× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Comillas Muna is the victim of murder?
hear-news
player
google_news print-icon

কুমিল্লার মুনা কি হত্যার শিকার?

কুমিল্লার-মুনা-কি-হত্যার-শিকার?
স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে তাহমিনা আক্তার মুনা। ছবি: সংগৃহীত
তার ‍মৃত্যুর পর স্বামী সালাউদ্দিন সুমন বলেন, ৩০ আগস্ট রাত ১টায় চুলায় আগুন জ্বালাতে গিয়ে কেরোসিনের বোতল গায়ে পড়ে অগ্নিদগ্ধ হন মুনা। তবে তার বক্তব্য এবং সে রাতে বাসায় ছুটে যাওয়া প্রতিবেশীর বক্তব্যে বিস্তর ফারাক। মুনার বোন দাবি করেছেন, মৃত্যুর আগে বলে গেছেন তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব বিষয় পুলিশকে জানিয়েছেন তারা।

কুমিল্লার কলেজশিক্ষক তাহমিনা আক্তার মুনার মৃত্যু দুর্ঘটনার আগুনে, নাকি আগুন ধরিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে, এ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

স্বজনদের দাবি, স্বামীর সুনিপুণ পরিকল্পনার শিকার মুনা।

সেই রাতের ঘটনা নিয়ে সুমন যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিবেশীর বক্তব্যে, যিনি আগুন লাগার পর এই নারীকে হাসপাতালে নিতে চেয়েছিলেন।

মুনার স্বজন এবং সুমনের সঙ্গে ওঠাবসা করা বেশ কয়েকজন জানাচ্ছেন, সুমনের বেশ কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে পরিবারটিতে ঝগড়াঝাঁটি হতো।

শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মারা যান মুনা।

তার ‍মৃত্যুর পর স্বামী সালাউদ্দিন সুমন বলেন, ৩১ আগস্ট রাত ১টায় চুলায় আগুন জ্বালাতে গিয়ে কেরোসিনের বোতল গায়ে পড়ে অগ্নিদগ্ধ হন মুনা।

চুলার পাশে কেন কেরোসিন রাখা হয়েছিল- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ঘরে বারবিকিউ করেছেন। তাই কেরোসিন ছিল।’

কুমিল্লার মুনা কি হত্যার শিকার?
কফিনবন্দি মুনার মরদেহ

মুনারা ১১ বোন। মুনা দশম সন্তান। তার বাবা মারা গেছেন। মা গুলশান আরার অভিযোগ, তার মেয়ের সঙ্গে ভয়ংকর কিছু ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সব তথ্য দিয়েছি। আমরা এখন সত্য উন্মোচন হবে সেদিকে তাকিয়ে আছি।’

সালাউদ্দিন সুমনের ভগ্নিপতি শওকত জামান জানান, মুনার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাত ৯টার দিকে পাথুরীয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

প্রেমের বিয়ে, পরে জটিলতা

প্রেম করে ২০১৭ সালে মুনা ও সুমনের বিয়ে। কিন্তু মুনার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাদের সংসারে সাফা নামে আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সুমনের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায়। মুনার বাবার বাড়ি কুমিল্লা নগরীর পাথুরিয়াপাড়ায়।

মুনা কুমিল্লা মডেল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি বাড়ির পাঁচতলায় ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী সালাউদ্দিন সুমন সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন, আবার বলতেন ফ্রিল্যান্সার। তার আয়ের উৎস নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তবে মাজারে ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতা ছিল।

কুমিল্লা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন জানান, ‘মুনা একজন ভালো শিক্ষক ছিলেন। খুব বেশি কথা বলতেন না। সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল।

বেশ কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সুমনের। গোপনে একাধিক বিয়ের কথাও প্রচার হয়েছিল। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ হতো।

৩১ আগস্ট রাতে কী হয়েছিল

রাত ১টার সময় সালাউদ্দিন সুমন ফোন করেন আরেক সংস্কৃতিকর্মী স্যাম আল মামুনকে। জানান আগুনের কথা।

মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১টায় সুমন ভাইয়ের ফোন পাই। তিনি আমাকে বলন, তার ঘরে আগুন লেগেছে। স্ত্রী দগ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রেসকোর্স রওনা দিই।

‘পৌঁছানোর আগেই পাশের বাসার আরেকজন নারীকে নিয়ে সুমন ভাই মুনাকে নিয়ে ঝাউতলা মুন হসপিটালে আসে। সেই হসপিটালে পুড়ে যাওয়া রোগীকে চিকিৎসা দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়।

‘ততক্ষণে আমরা অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দেই। তাই একটি অটোরিকশা নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে বার্ন ইউনিটে মুনাকে চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার করা হয়।’

এরপর আবার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয় বলে জানান মামুন। বলেন, ‘সুমন ভাই ও তার স্ত্রীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাসায় ফিরি। সে সময় আমার এক বন্ধুকেও পাঠিয়েছিলাম তাদের সঙ্গে।’

একাধিক সংস্কৃতিকর্মী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, সুমন তাদেরকে ফোন দিয়ে বলেন যেন ফেসবুকে তাকে নিয়ে সবাই পোস্ট দেন। পোস্টে যেন সবাই লিখে এটা শুধুই একটা দুর্ঘটনা। অন্য কিছু নয়। তবে সুমনের এমন অনুরোধে সাড়া দেননি তার সংস্কৃতি অঙ্গনের সহকর্মীরা।

সুমনের তথ্যের সঙ্গে প্রতিবেশীর বক্তব্য বিস্তর ফারাক

সোমবার মুনার সেই ওই বাসায় গিয়ে ঘুরে অনেক তথ্য জানা যায়।

পাশের বাসার ভাড়াটিয়া মনোয়ারা বেগম বলেন, “সেদিন রাত তখন ১টা। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দরজা খুলি। দেখি সুমন ভাইয়ের স্ত্রী মুনা চিৎকার করে বলতেছে, ‘ভাবি, আমার বাচ্চা সাফাকে দেখে রাইখেন।'

“বলে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন। আমি সাফাকে আমার মেয়ের কাছে দিয়ে আমিও নিচে নেমে আসি। সুমন ভাই পরে নিচে নামেন। আমি চেয়ে দেখলাম মুনার শরীর ভয়ংকরভাবে পুড়ে গেছে।”

সুমন যে নারীকে নিয়ে হাসপাতালে যান বলে মামুন বলেছিলেন, তিনিই মনোয়ারা।

আগুন কীভাবে লাগল, তা নিয়ে সুমন ও তার বক্তব্যে বিস্তর ফারাক। তিনি বলেন, ‘ওই দিন বাসায় কোনো সিলিন্ডার বিস্ফোরণ শুনি নাই। সুমন ভাই যে বলছেন বাসায় বারবিকিউয়ের আয়োজন করেছে, তাও দেখি নাই।’

কুমিল্লার মুনা কি হত্যার শিকার?
এই বাড়িতেই দগ্ধ হন মুনা

পরদিন সুমনের মা শামীমা আক্তার ও কাজের মেয়ে এসে তাদের ঘর পরিষ্কার করেন বলেও জানান মনোয়ারা। জানান, তারা যাওয়ার সময় সাফাকে তার কাছ থেকে নিয়ে যান।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার আমিনুর রশীদ বলেন, ‘রোগীর (মুনা) বুক থেকে হাঁটু পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছিল। বলা যায় শরীরের ৬৬ ভাগ পুড়েছে। এত বেশি পুড়ে যাওয়ায় আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার করি।’

মুনার পরিবারের নানা সন্দেহ

মুনার বড় বোন মাসুমা বেগম বলেন, ‘অনেকগুলো ঘটনা আমাদের কাছে সন্দেহজনক। আমরা সব বলেছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।’

কী কী সন্দেহজনক মনে হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জানাব, পুলিশ তদন্ত শেষ করুক। আমাদের মুনার মেয়ে সাফা এখন তার দাদির কাছে আছে। আমরা সাফাকে নিয়ে শঙ্কিত।'

মুনার বড় বোন মাসুমা খাতুন বলেন, ‘আমার বোন হসপিটালে থাকতে সব বলে গেছে। ওই দিন রাতে সুমন তার ফ্ল্যাটের পানির লাইন অফ করে দেয়। পরে কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় মুনার শরীরে।’

তিনি এও জানান, হাসপাতালে সুমন তার মেয়েকে হত্যার ভয় দেখিয়ে তার মৃ্ত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়- এ কথা বলতে বাধ্য করেছে এবং সেই বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করেছে।

মুনা মারা যাওয়ার পর তার লাশ গ্রহণ করতেও সুমন যাননি বলে জানান মাসুমা।

কুমিল্লার মুনা কি হত্যার শিকার?
মুনার বাবার বাড়ি

সুমন কেন এই কাজ করেছেন, সে বিষয়ে মুনা কিছু বলে গেছেন কি না- এমন প্রশ্নে মাসুমা বলেন, ‘সুমন বেকার ছিল। ব্যবসার কথা বলে ১০ লাখ টাকা যৌতুক চায়। এই টাকা না পাওয়ায় সে মুনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

‘ঘটনার আগের দিন ৩০ আগস্ট মুনা আমাদের আরেক বোন তারান্নুম ঝিলিকের কাছে ফোনে জানায়, শাশুড়ি শানিমা বেগম তাকে খুব গালাগাল করছে।'

সুমন কোথায়

মুনার মৃত্যুর পর সুমন হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে জানান মাসুমা। তিনি বলেন, ‘তার জন্য আমরা মরদেহ নিয়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করি। পরে মরদেহ নিয়ে চলে আসি।’

পরে সুমন মুনার জানাজায় হাজির হলেও দ্রুত চলে যান বলে জানান মাসুমা। বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সুমনের কোনো খবর নেই।’

এসব অভিযোগ নিয়ে সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব ষড়যন্ত্র।’

তাহলে কীভাবে এ ঘটনা ঘটল- এমন প্রশ্ন করার পর ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন রেখে দেন তিনি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান জানান, ‘মঙ্গলবার আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে রিকশাচালকের ‘আত্মহত্যা’
হত্যা মামলায় দুজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, আরেকজনের যাবজ্জীবন
ছেলের সামনেই স্বামীহারা নারীর ‘আত্মহত্যা’
হোটেলে নাশতা করার মধ্যেই কুপিয়ে খুন
গায়ে আগুন দিয়ে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Bus stop in Meherpur Kushtia due to owner labor conflict

মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে বাস বন্ধ মেহেরপুর-কুষ্টিয়ায়

মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে বাস বন্ধ মেহেরপুর-কুষ্টিয়ায়
জানা গেছে, শনিবার কুষ্টিয়ায় একটি বাসের চালকের এক আত্মীয় ওই বাসে উঠেন। তার কাছ থেকে ভাড়া না নেয়ায় বাসে থাকা মালিক কারণ জানতে চান। এ নিয়ে চালকের সঙ্গে মালিকের দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস চলাচল।

মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে মেহেরপুর-কুষ্টিয়ার আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে শনিবার বিকেল থেকেই। রোববার সকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দূরপাল্লার সব বাস চলাচলও।

কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাস স্ট্যান্ডে আসা সাধারণ যাত্রীরা।

জানা গেছে, শনিবার কুষ্টিয়ায় একটি বাসের চালকের এক আত্মীয় ওই বাসে উঠেন। তার কাছ থেকে ভাড়া না নেয়ায় বাসে থাকা মালিক কারণ জানতে চান। এ নিয়ে চালকের সঙ্গে মালিকের দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস চলাচল।

বাস চলাচল না করায় আন্তজেলা সড়কগুলো এখন অটোরিকশা, ইজিবাইক, নছিমন, করিমনের দখলে।

এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস স্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীর ভিড় বাড়ছে; বাড়ছে দুর্ভোগও।

ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাস স্ট্যান্ডে আসা যাত্রী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মাকে নিয়ে আজ ঢাকায় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা। সকালে মাকে নিয়ে বাস কাউন্টারে এসে শুনি বাস বন্ধ। এ কেমন বিপদ বলেন তো। আগে ঘোষণা না দিয়ে বাস বন্ধ হওয়ায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হলো।’

কুষ্টিয়া বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিবুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার কুষ্টিয়া থেকে এক শ্রমিকের আত্মীয়ের বাসে উঠা নিয়ে ওই বাস মালিকের সঙ্গে ওই শ্রমিকের দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরে এদিন বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরে সব বাস বন্ধ করে দেয় কুষ্টিয়া বাস মালিক সমিতি। আর মেহেরপুর আন্তজেলার বাস চলে জেলা সীমান্ত খলিসাকুন্ডি পর্যন্ত।

‘পরে আজ (রোববার) সকাল থেকে মেহেরপুর বাস মালিক সমিতিও আন্তজেলা ও দূরপাল্লার সব বন্ধ করে দেয়। ফলে বন্ধ রয়েছে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়ক হয়ে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার সব বাস।’

মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে বাস বন্ধ মেহেরপুর-কুষ্টিয়ায়

কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাবলু বলেন, ‘এই রুটে দূরপাল্লার যানবাহন কোনো লোকাল যাত্রী তুলতে পারবে না- মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ বিষয়টি দেখভাল করতে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের চেকপোস্টও আছে। কিন্তু তারপরও ঢাকায় চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসগুলোর শ্রমিকরা লোকাল যাত্রী তোলে।

