× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
34 vice chancellors are resigning at once?
hear-news
player
print-icon

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?

একযোগে-পদত্যাগ-করছেন-৩৪-উপাচার্য? বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের একযোগে পদত্যাগের হুমকির তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে। এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হলে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগ করবেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। এর মধ্যে ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে।

এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

উন্নয়নকর্মী ও কলাম লেখক শরিফুল হাসান তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে শনিবার বিকেলে লিখেছেন, ‘৩৪ জন একযোগে পদত্যাগ করলে এই জাতি খুব খুশি হবে। কিন্তু ৩৪ জন তো দূরের কথা, একজনও পদত্যাগ করবেন না। বরং যেকোনো মূল্যে পদে থাকতে এরা কী করেন, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি। এদের মতো আত্মমর্যাদাহীন খুব কম আছে। মর্যাদা থাকলে এরা নিজেরাই চলে যেতেন!’

একযোগে উপাচার্যদের পদত্যাগের হুমকির তথ্যের উৎস জানতে চাইলে শরিফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক সুপন রায়। এরপর সেই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকম শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সুপন রায়ের স্ট্যাটাস ও আমাদের সময় ডটকমের প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
ফেসবুকে সাংবাদিক সুপন রায়ের স্ট্যাটাস

সাংবাদিক সুপন রায় ফেসবুকে এ স্ট্যাটাসটি দেন বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে। এতে তিনি লেখেন, ‘৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করবেন! প্রচণ্ড অস্বস্তিতে আছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় আজ ৩৪ উপাচার্য একত্রে বসেছেন। বক্তব্য রেখেছেন ২২ জন। সম্মানজনক সমাধান জরুরি।’

সুপন রায়ের এই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১২টা ২৯ মিনিটে ‘সুপন রায়: ৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করব!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমাদের সময় ডটকম। এই প্রতিবেদনে সুপন রায়ের স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য এতে নেই।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
সুপন রায়ের স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদন

এর পরই বিষয়টি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমধ্যমে। সংবাদকর্মী মুকিমুল আহসান হিমেল ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘৩৪ জন ফরিদ নাকি এক হয়েছিলেন ভার্চুয়ালি। ঐতিহাসিক এই ফরিদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত- পদত্যাগ করতে হলে ৩৪ জন উপাচার্য একসাথেই করবেন। সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা ফরিদের তরে!’

কাজল দাস নামে একজন লিখেছেন, ‘কত বড় কালপ্রিটরা এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় চালায় দেখেন। ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেছেন, সাস্টের ভিসির পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। দরকার হলে তারা একযোগে পদত্যাগ করবেন। কীভাবে এরা ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছেন, একবার ভাবেন। দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এখন আন্দোলনে নামা উচিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাল, ডাল কিংবা গার্মেন্টস মালিকদের সিন্ডিকেইটবাজির বিষয় নয়। এইসব মাফিয়া ভিসির হাত থেকে ক্যাম্পাস সুরক্ষা করতে গণজোয়ারের বিকল্প নেই।’

রাজু নুরুল নামে একজন লিখেছেন, ‘শাহজালালের ভিসিকে পদত্যাগ করতে হলে নাকি ৩৪ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একযোগে পদত্যাগ করবেন। এটা শোনার পর থেকে আমি শুধু নিলুফার ইয়াসমিনের গাওয়া সেই গানটাই বারবার শুনছি- এত সুখ সইবো কেমন করে...’

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
৩৪ উপাচার্যের একযোগে পদত্যাগের গুজব ছড়িয়েছে ফেসবুকে

তবে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দাবি, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থান তারা নেননি।

উপাচার্যদের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ৩৪ জন উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি বা এ বিষয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।’

ফেসবুকে ছড়ানো তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ গুজব, মিথ্যা ও বানোয়াট।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই বৈঠকে ছিলাম। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমানও ছিলেন ওই বৈঠকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল কি পরশু বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের একটি সভা হয়েছিল। তবে আমি মিটিংয়ের একদম শেষে জয়েন করেছি।’

৩৪ উপাচার্যের পদত্যাগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু শুনিনি। সবার শেষে জয়েন করাতে অনেকের বক্তব্যও শুনতে পাইনি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কোনো মিটিংয়ে ছিলাম না। এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি জানি না। বৈঠকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হলে তো আমাকে জানানো হতো।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সভার আমন্ত্রণ পেয়েছি। তবে অসুস্থ থাকায় উপস্থিত ছিলাম না।’

সংবাদিক সুপন রায় কোন উৎস থেকে এমন তথ্য পেলেন তা জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন:
শাবিতে পুলিশি আচরণ দুঃখজনক: শিক্ষামন্ত্রী
‘জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েরা’: প্রতিষ্ঠিত ও বিকল্প ডিসকোর্স
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শাবি শিক্ষকদের বৈঠক
শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবিতে প্রতীকী অনশন
এবার কাফনের কাপড় পরে মিছিলে শাবি শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Hanif Sanket did not get involved in the road accident

সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েননি হানিফ সংকেত, ফেসবুকে তথ্য গুজব

সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েননি হানিফ সংকেত, ফেসবুকে তথ্য গুজব জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত। ছবি: সংগৃহীত
হানিফ সংকেতের দীর্ঘদিনের সহযোগী মিঠু কিবরিয়া জানিয়েছেন, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সুস্থ আছেন আলোচিত টিভি ব্যক্তিত্ব।   

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘‌ইত্যাদি’র উপস্থাপক হানিফ সংকেত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকে, তবে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

হানিফ সংকেতের দীর্ঘদিনের সহযোগী মিঠু কিবরিয়া জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুস্থ আছেন আলোচিত টিভি ব্যক্তিত্ব।

মিঠু নিউজবাংলাকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বলেন, ‘হানিফ সংকেত সুস্থ আছেন। তিনি বাসা থেকে কর্মস্থলে আসছেন। এখানে তার একটি মিটিং রয়েছে।’

এর আগে ফেসবুকে বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে হানিফ সংকেতের মৃত্যু নিয়ে পোস্ট দেয়া হয়। মেহেদি হাসান মাসুম নামের একটি আইডিতে দেয়া পোস্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির উপস্থাপক Hanif Sanket সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাত নসিব করেন!’

সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েননি হানিফ সংকেত, ফেসবুকে তথ্য গুজব

একই ধরনের পোস্ট করা হয়েছে আরও কয়েকটি আইডি থেকে। কেউ কেউ আবার শুরুতে পোস্ট করে পরে মুছে ফেলেছেন।

আরও পড়ুন:
হানিফ সংকেতের নাটক ‘যুগের হুজুগে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How true is the allegation of land grabbing against a viral professor

ভাইরাল অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ কতটা সত্যি

ভাইরাল অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ কতটা সত্যি অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্সের সবজি বিক্রির এই ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত
নিজ কৃষি খামারের পণ্য স্থানীয় বাজারে নিজেই বিক্রি করেন অধ্যাপক আবু বকর প্রিন্স। সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে জমি দখলের গুজব ছড়াতে শুরু করে। নিউজবাংলার অনুসন্ধান জানাচ্ছে, তিনি জমি কিনেছেন জমির মালিকদের কাছ থেকে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাজারে কচুর লতি বিক্রি করে ভাইরাল অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্সের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে একটি পক্ষ। এ অধ্যাপক বলছেন, কৃষি খামার করার কারণেই তিনি প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।

গত শুক্রবার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুলের বাজারে কচুর লতি বিক্রি করতে নিজেই বসেছিলেন প্রিন্স। এক ব্যক্তি সেখানকার কয়েকটি ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলে সেটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে যেতে থাকে। এতে সব মহলের প্রশংসায় ভাসেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

এরই মধ্যে ওই ইউনিয়ন থেকে নিউজবাংলার প্রধান কার্যালয়ে অধ্যাপক প্রিন্সের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ আনে একটি পক্ষ। গড়ে তোলা কৃষি খামারে গারো সম্প্রদায়ের অনেকের জমি ওই অধ্যাপক তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দখল করেছেন বলে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে খোঁজখবর করে নিউজবাংলা। মঙ্গলবার দিনব্যাপী অনুসন্ধানে কথা বলা হয় জমি বিক্রেতাদের সঙ্গে।

