× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
What is Dr Yunus at the inauguration of the Padma Bridge?
hear-news
player
print-icon

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে ড. ইউনূস কি থাকছেন

পদ্মা-সেতুর-উদ্বোধনে-ড-ইউনূস-কি-থাকছেন
সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসের কাছে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
আগামী শনিবার দেশের বৃহত্তম এই সেতুটি উদ্বোধন করা হবে। সেখানে ড. ইউনূস যাবেন কি না জানতে চাইলে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপর হয়তো সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।’

পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাবেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করবেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূস।

তার প্রতিষ্ঠান ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ এ তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

গত বুধবার সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে ইউনূসের কাছে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেয়া হয়। লামিয়া মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছি।’

আগামী শনিবার দেশের বৃহত্তম এই সেতুটি উদ্বোধন করা হবে। সেখানে ড. ইউনূস যাবেন কি না জানতে চাইলে লামিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপর হয়তো সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।’

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই মুহূর্তে দেশে আছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন লামিয়া মোর্শেদ।

ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হলেও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো আমন্ত্রণপত্র পাঠায়নি সরকার। তবে দলটির সাত নেতাকে দলের পক্ষে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সেতু বিভাগ। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সেখানে যাবেন না।

সেতু বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক। পাশাপাশি সেতু নির্মাণে কাজ করা বিদেশি কর্মীদেরও থাকতে বলা হয়েছে।

ইউনূসকে সেতু উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানালেও গত কয়েক দিনে তার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে এবং এই সেতু নিয়ে নানা সময় নেতিবাচক মন্তব্য করার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সেতুতে নিয়ে টুস করে ফেলে দেয়ার কথা বলে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছেন সরকারপ্রধান। এই মন্তব্যের কারণে বিএনপি বিক্ষোভও করেছে।

সরকারপ্রধান বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূসসহ বেশ কয়েকজন ষড়যন্ত্রে জড়িত।

তবে সেতু উদ্বোধনের তিন দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছেন, তাদের প্রতি তিনি আর কোনো রাগ পুষে নেই। তারা নিজে থেকেই একদিন উপলব্ধি করবে বলে আশাবাদী তিনি।

ড. ইউনূসকে নিয়ে কী অভিযোগ

পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার শুরু থেকেই তুমুল আলোচনা হচ্ছে। প্রথমে সেতুর অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ যোগাযোগ করে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে। পাশাপাশি আইডিবি, এডিবি ও জাইকারও কিছু সহযোগিতা থাকার কথা ছিল।

তবে সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক নানা বক্তব্য দেয়ার পর ২০১৩ সালে এই সেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়।

শুরু থেকেই সরকার এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে আসছিল। দাতারা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর অভিযোগ করা হয়, সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তের পেছনে ড. ইউনূসের হাত আছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পদ ছাড়তে বলা হয় তার বয়স ৬০ অতিক্রম করায়। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালান। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ফোন করে ইউনূসের পক্ষে সুপারিশ করেন বলে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সরকারের অভিযোগ, সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে তদবির করিয়ে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করানো হয়।

গত ১৮ মে আওয়ামী লীগের এক আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তর বক্তব্য রাখেন সরকারপ্রধান।

সেদিন তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করাল ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে, ইমেরিটাস উপদেষ্টা হিসেবে থাকার জন্য, আরও উচ্চ মানের। কিন্তু সেখানে সে থাকবে না। তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না।

‘ড. ইউনূস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। কিন্তু কোর্ট আর যাই পারুক, তার বয়স তো কমিয়ে দিতে পারবে না ১০ বছর। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তখন তার বয়স ৭১ বছর। বয়সটা কমাবে কীভাবে। মামলায় সে হেরে যায়।’

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের হাত ছিল বলেও সেদিন অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম। তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ই-মেইল পাঠায়। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিস্টার জোয়েলিক তার শেষ কর্মদিবসে কোনো বোর্ডসভায় না, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।’

সেদিন ড. ইউনূসকে পদ্মা নদীতে নিয়ে চুবনি দেয়ার কথাও বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যিনি (ড. ইউনূস) এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দুটি চুবনি দিয়ে উঠিয়ে নেয়া উচিত, মরে যাতে না যায়। পদ্মা নদীতে দুটি চুবনি দিয়ে সেতুতে উঠিয়া নেয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।’

এই বক্তব্যের পরদিন মাহফুজ আনাম অবশ্য তার পত্রিকায় একটি বক্তব্য ছাপান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, আমি এ ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে কখনো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাইনি, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাইনি, কখনও হিলারি ক্লিনটনকে কোনো ই-মেইল পাঠাইনি, ওয়াশিংটনে বা বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় বা শহরে পদ্মা সেতুর অর্থায়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক বা যোগাযোগ করিনি। বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমার বিষয়ে করা মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর আলোকচ্ছটা প্রবাসেও
সেতুতে নিষ্প্রাণ হওয়ার পথে পদ্মার ফেরি-লঞ্চঘাট
আমন্ত্রণপত্র পাননি খালেদা, গ্রহণ ইউনূসের
কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত র‍্যাব

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
People will not suffer with electricity Rizvi

বিদ্যুৎ নিয়ে যন্ত্রণা সহ্য করবে না জনগণ: রিজভী

বিদ্যুৎ নিয়ে যন্ত্রণা সহ্য করবে না জনগণ: রিজভী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা
‘প্রধানমন্ত্রীর সব কথা দ্বিচারিতামূলক। তিনি নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। তাহলে লোডশেডিং কেন? …আপনি উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করে যে টাকা পাচার করেছেন তার কুফল মানুষ এখন ভোগ করছে। বিদ্যুৎ খাতে জনগণের ভর্তুকির টাকা হরিলুট করা হয়েছে। বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসে নয়-ছয় হয়েছে। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনে নজর দেয়নি।’

কোথায় আপনার বিদ্যুৎ? আপনাকে দেশবাসী আর সহ্য করবে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এই বক্তব্য রেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সব কথা দ্বিচারিতামূলক। তিনি নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। তাহলে লোডশেডিং কেন?’

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন রিজভী।

চলতি মাসের শুরু থেকে দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতির পর পর সরকারকে আক্রমণ করছে বিএনপি। তাদের দাবি, সরকার গত এক যুগে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে গর্ব করলেও আসলে এই খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি।

অন্যদিকে দলটির সবশেষ শাসনামলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল সাল পর্যন্ত বিদ্যুতের করুণ চিত্র তুলে ধরে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির লজ্জা থাকলে লোডশেডিং নিয়ে কথা বলত না।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করেছে। এই সময়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা প্রকল্পের সুফলও পেয়েছে দেশ। এক যুগে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ছয় গুণের বেশি বেড়েছে, উৎপাদনও বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিদ্যুতের আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়।

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বরাবর গর্ব করে থাকেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পর দেশে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তরল গ্যাস বা এলএনজি আপাতত আমদানি করা হবে না। গ্যাসের ঘাটতিজনিত উৎপাদনের যে সংকট সেটি সমাধান করা হবে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে। দেশে এখন দুই হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি আছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আর না কেনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে জানিয়ে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যুতের চাহিদা কমাতে সরকার রাত ৮টায় বিপণিবিতান বন্ধের পাশাপাশি অফিস সময় পুনর্নির্ধারণ করে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত করার চিন্তা করছে।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সব কথা দ্বিচারিতামূলক। তিনি নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। তাহলে লোডশেডিং কেন? …আপনি উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করে যে টাকা পাচার করেছেন তার কুফল মানুষ এখন ভোগ করছে। বিদ্যুৎ খাতে জনগণের ভর্তুকির টাকা হরিলুট করা হয়েছে। বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসে নয়-ছয় হয়েছে। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনে নজর দেয়নি।

‘নিজের আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে কুইক রেন্টালের সুযোগ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করছেন বিদ্যুৎ খাত থেকে। লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘উন্নয়নের নামে হৈ চৈ করে এত লাফালাফি করলেন, কোথায় আপনার বিদ্যুৎ? আপনাকে দেশবাসী আর সহ্য করবে না।

‘আপনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে চলেছেন। কোথায় ১০ টাকার চাল? কোথায় ঘরে ঘরে চাকরি? আজকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার তথা কর্মহীন লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে। আপনি ক্ষমতায় থাকা মানে মানুষ না খেয়ে থাকা। আপনি ক্ষমতায় থাকা মানে কর্মহীন থাকা। আজকে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে বিভিন্ন কালাকানুন করেছে সরকার।’

ঈদে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের স্বীকার বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন, ‘মাফিয়া আওয়ামী লীগের লোকেরা সিন্ডিকেট করে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। আজকে সিন্ডিকেট এমনভাবে চেপে বসেছে মানুষ মুখ ফোটে কিছু বলতে পারছে না। কোরবানির হাটেও সিন্ডিকেট করছে আওয়ামী লীগের লোকজন। সরকারদলীয় লোকেরা ইচ্ছে মতো দাম বৃদ্ধি করে ক্রেতাদেরকে পশু কিনতে বাধ্য করছে।

‘দেশের মানুষ ঈদের প্রাক্কালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে হাপিত্যেশ করছে। সরকার জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। মানুষ বন্যার পানিতে ভাসছে তাদের দিকে সরকারের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। তারা পদ্মাসেতুর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত।’

পদ্মা সেতুতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি তোলা নিয়ে প্রশ্ন

পদ্মা সেতুতে দাঁড়ানো ও ছবি তোলা নিষিদ্ধের আদেশ জারির পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছবি তোলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘দেশ চলছে মাফিয়া শাসনের অধীনে। এখানে আইনের কোনো বালাই নেই। হবু চন্দ্র রাজার গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা যা খুশি বলছে এবং করছে।’

গত ৪ জুলাই পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে সড়ক পথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান প্রধানমন্ত্রী। যাওয়ার পথে তারা সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন।

তবে ২৫ জুন সেতু চালুর আগে সেতু কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেতুতে দাঁড়ানো বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানায়।

রিজভী বলেন, ‘উদ্বোধনের পর পদ্মাসেতুর ওপর নেমে ছবি তোলা যাবে না। ছবি তোলায় কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে। অথচ কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সেলফি তুলেছেন। আসলে এক দেশে দুই আইন চলছে।’

‘দেশে নির্বাচিত সরকার থাকলে তারা আইন মানত। তারা তো অনির্বাচিত। সে জন্য যখন যা চায় তারা তাই করছে।’
আলোচনা সভা শেষে অর্পণ সংঘের উদ্যোগে যুবদলের প্রয়াত নেতা ম জিএস বাবুলের স্ত্রীর হাতে অর্থসহায়তা তুলে দেন রিজভী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, জাহেদুল কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও অর্পণ সংঘের বীথিকা বিনতে হোসাইন, ওমর ফারুক কাওসার ও আরিফুর রহমান তুষার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Illumination is banned all over the country

সারা দেশে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ

সারা দেশে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ ফাইল ছবি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন ও সংযোগ অধিশাখার উপসচিব সাইফুল ইসলাম ভুইয়ার সই করা আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, শপিং মল, দোকানপাট, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন ও সংযোগ অধিশাখার উপসচিব সাইফুল ইসলাম ভুইয়ার সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, শপিং মল, দোকানপাট, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করার জন্য নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

সারা দেশে আলোকসজ্জা না করতে এর আগে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবস্থাপিত ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে গণভবনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে এ সংকট আরও তীব্র। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক স্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান লোডশেডিংয়ের কারণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন আমরা বাড়িয়েছি। সেই বিদ্যুৎ আজকে আমরা সমস্ত বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ঘরে দিতে সক্ষম হয়েছি, তবে আপনারা জানেন যে রাশিয়া-ইউক্রেনের যে যুদ্ধ, যুদ্ধ পরবর্তীতে আমেরিকা রাশিয়ার ওপর যে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দিল, ইউরোপ স্যাংশন দিল; ফলাফলটা এই দাঁড়িয়েছে, এখন তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজির দাম বেড়ে গেছে। সবকিছুর দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালিয়ে রাখা, আমাদের নিজস্ব যেটুকু গ্যাস আছে, তা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিয়ে রাখাটাই একটা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে গেছে।’

কোন বিদ্যুৎ উপকরণের কত দাম বেড়েছে, তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘ফার্নেস অয়েল যার মূল্য ছিল মাত্র ৭০৮ টাকা, সেটা ইউক্রেন যুদ্ধের পর হয়ে গেছে এক হাজার ৪০ টাকা। অর্থাৎ ৩৩২ টাকা, ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলএনজি যেটা মাত্র এমএমবিটিও ১০ ডলারে ক্রয় করা হতো, সেটা এখন ৩৮ ডলার। আর ২৮০ পার্সেন্ট প্রায় তার দাম বেড়ে গেছে। কয়লা সেটাও ১৮৭ ডলার ছিল, সেটা এখন ২৭৮ ডলার।

‘ডিজেল যেটা ছিল ৮০ ডলার, এখন সেটা ১৩০-এ চলে আসছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে, এটা নাকি ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। অর্থাৎ এখন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে সারা বিশ্ব যাচ্ছে। আমরা এখন নির্ভরশীল ডিজেলের ওপর, সেই ডিজেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।’

যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আমেরিকা বা ইউরোপ অবরোধ আরোপ না করলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ নাও হতে পারত বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এই স্যাংশনটা যদি না হতো তাহলে রাশিয়া থেকে, ইউক্রেন থেকে, এরা যুদ্ধও করত, আবার তাদের তেল বা ফার্টিলাইজার, গম এগুলোর সাপ্লাইটাও ঠিক থাকত। যদিও জাতিসংঘ সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্যোগে একটা চ্যাম্পিয়ন গ্রুপ হয়েছে। তার মধ্যে আমি আছি। সেখানে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আলোচনা করে অন্তত বিশেষ করে খাদ্যটা যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, খাদ্য এবং সার যেন তারা আসতে দেন, এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘অবশ্য সে কারণে আমি সবাইকে আহ্বান করেছি, প্রত্যেককে নিজের সঞ্চয়টা বাড়াতে হবে। খরচের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং যতটুকু পারা যায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে; বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে হবে।’

লোডশেডিং কখন, কোথায় হবে, তার সূচি তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক, কখন কোন এলাকায় কত ঘণ্টা লোডশেডিং হবে, এটার একটা রুটিন তৈরি করে সেভাবে লোডশেডিং, যাতে সেই সময়ে মানুষ প্রস্তুত থাকতে পারে, যাতে মানুষের কষ্টটা আমরা লাঘব করতে পারি। সেই বিষয়টা আমাদের নজরে দিতে হবে।

‘আমি মনে করি, আশা করি দেশবাসী অন্তত এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।’

আরও পড়ুন:
বামপন্থিদের কথা শুনলে বিদ্যুতের এই দশা হতো না: সিপিবি
লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হাসপাতালের রোগীরা
‘বিদ্যুৎ এলে ২০ মিনিট পর আবার চলে যাচ্ছে’
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা নয়: প্রধানমন্ত্রী
লোডশেডিংয়ের এলাকাভিত্তিক সূচি তৈরির নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Coal power will eliminate load shedding in September

সেপ্টেম্বরে লোডশেডিং দূর করবে কয়লার বিদ্যুৎ: জ্বালানি উপদেষ্টা

সেপ্টেম্বরে লোডশেডিং দূর করবে কয়লার বিদ্যুৎ: জ্বালানি উপদেষ্টা পটুয়াখালীর পায়রায় কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র এরই মধ্যে উৎপাদনে এসেছে। বাগেরহাটের রামপালসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়। ছবি: নিউজবাংলা
‘এলএনজির ওপর নির্ভরতার কারণে আমরা যে বিপাকে পড়েছি, তখন কতগুলো কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট আসবে। যেমন আদানির একটি আসবে, রামপাল আসবে, চট্টগ্রামে এস আলমেরটা আসবে, তিন-চার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক প্ল্যান্ট আসবে। কম-বেশি অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট আমরা পাব: তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে বিদ্যুৎ খাতের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা দূর হতে অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে বলে ধারণা করছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী। তার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সারা দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি পর্যালোচনাবিষয়ক এক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এখন যে অবস্থায় আছি এটা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্টেইন করতে পারলে আমাদের অবস্থার উন্নতি হবে।’

সেপ্টেম্বরের পর কীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তার কারণও ব্যাখ্যা করেন তৌফিক। তিনি বলেন, ‘এলএনজির ওপর নির্ভরতার কারণে আমরা যে বিপাকে পড়েছি, তখন কতগুলো কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট আসবে।

‘যেমন আদানির একটি আসবে, রামপাল আসবে, চট্টগ্রামে এস আলমেরটা আসবে, তিন-চার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক প্ল্যান্ট আসবে। কম-বেশি অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট আমরা পাব।’

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করেছে। এই সময়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা প্রকল্পের সুফলও পেয়েছে দেশ। এক যুগে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ছয় গুণের বেশি বেড়েছে, উৎপাদনও বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিদ্যুতের আরও কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়।

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বরাবর গর্ব করে থাকেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পর দেশে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তরল গ্যাস বা এলএনজি আপাতত আমদানি করা হবে না। গ্যাসের ঘাটতিজনিত উৎপাদনের যে সংকট সেটি সমাধান করা হবে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে। দেশে এখন দুই হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি আছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আর না কেনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে জানিয়ে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সবাই পাচ্ছিল। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপকরণগুলো সেগুলোর দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজির দামসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কয়লা এখন প্রায় পাওয়াই যায় না।’

বিদ্যুতের এই যাওয়া-আসা শুরুর পর বিএনপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছে। তারা বলছে, দুর্নীতির কারণে বিদ্যুতের এই পরিস্থিতি। দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আসলে যে কোনো উন্নয়ন হয়নি, এখন তার প্রমাণ মিলছে।

বিদ্যুতের এই পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে এলেন তৌফিক, যিনি বিদ্যুৎ খাত নিয়ে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সরকারের নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যে ম্যানেজমেন্টের কথা বললাম এগুলো যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে ৫০০ মেগাওয়াটের চেয়ে বেশি লোডশেডিং হবে না। আমরা ধরেছি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রিডে সাড়ে ১৪ হাজারের মতো বিদ্যুতের ডিমান্ড হতে পারে।’

সেপ্টেম্বরের আগ পর্যন্ত কী হবে- এ বিষয়ে তৌফিক বলেন চাহিদা কমানোর কথা।

এরই মধ্যে সরকার রাত ৮টায় বিপণিবিতান বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৌফিক এলাহী বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অফিস সূচির পরিকল্পনার কথা।

তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো যদি আমরা সবাই মিলে নিই তাহলে এটাকে (চাহিদা) সাড়ে ১২ হাজারে নামিয়ে আনতে পারব। তাহলে আর লোডশেডিং হবে না। তবে আমি এখন এটা বলতে চাই না যে হবে না। এটার জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।’

বাগেরহাট রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন এখনও চালু করা যাচ্ছে না, সেটিও জানান জ্বালানি উপদেষ্টা। বলেন, ‘প্ল্যান্টটা সিংক্রোনাইজ হতে আরও কিছু কাজ করা লাগবে। ওদের যে সাবস্ট্রেশন এখন এটা বন্ধ। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২১ জুলাইয়ের পরে তারা যদি কাজ শেষ করতে না পারে, তাহলে আমরা এটা ব্যবহার করতে শুরু করব।

‘তখন কিন্তু এখান থেকে ৭০০-৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। বড় পুকুরিয়াতে আমাদের নতুন যে কয়লা উৎপাদন হচ্ছে, সেটা আসতে আরও মাস দেড়েক সময় লেগে যাবে। বর্তমানে যেটা আছে সেটা দিয়েই ওই পর্যন্ত যেতে হবে। স্টকটা আমরা চেষ্টা করছি যাতে সুষম ব্যবহার হয়। আগস্ট মাসের মধ্যে খলিতে ফুল অপারেশন শুরু হবে।’

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই নিয়েও কথা বলেন তৌফিক এলাহী। তিনি বলেন, ‘এটাকে সাধারণত আমরা ব্যবহার করি ব্যালান্সিংয়ের জন্য। এটাকে মেইন সোর্স ধরা হয় না। এ কারণে এর ব্যবহারটা অন্য কেন্দ্রগুলোর মতো হয় না। এখন পানি বেশি আছে, এখন নিশ্চয়ই প্রোডাকশন বেশি হবে।’

আরও পড়ুন:
লোডশেডিংয়ের এলাকাভিত্তিক সূচি তৈরির নির্দেশ
বন্যার মধ্যে লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ দ্বিগুণ
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে অপারেশনের রোগীরা
লোডশেডিংয়ে উৎপাদন ব্যাহত, অতিষ্ঠ জনজীবন
লোডশেডিংয়ে আইপিএস-সোলারের রমরমা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
No one has seen such a picture of Sadarghat during the Eid procession

ঈদযাত্রায় সদরঘাটের এমন চিত্র দেখেনি কেউ

ঈদযাত্রায় সদরঘাটের এমন চিত্র দেখেনি কেউ ঈদের আগে যাত্রীশূন্য সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। ছবি: নিউজবাংলা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে লঞ্চে ভিড় থাকত। এবার তা নেই। লঞ্চে এবার খুব স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারছি। অন্যবার ঈদের সময় টিকিট পাওয়া ছিল খুব কষ্ট। এবার সহজেই টিকিট পেয়েছি। টিকিট কালোবাজারিও নেই।’

রাজধানীর সদরঘাটে নেই ঈদযাত্রার সেই চিরচেনা রূপ। লঞ্চের টিকিট পেতে নেই দৌড়ঝাঁপ-ধাক্কাধাক্কি, নেই ডেকে জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা। এক লঞ্চ থেকে অন্য লঞ্চে লাফ দেয়ার দৃশ্যও চোখে পড়েনি এবার। জায়গা দখলের হুড়োহুড়ি নেই লঞ্চের ডেকে, ফাঁকাও যাচ্ছে কেবিন। মানুষের ভিড়, টিকিট কালোবাজারি এ সবই এখন অতীত।

মূলত পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে লঞ্চঘাটের চিত্র। ফলে ফাঁকা কেবিন আর কম যাত্রী নিয়েই ঢাকা ছাড়ছে দক্ষিণের লঞ্চগুলো।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। যাত্রীর চাপ এমনকি ঈদযাত্রার সেই রূপ না থাকায় অনেকটা আরামদায়কভাবেই বাড়ি ফিরছেন তারা।

এদিকে লঞ্চভাড়াও স্বাভাবিক দেখা গেছে। অন্যবার ভাড়া ৫০-১০০ টাকা বেশি রাখলেও এবার ভাড়া আগের মতোই রাখা হচ্ছে। উল্টো ছোট লঞ্চে কেবিনের ভাড়া ১০০-৩০০ টাকা কম নেয়া হচ্ছে।

তবে উপেক্ষিত ছিল করোনার বিধিনিষেধ। মাইকিং করে নির্দেশনা দেয়া হলেও কেউ তা পাত্তা দিচ্ছেন না। এমনকি ছিল না গত ঈদে বাধ্য করা এনআইডি প্রদর্শনও।

ঈদযাত্রায় সদরঘাটের এমন চিত্র দেখেনি কেউ

ঢাকা থেকে রাত ৮-৯টায় লঞ্চে উঠলে ভোরেই ভোলায় পৌঁছানো যায়। তাই সেতুর প্রভার পড়েনি এ রুটে। ভোলা জেলার সঙ্গে কোনো স্থলপথ সংযোগ না থাকায় এ পথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে যাত্রী স্বাভাবিক রয়েছে। এখানে দেখা গেছে ঈদযাত্রার ভিড়। অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য চলছে দৌড়ঝাঁপ।

ঘাটে বরিশাল রুটে চলাচলকারী পারাবত-১০ ও ১৮, প্রিন্স অফ আওলাদ-১০, সুন্দরবন-১১, ভাষানচর রুটের সম্রাট-৭, মুলাদী রুটের মহারাজ-৭ ও অভিযান-৫ রয়েছে। লঞ্চগুলো অনেকটাই খালি ছিল। তবে পটুয়াখালী রুটে চলাচলকারী সুন্দরবন-১৪, প্রিন্স অফ আওলাদ-৭ লঞ্চে ভিড় কিছুটা বেশি।

বরিশালগামী যাত্রী আবুল হোসেন বলেন, ‘এ রুটে লঞ্চে যাত্রী থাকবেই। একেবারেও যদি সড়কপথ উন্নত হয়ে যায় তাও এ অঞ্চলের মানুষ লঞ্চে যাবে। যুগ যুগ ধরে আসা-যাওয়া করা মানুষ এত সহজে এ পথ ছাড়তে পারবে না। প্রথমবার হয়তো সেতুতে যাচ্ছে। পরে ঠিকই লঞ্চে আসবে। ঈদের ছুটি শুরু হলেই চাপ বাড়বে।

পরিবারসহ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী যাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিকেলের লঞ্চে একটু চাপ থাকে। তাই সকালে বেরিয়ে পড়েছি। লঞ্চযাত্রা আসলেই আরামদায়ক। আশা করছি এবার স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারব।’

ঈদযাত্রায় সদরঘাটের এমন চিত্র দেখেনি কেউ

বরিশালগামী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় লঞ্চে আগে ভিড় থাকত। এবার তা নেই। লঞ্চে এবার খুব স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারছি। অন্যবার ঈদের সময় টিকিট পাওয়া ছিল খুব কষ্ট। এবার সহজেই টিকিট পেয়েছি। টিকিট কালোবাজারিও নেই।’

ঢাকা-ভোলা রুটে চলাচলকারী এমভি বালিয়া লঞ্চের কর্মী মো. জাকির হোসেন হ্যান্ডমাইকে যাত্রী ডাকছিলেন। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদে যাত্রী অনেক কম। লঞ্চে যাত্রী পূর্ণ করতে সন্ধ্যা লেগে যাবে। আমাদের লঞ্চ ছাড়ার সময় সন্ধ্যা ৭টা।’

লঞ্চের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় নিচতলা ও দোতলার ডেক প্রায় ফাঁকা। ঢাকা-খেপুপাড়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি জাহিদ-৪ এর ডেক প্রায় যাত্রী পূর্ণ ছিল। এ লঞ্চের যাত্রী শাহীন মিয়া বলেন, ‘আমি যাব পটুয়াখালী। ভোরে চলে এসেছি। এসে দেখি লঞ্চ খালি। এখন শুনি লঞ্চ ছাড়বে সন্ধ্যায়। আগে এসে ভোগান্তিতে পড়লাম।’

ঈদযাত্রায় সদরঘাটের এমন চিত্র দেখেনি কেউ

মানিক লঞ্চের ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, ‘এবার সদরঘাটে ঈদের আমেজ নেই। আগে ঈদের সময় দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে লঞ্চ গন্তব্যে যেত, আসত খালি। এতে পুষিয়ে যেত। এখন লঞ্চে স্বাভাবিক সময়ের মতো আমাদের যাত্রী টানতে হচ্ছে।’

ঢাকা নদীবন্দরের ঘাট পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার জীবনে বহু ঈদ দেখেছি। ঈদের আগের দিন গেটগুলো দিয়ে পন্টুনে আসা যাত্রীদের জায়গা দিতে পারতাম না। এবারে ঈদে তেমন কোনো পরিস্থিতি নেই। যাত্রী অনেকটা স্বাভাবিক সময়ের মতো।’

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের যাত্রী কমেছে। ঈদযাত্রার আগের রূপ আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

‘সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেয়া হচ্ছে। কিছু কিছু লঞ্চ যদি ঈদ উপলক্ষে ভাড়া কমায় সেটা তাদের ব্যাপার।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে লোকারণ্যের দিন ফাঁকা সদরঘাট
শাটডাউনের শেষ ঘণ্টা বাজলেই লঞ্চ ছাড়ার প্রস্তুতি
সদরঘাট নেমেই ভাড়ার নৈরাজ্যে যাত্রীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hearing of charges against PK Haldar will be held on August 18

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৬ আগস্ট

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৬ আগস্ট
পি কে হালদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ১৬ আগস্ট ঠিক করেছে ঢাকার একটি আদালত।

হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গ্রেপ্তার প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ১৬ আগস্ট ঠিক করেছে ঢাকার একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ বদলির আদেশ দেন এবং অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, পূর্ণিমা রানী হালদার, অমিতাভ অধিকারী, প্রীতিশ কুমার হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অনঙ্গ মোহন রায়, স্বপন কুমার মিস্ত্রি, রাজিব সোম, সুব্রত দাস, অবন্তিকা বড়াল, সুকুমার মৃধা, অনিন্দিতা মৃধা এবং শংখ ব্যাপারী।

এদের মধ্যে শংখ ব্যাপারী, সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল, অনিন্দিতা মৃধা কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ২৭ মার্চ এ মামলার পলাতক ১০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

মামলা থেকে জানা যায়, দেশের চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পি কে হালদার নামে-বেনামে বিভিন্ন কোম্পানির নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বের করে নেন। এই টাকা আর ফেরত না আসায় ওই চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

প্রতিষ্ঠান চারটি হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।

টাকা বের করার আগে শেয়ার কিনে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

তিনি দেশ ছাড়েন ২০১৯ সালের শেষ দিকে। আর এই আর্থিক কেলেঙ্কারি জানাজানি হয় ২০২০ সালের শুরুতে।

পলাতক থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, পি কে হালদার নামে-বেনামে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬ হাজার ৭৯০ শতাংশ জমি কিনেছেন।

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই সম্পদের মূল্য ৯৩৩ কোটি টাকা হলেও এই সম্পদের বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৩৯১ কোটি ৭৫ লাখ ৮১ হাজার ১২ টাকা।

এর মধ্যে নিজের নামে তিনি জমি কিনেছেন ৪ হাজার ১৭৪ শতাংশ। এর দাম দলিলে দেখানো হয়েছে ৬৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার ৯৩০ টাকা। অথচ এই সম্পদের বর্তমান মূল্য ২২৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধানমন্ডিতে তার নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, প্রশান্ত তার নিকটাত্মীয় পূর্ণিমা রানী হালদারের নামে উত্তরায় ১২ কোটি টাকা দামের একটি ভবন করেছেন।

আর পূর্ণিমার ভাই উত্তম কুমার মিস্ত্রির নামে তেজগাঁও, তেজতুরী বাজার ও গ্রিন রোডে ১০৯ শতাংশ জমি কেনেন।

যার বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা। প্রশান্ত তার কাগুজে কোম্পানি ক্লিউইস্টোন ফুডসের নামে কক্সবাজারে দুই একর জমির ওপর আটতলা হোটেল তৈরি করেছেন।

যার আর্থিক মূল্য বর্তমানে ২৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া পি কের খালাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী এবং অনঙ্গ মোহন রায়ের নামে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৪০৪ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার দাম ১৬৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও কানাডীয় ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্যের বরাত দিয়ে দুদক প্রতিবেদনে বলেছে, পি কে হালদার ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তার ভাই প্রীতিশ হালদারের কাছে ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৬৪ কানাডীয় ডলার পাচার করেন, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
জেরায় বাংলাদেশ-ভারতের একাধিক প্রভাবশালীর নাম বলেছেন পি কে
পি কে হালদার ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে
পাচারের টাকা বৈধ করার সুযোগ পাবেন না পি কে
পি কে হালদার ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে
এবার ১১ দিনের জেল হেফাজতে পি কে হালদার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hygiene rules must be followed in Eid prayers

ঈদ জামাতে ফাঁকা রাখতে হবে একটি করে কাতার

ঈদ জামাতে ফাঁকা রাখতে হবে একটি করে কাতার ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ ৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি দুই কাতারের মাঝে এক কাতারের সমান জায়গা ফাঁকা রেখে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাওয়ায় ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ এমন আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার সিনিয়র সহকারী সচিব মোস্তফা কাইয়ুমের সই করা এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় যা আছে

১. পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না।

২. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে ঈদগাহে বা মসজিদে আসতে হবে।

৩. করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদ/ঈদগাহের অজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৪. ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদ/ঈদগাহে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৫. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

৬. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব ও ইমামদের দোয়া করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

৭. সম্মানিত খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

৮. পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রায় প্রস্তুত পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট
জোরেশোরে চলছে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eid procession on the roof of the train with risk

টিকিট না পেয়ে ছাদে

টিকিট না পেয়ে ছাদে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট না পেয়ে অনেকেই চড়ে বসেন ট্রেনের ছাদে। ছবি: নিউজবাংলা
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। ওই সময় দেখা যায়, ট্রেনের ভেতর ফাঁকা থাকলেও টিকিট নেই এমন মানুষজন চেপে বসেছেন ছাদে। জটলা বেঁধে একে অন্যের হাত ধরে টেনে তুলছেন।

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বাড়ি যেতে উদগ্রিব তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক মানুষকে ট্রেনের ছাদে উঠে বসতে দেখা গেছে।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রচুর মানুষের সমাগম, তবে গত ঈদের তুলনায় ভিড় তুলনামূলক কম।

এর আগের বিভিন্ন ঈদযাত্রার সময় দেখা যায়, ট্রেনে পা ফেলার জায়গা থাকছে না, কিন্তু এবার বেশ ফাঁকাই ছিল বগিগুলো।

সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার আগে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। ওই সময় দেখা যায়, ট্রেনের ভেতরে ফাঁকা থাকলেও টিকিট নেই এমন মানুষজন চেপে বসেছেন ছাদে। জটলা বেঁধে একে অন্যের হাত ধরে টেনে তুলছেন। নিচে থেকে ঠেলে তুলে দিচ্ছেন অনেকেই।

টিকিট না পেয়ে ছাদে

ওই ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টায় ছিলেন নজরুল নামের এক ব্যক্তি। এমন সময় নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন তিনি। টিকিট নেই। তাই ছাদে চড়ে যাবেন বাড়িতে।

বাড়ি কোথায়, জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও কেন ছাদে উঠে যাবেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি আর কথা বলেননি।

আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে নিউজবাংলা, তবে কেউই সংবাদমাধ্যমের পরিচয় পেয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

টিকিট না পেয়ে ছাদে

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যে স্রোত, চাইলেও ছাদে ভ্রমণ বন্ধ করা যায় না অনেক সময়।’

এদিকে আগের কয়েক দিন কমলাপুর স্টেশন থেকে ফাঁকা আসন নিয়ে ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা যায়। কারণ অনেক যাত্রীই এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে উঠবেন।

বৃহস্পতিবার ফাঁকা সিট নিয়ে ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি খুব একটা। যাদের টিকিট নেই বা স্ট্যান্ডিং টিকিট আছে, তারা ফাঁকা আসনগুলোতে চেপে বসেছেন।

ঈদ শেষে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। ফিরতি টিকিটের জন্য খুব বেশি লাইন দেখা যায়নি স্টেশন কাউন্টারে, তবে দীর্ঘ লাইন ছিল কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে স্টেশন থেকে যাত্রা, সেই স্টেশন থেকেই দেয়া হবে ফিরতি টিকিট।

বৃহস্পতিবার সকালে স্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেনই ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময়ে, তবে কয়েকটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে। সেটাও ১৫ বা ২০ মিনিটের বেশি নয়।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা তেমন কোনো দেরি নয়। স্বাভাবিক সময়েও যাত্রী ওঠানামা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে এতটুকু সময় লেগেই যায়।

আর ট্রেনে ঈদযাত্রায় যানজটের ভোগান্তি নেই বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন:
‘ঈদযাত্রার ২৬৭ টাকার পথ এনা নিচ্ছে ৫০০’
বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা
কমলাপুর থেকে পাঁচ টিকিট কালোবাজারি আটক
পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি ফেরার ঢল
ট্রেন আসতে দেরি করায় ছাড়তে দেরি

মন্তব্য

p
উপরে