‘শনিবার বামুন্দি চেকপোস্টে লোকাল যাত্রী তোলার বিষয়টি ধরা পড়লে মালিকদের ধাওয়া দেয় শ্রমিকরা। এরপর থেকে দুই জেলার মালিক সমিতিগুলো বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপাতত বাস চলাচল বন্ধ রাখার। এ নিয়ে আজ কুষ্টিয়ায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর একটি সুরাহা হলে আবার বাস চলাচল শুরু করা হবে।’

মটরশ্রমিক ও শ‍্যামলী পরিবহনের চালক ইলিয়াস হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যখন গাড়ি চালাই, অনেক সময় বাস মালিক ও তাদের আত্মীয়-স্বজন গাড়িতে উঠে। আমরা তাদের কাছে কোনো ভাড়া না নিয়ে সম্মানের সঙ্গে গন্তবে পৌঁছে দেই। অথচ আমরা শ্রমিকরা আমাদের কোনো আত্মীয়কে গাড়িতে উঠালে মালিক পক্ষের কথা শুনতে হয়। এটি মেনে নেয়া যায় না। আমাদেরও তো মা-বোন, আত্মীয়-স্বজন আছে।’

মেহেরপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম রসুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকের দ্বন্দ্বের জেরে কুষ্টিয়া মালিক সমিতি শনিবার বাস বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তে এক হয়ে রোববার মেহেরপুর মালিক সমিতিও বাস বন্ধ করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
চলছে না বাস, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
শরীয়তপুরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার
বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি
নিষিদ্ধ যান বন্ধের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় বাস ধর্মঘটের ডাক
চট্টগ্রামের দুই রুটে রোববার বাস ধর্মঘট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The image of Rangpur Medical changed after the doctor suffered

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র
এক চিকিৎসকে মাকে ভর্তি করাতে যাওয়ার পর পদে পদে টাকা আর কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়ার পর অন্য চিকিৎসকরা সোচ্চার হন। তাদের হুঁশিয়ারির মুখে কর্তৃপক্ষ হয় তৎপর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নেয় ব্যবস্থা, বদলি করা হয় ১৭ কর্মচারীকে। চুক্তিভিত্তিক দুই জনকে করা হয় বরখাস্ত। এখন রোগী ভর্তি করতে এলে কাউকে বাড়তি টাকা দিতে হয় না। হাসপাতালের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম।

২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বড় দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ইশরাত জাহান ইতি কিডনি রোগে আক্রান্ত মাকে ভর্তি করান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে। সেদিন জরুরি বিভাগে ভর্তি বাবদ ২০০ টাকা, ট্রলি বাবদ ২৫০ আর বেড পরিষ্কারের জন্য দিতে হয়েছে ৫০ টাকা। কিছুটা সুস্থ হয়ে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

ঠিক ১০ দিন পর ১ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে ফের হাসপাতালে আসেন ইতি। কিন্তু জরুরি বিভাগে এবার ট্রলির জন্য টাকা চায়নি কেউ, ভর্তি বাবদ ২০০ টাকার বদলে লেগেছে ২৫ টাকা। শয্যা পরিষ্কারের জন্যও কেউ টাকা চেয়ে বিরক্ত করেনি।

হাসপাতালে এমন পরিবর্তন দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইতি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মার দুই কিডনিতেই পাথর ছিল। এর আগে একটার চিকিৎসা করা হয়েছে। এবার অন্যটির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলাম। কিন্তু কেউ আমার কাছে টাকা চায়নি। ভর্তি বাবদ ২৫ টাকা নিয়েছে, রিসিটও দিয়েছে। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি প্রশাসন এখন এত শক্ত।’

ইতির কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় বন্ধ হয়েছে এই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক তার মাকে ভর্তি করে এসে ভুক্তভোগী হওয়ার পর। সেই চিকিৎসকের কাছ থেকেও পদে পদে আদায় করা হয়েছে বাড়তি টাকা। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, নিজের কর্মস্থল থেকে মাকে তিনি নিয়ে গেছেন এই ভয়ে যে, এখানে থাকলে তার মায়ের চিকিৎসা হবে না।

সেই চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তোলপাড় হয়ে যায়। এতদিন সব দেখেও না দেখার ভান করা কর্তৃপক্ষ আর বসে থাকেনি। চিকিৎসক ভোগার পর তারা ব্যবস্থা নেয়ায় আমূল পাল্টে গেছে হাসপাতালের চিত্র। এখন দালালের অত্যাচার নেই, রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ট্রলি ধরার প্রতিযোগিতা নেই, স্বজনের কাছে বকশিশ চাওয়ার অত্যাচার নেই, নির্ধারিত ভর্তি ফির বাইরে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।