জমি বিক্রেতাদের একজন হরেং সাংমা। তিনি একসময় ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন। জমি দখল করে নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ লোকমুখে জানতে পারি আমাদের ইউনিয়নের জামাই অধ্যাপক প্রিন্স কৃষি খামার করতে জমি খুঁজছেন। তখন আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তার কাছে জমি বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি নগদ টাকা দিয়ে জমি কেনেন। তিনি জমি দখল করেননি।’


ভাইরাল অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ কতটা সত্যি


স্বপন মারাক নামে আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আট একর জায়গায় এত বড় বাগান কেউ গড়ে তুলতে পারেনি। প্রিন্স বাগান করতে চাইলে আমি ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মোট ৫ একর জায়গা তার কাছে বিক্রি করেছি। জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগ প্রিন্সের শ্বশুরের প্রতিপক্ষরাই ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, তারাও এমন অভিযোগ শুনেছেন যে অধ্যাপক প্রিন্সের গড়ে তোলা লটকন বাগানের জমিগুলো তার না। নূরুল ইসলাম নামে একজনের জমি দখলে নিয়েছেন তিনি।

নূরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আট কাঠা জমি হরেং সাংমার কাছ থেকে কিনেছিলাম। কয়েক বছর আগে আর্থিক সমস্যায় পড়ে প্রিন্সের কাছে দুই কাঠা জমি বিক্রি করি। তিনি নগদ টাকাও দিয়েছেন। আসলে তাদের অনেক শত্রু রয়েছে। তারা বেনামে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে দিচ্ছেন।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্স নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ২০০৬ সাল থেকে জমি কিনতে শুরু করি। ২০১৪ সালে কৃষি খামারের কার্যক্রম শুরুর সময় আমি অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছি। বাগানের ভেতর থাকার জন্য টিনের ঘর করেছি। তখন টিনের চালে প্রতিদিন ইটপাটকেল ছোড়া হতো। কিন্তু আমি ঘাবড়ে যাইনি। এগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়েছে। আমার স্ত্রী-সন্তান ঢাকায় থাকে। এ জন্য আমাকে নারী কেলেঙ্কারীর সঙ্গে জড়িয়ে দিতে গোপনে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমি সব সময় সচেতন থাকার কারণে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।’


ভাইরাল অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ কতটা সত্যি


ড. আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্সের শ্বশুর শহীদুজ্জামান আকন্দ হবি এ উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া ওই ইউনিয়নে বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

অধ্যাপক প্রিন্স বলেন, ‘আমার শ্বশুর মারা গেলেও সব শত্রুরা মারা যায়নি। শ্বশুরের একমাত্র ছেলে ঢাকায় থাকেন। এদিকে আমি একা এখানে এত বড় বাগান করি, এটি প্রতিপক্ষের সইছে না। এ জন্যই আমাকে হয়রানি করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তারা পারবে না। কারণ, জমির সব দলিল আমার কাছে রয়েছে।’

প্রিন্স বলেন, তিনি তার প্রতিপক্ষের নাম বলবেন না। তবে, তারা তাকে সরিয়ে দিতে চায়, কেননা তাতে বনের জমিসহ গারো সম্প্রদায়ের লোকজনের জমি দখলে নিতে পারবে।

বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রিন্সের দাদার বাড়ি। তবে বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকতেন প্রিন্স। ২০০২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন তিনি। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি ব্যবসায় এমবিএ করেন ২০০৮ সালে। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও ২০১৮ সালে পিএইচডি করেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকাজের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ প্রিন্সের। এ জন্য ঢাকায় নাগরিক জীবন ছেড়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইট গ্রামে তার শ্বশুরের এলাকায় আট একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। নাম দিয়েছেন ‘কিষাণ সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ’। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরের ছয় মাস ছুটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য চাষ করছেন তিনি এখানে।


ভাইরাল অধ্যাপকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ কতটা সত্যি


খামারে আছে তিন প্রজাতির ড্রাগন ফলের ৫ হাজার গাছ। এ ছাড়া মাহালিশা, কিউজাই, ব্রুনাই কিং, বাউ-৪, কাঁচামিঠা, তাইওয়া গ্রিন, কাটিমন, পালমার, মল্লিকাসহ ১০ প্রজাতির আমগাছ। চায়না থ্রি, মঙ্গল বারিসহ তিন প্রজাতির লিচু ছাড়াও মিসরীয় শরিফা, স্ট্রবেরি, চেরি, থাই পেয়ারা, আম, লেবু, জাম্বুরা, লটকন, মাল্টা, সফেদা, আতাফল, কতবেল, আমলকী, ডেউয়া, ডুমুর, কাঠবাদাম, জামরুল, থাই জাম্বুরা, লটকন, মাল্টা ও কলাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগানো রয়েছে।

বাগানের ভেতরে ৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে তিনি চাষ করছেন দেশি প্রজাতির মাছ। পুকুরপাড়ে রাজহাঁস আর চীনা হাঁসের ছোট্ট একটি খামারও রয়েছে। পুকুরপাড়ে একটি শেডে কিছু গবাদিপশুও লালন-পালন করছেন তিনি। এর পাশেই করেছেন ধানের ক্ষেত।

এ কৃষি খামারে উৎপাদিত বিষমুক্ত খাদ্যপণ্য বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। এ কাজে সহায়তা করেন কয়েকজন শ্রমিক। এর মধ্যে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে স্থানীয় বাজারে নিজেই পণ্য নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন তিনি৷

আরও পড়ুন:
২ দিনের বৃষ্টিতে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক
পাকা ধান ডোবায় দিশেহারা চাষিরা
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভুট্টা, দামে কিছুটা স্বস্তি
পটাশিয়াম রপ্তানি অব্যাহত রাখতে কানাডাকে অনুরোধ
আলু নিয়ে অসহায় কৃষিমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What really matters is that women are attacked because they are Christians

খ্রিষ্টান হওয়ার কারণেই কি নারীকে আক্রমণ

খ্রিষ্টান হওয়ার কারণেই কি নারীকে আক্রমণ ব্লাসফেমি ইস্যুতে নাইজেরিয়ায় বাড়িতে গিয়ে খ্রিষ্টান নারীকে মারধরের ঘটনাটি সত্য নয়। ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্ম অবমাননার জেরে খ্রিষ্টান এক ছাত্রকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় মুসলিম ও খ্রিষ্টান নাইজেরীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে সোকোটো রাজ্যে। এদিকে ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক নারীকে মারধর করা হচ্ছে। সেই ভিডিওর বিভিন্ন ক্যাপশনে দাবি করা হয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে খ্রিষ্টানদের আক্রমণ করছে মুসলিমরা।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে নাইজেরিয়ার মুসলিম ছাত্ররা গত ১২ মে দেবোরাহ স্যামুয়েল নামের এক খ্রিষ্টান ছাত্রকে গণপিটুনি ও পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তার প্রেক্ষাপটে ১৪ মে কারফিউ দিয়েছিল নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্য কর্তৃপক্ষ।

তবে এর মধ্যেই অনলাইনে ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে লেখা ক্যাপশনগুলোতে দাবি করা হয়, শুধু খ্রিষ্টান হওয়ার অপরাধে একজন নারীকে মুসলিমরা মারধর করছে।

দেবোরাহ হত্যাকাণ্ডের পর অনেককেই সেই ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায়। অনেকে ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করেন, মুসলিমরা খ্রিষ্টানদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের আক্রমণ করছে।

ভিডিওর সত্যতা থাকলেও প্রকৃত অর্থে সোকোটোতে ঘটে যাওয়া বর্তমান ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ একই ভিডিও কামেলদিন আবদুললাহি নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০২১ সালের ২৮ আগস্ট পোস্ট করা হয়। সেই আইডিতে লেখা ক্যাপশনে সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় ছিল না।

আরও পড়ুন:
নাইজেরিয়ায় ফের দস্যুদের গুলিতে ৩৫ গ্রামবাসী নিহত
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী নিহত
বোকো হারামের প্রধান আত্মহত্যা করেছেন: আইএস
নাইজেরিয়ায় ইসলামি স্কুল থেকে ২০০ শিশুকে অপহরণ
নৌকা দ্বিখণ্ডিত, নিখোঁজ ১৪০ যাত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 people have committed suicide by reducing the price of cryptocurrency?

ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমায় কি ৮ জনের আত্মহত্যা

ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমায় কি ৮ জনের আত্মহত্যা ব্লকচেইন বাকে জানায়, লুনার দাম কমায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতে দাম বাড়বে এই আশায় যারা লুনা আঁকড়ে ধরেছিলেন, তারা ব্যাপক মাত্রায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় লুনা হোল্ডারদের হতাশা ব্যক্ত করতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে যে লুনার দাম কমায় ৮ জন আত্মহত্যা করেছেন।

বিটকয়েনের দাম কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির অন্যান্য মুদ্রাতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আমেরিকার ওয়ালস্ট্রিটের তালিকাভুক্ত ক্রিপ্টোমুদ্রার কেনাবেচার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কয়েনবেজ।

বিটকয়েন, ইথারিয়ামের মতো দাম হারিয়েছে অন্যান্য অল্টা কয়েনেরও। তবে সবচেয়ে বেশি দাম হারিয়েছে ক্রিপ্টোমুদ্রা টেরা (লুনা)। প্রতিশ্রুত মুদ্রা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুনা ৯৯ শতাংশ দাম হারিয়েছে মুহূর্তেই। গত মাসে ক্রিপ্টোকারেন্সির তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা ১২০ ডলার দামের লুনা গত বুধবারে ১ ডলারের নিচে নেমে আসে।

ভবিষ্যতে দাম বাড়বে এই আশায় যারা লুনা আঁকড়ে ধরেছিলেন, তারা ব্যাপক মাত্রায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় লুনা হোল্ডারদের হতাশা ব্যক্ত করতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে যে লুনার দাম কমায় ৮ জন আত্মহত্যা করেছেন।

পাকিস্তানভিত্তিক মিডিয়া আউটলেট পাকিস্তান রিপাবলিকের এক টুইটবার্তায় এমন দাবির একটি সংবাদ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান রিপাবলিকের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়।

এ ছাড়া ক্রিপ্টোভিত্তিক টুইটার হ্যান্ডেল ব্লকচেইন বাকেও ৮ জনের আত্মহত্যার খবর প্রচার করা হয়। সেখানে অনেককেই হতাশাজনক মন্তব্য করতে দেখা যায়। তাদের এই পোস্টটি রিটুইট হয়েছে ৮৪১ বার। এ ছাড়া ফেসবুকের অসংখ্য পেজ ও গ্রুপে এই খবরটি শেয়ার করা হয়।

এই তথ্য নেটিজেনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে লুনা হোল্ডারদের সর্বস্ব হারানোর খবর আসতে থাকে। লুনার দাম কমায় অনেকে নিজের সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদন করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে।

তবে দ্য রিপোটার্স টাইমস বলছে, লুনার দাম কমায় সর্বস্ব হারানোর খবর পাওয়া গেলেও আত্মহত্যার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমে আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে আত্মহত্যার ঘটনা না ঘটলেও অনেকেই মুষড়ে পড়েছেন লুনার এই দাম কমায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহসা লুনার দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান প্রভাব ফেলেছে ক্রিপ্টোমুদ্রাতেও। ভার্চুয়াল সম্পদে আস্থা হারাচ্ছে মানুষ, এর বদলে দৃশ্যমান সম্পদ কিনতে চাইছে সবাই। ফলে দাম বাড়ছে সোনা ও ডলারের মতো মুদ্রার।

আরও পড়ুন:
ক্রিপ্টো সমালোচক বাফেটও এবার বিটকয়েনের ব্যাংকে
রাশিয়ায় নতুন নিয়মে বিটকয়েন
বিটকয়েনকে গুরুত্ব না দেয়ার মাশুল দিল ফেসবুক
ক্রিপ্টো বিধিবিধান হালনাগাদ করছে রোমানিয়া-লাটভিয়া
যে কারণে দাম হারাচ্ছে বিটকয়েন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The notice to cancel the red note of one thousand rupees is fake

এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিলের ‘নোটিশ’টি ভুয়া

এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিলের ‘নোটিশ’টি ভুয়া এক হাজার টাকার এই নোট বাতিল করা হয়েছে দাবি করে ফেসবুকে একটি ভুয়া নোটিশ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা একাব্বর আলীর নামে নোট বাতিলের সেই নোটিশটি ফেসবুকে ছড়ানো হয়। তবে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ভাবকী বাজারের ব্যবস্থাপক একাব্বর এ বিষয়ে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, তিনি কোনো নোটিশ দেননি।

এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিল হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যে কথা ছড়িয়েছে, তাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘বিশেষ নোটিশ’ অনেকে শেয়ার করে। এরপর ‘এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক’- এমন তথ্য প্রচার করে বেসরকারি কয়েকটি টেলিভিশন।

তবে বিষয়টি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জী এম আবুল কালাম আজাদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোট বাতিলের বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর খবর দেয়া হয়েছে। বিষয়টি ভুয়া, বানোয়াট। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো নির্দেশনাও দেয়া হয়নি।’

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জী এম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ১০০০ টাকা মূল্যমানের লাল নোট আগামী ৩০-০৫-২০২২ তারিখের পর অচল হিসেবে গণ্য হবে মর্মে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

‘এক্ষণে জনসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ১০০০ টাকা মূল্যমানের লাল নোট বা অন্য কোনো নোট অচল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। জনসাধারণকে উক্ত গুজব/বিভ্রান্তিকর তথ্য আমলে না নেয়ার অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিলের ‘নোটিশ’টি ভুয়া
কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা একাব্বর আলীর নামে সেই নোটিশটি ছড়ানো হয়েছে। তবে জামালপুরের মেলান্দহের ভাবকী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক একাব্বর এই প্রতিবাদলিপিটি পাঠিয়েছেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নোটিশটি ছড়ানো হচ্ছে, তাতে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশক্রমে ১০০০ টাকা মূল্যমানের লাল নোট লেনেদেনের সর্বশেষ সময়সীমা ৩০ মে ২০২২ পর্যন্ত। এরপর আর কোনো ১০০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা নেয়া হবে না। সুতরাং এই তারিখে দুপুর ১২টার মধ্যে ১০০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা দেয়া নির্দেশ প্রদান করা হলো।

‘পরবর্তী দিন হতে ১০০০ টাকার নোট অচল বলে গণ্য হবে।’

একটি সাদা কাগজে এই নোটিশের নিচে একাব্বর আলী নামে একজনের সই আছে। সিলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জামালপুরের একটি শাখার নাম দেয়া আছে। তবে কোন শাখা, সেটি স্পষ্ট নয়।

জামালপুর কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শরীফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, তাদের শাখা থেকে এমন কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি।

একাব্বর নামে কোনো কর্মকর্তা আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, জেলার মেলান্দহ উপজেলার ভাবকী শাখার একজন ব্যবস্থাপক আছেন এই নামে।

নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয়েছে একাব্বরের। তিনি বলেন, ‘আমরাও এই বিষয়টি জেনেছি যে এমন নোটিশ প্রচার হচ্ছে। আমরা এর একটি প্রতিবাদও দিয়েছি।

সেই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘আমি মোহাম্মদ একাব্বর আলী, ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ভাবকী বাজার শাখা এই মর্মে হলফ করে বলছি যে, ১০০০ টাকার লাল নোট ৩০/৫/২০২২ ইং তারিখ হতে অচল বলে যে দৃষ্টি আকর্ষণ বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা অত্র শাখা হতে প্রচার করা হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জী এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে; যার ফলে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে।’

বাংলাদেশে এক হাজার টাকার দুটি নোট প্রচলিত আছে। এর মধ্যে একটি লালচে এবং অন্য নোটটি কিছুটা বেগুনি রঙের।

আরও পড়ুন:
প্রবাসীদের বিদেশি মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ
ব্যবসায় চলতি মূলধন ঋণসীমা বাড়ানোর সুযোগ
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণের সুদ মওকুফ নয়
তিন বছরের জন্য কৃষি ঋণ পুনঃতফসিলে সুযোগ
ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The name of the cyclone is not Asani Ashani

ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘আসানি’, নাকি ‘অশনি’?

ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘আসানি’, নাকি ‘অশনি’? রোববার বেলা ২টা ১০ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় আসানির অবস্থান। ছবি: উইন্ডিডটকম
আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক সানাউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা মৌলিক কোনো ভুল নয়। কারণ ইংরেজি শব্দ (Asani) ব্যবহার করা হচ্ছে। (ইংরেজিতে) এটা কিন্তু ঠিকই লেখা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারও আসানিই উচ্চারণ করছেন। তবে অনেক গণমাধ্যম অশনি লিখছে।’

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বোববার বেলা ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টের অবস্থান ছিল কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে।

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়টির নাম নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। অনেক সংবাদ মাধ্যম লিখেছে ‘অশনি’। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ঝড়টির ইংরেজিতে নাম ‘Asani’ লেখা হলেও বাংলায় ‘অশনি’ লেখা হয়েছে।

তবে এই নামটি এসেছে শ্রীলঙ্কার সিংহলি ভাষার শব্দ ‘আসানি’ থেকে। এই শব্দটির বাংলা অর্থ ‘ক্রোধ’, আর বাংলা ‘অশনি’ শব্দের অর্থ হলো ‘বাজ’।

ঘূর্ণিঝড়ের নাম কীভাবে দেয়া হয়

বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড় নামকরণে ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএমও) একটি তালিকা রয়েছে। এতে চক্রাকারে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর দেয়া নাম অনুযায়ী নামকরণ হয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর।

এই তালিকা অনুযায়ী এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নাম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিংহলি ভাষায় ‘আসানি’ শব্দের অর্থ ক্রোধ। ডব্লিউএমওর ওয়েবসাইটে নামটির উচ্চারণও দেয়া আছে।

ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘আসানি’, নাকি ‘অশনি’?
ডব্লিউএমও-এর তালিকায় আসানির সঠিক উচ্চারণও দেয়া রয়েছে

ডব্লিউএমও তালিকা অনুসারে এ অঞ্চলে আসানির পর যে ঘূর্ণিঝড়টি আসবে, তার নাম দিয়েছে থাইল্যান্ড। সেই নামটি হবে ‘সিত্রাং’।

ডব্লিউএমওর ৪৫তম বার্ষিক সভা হয় ২০১৮ সালে। ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত সেই সভায় দীর্ঘ মেয়াদে যেসব ঘূর্ণিঝড় আসবে সেগুলোর নাম চূড়ান্ত করা হয়।

উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নাম এরই মধ্যে নির্ধারিত করা আছে। এই অঞ্চলের ১৩টি দেশের ১৩টি করে দেয়া নামের ভিত্তিতে ১৩টি চক্রে আছে মোট ১৬৯টি ঝড়।

আরও পড়ুন: সাইক্লোনের নাম ‘ইয়াস’, ‘যশ’ নয়

প্রতিটি চক্রের শুরু বাংলাদেশের দেয়া নামের ঝড়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশের দেয়া নামগুলোর মধ্যে রয়েছে নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরোবর, মহানিশা। নিসর্গ এরই মধ্যে আঘাত হেনেছে উপকূলে।

‘আসানি’কে ‘অশনি’ লেখার কারণ কী

সিংহলি শব্দ ‘আসানি’কে ‘অশনি’ বলায় ‘বড় কোনো ভুল হয়নি’ বলে দাবি করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির উপপরিচালক সানাউল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা মৌলিক কোনো ভুল নয়। কারণ ইংরেজি শব্দ (Asani) ব্যবহার করা হচ্ছে। (ইংরেজিতে) এটা কিন্তু ঠিকই লেখা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারও আসানিই উচ্চারণ করছেন। তবে অনেক গণমাধ্যম অশনি লিখছে।’

তাহলে আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বাংলায় কেন ‘অশনি’ লিখছে এবং এতে শব্দগত বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘ইংরেজিতে আমরা কিন্তু আসানি (Asani) লিখেছি। হয়তো বাংলা উচ্চারণের সময় অনেকেই অশনি বা আসানি বলছে এটা কোনো বড় বিষয় নয়। আমাদের জানতে হবে এটি ঘূর্ণিঝড় না অন্যকিছু। আর বাংলাদেশের উপরে এর প্রভাব পড়বে কি না।’

আইপিএ এবং মূল সিংহলি শব্দের উচ্চারণ থেকেও ‘আসানি’ উচ্চারণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।


কেন দেয়া হয় সাইক্লোনের নাম?

ডব্লিউএমওর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী সাইক্লোনের নামকরণ হয় পাঁচটি কারণে:

১. প্রতিটি সাইক্লোনকে আলাদা করে চেনার জন্য

২. এর গতিবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে

৩. একই অঞ্চলে একই সময়ে একাধিক সাইক্লোনের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দূর করতে

৪. দ্রুত বহুজনের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে

৫. সহজে উপকূলীয় সাইক্লোনগুলোকে মনে রাখতে

আরও পড়ুন:
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ এখন ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’
সাগরে নিম্নচাপ, ‘আসানি’র শঙ্কা বাড়ল
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, উত্তরে এগিয়ে হতে পারে ‘আসানি’
লঘুচাপ ‘আসানি’ রূপে আসতে পারে রোববার
গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়নি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Is Finland sending tanks to the Russian border?

রাশিয়া সীমান্তে কি ট্যাংক পাঠাচ্ছে ফিনল্যান্ড

রাশিয়া সীমান্তে কি ট্যাংক পাঠাচ্ছে ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদানের ইস্যুতে ফিনল্যাণ্ডের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রেক্ষাপটে ফিনল্যান্ডেরও ন্যাটোতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া এরই মধ্যে পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দেয় তবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে রাশিয়া সীমান্তে ট্যাংক পাঠাচ্ছে ফিনল্যান্ড।

ইউক্রেনে চলছে রাশিয়ার সামরিক অভিযান। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যেসব দাবি রয়েছে, তার মধ্যে দেশটিকে নিরপেক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালনের বিষয়টিও ছিল। অর্থ্যাৎ দেশটি ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না।

এদিকে ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রেক্ষাপটে ফিনল্যান্ডেরও ন্যাটোতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া এরই মধ্যে পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দেয় তবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে।

এমন পরিস্থিতিতে টুইটারে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে ফিনল্যান্ডে ট্রেনে ট্যাংক পরিবহন করা হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, রাশিয়া সীমান্তে ট্যাংক পাঠাচ্ছে ফিনল্যান্ড। বেশ কয়েকটি টুইটার হ্যাণ্ডেলে এরই মধ্যে ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে এবং ফেসবুকের অনেক পেজেও ভিডিওটিকে শেয়ার করতে দেখা গেছে।

কুর্দিস্তান ২৪ রেডিওতে ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর এরই মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখেছেন। ৪১ হাজার রিঅ্যাক্ট ও ২ হাজার ৬০০ মন্তব্য দিয়েছে নেটিজেনরা। এসব মন্তব্যে অনেকেই যুদ্ধের পরিধি বৃদ্ধির আশঙ্কা করেছেন।

তবে ফিনিশ ডিফেন্স ফোর্সের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে পলুস্টাসভইমাট এক টুইটবার্তায় নিশ্চিত করেছে, অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির ক্যাপশন সত্য নয়। এই ট্যাংকগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল নিনিসালো ও সাকিলাতে অ্যারো টুয়েন্টি-টু মহড়ার সময়। অর্থ্যাৎ ফিনল্যাণ্ডের পক্ষ থেকে রুশ সীমান্তে কোনো ট্যাংক পাঠানো হয়নি।

রাশিয়া থেকে ১৯১৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করে ফিনল্যান্ড। এরপর থেকেই পারতপক্ষে দেশটি যেকোনো সামরিক জোটে যোগদান এড়িয়ে চলত। স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও তারা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সম্প্রতি ন্যাটোভুক্ত নয় এমন একটি দেশে (ইউক্রেন) রাশিয়া হামলা চালালে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে এসে ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়টি ভাবতে থাকে।

তবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছিলেন, ‘ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন যদি ন্যাটোতে যোগ দেয়ার কোনো চিন্তাভাবনা করে তবে এতে প্রতিক্রিয়া দেখাবে রাশিয়া। নিজেদের নিরাপত্তার অজুহাতে এ দুই দেশের অন্যের ক্ষতি করা ঠিক হবে না।’

আরও পড়ুন:
ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার শহরে বিস্ফোরণ
যুক্তরাষ্ট্রের ভুল স্বীকার করা উচিত
রাশিয়ার তেল কেনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ফের অগ্রাহ্য করল ভারত
বিদেশি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে রাশিয়া
বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীর প্রয়োজন নেই: রাশিয়া

মন্তব্য

p
উপরে