× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
What will happen to the 4000 workers in the hills after the project?
hear-news
player
google_news print-icon

প্রকল্প শেষে কী হবে পাহাড়ের ৪ হাজার কর্মীর

প্রকল্প-শেষে-কী-হবে-পাহাড়ের-৪-হাজার-কর্মীর
টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো না হলে পার্বত্য অঞ্চলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে বলে মনে করেন এ এলাকার মানুষ। তাছাড়া প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৪ হাজার ৮০০ পাড়াকর্মীর ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান’ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষ হচ্ছে। এরপর প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত পাড়াকেন্দ্রের পাড়াকর্মী, অত্যাবশ্যকীয় জনবল, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ভাগ্যে কী হবে– এ নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।

প্রকল্পটি স্থায়ী করতে চান পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ। এটি চালু রাখা হলে পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হতে পারবে বলে তারা আশা করছেন। মেয়াদ বাড়ানো না হলে পার্বত্য অঞ্চলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়বে বলে তারা মনে করেন।

এটির দ্বিতীয় পর্যায়ে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য উন্নয়ন বোর্ডের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইয়াছিনুল হক।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, প্রকল্পটিতে পাঁচ বছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ ৩৫০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং দাতা সংস্থা ইউনিসেফ থেকে ১২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকদের সম্মানীর পেছনে প্রতি মাসে খরচ ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা; ২৩৯ জন কর্মকর্তার বেতন বাবদ প্রতি মাসে ব্যয় ৬২ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ১ এপ্রিল প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৩০ জুন এর মেয়াদ শেষ হবে। তখন এর আওতায় পরিচালিত ৪ হাজার ৮০০ পাড়াকেন্দ্রে নিযুক্ত ৪ হাজার ৮০০ পাড়াকর্মী, ২৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে। অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে নিবেদিত হয়ে কাজ করা মানুষগুলো।

প্রকল্পসূত্রে জানা গেছে, আশির দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পার্বত্য অঞ্চলের মা ও শিশুদের কল্যাণের জন্য সেবামুলক কর্মসুচি গ্রহণ করা হয়। এই জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বৃত্তিমুলক প্রশিক্ষণ, আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আয়বৃদ্ধি এবং শিক্ষার হার সম্প্রসারণ ছিল প্রধান লক্ষ্য।

নব্বই দশকের শেষের দিকে ‘সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়’ নাম দিয়ে ২৫ থেকে ৫০টি পরিবারের জন্য একটি পাড়াকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সামাজিক সেবা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়।

ওই নামে প্রকল্পটি ২০১১ সাল পর্যন্ত চলে। প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলার ২৫টি উপজেলায় ৩ হাজার ৫০০টি পাড়াকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিটি পাড়াকেন্দ্রে একজন পাড়াকর্মী নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মা ও শিশুদের টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করা, বিশুদ্ধ পানি পান, গর্ভ ও প্রসবকালীন সেবা ও পরামর্শ দেয়া, স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃব্যবস্থাপনা, জন্ম নিবন্ধন, কম্যুনিটির সক্ষমতা বাড়ানো, কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন এসব বিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

২০১২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প তৃতীয় পর্যায় নাম দিয়ে আগের কার্যক্রমই চালু রাখা হয়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়।

ওই সময় প্রকল্পে আরও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়। পার্বত্য তিন জেলার ১১৮টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬১৬টি গ্রামে ১ লাখ ৬০ হাজার পরিবারের মধ্যে মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। পাড়াকেন্দ্রগুলোকে সব ধরনের মৌলিক সেবা বিতরণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় নির্মিত ৪ হাজারতম পাড়াকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেছিলেন।

এখন এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, এর সঙ্গে জড়িতদের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।

এসব বিষয়ে কথা হয় বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের তন্ন্যছড়ি (২) মডেল পাড়াকেন্দ্রের পাড়াকর্মী পহেলী চাকমা সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তথ্যটি শোনার পর থেকে চিন্তা করছি পাড়াকেন্দ্রে পড়ুয়া শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে। কারণ পাড়াকেন্দ্রে এসে তারা যে শিক্ষাগুলো পায় তা প্রাথমিকে গেলে তা পায় না।

