তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফর নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

“তারা ইলেকশন করবে না। ইলেকশন করবে কীভাবে? ইলেকশন করতে গেলে যে সাংগঠনিক শক্তি দরকার হয়, জনসমর্থন দরকার হয়, সেটা যখন নাই, তখন তারা ‘আমরা করব না, মানি না’ বলে দৈন্যতাটা প্রকাশ করে।”

নির্বাচন করলে যে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন দরকার হয়, সেটি বিএনপির নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, এ কারণেই ভোটে না এসে নানা সময় নানা কথা বলে তারা।

তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়নের কারণে জনগণ আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়- এমন মন্তব্যও করেন দলটির সভাপতি।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফর নিয়ে বুধবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হন তার বাসভবন গণভবন থেকে। আর সাংবাদিকরা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শাপলা হলে।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে সরকার প্রধান ঢাকা ছাড়েন ৩১ নভেম্বর; ফেরেন ১৪ নভেম্বর।

বরাবর রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরে গেলে দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সামনে আসেন শেখ হাসিনা। এই আয়োজনে শুরুতে সফর সম্পর্কে লিখিত একটি বক্তব্য থাকে। পরে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রশ্ন রাখেন সাম্প্রতিক ঘটনবলী সম্পর্কে।

এই সংবাদ সম্মেলনেও ব্যতিক্রম ছিল না। গণমাধ্যম কর্মীরা তার কাছে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে কথিত অভ্যুত্থান চেষ্টার পর অগুণতি মানুষকে প্রাণদণ্ড দেয়া ছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হবে কি না, এসব বিষয়ে নানা প্রশ্ন রাখেন।

তবে এমনও দেখা গেছে একজন সাংবাদিক একাই প্রশ্ন করেছেন তিনটি বিষয়ে। প্রধানমন্ত্রী একটির জবাব দিয়ে আর আগাননি। ফলে সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে কি না- এমন একটি প্রশ্নও সঙ্গে থাকা অন্য একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আর দেননি। তবে অন্য এক গণমাধ্যমকর্মীর আরেক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি কিছু কথা বলেন। যদিও সরাসরি আগামী জাতীয় নির্বাচন-এমন কথা তিনি বলেননি।

তারা ইলেকশন করবে কীভাবে?
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা

২০১৪ সালে বিএনপির দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপির বর্জনের বিষয়টি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, “তারা ইলেকশন করবে না। ইলেকশন করবে কীভাবে? ইলেকশন করতে গেলে যে সাংগঠনিক শক্তি দরকার হয়, জনসমর্থন দরকার হয়, সেটা যখন নাই, তখন তারা ‘আমরা করব না, মানি না’ বলে দৈন্যতাটা প্রকাশ করে।”

বিএনপি চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জনের কথা বলেও আসলে সেখানে অংশ নিয়েছে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। আর যেখানে স্বতন্ত্র পরিচয়ে তাদের প্রার্থী ছিল না, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হারাতে দলটির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে বলেও মনে করেন শেখ হাসিনা।

বিএনপির ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জনের পেছনে পরাজয়ের আশঙ্কা কাজ করেছে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তারা জানে আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যন্ত এমনভাবে উন্নয়নটা করেছে, সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়, আওয়ামী লীগকেই চায়।’

ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে না বলে বিএনপির যে অভিযোগ, সেটি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তারা ইলেকশন করে না। ইলেকশন নিয়ে এরা প্রশ্ন তোলে কীভাবে? জিয়াউর রহমান কী ইলেকশন করেছিল ৭৭ সালে? হ্যাঁ/না ভোট। ৭৮ সালে তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সেগুলো কী কোনো নির্বাচন ছিল?

‘৮১ সালের নির্বাচনে কতজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল, কত মানুষের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল- এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেছেন? সবাই এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে কী করে চলে?’

তারেক চায় বাংলাদেশ ব্যর্থ হোক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে নিয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসে, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে, গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে বা ১০ ট্রাক চোরকারবারি অস্ত্র মামলায় আসামি হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ফিউজিটিভ হয়ে বিদেশে রয়েছে, তাদের তো প্রচেষ্টা থাকবেই বাংলাদেশ সবসময় ব্যর্থ হোক। বাংলাদেশে সবসময় একপটা গোলমাল লেগেই থাকুক। চেষ্টা তো এর মধ্যে তারা প্রতিনিয়ত করেই যাচ্ছে।’

