাও বাতাসে দুলছে কচি শসা। পোকা দমনে ব্যবহার করা হয় পাতা-লতার রস।

মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা ও সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক সমাবেশ ও মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় কৃষক আমীর হোসেন বলেন, শসা চাষে ১০ গন্ডায় (২০ শতাংশ) এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা বিক্রি হবে। বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করায় ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে গেছে।’

মনির হোসেন, সাহাব উদ্দিন ও সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬ গন্ডায় (১২ শতাংশ) খরচ হয়েছে ৭০ হাজার বিক্রি হবে দেড় লাখ টাকা। সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে আমাদের আয়ও বাড়বে। বিষমুক্ত শসার উৎপাদনে কৃষি অফিস উদ্বুদ্ধ করেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।’

মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লা জেলার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এইখানে নিরাপদ শসা উৎপাদনে উদ্যোগ নিয়েছি। এখানের শসা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর সঙ্গে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।’

কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ‘নিরাপদ সবজি চাষ বিষয়টি এখানে কৃষকরা প্রশংসনীয়ভাবে আত্মস্ত করেছেন। আমরা এই অগ্রগতি ধরে রাখবো। এটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।’

পরিচালক (সরেজমিন উইং) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম দেশের ২০টি ইউনিয়নে এই বিষমুক্ত শসা চাষের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার একটি বরুড়ার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়ন। কৃষি পণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য তাদের কিছু শর্ত থাকে। আমরা তা পূরণের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে রপ্তানিকারকরা আসা শুরু করেছেন।’

আরও পড়ুন:
দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা
ঝড়ের শঙ্কায় বাজার ভরেছে কাঁচা আমে
শসার কেজি শহরে ৪০ টাকা, গ্রামে ৪
দাকোপে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চাষির মৃত্যু
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি, শঙ্কায় চাষি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bag did not catch the porter wages why?

‘ব্যাগ ধরেইনি, কুলি মজুরি কেন?’

‘ব্যাগ ধরেইনি, কুলি মজুরি কেন?’ গাবতলী বাস টার্মিনালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের চাঁদাবাজির রসিদ। ছবি: নিউজবাংলা
মেহেরপুর থেকে আসা বাসযাত্রী সনু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি টাকা দেব না বললে আমার ব্যাগ আমাকেই নিতে দিচ্ছে না। এমনকি আমি যেসব সিএনজি অটোরিকশ ডাকছি সে প্রতিটিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এটা তো ওপেন চাঁদাবাজি ভাই। যে আমার ব্যাগ ধরেইনি, আমি কেন তাকে কুলি মজুরি দেব?’

‘বাসের বাঙ্কার থেকে ব্যাগটা নামিয়ে পাশের ফুটপাতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে এই লোক কোথা থেকে এসে একটা রসিদ ধরিয়ে বলে ৪০ টাকা দেন। কাগজটা পড়ে দেখি এটা কুলি মজুরির রসিদ। অথচ আমি কোনো কুলি ডাকিনি এবং আমার ব্যাগ অন্য কেউ বহনও করেনি।’

রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড এলাকায় পূর্বাশা বাস কাউন্টারের সামনে কথাগুলো বলছিলেন মেহেরপুর থেকে আসা বাসযাত্রী সনু বিশ্বাস।

এই প্রতিবেদক তার আগে দেখতে পান যে রাফি ট্রেডার্স লেখা অ্যাপ্রন পরিহিত এক যুবক বাস যাত্রী সনু বিশ্বাসের সঙ্গে কী একটি বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন।

এগিয়ে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে ওই যাত্রী বলেন, ‘আমি এসেছি মেহেরপুর থেকে। আমার ব্যাগ ছিল বাসের বাঙ্কারে। তেমন ভারি ব্যাগ নয় যে কুলি ডাকতে হবে। আমি নিজে বাঙ্কার থেকে ব্যাগ নামিয়েছি। এখন একটা সিএনটি অটোরিকশা ডেকে বাসায় চলে যাব। এর মাঝে তারা কোনো কারণ ছাড়াই এসে টাকা দাবি করছে।

‘আমি টাকা দেব না বললে সে আমার ব্যাগ আমাকেই নিতে দিচ্ছে না। এমনকি আমি যাওয়ার জন্য যেসব সিএনজি অটোরিকশ ডাকছি সে প্রতিটিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এটা তো ওপেন চাঁদাবাজি ভাই। যে আমার ব্যাগ ধরেইনি, আমি কেন তাকে কুলি মজুরি দেব?’

এ বিষয়ে সোহেল নামে রাফি ট্রেডার্সের ওই কর্মীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে আমরা এই এলাকা ইজারা নিয়েছি। এই এলাকার ফুটপাত আর রাস্তায় ব্যাগ রাখলে আমাদের টাকা দিতে হবে।’

এই ঘটনা রোববার দুপুরের। এর ঘণ্টাখানেক আগে একই স্থানে এমন চাঁদাবাজির শিকার হন খন্দকার বশির উদ্দিন মিলন নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাড়ি ঝিনাইদহ। সেখান থেকে পূর্বাশা পরিবহনের বাসে আমার পরিবার দুটি ব্যাগ পাঠিয়েছে। আমি সেই ব্যাগ নিতে এসেছি। বাস থেকে ব্যাগ নামিয়ে আমি সিএনজিতে উঠাতে গেলে এক লোক এসে হাতে রসিদ ধরিয়ে দিয়ে দুই ব্যাগ বাবদ ৮০ টাকা দাবি করে বসে।

‘আমি কোনো কুলিকে ডাকিনি। এমনকি আমার ব্যাগ তুলতে কেউ সাহায্যও করেনি। অথচ এই রাফি ট্রের্ডাসের লোক আমার কাছ থেকে জোর করে ৮০ টাকা নিয়ে গেল। প্রথমে আমি টাকা দেব না বললে সে আশপাশ থেকে আরও ৩-৪ জনকে ডেকে আমাকে মারতে আসে। পরে নিরুপায় হয়ে তাদের টাকা দিয়ে দিলাম।’

আরেক ভুক্তভোগী ইসহাক আলী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘মেয়রের নামে চাঁদাবাজি! ঢাকা শহরে ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে মেয়রকে চাঁদা না দিয়ে শহরে ঢোকা যাবে না। আমি তাদেরকে চাঁদা না দিয়ে গাড়ি ভাড়া করার যতবার চেষ্টা করেছি ততবার সেই গাড়ি তারা ভাঙতে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্যাগ প্রতি ৪০ টাকা হিসাবে দুইটা ব্যাগে ৮০ টাকা দিয়ে মাজার রোড থেকে বাসায় ফিরতে পেরেছি।’

রোববার ও আগের কয়েকদিন সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এমন আরও অনেক যাত্রীর কাছ অভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা এসব বিষয়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।

আবার কুলি মজুরির নামে এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানালেন টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মীরা। তারা বলেন, ইজারা নেয়া প্রতিষ্ঠান রাফি ট্রেডার্সের কাছ আমরাও জিম্মি। আমাদেরও সব পরিষেবা বিল তাদের কাছেই জমা দিতে হয়।

ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কর্তৃপক্ষও কুলি মজুরির নামে রাফি ট্রেডার্সের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। জানে পুলিশ প্রশাসনও। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:
চাঁদাবাজি মামলায় চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
অপহরণ-চাঁদাবাজি: সাঁথিয়া ছাত্রলীগ সেক্রেটারিসহ গ্রেপ্তার ৫
হাইওয়ে পুলিশের ‘চাঁদাবাজি’, চালকদের মহাসড়ক অবরোধ
সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটুনি
বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

মন্তব্য

p
উপরে