আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা
এরই মধ্যে সেই প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলার পর তিনি তা জমা দিয়েছেন। এখন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ বলছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আবার বসবে।
ঠিক যেন নওগাঁর দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাহিনি। হিজাব পরার কারণে মারধরের অভিযোগ তোলার পর তোলপাড়। পরে জানা যায়, স্কুলের পোশাক না পরে আসায় সেদিন মার খেয়েছে হিন্দু শিক্ষার্থী ও ছাত্ররাও।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক পোশাক পরে আসতে বলার পর কয়েকজন মেয়ে অভিযোগ তোলে, তাদের হিজাব খুলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। তবে পরে তদন্তে দেখা গেল, এর কিছুই হয়নি।
এক ছাত্রী লিখিত অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান।
নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসি ল্যান্ড, জোরারগঞ্জ থানার ওসি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তারা মারধরের কোনো সত্যতা পাননি।’
স্কুলটিতে মোট ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেদিন স্কুলে যা ঘটেছিল, তার সবই সেসব ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এর মধ্যে একটিতেও সেই মেয়েটির তোলা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ক্যামেরায় দেখা গেছে, তিন ছাত্রীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষক কথা বলেছেন। কিন্তু মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন অভিযোগকারী মেয়েটি বলছে, তাকে আলাদা ডেকে মারধর করা হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে সেই প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলার পর তিনি তা জমা দিয়েছেন। এখন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ বলছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আবার বসবে।
কী ছিল অভিযোগে?
ইউএনও জানান, অভিযোগ ছিল তিন ছাত্রীর। তাদের মধ্যে দুজন অভিযোগ প্রত্যাহার করলেও একজন তার সিদ্ধান্তে এখনও অটল। তাদের অভিযোগ ছিল, পিটি শেষে স্কুলের তিন ছাত্রীকে ডেকে হিজাব খুলতে বলেন জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া। হিজাব খুলতে অস্বীকৃতি জানানোয় মারধর করা হয়।
ইউএনওর কাছে পাঠানো দরখাস্তে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, অ্যাসেম্বলির পরে তাকে প্রধান শিক্ষক সবার সামনে খোলা মাঠে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। এর আগেও হিজাব পরা নিয়ে তাকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এছাড়াও ছাত্রীদের হাফ হাতা পোশাক পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে মুসলিম ছাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তদন্তে কী পাওয়া গেছে?
অভিযোগের পরদিন মিরসরাই উপজেলার এসিল্যান্ড এস এম এন জামিউল হিকমা, জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন মামুন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান ঘটনাস্থলে যান।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। তার বাসায়ও গিয়েছিলাম। তার দাবি, পিটি সেশনের পর প্রধান শিক্ষক তাকে হিজাব পরায় মারধর এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করেছেন।
‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজে অ্যাসেম্বলির পর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ঢোকার সময় প্রধান শিক্ষককে স্কুল ড্রেসের সঙ্গে স্কার্ফ পরা তিন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখেছি। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রধান শিক্ষক বেশ উত্তেজিত হয়ে তাদের কিছু একটা বলেছেন।
‘প্রধান শিক্ষক আমাদের জানিয়েছেন, ওই তিন ছাত্রীকে তিনি স্কুলের ড্রেস কোডের কথা বলেছিলেন। স্কুলের বাইরে হিজাব পরে আসলেও ভেতরে অবস্থানের সময় স্কুলের ড্রেস কোড মেনে পোশাক পরার কথা বলেছিলেন।
‘সেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর অভিযোগকারী লামিয়া কথা পাল্টায়। সে জানায়, সে সিসিটিভি ফুটেজের তিনজনের মধ্যে ছিল না। সে একা ছিল, প্রধান শিক্ষক তাকে একা ডেকে মারধর ও হেনস্থা করেছেন।’
শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যতটুকু সত্যতা পেয়েছি, তার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিয়েছি। ওই ছাত্রী হিজাব পরতে পারবে বলে জানিয়ে এসেছি।’
কী আছে সিসিটিভি ফুটেজে?
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়ের চারপাশে সংযুক্ত ৭০টি সিসি ক্যামেরা। ঘটনার দিন পিটি সেশনের পরের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে নিউজবাংলার হাতে।
ফুটেজে দেখা যায়, ২৯ মার্চ সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে পিটি শেষ হয়। এক মিনিট পর ছাত্রীরা স্কুল মাঠ থেকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকছে। ১০টা ৫৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের সময় স্কুল ড্রেসের সঙ্গে স্কার্ফ পরা তিন ছাত্রীকে ডেকে কথা বলেন সাদা শার্ট পরা প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া। এরপর ১০টা মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের সময় ওই তিন ছাত্রী শ্রেণিকক্ষে চলে যায়।
সব শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে ঢোকা শেষ হয় বেলা ১১টায়। এর দুই মিনিট পর আরেকটা ক্যামেরায় শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। তিনি প্রথমে শিক্ষক মিলনায়তনে ও পরে নিজ কক্ষের দিকে যান। এ সময় তার হাতে একটি বেত ছিল।
এরপর ১১টা ৮ মিনিটে অভিযোগকারী লামিয়া আরেক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলামের কাছে যান। এক মিনিট পর শিক্ষক রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনে যান।
শ্রেণিকক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক রবিউলের মোবাইল দিয়ে লামিয়া তার কথিত চাচার সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন। এই সময় রবিউল অন্য একটি শ্রেণিকক্ষে ঢোকেন। এর মধ্যে লামিয়া তার সেই কথিত চাচর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে না পেরে ১১ টা ১৩ মিনিটে ফোনটা ফেরত দিয়ে যান।
এরপর ১১ টা ১৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে শিক্ষক রবিউলে ফোনে লামিয়া সেই কথিত চাচার কল আসলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে লামিয়াকে তার শ্রেণিকক্ষে দিয়ে আসেন। সে শ্রেণিকক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পর ১টা ২১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে বাইরে থেকে আবার স্কুলে আসে লামিয়া। তার পেছনে তিন যুবককেও ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। বেলা ১টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে প্রধান শিক্ষকের অফিসে যান ওই তিন যুবক। তারা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। বেলা ১টা ৩৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢোকেন আরও এক যুবক। তিনিই লামিয়ার কথিত চাচা মুহিব বিল্লাহ।
চার যুবককে মারমুখী ভঙ্গীতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর ২ টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে যান তারা।
যা বললেন প্রধান শিক্ষক
প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘শুরুতে আমি বুঝতে পারিনি কোন ছাত্রী। পরে যখন তাকে পেলাম, তখন বুঝতে পারি তার সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। যে তিনজন ছাত্রীকে দেখা যাচ্ছে ফুটেজে, তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং বাকি দুই জন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী লামিয়া বিনতিহাও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু ওইখানে অষ্টম শ্রেণির যে ছাত্রী ছিল, তার নাম ফাতেমা তুজ জোহরা। এগুলো আসলে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। অভিযোগে যা বলা হয়েছে তার কিছুই হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘পিটির কিছুক্ষণ পর চারজন ছেলে অন্যান্য শিক্ষকসহ আমার সঙ্গে মারমুখি আচরণ করেছে। এর মধ্যে একজন মেয়ের কথিত চাচা, আরেকজন নাকি এমইএস কলেজে পড়ে। বাকি দুই জনকে আমি চিনি না।’
লামিয়ার কথিত চাচার বক্তব্য
লামিয়া যাকে চাচা উল্লেখ করেছে, তার নাম মহিব বিল্লাহ। তিনি স্কুলের কাছে একটি দোকান করেন এবং লামিয়ার দূর সম্পর্কীয় চাচা।
তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তার বাবা বিদেশ থাকায় স্কুলে তার অভিবাবক আমিই। ঘটনার পর লামিয়া আমাকে ফোনে জানায় বিষয়টা। আমি গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চাই। তিনি তার কথা বলেছেন। পরদিন তিনি হিজাব পরতে আর কোনো বাধা নাই বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এটা সমাধান হয়ে গেছে।’
শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা চার জন গিয়েছিলাম, সবাই সম্পর্কে ওর চাচা। আমরা শুধু হেড স্যারকে বিষয়টা জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমিই কথা বলেছিলাম, বাকিরা চুপ ছিল।’
অভিযোগকারীর বক্তব্য
অভিযোগকারী লামিয়া বিনতিহা বলেন, ‘ওইদিন হেডস্যার অ্যাসেম্বলির পর আমাকে ডেকে হিজাব পরার কারণে মারধর করেন। পরে আমি রবিউল স্যারের কাছ থেকে ফোন নিয়ে বিষয়টি বাসায় জানাই। দুপুরে আমার চাচা এসে স্যারদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’
সিসিটিভিতে কাউকে মারতে দেখা যায়নি জানালে সে বলে, ‘ওই তিনজনের মধ্যে আমি ছিলাম না। আমাকে একা ডেকেছিল স্যার।’
তাহলে সিসিটিভি ফটেজে নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না।’
তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন
গত ২৯ মার্চ অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ইউএনওকে পাঠানো দরখাস্ত গ্রহণ করেন মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম এন জামিউল হিকমা। পরদিন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন মামুন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খানসহ ঘটনাস্থলে যান।
এর মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে লামিয়ার অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য করে স্কুল পরিচালনা কমিটি। পরে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করতে অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এর বাইরে অধিকতর তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) প্রধান করে অরেকটি কমিটি করা হয়।
তদন্তের বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আবু রায়হান দোলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চাকরি নেই প্রধান শিক্ষকের
প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘ঘটনার পরদিনই তাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাকসুদ চৌধুরী। তাকে ডিসি সাহেব নাকি বলেছেন পদত্যাগপত্র নিতে, তাই তিনি আমাকে বলেছেন।’
মাকসুদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে সেসময় পরিস্থিতি বিবেচনায় ওনাকে এটা বলা হয়েছে। যেহেতু একটি সেনসিটিভ ইস্যু, তাই। আসলে আমরা তদন্ত করেছি, তার কোনো দোষ নেই। তার সঙ্গে অভিযোগকারী ছাত্রীর কোনো কথাই হয়নি। আমরা এটা নিয়ে আবার বসব।’
রুদ্র রুহান, বরগুনা
ডকইয়ার্ডের মালিক মাওলানা আব্দুল কাদের জানান, রাত ৮টার দিকে কাজ শেষ করে ডকইয়ার্ডের সারেং বাড়ি চলে যান। ১১টার দিকে হঠাৎ আগুন লেগে ইলিয়াস কোম্পানির একটি, সেলিম ফরাজীর একটি ও পনু রাঢ়ির দুইটি ট্রলার পুরোপুরি এবং এনামুল হোসাইনের একটি ট্রলার আংশিক পুড়ে যায়।
বরগুনার পাথরঘাটায় ডকইয়ার্ডে আগুন লেগে পুড়ে গেছে মাছ ধরার পাঁচটি ট্রলার।
পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আব্দুল কাদেরের ডকইয়ার্ডে রোববার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
কাদের নিউজবাংলাকে জানান, রাত ৮টার দিকে কাজ শেষ করে ডকইয়ার্ডের সারেং বাড়ি চলে যায়। ১১টার দিকে হঠাৎ আগুন লেগে ইলিয়াস কোম্পানির একটি, সেলিম ফরাজীর একটি ও পনু রাঢ়ির দুইটি ট্রলার পুরোপুরি এবং এনামুল হোসাইনের একটি ট্রলার আংশিক পুড়ে যায়।
কাদের বলেন, ‘ধারণা করছি, কেউ শত্রুতাবশত আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।’
পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয়দের সহায়তায় দেড় ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ট্রলারগুলোতে দাহ্যপদার্থ থাকায় আগুন চারপাশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি করা হবে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা-বামনা সার্কেল) তোফায়েল আহমেদ সরকার জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত করে আগুন লাগার কারণ বের করা হবে।
জহির রায়হান সোহাগ, চুয়াডাঙ্গা
মুদি দোকানি আলী আহমেদের মেয়ে রোমানা খাতুন বলেন, ‘আমি নিজে আমাদের টাকা রাখার কৌটাসহ ওই ছেলেকে ধরেছি। তাই তাকে বেঁধে সামান্য শাস্তি দিয়েছি যেন কেউ চুরির মতো অপরাধ করতে না পারে।’
চুয়াডাঙ্গায় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
দোকানদারের দাবি, তিনি টাকা চুরির সময় ওই শিশুকে হাতেনাতে ধরেছেন। তবে শিশুটি বলছে, এই দাবি সত্য নয়।
সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামে মায়ের দোয়া ফ্যাশন হাউসে রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ফেসবুকের মাধ্যমে সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্র নিউজবাংলাকে বলে, ‘আমি দুপুরে টিফিনের সময় ওই দোকানে খাবার কিনতে যাই। তারা আমাকে চুরির অপবাদ দিয়ে দোকানের সামনের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। মারধরও করে। পরে আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসে আমাকে মুক্ত করে নিয়ে যান।’
প্রধান শিক্ষক মোমিন হোসেন জানান, বেঁধে রাখার খবর শুনে তিনি গিয়ে শিশুটিকে মুক্ত করেন। এরপর তার দেহ তল্লাশি করে কোনো টাকা পাননি।
মোমিন বলেন, ‘একজন দোকানদার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এভাবে একটা শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করবেন আমি ভাবতেও পারি না। সে যদি কোনো টাকা নিতো তাহলে তিনি আমাকে জানাতে পারতেন। প্রয়োজনে আমি ক্ষতিপূরণ দিতাম। বাচ্চাটাকে কেন নির্যাতন করা হলো? কারো কাছ থেকে এমন আচরণ কেউ আশা করে না।’
মুদি দোকানি আলী আহমেদের মেয়ে রোমানা খাতুনের দাবি, ‘আমি নিজে আমাদের টাকা রাখার কৌটাসহ ওই ছেলেকে ধরেছি। তাই তাকে বেঁধে সামান্য শাস্তি দিয়েছি যেন কেউ চুরির মতো অপরাধ করতে না পারে।’
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর জানান, এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আহসান হাবীব অপু, রাজশাহী
নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম খান ওরফে অথেল। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল আলম বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওপেন হার্ট সার্জারি করা ছিল তার। ধস্তাধস্তির সময় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান।’
রাজশাহী নগরীতে মারধরের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিজামুল ইসলাম খান ওরফে অথলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নগরীর রাজারহাতা এলাকায় রোববার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
৬২ বছরের অথলের বাবা আইনজীবী নজরুল ইসলাম খান রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। অথল নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।
সোমবার সকালে নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় নিজামুল ইসলামের ছেলে সাব্বির ইসলাম রাত ১২টার দিকে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম হ্যাপীকে।’
অথলের স্ত্রী হাসনাহেনা জানান, তাদের সাত বছরের ছেলে নাজমুল ইসলাম খান অপূর্বকে কয়েক দিন আগে মারধর করে প্রতিবেশী হ্যাপীর ছেলে।
রোববার বিকেলে নিজামুল ইসলাম খান বাড়ির পাশের মুদি দোকানে বসেছিলেন। হ্যাপী সে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নিজামুল হ্যাপীকে ডেকে তার ছেলের বিষয়ে অভিযোগ দেন। এতে হ্যাপী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
হাসনাহেনার দাবি, হ্যাপী তার স্বামীকে রাস্তায় ফেলে বুকের ওপর চড়ে বসেন এবং মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা এসে ঘটনা থামালে হ্যাপী নিজে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আর নিজামুলকে সড়কের পাশে হাসনাহেনার পার্লারে নেয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।
ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পার্লারের ভেতরে নিজামুলের মরদেহ পেয়েছি। পরিবারের অভিযোগ থাকায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ এখনও সেখানেই রয়েছে।’
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল আলম বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি হার্টের রোগী। ওপেন হার্ট সার্জারি করা ছিল তার। ধস্তাধস্তির সময় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। হ্যাপীও এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।’
সবুজ হোসেন, নওগাঁ
দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হিজাব ইস্যুতে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনার ৪ দিন পর আজ স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মন থানায় জিডি করেছেন। জিডিতে অজ্ঞাতনামা দেড় শ জনকে আসামি করা হয়েছে।’
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হিজাব নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। ঘটনার ৪ দিন পর রোববার ওই জিডি করেছেন প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিতর্ক এড়াতে মামলা না করে নামমাত্র সাধারণ ডায়েরি করে দায় সেরেছেন প্রধান শিক্ষক।
এর আগে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গিয়েছিল, গত ৬ ও ৭ এপ্রিল হিজাব নিয়ে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাটি ঘটে। সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পালের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্তের বিরোধের জের ধরে ওই ঘটনা ঘটানো হয় বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।
মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, ঘটনার পর থেকেই দাউল বারবাকপুর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া কেউ যেন বিশৃঙ্খলা না ঘটাতে পারে, সে জন্য বাড়তি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়।
ওসি বলেন, ‘এ ঘটনার ৪ দিন পর আজ স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত বর্মন থানায় জিডি করেছেন। জিডিতে অজ্ঞাতপরিচয় দেড় শ জনকে আসামি করা হয়েছে।’
ধরনী কান্ত বর্মনের করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুলের একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে গুজব ছড়িয়ে গত ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার স্কুলে হামলা চালানো হয়। আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ হামলা করে স্কুলের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, স্কুলটির অনিয়ম, দুর্নীতি ও ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের মূলে ধরনী কান্ত বর্মন নিজেই। স্কুল ড্রেস না পরায় কিছু শিক্ষার্থীকে শাসন করার পর সৃষ্ট হিজাব বিতর্কের জন্য প্রধান শিক্ষককেই দায়ী করছেন তারা।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহদত হোসেন রতন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিজেকে বাঁচাতে দায়সারাভাবে জিডি করেছেন আজ। জিডি করার মাধ্যমে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাচ্ছেন। তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন, স্কুলের হিজাব ইস্যুতে তার কোনো হাত নেই। তিনি শান্তির পক্ষে আছেন। কিন্তু সবাই জানে তার সব কুকীর্তির কথা।’
থানায় জিডির বিষয়ে ধরনী কান্ত বর্মন বলেন, ‘এই স্কুলে আমি ২০১০ সাল থেকে কর্মরত। কিন্তু গত ৭ তারিখে হিজাব ইস্যুকে কেন্দ্র করে স্কুলে হামলা চালানো হয়। আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ হামলা করে স্কুলের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে। এ জন্যই আমি জিডি করেছি। হামলা ও ভাঙচুরে যারা জড়িত তাদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মহাদেবপুরের ইউএনও বলেন, ‘দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা আমরা পাইনি। একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে বলে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে। তখন বিস্তারিত বলা যাবে। এখন তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল বুধবার সকালে দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পালের বিরুদ্ধে স্কুল ড্রেস না পরায় শিক্ষার্থীদের পেটানোর অভিযোগ ওঠে। পরে একটি মহল ওই ঘটনায় হিজাব অবমাননার গুজব ছড়ালে স্কুলটিতে হামলার ঘটনা ঘটে।
মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মন্দিরে চুরির অভিযোগে আটক ছায়েদা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, ওই নারী শাখা-সিঁদুর পরে হিন্দু পরিচয়ে মন্দিরে যান। সেখানে কয়েক নারীর সোনার চেন চুরি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি মন্দিরে চুরির অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ উঠেছে, ছায়েদা বেগম নামে ওই নারী শাখা-সিঁদুর পরে মন্দিরে যান, সেখানে পূজায় থাকা নারীদের সোনার চেন চুরি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম ছায়েদাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, কান্দিপাড়ায় রঘুনাথ জিউর মন্দিরে বাসন্তিপূজা চলছিল। সেখানে ওই নারী সাথী রায় পরিচয়ে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েক নারী। তারা একাধিক নারীর সোনার চেন চুরি করেন। একপর্যায়ে ভক্তদের কাছে ধরা পড়েন সাথী। পুলিশ গেলে তিনি নিজের নাম ছায়েদা বেগম বলে জানান।
ওসি জানান, ছায়েদার বাড়ি নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল এলাকায়। তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আসাফ-উদ-দৌলা নিওন, বগুড়া
গ্রেপ্তারের পর মামলার তিন নম্বর আসামি বিজয়।
মামলার বরাতে জানা গেছে, ১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ২১ বছর বয়সী শেরপুরের এক নারীকে বিয়ের কথা বলে শাহাদত হোসেন নন্দীগ্রামে নিয়ে আসেন। মাস খানেক আগে ওই নারীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শাহাদত।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় বিজয় নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বগুড়া শহরের শহীদ খোকন পার্ক এলাকা থেকে রোববার বিকেল ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২৪ বছরের বিজয় নন্দীগ্রাম উপজেলার কলেজপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মামলাটির তিন নম্বর আসামি। এ নিয়ে ওই ঘটনায় চার আসামি গ্রেপ্তার হলেন।
নন্দীগ্রাম থানার তদন্ত পরিদর্শক আশরাফুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে বগুড়া শহরের শহীদ খোকন পার্কের সামনে থেকে বিজয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে থানা হেফাজতে রাখা আছে। সোমবার আদালতে পাঠানো হবে।
মামলার বরাতে জানা গেছে, ১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ২১ বছর বয়সী শেরপুরের এক নারীকে বিয়ের কথা বলে শাহাদত হোসেন নন্দীগ্রামে নিয়ে আসেন। মাস খানেক আগে ওই নারীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শাহাদত।
শাহাদত বিবাহিত এবং তার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতারণার খবর পেয়ে সে সময় বিয়ে নাকচ করেন ওই তরুণীর বাবা। বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে দিলেও শাহাদত ওই নারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন।
সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে আবার বিয়ের কথা চূড়ান্ত করতে তাকে শুক্রবার নন্দীগ্রামে ডাকেন শাহাদত।
ওসি জানান, শাহাদতের সঙ্গে ওই তরুণী প্রথমে কুন্দারহাট বাজারে যান। সেখানে চা খেয়ে সন্ধ্যার পর রিধইল গ্রামের দিকে রওনা দেন। কিন্তু ওই নারী যেতে না চাইলে তাকে জোর করে শাহাদত ধানের জমির আইল দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহাদত ওই নারীকে উপজেলার রিধইল গ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে কলেজপাড়ার মনির হোসেন, বিজয় ও রাকিবুল ইসলাম তাদের পথরোধ করে। এই যুবকরা হযরত আলী ও সুমন আলীর হয়ে কাজ করেন। পরে তারা দুই গ্রুপ হয়ে তরুণীকে সেখানে ধর্ষণ করেন।’
রাতে ওই তরুণী থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে রাতেই শাহাদতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার সকালে হযরত ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আনোয়ার দাবি করেন, হযরত ও সুমনের গ্রুপটির সম্পর্কে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ আছে। তারা বিভিন্ন সময় মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করতেন। সুদের ওপর টাকা দিয়ে মানুষকে জুলুম করার খবরও রয়েছে পুলিশের কাছে।
তিনি বলেন, ‘ওই নারী প্রথম দিকে খুব ভয় পেয়েছিলেন। ঠিক করে কিছু বলতে পারছিলেন না। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বিস্তারিত জানান। মেয়েটির পরিবার খুব গরিব।’
অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
আব্বাস হোসাইন, লক্ষ্মীপুর
সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট এলাকার মেঘনা নদীতে রোববার ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন, গুলিবিদ্ধ ৩ জনসহ আহত হন অন্তত ১৬ জন।
লক্ষ্মীপুরে নৌপুলিশ ও জেলেদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় ১১ জনের নামে মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪৫ জনকে।
এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আটক ১০ জেলেকে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানায় রোববার রাতে মামলাটি করেছেন মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম।
নিউজবাংলাকে তিনিই বিষয়টি জানিয়েছেন।
সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট এলাকার মেঘনা নদীতে রোববার ভোরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন, গুলিবিদ্ধ ৩ জনসহ আহত হন অন্তত ১৬ জন।
নৌপুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণে সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় ৪০ থেকে ৫০ জন জেলে পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি করে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়।
আহতদের সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে আমির হোসেন নামে এক জেলেকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান।
আহত জেলে সাইদুল ইসলামের দাবি, তারা মাছ ধরতে যাননি, নদী পার হচ্ছিলেন। এ সময় নৌপুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায় ও গুলি করে। এতে তারা তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ১১ জন আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ আমিরের মৃত্যু হয়।
আরেক জেলে মনির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌপুলিশের দাবি করা মাসিক চাঁদা না দেয়ায় তারা আজকে হামলা চালিয়েছে।’
মন্তব্য