বিএনপি নানা চক্রান্ত করে যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এখন কীভাবে ক্ষমতা থেকে সরাবে? গ্রেনেড হামলা করে পারল না। সেই ৭৪ কেজি বোমা ফিট করার পরও বেঁচে গেলাম। সরাসরি গুলি করল কত দফা করল, বারবার তো আমি ভুক্তভোগী। তাতেও পারল না। আমি যাচ্ছি সামনে থেকে আমার গাড়ি আটকে আক্রমণ, সেখানেও মারতে পারল না

‘এতবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারল না, তাদের তো সেই চেষ্টা তো অব্যাহত থাকবেই। সেটাই তারা করে যাচ্ছে। সেটাই তারা করবে। এটাই তাদের চরিত্র।’

তারেক রহমান লন্ডনে বসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন- এমন অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর আমাদের তো কিছু লোক থাকেই পয়সা দিয়ে ভাড়া খেটে যত পারে বাংলাদেশে বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতেই থাকে, কারণ এখানে মানি ম্যাটার্স।

‘যেভাবেই বাংলাদেশ থেকে অনেক অর্থ চুরি করে নিয়ে আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। সামান্য কিছু টাকা আমরা উদ্ধার করেছি। সেটা খালেদা জিয়ার এক ছেলের টাকা। বাকিও তো আছে। তারা সেখানে সেগুলো ভালোভাবে ব্যবহার করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে কীভাবে গোলমালটা পাকাবে, আজকে এখানে বোমা হামলা, কালকে ওখানে মন্দির ভাঙা, কালকে সেখানে মূর্তির ওপর কোরআন শরীফ রাখা- সবকিছু কারা নিয়ন্ত্রণ করে, কোত্থেকে আসে? এটা তো তদন্তে বের হচ্ছে। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ায় সুবিধা আছে সিসি ক্যামেরায় বের করা হয়েছে। আরও তথ্য বের হবে।’

গণমাধ্যম কর্মীদেরকে আরও তৎপর হওয়ার তাগাদা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা যদি প্রশ্ন করেন ষড়যন্ত্র কোথায়, তাহলে যাব কোথায়? আপনাদের তো বের করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজনীতিতে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ চান না পরশ

রাজনীতিতে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ চান না পরশ

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮৩তম জন্মদিনে আলোচনা সভায় তার পুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ। ছবি: নিউজবাংলা

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘সাফল্য অর্জন করতে হবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। যোগ্যতা আর দক্ষতা থাকলে কাউকে ডিঙানোর প্রয়োজন হবে না। কাউকে ঘুষ দেয়া বা তদ্বির করার দরকার হবে না। কোন বড় ভাইয়েরও দরকার হবে না।’

রাজনীতিতে একে অপরকে ডিঙিয়ে ওপরে ওঠার ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ ছাড়তে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

রাজধানীতে শনিবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮৩তম জন্মদিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শনিবার যুবলীগ আয়োজন করে আলোচনা সভার।
এতে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘সাফল্য অর্জন করতে হবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। কাকে ডিঙিয়ে কোথায় উঠবো, এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। যোগ্যতা আর দক্ষতা থাকলে কাউকে ডিঙানোর প্রয়োজন হবে না।

‘যোগ্যতাই আপনাদের সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দেবে। কাউকে ঘুষ দেয়া বা তদবির করার দরকার হবে না। কোনো বড় ভাইয়েরও দরকার হবে না।’

মানবিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা আগামী দিনে যুবলীগের লক্ষ্য বলে জানান পরশ।

পিতার আদর্শ স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শেখ মণি যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যুবসমাজকে সংগঠিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বল্পন্নোত রাষ্ট্র থেকে আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কাতারে। আমাদের চিহ্নিত করতে হবে আগামীর সংগ্রাম কী, প্রতিকূলতা কী।’

যুক্তিনির্ভর পরিবেশ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন যেমন কমবে, তেমনি মানুষ কুসংস্কারমুক্ত হবে বলেও বিশ্বাস করেন পরশ।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমাদের এই সম্প্রীতির বাংলাদেশে আর ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না, ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারবে না। বিজ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরি হলে মানুষকে আর ধোঁকা দেয়া সম্ভব না।’

প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থায় ধর্মান্ধতার কোনো স্থান নেই জানিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু একটা হাল ফ্যাশন দ্বারস্থ রাজনৈতিক বক্তব্য না, ধর্মনিরপেক্ষতা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যার যার বিশ্বাস তার তার। বিশ্বাস কখনো চাপিয়ে দেয়া যায় না।’

পরশ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চায় না। তারা আজ অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, কীভাবে ক্ষমতায় আসা যায়, কীভাবে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা রোধ করা যায়? তাদের উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে একটা পশ্চাদপদ, মৌলবাদী ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা।’

