× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Where did Shamim Osman play?
hear-news
player

কোন দিকে খেলেছেন শামীম ওসমান?

কোন-দিকে-খেলেছেন-শামীম-ওসমান? সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। ছবি: সাইফুল ইসলাম/ নিউজবাংলা
নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের ভূমিকা এবার কী ছিল? তিনি কি তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী আইভীর পক্ষে মাঠে থেকেছেন? আইভীপন্থি আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, শামীম ওসমান প্রকাশ্যে আইভীকে সমর্থনের ঘোষণা দিলেও তার কর্মীরা হাতি মার্কার পক্ষেই কাজ করেছেন। এদিকে শামীমপন্থি আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা, তার সমর্থনের কারণেই আইভী এত বেশি ভোট পেয়েছেন। অন্যরা বলছেন, শামীম ওসমানের অবস্থান ছিল ‘অস্পষ্ট’।

জটিল সব সমীকরণ আর গুঞ্জন উড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে হ্যাটট্রিক বিজয় পেয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। নৌকা প্রতীকে বিজয় পেলেও এটি আওয়ামী লীগের নয়, বরং উন্নয়নকাজ আর দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে আইভীর জয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রভাবশালী ওসমান পরিবার ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধ সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাফল্যের নেপথ্য কারণ বলেও মানছেন তারা।

কিন্তু শামীম ওসমানের ভূমিকা এবার কী ছিল? তিনি কি তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে মাঠে থেকেছেন, যেমনটি তিনি করবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের চাপে?

আইভীপন্থি আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, শামীম ওসমান প্রকাশ্যে আইভীকে সমর্থনের ঘোষণা দিলেও তার কর্মীরা হাতি মার্কার পক্ষেই কাজ করেছেন। তা ছাড়া শামীম ওসমানের কেন্দ্রে আইভীর হেরে যাওয়াও তাদের কাছে খটকা লেগেছে।

এদিকে শামীমপন্থি আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা, তার সমর্থনের কারণেই আইভী এত বেশি ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের পক্ষে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মনোনয়ন দেয়া এবং সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ওঠে নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের।

অনেকের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, তৈমূরকে পেছন থেকে শক্তি জোগাচ্ছে ওসমান পরিবার। প্রতীক বরাদ্দের পর আইভীকে উদ্দেশ করে তৈমূরের আক্রমণাত্মক বক্তব্য, উল্টোদিকে সরকারের প্রতি নমনীয় কণ্ঠস্বর ওই গুঞ্জন আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

প্রচারে অংশ নিয়ে আইভীও অভিযোগ তোলেন, শামীম ওসমানের ওপর ভর করে নির্বাচনে জিততে চাইছেন তার ‘কাকা’ তৈমূর।

আর তাতেই নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ভোটের মাঠে ছুটে আসেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

তাদের চাপে নমনীয় হন শামীম ওসমান। এমনকি সংসদ সদস্য পদে থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে আইভীর পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে জানান খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

তারপর বদলে যায় ভোটের মাঠের দৃশ্যপট। আইভীর পক্ষে শামীম সমর্থকদের মাঠে নামতেও দেখা যায়।

গুঞ্জন আর আইভীর অভিযোগ কতটা সঠিক, তা জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা জানান, ওসমান পরিবারের সঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকার ও তার সমর্থকদের সখ্য রয়েছে। তাদের নিয়মিতই একসঙ্গে দেখা যায়। সে জন্য নারায়ণগঞ্জবাসী এই গুঞ্জন বিশ্বাস করে।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র ভোটের আগে দাবি করেছে, এটি নিছক ধারণা নয়; এতে সত্যতা রয়েছে। জানা গেছে, ওসমান পরিবার আইভীকে মেয়র হিসেবে চায় না বলে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, শামীম ওসমান ও তার বড় ভাই সেলিম ওসমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈমূর আলম খন্দকার তার দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তৈমূরের নির্বাচনে অর্থায়ন করছেন সেলিম ওসমান। আর শামীম জোগান দিচ্ছেন পেশিশক্তি।

এমন বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতারা শামীমকে থামানোর দায়িত্ব নেন। সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, দলীয় চাপে পড়েই শামীম সংবাদ সম্মেলন করে আইভীকে সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করার পরও শুরুর দিকে আইভীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছিল না তার অনুসারীরা। এ প্রবণতা বন্ধে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। শুধু তা-ই নয়, মহানগর ছাত্রলীগের নেতাদের বাসায় গিয়ে চাপ দেয়া হয়। এর পর থেকে তারা আইভীর পক্ষে নামমাত্র প্রচারে নামে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাবা আলী আহাম্মদ চুনকার সঙ্গে ওসমান পরিবারের বিরোধের শুরু। সেই বিরোধ আরও স্পষ্ট হয় ২০১১ সালে। কারণ সেবার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়েও লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে আইভীর কাছে ধরাশায়ী হন শামীম ওসমান।

পুরো নারায়ণগঞ্জ ওসমান পরিবারের হাতে থাকলেও সিটি করপোরেশন হাতছাড়া। তাই এবার তৈমূরকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান– এ রকমই ধারণা নারায়ণগঞ্জবাসীর। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চাপে পড়ে ওসমান পরিবার সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা অবশ্য শামীম ওসমানকে নিষ্ক্রিয় করেই থেমে থাকেননি। তারা নিয়মিত আইভীর প্রচারে অংশ নেন। কিন্তু আইভীপন্থি নেতাদের অভিযোগ, শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলনে আইভীকে সমর্থনের কথা জানালেও তার অনুসারীরা আইভীর পক্ষে দায়সারা প্রচারে অংশ নেয়।

আইভীপন্থি হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি পুরো নির্বাচনি প্রচারে আইভী আপার সঙ্গে থেকেছি। শামীম ওসমানপন্থিদের কখনই আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে দেখিনি। কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জে এলেই কেবল তারা রাস্তায় বের হতো।’

এমন বাস্তবতায় রোববার ভোটের দিন শেষ দিকে ভোট দিতে নগরীর আদর্শ স্কুলে আসেন আলোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

ভোট শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি নৌকার নির্বাচন করেছি। আমি অন্য কারও নির্বাচন করিনি। হৃদয়ে কষ্ট আছে, রক্তক্ষরণ আছে। তবে আমি একটা কথা বুঝি, জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা পাঁচ বছর আগে একটা মিটিংয়ে বলেছিলেন, শামীম আমি নীলকণ্ঠী, আমি সব বিষকে হজম করি। সো আই অ্যাম এ সোলজার অফ শেখ হাসিনা।

‘আমি তার একটা সোলজার। যুদ্ধের ময়দানে সেনাপ্রধান যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সোলজার সেভাবে যুদ্ধ করবেন, সেটাই তার কর্ম। উনি আমার নেতা, উনি জাতির পিতার কন্যা। উনি যদি নীলকণ্ঠী হতে পারেন, আমারও নীলকণ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।’

নির্বাচনে আপনি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, না প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি সারা জীবন প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছি।’

কোনো কারণে প্রতীক হেরে গেলে তার দায় কি শামীম ওসমানের কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার ওপর দায় আসবে না।’

শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জিতেছেন আইভী। কিন্তু সেখানে শামীম ওসমানের ভূমিকা ‘অস্পষ্ট’ ছিল বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল।

তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমানের সমর্থন থাকা, না থাকা আইভীর জন্য কোনো কিছু যাই আসে না। এই নির্বাচনের ফলাফলে শামীম ওসমানের সমর্থনের কোনো প্রভাবই পড়েনি। কারণ শামীম ওসমানের ভূমিকা পুরোটাই ছিল অস্পষ্ট।’

সংবাদ সম্মেলন করে আইভীর সমর্থনের কথা বললেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শামীম ওসমান নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেননি বলেও মনে করেন ধীমান সাহা।

তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমান শুধু মুখেই সমর্থনের কথা বলেছেন। কার্যক্রমে কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। আর তার এই নীরবতা আইভীর জন্য ভালোই হয়েছে। কারণ শামীম ওসমান যদি সত্যিই আইভীর জন্য কাজ করতেন, তখন আইভীর ভোট আরও কমে যেত।’

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘মানুষ আইভীকে ভোট দিয়েছে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তার সাহসিকতা ও বিগত ১০ বছরে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন সে জন্য।’

মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীপন্থি হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, শামীম ওসমান সমর্থনের কথা না বললে আইভীর ভোট আরও বাড়তে পারত।

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন শামীম ওসমানের কী ভূমিকা ছিল, তার সমর্থকদের কী ভূমিকা ছিল। শামীম ওসমান না থাকলে যা হইত, থেকে আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে, উনি না থাকলে আরও বেশি ভোট পাইত।’

শামীম ওসমান সমর্থন জানালেও তার অনুসারীরা তৈমূর আলম খন্দকারের হাতি প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। বলেন, ‘জায়গায় জায়গায় প্রমাণ আছে। শামীম ওসমানের কারণে নয়, আইভীর জনপ্রিয়তা ও নৌকার জনপ্রিয়তার কারণে এই বিজয় পেয়েছে।’

শামীম ওসমানের সমর্থনের কারণে আইভী জিতেছেন এমনটা না বললেও তার সমর্থনে ভোটের গতি বেড়েছে বলে বলে মনে করেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম।

তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমানের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও তার সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা আইভীর পক্ষে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার চালিয়েছে। শামীম ওসমান যখন নৌকার জয় নিশ্চিত করতে সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা বললেন, তাতেই প্রমাণ হয় তার সমর্থনে ভোটের গতি বেড়েছে।’

আরও পড়ুন:
সময় হলে সব বলব: শামীম ওসমান
আইভীর মাথায় হাত রেখে শামীম ওসমানের সান্ত্বনা
নারায়ণগঞ্জের অর্ধেক কিনতে পারতেন বাপ-দাদা: শামীম ওসমান
আসুন সবাই মাঠে নামি: শামীম ওসমান
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় খেলা শুরু হয়েছে: শামীম ওসমান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
If electricity prices go up commodity prices will go up further FBCCI

বিদ্যুতের দাম বাড়ালে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে: এফবিসিসিআই

বিদ্যুতের দাম বাড়ালে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে: এফবিসিসিআই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার গণশুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি। ফাইল ছবি
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটির মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতের খরচ বাড়বে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মঙ্গলবার এমন মত ব্যক্ত করেছে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। কমিশনের আইন অনুযায়ী, শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি প্রস্তাবের বিষয়ে ঘোষণা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্যাসের দাম আগে ঠিক করে তারপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই গ্যাসের দাম বাড়ালে বিদ্যুতের দামও বাড়াতে হবে। আবার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে।

বিদ্যুতের দাম এই মুহূর্তে না বাড়ানোর পক্ষে বেশকিছু যুক্তি তুলে ধরেছে এফবিসিসিআই।

সংস্থাটির মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতের খরচ বাড়বে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

এফবিসিসিআই বলেছে, বর্তমানে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। কিন্তু উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। ফার্নেস অয়েলের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। কয়লার ওপর ভ্যাট, গ্যাসের ওপর ডিমান্ড চার্জসহ বিদ্যুৎ বিক্রির ওপর উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে।

একদিকে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে অন্যদিকে জ্বালানির ওপর আরোপিত করভার যুগপৎভাবে ভোক্তাসহ দেশের উৎপাদনশীল কার্যক্রমের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি বিধ্বংসী ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের মূল্য বেড়েছে। এর প্রভাবে শিপিং খরচ বেড়েছে। একই কারণে উৎপাদন ব্যয়ও অত্যধিক বেড়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর।

একইভাবে রপ্তানি শিল্পে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এতে রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।

মতামতে বলা হয়, সঞ্চয় কমে যাওয়ার ফলে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এতে ব্যাংকিং খাতের অর্থপ্রবাহে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়ার আশঙ্কাকে বিবেচনায় নেয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প ও সেবা উৎপাদন খাতে।

মূল্যস্ফীতির বিরূপ প্রভাবে জনজীবনে নেমে আসতে পারে হতাশা। সর্বোপরি এতে অর্থনীতির উন্নয়নে চলমান ধারাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবটি গ্রহণ করা ঠিক হবে না বলে মনে করে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
বিনিয়োগ টানতে কমাতে হবে জটিলতা: এফবিসিসিআই
টঙ্গীর যানজটে দিনে জ্বালানি ক্ষতি ১০ কোটি টাকা
ঈদযাত্রায় সড়কের কাজ বন্ধ রাখুন: এফবিসিসিআই
খাদ্য নিরাপত্তায় বীজে স্বনির্ভরতার তাগিদ
শিল্প খাতে মেক্সিকোর বিনিয়োগ চায় এফবিসিসিআই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The government wants more investment in the power and energy sector

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগ চায় সরকার

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগ চায় সরকার
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিনিয়োগে নিরাপত্তাসহ ১৫ বছরের শুল্ক ছাড়, আমদানি শুল্কে রেয়াতসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।চলমান আটটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টিই বেসরকারি খাতের। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বেসরকারি খাতের ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হয়েছে।’

দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে সরকার। তৈরী করা হয়েছে বেসরকারি খাতের জন্য পলিসি গাইডের খসড়া। যার মাধ্যমে ন্যাশনাল গ্রীড বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (ইএসসিএপি) ও সাসটেইনেবল এনার্জি ফর অল যৌথভাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে মঙ্গলবার তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগে নিরাপত্তাসহ ১৫ বছরের শুল্ক ছাড়, আমদানি শুল্কে রেয়াতসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) নবায়ণযোগ্য জ্বালানির প্রসারে লজিস্টিক ও কারিগরি সহযোগিতা করছে।

‘বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করায় গত দশকে বিদ্যুৎ খাতে ১২ বিলিয়ন বিনিয়োগ হয়েছে। আগামী ১২ বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাত হতে ৪৪ শতাংশ আসছে। চলমান আটটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টিই বেসরকারি খাতের। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বেসরকারি খাতের ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হয়েছে।’

সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সৌর বিদ্যুৎ রোডম্যাপ ২০২১-৪১ খসড়া তৈরী করা হয়েছে। সমন্বিত বিদ্যুৎ জ্বালানি মাস্টারপ্ল্যানে ক্লিন এনার্জিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন উৎসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২৯টি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অফসোর উইন্ড, গ্রিন হাইড্রোজেন, ভাসমান সোলার, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, সোলার রূপটপ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুনমাত্রা যোগ করবে।’

সেমিনারে সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন ইএসসিএপির নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আসিজাবানা, ভারতের বিদ্যুৎ, নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং, ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ, নেপালের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সুরেন্দ্র লাব কর্ণ ও ফিজির জ্বালানি বিষয়ক পরিচালক মিকেলি বেলেনা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
PK Haldar to be brought to India before trial Law Minister

ভারতে বিচারের আগেই পিকেকে দেশে আনা হবে: আইনমন্ত্রী

ভারতে বিচারের আগেই পিকেকে দেশে আনা হবে: আইনমন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
‘আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তাকে ফিরিয়ে আনা। এবং যে মুহূর্তে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে, তখন থেকে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে সেই অভিযোগের বিচার করে তার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।’

মূল অপরাধ যেহেতু বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে, সেহেতু ভারতে বিচারের আগে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারকে ঢাকা ফেরত চাইবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার ফরেন এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের প্যারালাল সেশন-১ এ যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আনিসুল হক।

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে একটি গণমুখী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

‘জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে করোনা মহামারির সময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আইন ও বিচার বিভাগ ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু করে। এই পদক্ষেপ করোনাকালে জরুরি সমস্যা মোকাবেলা এবং কারাগারে বন্দিদের বাড়তি চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে একটি সমন্বিত কর্মপদ্ধতি নিয়েছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোর ম্যাপিং, আর্থিক কৌশল, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, ডেটা গ্যাপ বিশ্লেষণ, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, এপিএ-তে এসডিজি অর্ন্তভুক্তিসহ অনেক কাজ সম্পন্ন করেছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার একটি জনকেন্দ্রিক আধুনিক গণতন্ত্র গ্রহণ করেছে। ফলে দেশে সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালীসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। আর এসব উন্নয়ন বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে।’

সম্মেলনে বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন। তবে মানি লন্ডারিং আইন যেহেতু বিশ্বের সব জায়গায় কঠোরভাবে মানা হচ্ছে, তাই টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

‘আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তাকে ফিরিয়ে আনা। এবং যে মুহূর্তে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে, তখন থেকে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে সেই অভিযোগের বিচার করে তার পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকোর সময় যে ব্যাপারটা ছিল, তখন আমরা যাদের সঙ্গে কোলাবরেট করেছিলাম তাদের জন্য টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

‘এখন পি কে হালদারের পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনাটা আরও সহজ হবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সারাবিশ্বে মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইন করা হয়েছে। তা আমাদের দেশেও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিলে অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

‘আমি এ ব্যাপারে অ্যাডভান্স কিছু বলতে চাই না। নিশ্চয়ই আমরা তাদের সঙ্গে আলাপে বসব। আমাদের এখানে যেহেতু মূল অপরাধটা করা হয়েছে, আমরা তাকে আগে চাইবো সেটাই স্বাভাবিক।’

এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার প্যারালাল সেশন-১ এ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবগণ তাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগের এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

এই সেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোসাররফ হোসেন ভূঁইয়া। আলোচক ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।

আরও পড়ুন:
পি কে হালদারকে আজ আদালতে তোলা হচ্ছে
পি কে হালদারকে কবে ফিরিয়ে আনা যাবে
পি কে হালদারকে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু দুদকের
‘অভিযোগ ভিত্তিহীন, দেশে ফিরতে চাই’
পি কে হালদারের অর্থ পাচার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সহায়তায়: মোশাররফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dont panic and work for the development of the country Prime Minister

পত্রিকার সংবাদে না ঘাবড়ে, দেশের উন্নয়নে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী

পত্রিকার সংবাদে না ঘাবড়ে, দেশের উন্নয়নে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকা পড়ে আপনারা অনেকে ঘাবড়ান। এই পত্রিকা এই সমালোচনা করেছে। বাংলাদেশের কিছু পত্রিকা আছে, তারা সব কিছুতে একদিন ভালো লিখলে পরের সাতদিন লিখবে খারাপ। এটা তাদের চরিত্র। আমি চিনি সবাইকে।’

সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ পড়ে ঘাবড়ে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কিছু পত্রিকা আছে তারা একদিন ভালো লিখলে পরের সাতদিন লিখবে খারাপ।’ পত্রিকায় কী লিখল, তা দেখে নয়, দেশের মানুষ ও উন্নয়নের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকা পড়ে আপনারা অনেকে ঘাবড়ান। এই পত্রিকা এই সমালোচনা করেছে। বাংলাদেশের কিছু পত্রিকা আছে, তারা সব কিছুতে একদিন ভালো লিখলে পরের সাতদিন লিখবে খারাপ। এটা তাদের চরিত্র। আমি চিনি সবাইকে।’

নিজেকে দেশের প্রবীণ রাজনীতিক একজন বলেও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘হাই স্কুল থেকে তো রাজনীতি করি। সবাইকে আমার চেনাই আছে। সব পরিবারকেও চেনা আছে। এটা তাদের চরিত্র। কাজেই ওই পত্রিকা দেখে ঘাবড়ানোর কোনো দরকার নেই। আর পত্রিকা পড়েও সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার নেই।’

টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নেব দেশের মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে, দেশের কথা চিন্তা করে, দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে। এই কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে। কারণ, আমি সেইভাবেই চলি।

‘আর সেইভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছি বলেই আজ দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমি যদি ভয়ে ভয়ে থাকতাম, ও কী লিখলো, ও কী বললো, ও কী করলো, তাহলে কোনো কাজ করতে পারতাম না। নিজের বিশ্বাস হারাতাম।’

কর্মকর্তাদের নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলারও পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমি বলব অনেক সময় আপনাদের অনেকের মুখেই শুনি এই পত্রিকা লিখেছে। ওটা নিয়ে কখনও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ওটা নিয়ে চিন্তাও করবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলবেন। সেটাই আমি চাই। তাহলে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।’

কারও নাম উল্লেখ না করে এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারাই বেশি কথা বলে, তারাই সমালোচনা বেশি করে, যারা ইমার্জেন্সি সরকারের পদলেহন করেছে, চাটুকারি করেছে। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। যাই হোক কে, কী বললো সেটা নিয়ে আমি কখনও ঘাবড়াইও না, চিন্তাও করি না। দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষের জন্য যেটা করা ন্যায়সঙ্গত সেটাই করি।’

আরও পড়ুন:
অর্বাচীনের মতো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়: শেখ হাসিনা
বিশ্ব মন্দার শঙ্কায় উন্নয়ন প্রকল্পও বেছে বেছে
৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গৌতম ঘোষ
প্রধানমন্ত্রী ও পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Left Alliance will continue without Saiful Saki

সাইফুল-সাকিকে ছাড়াই চলবে বাম জোট

সাইফুল-সাকিকে ছাড়াই চলবে বাম জোট বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (বাঁয়ে) ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয় জোনায়েদ সাকি। ছবি: সংগৃহীত
বাম জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বাম জোট তাদের মতো এগিয়ে যাবে, এখানে একসঙ্গে দুই জোটে কেউ থাকতে পারবে না।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতটি রাজনৈতিক দল মিলে হচ্ছে নতুন জোট। এতে রয়েছে জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণসংহতি আন্দোলন।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও নেতারা এই জোটকে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ বলছেন। আর এই জোট গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভাঙনের সুর বাজছে বাম গণতান্ত্রিক জোটে।

বাম জোটের অন্যতম দুই শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন যোগ দিচ্ছে নতুন জোটে। সে ক্ষেত্রে দল দুটির একসঙ্গে দুই জোটে থাকার সুযোগ নেই- এমনটাই বলছেন বাম জোটের অন্য শরিক দলের নেতারা।

তারা বলছেন, আগামীতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনকে ছাড়াই চলবে বাম জোট।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যারা যেতে চাচ্ছে বা অন্য একটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে তাদের নিয়ে আমরা বসব। তাদের কথা শুনব। আমরা এটা বলছি, একসঙ্গে তো দুটো জোটে থাকা যায় না।

‘এ বিষয়টি আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা ফয়সালা করব। সামনে আমাদের (বাম জোটের) একটা বৈঠক আছে তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

বাম জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বাম জোট তাদের মতো এগিয়ে যাবে, এখানে একসঙ্গে দুই জোটে কেউ থাকতে পারবে না।’

তবে নতুন জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা জানালেও বাম জোট ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারছেন না বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের বর্তমান বাস্তবতায় আমরা বিশেষ করে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে একটা নির্বাচনকালীন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা একটা জাতীয় মঞ্চ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি।

‘সেটা নিয়ে একটা আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো ঘোষণা দিইনি। কিছু প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা হয়েছে, কিছুটা বোঝাপড়া তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। বিএনপি বা বিএনপিকেন্দ্রিক যে মেরুকরণ, বলতে পারেন ইসলামি দলগুলোর বাইরে বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গের যৌথ জাতীয় একটা প্ল্যাটফর্ম- এটারই অংশ হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চ।’

এই জোট গঠনের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগটা আকস্মিক নয়, অনেক দিন ধরেই চলছে। লেখক মুস্তাক মারা যাওয়ার পরে আমরা একটা নাগরিক পদযাত্রা করেছিলাম, তার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা চলছে। ২৩ তারিখে আমাদের সাতটা দলের (গণতন্ত্র মঞ্চের অন্তর্ভুক্ত) পরবর্তী সভা আছে, সেখানেই হয়তো এটার নামকরণ বা আমরা কীভাবে আত্মপ্রকাশ করব সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।’

সে ক্ষেত্রে বাম জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কি না জানতে সাইফুল হক বলেন, ‘বাম জোটের শুরু থেকেই তো আমরা, আমাদেরকে কেন্দ্র করেই… বাম জোটকে আমরা বলেছি ওদের সঙ্গে (গণতন্ত্র মঞ্চ) জোট বা জোটের শরিক দলগুলো অংশ নিতে পারে। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি এটি বাম জোটের বা অন্য কোনো জোটের প্যারালাল কোনো জোট না।

‘যেহেতু এটা একটা ন্যাশনাল মঞ্চ ফলে এখানে লেফট, প্রগেসিভ, ডেমোক্রেটিক দল ও সংগঠন আসতে পারে। আর এটা (গণতন্ত্র মঞ্চ) ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জোট হিসেবে কখনও ডেভেলপ করলে আমরা নিশ্চয় একসঙ্গে দুটো জোট প্র্যাকটিস করব না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর ভূমিকা, অ্যাটিটিউড সেটা দেখে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব। সামনে বাম জোটের একটা বৈঠক ডাকা হয়েছে, অনুমান করছি সেখানে এটা নিয়েও আলোচনা হবে।’

অন্যদিকে বাম জোটকে টিকিয়ে রেখেই আরেকটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার পক্ষে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাম জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে আমরা বহুদিন ধরেই প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমাদের যথাসম্ভব বৃহত্তর ঐক্য করা দরকার।

‘সেই বৃহত্তর ঐক্যের ক্ষেত্রে আমাদের ভিত্তিটা হচ্ছে, যারা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা অর্থাৎ স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের এবং সংবিধানের সংস্কারসহ একটা স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি বিষয়ে একমত হবে, তাদের সঙ্গে আরেকটু বৃহত্তর মঞ্চ গড়ে তোলা দরকার। বিএনপিসহ যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য লড়াই করছে, তাদের সঙ্গেও আমাদের যুগপৎ ধারায় কাজ করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, বাম জোটকে টিকিয়ে রেখেই ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কর্মসূচির বিষয়ে যারা একমত হবেন, তাদের সঙ্গে আমাদের আরেকটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমরা বাম জোটের সব সংগঠনকেই একসঙ্গে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার জন্য কথা বলছি। এ আলোচনা এখনও চলছে বাম জোটের মধ্যে।’

বাম জোটের বাকি সংগঠনগুলো কেবল বাম ঐক্যের মধ্যেই থাকতে চায় উল্লেখ করে সাকি বলেন, ‘আমরা বলেছি কেবল বাম ঐক্যই ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট কৌশল নয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে রণকৌশল হচ্ছে যথাসম্ভব বৃহত্তর ঐক্য করা। সে ক্ষেত্রে আমরা একটা ভিত্তি হিসেবে বলেছি, যারা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কর্মসূচিতে একমত তাদের নিয়ে একটা মঞ্চ করা যেতে পারে।

‘সাতটি দলের সঙ্গে বৈঠক আমাদের প্রাথমিক আলোচনার সূত্রপাত। এ ধরনের বৃহত্তর একটা মঞ্চ গড়ে তোলা যায় কি না সেই লক্ষ্যে এই আলোচনা। আমরা তাদের (বাম জোট) প্রস্তাব দিয়েছি বিবেচনা করার জন্য। আবার তাদের দিক থেকেও আমাদের দিকে প্রস্তাব এসেছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

বৈঠকে ফলপ্রসূ না হলে গণসংহতি আন্দোলন বাম জোটে থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা আগে আলোচনায় বসি, তারপর দেখা যাক কী দাঁড়াচ্ছে। আর আমাদের দলেও আলোচনার বিষয় আছে। সামনে আমাদের জাতীয় পরিষদের বৈঠক আছে, সেখানে চূড়ান্ত আলোচনা করে আমাদের দল সিদ্ধান্ত নেবে।’

৯টি দল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বাম জোট। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন বাদেও এই জোটে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাসদ- মার্কসবাদী, ওয়ার্কার্স পার্টি- মার্কসবাদী ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।

আরও পড়ুন:
দেশ ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে গেছে: মোশাররফ
রাজনৈতিক সচেতনতা ও জনগণের প্রতি দায় 
প্রজন্মের সামনে রাজনৈতিক শিক্ষাদীক্ষা
অগণতান্ত্রিক ঝড়ে টালমাটাল ইমরান খানের গদি
ছলচাতুরিতে সরকারের রক্ষা হবে না: নজরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ED wants PK Haldar remanded for another 10 days

পি কে হালদার আরও ১০ দিনের রিমান্ডে

 পি কে হালদার আরও ১০ দিনের রিমান্ডে গ্রেপ্তার পি কে হালদার। ছবি: সংগৃহীত
গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আর্থিক জালিয়াতি সংঘটনে ‘বহুমুখী প্রতিভার’ পরিচয় দেয়া পি কে হালদারসহ ছয়জনকে। এরপর তিন দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয় তাদের।

হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে ভারতে গ্রেপ্তার প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে আরও ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

মঙ্গলবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সিবিআই আদালতে পি কে হালদারসহ ছয়জনকে হাজির করা হয়। সেখানে গ্রেপ্তার পাঁচ পুরুষকে ১০ দিন করে রিমান্ডে চাইলে আদালত কিছুটা সময় নিয়ে হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আর্থিক জালিয়াতি সংঘটনে ‘বহুমুখী প্রতিভার’ পরিচয় দেয়া পি কে হালদারসহ ছয়জনকে। এরপরই তিন দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয় তাদের।

গ্রেপ্তারের সময় পি কে হালদারের কাছ থেকে ভারতের নাগরিকত্ব, আধার কার্ডসহ বেশ কিছু নথি জব্দ করে ইডি।

নানা কৌশলে নামে-বেনামে একের পর এক কোম্পানি খুলে, প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধসিয়ে দিয়েছেন পি কে হালদার।

ঋণের নামে টাকা লোপাট, নামে-বেনামে পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনার অভিযোগ রয়েছে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে।

পি কে হালদার ২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে যান। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে এমডি পদে যোগ দেন।

আরও পড়ুন:
বন্দরে নিষেধাজ্ঞা পৌঁছানোর ৩৮ মিনিট আগে দেশ ছাড়েন পি কে
পি কে হালদারকে ফেরানো নিয়ে রুলের শুনানি ১২ জুন
পি কে হালদারকে আজ আদালতে তোলা হচ্ছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dollar Century in the open market

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি দর বাড়ছে ডলারের
৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খোলা বাজারে বেড়েছে আরও বেশি। আর ব্যাংকের বাইরে এখন ডলার পাওয়াই যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার এই বাজার থেকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা দিতে হয়েছে। সোমবার ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছিল।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খোলা বাজারে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই প্রতি দিনই দর বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ডলার পাচ্ছি না। আজ আমি এক ডলারও কিনতে পারিনি। তাই কোনো ডলার বিক্রিও করতে পারছি না।’

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। মঙ্গলবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৫ টাকা বেশি দরে।

ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার সরকারি ছুটির কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক লাফে আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানিটা কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। রিজার্ভ বাড়বে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা মঙ্গলবার ৯২ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকও ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫২০ কোটি (৫.২০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

খোলা বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণেই দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়েই যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আমদানি কমাতেই হবে

অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে ঠিক কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে দর। কিন্তু এখন আমদানির লাগাম টেনে ধরতে হবে; যে করেই হোক আমদানি কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। আমার মনে হয়, এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে; বাজারকে তার গতিতেই যেতে দিতে হবে। কিন্তু সেটা না করে বাজারকে হস্তক্ষেপ করে ডলারের দাম ধরে রাখা হয়েছিল। অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপ ঠিক ছিল না বলে আমি মনে করি।

‘আমি বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিলে ডলারের দাম যদি ৮৭/৮৮ টাকাতেও উঠে যায়, যাক। তারপর বাজার তার নিজের নিয়মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই ৮৭/৮৮ টাকাতেই ডলারের দাম ওঠাচ্ছে। কিন্তু বাজারটাকে অস্থির করার পর।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাত। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ৫০ শতাংশের মতো। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো ২০ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

‘এখন কথা হচ্ছে, কতদিন এই অস্থিরতা চলবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়। যে করেই হোক আমদানি কমাতেই হবে। এ ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর যদি এটা করা না যায়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।’

ডলারের ব্যয় কমাতে সরকার এরই মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিলাস দ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আমদানিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলো জরুরি নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন হবে বেছে বেছে। যেসব প্রকল্প এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন না করলেই নয়, সেগুলোই কেবল বাস্তবায়ন হবে।

আরও পড়ুন:
ডলারের পাগলা ঘোড়ার দাপটে টাকার রেকর্ড দরপতন
রিজার্ভ থেকে রেকর্ড ডলার ছেড়েও অস্থির বাজার
আরও দুর্বল হলো টাকা

মন্তব্য

উপরে