× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
How is the child who gives news in the madrasa?
hear-news
player
google_news print-icon

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

মাদ্রাসায়-যে-সন্তান-দেন-খবর-রাখেন-সে-কেমন-আছে?
ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী। ছবি: সংগৃহীত
১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন: ধর্মীয় বক্তা রফিক উল্লাহ আফসারী

হাফিজি মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বেধড়ক মারধর নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন একজন ধর্মীয় বক্তা। তিনি আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে সন্তানদের না পাঠানোর অনুরোধও করেছেন। বলেছেন, যেভাবে মাদ্রাসায় নির্যাতন করা হয়, তার খানিকটা তার ওপর করা হলে তার ইমান থাকত না।

শিশুদের হাফেজখানায় না দিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ম্যাজিস্ট্রেট বানানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, হাফেজ বানালে জাতির কোনো লাভ হয় না।

তিনি বলেন, কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ বানানো বাধ্যতামূলক বা ফরজ না। ফরজ হচ্ছে কোরআন সঠিকভাবে এক পারা শেখানো। সবাই এক পারা শিখলেই গোটা দেশ পাল্টে যাবে।

এই ধর্মীয় বক্তার নাম রফিক উল্লাহ আফসারী। বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের আমদুয়ার গ্রামে।

তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা কামিল মাদ্রাসায় চাকরি করেন। পাশাপাশি ওয়াজ করেন।

সেই এলাকাটা অনেকটা নোয়াখালী লাগোয়া। তার ভাষা নোয়াখালীবাসীর মতো।

এই ধর্মীয় বক্তা মাদ্রাসায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুদের পেটালে সরাসরি থানায় যেতে বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। সেই সঙ্গে সরকার যেন এসব মাদ্রাসায় নজরদারি করে, সেই দাবি তুলেছেন।

রফিক আফসারী নিজেও তার সন্তানকে মাদ্রাসায় হাফেজি বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। এর পরই সেখানকার চিত্র জানতে পেরেছেন বলে জানান। বলেন, তিনি নানা অভিযোগের বিষয়ে স্বচক্ষে দেখতে নানা কৌশলে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছেন।

সম্প্রতি তার একটি ওয়াজের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এর পর থেকে তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। বহুজন বলছেন, মাদ্রাসায় নির্মম নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে অন্তত একজন আলেম মুখ খুলেছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

তবে এই ওয়াজেই আফসারী শঙ্কা প্রকাশ করেন, এসব বক্তব্য দেয়ার কারণে তার ওপর চড়াও হবেন কওমিপন্থিরা।

যোগাযোগ করা হলে নিউজবাংলার প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, ওয়াজে যে শঙ্কার কথা তিনি বলেছিলেন, সেটি সত্য হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় কওমিপন্থিদের রোষানলের কারণে তিনি এখন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলছেন।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

কওমি মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সী শিশুকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় মায়ের করা মামলায় এক শিক্ষককে গত বছর ১৮ মার্চ কারাদণ্ড দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালত। সেই বছর হাটহাজারীর এক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে পেটানোর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

‘হাফেজ বানিয়ে লাভ কী, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানান’

হাফেজি পড়ে জাতির কোনো লাভ হয় না বলে মনে করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্ত স্টাডি করে দেখেন, কয়জন মানুষ হইছে, জাতিকে কিছু দিতে পারছে। পারছে?

‘১০০টা এমবিবিএস ডাক্তারের মধ্যে ১০০টাই কামে লাগছে। …১০০টা উকিলের ভেতরে ১০০টাই কাজে লাগছে। ১০০টা হাফেজ হইছে, কোন হাফেজটা সাকসেস হইছে গোটা বাংলাদেশে? হাতে গোনা কয়েকজন।’

তিনি বলেন, ‘হাফেজ কোনটা বড় আলেম হইছে দেখান না। আপনি পড়ান কম, যাতে এক পারা হাফেজ হলেও ছেলেটা উচ্চশিক্ষিত হতে পারে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’

এই সত্য তুলে আনায় হুজুররা গালিগালাজ করবে জানিয়ে আফসারী বলেন, তাতে তার আক্ষেপ নাই। তিনি বলেন, ‘করুক তাতে কী? আমার আল্লাহ যদি আমার প্রতি খুশি থাকে, আমার কারণে যদি একটা ছেলে মাইর থেকে বাঁচে, এই আনন্দ আমি রাখি কোথায়?

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

জামালপুরের ইসলামপুরে তিন মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। ফাইল ছবি

‘আমার কারণে যদি একটা ছেলে কয়, আফসারী ভাইয়ের বক্তব্যের কারণে আমি এই নির্যাতন থেকে বাঁচি আইছি, দেখবেন যে সে এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে যাবে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়ে যাবে।

‘খালি হুজুর হইলে যে খেদমত করা যাইব, সেটাও তো নয়। পুলিশ অফিসার হইলেও তো খেদমত করতে পারব। প্রত্যেকের অবদান আছে একটি দেশ বিনির্মাণের জন্য।’

‘মাদ্রাসায় বাচ্চারা কেমন আছে খবর রাখেন?’

মানুষ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় শিশু পাঠানোর পর সেখানে তারা কেমন আছে, সেই খোঁজ নেয়ার তাগিদ দেন রফিক আনসারী। বলেন, পিটুনি ছাড়াও যেনতেন থাকার জায়গা, নিম্নমানের খাবারের কারণে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আফসারী বলেন, ‘যে মারটা দেয় ভাই! খবর নেন? সরল বিশ্বাসে আপনেরা হাফিজি মাদ্রাসায় দিয়ালান। কত মাইর দেয়! এই ছোট পোলাইনগুলার বদ দোয়া…। প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হলে সরকার হ্যাতেরে দুইটা বছর ট্রেনিং দেয়, পিটিআইয়ের ট্রেনিং দেয়, আগে শেখ, পরে পড়াইস। হ্যাতেরা তো হেফজ হইয়াই দৌড় দিয়া হাফিজি মাদ্রাসায় আয় তামা করে লায় পোলাইনগুলারে পিডায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার চোখে দেখা, হাজার হাজার প্রতিবন্ধী, ব্রেইন আউট…। মা-বাপেও হেরে দেয়া লাই, বান্দি (বেঁধে) দিয়া হেরে দেয়া লাই। এবার হুজুরে কয়, গেছসনি আব্বার বাইত? দিছে কি হে জায়গা?

‘আল্লারে পোলা নিজের মাথা নিজে ওয়ালের লগে ফিডে (পেটায়)। কত কষ্ট পাইলে হেতে তিন তলাত্তন (তিনতলা থেকে) ঝাঁপ দিয়া মরে?’

আফসারী বলেন, ‘প্রবাসী যারা শুনতেছেন, আপনাগো বউরা তো দিয়া দেয় মাদ্রাসায় মানুষ করবার লাই। আপনার পোলারা কি সুখে আছে, চায় লইয়েন (দেখে যাবেন)। জীবনেও মানুষ হবে না। মার কাছে থাকব। হ্যাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যা পারে পড়ব।

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’
হাফিজি মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

‘এই ল্যাদা (ছোট) পোলাপানের হার্ট নষ্ট করিয়া লায়…। ডাইলের (ডাল) পানি খায় (খেয়ে) হুজুরগোর ঘেটি (ঘাড়) মোটা মোটা হই গেছে। আর পোলাইনটিরে কী কইচ্ছে?’

১০০টির মধ্যে ৯৮টিতেই মারধর চললেও শিশুরা ভয়ে কিছু বলে না বলেও জানান আফসারী। বলেন, ‘আপনি যখন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। হুজুর সুন্দর করি বলবে কেমন আছেন। পুতেও কয় না। এমন মেডিসিন খাওয়ার দিছে। ডরে (ভয়) কয় না। এডি (হুজুর) জেএমবির থেকেও আরও বেশি ভয়ংকর। আর হুতেরে ফোন দিলে কয়, আব্বু ফোন দিলে আরে মারিয়ালাইব। এমন সিস্টেম করে ডরে বাড়িও কয় না।’

পিটুনিতে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে ছাত্ররা

নিজের এক স্বজনের কথা তুলে ধরে আফসারী বলেন, ‘আমার আত্মীয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে সে একজন। এখন ব্রেইন আউট, কী কী বলে।

‘সেই ছেলে বলে- মাগো, বেড়াইতাম আইতাম, আব্বা আমারে বাইন্দা মসজিদে আনত। মাগো হেইনো (সেখানে) আমার কী মাইর দিত গো মা! আমি কইলে তো বিশ্বাস করতা না। কইতেন পড়ার ডরে আমি এইডি কই। আমার তো ব্রেইন আউট কইরালাইছে।’

নিজের সহকারী মো. জহিরের ভাগনেরও একই অবস্থা হয়েছিল বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘তার এক ভাগিনা, হাতে তো মারে না।’

রফিক আনসারী তার মাথা নিচু করে দেখান। বলেন, ‘সিস্টেম করে কয় মোহাম্মদ, এমনে থাক।

(শিশুটা) কান্দি (কেঁদে) উডি হয়, ‘হুজুর আমার দম গেছে গা তো।’

‘মাথা উডলে গো গেডির (ঘাড়ে) বাইরে পিডব।

‘তুই এমনে থাহস না, ৩০ সেকেন্ডে স্ট্রোক করবি।

‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই।

‘এরপর মাথা উডায়।

‘এরপর আবার তারে মাথা নিচে নামায়। এরপর বাচ্চাডা আবার বলে, ‘হুজুর আমি মরি যাই, মরি যাই। এভাবে বাচ্চাডা প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে এখন।’

‘এমনে মারলে আমার ইমান থাকত না’

হাতের আঙুলে পেটানোর ভঙ্গি দেখিয়ে আফসারী বলেন, ‘হ্যায় হায় রে… গিরাবায় মারে। আমারেও যদি গিরাবায় মারে আমি ইমান রাখতে পারতাম না।’

তিনি বলেন, ‘আপনার হুতেরে সিজদার মধ্যেও পিডায়। বলে সিজদা দে, আর মারে। আহারে লেদা পোলাডা।…সেদিন এক ভিডিওতে দেখছি, এক হুজুরে পাজাকোলা করে এক বাচ্চারে ধইরা রাখছে, আর আরেক হুজুরে রুল দিয়া পায়ের পাতার মধ্যে মারছে। কত জোরে কাঁদছে বাচ্চাটা, মাগো, মাগো, মাগো। বইলা বেহুঁশ হয়ে পড়ে যায়।’

যত ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটে, তার মধ্যে হাতে গোনা এক-দুইটাই প্রকাশ হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, এক কোটির মধ্যে আল্লাহ দুই-একটা বাইর কইরা দেয়, দেখায়, তোদের পোলারে এভাবে পিডায়।’

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও শিশুদের মারা নিষিদ্ধ বলে তুলে ধরেন তিনি। উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘নবী মারছে? সাহাবা একরাম মারছে?'

গভীর রাতে শিশুদের জোর করে ঘুম ভাঙানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাগো, লেদা (ছোট) পোলারে ৩টায় উঠায় দেয় পড়বার লাই (পড়ার জন্য)। হ্যাতের ওপর (যার ওপর) নামাজ ফরজ হয় নাই, অথচ তাকে দিয়ে তাহাজ্জুদ পড়ায়! হ্যাতের মাথায় আবার পাগড়ি দিয়া বাইন্দা লয়, ওমা এইটা কী জিনিস?’

‘প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে’

অভিভাবকদের চুপ থাকার কোনো কারণ দেখছেন না রফিক আনসারী। বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার সময় এসেছে। প্রত্যেক অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রিপোর্ট করবেন। মারব, আর ডাইরেক্ট যাবেন থানায়। এই হুজুরের আর দরকার নাই।’

তার কথা না শুনে মাদ্রাসায় দিতে থাকলে কী হবে, সেটি জানিয়েও সতর্ক করেন আফসারী। বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যায় ভুগবেন। বাচ্চা প্রতিবন্ধী হই যাইব। একটা বাচ্চা যদি অসুস্থ হয়, লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি। আপনার পারিবারিক অশান্তির কারণ হবে। কোনো অবস্থায় আবাসিক রাখবেন না। আফসারী কইলেও হ্যাতের কাছেও দিয়েন না। বাচ্চারে মায়ের কোলের মধ্যে হুতাইবেন।

‘সমাজসেবা অধিদপ্তরে এগুলার জন্য মামলা দিবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররে কইবেন, কীয়ের মাদ্রাসা দিছে? খেলার জায়গা কই। প্রত্যেকটা প্রাইমারি স্কুলের দিকে তাকিয়ে দেখিয়েন, কত সুন্দর মাঠ আছে।

‘পাঁচ হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে আমাদের এই প্রাইমারি স্কুল। আমরা প্রাইমারি স্কুল থেকে মানুষ হইছি। ফাইভ পাস করে তারপর মাদ্রাসায় আইছি।’

‘সব কথা বলাও যায় না’

মেয়েদের মাদ্রাসায় কী হয়, সেটির বিষয়ে আফসারী কথা শুরু করেও শেষ করেননি। বলেন, সব কিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না। তবে জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট মাইয়ার বোর্ডিংয়ে দেন। রুমের চাবি কয়টা কইতে পারবেননি? ১৮টা। সব কথা তো টেলিভিশনে বলা যায় না। কী কইতাম। জাতিটারে ধ্বংস করি দিতেছে তো। কোনো অবস্থায় বোর্ডিংয়ে দিবেন না। কাছে রাইখব্যান।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

‘কোনো হাফিজি মাদ্রাসার ছাত্রকে আপনে বোর্ডিংয়ে দিয়েন না। মার কলিজার মধ্যি হুতি ঘুম যাইব, দিনের বেলা পড়ব’- বারবার এই কথাটি বলেন তিনি।

ভালো খাবার না দিয়ে মিথ্যা শেখানো হয়’

রফিক আনসারী বলেন, ‘বিকেল বেলা খেলতে দেয় না, লক্ষ লক্ষ মাসুম বাচ্চারে জবেহ করে দিছে তারা।’

শিশুদের ভালো না খেতে দিলেও তাদের মিথ্যা কথা শেখানো হয় বলেও জানান এই ধর্মীয় বক্তা। বলেন, ‘পাঙ্গাশ মাছ দেয়। আর শেখায় মাংসের কথা বলতে।’

এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি হাসতে থাকলে তার উদ্দেশে আনসারী বলেন, ‘আমার রক্ত গরম হয়ে যায়, কলিজা ছিদ্র হয়ে যায়, আর আপনি হাসেন!’

তিনি বলেন, ‘(মা বলে) কিরে পুত কী দিয়া খাওয়াইছে? কয় গোশত। আসলে এক মাসের খানাতেও নাই গোশত। কত সেয়ানার সেয়ানা আমরা। আঁই (আমি) তো এইডি শিখছি, শিইখ্যাই তো কইলাম।’

‘মাদ্রাসায় যে সন্তান দেন, খবর রাখেন সে কেমন আছে?’

ঢাকার সাভারের মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের মামলার পলাতক আসামি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আলামিন হাসান সাইমকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ফাইল ছবি

শিশুরা মায়ের কাছে থাকাই উত্তম উল্লেখ করে আনসারী বলেন, ‘মায়ের কাছে থাকলে বিকেলে একটু আমড়া খাইত, আমলকী খাইত, ১০০ কেজি আপেলের চেয়ে শক্তিশালী। একটা ডিম খাওয়াইত মা। পোলাপানেরে মা কত যত্ন করি খাওয়ায়। হেয়ান হ্যাতে শুইয়া রইছে মশারিও তো নাই।’

মুরাদনগরে একটি মাদ্রাসায় যাওয়ার পর সেখানকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ল্যাদা পুলারা কাশতে আছে। ঘরে কাশলে তো মা উঠি যাইত ঘুমেত্তে। বাড়িত থাকলে তো আমি উঠে উঠে দেখি, ফ্যানটা জোরে চলেনি, আমার পুলায় কাশি দিল কেন?

‘এই সার্ভিসটা কি হুজুরে দিব তরে? তুই তোর হুতেরে হত্যা করিয়া লাইছত, বোর্ডিংয়ে দিয়ে।’

সরকারকে নজরদারির তাগিদ

যত্রতত্র গড়ে ওঠা মাদ্রাসা দোকানের মতো করে ফেলছে মন্তব্য করে আফসারী বলেন, ‘মার্কেটের ভেতরে মাদ্রাসা। আল্লাহ, সরকার এগুলোর দিকে নজরদারিও করার তওফিক দাও।’

এসব বক্তব্য দেয়ায় সমালোচনা হবে, সেটি আগেই উল্লেখ করেন রফিক আনসারী। বলেন, ‘কাইল সকালে এই ভিডিও দেখব আর আমারে হুজুরেরা গাইল্যায়া শেষ করি দিব। কইব, হ্যাতে ইসলামবিদ্বেষী।’

তিনি বলেন, 'আমার পুতেরে হেফজ পড়ানে সব গুমর আল্লায় আমারে শিখায়ালাইছে। তিন-চারবার আমার পুতের নাম কাডিয়ালায়। দুঃখ কারে কই, আমার মতো সচেতন, প্রভাবশালী একজন অভিভাবকের সঙ্গে যদি হুজুরে এসব করে, তাহলে গরিব পোলাপানরে তো হুজুরে পাত্তাও দেয় না।'

আরও পড়ুন:
আজব মাদ্রাসায় সুপারের তেলেসমাতি
কুমিল্লা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান জামাল নাসের
বামপন্থায় কীভাবে দীক্ষিত হচ্ছে কওমি ছাত্ররা?
অন্তর্দ্বন্দ্বে বেহাল উত্তরাঞ্চলের নামি বিদ্যাপীঠ
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
SSC result will be known on Sunday

এসএসসির ফল জানা যাবে যেভাবে

এসএসসির ফল জানা যাবে যেভাবে ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১১টায় ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে সোমবার। সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, দুপুর ১টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ফল প্রকাশ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তর করা হবে। এরপর দুপুর ১২টায় ফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা স্ব স্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটের রেজাল্ট অংশে গিয়ে তাদের ফল জানতে পারবে।

ওয়েবসাইটে ফল জানা যাবে যেভাবে

নির্ধারিত ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd থেকে ফল জানা যাবে। ওয়েবসাইটে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম, বোর্ড ও বছর সিলেক্ট করে সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন-এর মাধ্যমে ফল ডাউনলোড করতে পারবেন।

এসএমএসে ফল জানবেন যেভাবে

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এসএমএস অপশনে SSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2022 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। উদাহরণ: SSC Dha 123456 2022 পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।

দাখিলের ফল পেতে Dakhil লিখে স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2022 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে SSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2022 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

এ বছর নয়টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে ২ লাখ ২১ হাজার ৩৮৬ জন।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষার হলে ফেসবুক লাইভ, ২ এসএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Overhauling the education system Kaikaus

শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কায়কাউস

শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে: কায়কাউস চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস।
চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি তরুণ যাতে শোভন পেশার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি তরুণ যাতে শোভন পেশার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ।’

শনিবার চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার যাত্রা সূচনা। জ্ঞানের জন্য, স্বীকৃতির জন্য, প্রজ্ঞার জন্য ক্ষুধার্ত হওয়া আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধার্ত হতে থাকুন, তৃপ্ত হবেন না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপায় খোঁজা চালিয়ে যান এবং সেখানেই আপনি আরও কিছু অর্জন করতে পারবেন।

‘ক্রমাগত নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন জীবনে চলতে কী নতুন দক্ষতা এবং দক্ষতার প্রয়োজন হবে। আপনার শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা শুধু আপনি যা শিখছেন তা নয়, কীভাবে শিখতে হয় তা জানার মধ্যেও রয়েছে।’

নগরীর টাইগার পাসের নেভি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে ১০টি বিভাগের ১৩টি প্রোগ্রামের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাস করা মোট ৫ হাজার ৬৪৯ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি দেয়া হয়। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদের পক্ষে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রিও ঘোষণা করেন তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে সমাবর্তন অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশে তাদের কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

‘বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেশে হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করতে যাচ্ছেন আপনারা। বঙ্গবন্ধুকন্যার ডিজিটাল বাংলাদেশ আপনাদের নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হবে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষ অর্জন’ প্রতিপাদ্যে শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এই পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। মাত্র এক দশকেই বন্দর নগরীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সেরা মেধাবী শিক্ষক, ডিজিটাল ক্লাসরুম আর বিশ্বমানের কারিকুলামের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জনসম্পদে পরিণত হয়েছে।’

এবারের সমাবর্তনে ১৪ জন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল ও ১৩ জন শিক্ষার্থী ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল অর্জন করে। উপস্থিত অতিথিরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল তুলে দেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আসমা ইয়াসমিন এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রাইসুল ইসমাইল আপন। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জন ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপরই শুরু হয় আলোচনা পর্ব।

এ সময় অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর দিল আফরোজা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত চেয়ারম্যান মিসেস তাহমিনা খাতুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পিসিআইইউর বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন, ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর, চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ, গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ফোরাম এবং ব্যান্ড দল বে অব বেঙ্গল-এর পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

২০১৩ সালের ১৭ মে ছয়টি প্রোগ্রামে ৬৯ জন শিক্ষার্থী, ৬ জন শিক্ষক, ৪ জন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ১৭০ জন শিক্ষক, ৫ হাজার ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৯০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। চারটি অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগের ১৩টি প্রোগ্রাম নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড: ২১৯ পদে কর্মরত ৬৯ জন
১৬ নভেম্বর থেকে স্কুলে ভর্তির আবেদন শুরু
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জারি
ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠ্যবই সরবরাহ না দিলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
মেয়েদের আকাশ হোক মুক্ত: দীপু মনি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Miss World Bangladesh Aishi in CUB

সিইউবিতে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঐশী

সিইউবিতে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঐশী রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সিইউবি ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। ছবি: নিউজবাংলা
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা, মানোন্নয়নে ‘কনভয় কনফিডেন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সিইউবি)।

রাজধানীর প্রগতি সরণির নিজস্ব ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এ আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন ঐশী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিইউবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হক, কোষাধ্যক্ষ ও স্কুল অব আর্টসের ডিন এ এস এম সিরাজুল হক, মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান ড. আনিস পারভেজসহ কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সিইউবির কর্মশালা
সিইউবিতে ডেটা সায়েন্স নিয়ে সেমিনার
বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে পদ্মা সেতু: প্যাট্রিক
১১ স্কুলকে কোর্সের বিস্তারিত জানাল সিইউবি
দক্ষিণ এশিয়ার জ্ঞানব্যবস্থা নিয়ে সিইউবিতে সেমিনার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Position on the demand to increase the post in primary teacher recruitment

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে পদ বাড়ানোর দাবিতে অবস্থান

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে পদ বাড়ানোর দাবিতে অবস্থান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পর থেকেই চাকরিপ্রার্থীরা ডিপিই-এর প্রধান ফটকে অবস্থান নিতে শুরু করেন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পর থেকেই চাকরিপ্রার্থীরা ডিপিই-এর প্রধান ফটকে অবস্থান নিতে শুরু করেন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অবস্থানকারীরা বলেন- করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন ৪৫ হাজার নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এটা আমরা মানি না, মানব না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, সহকারী শিক্ষকের পদসংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ৩২ হাজার ৫৭৭ পদেই নিয়োগ দেয়া হবে।

অবস্থানকারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) ড. উত্তম কুমার দাশ।

তাদের বলেন, ‘নিয়োগের বিধি মোতাবেক ফল প্রকাশ করা হবে। মেধাবীরা চাকরির সুযোগ পাবেন। সবাইকে অনুরোধ করব আপনার মূল ফটক ছেড়ে দিন।’

মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ এজন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে পরীক্ষার ফল নিয়ে কাজ চলছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেসবুকে নজর দেবে সরকার
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য হচ্ছে কল্যাণ ট্রাস্ট
প্রাথমিকে বদলি বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষকরা
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ফের কোটা বাতিলের দাবি
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা চান শতভাগ টাইমস্কেল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
32 years of educational program of Khulna University

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা
১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাস হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ওই বছর ৩১ জুলাই।

আজ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্ণ করেছে। আগামীকাল ৩৩ বছরে পদার্পণ করবে। প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আপামর মানুষের নিরলস প্রচেষ্টা ও ত্যাগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাস হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ওই বছর ৩১ জুলাই।

এরপর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪টি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাস শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা, চারুকলাসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি
ভাস্কর্য অদম্য বাংলা। ছবি: নিউজবাংলা

রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল বা অনুষদের সংখ্যা ৮টি এবং ডিসিপ্লিন বা বিভাগের সংখ্যা ২৯টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাত হাজার, যার মধ্যে ২১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক আছেন পাঁচ শতাধিক, যার এক-তৃতীয়াংশই পিএইচডি ধারী। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১২, যা বিশ্বমানের।

ছাত্রছাত্রীর অনুপাত ৫৪ঃ৪৬, যা দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কর্মকর্তা তিন শতাধিক এবং কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার শ।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৬টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার গ্র্যাজুয়েটকে আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করা হয়েছে।

খুবির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আতিয়ার রহমান বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পর গত ৩২ বছরে এখানে কোনো ছাত্র সংঘর্ষ, হানাহানি বা রক্তপাত হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই দীর্ঘ সময়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে। তাহলো Learn, Lead and Live, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, শিখুন, নেতৃত্ব দিন ও বাঁচুন। এ ছাড়া নতুন ভিশন, মিশন এবং রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি প্ল্যান নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গল্লামারীতে স্থাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। স্থানটি একাত্তরের বধ্যভূমি। বধ্যভূমির ওপর গড়ে ওঠা এটাই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই মনে হবে এক শান্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। নেই কোনো কোলাহল, নেই শব্দদূষণ। বিশেষভাবে চোখে পড়বে একই রঙে রাঙানো ভবগুলোর দেয়াল।