সরকারের নানা সহায়ক কর্মসূচী তুলে ধরে তিনি জানান, মানুষের কল্যাণে খাদ্য, শীতবস্ত্র বিতরণ ও টেলিমেডিসিন সেবার পাশাপাশি গৃহহীনদের আশ্রয়ণ কর্মসূচি অব্যাহত আছে। ৮ ডিসেম্বর এই কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বিত্ত-বৈভবের জন্য রাজনীতি না। দেশের উন্নয়ন আর জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘খালেদার শরীরে বিষ প্রয়োগের যে অভিযোগ তুলছে বিএনপি নেতারা, সেটা হলে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য তারা নিজেরা এ কাজ করেছেন।’

এর আগে শনিবার সকালে বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ ফজলুল হক মণিসহ ১৫ আগস্টে নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, খাদ্য বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যুবলীগ।

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ওবায়দুল কাদের নিজেকে শ্রেষ্ঠ সার্জন মনে করেন: রিজভী

ওবায়দুল কাদের নিজেকে শ্রেষ্ঠ সার্জন মনে করেন: রিজভী

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শ‌নিবার অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা প্রধানমন্ত্রীকে মনে করেন সবচেয়ে বড় মেডিসিনের ডাক্তার। ওবায়দুল কাদের নিজেকে মনে করেন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সার্জন। আর হাছান মাহমুদ নিজেকে গ্যাস্ট্রোলজির বিখ্যাত অধ্যাপক মনে করেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং সরকারের মন্ত্রীরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শ‌নিবার অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধনে তি‌নি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী এবং সরকারের মন্ত্রীরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা প্রধানমন্ত্রীকে মনে করেন সবচেয়ে বড় মেডিসিনের ডাক্তার। ওবায়দুল কাদের নিজেকে মনে করেন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সার্জন। আর হাছান মাহমুদ নিজেকে গ্যাস্ট্রোলজির বিখ্যাত অধ্যাপক মনে করেন।’

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা যদি এতই ভালো হয়, তাহলে চার্টার বিমানে করে ওবায়দুল কাদেরকে কেন বিদেশ নেয়া হয়েছিল?’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সম্রাটের মতো, সুলতানের মতো দেশ চালাচ্ছেন। আর তার মন্ত্রীরা আমিরের মতো চলেন। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তার আমির-ওমরারা একই বুলি আওড়াতে থাকেন। তি‌নি যা বলেন, তার মন্ত্রীরা আরও বা‌ড়িয়ে বলেন।’

‌রিজভী বলেন, ‘পা‌কিস্তানসহ অনেক দেশকেই আমেরিকা তাদের গণতন্ত্র সম্মেলনে ডেকেছে, কিন্তু বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কারণ একটাই আপনার প্লাস্টিকের গণতন্ত্র, কচুপাতার ওপরে যে পা‌নি থাকে, সেই পা‌নির মতো গণতন্ত্র। কচুপাতার মতো টলা দিলেই পানি পড়ে যাবে।’

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে তি‌নি বলেন, ‘এ দেশে বিচার বিভাগ কোথায় স্বাধীন? তারেক রহমানকে একজন বিচারক খালাস দেয়ার কারণে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি তো বিচার-বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষ রায় দিয়েছিলেন।

‘আজকে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে পিস্তল ঠে‌কিয়ে কেন দেশছাড়া করলেন? এটা কোন আইন? কোন প্রক্রিয়ার কথা বলছেন? দেশের কোনো আইনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য বাধা নেই। এই আইনের বাধা একজনই, সেটা হলো শেখ হাসিনা। আজকে তি‌নি নিজেকে দেশের আইন মনে করেন। তিনি যা বলছেন, তা-ই আইন। তি‌নি চাইলে যে যত বড় হোক না কেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে। যত বড় রাজনীতিবিদ হোন না কেন, শা‌স্তি পেতে হবে। য‌দি সে ভালো মানুষও হয়, প্রধানমন্ত্রী চাইলে শাস্তি পেতে হবে।’

খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান চুন্নুর পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন অ্যাবের সেক্রেটারি প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন আহমেদ, বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভুঁইয়া, বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম, প্রকৌশলী আব্দুল হালিম পাটোয়ারী, প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, প্রকৌশলী আসিফ হোসেন রচি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মুহিত রুমি, হেলাল উদ্দিন তালুকদার, কামরুল হাসান সাইফুল, শফিউল আলম তালুকদার সবুজসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

দেশকে আর অস্থীতিশীল করতে দেব না: কৃষিমন্ত্রী

দেশকে আর অস্থীতিশীল করতে দেব না: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকসহ অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনও তৎপর রয়েছে। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায় না। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য করতে চায়। তারা নির্বাচিত একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। তাদের সে চেষ্টা কখনও সফল হবে না।’

স্বাধীনতা বিরোধী চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশকে আর অস্থিতিশীল করতে দেবে না সরকার।

টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শনিবার দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনও তৎপর রয়েছে। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায় না। বাংলাদেশকে তারা পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য করতে চায়। তারা নির্বাচিত একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

‘তাদের সে চেষ্টা কখনও সফল হবে না। কারণ দেশের মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। দেশের উন্নয়নের উগ্রযাত্রা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। কেউ এটাকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। দেশকে আমরা আর অস্থীতিশীল করতে দেব না।’

ছাত্রলীগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন। আর এই অর্জনে মূল ভূমিকা রেখেছে ছাত্রলীগ।

‘সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই নেতৃত্বই আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

আরও বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন।

সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

‘খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না’

‘খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া আছে বলে সীমান্তে এখনও শত্রুরা ভয় পায়। তিনিই এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি না থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া না থাকলে দেশের গণতন্ত্র থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগও থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি, তিনি বাংলাদেশের ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রী। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, বিদেশে চিকিৎসা করতে দিন। অন্যথায় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সেই আন্দোলন হবে আপনাদের পতনের আন্দোলন।

‘খালেদা জিয়া আছে বলে সীমান্তে এখনও শত্রুরা ভয় পায়। তিনিই এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি না থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না। খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না।’

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।

বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

খালেদার জন্য বিএনপি কী করেছে: প্রশ্ন কাদেরের

খালেদার জন্য বিএনপি কী করেছে: প্রশ্ন কাদেরের

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলনের নানা হুমকি দিয়ে বিএনপি রাজপথে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার জন্য দৃশ্যমান একটা কার্যকর মিছিল চোখে পড়েনি। এখন মায়াকান্নাটা কাঁদছে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থার জন্য তার দল বিএনপির ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শনিবার সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের রোড-শোতে অংশ নিয়ে খালেদা ইস্যুতেও কথা বলেন তিনি।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিয়ে তারা (বিএনপি) কী করেছে? ৭ বছর মামলাটা ঝুলিয়ে রেখেছে। বিএনপি একটা দল, এত বড় বড় লইয়ার। সেখানে লিগ্যাল ব্যাটলে তারা কিছু করতে পারেনি।’

খালেদার জন্য আন্দোলনের নানা হুমকি দিয়ে বিএনপি রাজপথে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার জন্য দৃশ্যমান একটা কার্যকর মিছিল চোখে পড়েনি। এখন মায়াকান্নাটা কাঁদছে। আমরা তার পছন্দ মতো দেশের সর্বোচ্চ, সর্বাধুনিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা হচ্ছে।

‘এমনও বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনারও প্রয়োজন হয় এ ব্যাপারে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে, যিনি সাজায় আছেন, তার সাজা স্থগিত করে তাকে বাইরে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ চিকিৎসাও তিনি নিচ্ছেন।’

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে সাড়া মিলছে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভেরি ক্রিটিক্যাল’। তাকে অবিলম্বে বিদেশে নেয়া দরকার।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার অনুমতি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

সরকারের তরফ থেকে যুক্তি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তাকে বিদেশ নিতে অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই।

আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কারও সাজা স্থগিত করে চিকিৎসা নেয়ার উদারহরণ বিএনপির শাসনামলেও নেই বলে জানালেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘এখন যে উনারা বড় বড় কথা বলেন, তাদের সময় কাকে তারা এই সুযোগ দিয়েছে? জিয়াউর রহমানের সময়ে, খালেদা জিয়ার সময়ে কখনও কী কাউকে এভাবে বিদেশে যাওয়ার, চিকিৎসা নেয়ার নেয়ার সুযোগ কী দিয়েছে? আর এখন বড় বড় কথা বলছেন।’

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

‘নৌকার ভোট হবে টেবিলে, আঙুল দিয়ে হবে না’

‘নৌকার ভোট হবে টেবিলে, আঙুল দিয়ে হবে না’

ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোটের প্রচারের সভায় আব্দুল হাই আকন্দের বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবি: নিউজবাংলা

কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন, ‘নতুন চেয়ারম্যান হয়েছে তো, কোথায় কী বলতে হবে সেটাই তো জানে না। এখন পর্যন্ত ভিডিওটি আমি দেখিনি। আপনি যেহেতু জানালেন বিষয়টি আমি দেখছি।’

‘নৌকা মার্কার ভোট হবে টেবিলের ওপরে। আঙুল দিয়ে কোনো ভোট হবে না। মতিন সরকারকে নৌকা মার্কায় বিজয়ী করতেই হবে। যেখানে ৪ হাজার ১০০ ভোট আছে, সেখানে ৩ হাজার ৫০০ ভোট কাস্ট হলেই হবে ​এবং তা টেবিলের ওপরই দিতে হবে। কোনো আড়াল করা চলবে না। সব ভোট হবে নৌকার।’

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিন সরকারের ভোটের প্রচারের সভায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এ কথা বলেন আব্দুল হাই আকন্দ। তিনি কালিহাতী উপজেলার গোহাইলবাড়ি ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

আগামী ২৬ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে নিকরাইল ইউনিয়নে ভোট হবে। মতিন এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।

আকন্দের এই বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ভিডিওতে হাইকে আরও বলতে শোনা যায়, ​‘মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৬ তারিখ। প্রতীক দেয়া হবে হবে ৭ তারিখ। সেদিনই খেলা হবে। প্রতিপক্ষ প্রার্থী মাসুদ কীভাবে এই ওয়ার্ডে প্রচারে আসবে সেটা আমি দেখব। পুলিশ, প্রশাসন যেভাবেই লাগবে সেভাবেই দেখব।’

‘ভোটের জন্য আপনাদের হাতে ধরব, পায়ে ধরব কিন্তু তারপরও যদি কেউ অন্য জায়গায় ভোট দেয় তাহলে সেই ব্যবস্থা আমরা নেব। আমার বংশের কেউ যদি প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে যায় তাহলে তাকেও শাস্তি দেয়া হবে।’

এমন বক্তব্যের বিষয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে আকন্দের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের নৌকা মার্কার কর্মীদের গায়ে হাত তুলেছিল, তাই রাগের মাথায় কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলে ফেলেছি। এটা আসলেই বলা উচিত হয়নি।’

কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন, ‘নতুন চেয়ারম্যান হয়েছে তো, কোথায় কী বলতে হবে সেটাই তো জানে না। এখন পর্যন্ত ভিডিওটি আমি দেখিনি। আপনি যেহেতু জানালেন বিষয়টি আমি দেখছি।’

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখতেছি। তারপর ওনাকে অফিশিয়ালি শোকজ নোটিশ দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

খালেদা উন্নত চিকিৎসা পান আমরাও চাই : নাছিম

খালেদা উন্নত চিকিৎসা পান আমরাও চাই : নাছিম

শুক্রবার রাজধানীর দারুস সালামে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। ছবি: নিউজবাংলা

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ’আমরা খালেদা জিয়ার মৃত্যু কামনা করি না। আমাদের নেত্রী, মানবতার মা শেখ হাসিনা দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে চিকিৎসা নিতে দিচ্ছেন। আমরাও চাই তিনি উন্নত চিকিৎসা পান।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা খুঁজছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, 'আমরাও চাই তিনি উন্নত চিকিৎসা পান।'

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর দারুস সালামে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১০টি ইউনিটের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরদিন ভোরে তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ’আমরা খালেদা জিয়ার মৃত্যু কামনা করি না। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আমাদের আছে। আমাদের নেত্রী, মানবতার মা শেখ হাসিনা দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে চিকিৎসা নিতে দিচ্ছেন। আমরাও চাই তিনি উন্নত চিকিৎসা পান।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, 'খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় রাজনৈতিক ফায়দা খুঁজছে বিএনপি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কোনো বক্তব্য নেই। প্রথম থেকেই রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ফায়দ লুটার অপচেষ্টায় ব্যস্ত বিএনপি ও মির্জা ফখরুলরা।'

নাছিম বলেন, 'খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক কথা বলেননি। ড্যাবের নেতা, বিএনপি নেতারা চিকিৎসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে পারেন, প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনতে পারেন। অথচ তাতে তাদের কোনো প্রচেষ্টা, কোনো আগ্রহ দেখি না। তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে চিন্তা করেন না। তাদের চিন্তা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়া।'

তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে নাছিম বলেন, 'আজকের তরুণরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাদের নেতৃত্বেই জাতির পিতার আদর্শের সোনার বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়ে যাবে। সেই এগিয়ে চলার পথে আমরা নবীনদের স্বাগত জানাই। নবীনদের আদর্শবান হতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ হতে হবে।'

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আগা খান মিন্টুসহ নগর নেতারা।

আরও পড়ুন:
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: ‘বিএনপির চালাকিকে’ দুষলেন প্রধানমন্ত্রী
কত টাকা ভর্তুকি দেব, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ত্বরান্বিত হওয়া বড় প্রাপ্তি: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
কোন মহাপ্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু, জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন