× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
A flock of dead jellyfish on the beach but why is it immortal?
hear-news
player
google_news print-icon

সৈকতে একঝাঁক মৃত জেলিফিশ, তবু এটি ‘অমর’ কেন?

সৈকতে-একঝাঁক-মৃত-জেলিফিশ-তবু-এটি-অমর-কেন?
কুয়াকাটা সংলগ্ন চরবিজয়ে মৃত জেলিফিশ। ছবি: নিউজবাংলা
প্রায় ৭০ কোটি বছর ধরে সমুদ্রে বিচরণ করছে জেলিফিশ। সামুদ্রিক বিভিন্ন প্ল্যাঙ্কটন, মাছের ডিম ও লার্ভা খেয়ে এরা বাঁচে। বিজ্ঞানীরা এই প্রাণীটিকে ‘অমর’ আখ্যা দিয়েছে। তাহলে দেশের সৈকতগুলোতে শত শত জেলিফিশ মরতে দেখা যাচ্ছে কীভাবে?

জেলিফিশকে ‘অমর’ বলেছেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের গবেষকরা। অর্থাৎ সামুদ্রিক এই প্রাণীটির মৃত্যু নেই।

কিন্তু বাংলাদেশের কুয়াকাটা ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন সৈকতের বালিতে জেলিফিশকে প্রায়ই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এবার পটুয়াখালীর কয়েকটি চরে যেন জেলিফিশের মৃত্যুর মহামারি শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বালিতে আটকে জেলিফিশের মৃত্যু অনেকাংশেই বেশি।

গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে কুয়াকাটাসংলগ্ন চরবিজয়, জাহাজমারা আর সোনারচর সৈকতে মৃত অবস্থায় অসংখ্য জেলিফিশ দেখা গেছে।

সাগরে মাছ ধরায় নিয়োজিত একাধিক জেলে এবং মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূলত ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে এসেই সৈকতের বালুতে আটকা পড়ে মরছে জেলিফিশগুলো।

বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা কুয়াকাটাসংলগ্ন নতুন চরবিজয়কে অনেকে ব-দ্বীপও বলেন। শীত মৌসুমে সাগরে মাছ ধরে এই চরেই মাছ বিক্রি করেন আবু হানিফ। কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকার এই জেলে বলেন, ‘জাল থেকে মাছ ছাড়িয়ে চরে বসেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেই। তখন দেখা যায়, বেশ কিছু জেলিফিশও মাছের সঙ্গে আটকা পড়েছে। তখন আমরা সেগুলো চরেই ফেলে দেই।’

মাছের অপেক্ষায় দুই-তিন ঘণ্টা ওই চরে দাঁড়িয়ে থাকা পাইকার সোবাহান বলেন, ‘জোয়ারের সময় সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে অনেক জেলিফিশ ভেসে আসতে দেখি। স্রোতের টানে কিছু নেমে গেলেও অধিকাংশই বালুতে আটকে যায়। তখন প্রত্যেকটি জেলিফিশের চারপাশে সামান্য গর্তের মতো সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কিছুক্ষণ নড়াচড়া করেই জেলিফিশটি মারা যায়।’

জেলিফিশের একই ধরনের মৃত্যুর বর্ণনা দিলেন বরিশাল থেকে চরে ঘুরতে যাওয়া পর্যটক তাসকিন মাহমুদও।

সৈকতে একঝাঁক মৃত জেলিফিশ, তবু এটি ‘অমর’ কেন?
স্থানীয়দের মতে, অন্য সময়ের তুলনায় এবার সৈকতে জেলিফিশের মৃত্যুর ঘটনা বেশি

উপকূলীয় জলজ প্রাণী নিয়ে কাজ করা কুয়াকাটার আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি, লেম্বুরবন, খাজুরা এলাকায় প্রায়ই জেলিফিশ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সময়ভেদে এমনটি কমবেশি দেখা যায়। তাই এবার বেশি মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক কিছু নয়।’

মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “নামে ‘ফিশ’ থাকলেও, মাছের মতো মেরুদণ্ড নেই জেলিফিশের। তাই এরা স্রোতের বিপরীতে চলতে পারে না। এ জন্য ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতে চলে এলে এরা অনেক সময় ফিরে যেতে পারে না। বালুর সঙ্গে এর শরীর আটকে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়।”