‘শিক্ষার পাশাপাশি পাড়াকেন্দ্রে গান, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি, নানা রকম খেলাধুলায় মাতিয়ে রাখা হয় শিশুদের। এ ছাড়া বর্ণমালা পরিচিতি, সংখ্যা শেখানো, সহজ শব্দ গঠনও শিখতে পারে শিশুরা। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গর্ভবতী মা, প্রসুতি মা ও কিশোর-কিশোরীদের মাঝে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হয়।’

প্রকল্প শেষে কী হবে পাহাড়ের ৪ হাজার কর্মীর

সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের কুমড়া পাড়া কেন্দ্রের পাড়াকর্মী জিতা চাকমা বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে পাড়াকেন্দ্রে যে শিশুরা পড়াশোনা করে, তারা আর শিখতে পারবে না। পাড়াকেন্দ্রে পড়তে এসে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটে। তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা পাড়াকেন্দ্রে পড়ার সুযোগ হওয়াতেই প্রাথমিকে গেলে তারা সহজে সবকিছু আয়ত্তে আনতে পারে।’

অন্যদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের কার্যক্রম চালু রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে একটি স্বতন্ত্র শাখা চালু এবং অত্যাবশ্যকীয় সম্পদ ও জনবল রাজস্বখাতে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ৮৫ কোটি টাকার বার্ষিক বরাদ্দ দেয়ার একটি সুপারিশ পরিকল্পনা কমিশন দিয়েছে। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখনও মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রস্তাব পাঠায়নি বা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ চালাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। আশা রাখি প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়তে পারে।’

এই প্রকল্পের স্থায়িত্ব সবাই চায় বলে মন্তব্য করছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়ন, নারী ও শিশুদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য এটি একটি জনবান্ধব প্রকল্প। পাড়াকর্মী, মাঠ সংগঠক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিরলসভাবে দক্ষতা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা-ভাঙ্গা রেল সংযোগের কাজ এগিয়েছে ৬১ ভাগ: রেলমন্ত্রী
উপজেলা প্রশাসনেও ব্যয়ের সীমা বেঁধে দিল সরকার
এবার কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প স্থগিত
আশ্রয়ণের ৮ ঘরের পিলার ভাঙচুর, মামলা
অর্ধেকে এসে থেমে গেছে উন্নয়নকাজ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Zabir Mahfuz is the champion of Nutrition Olympiad

নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন জবির মাহফুজ

নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন জবির মাহফুজ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন জবির মাহফুজ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
পুরো অলিম্পিয়াডে ১৫টি প্রতিযোগিতায় অফলাইন ও অনলাইন মিলিয়ে ২৫ হাজার জন বাছাই পর্বে অংশ নেন। এর মধ্যে ‘আমি কী করতে পারি (অ্যাকশন ট্রি) ক্যাটাগরিতে ১৭ জন ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হন।  ক্যাটাগরির বিষয়বস্তু ছিল ‘খাদ্য অপচয় রোধে আমার ভূমিকা’।

তরুণদের নেতৃত্বে খাদ্য ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ আইসিটি ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মাহফুজ রহমান।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অলিম্পিয়াডে ‘আমি কী করতে পারি (অ্যাকশন ট্রি)’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হোন মাহফুজ।

১ ও ২ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই অলিম্পিয়াড শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কিশোর-কিশোরী এবং তরুণদের অংশগ্রহণে, নেতৃত্বে ও উদ্যোগে আয়োজিত পুষ্টিবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরমের অনেকেই অংশ নেন এতে।

পুরো অলিম্পিয়াডে ১৫টি প্রতিযোগিতায় অফলাইন ও অনলাইন মিলিয়ে ২৫ হাজার জন বাছাই পর্বে অংশ নেন। এর মধ্যে ‘আমি কী করতে পারি (অ্যাকশন ট্রি) ক্যাটাগরিতে ১৭ জন ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হন। ক্যাটাগরির বিষয়বস্তু ছিল ‘খাদ্য অপচয় রোধে আমার ভূমিকা’।

পুষ্টি নীতিমালা প্রণয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ, দক্ষ খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তরুণ উদ্যোক্তা, সকলের জন্য স্কুলে খাবার নিশ্চিত করা, সবার জন্য নিরাপদ স্ট্রিট ফুড এই ৪টি বিষয়ে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অলিম্পিয়াডটি উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বিজয়ী মাহফুজ রহমানকে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি পুরস্কার বিতরণী এবং সমাপনী আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাহফুজ জানান, তিনি খুব আনন্দিত এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে। সে সঙ্গে বিজয়ী হতে পেরে। ভবিষ্যতে খাবার ও পুষ্টি নিয়ে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

অলিম্পিয়াডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান প্রযুক্তিসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির ছেলের গাড়িচালককে মারধর মামলার প্রতিবেদন জমা পড়েনি
জবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি: মামলায় আসামি ৩
সাংবাদিকদের হুমকি, জবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি
পারিশার ফোনটি ৪ হাজারে বিক্রি
পদ্মার ট্রেন জবির নতুন ক্যাম্পাসে থামবে কি না

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Education Ministers importance in meditation

ধ্যানে গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

ধ্যানে গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর ধ্যানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ফাইল ছবি
‘লক্ষ্য স্থির করে জীবনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, শুদ্ধাচার চর্চার জন্য, অর্থাৎ যা কিছু আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে দেবে, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে এবং একটা উন্নত, সুখি সমৃদ্ধ জীবন দিতে পারবে তার সব কিছু অর্জনের পথে ধ্যান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে যে অসততা, অন্যয়, অস্থিরতা, নেতিবাচকতা রয়েছে তা দূর করতে ধ্যান চর্চা দরকার।’

দেশের প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীর ধ্যান চর্চায় অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে সমাজে সৎ, সাহসী, আশাবাদী, সহমর্মী ও ইতিবাচক মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

সোমবার রাজধানীর আইডিইবি ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোস্ট-কোভিড টোটাল ফিটনেস কর্মসূচি উদ্বোধনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ধ্যানে গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোস্ট-কোভিড টোটাল ফিটনেস কর্মসূচি উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। নিউজবাংলা

প্রধান অতিথি দীপু মনি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা মানবিক মূল্যবোধগুলোর চর্চা করে আলোকিত মানুষ হোক। ধর্মচর্চা ও আত্মিক উন্নয়নে ধ্যান গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য, সকল হতাশা-নেতিবাচকতা দূর করার জন্য, সকল আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ার জন্য ধ্যান বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

‘লক্ষ্য স্থির করে জীবনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, শুদ্ধাচার চর্চার জন্য, অর্থাৎ যা কিছু আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে দেবে, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে এবং একটা উন্নত, সুখি সমৃদ্ধ জীবন দিতে পারবে তার সব কিছু অর্জনের পথে ধ্যান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে যে অসততা, অন্যয়, অস্থিরতা, নেতিবাচকতা রয়েছে তা দূর করতে ধ্যান চর্চা দরকার।’

শিক্ষার্থীদের ধ্যান চর্চার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন চর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দৈহিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে সুস্থ ও সবল করে তোলা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

‘শিক্ষার্থীদের আমরা বিজ্ঞান মনস্ক, প্রযুক্তি-বান্ধব, উদ্ভাবনে দক্ষ, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। আমাদের এ প্রয়াসের সাফল্যে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে ধ্যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টোটাল ফিটনেস কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমি আশা করবো সবার মধ্যে ধ্যানের চর্চাটা ছড়িয়ে দিতে।’

মনোচিকিৎসক ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ফরহাদুল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো ওমর ফারুকসহ কর্মকর্তারা।

ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টোটাল ফিটনেস প্রোগ্রামের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্তমানে যে হতাশা, অস্থিরতা, মাদকাসক্তি, ডিজিটাল আসক্তি, অসহিষ্ণুতা এমনকি আত্মহননের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা নিরসনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি অভিমত দেন।

আরও পড়ুন:
নিজ ক্লাসের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
ধর্ম শিক্ষা বাদ দেয়ার খবরটি গুজব: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে আমূল পরিবর্তন
শিক্ষার্থীরা এবার বেশি এনার্জি নিয়ে পড়তে পারবে: শিক্ষামন্ত্রী
নতুন শিক্ষাক্রমে সপ্তাহ হবে ৫ দিনে: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Talukdar Sabbir left BITM

বিআইটিএম ছাড়লেন তালুকদার সাব্বির

বিআইটিএম ছাড়লেন তালুকদার সাব্বির
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১২ সাল থেকে বিআইটিএম দেশের আইটি সেবা খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করে আসছে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির অন্যতম প্রতিষ্ঠান বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (বিআইটিএম)-এর প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তালুকদার মোহাম্মদ সাব্বির অব্যাহতি নিয়েছেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১২ সাল থেকে বিআইটিএম দেশের আইটি সেবা খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করে আসছে। তারও আগে ২০১০ থেকে জনাব সাব্বির বেসিস এবং বিআইটিএমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে ভাবে কাজ করেছেন।

এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৫০ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

তালুকদার মোহাম্মদ সাব্বির প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ত্ব গ্রহণের পূর্বে বেসিস এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং এডিবির অর্থায়নে বেসিস-এসইআইপি প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ছয় বছর সফলতার দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই প্রকল্পের আওতায় বেসিস ৩০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন যার ভেতরে ৬৫ শতাংশের বেশি প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কর্মরত রয়েছেন।

তালুকদার মোহাম্মদ সাব্বির গত কয়েকবছরে একাধিক প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়ছেন বিনিয়োগকারী হিসেবে, গড়ে তুলেছেন গ্রিন গ্রোসারি নামে ডিটুসি ইকমার্স।

এখন থেকে নিজের প্রতিষ্ঠানেই সময় দেবেন বলে জানান তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Trade license is valid for five years to facilitate business

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন।

দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে যারা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য ভালো খবর আসছে।

ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন। স্থানীয় সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও প্রভাবশালী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এমসিসিআই) ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালায়ের কাছে লিখিত প্রস্তাব করে। একই সঙ্গে এর অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করছে সরকার।

যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর একটি হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তর জড়িত। আমি মনে করি, ব্যবসা সহজীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আশা করছি তারাও ইতিবাচক হবে।’

ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা-বাণিজ্য করার অনুমতিপত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন এর অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যবসা করতে হলে ট্রেড লাইনেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এটি দেয়া হয়।

বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদনের কয়েকটি ধাপ আছে। আইনে আবেদন করার সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর অনুমোদন দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। ঘুষ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স মেলেন– এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আগে সনাতনি প্রথায় ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হতো। এখন অনলাইনে করা যায়। তবে অটোমেশন করার পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবেশি ভারতসহ অনেক দেশ এক ধাপে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। বাংলাদেশে এখনও সাত থেকে আট ধাপ লাগে।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশেও এটি চালু করা যেতে পারে।’

ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট’ বা বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘সিটি করপোরশন এবং মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্সেশন আইনে ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য দিতে কোনো বাধা নেই।’

বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক সবশেষ প্রতিবেদনে ব্যবসা সহজীকরণে বাংলাদেশের আট ধাপ এগোনোর কথা উল্লেখ করা হলেও সার্বিক বিবেচনায় অগ্রগতি বলা যায় না। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখনও পেছনের সারিতে রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শুধু আফগানিস্তান থেকে এগিয়ে।

তবে ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন এখন আর করছে না বিশ্বব্যাংক।

বিল্ড বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ট্রেড লেইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করার যে প্রস্তাব তারা করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেছে। এটি এখন কার্যকরের অপেক্ষায়।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সামস মাহমুদ জানান, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ একবারে পাঁচ বছর করলে ব্যবসা আরও সহজ হবে। এতে করে হয়রানি কমবে। স্পিড মানি ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স হয় না– এ কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের পক্ষে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জোগাড় করা সম্ভব হয় না। এ জন্য লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে হয়রানির স্বীকার হন। ফলে যারা ব্যবসা শুরু করতে চান, তারা নিরুৎসাহিত হন।’

আরও পড়ুন:
আরও দুই মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত
যারা নিয়ম মানবে তারা মদের লাইসেন্স পাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিধিমালা নেই, তাই লাইসেন্স বাতিলের ভয়ও নেই চালকের
চার মাসের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে অপেক্ষার শেষ নেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Napier is a multi billion dollar business

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে বলছে উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

এক সময়ের অনাবাদি কিংবা সড়কের পাশের পতিত জমিও এখন দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সবই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে আধুনিক বা বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদের কল্যাণে। এই বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুরে।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, নেপিয়ার ঘাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে; যাকে আশ্রয় করে ২৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বছরে অর্থনৈতিক লেনদেন হয় অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

তাদের একজন হলেন বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর এলাকায় বাসিন্দা আপেল মাহমুদ। ৭ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা ১৭ হাজার টাকা করে ইজারা নিয়ে কাঠমিস্ত্রী পেশা ছেড়ে এখন পুরোদমে খামারি হয়েছেন। ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালনের পাশাপাশি ঘাস চাষকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন।

নিজের এলাকার মহিপুর বাজারে এক স্কুল মাঠে প্রতিদিন বেলা তিনটার দিকে ঘাসের হাট বসে; সেখানে বছরের প্রায় প্রতিদিন ঘাস বিক্রি করেন ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক।

সম্প্রতি এই হাটে ঘাস বিক্রি করতে করতে আপেলের সঙ্গে আলাপ হয়। জানান, আট থেকে দশ বছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এই কাজ করে সংসার চলে কিন্তু প্রশান্তি মেলে না। এক সময় এমন চিন্তা থেকেই পেশা বদল করেছেন। জমানো টাকা দিয়ে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে শুরু করলেন ঘাস চাষ। বছর শেষে প্রায় ২ লাখ টাকার ঘাস বিক্রি করেন এই জমি থেকেই।

লাভের দিক বিবেচনায় নিয়ে এরপর আপেল মাহমুদ ফ্রিজিয়ান জাতের পাঁচটি গরু পালন শুরু করেন। গত পাঁচ বছর ধরে এভাবেই তিনি ঘাস চাষ আর গরু পালন করছেন। ঘাস চাষের জমির পরিধি বেড়ে ৭ বিঘায় এসেছে। জীবনযাপনের জন্য প্রথমে ঘাস চাষ শুরু করলেও আপেল এখন এটিকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন; যেখানে খামারের গরুর জন্য ঘাস চাষও হচ্ছে, একই সঙ্গে অন্যদের গরুর প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আপেলের মতে, এক সঙ্গে গরু পালন আর ঘাস চাষের মধ্যে খামারিদের ব্যাপক সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শুধু শেরপুর উপজেলায় গরু পালনের অন্তত ২ হাজার জন খামারি রয়েছেন। এখানে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি গরু রয়েছে। শুধু উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া এই তথ্য বলছে, প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে অন্তত দেড় লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। খামারিরা এখন রেডি ফিডের চেয়ে ঘাস খাওয়ানোই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপজেলায় অন্তত ২ হাজার একর জমিতে এবার ঘাষ চাষের অন্যতম কারণ এটিও।

তবে ঘাষ চাষের তাৎপর্য নিয়ে বহুমুখী ব্যাখ্যা রয়েছে কৃষকদের কাছেই। মহিপুরের জামতলা গ্রামের চাষী মো. হেলাল হোসেন প্রতি বছরই ২ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন।

চাষের কারণ জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক। এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করতে এখন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। বিপরীতে ঘাস বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার। একই সঙ্গে ঘাস চাষে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা নেই। ঝুঁকি নেই বললেই চলে। শ্রমিক খরচ কম। কম শ্রম দেয়া লাগে। চাহিদাও ভালো। সব দিক থেকেই অন্য ফসলের চেয়ে ঘাস চাষ লাভজনক।’

গাড়িদহ এলাকার আব্দুল হামিদ ১৮ বছর ধরে ৪ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করছেন। তিনি জানান, আগের চেয়ে নেপিয়ার ঘাসের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। পতিত ধরনের জমিতে অন্য কিছু চাষাবাদ করা যায় না বলে তিনি সেখানে ঘাস চাষ করেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে ঘাস চাষের পরিসর আরও বাড়ানোর লক্ষ্য তার।

শেরপুরের উলিপুরের বাসিন্দা আব্দুস সালাম ঘাসের ব্যবসা করেন। মহিপুর বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে ঘাস কিনে খামারিদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এ ঘাস বিভিন্ন আকারের আটি বেঁধে বিক্রয় করা হয়। ১০ থেকে শুরু করে ৪০ টাকা দামের আটি বিক্রয় করেন ব্যবসায়ীরা।

এই ব্যবসায়ীর অবশ্য ফ্রিজিয়ান জাতের ৬টি গরু রয়েছে। জানান, শেরপুরে ঘাস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অনেক লম্বা একটি চেইন গড়ে উঠেছে। অন্তত ২০০ মানুষ সরাসরি এই ঘাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন।

চাহিদার প্রেক্ষাপটে জেলাজুড়ে ঘাস চাষও বাড়ছে। বগুড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, জেলাজুড়ে ঘাস চাষের চাহিদা বাড়ছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে জেলায় ৫৭৫ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরে ৪৪৮ একর জমিতে ঘাস চাষ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১২৭ একর জমিতে ঘাস চাষ বেড়েছে।

নেপিয়ার ঘাসে শতকোটির ব্যবসা

শেরপুরের মহিপুরের আব্দুর রশিদ প্রতিদিন ১০টি গরুর জন্য ১ হাজার থেকে ১২ শ টাকার ঘাস কেনেন। ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি ওজনের একটি গাভীকে দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হয়।

এই খামারি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে গরুর ফিডের দাম কম ছিল। কিন্তু এখন বেড়েছে। ফিড খাওয়ালে খরচ বেশি হয়।’ এই কারণে ঘাস কিনে খাওয়ান তিনি। ঘাসের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করেন এই প্রবীণ খামারি।

এখন গরুর ফিডের কাঁচামালও আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বেড়েছে সব পণ্যের। তবে অন্য খাবারের চেয়ে গরু-মুরগীর ফিডের দাম অনেক বেড়েছে বলে জানান খামারিরা। ফলে স্বভাবতই ঘাসের দিকে আরও বেশি করে ঝুঁকছেন তারা।

গো-খাদ্যের দামের সংকটের কারণে ঘাস চাষের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে বলে মনে করেন শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘাস হচ্ছে গো-খাদ্যের প্রাকৃতিক উপাদান। সুষম খাদ্যের সব উপাদান রয়েছে ঘাসের মধ্যে। গরু-মহিষের দুধ, মাংস উৎপাদনের উপকরণ তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে প্রাকৃতিক ঘাস। বিভিন্ন গবেষণাতেও পাওয়া গেছে, দানাদার ফিডের চেয়ে ঘাস গো-খাদ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারি।’

তিনি আরও বলেন, গরু-মহিষের প্রজননের জন্য যে হরমোন দায়ী তার নাম ইস্ট্রোজেন (Estrogen) । ঘাস এই হরমোন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। ফলে গরু বা মহিষকে ঘাস খাওয়ালে তার প্রজনন ক্ষমতাও বাড়ে। এই কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষকদের ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। ঘাসের বীজ, প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফল এখন আমরা পাচ্ছি।’

এই উপজেলা থেকে প্রতি বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ঘাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব ঘাস এই উপজেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য উপজেলার সংকটও মেটাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রাণিসম্পদ এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগ
ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে উৎসব
নারী উদ্যোক্তাদের অনলাইন পণ্যমেলা
‘বিশেষ সুবিধা নয়, বাজেটে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই’
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রিপেইড কার্ড চালু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Announcing the 5th Basis National ICT Award

পঞ্চম বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি পুরস্কারের ঘোষণা

পঞ্চম বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি পুরস্কারের ঘোষণা বেসিস আইসিটি পুরস্কার আয়োজনের সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি রাসেল টি আহমেদসহ অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘এবারের আয়োজনে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কার্যকরী প্রকল্পগুলোকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। পুরস্কৃত সেরা প্রকল্পগুলো বরাবরের মতো অ্যাপিকটায় অংশ নেবে।’

দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতের জাতীয় বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) পঞ্চমবারের মতো আয়োজন করছে ‘বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২২’।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবনীমূলক পণ্য ও সেবা প্রকল্পকে স্বীকৃতি দিতে এবারের আসরে ৩৬টি ক্যাটাগরিতে ১০৮টি পুরস্কার দেয়া হবে।

পুরস্কার প্রাপ্ত সেরা প্রকল্পগুলো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অস্কার হিসেবে খ্যাত অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

মঙ্গলবার বেসিস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ডসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://bnia.basis.org.bd) এ গিয়ে আগ্রহীদের নিবন্ধন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিবন্ধন করা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘এই পুরস্কারের মাধ্যমে আমরা সারা দেশের উদ্ভাবনী ও সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা বাছাই করি। তাদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান করার লক্ষ্যে পুরস্কার দেয়া হয়। এসব পণ্য ও সেবা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা প্রকাশ করে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের আয়োজনে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কার্যকরী প্রকল্পগুলোকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। পুরস্কৃত সেরা প্রকল্পগুলো বরাবরের মতো অ্যাপিকটায় অংশ নেবে।’

এবারের আয়োজনের আহ্বায়ক ও বেসিস অ্যাডভাইজরি স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি এম রাশিদুল হাসান বলেন, ‘বিগত চারটি বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ডসের তুলনায় এবছর আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। আশাকরি এবারের পুরস্কৃত পণ্য ও সেবাগুলো অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডসেও আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি পুরস্কৃত হবে এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিস সহ-সভাপতি শাহ ইমরাউল কায়ীশ, সহ-সভাপতি উত্তম কুমার পাল, বেসিস পরিচালক তানভীর হোসেন খান।

এবারের আসরের প্রধান বিচারক থাকবেন বেসিস প্রেসিডেন্টস অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ এইচ কাফি ও সহ-আহ্বায়ক বেসিস অ্যাডভাইজরি স্থায়ী কমিটির সদস্য লিয়াকত হোসেন।

আরও পড়ুন:
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজেট আশানুরূপ নয়: বেসিস
লুনা শামসুদ্দোহা পুরস্কার চালু করছে বেসিস
মন্ত্রণালয়গুলোতে সফটওয়্যার ও আইটিইএস কেনায় নির্দিষ্ট বরাদ্দের দাবি বেসিসের
বেসিসের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা বিআইটিপিএফসির
বেসিসের নতুন সভাপতি রাসেল টি আহমেদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Recommendations to increase financing for water and sanitation to achieve SDG 6

এসডিজি-৬ অর্জনে পানি ও স্যানিটেশনে অর্থায়ন বাড়ানোর পরামর্শ

এসডিজি-৬ অর্জনে পানি ও স্যানিটেশনে অর্থায়ন বাড়ানোর পরামর্শ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার মিলনায়তনে ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশান ইমপ্রুভ স্যানিটেশন অ্যান্ড হেলথ বা ‘ফিনিশ মনডিয়াল’ আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
বক্তারা জানিয়েছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৬ অর্জনে দরকার স্যানিটেশন খাতে অর্থায়নের উপায় খুঁজে বের করা। এভাবে ওয়াশ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বা এসএমই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি।

খোলা টয়লেট বা উন্মুক্ত স্থানে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে উন্মুক্ত স্থান বা খোলা টয়লেট ব্যবহার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্যানিটেশন র‌্যাংঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে অনেক চ্যালেঞ্জ।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার মিলনায়তনে ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশান ইমপ্রুভ স্যানিটেশন অ্যান্ড হেলথ বা ‘ফিনিশ মনডিয়াল’ আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

‘বাংলাদেশে পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ) খাতে অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ’ নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিনিশ মনডিয়ালের পরামর্শক ওয়াহিদা আনজুম, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ইমপ্যাক্ট বিজনেস প্রধান শুভাসিস বড়ুয়া এবং কর্ড এইডের আবুল কালাম আজাদ।

ফিনিশ মনডিয়ালের সুপারভাইজারি বোর্ড এবং পিকেএসএফের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. ফজলুল কাদেরের সভাপতিত্বে আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে অনেক লক্ষ্য অর্জন করা যেতে পারে। এভাবে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ওয়াশ খাতে উন্নয়ন সম্ভব।

তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৬ অর্জনে দরকার স্যানিটেশন খাতে অর্থায়নের উপায় খুঁজে বের করা। এভাবে ওয়াশ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বা এসএমই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি।

প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফোলকের্ট ডি জাগের, বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থনীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার মোর্শেদ মিল্লাত, ফিনিশ মনডিয়ালের কান্ট্রি সমন্বয়ক মাহবুল ইসলামসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত ওয়াশ সেবা পারে বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে। তাই এ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় অবশ্যই বিশেষ সুযোগ থাকা উচিত, যাতে প্রয়োজন অনুসারে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দেয়া যায়। এভাবে ট্রাডিশনাল বা আগের পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে পানি ও স্যানিটেশন, অর্থাৎ ওয়াশ খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করেন তারা।

ফিনিশ মনডিয়াল হচ্ছে ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশান ইমপ্রুভ স্যানিটেশন অ্যান্ড হেলথ বা ফিনিশ মনডিয়াল হচ্ছে নেদারল্যান্ডস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে অপচয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বিনা মূল্যে গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ দেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সঙ্গে দেবে ভাতা
বদলে গেছে পদ্মা সেতুতে জমি হারানোদের জীবনও

মন্তব্য

p
উপরে