× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Mohammad Alis hand to stop C truck in Hatia?
hear-news
player
print-icon

হাতিয়ায় সি-ট্রাক বন্ধে মোহাম্মদ আলীর হাত?

হাতিয়ায়-সি-ট্রাক-বন্ধে-মোহাম্মদ-আলীর-হাত?
হাতিয়া থেকে জলপথে প্রায় সাত লাখ মানুষের চলাচল দুই বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। ছবি: নিউজবাংলা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাতিয়ার সাবেক এক ইউপি সদস্য বলেন, 'হাতিয়ার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। এখানে এমপির স্বামী মোহাম্মদ আলীর একচেটিয়া দাপট। উনি যা বলেন তাই হয়।'

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া থেকে জলপথে প্রায় সাত লাখ মানুষের চলাচল দুই বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। নিরাপদে চলাচলের জন্য দুটি সি-ট্রাক থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে দুই বছর ধরে। এই সুযোগে সাবেক এক সংসদ সদস্যের মাছ ধরার নৌকা ও স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়ায় নদী পারাপারে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এমনকি সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় প্রশাসনও একই সুরে কথা বললেও সব অভিযোগ অবশ্য বেমালুম অস্বীকার করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী।

হাতিয়ায় সি-ট্রাক বন্ধে মোহাম্মদ আলীর হাত?

মোহাম্মদ আলী নৌকা না পেয়ে হাতিয়া থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০১ সালে। ২০০৮ সালে তাকে নৌকা দেয়া হলেও খেলাপি ঋণের কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। পরের দুই বার ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদৌসকে।

নোয়াখালী-হাতিয়ার মধ্যে চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা রুটের সি-ট্রাক শেখ ফজলুল হক মণি আর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত নামের সি-ট্রাকটি চেয়ারম্যান ঘাট- চরচেঙ্গা-তমরুদ্দি রুটে চলত। দুই বছর ধরে সেগুলো বন্ধ রয়েছে।

ইজারাদারের ভাষ্য, মেরামত করা হলেও আবার নষ্ট হয়ে পড়ে। তাই সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সি-ট্রাক বিকল থাকার সুযোগে মোহাম্মদ আলীর ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার ও স্পিডবোটে সি-ট্রাকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে নদী পার হতে হয়।

কী বলছেন যাত্রীরা

যাত্রীদের অভিযোগ, সি-ট্রাকটি ইচ্ছা করে মেরামত না করে তাদের বেশি টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিতে নিরাপদ যাতায়াতে নৌপথে সি-ট্রাক চালুর দাবি তুলেছে হাতিয়ার বিভিন্ন সংগঠন।

হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল্লাহ মনির বলেন, ‘উনার (মোহাম্মদ আলী) প্রয়োজন হলে সি-ট্রাক ভালো হয়ে যায়, আর মানুষের প্রয়োজন হলে বন্ধ হয়ে যায়। সি-ট্রাকের জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা হলেও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ২০০ টাকা ও স্পিডবোটে চার থেকে পাঁচ শ টাকা দিতে হয়।’

চট্টগ্রামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী চর ঈশ্বরের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘সি-ট্রাকের ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর ব্যাবসায়িক পার্টনার। তিনিই ঘাট নিয়ন্ত্রণ করেন। গত দুই বছরে কোনো ঈদে সি-ট্রাক চলাচল করে নাই। তারা সি-ট্রাক বন্ধ রেখে তাদের মাছ ধরার বোটে দুই শ ও স্পিডবোটে পাঁচ শ টাকায় মেঘনা নদী পাড়ি দিতে বাধ্য করেন। অথচ সি-ট্রাকে অনেক কম ভাড়ায় নিরাপদে পার হওয়া যায়।’

হাতিয়ায় সি-ট্রাক বন্ধে মোহাম্মদ আলীর হাত?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাতিয়ার সাবেক এক ইউপি সদস্য বলেন, 'হাতিয়ার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। এখানে এমপির স্বামী মোহাম্মদ আলীর একচেটিয়া দাপট। উনি যা বলেন তাই হয়।'

মাহমুদুল হাসান ফরহাদ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, 'আমরা নিরাপদ নৌ পারাপারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করে সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরেছি।'

আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, ‘ইজারাদার কাজল তার (মোহাম্মদ আলী) লোক হওয়ায় বিভিন্ন বাহানায় সি-ট্রাক বন্ধ রেখে ট্রলার ও কয়েকটি স্পিডবোটে গাদাগাদি করে নদী পারাপারে বাধ্য করে। তারা বিআইডব্লিউটিসিতে তদবির করে পুরনো সি-ট্রাকটি বন্ধ রেখে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নতুন সি-ট্রাক যেন চলতে না পারে তার পাঁয়তারা করছে।’

ইজারাদারের ভাষ্য

ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল বলেন, ‘সি-ট্রাকটির বয়স হয়েছে ১৫ বছর। এটার ইঞ্জিন প্রায়ই নষ্ট হয়। তাই ঠিক করতে সময় লাগে। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে চালু হবে। নতুন সি-ট্রাকটি ভাসানচরের জন্য ঠিক করা হয়েছে। হাতিয়া রুট চার্টার আমাকে দেয়া আছে এটি এখানে কীভাবে চালাবে? আমি তো রুট ভাড়া দেই।’

সব অভিযোগের অস্বীকার মোহাম্মদ আলীর

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমার কোনো ট্রলার ও স্পিডবোট নাই, আমার কোনো ইজারা নাই, ঘাটের সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নাই।

‘আমাদের ভিন্ন ব্যবসা আছে। আমাদের মাছের ব্যবসা আছে, মাছের ট্রলার আছে, নৌকা আছে, কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা আছে। এটা দিয়ে কোনোভাবে আমরা চলি।’

সি-ট্রাক কেন চলছে না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সি-ট্রাকের তলা ছিদ্র হয়ে গেছে। মেশিনগুলো পুরোনো। গত ২৫ বছর সরকারের কোনো নতুন সি-ট্রাক নাই। সি-ট্রাক যদি চলত, তাহলে প্যাসেঞ্জার আরও ডবল হতো। মানুষ জানে সি-ট্রাক নাই, তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে চলে আসে। সি-ট্রাক চললে বরং ইজারাদার আরও বেশি টাকা পেত।’

কী বলছেন সংসদ সদস্য

মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস সি-ট্রাকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘অনেকেই অনেক মন্তব্য করছেন। ব্যাপারটা আসলে সেটা নয়। যিনি এটার ইজারা নিয়েছেন তিনি নিজের খরচে ঠিক করতেছেন। আমি ও আমার স্বামী মোহাম্মদ আলী সাহেব বারবার তাগাদা দিচ্ছি।

‘সি-ট্রাক এখনো ডকে আছে। এক সপ্তাহ পরে আবার চলবে। শুধু ইজারাদার কেন, হাতিয়া ছোট একটি দ্বীপ, সবাই তো আমাদের লোক।’

সি-ট্রাক বন্ধের সুবিধাভোগী তো আপনারা- এই প্রশ্নে আয়েশা বলেন, ‘শুধু আমাদের না, ট্রলার স্পিডবোট সবার আছে। যেহেতু আমি এখানকার প্রতিনিধি, তাই একটা পক্ষ আমার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

‘অনেকেই না জেনে বাহির থেকে কথা বলে। আমাদের ইশিতা-১. ২. ৩ নামের তিনটি ফিশিং ট্রলার আছে, কোনো যাত্রীবাহী ট্রলার নেই। সি-ট্রাক বন্ধ থাকলে মানুষ নদী পার হতে হলে ট্রলার বা স্পিডবোট ছাড়াতো উপায় নাই।’

প্রশাসনের বক্তব্যে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রমাণ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান যা বলেছেন, তাতে স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘শেখ ফজলুল হক মনি নামে সি-ট্রাকটি হাতিয়ার এমপি সাহেবের লোকজন ভাড়া নিয়েছেন। যেটা প্রবলেম, সেটা সাংবাদিক হিসেবে আপনারা ভালো জানেন। ওই জাহাজটার রিপেয়ারসহ সব দায়িত্ব ওনাদের দেয়া আছে। তারা এত দিন ধরে বলতেছে, জাহাজ নষ্ট রিপেয়ার করবে, কিন্তু করে নাই।

‘এখন আমরা যখন প্রেশার দিয়েছি, তারা রিপেয়ার শুরু করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিপেয়ার শেষে সি-ট্রাকটি চলাচল শুরু হবে আশা করি।’

নতুন সি-ট্রাক চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাষাসৈনিক জব্বার নামের নতুন সি-ট্রাক বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপনায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে। কিছু লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। তা দুয়েক দিনের মধ্যে শেষ করা হবে। কোনো অজুহাত দেখিয়ে যেন সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে না পারে, সে জন্যই সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলবে।’

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে গত সপ্তাহে ঘাটের ইজারাদারসহ একটি সভা হয়েছে। ভাসানচর ও হাতিয়ায় চলাচলের সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আমি চট্টগ্রামে বিআইডব্লিউটিসিতে কথা বলেছি। জনবলসহ অতিদ্রুত সি-ট্রাক চলাচলের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ  

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Girder accident Writ seeking compensation of Rs5 crore

গার্ডার দুর্ঘটনা: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

গার্ডার দুর্ঘটনা: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট রাজধানীর উত্তরায় সোমবার বিআরটি প্রকল্পের বক্স গার্ডার প্রাইভেট কারে পড়ে পাঁচজন নিহত হয়। ছবি: সংগৃহীত
রিটকারী আইনজীবী জাকারিয়া খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যেকের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু নির্দেশনা চেয়েছি আমরা।’

রাজধানীর উত্তরায় বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের জন্য এক কোটি করে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাকারিয়া খান বুধবার জনস্বার্থে রিটটি করেন।

রিটকারী আইনজীবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যেকের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু নির্দেশনা চেয়েছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পের কাজের শুরু থেকে কতটা নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে যেখানে এ ধরনের নির্মাণকাজ হচ্ছে, তাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সেটি জানাতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।’

রিটে সড়ক ও জনপথ সচিব, বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী জাকারিয়া খান। রিটের পক্ষে শুনানি করবেন আইনজীবী এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম।

গত সোমবার বিকেলে উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের বক্স গার্ডার ছিটকে প্রাইভেট কারে পড়ে দুই শিশুসহ পাঁচ আরোহী নিহত হন।

গাড়িটি থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন ২৬ বছর বয়সী হৃদয় ও ২১ বছর বয়সী রিয়ামনি, যাদের বিয়ে হয়েছে গত শনিবার। সোমবার ছিল বউ ভাত।

হৃদয়ের বাড়ি রাজধানীর কাওলায়। বউ ভাত শেষে কনের বাড়ি আশুলিয়ায় যাচ্ছিলেন তারা। ছেলের বাবা রুবেল গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

রুবেল ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে কনের মা ফাহিমা বেগম, তার বোন ঝরনা বেগম, ছয় বছর বয়সী শিশু জান্নাত ও দুই বছর বয়সী জাকারিয়ার।

জামালপুরে মঙ্গলবার রাতে নিহত চারজনের দাফন হয়েছে। আর বুধবার সকালে মেহেরপুর সদরের রাজনগর গ্রামে দাফন হয় রুবেলের।

ওই ঘটনায় গত সোমবার রাতে নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরনা বেগমের ভাই মো. আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

মামলায় ক্রেন পরিচালনাকারী চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুর পর জানা গেল রুবেলের ৭ স্ত্রী
গাফিলতি যারই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সড়ক সচিব
পাঁচ প্রাণ ঝরার পর নিরাপত্তায় জোর বিআরটি এমডির
বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Proxy Aktaruls remand in the admission test is denied

ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি, আকতারুলের রিমান্ড নামঞ্জুর

ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি, আকতারুলের রিমান্ড নামঞ্জুর ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেয়ার অভিযোগে আটক আকতারুল। ছবি: নিউজবাংলা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামি বড় চক্রের সদস্য। তাকে রিমান্ডে নিলে বাকি আসামিদের ধরা সহজ হত। তবে আমাদের তদন্ত চলবে। প্রয়োজনে আবার রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেন তিনি।’

গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে এসে আটক মো. আকতারুল ইসলামের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মামুনুর রশীদ শুনানি শেষে এ রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন।

অভিযুক্ত আকতারুল বলেন, ‘আমি ছোট ভাইকে পরীক্ষা দিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসি। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আসতে দেরি হওয়ায় ছোট ভাইকে গেট থেকে নিয়ে যায় প্রক্টর অফিস। তারপর তারা মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়।’

তবে মামলা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন মামলাটি করেছেন। পরীক্ষা দেয়ার পর আপনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে নেয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসময় বিষয়টি স্বীকার করেন আসামির আইনজীবী ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজুর রহমান মন্টু।

তবে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত নেই, তাই রিমান্ড নেয়ার প্রয়োজন নেই।’ পরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামি বড় চক্রের সদস্য। তাকে রিমান্ডে নিলে বাকি আসামিদের ধরা সহজ হত। তবে আমাদের তদন্ত চলবে। প্রয়োজনে আবার রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেন তিনি।’

এর আগে রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদার আদালতে আসামীকে হাজির করা হয়। এরপর মামলার রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক নাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে এ রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

এর আগে শনিবার ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রইছ উদদীন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার আসামিরা হলেন প্রক্সি দিতে আসা শিক্ষার্থী মো. আকতারুল ইসলাম, মূল শিক্ষার্থী সিজান মাহফুজ ও মূল হোতা মো. রাব্বি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের একটি কক্ষের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করছিলেন।

এসময় সিজান মাহমুজ নামের এক শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ও সংযুক্ত ছবির সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। পরে আকতারুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নেয়া হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আটক শিক্ষার্থী জানায়, পলাতক আসামি সিজান মাহফুজ ও মূলহোতা রাব্বির পরামর্শ, প্ররোচনায় ও সহযোগীতায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার চুক্তিতে পরীক্ষায় অংশ নেয় বলে তিনি স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন:
সৎমার বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ জবি শিক্ষার্থীর
স্বপ্ন জয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়নি তাদের
বিলবোর্ড পড়ে মাথা ফাটল জবি ছাত্রীর
সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির জবি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি
জবি নীল দলের সভাপতি জাকির, সম্পাদক নাফিস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
No recommendation of MPs to primary school committee HC

প্রাথমিক স্কুল কমিটিতে এমপিদের সুপারিশ নয়: হাইকোর্ট

প্রাথমিক স্কুল কমিটিতে এমপিদের সুপারিশ নয়: হাইকোর্ট
রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ২(২) ধারা চ্যালেঞ্জ করে এক অভিভাবক হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন। আজ চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রুলটি যথাযথ বলে ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা (ম্যানিজিং) কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশ করার বিধান অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এর ফলে কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য কোনো সুপারিশ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয় বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

আদালতে রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০৮ ও ২০১৯ সালের দুটি প্রজ্ঞাপন রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে- প্রাথমিক স্কুল পরিচালনা কমিটিতে দুজন বিদ্ব্যৎসাহী (নারী ও পুরুষ) সদস্য থাকবেন, যাদের নাম প্রস্তাব করবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘সাধারণত একজন সংসদ সদস্য যখন কারও নাম প্রস্তাব করেন তখন তাকেই সভাপতি করা হয়। তাহলে নির্বাচনের তো আর প্রয়োজন হয় না। এ কারণে ওই প্রজ্ঞাপনের ২(২) ধারা চ্যালেঞ্জ করে শহীদুল্লাহ নামে একজন অভিভাবক হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন।

‘আজ রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রুলটিকে যথাযথ ঘোষণা করে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বলেছেন, প্রাথমিক স্কুল পরিচালনা কমিটিতে কারা থাকবেন সে ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরামর্শ বা কারও নাম প্রস্তাব করতে পারবেন না।’

এর আগে ভিকারুনিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির বিষয়ে আদালত যে আদেশ দিয়েছিল অনুরূপ আদেশ হয়েছে বলে জানান রিটকারীর পক্ষের এই আইনজীবী।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিকে আরও ৩০ হাজার নিয়োগ : প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির পাইলটিং শুরু বুধবার
ছুটি শেষে প্রাথমিকে ক্লাস চলবে যেভাবে
প্রাথমিকে নিয়োগ: জেলায় পরীক্ষায় সায় নেই অধিদপ্তরের
আমলাতন্ত্রে আটকা প্রাথমিকের দেড় কোটি শিক্ষার্থীর ভাতা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Caning of Chhatra League workers 5 more policemen withdrawn

ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার

ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বরগুনা সদর থানা, পুলিশ লাইন্স ও ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শোক দিবসে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে কর্মীদের পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় জেলা পুলিশের আরও ৫ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিউজবাংলাকে।

তিনি জানান, বরগুনা সদর থানার এএসআই মো. সাগর, পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল মো. রবিউল ও ডিবি পুলিশের কনস্টেবল কেএম সানিকে প্রত্যাহার করে ভোলা জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর ডিবি পুলিশের এএসআই মো. ইসমাইল এবং ডিবি পুলিশের কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে পিরোজপুর জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি হাচান। একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া দেননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমানের (প্রশাসন ও অর্থ)।

এর আগে দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীকে প্রত্যাহার করে প্রথমে বরিশাল রেঞ্চে এবং পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।

বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের সামনে সোমবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটায় পুলিশ।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শিল্পকলায় প্রবেশের সময় হামলাকারীরা ছাদ থেকে তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ কারণে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।

এ সময় সেখানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন।

বলেন, ‘পুলিশ বলেছিল, গাড়ি ভাঙচুরকারীকে তারা চিনতে পেরেছে। আমি বলেছি, যে ভাঙচুর করেছে, তাকে দেখিয়ে দিন। আমি তাকে আপনাদের হাতে সোপর্দ করব। আসলে তাদের (পুলিশের) উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে। আমি তাদের মার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেখানে এত পুলিশ আসছে যে কমান্ড শোনার মতো কেউ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মহররম ছিলেন সেখানে। তিনি অনেক ভুল করেছেন।

‘যেখানে আমি উপস্থিত, সেখানে তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। আমি তাকে মারপিট করতে নিষেধ করেছিলাম। তারা (পুলিশরা) আমার কথা শোনেননি।’

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কে এম এহসান উল্লাহ জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত পুলিশের ভূমিকার বিষয়টি তদন্তে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে সোমবার রাতে কমিটি গঠন করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League leader killed in Jatrabari

যাত্রাবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতা খুন

যাত্রাবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতা খুন
নিহতের ভাই মো. সুমন বলেন, ‘এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ফাহিম ও সাইফুলসহ কয়েকজন এই হামলা চালিয়েছে। আমার ভাই যাত্রাবাড়ীর ৫০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ১৪ নম্বর ইউনিটের সভাপতি ছিলেন। ফুটপাতে চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ায় ওরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে।’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক ৫০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ১৪ নম্বর ইউনিটের সভাপতি ছিলেন। এ সময় রুবেল নামে আরেকজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহতের ভাই মো. সুমন বলেন, ‘আমার ভাই যাত্রাবাড়ীর ৫০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ১৪ নম্বর ইউনিটের সভাপতি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ ফারুক সড়কে বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে ভাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ৫/৭ জন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরির আঘাতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ৮টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

মো. সুমন বলেন, ‘এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ফাহিম ও সাইফুলসহ কয়েকজন এই হামলা চালিয়েছে। ফুটপাতে চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ায় ওরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে।’

আবু বক্কর সিদ্দিক রাজনীতির পাশাপাশি কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। তিনি দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর টানপাড়া এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। তিনি তিন মেয়ের জনক। স্ত্রীর নাম সাবিনা আক্তার। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায়। বাবার নাম আলী আহাম্মদ। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, যাত্রাবাড়ী থেকে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রুবেল নামে আরেকজন আহত হয়েছেন। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জামিন পেয়েই খুন হলেন যুবক
‘প্রতিপক্ষের পিটুনিতে’ একজন খুন, ৮ বাড়ি ভাঙচুর
‘বন্ধুর ছুরিকাঘাতে’ তরুণ খুন
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেন নয়: হাইকোর্ট
এবার অস্ত্র ও মাদক মামলায় নূর হোসেনের বিচার শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Account of Dr Yunus assets to ACC

ড. ইউনূসের সম্পদের হিসাব দুদকে

ড. ইউনূসের সম্পদের হিসাব দুদকে
গ্রামীণ টেলিকম পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৮ জুলাই অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। একইসঙ্গে চলতি মাসের শুরুতে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের সব ব্যাংক হিসাব তলব করে দুদক। কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে লেনদেনের সব তথ্যও চাওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্য।

মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধানের কাছে এসব নথি হস্তাস্তর করেন ড. ইউনূসের প্রতিনিধি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ সংবলিত একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৮ জুলাই গ্রামীণ টেলিকম পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

দূদক সূত্র জানায়, অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লোপাট, শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধকালে অবৈধভাবে অ্যাডভোকেট ফি ও অন্যান্য ফি’র নামে ৬ শতাংশ অর্থ কেটে নেয়া, শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলে বরাদ্দকৃত সুদসহ ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৩ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

একইসঙ্গে চলতি মাসের শুরুতে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের সব ব্যাংক হিসাব তলব করে দুদক। শুধু তাই নয়, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে লেনদেনের সব তথ্যও চাওয়া হয়।

চিঠিতে গ্রামীণফোন কোম্পানিতে গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির শেয়ার ও এর বিপরীতে ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি কত টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে এবং তা কোন কোন খাতে ও কীভাবে ব্যয় করেছে, তার বছরভিত্তিক তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ইউসুফের ‘ফি’ ১৬ কোটি টাকা
গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
আইনজীবীকে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘১২ কোটি টাকা দেয়ার’ ঘটনা তদন্ত চেয়ে রিট
চাকরিচ্যুতদের আইনজীবীর সঙ্গে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘সমঝোতা’, অ্যাকাউন্ট জব্দ
কর্মীদের মামলা: ৪০০ কোটিতে রফা গ্রামীণ টেলিকমের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fire in Chowkbazar Hotel owner remanded

চকবাজারে আগুন: হোটেল মালিক রিমান্ডে

চকবাজারে আগুন: হোটেল মালিক রিমান্ডে আগুনে পুড়ে যাওয়া বরিশাল হোটেল। ছবি: নিউজবাংলা
চকবাজার দেবীদাস লেনে সোমবার দুপুরে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বরিশাল হোটেলের ছয় কর্মচারীর মৃত্যু হয়।

চকবাজারে চারতলা ভবনে আগুনের ঘটনায় বরিশাল হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম মামলার এজাহার গ্রহণ করেন। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে দেন।

এর আগে মামলার আসামি বরিশাল হোটেলের মালিক মো. ফখরুদ্দিনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই রাজীব কুমার সরকার এ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন জানান।

বিচারক আবেদন বিবেচনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড দেন।

সোমবার দুপুরে চকবাজার দেবীদাস লেনে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বরিশাল হোটেলের ছয় কর্মচারীর মৃত্যু হয়। তারা সবাই হোটেলটিতে নাইট শিফটে কাজ করে সকালে ঘুমিয়েছিলেন। তাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল ভবনের দ্বিতীয় তলায়। নিচতলায় ছিল বরিশাল হোটেল।

এ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা করেন আগুনে মারা যাওয়া রুবেলের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী। মঙ্গলবার ভোরে বরিশাল হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
চকবাজারে আগুন: দাফন সহায়তা দিলেন ডিসি
চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ হস্তান্তর
চকবাজারের আগুন ‘হোটেল থেকে’
ঘুমিয়ে ছিলেন ৬ হোটেল কর্মচারী
চকবাজারে পুড়ে যাওয়া ভবনে ৬ মরদেহ

মন্তব্য

p
উপরে