নোংরা পরিবেশের যে সমস্যায় এতকাল মানুষ ভুগেছে, সেটিও আর নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ড, মেঝেতে নেই ময়লা-আবর্জনা। পুরো হাসপাতাল এখন ঝকঝকে চকচকে।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

পরিস্থিতির এই চিত্র দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না রোগী ও তার স্বজনদের। এদের একজন কুড়িগ্রামের উলিপুরের চাচিনা বেগম। গত চার দিন থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ছোট ভাইয়ের অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে আছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এর আগেও হাসপাতালে ছিলাম আমি। কিন্তু এত ভালো ব্যবহার কেউ করেনি। ডাক্তার, নার্স ও আয়া সবাই যেন বাড়ির লোক। কেউ কখনও খারাপ ব্যবহার করেনি। ভর্তির সময় কেউ কোনো টাকা-পয়সা চায় নাই। শুনছি এদিক-সেদিক টাকা নেয়। কিন্তু কেউ চায় নাই।’

পরিবর্তনের নেপথ্যে

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মায়ের চিকিৎসা করাতে অর্থোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীরের মাকে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ফি ২৫ টাকা হলেও ১০ গুণ ২৫০ টাকা চাওয়া হয়। স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় জানালে তো নেমে আসে ৫০ টাকায়, তবু তা ছিল নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ।

ভর্তির পর রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউতে পাঠানো হলে সেখানেও দিতে হয় ২০০ টাকা। সেখানে স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় দেয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে সেই চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেপে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মচারী নিজে মাসুদ নামে পরিচয় দেয়। আমি বিষয়টি একসময় ভিডিও করি। সেটি আমার ফেসবুকে পোস্ট করি।’

পরে সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন চিকিৎসক রাশেদুল আর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতাল পরিচালকের কাছে।

এসব ঘটনায় যে হাসপাতালে নিজে চাকরি করেন, সেখানে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রিলিজ নিয়ে নেন তিনি। রোগী নিয়ে আসার সময় আবার চাওয়া হয়েছে টাকা, এবার আরও বেশি।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল বলেন, ‘হয়তো আমার অভিযোগ অনেকে নানাভাবে নিতে পারে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার যখন আমার মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি তখনও ময়লা পরিষ্কার বাবদ আমার কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’

হাসপাতালের এই চিত্র নতুন কোনো কিছু নয়। কিন্তু চিকিৎসকরা ছিলেন নির্বিকার। নিজেদের পেশার একজন ভোগার পর অবশেষে তারা সোচ্চার হন। অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে ২৬ সেপ্টেম্বর আন্দোলনে নামেন ‘সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’।

এরপর কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যালের ১৬ কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বদলি করা হয়। এরপর কর্মচারীদের আচরণে আসে পরিবর্তন।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

এর পাশাপাশি চিকিৎসক রাশেদুল আমীরের স্বজনদের অশোভন আচরণ ও টাকা নেয়ার দায়ে চুক্তিভিত্তিক দুই কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়। এতে চুক্তিভিত্তিক অন্য কর্মচারীদের মধ্যেও ভয় ঢুকেছে।

‘চিকিৎসকরা আগে উদ্যোগী হলে আমাদের ভুগতে হতো না’

হাসপাতালের চিত্র পাল্টানোয় খুশি মাকে ভর্তি করতে এসে হয়রানির শিকার হওয়া চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর। তিনি জোর দিয়েছেন এই পরিবর্তন ধরে রাখার ওপর।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল আমীর বলেন, ‘অ্যাজ এ ম্যান অফ রংপুর, আমি সব সময় চাই রংপুরের মানুষ এখান থেকে সবচেয়ে ভালো সেবা পাক। আমরা রংপুরবাসী যদি সবাই এক হই তাহলে এটা ধরে রাখা যাবে। এই যে বদলে গেছে এটাকে ধরে রাখতে হবে।’

স্বস্তিতে স্বজনরা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, ‘আমি এক মাস আগেও এখানে ভর্তি ছিলাম। তখন ট্রলিতে টাকা নিয়েছে, ভর্তিতে নিয়েছে। ওয়ার্ডে টাকা নিয়েছে। কিন্তু আইজ আমার ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। কেউ টাকা চায় নাই।’

গাইবান্ধার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কী বলব আপনাদের? দেখেন হাসপাতাল কত পরিষ্কার। কোথাও কোনো কাগজটাগজ নাই। ময়লা নাই, বাদামের খোল্ডা (খোসা) নাই। বিচনে (বেড) রুম সব পরিষ্কার। নিচতলা থেকে ওপরতলা কেউ টাকাটোকা চাইছে না। এমন পরিবেশ থাকলে তো ভালো হয়।’

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন লিটু সরকার বলেন, ‘আমার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। ছিল সিসিইউতে। এখনকার পরিবেশ অনেক ভালো। এবার সেবা অনেক ভালো পাইছি।’

রাশেদুল মনির নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগেই এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল। তখন কোনো চিকিৎসকই এভাবে প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসেনি। যদি এভাবে চিকিৎসকরা এগিয়ে আসত, তাহলে এই হাসপাতাল বহু আগেই দালালমুক্ত হতো। মানুষ এত হয়রানি হতো না।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় জানান, ‘আমাদের আন্দোলনের কারণে এমনটা হয়েছে কি না, জানি না। আমরা চাই এই হাসপাতালে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। যে স্টেপটা নেয়া হয়েছে তাতে যেন হাসপাতালটা ভালো চলে- এই কারণে এই উদ্যোগ। এখন সবাই হেল্প করতেছে- এটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা থাকবে।'

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

হাসপাতালের পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা নিচ্ছি। উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো পরিকল্পনা। এটা আমার অবদান তা কিন্তু নয়। আমি চেষ্টা করছি মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে চেয়েছি, সেটি করছি। আমরা দেখছি জরুরি বিভাগে সমস্যা আছে, সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে এখন সব চলবে।’

তবু অভিযোগ অস্বীকার কর্মচারীদের

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. বাদল জানান, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীরা কখনও টাকা নেই নাই। আমাদের কর্তব্য আমরা করতেছি, ট্রলি ঠেলতেছি। এখন দালালটালাল নেই। কাউকে টাকা দেয়া লাগে না।’

আপনারা থাকতে টাকা কীভাবে নিয়েছে জানতে চাইলে বাদল বলেন, ‘ওরা আউটসোর্সিংয়ের কর্মী ছিল। যে যার মতো করে নিত। আমাদের উপস্থিতিতে নিত না।’

নাম প্রকাশ না করে একজন নার্স বলেন, ‘আপনি নিজেই দেখেন সিট কত আর ভর্তি কত। একবার রাউন্ডে গেলে কতজন রোগীর কাছে যেতে কত সময় লাগে। কিন্তু অনেক রোগী চায় ডাকা মাত্রই তাদের কাছে যেতে হবে। কিন্তু যার কাছে আছি বা যে রোগীর কাছে আছি তিনি কী অপরাধ করলেন? মূলত ভুল বোঝার কারণে তারা অভিযোগগুলো করে।’

আরও পড়ুন:
নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
হাসপাতালের অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One arrested in case of murder of Jubo League leader

যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, একজন গ্রেপ্তার

যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, একজন গ্রেপ্তার নিহত আলাউদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘মামলার সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাবেদ হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেছে।’

লক্ষ্মীপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় ২৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলায় জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফরিদ উদ্দিনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

সদর উপজেলার বশিকপুরে দিঘিরপাড়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই নিহত আলাউদ্দিনের ছেলে আকাশ চন্দ্রগঞ্জ থানায় এ হত্যা মামলা করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মামলার সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাবেদ হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেছে।

‘এ মামলায় জাবেদ হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।’

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর এলাকার দিঘিরপাড়ে কালভার্টের ওপর বসে মোবাইলে কথা বলছিলেন আলাউদ্দিন। হঠাৎ ৫-৬ জন মুখোশ পরে এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ সময় আলাউদ্দিন পাটোয়ারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক কমলা শীষ রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

ওসি মোসলেহ উদ্দিন জানান, নিহত আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ ও সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ২টি হত্যা মামলা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বশিকপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জিহাদী বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন:
টাকা লুট করতে বৃদ্ধ দম্পতিকে পরিকল্পিত হত্যা: এসপি
যুবককে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা
ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ বাগানে খুঁজে পেলেন মা
‘চাচার প্রতি ক্ষোভে’ চাচাতো ভাইকে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SSC question leak Two more teachers remanded

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: রিমান্ডে আরও দুই শিক্ষক

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস: রিমান্ডে আরও দুই শিক্ষক রিমান্ড আদেশের পর আমিনুর ও জোবাইরকে আদালত থেকে নেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজাহার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।’

কুড়িগ্রামে এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বরখাস্ত আরও দুই শিক্ষককে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

রোববার সকালে কুড়িগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক সুমন আলী এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারি আইনজীবী দিলরুবা আহমেদ শিখা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জোবাইর রহমান ও ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল। এর আগে গত বুধবার মামলার প্রধান আসামি একই বিদ্যালয়ের বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজাহার আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে।

‘প্রধান আসামি লুৎফর রহমান তিন দিনের রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’

আইনজীবী দিলরুবা আহমেদ বলেন, ‘আসামিরা প্রশ্ন ফাঁস করে দেশ ও জাতির ক্ষতি করেছেন। তাদের সব্বোর্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনাজপুর বোর্ডের ইংরেজি প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। এরপর ওই কেন্দ্রের সচিব লুৎফর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তার কাছে কয়েকদিনের আগাম প্রশ্নপত্র রয়েছে বলে জানান।

এদিন মধ্যরাতে ট্যাগ অফিসার ও কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী মামলা করেন।

গ্রেপ্তার হন লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান, ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক জোবাইর রহমান, কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহের চৌধুরী ও অফিস সহায়ক সুজন মিয়া। এই ঘটনার পর ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন।

এদের সবাইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দুই দিন পর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বরখাস্ত হন।

আরও পড়ুন:
পরীক্ষার হলে ফেসবুক লাইভ, ২ এসএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
‘ভূরুঙ্গামারীর ইউএনওর অবহেলায়’ এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস
প্রশ্নফাঁস: কুড়িগ্রামের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন ২ ঘণ্টা পরই
এসএসসি: দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত ৪ বিষয়ের সূচি ঘোষণা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Accused of raping a girl locked in a room and torturing another child

কক্ষে আটকে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নির্যাতন আরেক শিশুকে

কক্ষে আটকে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নির্যাতন আরেক শিশুকে প্রতীকী ছবি
আশুলিয়া থানার এসআই কাজী নাসের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই কিশোরী তাকে একাধিকবার ধর্ষণের কথা আমাদের বলেছে। তবে শিশুটি রাতে তাকে মারধরের কথা বললেও পরে অন্য রকম বলেছে। ওই দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

ঢাকার সাভারে এক কিশোরীকে কক্ষে আটকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরেক শিশুকেও আটকে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

শনিবারের এ ঘটনায় ওই দিনই গভীর রাতে উপজেলার আশুলিয়ার পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু মণ্ডল রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে মূল অভিযুক্ত মো. ইমনকে আটকের কথা জানালেও বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত করেননি তিনি।

১৫ বছর বয়সী কিশোরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বোন এখানে ভাড়া বাসায় থেকে একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করে। বৃহস্পতিবার আমি আশুলিয়ায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসি।

‘ওই দিন রাতে বাসার পাশে একটি দোকানে মোবাইলে টাকা তুলতে গেলে কৌশলে ইমন নামের এক ছেলে আমার নম্বর জেনে নেয়। পরে শনিবার রাতে সে আমাকে ফোন করে ফুসলিয়ে বাসার সামনে ডেকে নেয়। এর আগেও বোনের বাসায় এসে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরে ইমন পাশেই তার বন্ধু আশরাফুলের বাড়িতে আমাকে কৌশলে নিয়ে যায়। এ সময় আমার পাশের বাসার একটা শিশু মেয়ে সঙ্গে ছিল।’

কিশোরী আরও বলেন, ‘কক্ষে ঢোকার পর ইমনসহ তিনজন ভেতর থেকে দরজা আটকে দেয়। এ সময় তারা আমাকে ধর্ষণ করে। একই সময় আমার সঙ্গী শিশুটিকে আরেক কক্ষে আটকে রাখে আরেকজন। পরে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কক্ষের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায় তারা। আমার চিৎকারে বাসার এক ভাড়াটিয়া তালা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করে।’

১১ বছর বয়সী ওই শিশুর বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার এলাকার লোকজন আমারে ডাইকা ঘটনা বলে। পরে মাইয়া আমারে বলছে, ওরে ঘরে আটকাইয়া মারধর করছে।’

শিশুটির প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘শনিবার বিকেলে ওই কিশোরী ও শিশুর কাছে ঘটনা শুনে রাতে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। রাতেই পুলিশ বাড়ির মালিক আশরাফুল, ইমনসহ পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে যায়।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী নাসের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই কিশোরী তাকে একাধিকবার ধর্ষণের কথা আমাদের বলেছে। তবে শিশুটি রাতে তাকে মারধরের কথা বললেও পরে অন্য রকম বলেছে। ওই দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’

আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে রাতেই পাঁচজনকে থানায় নিয়ে এসেছি। এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম চলছে।’

আরও পড়ুন:
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পিটুনি
ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
বাজার কারসাজি: শীর্ষ আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two boys submitted nomination forms to fight for Sajedas seat

সাজেদার আসনে লড়তে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন দুই ছেলে

সাজেদার আসনে লড়তে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন দুই ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী ও শাহদাব আকবর চৌধুরী। ফাইল ছবি
গত ১১ সেপ্টেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা যান। ১৩ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর ভোট হবে।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ফরিদপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়তে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তার দুই ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী ও শাহদাব আকবর চৌধুরী।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ফরম জমা দেয়ার শেষ দিন শনিবার তারা ফরম জমা দেন। এ দুজনসহ ফরম জমা দিয়েছেন ১৪ জন। নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

ফরিদপুরের নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর–২ আসন। গত ১১ সেপ্টেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা যান। ১৩ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর ভোট হবে।

দলীয় মনোনয়ন প্রতাশীদের মধ্যে আয়মন আকবর সাজেদা চৌধুরীর বড় ছেলে। তিনি নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শাহাদাব আকবর সাজেদা চৌধুরীর ছোট ছেলে।

দুই ভাইয়ের বাইরে মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় এসেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল ঘোষ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য বিভিন্ন সময় সাজেদা চৌধুরীর পক্ষে ওই সংসদীয় আসনে গিয়ে কাজ করেছেন।

বিপুল ঘোষ বলেন, ‘আমি মনে করি আমি যোগ্য। এ জন্যই মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। সাজেদা চৌধুরীর দুই ছেলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদস্বরূপ প্রার্থী হয়েছি।’

সাজেদা চৌধুরীর বড় ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন মায়ের আসনে তার প্রতিনিধিত্ব করেছি। আমার সমর্থকদের ইচ্ছায় আমি দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। আমার অনুসারীদের তার (শাহদাব) নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমাকে নির্বাচন করতে হবে।’

শাহদাব আকবর চৌধুরী বলেন, ‘পারিবারিকভাবে সবাই আমাকেই সমর্থন দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রতীক দেবেন।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান জুয়েল, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মেজর (অব.) আতমা হালিম ও সাব্বির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চর যশোহরদী ইউনিয়নের আবু ইউসুফ মিয়া, জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক আবদুস সোবহান, বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এয়ার কমোডর (অব.) নগরকান্দার শশা গ্রামের বাসিন্দা কাজী দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান ও নগরকান্দা সদরের চৌমুখা মহল্লার বাসিন্দা কালাচাঁদ চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন:
সাজেদা চৌধুরীর আসনে ভোট হবে ইভিএমে
সাজেদা চৌধুরীর আসন শূন্য ঘোষণা
বনানীতে শেষ শয্যায় সাজেদা চৌধুরী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Truck overturned and killed 4 on the sidewalk

ট্রাক উল্টে বাজারে, নিহত ৪

ট্রাক উল্টে বাজারে, নিহত ৪ রায়পুরায় ট্রাক উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একটি গ্যাস পাম্প থেকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা গ্যাস নিয়ে রায়পুরার বারৈচারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ভৈরবগামী একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশেই থাকা একটি বাজারে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আরও দুজন।

নরসিংদীর রায়পুরায় উল্টে যাওয়া ট্রাকের চাপায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত আরও পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকার একটি বাজারে রোববার সকালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একটি গ্যাস পাম্প থেকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা গ্যাস নিয়ে রায়পুরার বারৈচারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি বাজারে উল্টে যায়।

এতে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আরও দুজন। আহত আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ও ভৈরবের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন উপজেলার মাহমুদাবাদ মেশিনঘর এলাকার আলাউদ্দিন মিয়া ছেলে সিদ্দিক মিয়া, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে মো. সিদ্দিক মিয়া, বেলাব উপজেলার পুরাদিয়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবুল কালাম (অটোরিকশার যাত্রী)। তাৎক্ষণিক অপর নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পিলারে বাইকের ধাক্কায় গেল ২ যুবকের প্রাণ
দোকানে ঢুকে পড়ল অ্যাম্বুলেন্স, নৈশপ্রহরী নিহত
কুষ্টিয়ায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
ট্রাক কেড়ে নিল স্বামী-স্ত্রীর প্রাণ
পিকআপের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে পড়ে চাকায় পিষ্ট

মন্তব্য

p
উপরে