প্রশাসনিক বা অ্যাকাডেমিকসহ কোনো ভবনের গায়ে দেয়াল লিখন নেই। নেই কোনো স্লোগান, নেই কোনো ব্যানার, ফেস্টুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনের নাম বিধৃত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ তথা বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেই প্রথম চোখে পড়বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুউচ্চ ম্যুরাল, যার গায়ে উৎকীর্ণ আছে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।

এ ছাড়া রয়েছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবন, ড. সত্যেন্দ্রনাথ বসু অ্যাকাডেমিক ভবন, আচার্য জগদীশচন্দ্র অ্যাকাডেমিক ভবন, কবি জীবনানন্দ দাশ অ্যাকাডেমিক ভবন। এমনিভাবে প্রতিটি আবাসিক হল ও অন্যান্য স্থাপনার প্রবেশ পথেই শুধু দেখতে পাবেন নাম লেখা। এ যেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিজস্বতা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ৩২ বছর পূর্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। ছবি: নিউজবাংলা

বঙ্গমাতা হলে রয়েছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ম্যুরাল। রয়েছে কটকা স্মৃতিস্তম্ভ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহদাকার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির স্থপত্যশৈলী চমৎকার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণ করা হয়েছে এ ভবনটি। যার ছাদ দৃষ্টিনন্দন টেনসাইল মেমব্রেনে তৈরি।

এস এম আতিয়ার রহমান বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের শুরুতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিষয় নিয়ে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় তা কিন্তু গতানুগতিক ছিল না। তা ছিল ভবিষ্যৎ প্রয়োজনমুখী। তখনকার বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যাজন দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের পরই ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়।

‘দেশের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন এবং ঢাকার বাইরে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রথম চালু হয়। দেশের মধ্যে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় হিসেবে চালু হয়। সুন্দরবন ও উপকূল নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থাপিত হয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস অ্যান্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই)।

‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনের মাটির ২০ ফুট গভীরে সুরম্যভাবে স্থাপিত এ আর্কাইভ। এখানে সংগৃহীত আছে দেশের ৫টি জোনের এক হাজার আটশত আটান্নটি প্লটের ৫ হাজারের বেশি মাটির নমুনা, যা সংরক্ষণ করা হয়েছে গবেষণার জন্য।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও গ্রহণে আগামী ১০ বছরের জন্য জনবলের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই অর্গানোগ্রাম (২০২১-২২ থেকে ২০৩১-৩২) ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। শিক্ষার মান অর্জনে প্রয়োজন মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক, গবেষক। এ পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যুগোপযোগী শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালা সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিসীমায় নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেণায় যুক্ত করতে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে করা হয়েছে অনেক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বা এমওইউ।’

তিনি জানান, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি তথা নবীন-প্রবীণ গবেষকদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে গবেষণার অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর ৬২টি গবেষণা প্রকল্পে দুই কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। চলতি বছর এই বরাদ্দ ২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা অনুদান প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৭ জন গবেষককে ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা আনুষ্ঠানিভাবে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এ বছর ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’

উপাচার্য বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অনুমোদিত ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১০ তলা জয়বাংলা অ্যাকাডেমিক ভবন, সুলতানা কামাল জিমনেশিয়াম, টিএসসিসহ ২৪টি অবকাঠামোর কাজ। নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধানে এখানে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে আছে একটি কমিটি।’

প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে আস্থার জায়গা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। এটা ধারণ করেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে বিশ্বমান অর্জনের পথে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখার সম্মিলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গরূপ পরিগ্রহের পথে। এ বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশ্ব সারণিতে স্থান করে নেবে।’

আরও পড়ুন:
৫৫ কোটি ব্যয়ে টিএসসি হবে খুবিতে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলছে সোমবার
খুবির হল খুলছে ১৮ অক্টোবর
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু
খুবির শিক্ষার্থী-শিক্ষক বহিষ্কার, অপসারণ: দেশব্যাপী সমাবেশের ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People no longer have to leave their homes in disasters

‘দুর্যোগে মানুষকে এখন আর ঘর ছাড়তে হয় না’

