× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Ask the bus owners why they are afraid Who is Fakhrul?
hear-news
player
google_news print-icon

বাস মালিকরা ভীত কেন, তাদেরই জিজ্ঞেস করুন: ফখরুলকে কাদের

বাস-মালিকরা-ভীত-কেন-তাদেরই-জিজ্ঞেস-করুন-ফখরুলকে-কাদের
রংপুরে বিএনপির সমাবেশের আগে রংপুরসহ আশপাশের জেলায় শুরু হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। ফাইল ছবি
‘বিএনপির বড় নেতা শিমুল বিশ্বাসও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাকেই জিজ্ঞেস করুন কেন ধর্মঘট করেছে? সব দলের সমন্বয়ে মালিক সমিতি, সেখানেও প্রেসিডেন্ট হচ্ছে জাতীয় পার্টির, জেনারেল সেক্রেটারি আওয়ামী লীগ সমর্থিত, অন্যান্য সব দলেরই প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাদের জিজ্ঞেস করুন কেন তারা আপনাদের ভয় পায়, কেন ২০১৩-১৪ সালের দুঃসহ স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি, তাদের জিজ্ঞেস করুন।’

পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে সরকারের প্রতি অভিযোগ না করে পরিবহন মালিকরা কেন বিএনপিকে ভয় পায়, সেটি তাদেরই জিজ্ঞেস করতে বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেছেন, বাস মালিক সমিতিতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারাও আছেন। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একজন উপদেষ্টাও আছেন। সেখানে সরকারের নির্দেশ খাটে না।

শুক্রবার রাজধানীতে সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের সময় একের পর এক পরিবহন ধর্মঘট ডাকা নিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার বাস মালিকদের সতর্ক করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন কাদের।

পরিবহন মালিকরা মহাসড়কে তিন চাকার ধীরগতির যানবাহন বন্ধসহ নানা দাবিতে ধর্মঘট ডাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা তোলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের অতীতের আন্দোলনে সহিংসতার প্রসঙ্গ।

তিনি বলেন, ‘২০১৩-১৪ সালে যখন শত-শত গাড়ি বিএনপি ভাঙচুর করেছিল, পেট্রল নিক্ষেপ করে গাড়ি ও পরিবহন শ্রমিকদের পুড়িয়ে মেরেছিল, পরিবহন শ্রমিকদের রিজিকের ওপর হাত দিয়েছিল এবং মালিক শ্রমিক পরিবারকে নিঃস্ব করেছিল। তারা সেটা এখনো ভুলে যায়নি। ভুলে যায়নি বিএনপির সেই আগুন সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি।’

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করছে। ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ ও ২২ অক্টোবর খুলনায় সমাবেশ করেছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ অক্টোবর রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চতুর্থ গণসমাবেশের ঘোষণা রয়েছে তাদের।

চট্টগ্রামের সমাবেশ নির্বিঘ্ন হলেও ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ এবং ২২ অক্টোবর খুলনার মালিক সমিতিও বাস ধর্মঘট ডেকেছিল নানা দাবিতে। আগামী ৫ নভেম্বর বরিশালে সমাবেশের ১০ দিন আগে ২৬ অক্টোবর সেখানকার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর তারা বাস চালাবেন না। দাবি হিসেবে মহাসড়কে তিন চাকার ধীরগতির যানবাহন বন্ধের বিষয়টি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিকদের সতর্ক করেন মির্জা ফখরুল। এতদিন সরকারকে দোষারোপ করলেও সেদিন তিনি বলেন, ‘বাস মালিক ও শ্রমিকদের বলছি, কাদের সহায়তায় এটা করছেন, যারা দেশ ধ্বংস করেছে, এটা করবেন না। জনগণের বিপক্ষে যাবেন না।’

আরও পড়ুন: ধর্মঘট: বাস মালিকদের বিএনপির সতর্কতা

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরিবহন মালিক শ্রমিক নির্দিষ্ট কোনো দলের নন, এখানে সব দলেরই লোক আছে। পরিবহন মালিক সংগঠনের সভাপতি আওয়ামী লীগের, সাধারণ সম্পাদক বাসদের, বিএনপির বড় নেতা নেতা শিমুল বিশ্বাসও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাকেই জিজ্ঞেস করুন কেন ধর্মঘট করেছে?

‘সব দলের সমন্বয়ে মালিক সমিতি, সেখানেও প্রেসিডেন্ট হচ্ছে জাতীয় পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি আওয়ামী লীগ সমর্থিত, অন্যান্য সব দলেরই প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাদের জিজ্ঞেস করুন কেন তারা আপনাদের ভয় পায়, কেন ২০১৩-১৪ সালের দুঃসহ স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি, তাদের জিজ্ঞেস করুন।’

বাস মালিকরা ভীত কেন, তাদেরই জিজ্ঞেস করুন: ফখরুলকে কাদের
খুলনায় সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

রিজার্ভ কত রেখে দিয়েছিলেন মনে আছে?

দেশের রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার পর বিএনপি নেতাদের বক্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের জানতে চান বিএনপির আমলে দেশের রিজার্ভ কত ছিল।

তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ কত রেখে গিয়েছিলেন মনে আছে? যখন ক্ষমতা ছেড়েছেন তখন যা রেখে গিয়েছিলেন, তা পাঁচ বিলিয়নেরও কম। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ৪৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আমাদের রিজার্ভ উঠেছিল।

‘আজ বৈশ্বিক সংকটের কারণে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন থেকে ৩৬ বিলিয়নে এসে ঠেকেছে। এ সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, দুনিয়ার সব উন্নত দেশ হিমশিম অবস্থায় রয়েছে। বিএনপির রিজার্ভের ভান্ডার ছিলো শূন্য, এখন তারা কোন মুখে রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে?’

বর্তমানে যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে আগামী ৫ থেকে ৬ মাস আমদানি করা যাবে বলেও জানান সড়ক মন্ত্রী।

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে শনিবার রাজধানীতে ঢাকা জেলা সম্মেলনের দিকে চোখ রাখতে বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বলেন, জনসমাগম কাকে বলে, সেটি বিএনপিকে বুঝিয়ে দেবেন তারা।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে কোনো লাভ হবে না বলেও জানিয়ে দেন কাদের। বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই হবে।

আরও পড়ুন:
বৈশ্বিক সংকটে একমাত্র ভরসা শেখ হাসিনা: কাদের
টাকা নিয়ে কমিটি দেয়া বন্ধ করুন: কাদের
বিএনপি পশ্চাৎমুখী দল: কাদের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Left alliance condemns police attack in Nayapaltan

নয়াপল্টনে পুলিশি হামলার নিন্দা বাম জোটের

নয়াপল্টনে পুলিশি হামলার নিন্দা বাম জোটের সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে বাম জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বাম গণতান্ত্রিক জোট বলেছে, ‘সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। আওয়ামী লীগ সরকার এই অধিকার হরণ করে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট কায়দায় ক্ষমতায় থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে বাম জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই নিন্দা জানানো হয়।

সভার বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। আওয়ামী লীগ সরকার এই অধিকার হরণ করে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট কায়দায় ক্ষমতায় থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সভা-সমাবেশ বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশব্যাপী কালো দিবস পালন এবং সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম অগ্রসর করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয় সভায়।

সভায় বলা হয়, ‘চলমান দুঃশাসনে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে পণ্য আমদানি-রপ্তানির নামে অনেকে হুন্ডিসহ নানা মাধ্যমে টাকা পাচার, নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন ও খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

‘সমাজে বৈষম্য বেড়ে চলেছে। এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ দাবিতে সচেতন ও সংগঠিত হয়ে দুঃশাসনের অবসানে গণআন্দোলন বা সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’

বাম জোটের সভায় সভা-সমাবেশের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অপচেষ্টা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘সরকারের ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে। এই সুযোগে নানা অপশক্তি মথাচাড়া দিয়ে উঠছে।’

সভায় গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা শহিদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা আব্দুল আলীসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
দরজা ভেঙে বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ, রিজভী গ্রেপ্তার, আটক বহু
রাজধানীতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aman Ani who spread tension on December 10 is in police custody

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
আমান বলেছিলেন, ‘এই বাংলাদেশ আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে চলবে বেগম খালেদা জিয়ার কথায় ও দেশনায়ক তারেক রহমানের কথায়।’ এ্যানি বলেন, ‘খুব শিগগির তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসবেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে।’

১০ ডিসেম্বর থেকে দেশ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে চলবে, এমন ঘোষণা দিয়ে বিএনপির এই বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ানো নেতা আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

সমাবেশের তিন দিন আগে বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দলটির দুই নেতাকে নিয়ে যায় পুলিশ।

সংঘর্ষ থামার পর বিকেল সোয়া ৪টা পর দিকে এ্যানি নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চান। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে নিজেদেরে হেফাজতে নেন। বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চলেন।’

তবে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তারা।

একই এলাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর পুলিশ নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানকে। কার্যালয়ের সামনে থেকে ধরার পর তাকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যায় বাহিনীটি। আমানের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানানো হয়নি।

পরে সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিল্পব কুমার সরকার বলেন, ‘সেইফটি এবং সিকিউরিটিকে যারা নষ্ট করতে চায় তাদের কোনোভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশ ছাড় দেবে না। এরই অংশ হিসেবে আমরা যখন দেখলাম জনগণের জানমালের জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যক্রম হচ্ছে নয়াপল্টন এলাকায় এবং পুলিশের ওপর হামলা ও বোমা নিক্ষেপ হয়েছে, তখন আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। পল্টন থেকে অবৈধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছি। অসংখ্য সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করেছি। এ ছাড়া অসংখ্য বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।’

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ

কয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বলা যাবে না। আমরা এখন অ্যাকশনে আছি। তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা অসংখ্য।’

আমান ও এ্যানিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

সমাবেশস্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকে।

পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, বিএনপির কাজ বিএনপি করবে- দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করে। আটক করা হয় আরও কয়েকজনকে।

১০ ডিসেম্বর নিয়ে উত্তেজনা ছড়ান আমান-এ্যানি

যে সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন, সেখানে ছিলেন আমানও, যিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে গত ৮ অক্টোবর বিএনপি চট্টগ্রামে তার প্রথম বিভাগীয় সমাবেশের দিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা ১০ ডিসেম্বর নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সেই আলোচনায় তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ চলবে না, এই বাংলাদেশ চলবে আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে চলবে বেগম খালেদা জিয়ার কথায় ও দেশনায়ক তারেক রহমানের কথায়। এর বাইরে কোনো দেশ চলবে না কারও কথায়।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি আসছে জানিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বানও জানান আমান। বলেন, ‘আপনারা নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে আল্লাহর নামে শহীদ হওয়ার প্রস্ততি নিন, প্রয়োজনে শহীদ হব, এই বাংলাদেশে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভায়েরা প্রস্তুতি নিন, ওই কাঁচপুর ব্রিজ, ওই টঙ্গী ব্রিজ, এই দিকে মাওয়া রোড, ওই দিকে আরিচা রোড, সারা বাংলাদেশ, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া কর্মসূচি আসছে। সারা বাংলাদেশ বন্ধ করে দেব।’

১০ ডিসেম্বর নিয়ে ‘উত্তেজনা ছড়ানো’ আমান-এ্যানি পুলিশ হেফাজতে
নয়াপল্টনে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে

দুই দিন পর লক্ষ্মীপুরে বিএনপির এক সমাবেশে এ্যানি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ১০ তারিখের পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ চলবে। আর কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগির তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসবেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। অনতিবিলম্বে তাদের সব মামলা প্রত্যাহার ও খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।’

বিএনপির এই দুই নেতা এই বক্তব্য রাখার পর আওয়ামী লীগ নেতারা জবাব দিতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন, ১০ ডিসেম্বর কোনো নাশকতা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১০ ডিসেম্বরের উত্তেজনা কমিয়ে গত ১৭ নভেম্বর ঢাকায় এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘এমন কোনো কর্মসূচি আমরা নেব না, যেটা তো জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিপদগ্রস্ত হবে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছি শান্তিপূর্ণভাবে। আর শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে যাব।’

তবে এই জনসভাটি কোথায় হবে, এই ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত বিরোধটি সংঘাতেই রূপ নিল।

আরও পড়ুন:
বিএনপি কার্যালয় ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mayor Tapas returned without inaugurating the attempted attack ground

হামলার চেষ্টা, মাঠ উদ্বোধন না করেই ফিরলেন মেয়র তাপস

হামলার চেষ্টা, মাঠ উদ্বোধন না করেই ফিরলেন মেয়র তাপস মেয়র তাপস বুধবার বকশী বাজারে একটি মাঠ উদ্বোধন করতে গেলে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র তাপস স্থানীয় একটি মাঠ উদ্বোধনের জন্য গেলে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সেটি নিজেদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার এক পর্যায়ে মাঠ উদ্বোধন না করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন তাপস।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। রাজধানীর বকশীবাজারে বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় একটি মাঠ উদ্বোধনের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন মেয়র তাপস। এ সময় ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ওই মাঠ নিজেদের বলে দাবি করেন। উত্তেজনার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মেয়রের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে মাঠ উদ্বোধন না করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন মেয়র।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, মেয়র চলে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা মাঠের ভেতর থেকে চেয়ার ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা দৌড়ে মাঠের অপর প্রান্তে গিয়ে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

লালবাগ জোনের ডিসি মো. জাফর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হামলার চেষ্টা চালানো সবাই ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আপাতত এইটুকু পরিচয় জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। হামলাকারীদের পরিচয় বের করা হবে।’

তবে কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে কিনা এমন তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। স্থানীয় থানায় খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে কারাগার ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মধ্যে মাঠ মিয়ে মামলা চলমান। মামলার রায়ের আগে বলা যাবে না যে মাঠটি আমাদের বা তাদের। শিক্ষার্থীদের দাবি হলো মাঠের নাম নিয়ে। আমরা এ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এক ছাত্রকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিজেরাই তাকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিয়ে যায়৷ আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দাবি থাকলেই শিক্ষার্থীরা কারো ওপর হামলা করতে পারে না। আর পুলিশ আটক করবে এটাও কাম্য নয়।’

এর আগে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঠের মূল ফটক অবরোধ করে রাখেন।

আরও পড়ুন:
প্রতিবেশীকে চিনতে রাজধানীতে ‘পাড়া উৎসব’
ভবন নির্মাণে লাগবে সিটি করপোরেশনের অনুমতিও
মাঠ দখলমুক্ত করে ফুটবল খেললেন মেয়র আতিকুল
‘গাড়ির সংখ্যা কম, আমার আর নিয়ন্ত্রণ করা লাগছে না’
ফিরিয়ে দাও খেলার মাঠ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
DMP warns BNP about Nayapaltan

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে। ডিএমপি কমিশনার।

অনুমতি ছাড়াই নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার পর পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শেষে ঢাকার পুলিশ কমিশনার দলটিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন অমান্য করার চেষ্টা করা হলে তারা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবেন। সেই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে দলটিকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

তিনি এও বলেছেন, জননিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপিকে সামাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না।

আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার বিএনপি ঘোষিত এই সমাবেশের স্থল নিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আসেন ঢাকার পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক পল্টনে দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে জনদূর্ভোগ ও জননিরাপত্তা জন্য তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।’

‘একই সঙ্গে এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সমস্ত রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে’-বলেন তিনি।

‘আইন অমান্য করলে বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে’- দলটির প্রতি সতর্কবার্তাও দিয়ে রাখেন রাজধানীর পুলিশ প্রধান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা গোয়েন্দা সংস্থা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিএনপি ঢাকা শহরে ১০ লাখ লোক জামাতের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কাজেই পার্টি অফিসের সামনে জনদুর্ভোগ করে এবং ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করে তাদেরকে সেখানে অনুমতি দেয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে কোনো খোলা মাঠে যেতে পারেন বা অন্য কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন। অন্য প্রস্তাব হিসেবে তাদেরকে বলা হয় ইজতেমা মাঠ আছে, সেখানে আপনারা ১০ লাখ লোক জমায়াত করতে পারবেন। পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার মাঠ আছে, সেখানে যেতে পারেন।’

ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হয়। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে আগ্রহী না। তারা পল্টন বা তার আশেপাশে কোন রাস্তায় করতে আগ্রহী।

‘এ প্রসঙ্গে আমাদের ডিএমপির সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা এর মতো কোনো খোলা মাঠে সমাবেশ করতে হবে। আমরা জনদুর্ভোগ এবং জননিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

‘সোহরাওয়ার্দী আসুন, নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার

বিএনপি সোহরাওয়ারাদীতে সমাবেশ করলে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসও দেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘উনারা এর আগেও সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করেছেন। উনারা সোহরাওয়ার্দীতে মিটিং করলে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। আমি নিরাপত্তা দেবো। উনাদের নিরাপত্তার সামান্যতম কোনো ঘাটতি হবে না। কোনো প্রকার বাধা দেয়া হবে না।’

বুধবার সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে অফিশিয়াল ডে, তারা নয়াপল্টনে রাস্তা দখল করে সমাবেশ করছে। গাড়ি চলাচলের বিঘ্ন ঘটিয়ে... কোনো সমাবেশ নাই, এটা তো আইনানুগ কাজ উনারা করেন নাই।’

ঢাকার প্রবেশমুখে চৌকি বসিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে মোবাইল ফোনে বিএনপির কোনো ছবি বা নেতাদের নম্বর পেলে তাকে আটক করার বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এসেছে, সেটিরও জবাব দেন ডিএমপি প্রধান।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট চলছে। কারণ হলো, সামনে ১ থেকে ১৫ তারিখ একটা বিশেষ অভিযান ঘোষণা করেছি। এই মাসে ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর আছে, বড় বড় ৫ টা প্রোগ্রাম আছে। কোনো নাশকতা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা ঢাকার অভিমুখে চেকপোস্ট বসিয়েছি। কোনো যাত্রীর ঢাকা আসা আমরা বন্ধ করি নাই।’

অনুমতি ছাড়াই সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে আসার পর আগামী ১০ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই সমাবেশের স্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। বিএনপি সমাবেশ করতে চায় নয়াপল্টনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কিন্তু তারা সেখানে যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়কে সমাবেশ করা যাবে না। এরপর বিএনপি আরামবাগে সমাবেশ করার কথা জানায় মৌখিকভাবে। তবে সে আবেদন মৌখিকভাবেই নাকচ করা হয়।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
নয়াপল্টনে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়

সমাবেশ স্থলের কথা না জানিয়েই বিএনপি জনসভায় অংশ নেয়ার প্রচার চালাচ্ছিল। এর মধ্যে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থানও নিতে থাকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দুপুরের আগে বলেন, তারা যেখানে অনুমতি চেয়েছেন, সমাবেশ সেখানেই হবে। নয়াপল্টনের বিকল্প কোনো প্রস্তাব থাকলে সেটি দিতে হবে পুলিশ বা সরকারকেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি গ্রহণযোগ্য পছন্দনীয় জায়গা বের না করে তাহলে পল্টনই আমাদের পছন্দের জায়গা। পল্টনেই হবে সমাবেশ।’

পুলিশ বাধা দিলে কী হবে, জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, আমাদের কাজ আমরা করব।

আব্বাসের ঘোষণার পরপরই সংঘর্ষ

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদের নেতার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

নেতা-কর্মীরাও নয়াপল্টন ঘিরে জমায়েত হচ্ছিল আগের রাত থেকেই। সেখানে দুটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করে সকাল থেকে চলছিল বক্তৃতা। জনসাধারণকে শনিবারের সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বানের পাশাপাশি বিতরণ করা হচ্ছিল লিফলেট। এক পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের চাপে নয়াপল্টনের সামনের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
Caption

সকাল থেকে কার্যালয় ঘিরে ছিল শ খানেক‍ ‍পুলিশ। জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের চাপে সামনের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে দুপুরের দিকে তারা এসে হস্তক্ষেপ করে। তখন শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছুড়তে থাকে ইটপাটকেল। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়ে দেয় জবাব।

মিনিট দশেক এই সংঘর্ষ চলে। বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশের শ দুয়ের রিজার্ভ ফোর্স। আসে দুটি সাঁজোয়া গাড়িও। কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি ভ্যানও আসে সেখানে।

বিএনপি নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করতে থাকলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শুরু হয় সংঘর্ষ।

বাড়তি পুলিশ আসার পর বাহিনীটির সদস্যরা ব্যাপক আকারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। সেখানেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।

সেখানে আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে যেতে চান। পুলিশই তাকে সঙ্গে নিয়ে যায় সেখান থেকে।

নয়াপল্টন নিয়ে বিএনপিকে ডিএমপির হুঁশিয়ারি
বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ

বেলা ৩টার দিকে আসেন সোয়াট সদস্যরা। এরপর শুরু হয় তাদের টহল। ততক্ষণে নেতা-কর্মীরা আর সড়কে ছিলেন না।

বিকেল চারটার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যান নয়াপল্টনে। তিনি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতে বসে যান। সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ইউনুস।

বেলা পাঁচটার দিকে পুলিশ সদস্যরা বিএনপি কার্যালয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানকারী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল গ্রেপ্তার পরোয়ানা।

রিজভী ছাড়াও আরও কয়েকজন নেতাকে আটকের কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

আরও পড়ুন:
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত ১, আহত ১৮
সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ২০
নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ
রিজভী, ইশরাকের পর এবার সোহেলকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, সমাবেশ নয়াপল্টনেই: বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
22 councilor candidates got their nomination back on appeal
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন

আপিলে মনোনয়ন ফিরে পেলেন ২২ কাউন্সিলর প্রার্থী

আপিলে মনোনয়ন ফিরে পেলেন ২২ কাউন্সিলর প্রার্থী রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) ভবনের ফটক। ছবি: সংগৃহীত
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৩৬ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন। এর মধ্যে ৩৩ জন তাদের মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করেন।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া ২২ কাউন্সিলর প্রার্থী আপিলে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীদের আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার এই আদেশ দেয় কমিশন। তথ্য ঠিক না থাকায় একই সঙ্গে ১২ কাউন্সিলর প্রার্থীর আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে এই আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার স্টাফ অফিসার আফতাব হোসেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১ ডিসেম্বর থেকে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন জমা দেয়া ৩৬ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন। এর মধ্যে ৩৩ জন তাদের মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আপিল শুনানি শেষে মেয়র পদে ১০, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৮৫ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৭ প্রার্থী বৈধ হলেন।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘আজ (বুধবার) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আমরা আশা করছি প্রার্থীরা নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে প্রচারে অংশ নেবেন। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ভয় পেলে চলবে না: ইসি রাশেদা
গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন: ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ইসির
আরপিও সংশোধন: মন্ত্রণালয়ের জবাব পেল ইসি
এনআইডিসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা ইসি কর্মকর্তাদের
ইসির প্রস্তাব উপেক্ষা: সরকারের একটি বক্তব্য চান সিইসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Ministers Chief Secretary Tofazzal Hossain Mia

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া মো.তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর নতুন মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

প্রধানমন্ত্রীর নতুন মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো.তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

আরও পড়ুন:
২০২৪-এর প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন, ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা
আ.লীগকে দেয়া জনগণের ভোট বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী
১০ ডিসেম্বরের আগেই সন্ত্রাস শুরু করেছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা: মিছিলে সরব নারীরা
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangabandhus speech in the United Nations Resolution

বঙ্গবন্ধুর উক্তি জাতিসংঘ রেজুলেশনে

বঙ্গবন্ধুর উক্তি জাতিসংঘ রেজুলেশনে জাতিসংঘে বক্তব্য দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফাইল ছবি
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় মঙ্গলবার কোভিড পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রেজুলেশনটি উত্থাপন করে তুর্কমেনিস্তান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব ডায়ালগ অ্যাজ অ্যা গ্যারান্টি অব পিস’ শীর্ষক রেজুলেশনের ১৪তম প্যারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’- ঐতিহাসিক উক্তিটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় মঙ্গলবার কোভিড পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রেজুলেশনটি উত্থাপন করে তুর্কমেনিস্তান।

রেজুলেশনে বঙ্গবন্ধুর উক্তিটি সন্নিবেশিত হয়েছে এভাবে-

“দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ, নিরক্ষরতা এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্ব স্বীকার করে এবং গঠনমূলক সহযোগিতা, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার চেতনায় সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ নয় মর্মে জোর দেয়া হলে তা এই উদ্দেশ্যগুলো অর্জনে সহায়তা করবে।”

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়ে বিশ্বশান্তির কথা বলেছিলেন, সেগুলোর ধারণামূলক ভিত্তি পেতে এই অনুচ্ছেদের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল মোহিতের নির্দেশনায় মিশনের কূটনীতিক মো. মনোয়ার হোসেন রেজুলেশনটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ৭০টি দেশ এই রেজুলেশনটিতে কো-স্পন্সর করেছে।

আরও পড়ুন:
বাস্তব হচ্ছে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’
বঙ্গবন্ধু টানেলে গাড়ি চলবে জানুয়ারিতে
প্রতি ১১ মিনিটে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন একজন নারী: জাতিসংঘ
বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভিসি
১০ ভাষায় গাওয়া হবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুজন হাজংয়ের গান

মন্তব্য

p
উপরে