বছরভেদে জেলিফিশ মৃত্যু কম-বেশি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গভীর সাগরে লবণাক্ততা বেড়ে গেলে জেলিফিশরা সাধারণত কম লবণাক্ত এলাকায় ছুটে যায়। গভীর সমুদ্র থেকে লবণাক্ততা কম থাকায় এরা অনেক সময় উপকূলের দিকে ছুটে আসে। পরে ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের বালুতে আটকে এদের মৃত্যু ঘটে।’

হঠাৎ জেলিফিশের মৃত্যু বাড়ার বিষয়ে কামরুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুমে সাগরে মাছ কম ধরা পড়ায় জেলেরা গভীর সাগরের তুলনায় উপকূলবর্তী এলাকায় বেশি জাল ফেলেন। তাদের জালেও জেলিফিশ ধরা পড়ে এবং জালের প্যাঁচেই অধিকাংশ মারা যায়। পরে জেলেরা সৈকতে জাল তুলে মাছগুলো পাইকারদের কাছে বিক্রি করলেও, জালে আটক জেলিফিশগুলো তারা সৈকতেই ফেলে দেয়।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, ‘এটি আশঙ্কার কিছু নয়। তারপরও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।’

এবার প্রশ্ন আসতে পারে- বিভিন্ন সৈকতে অহরহ জেলিফিশ মরতে দেখা গেলেও এটিকে গবেষকরা ‘অমর’ প্রাণী বলেন কোন হিসেবে।

আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরি’র তথ্যমতে, একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য জেলিফিশকে অমর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন গবেষকরা।

তাদের মতে, সত্যিকার অর্থেই নিজেকে অমর করে রাখতে পারে জেলিফিশ। মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা থাকলে এরা নিজের বয়স কমিয়ে ফেলতে পারে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের গবেষকরা জানিয়েছেন, যদি কোনো জেলিফিশের শরীরের কোনো অংশে আঘাত লাগে, তবে এরা সঙ্গে সঙ্গে ‘পলিপ দশা’য় চলে যায়। চারপাশে মিউকাস মেমব্রেন তৈরি করে গুটি বাঁধে পলিপের আকারে। এই পলিপ অবস্থায় এরা তিন দিন পর্যন্ত থাকে। আর এভাবেই এরা বয়স কমিয়ে ফেলে।

এই সময়ের মধ্যে শরীরের সব কোষকে নতুন কোষে রূপান্তর করে জেলিফিশটি। এভাবেই বারবার রূপান্তরের মাধ্যমে এরা বার্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখে।

তবে, অন্য কোনো বড় মাছ এদের খেয়ে ফেললে কিংবা বড় কোনো রোগে আক্রান্ত হলে কিংবা সৈকতে আটকে যাওয়ার মতো কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে প্রায় সময়ই জেলিফিশের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে এদের মৃত্যু হয় না। অর্থাৎ দুর্ঘটনায় না পড়লে একটি জেলিফিশের চিরদিন বেঁচে থাকার ক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে বংশবিস্তারের ক্ষমতাসম্পন্ন জেলিফিশগুলোকেই একমাত্র অমর বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই জেলিফিশগুলো মূলত ভূমধ্যসাগর ও জাপানের সমুদ্রে দেখা যায়। জাপানের কিটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করছেন।

আরও পড়ুন:
ঘরে এলো জেলিফিশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A Bangladeshi youth was killed in an explosion in Saudi Arabia

সৌদিতে বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সৌদিতে বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত ফয়সাল আহমেদ রানা। ছবি: সংগৃহীত
ফয়সালের বাবা ইদু মিয়া জানান, শুক্রবার ফয়সাল তার মামার সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন তার মামার দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফয়সাল উড়ে গিয়ে সড়কে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে দোকানের ভেতর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ফয়সাল আহমেদ রানা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় এ ঘটনা ঘটে। ৩২ বছর বয়সী ফয়সাল কুমিল্লা নগরীর হযরতপাড়া এলাকার ইদু মিয়ার ছেলে।

ইদু মিয়া জানান, তার এক মেয়ে এক ছেলের মধ্যে ফয়সাল বড়। ২০০৮ সালের দিকে ফয়সাল সৌদিতে যান। সেখানে তার মামারাও থাকেন। শুক্রবার ফয়সাল তার নিজের দোকান থেকে মামার দোকানে যান দেখা করতে। তখন তার মামার দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ফয়সাল উড়ে গিয়ে সড়কে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তিনি বলেন, ‘ফয়সালের এক ছেলে এক মেয়ে। আমার নাতি-নাতিন এতিম হয়ে গেল। আমি সন্তান হারা হয়ে গেলাম।’

কুমিল্লা জনশক্তি রপ্তানি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনেছি। নিহতের পরিবার যেন ক্ষতিপূরণ পায় সে জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
গাংনীতে বিস্ফোরণে মামলা, বিএনপির ২০ নেতা-কর্মী আসামি
গাংনীতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ: বোমার মতো ৩টি বস্তু উদ্ধার
বোমা বিস্ফোরণের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
বেলুনে হাইড্রোজেন গ্যাস, ঝুঁকিতে শিশুরা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dont scare A League by showing rally Farooq Khan

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান

স‌মাবেশ দেখিয়ে আ.লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না: ফারুক খান টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে শুক্রবার বি‌কে‌লে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের স‌ম্মেল‌ন উদ্বোধন করেন কর্নেল (অব.) ফারুক খান। ছবি: নিউজবাংলা
ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

বিএন‌পি‌ নেতাদের উ‌দ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, ‘স‌মাবেশ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ‌কে ভয় দেখা‌বেন না। আওয়ামী লীগ জা‌নে কীভা‌বে স‌মাবেশের মাধ্যমে, নির্বাচনের মাধ্যমে জিততে হয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হয়।’

শুক্রবার বি‌কে‌লে গাজীপু‌রের টঙ্গী সরকারি ক‌লেজ মাঠে টঙ্গী পূর্ব ও প‌শ্চিম থানা আওয়ামী লী‌গের ত্রি-বা‌র্ষিক স‌ম্মেল‌নে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক খান বলেন, ‘ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী যে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে তা আপনাদের বন্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য জানাতে হবে। কোনভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অগ্রগতি তা যেন বিএনপি জামায়াতের গুজব, মিথ্যাচারে থমকে না যায়।’

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এখনই কমিটি গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক খান।

সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই দুই থানায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান আজমত উল্লাহ খান।

বিএনপি সূত্র জানায়, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে বিভাগীয় সমাবেশ করছে বিএনপি। এ পর্যন্ত আটটি সমাবেশ হয়েছে। শনিবার নবম সমাবেশটি হচ্ছে রাজশাহীতে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People cannot walk freely in the mountains

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির ২৫ বছরেও হয়নি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ফাইল ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে এক গণসমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘পাবর্ত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে বিতারণের চেষ্টায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এই বাহিনী, সেই বাহিনী, পঞ্চম বাহিনী গড়ে তোলে সমাধান নয়। যাদের সাথে চুক্তি করেছেন, তাদের সঙ্গে আরও বসেন।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন উষাতন তালুকদার।

তিনি আরও বলেন,‘সন্তু লারমাকে বলা হচ্ছে দেশদ্রোহী। তিনি দেশপ্রেমিক। দেশপ্রেমিক বলে ২৫ বছর ধরে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অপক্ষো করে আছেন। সরকারকে বুঝতে হবে। সন্তু লারমা হয়তো মান অভিমান, ক্ষোভ, দুঃখ-বেদনার দুই-একটি কথা বলেছেন বলে কি উনি আপনাদের শত্রু হয়ে গেলেন নাকি?

‘পাহাড়ের মানুষ বাংলাদেশকে ক্ষতি করবে না। বরং আদিবাসীরা বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছে। নারী ফুটবল খেলোয়ার রিতুপর্ণা চাকমা, গোলরক্ষক রূপনা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনুচিং, আনাই, ময়মনসিংহের মারিয়া মান্ডা ও বক্সার সুরকৃষ্ণ চাকমা– এরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত হয় দিনটি।

গণসমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ডাক্তার গঙ্গা মানিক চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মামুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা ও যুব হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী শান্তি দেবী তনচংগ্যা।

‘পাহাড়ে মানুষ ইচ্ছেমতো চলতে পারে না’

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য তিন জেলা সামরিক শাসনের মতো পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ জনগণ নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারে না। রাতে টর্চলাইটের আলোতেও চলাফেরা করা যায় না।

তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এত বড় শক্তিশালী নয় যে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। বরং আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরে স্বার্থ আদায় করে যাচ্ছেন। জেলা পরিষদের নির্বাচন না করে নিজেদের দলীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের চেয়ারে বসানো হচ্ছে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগের লোকেরা ভোগ করছেন। সরকার চাইলে এসব কিছু সমাধান দিতে পারত। ভূমি কমিশন আইন হলেও সরকারের সদিচ্ছা না থাকায় এ কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন হচ্ছে না। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ভূমি সমস্যা নিরসন হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
২৫ বছরে শান্তি কি ফিরেছে পাহাড়ে?
পাহাড়ে শান্তির কপোত কি অধরা?

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Brazil defeated Argentina in the field

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল

জবিতে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল খেলার আগে দুই পক্ষের খেলোয়াড়রা। ছবি: নিউজবাংলা
খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দল সমর্থনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। িএ ম্যাচে ব্রাজিল দল জয়লাভ করেছে।

শুক্রবার বিকেলে কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মাঠে ওই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

খেলায় প্রথম থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল সমর্থকরা। খেলা শুরুর ১০ মিনিটে রাজুর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল সমর্থক দল। এরপর আর্জেন্টিনা সমর্থক দল তাদের আক্রমণ শক্তিশালী করার চেষ্টা করলে ১৬ মিনিটে রাজুর আরও একটি গোল হজম করে তারা।

দুই গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা দল চেষ্টা চালাতে থাকে গোল পরিশোধ করার। খেলার ২০ মিনিটে আসে সফলতাও। গোল করে ব্যবধান কমান আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের জাহিদ। পরে আর কোনো গোল না হওয়ায় ব্রাজিল সমর্থক দল জয়ী হয়।

খেলা শেষে ব্রাজিল সমর্থক দলের অধিনায়ক নাজমুল সাগর বলেন, ‘আমরা একটি প্রীতি ম্যাচ খেললাম। বিভাগের প্রত্যেকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মজবুত করতে আজকের এ প্রীতি ম্যাচ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি।’

আর্জেন্টিনা সমর্থক দলের অধিনায়ক তাজ হাসান বলেন, ‘একটি খেলায় হার-জিত থাকবেই। খেলা খেলার জায়গায়। এর জন্য আমাদের বন্ধুত্ব বা ভাইয়ের সম্পর্ক নষ্ট হোক এটা আমরা চাই না। প্রীতি ম্যাচ আনন্দ করার জন্যই।’

খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘খেলা আমাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের যে উত্তেজনা তা আরও বেড়েছে এই প্রীতি ম্যাচে।’

এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে খেলা যেন এই মাঠের মধ্যেই থাকে। এ খেলার জন্য কেউ কারোর ওপর মনোমালিন্য যেন না হয়।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদার।

আরও পড়ুন:
জবিতে যিশুখ্রিষ্টের প্রাক-জন্মদিন উদযাপন
জবিতে ভর্তির তৃতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ গ্রাফিতি
গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পেলেন জবির ৩০ শিক্ষক
জবি ক্যাম্পাসে বদ্ধ নর্দমা, মশার রাজত্ব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another girls body hanging in the washroom of the madrasa after a month and a half

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ
দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

নরসিংদীর মাধবদীতে একই মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে দুই ছাত্রীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দুটি ঘটনাকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে। তবে সবশেষ ঘটনাটিকে মৃত শিশুর পরিবার হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচরে কুঁড়েরপাড় জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদ্রাসায় এই দুটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার শৌচাগারে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাওয়া যায় ১০ বছরের মাইশা আক্তারের ঝুলন্ত দেহ। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর এই মাদ্রাসার শৌচাগারে পাওয়া যায় ১৪ বছর বয়সি আফরিন আক্তারের ঝুলন্ত দেহ।

মাধবদী থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত মাইশার বাড়ি মাধবদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে শুক্রবার। এদিন সন্ধ্যায় তাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিচারের পাশাপাশি মাদ্রাসাটি বন্ধের দাবিও তুলেছেন তারা।

আরও পড়ুন: মেয়েকে জোর করে মাদ্রাসায় পাঠালেন বাবা, পেলেন মৃতদেহ


মাদ্রাসার মুহতামীম মুফতি আসানউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় ছাত্রীরা এস্তেঞ্জা করতে গিয়ে মাইশাকে শৌচাগারের পানির পাইপের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে হুজুর ও খাদেমকে জানায়। শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমিই মাইশাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেই। ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

‘লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বাদ আসর ভগীরথীপুর কবরস্থানে মাইশার দাফন হয়।’

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল নিউজবাংলাকে জানান, ‘আমি শেখেরচর হাটে ছিলাম। শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করে। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো, আমি বলতে পারছি না।

‘মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে বলেই শুনেছি, মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেছেন।’

শিশু মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ‘মাইশার বাবা নেছারউদ্দিন সকালে মেয়েকে মাদ্রাসায় গিয়ে নাস্তা করিয়ে রেখে আসে। পরে দুপুরে পারিবারিক একটি দাওয়াতে মাইশার পরিবারসহ আমরা আত্মীয়ের বাড়িতে যাই।

‘বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার হুজুরদের ফোন থেকে কল করে জানানো হয় আপনাদর মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি, আপনারা আসেন। সবাই গিয়ে দেখতে পায় মাইশা মৃত। ডাক্তার জানায় মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

শিশুর ফুপা আইনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায় এটা একটা হত্যা। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

মাইশার মায়ের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা এতে জড়িত; তাদের মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল বৃহস্পতিবার রাতেই পরিদর্শন করেছেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মাধবদী থানার ওসি।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইশার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি জানিয়ে ওসি বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

দুই ছাত্রীর মরদেহ একইভাবে মাদ্রাসায় পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি দুর্ঘটনা বলেই জানালেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায় কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, আমরা বুঝতে পারিনি।’

মাদ্রাসার শৌচাগারে দেড় মাসের ব্যবধানে আরেক মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

দেড় মাস আগে মৃত আফরিনের বাড়ি সদর উপজেলার মাধবদী থানার দড়িগাজীরগাঁও এলাকায়। সে ওই মাদ্রাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষে পড়ত। তার বাবার নাম ডালিম মিয়া।

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আসানউল্লাহ সে সময় নিউজবাংলাকে জানান, সেদিন সকাল ৮টার কিছু আগে আফরিনকে নিয়ে আসেন তার বাবা ডালিম। আফরিন মাদ্রাসার গেট দিয়ে ঢুকতে চাচ্ছিল না। তাকে জোর করে ভেতরের দিকে ঠেলে দিতে দেখা যায় ডালিমকে।

মাদ্রাসার গেটম্যান ইদ্রিস আলী সে সময় নিউজবাংলাকে বলেন, “বাড়ি থেকে নির্যাতন করে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় নিয়ে এসেছিলেন বাবা। এ সময় আফরিন বলছিল, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করব না, বেশি জোর করলে ফাঁস লাগিয়ে মারা যাব।’

“তখন আমার সামনেই তার বাবা বলছিল, ‘মরলে মাদ্রাসার ভেতরেই মর, আমি এসে মরদেহ নিয়ে যাব।’ এর আগেও অনেকবার জোর করে মেয়েকে এখানে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।”

শিক্ষক আসানউল্লাহ ও আফরিনের সহপাঠীরা জানায়, মাদ্রাসায় এসে সকালে যথারীতি ক্লাস করছিল আফরিন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চারতলার শৌচাগারে যায় সে। এরপর আর ক্লাসে ফিরে না আসায় কয়েকজন ছাত্রী তাকে খুঁজতে যায়।

তারা শৌচাগারে আফরিনকে দেয়ালের পাইপের সঙ্গে নিজের ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা গিয়ে তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আফরিনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আছে কি না জানতে ওসিকে কল করা হলে ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে কল কেটে দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে. এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ নিউজবাংলাকে জানান, ওই ঘটনায় আফরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার কারণ তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
শিশু পর্নোগ্রাফি: গুগলের তথ্যে ধরা বরগুনার মাদ্রাসাছাত্র
যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ, হারপিক পান তরুণীর
ডেমরায় কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ
শিশুকে মাদ্রাসার ভেতরে ধর্ষণ, নিরাপত্তাকর্মী গ্রেপ্তার
মা-মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা: অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest 4 with cocktail in Bisik area

বিসিক এলাকায় ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৪

বিসিক এলাকায় ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৪ কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অস্ত্রসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাগিচাগাঁও এলাকার নয়ন চক্রবর্তী, অশোকতলা বিসিক এলাকার রবিউল হোসেন, একই এলাকার ইয়াছিন হোসেন মাসুম, দৌলতপুর কলোনি এলাকার গোলাম হোসেন সজিব।

কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় দেশীয় অস্ত্র, ককটেল ও ইয়াবাসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদেরকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হানিফ সরকার এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাগিচাগাঁও এলাকার নয়ন চক্রবর্তী, অশোকতলা বিসিক এলাকার রবিউল হোসেন, একই এলাকার ইয়াছিন হোসেন মাসুম, দৌলতপুর কলোনি এলাকার গোলাম হোসেন সজিব।

পুলিশ কর্মকর্তা হানিফ সরকার বলেন, ডিসেম্বরের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরীতে অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের কাছ থেকে প্রচুর দেশীয় অস্ত্র, ১৪টি ককটেল, ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল, আহত পুলিশ
বিএনপির মিছিল থেকে ককটেল হামলার অভিযোগ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪
ছাত্রলীগের বহরে বিস্ফোরণ: যুবদল নেতাসহ ১২ জনের নামে মামলা
ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল বহরে ককটেল হামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP is afraid of Suhrawardy Udyan Obaidul Quader

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ভয় পায় বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ভয় পায় বিএনপি: ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের সমাবেশ ৮ থেকে ৬ ডিসেম্বর নিয়ে এসেছি। অনুরোধ করেছি পরিবহন চালু রাখার। তারপরও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে তাদের ভয় কেন? তারা মনে হৃদয়ে চেতনায় মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে না।’

বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘যেখানে পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে, যেখানে স্বাধীনতার অন্যতম ভাষণ দেয়া হয়েছে, সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বিএনপির ভয় পায়। কারণ তারা হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে না।’

নিজ এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাস, আগুন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। সাম্প্রদায়িকতার বিশ্বস্ত ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি। তারা জানান দিচ্ছে আন্দোলনে সহিংসতার উপাদান যুক্ত হবে। এতে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত।

‘আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরা অশান্তি চাই না। ছাত্রলীগের সমাবেশ ৮ থেকে ৬ ডিসেম্বর নিয়ে এসেছি। অনুরোধ করেছি পরিবহন চালু রাখার। তারপরও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে তাদের ভয় কেন? তারা মনে হৃদয়ে চেতনায় মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে না।’

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘অর্থপাচারে দণ্ডিত, মুচলেকা দিয়ে যে দেশ ছেড়েছে সে বলে, হাসিনা পালাবে, মন্ত্রীরা পালাবে, সে ২০০৮ সাল থেকে পলাতক। সে সম্মানের সঙ্গে শেখ হাসিনার নাম নেয় না। সে একটা বেয়াদব।

‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। তাদের পুনর্বাসিত করেছে। আর তারেক রহমান হাওয়া ভবন থেকে চক্রান্ত করে বঙ্গবন্ধুকন্যার ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে।

‘তারেক রহমানের লোকেরা এখানে আমাদেরকে ভয় দেখান তারেক রহমান আসবে বীরের মতো। কাপুরুষের মতো যে পালিয়ে গেছে। সে বীরের মতো আসবে। এত বছরে যা ঘটল না। এখন ঘটবে সেটা বিশ্বাস হয় না।’

উপজেলার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষমা মহত্তের লক্ষণ। আমি বড় হয়েছি। বড় গাছে বড় আঘাত আসে। সেটা সহ্য করার ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। সংকটের সময় এমনও দিন গেছে আমি ঘর থেকে বের হইনি। লজ্জায় নেত্রীর সঙ্গে দেখা করিনি। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও করিনি।

‘আমি শুধু একটা কথা বলবো, আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। যারা কোম্পানীগঞ্জে আতঙ্কে ছিলেন, যে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে আমাকে বারবার ফোন করতেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই। কোম্পানীগঞ্জবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাই। আমি বলবো, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ওইসব দিনের দুর্ভোগ ও যন্ত্রণার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমরা তো রাজনীতি করি মানুষের জন্য।’

সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জাকে সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
সম্মেলনে বিশৃঙ্খলায় ছাত্রলীগ, ক্ষোভ কাদেরের
বিএনপির খবর আছে: কাদের
সড়কে আ.লীগের মঞ্চ, ক্ষোভ নগরবাসীর
সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের
সমাবেশ ঘিরে অপরাজনীতি হলে রাজপথেই জবাব: মেয়র লিটন

মন্তব্য

p
উপরে