‘দুর্যোগে মানুষকে এখন আর ঘর ছাড়তে হয় না’ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘সরকারের কার্যকর পদক্ষেপেই দুর্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি দুর্যোগ মোকাবেলা করছে।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দুর্যোগ মোকাবিলা ও হ্রাসের ক্ষেত্রে একজন অগ্রগামী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য তিনিই প্রথম একটি সংস্থা গঠনের আহ্বান জানান। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘে ‘ইউএনডিআরআর’ নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে রেডক্রস স্থাপন করে প্রায় বিশ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়োগ দেন।’

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রশমনে আগাম সতর্কবার্তা’ শীর্ষক সেমিনারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জাতির পিতার কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের সুবাদে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

‘দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রী ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ সহনীয় ঘর দেয়া হয়েছে। এ ঘরগুলো হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় এখন মানুষকে ঘরহারা হতে হয় না, বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে হয় না।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত এ ধরনের সভা-সেমিনার আয়োজন করা দরকার।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকার।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কিউ. এম মাহবুব।

মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহেদুর রশীদ।

স্বাগত বক্তব্য দেন সেমিনার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Quality education is a big challenge Deepu Moni

মানসম্মত শিক্ষা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ: দীপু মনি

মানসম্মত শিক্ষা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ: দীপু মনি ইন্ডিয়ান ওশান রিম বিজনেস ফোরাম লিডারশিপ সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে টেকনোলজির ব্যাপারে। টেকনোলজি একজন মানুষের জীবনকে সফলতা দেবার পাশাপাশি অনেক বেশি ক্ষতিও করতে পারে।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ে মানসম্মত শিক্ষা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা খাতে আমরা অনেক কিছু করলেও আমাদের আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে।’

দুই দিনব্যাপী ইন্ডিয়ান ওশান রিম বিজনেস ফোরাম (আইওআরবিএফ) লিডারশিপ সামিট ২০২২-এর শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোয়ালিটি এডুকেশন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা খাতে আমরা অনেক কিছু করলেও আমাদের আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে। আমাদের ভিশনারি লিডার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাব। এ আয়োজন যিনি করেছেন শেখ ফজলে ফাহিম, তিনি একজন ডায়নামিক লিডার। করোনা-পরবর্তী সময়ে এমন একটা আলোচনার আয়োজন করার জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে টেকনোলজির ব্যাপারে। টেকনোলজি একজন মানুষের জীবনকে সফলতা দেবার পাশাপাশি অনেক বেশি ক্ষতিও করতে পারে। শুধু টেকনোলজি নিয়েই আমাদের দক্ষ না করে গবেষণার মাধ্যমেও আমাদের দক্ষ করা উচিত। এখানে আমাদের অনেক বড় গ্যাপ আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক পরীক্ষানির্ভর, সার্টিফিকেট ফোকাসড, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মুখস্থ করে নয়, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা শিখবে প্র্যাকটিক্যাল করে। আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করা আমাদের শিক্ষা খাত থেকে হারিয়ে গেছে বললেই চলে। তাই সবাইকে আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা নিতে হবে, যেন তারা প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ সালের ভিশন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী একটা সংকট চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই দেশই প্রায় সমান সবদিক দিয়ে। টেকনোলজির যে প্রসার হচ্ছে, এটা একদিকে যেমন আমাদের জন্য ভালোর, অন্যদিকে ক্ষতিরও। আমরা যখন সোশ্যাল মিডিয়ার কথা বলি, তখন দেখতে পাই যে ফেসবুক টুইটার ই-মেইল ইত্যাদির দিন দিন প্রসার হয়েই যাচ্ছে। আমরা দেখি যে অনলাইন বুলিংয়ের কারণে অনেকেই আত্মহত্যা করে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসে, তখন থেকে এখন আমরা অনেক বেশি ডিজিটাল অন্যান্য এলডিসি দেশের তুলনায়। আমাদের আছে হাইটেক পার্ক, ফ্রিল্যান্সার, এবং আইটি বিজনেসের জন্য প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিক থেকে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয়।’

আরও পড়ুন:
বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই : শিক্ষামন্ত্রী
এইচএসসি: পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ২ লাখ
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক চর্চা চান শিক্ষামন্ত্রী
ইভটিজিং রোধের উপায় মেয়েদের ঘরে আটকে রাখা নয়
ধর্ষণের শিকার হলেই সম্ভ্রম যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে