কিছু মানুষের দেহে আছে এইচআইভি প্রতিরোধ ক্ষমতা?

কিছু মানুষের দেহে আছে এইচআইভি প্রতিরোধ ক্ষমতা?

গত ৪০ বছরে বিশ্বজুড়ে তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এইডস। ছবি: সংগৃহীত

এইচআইভির চিকিৎসা আবিষ্কারে বহুমুখী সব গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা, এখনও করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আছে জিন থেরাপি; দেহ থেকে ভাইরাস নির্মূলে ‘কিক অ্যান্ড কিল’ প্রচেষ্টা; ভাইরাসের বিস্তার কোষের মধ্যেই আটকে রাখতে ‘ব্লক অ্যান্ড লক’ পদ্ধতি ও প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা। আজ পর্যন্ত চিকিৎসকরা মাত্র দুইজনকে চিকিৎসা দিয়ে সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে পেরেছেন; তাও জটিল ও বিপজ্জনক স্টেম সেল প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এইচআইভি ভাইরাস ও এর মাধ্যমে সৃষ্ট প্রাণঘাতী এইডস রোগ নিরাময় অযোগ্য। অংসখ্য গবেষণা সত্ত্বও আজ পর্যন্ত মেলেনি রোগটির চিকিৎসা কিংবা প্রতিষেধক।

তবে এইচআইভি শনাক্ত এক নারী নিজে নিজেই সেরে উঠেছেন বা ভাইরাসমুক্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

এনবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্জেন্টিনার ওই নারীর দেহে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। ভাইরাসটি অনিরাময়যোগ্য হলেও ওই নারী সম্ভবত নিজ দেহের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বলেই সেরে উঠেছেন।

ঘটনাটি সত্যি হলে সারা বিশ্বে এ ধরনের দ্বিতীয় ব্যক্তির তথ্য হাতে পেলেন গবেষকরা। ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করেননি তারা; তাকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে ‘এস্পেরাঞ্জা রোগী’ বলে। ইংরেজি শব্দ ‘এস্পেরাঞ্জা’র অর্থ হলো ‘আশা’।

সন্তানের জননী ‘এস্পেরাঞ্জা রোগী’র দেহে প্রথম এইচআইভির উপস্থিতি ধরা পড়ে ২০১৩ সালে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারী ই-মেইলে স্প্যানিশ ভাষায় এনবিসিকে লিখেছেন, ‘আমি সুস্থ আছি, আমার ভালো লাগছে। আমার পরিবারের সবাই সুস্থ। আমার ওষুধ নিতে হচ্ছে না। অন্য স্বাভাবিক মানুষের মতোই আমি বাঁচছি। আমি সৌভাগ্যবতী।’

চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিনে গত সোমবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের সহ-লেখকরা জানান, বিশ্বজুড়ে এইচআইভি নিয়ে বাঁচছেন প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ মানুষ। ‘এস্পেরাঞ্জা রোগী’র ওপর গবেষণা ফল তাদের নতুন করে আশার আলো দেখাতে পারে। এইচআইভির চিকিৎসা নিয়ে গবেষণার পরিধিও আরও বাড়তে পারে।

দেহের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসটি নির্মূল করে দিতে পারে বলে প্রচলিত ধারণার পক্ষে দুটি প্রমাণের একটি এটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে র‍্যাগন ইনস্টিটিউটের ভাইরাস প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা প্রতিবেদনের সহ-লেখক ড. শু ইউ বলেন, ‘এটা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটা অসাধারণ চমৎকার।’

ওই নারীর দেহে সক্রিয় এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে রীতিমতো চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছেন প্রধান গবেষক ড. নাটালিয়া লফার। তিনি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের ইনবার্স ইনস্টিটিউটের ফিজিশিয়ান সায়েন্টিস্ট।

গবেষক দলে না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার এইচআইভি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষক ও বিখ্যাত চিকিৎসক ড. স্টিভেন ডিকস বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ হলো, কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় এটি সম্ভব হয়- সেটা বের করা। তারপর এইচআইভি ও এইডসের চিকিৎসায় সেই পদ্ধতিটিকে কাজে লাগানো।’

এইচআইভির চিকিৎসা আবিষ্কারে বহুমুখী সব গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা, এখনও করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আছে জিন থেরাপি; দেহ থেকে ভাইরাস নির্মূলে ‘কিক অ্যান্ড কিল’ প্রচেষ্টা; ভাইরাসের বিস্তার কোষের মধ্যেই আটকে রাখতে ‘ব্লক অ্যান্ড লক’ পদ্ধতি ও প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা।

আজ পর্যন্ত চিকিৎসকরা মাত্র দুইজনকে চিকিৎসা দিয়ে সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে পেরেছেন; তাও জটিল ও বিপজ্জনক স্টেম সেল প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

এইচআইভি ভাইরাস দেহের নির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘায়ু রোগ প্রতিরোধী কোষে আক্রমণ করে এবং সেখানেই লম্বা সময় পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে পারে। ফলে দেহ থেকে ভাইরাসটিকে পুরোপুরি নির্মূল ভীষণ কঠিন।

২০২০ সালের আগস্টে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে ড. ইউয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেটার মূল লেখক ছিলেন তিনি। ওই গবেষণা ৬৫ জনের বিষয়ে তথ্যের বিশ্লেষণ ছিল। আর্জেন্টাইন এই নারীর মতো তাদের দেহেও এইচআইভির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ প্রাকৃতিকভাবে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

প্রতি ২০০ এইচআইভি আক্রান্তের মধ্যে এ সংখ্যা মাত্র এক।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যক্তিদের দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এইচআইভিবাহী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে ভাইরাস বংশবিস্তার করতে পারে না।

এমনই একজন ব্যক্তি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা লরিন উইলেনবার্গ। বর্তমানে ৬৭ বছর বয়সী এই নারীর দেহে এইচআইভি পাওয়া গিয়েছিল ১৯৯২ সালে। তার দেহের শত-কোটি কোষ পরীক্ষা করেও পরে সক্রিয় কোনো এইচআইভি ভাইরাস পাননি গবেষকরা।

ড. ইউয়ের মতে, বর্তমান ‘এস্পেরাঞ্জা রোগী’র মতোই প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি থেকে সেরে উঠেছিলেন উইলেনবার্গও।

২০১৯ সালে ইউয়ের দলকে গবেষণায় সহযোগিতার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হন এস্পেরাঞ্জা। তার দেহে সম্ভাব্য সক্রিয় এইচআইভির উপস্থিতি খুঁজতে রক্তের ১২০ কোটি কোষ পরীক্ষা করেন বিজ্ঞানীরা।

২০২০ সালের মার্চে সন্তান প্রসব করেন এস্পেরাঞ্জা। সন্তানটি এইচআইভি নেগেটিভ ছিল। মা ও শিশুর নাড়ির পাঁচ কোটি কোষেও এইচআইভির উপস্থিতি খুঁজেছিলেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অ্যালার্জি ও সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের এইডস বিভাগের পরিচালক কার্ল ডাইফেনব্যাচ বলেন, ‘গবেষণায় এই ধারণা মিলছে যে এস্পেরাঞ্জা রোগীর দেহের কোষে বংশবিস্তারে সক্ষম কোনো নিষ্ক্রিয় এইচআইভি ভাইরাসও নেই। এই রোগীদের নিয়ে আমরা যত বেশি কাজ করছি, ততই যেন অতল মহাসাগরে ডুবছি। কীভাবে তারা সেরে উঠেছেন, তা বোঝা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।’

ড. উই বলেন, ‘জীবিত, নিষ্ক্রিয় বা পরবর্তীতে সক্রিয় হতে সক্ষম কোনো এইচআইভি ভাইরাসই যে তাদের দেহে নেই, এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কখনোই হওয়া যাবে না। এই রোগীদের মাধ্যমে যা আমরা শিখেছি, তা বাকি রোগীদের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য।’

গত ৪০ বছরে বিশ্বজুড়ে এইডসে প্রাণ গেছে তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষের।

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অক্টোপাস, কাঁকড়ারও আছে আনন্দ-বেদনা

অক্টোপাস, কাঁকড়ারও আছে আনন্দ-বেদনা

যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা বলছেন, অক্টোপাস, কাঁকড়া ও লবস্টারের মতো প্রাণী মানুষের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন উপায়ে বিশ্বকে অনুভব করে। গবেষণায় যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে, এই প্রাণীগুলো আনন্দ ও বেদনা অনুভব করে।

অক্টোপাস, কাঁকড়া ও লবস্টারকে ‘সংবেদনশীল প্রাণী’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে এসব প্রাণীর বুদ্ধিমত্তা বৈজ্ঞানিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার মন্ত্রী লর্ড জ্যাক গোল্ডস্মিথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বৈজ্ঞানিকভাবে এখন পরিষ্কার, ডেকাপড (খোলসে ঢাকা কাঁকড়া, লবস্টার চিংড়িজাতীয় প্রাণী) এবং সেফালোপড (শুঁড়ওয়ালা অক্টোপাস স্কুইডজাতীয় প্রাণী) ব্যথা অনুভব করতে পারে এবং এ কারণেই তাদের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষার আওতায় আসা দরকার।’

লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের তিনশরও বেশি গবেষণা ফলাফল পর্যালোচনা শেষে অক্টোপাস, কাঁকড়া ও লবস্টারের মতো প্রাণীদের ‘সংবেদনশীল প্রাণী’র স্বীকৃতি দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ জন্য শিগগিরই দেশটির অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার সেন্টিয়েন্স বিল সংশোধন করা হবে।

নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রিয়ার মতো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে প্রাণিকল্যাণ আইনের অধীনে রয়েছে এসব প্রাণী।

লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের গবেষক দল তাদের প্রতিবেদনে সংবেদনশীলতার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি হলো ব্যথা, আনন্দ, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, উষ্ণতা, আনন্দ, স্বাচ্ছন্দ্য ও উত্তেজনার মতো অনুভূতির ক্ষমতা।

গবেষণায় এসব অমেরুদণ্ডী প্রাণীর অনুভূতির আটটি পরিমাপ মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিখন ক্ষমতা, ব্যথা অনুভবের স্নায়বিক উপস্থিতি এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে এর সংযোগ, চেতনানাশক প্রতিক্রিয়া এবং এমন আচরণ যা আঘাতের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

গবেষণা প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ক্রাস্টেসিয়ান (খোলসে ঢাকা প্রাণী) এবং সেফালোপড নিঃসন্দেহে মানুষের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন উপায়ে বিশ্বকে অনুভব করে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাদের সেই অভিজ্ঞতা কি আনন্দ এবং বেদনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত?

‘আমরা বিশ্বাস করি, গবেষণায় যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে, এই প্রাণীগুলো আনন্দ ও বেদনা অনুভব করে।’

প্রতিবেদনে এসব প্রাণীর কল্যাণে ‘যৌক্তিক ও ব্যাপক’ পরিসরে পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে জীবন্ত অবস্থায় কাঁকড়া বা লবস্টারের খোলস উপড়ে না ফেলা অথবা আগুনে না পোড়ানো। শুধু প্রশিক্ষিত লোকজনকে এসব প্রাণী বিক্রির অনুমতি দেয়ার সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

কগনিটিভ সায়েন্স ফিলসফার জোনাথন বার্চ বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের আইনে সংশোধন এলে বড় ধরনের একটি দ্বিচারিতারও অবসান ঘটাবে। এতদিন ধরে অক্টোপাস ও অন্যান্য সেফালোপড প্রাণীরা কেবল বিজ্ঞান গবেষণায় সুরক্ষা পেয়েছে, এর বাইরে কোনো সুরক্ষা পায়নি।’

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বলার সময় মানুষের অজান্তেই সক্রিয় হয় মুখের বেশ কিছু পেশি। ছবি: নিউজবাংলা

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

কিছু মানুষ অবলীলায় বলে যান একের পর এক মিথ্যা। তাদের ভাবলেশহীন চোখ-মুখ দেখে মিথ্যা ধরা কঠিন। তবে এসব চতুর মিথ্যাবাদীর সামনে আসছে দুঃসময়। বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যাতে মিথ্যা বলে পার পাওয়া হবে কঠিন।

এই প্রযুক্তির বিশেষ সেন্সর মুখের পেশির অতি ক্ষুদ্র কম্পনকেও ঠিক ধরে ফেলতে সক্ষম। আর এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, মনের ভেতরে কথা লুকিয়ে রেখে বাইরে আপনি কতটা মিথ্যা বলছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাইট সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি গড়পড়তা যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে মিথ্যা কথা শনাক্তে অনেক ভালো কাজ করে।

ইসরায়েলের তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এই সিস্টেম ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ঠিকঠাক মিথ্যা ধরতে পেরেছে। এই প্রক্রিয়ায় দুই ধরনের মিথ্যাবাদীকে ধরা গেছে।
বিহেভিওরাল নিওরোসায়েন্টিস্ট ডিনো লিভি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি নিঁখুত নয়, কিন্তু অন্য অনেক ফেশিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির চেয়ে বেশ ভালো।’

সত্যি ও মিথ্যা কথা বলা ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে লাগানো ইলেক্ট্রোড মুখের পেশির নড়াচড়া মেপে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমকে তথ্য দিয়েছে। এতে করে ওই অ্যালগরিদমে মানুষের মুখের ভাবভঙ্গী থেকে ইঙ্গিতগুলো চিনতে শিখেছে আর্টিফিসিয়াল প্রযুক্তি।

গবেষকেরা বলছেন, পলিগ্রাফের মতো প্রচলিত সাধারণ মিথ্যা ধরার যন্ত্রগুলো হৃৎকম্পন, রক্তচাপ ও নিঃশ্বাসের মাত্রার হেরফেরের মতো শরীরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর নির্ভর করে। তবে যে কেউ এ বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিগ্রাফ মেশিন ব্যবহার করলেও এ থেকে পাওয়া ফলকে নিঁখুত বলার উপায় নেই।

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

তবে এসব পেশির পরিমাপ, নিয়ন্ত্রণ বা চিহ্নিত করা সহজ নয়। অনিচ্ছাকৃত, অনিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র-অভিব্যক্তিগুলো শুধু এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য দেখা যায়। ৪০ থেকে ৬০ মিলিসেকেন্ডের পরে অভিব্যক্তিগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।

অভিব্যক্তি তৈরি করে মুখের এমন নির্দিষ্ট পেশি শনাক্ত করার জন্য বেশিরভাগ গবেষণায় ফেসিয়াল সারফেস ইলেক্ট্রোমাইয়োগ্রাফি বা এসইএমজি নামের একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়। এটি মুখের পেশির বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করে এবং মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন এমন সব সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি চিহ্নিত করতে পারে।

ইসরায়েলি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় একটি নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য ইলেক্ট্রোড পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি এসইএমজি ডিভাইসের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও আরামদায়ক। ভিডিও ফুটেজে মুখের অভিব্যক্তি পড়ার জন্য প্রশিক্ষিত একটি মেশিন লার্নিং টুলকেও গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে।

লিভি ব্যাখ্যা করেন, ‘এটা শুরুর দিককার একটা গবেষণা ছিল, যে কারণে খুব সাধারণ মিথ্যা কথা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।’

পরীক্ষায় দুই জন ব্যক্তিকে সামনাসামনি ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে বসানো হয়। একজন হেডফোন লাগিয়ে কানে যা শুনছেন সেটা বলেন বা ভিন্ন কিছু বলেন। আর তার সামনে বসা ব্যক্তি ধরার চেষ্টা করেন কখন তিনি সঠিক কথা বলছেন।

দুই অংশগ্রহণকারী যখন অডিও শুনছে, কথা বলছে ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে সে সময় গবেষকেরা তাদের দুই ভ্রুর মাঝের পেশি (যাকে করুগেটর সুপারসিলিয়া বলা হয়) ও গালের পেশির (জাইগোম্যাটিকাস মেজর) কার্যকলাপ রেকর্ড করেন।

গবেষণায় ৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিদর্শন বা ‘সূত্র’ পাওয়া গেছে। কিছু লোক মিথ্যা বলার সময় তাদের গালের পেশিগুলিকে সক্রিয় করে, কেউ বা তাদের ভ্রুর কাছে পেশি কুঁচকে ফেলে।

লিভি ও তার সহকর্মীরা গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘আমরা সব অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা সফলভাবে ধরতে পেরেছি। মানুষের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া যন্ত্রের চেয়ে এর সফলতা অনেক বেশি।’
মিথ্যা কথা ধরার অ্যালগরিদমটি দিয়ে লিভি ও তার দল ২২ থেকে ৭৩ শতাংশ সময় যথাযথভাবে মিথ্যা কথা ধরতে পেরেছে।
গবেষকেরা বলছেন, পরীক্ষামূলক অ্যালগরিদমটির আরও উন্নতি দরকার। কারণ দেখা গেছে, মানুষের যেসব পেশি তথ্য প্রকাশ করে সেগুলো বদলাতে থাকে।

তবে দুর্ভাবনার বিষয় হলো, যেসব ব্যক্তি সফলভাবে তাদের পার্টনারকে প্রতারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদেরকে মেশিন-লার্নিং অ্যালগরিদমও খুব একটা শনাক্ত করতে পারেনি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তব জীবনে বা জটিল পরিস্থিতিতে মিথ্যা শনাক্ত করা আরও চ্যালেঞ্জিং। মিথ্যাবাদীরা সাধারণত মিথ্যা ও অর্ধ-সত্য মেশানো দীর্ঘ গল্প শোনান। এছাড়া মিথ্যা বলার সময় অনেকে শব্দ বাদ দিয়ে দেন, এড়িয়ে যান বা সত্য ঢাকতে দুর্বোধ্যভাবে কথা বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলকে লিভি বলেন, ‘ আমরা আশা অরি আরও উন্নতি ও সফল পরীক্ষার পর এটি পলিগ্রাফের শক্ত বিকল্প হিসেবে দাঁড়াবে।’

লিভি ও তার সহকর্মীদের ধারণা, ইমেজ প্রসেস করার যে যন্ত্র সেটিকে আরও উন্নত করে কণ্ঠের পরিবর্তন নিয়ে যে সব প্রযুক্তি কাজ করে সেগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা যাবে।

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

তারাদের বয়স গণনা কীভাবে

তারাদের বয়স গণনা কীভাবে

মহাবিশ্বে একেকটি ছায়াপথ মানে নানা বয়সী বিপুলসংখ্যক তারার সমাহার। ছবি: সংগৃহীত

বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর তথ্য সংগ্রহের পরও সুপরিচিত তারারা বিজ্ঞানীদের নিত্যনতুন চমক দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে রেড সুপারজায়ান্ট হিসেবে পরিচিত বেটেলজিউস তারার আলো ম্লান হয়ে যেতে শুরু করে। সে সময় বিজ্ঞানীরা বুঝে উঠতে পারেননি সেখানে ঠিক কী ঘটছে। অনেকে ভেবেছিলেন যে তারাটি সুপারনোভা হিসেবে মহাজাগতিক বিস্ফোরণের শিকার হতে যাচ্ছে। পরে জানা যায় যে মানুষের মন খারাপের মতোই তারাদেরও মাঝে মাঝে নিভু নিভু দিন যেতে পারে।

দূর আকাশের জ্বলজ্বলে নক্ষত্র বা তারারা আজও অধরা রয়ে গেলেও তাদের রহস্যভেদ হয়েছে আগেই। তারাদের বিষয়ে বহুকালের অনেক অজানা তথ্যই আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে এখন জানা।

কয়েক শ বছর ধরে রাতের আকাশে তারাদের দিকে টেলিস্কোপ ধরে রাখার পর জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর সাধারণ নক্ষত্রপ্রেমীরাও আজ যেকোনো তারার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বলে দিতে পারে সহজেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে তারার ভর, গঠন ইত্যাদির কথা।

তারার ভর হিসাব করার প্রক্রিয়া তেমন কঠিন নয়। কোনো সঙ্গী তারা থাকলে সেটিকে প্রদক্ষিণরত তারাটি ঘুরে আসতে কত সময় নেয়, তা জানা এবং এরপর খানিকটা বীজগণিতের সূত্র প্রয়োগ করলেই জানা যাবে দ্বিতীয় তারাটির ভর। তারাটি কিসে তৈরি, তা জানতে হলে পরীক্ষা করতে হবে সেটি থেকে বিচ্ছুরিত আলোর বর্ণচ্ছটা।

সায়েন্স নিউজ ফর স্টুডেন্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজও তারাদের বিষয়ে যে রহস্য পুরোপুরি ভেদ করে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা, সেটি হলো তারাদের বয়স যাচাই।

বাল্টিমোরের স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড সোডারব্লোম বলেন, ‘একমাত্র সূর্যের বয়সই জানি আমরা। অন্য তারাদের সম্ভাব্য বয়স জানতে সেগুলোর বিষয়ে হাতে থাকা তথ্য আর অন্য তারাদের সঙ্গে সেগুলোর তুলনামূলক একটি সম্পর্ক দাঁড় করাই আমরা।’

বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর তথ্য সংগ্রহের পরও সুপরিচিত তারারা বিজ্ঞানীদের নিত্যনতুন চমক দিয়ে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে রেড সুপারজায়ান্ট হিসেবে পরিচিত বেটেলজিউস তারার আলো ম্লান হয়ে যেতে শুরু করে। সে সময় বিজ্ঞানীরা বুঝে উঠতে পারেননি সেখানে ঠিক কী ঘটছে। অনেকে ভেবেছিলেন যে তারাটি সুপারনোভা হিসেবে মহাজাগতিক বিস্ফোরণের শিকার হতে যাচ্ছে। পরে জানা যায় যে মানুষের মন খারাপের মতোই তারাদেরও মাঝে মাঝে নিভু নিভু দিন যেতে পারে।

আমাদের সৌরজগতের একমাত্র নক্ষত্র সূর্যের আচরণ অন্য মধ্যবয়সী নক্ষত্রের মতো নয় বলে যেদিন বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করলেন, সেদিনও অনেক নতুন হিসাবের সামনে দাঁড়াতে হয়েছিল তাদের।

বিজ্ঞানীরা জেনেছেন যে সমবয়সী ও সমভরের অন্য নক্ষত্রদের মতো সূর্যের চৌম্বকক্ষেত্র সমান সক্রিয় নয়। এর অর্থ হলো, মধ্যবয়সী তারাদের আচরণও এখন পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্ধারণ করতে পারেননি গবেষকরা।

পদার্থবিদ্যার সূত্র ব্যবহার করে এবং পরোক্ষ বিভিন্ন পরিমাপের সঙ্গে তুলনা করে একটি তারার বয়স কেবল ধারণা করে নিতে পারেন বিজ্ঞানীরা। রকমভেদ অনুযায়ী একেক ধরনের তারার ক্ষেত্রে একেকটি পদ্ধতি অধিক কার্যকর বলে বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে।

তারার বয়স নির্ণয় জরুরি কেন

মহাবিশ্বে একেকটি ছায়াপথ মানে নানা বয়সী বিপুলসংখ্যক তারার সমাহার। তারাদের বয়স জানা গেলে সংশ্লিষ্ট ছায়াপথের সৃষ্টি-বিবর্তন, কীভাবে সেটিতে বিভিন্ন গ্রহের জন্ম ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ তথ্য জানা সম্ভব হতে পারে। তারার বয়স নির্ণয়ের মাধ্যমে অন্য সৌর জগৎগুলোতে প্রাণ সন্ধানের কাজও সহজ হয়ে যেতে পারে।

তারাদের জন্ম কীভাবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের ভালোই ধারণা আছে। তারাদের জীবনের গতি-প্রকৃতি, মৃত্যুর তথ্যও আর রহস্যে আটকে নেই। যেমন কম বয়সী তারায় হাইড্রোজেনের আধিক্য থাকে। দীর্ঘ সময় সেই হাইড্রোজেন জ্বালানির অনেকটা পুড়ে যাওয়ার পর তারারা নিভু নিভু হয়ে যায়। একপর্যায়ে এসব তারার মাধ্যমে মহাবিশ্বে গ্যাস ছড়িয়ে যায়- কখনও বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে, কখনও সামান্য গোঙানির পরই সেগুলো জড় পদার্থে রূপ নেয়।

এই একেকটি ধাপ একেকটি তারার জীবনে কখন আসে, সেটি সঠিকভাবে নির্ণয় করতে গিয়েই ধাঁধায় পড়ে যান বিজ্ঞানীরা। ভরের ওপর নির্ভর করে অনেক তারাই বয়সের মাইলফলক ছোঁয়ার পরেও বহু পথ পাড়ি দেয়, অনেক তারা তার আগেই নিভে যায়।

বিশাল নক্ষত্রের অনেকগুলোরই মৃত্যু ঘটেছে তুলনামূলক কম বয়সে। শত-কোটি বছর ধরে স্থিরভাবে জ্বলজ্বলে থেকে যাওয়া বিশাল আকৃতির তারার সংখ্যা হাতে গোনা।

বিংশ শতাব্দীতে ইজনার হারৎজস্প্রাং ও হেনরি নরিস রাসেল নামের দুই জ্যোতির্বিজ্ঞানী বয়সভেদে নক্ষত্রের তালিকা তৈরির নতুন একটি ধারণার প্রচলন করেন। তারা প্রতিটি তারার তাপমাত্রার সঙ্গে এর উজ্জ্বলতার তুলনামূলক ছক তৈরি করেছেন। সব তথ্য এক জায়গায় এনে বয়স অনুযায়ী তারাদের শ্রেণিবিভাগের এই ডায়াগ্রামটি হারৎজস্প্রাং-রাসেল ডায়াগ্রামস নামে পরিচিত।

বর্তমানে ওই নমুনাগুলো ব্যবহার করেই গুচ্ছ তারা, অর্থাৎ একই সময়ে জন্মেছে বলে মনে করা হয়- এমন তারাদের বয়সের একটি সাধারণ হিসাব বের করেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

গ্রহাণুতে আঘাত হানতে ডার্ট মহাকাশযান রওনা দেবে কাল

গ্রহাণুতে আঘাত হানতে ডার্ট মহাকাশযান রওনা দেবে কাল

ডার্ট পদ্ধতিতে কৃত্রিম উপগ্রহ দিয়ে গ্রহাণুকে ধাক্কা দেয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত

ডিমরফস গ্রহাণু যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে, তখন সেটিকে ধাক্কা দিয়ে কক্ষপথ থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৮ মাইল দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে ডার্ট মহাকাশযান। ঘটনাটি ঘটার সম্ভাব্য সময় ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর।

এক বিশাল পাথরের খণ্ড আর মহাকাশের সঙ্গে মানবজাতির সম্পর্কে নতুন মোড়। একটি গ্রহাণুকে কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত করতে সেটিতে মহাকাশযান দিয়ে ধাক্কা দেবে নাসা।

গ্রহাণুটিতে আঘাত করতে গিয়ে বিস্ফোরিতও হতে পারে মহাকাশযানটি। তবে এর প্রভাবে শেষ পর্যন্ত গ্রহাণুটি কক্ষপথ থেকে সরে কি না, কিংবা গতিপথ পাল্টায় কি না- সেটিই দেখার অপেক্ষা।

বিশ্বে কিংবা হয়তো গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে এ ধরনের পরিকল্পনা এটাই প্রথম। মানবজাতির ইতিহাসে এর আগে কখনও সৌরজগতে মহাকর্ষীয় ছন্দপতন ঘটানোর মতো ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীকে বিপজ্জনক গ্রহাণুর আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখার পদ্ধতি আবিষ্কারে পরীক্ষামূলকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ডাইনোসর বিলুপ্ত করে দেয়া গ্রহাণুর মতো বিপজ্জনক মহাজাগতিক বস্তুর আঘাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে চালানো হচ্ছে এ পরীক্ষা।

গ্রহসংক্রান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আবিষ্কারে এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘ডাবল অ্যাস্টারয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট’, বা সংক্ষেপে ডার্ট।

এর আওতায় ডিমরফস নামের একটি ঝুঁকিমুক্ত গ্রহাণুতে মহাকাশযান দিয়ে ধাক্কা দেবে নাসা। ডিমরফস আদতে চাঁদের চেয়ে ছোট একটি উপগ্রহ, যার ব্যাস প্রায় ১৬০ মিটার।

ডার্ট মিশনে ৬১০ কেজি ওজনের একটি মহাকাশযান ব্যবহার করবে নাসা। এটি বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেজ থেকে রওনা হবে। ডার্ট মহাকাশযানটিকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে স্পেসএক্সের ফ্যালকন নাইন রকেট।

ডার্ট মহাকাশযানের গন্তব্য সৌরজগতের ডাইডিমস সিস্টেম। পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক নয়, এমন এক জোড়া গ্রহাণুকে বলা হয় ডাইডিমস সিস্টেম, যার অন্যতম হলো ডিমরফস নামের ১৬৩ মিটারের ‘মুনলেট’ গ্রহাণু। ডাইডিমস নামের ৭৮০ মিটারের একটি গ্রহাণুকে চাঁদের মতো প্রদক্ষিণ করে বলে ছোট্ট ডিমরফসকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘মুনলেট’।

ডাইডিমস ও ডিমরফস- দুটি গ্রহাণুই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। খুব কমই পৃথিবীর কাছাকাছি আসে তারা।

ডিমরফস গ্রহাণু যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে, তখন সেটিকে ধাক্কা দিয়ে কক্ষপথ থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৮ মাইল দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে ডার্ট মহাকাশযান। ঘটনাটি ঘটার সম্ভাব্য সময় ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর।

বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা, ছোট গ্রহাণুটির গতিবেগ বর্তমানের তুলনায় ১ শতাংশ হলেও কমবে এবং ডাইডিমসকে ডিমরফসের প্রদক্ষিণ করার সময়ও কয়েক মিনিট কমবেশি হয়ে যাবে।

২০২৪ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার হেরা মহাকাশযান ডাইডিমসের কাছে যাবে এবং এ বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণের জন্য আরও কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে।

পরীক্ষাটি সফল হলে ভবিষ্যতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে থাকা বিপজ্জনক গ্রহাণুগুলোকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।

ওয়েলসের ন্যাশনাল নিয়ার আর্থ অবজেক্টস ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক জে টেইট বলেন, ‘পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তুর গতিপথ আটকানোর চেষ্টার পথে এটি প্রথম পদক্ষেপ। পরীক্ষাটি সফল হলে তা মানবজাতির জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বড় অর্জন হবে। কারণ এর মাধ্যমে প্রমাণ হবে যে মানবজাতিকে রক্ষায় কারিগরি সক্ষমতা আমাদের আছে।’

ময়লার স্তূপ, উল্কাখণ্ড এমনকি ছোট ছোট গ্রহাণু সারাক্ষণই পৃথিবীকে আঘাত করছে। প্রতিনিয়ত এ ধরনের নানা মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ বা বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট টুকরা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঠিকই; কিন্তু সেগুলো সাধারণত ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানার আগেই বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে পুড়ে যায় বা ভেঙেচুরে আরও ক্ষুদ্র আকার ধারণ করে।

তবে ভূপৃষ্ঠে ছাপ রেখে যাওয়ার মতো গ্রহাণুর শক্তিশালী আঘাত বিরল ঘটনা। কয়েক শ থেকে হাজার, এমনকি শতকোটি বছরের বিরতিতে একবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রায় ছয় কোটি ৬০ লাখ বছর আগে এ ধরনের একটি মহাজাগতিক সংঘর্ষে পৃথিবীর বুক থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

ওই গ্রহাণুর আঘাতে বায়ুমণ্ডলের ওপরের অংশে যে পরিমাণ ধুলা-ময়লা ও ধ্বংসাবশেষের কণা জমেছিল, তার ফলে পৃথিবীতে সূর্যের আলো প্রবেশ আটকে গিয়েছিল; ভেঙে পড়েছিল বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের খাদ্য-শৃঙ্খল ব্যবস্থা।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া অসম্ভব নয়। তাই মানবজাতির স্বার্থে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুগুলোকে পথচ্যুত করার উপায় খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে নাসার ডার্ট মিশন। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাস্তবসম্মত উপায়ে গ্রহাণুকে পথচ্যুত করা যায় কি না, সেটাই পরীক্ষা করে দেখবে নাসা।

মহাকাশযান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পথ বদলে গ্রহাণুর দিকে যেতে পারে কি না, সেটিকে আঘাত করতে পারে কি না এবং এতে গ্রহাণু কতটুকু সরল- সে তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করবেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

ওজন কমানোর ম্যাজিক ‘৫:২ ডায়েট’

ওজন কমানোর ম্যাজিক ‘৫:২ ডায়েট’

‘৫:২ ডায়েট’-এ সপ্তাহে পাঁচ দিন যে কোনো খাবার খেতে বাধা নেই। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

‘৫:২ ডায়েট’ হলো সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রায় স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া চালিয়ে যাওয়ার একটি পদ্ধতি। এটি মেনে চললে সপ্তাহে পাঁচ দিন যা মন চায় তা-ই খাওয়া যাবে, তবে পরিমাণ মাত্রাছাড়া হওয়া চলবে না। আর সপ্তাহের বাকি দুদিন ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হবে একেবারেই কম, মোটামুটিভাবে দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্যালরি।

দেহের ওজন কমাতে খাওয়া-দাওয়া বলতে গেলে ছেড়েই দিয়েছেন, এমন মানুষ আশপাশে অসংখ্য। তবে এতে লিকলিকে শরীর পেলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক, সেই সঙ্গে কম খাওয়ার অভ্যাসও ক্লান্তির।

যারা খাবার এবং ক্ষীণ-তনু দুটিই ভালোবাসেন, তাদের জন্য ভালো বন্দোবস্ত হতে পারে ‘৫:২ ডায়েট’।

গত দশকে বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ‘৫:২ ডায়েট’। হাজার হাজার মানুষ অনুসরণ করছেন এই কৌশল।

‘৫:২ ডায়েট’ হলো সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রায় স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া চালিয়ে যাওয়ার একটি পদ্ধতি। এটি মেনে চললে সপ্তাহে পাঁচ দিন যা মন চায় তা-ই খাওয়া যাবে, তবে পরিমাণ মাত্রাছাড়া হওয়া চলবে না। আর সপ্তাহের বাকি দুদিন ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হবে একেবারেই কম, মোটামুটিভাবে দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্যালরি।

না খেয়ে ওজন কমানোর প্রচলিত কৌশলের চেয়ে এই ৫:২ ডায়েটে স্বাস্থ্যগত সুবিধা অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের গবেষকেরাও দাবি করেছেন, অন্য যেকোনো পদ্ধতির চেয়ে ৫:২ ডায়েট বেশি সহজ ও আকর্ষণীয়।

বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য দৈবচয়নের ভিত্তিতে স্থূলদেহী ৩০০ স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নিয়েছিলেন কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের গবেষকেরা। এই ৩০০ জনকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পুরো এক বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জন্য এক দিনের একটি কর্মশালা পরিচালনা করা হয়, যেখানে দেহের ওজন কমানোর প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই ১০০ জনকে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ডায়েরিতে নিয়মিত খাবারের হিসাব লিখে রাখা, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকস এড়ানোসহ বিভিন্ন টিপস দেয়া হয়।

অন্য ১০০ জনের দলটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘স্ব-সহায়ক গ্রুপ’ বা সেলফ-হেল্প গ্রুপ। এই ১০০ জনকে আনা হয় ‘৫:২ ডায়েট’-এর আওতায়। তবে তাদের কেবল বিভিন্ন খাবারের পুষ্টিমানসহ বিভিন্ন বিবরণের পুস্তিকা এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু অনলাইন লিংক দিয়েছিলেন গবেষকেরা। গ্রুপের সদস্যরা বিশেষ আর কোনো সহায়তা পাননি গবেষণার সময়সীমায়।

শেষ ১০০ জনও ৫:২ ডায়েট সম্পর্কে পরামর্শ ও বিভিন্ন নথি পেয়েছিলেন, তবে তাদের জন্য বাড়তি বরাদ্দ ছিল ছয় সপ্তাহের একটি বিশেষ সহায়তা সেশন। ওই সেশনে তারা গ্রুপের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ডায়েট সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

এক বছর পর দেখা গেছে, ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে তৈরি তিনটি গ্রুপই কিছু না কিছু ওজন হারিয়েছে। তবে প্রচলিত ডায়েট অনুসরণ করা গ্রুপের ১৫ শতাংশ সদস্য শরীরের ওজন কমপক্ষে পাঁচ ভাগ হারান। ‘৫:২ ডায়েট’ অনুসরণ করা বাকি দুটি গ্রুপে কমপক্ষে পাঁচ ভাগ ওজন হারানো সদস্যদের হার ছিল এর চেয়ে বেশি।

‘স্ব-সহায়ক গ্রুপের’ ১৮ শতাংশ সদস্য এবং বিশেষ সেশনের সুবিধা পাওয়া গ্রুপের ২৮ ভাগ সদস্য এক বছরে হারিয়েছেন শরীরের পাঁচ ভাগ ওজন।

গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীরা শেষ পর্যন্ত ৫:২ ডায়েটকেই বেশি পছন্দ করেছেন এবং গবেষণা শেষেও নিজেদের জীবনে এই ডায়েট অনুসরণে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য মনোবিজ্ঞানী কেটি মায়ার্স স্মিথ বলেন, ‘গবেষণাটির মাধ্যমে আমরা বাস্তবজীবনে সহজে মেনে চলার উপযোগী ৫:২ ডায়েটের কার্যকারিতা সম্পর্কে একটি ফলাফল উপস্থাপন করতে পেরেছি।

‘আমরা দেখেছি, ৫:২ ডায়েট ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রথাগত পদ্ধতির বিশাল বড় কিছু না হলেও অনুসরণকারীরা এই কৌশলটিকে বেশি পছন্দ করেছেন। এর কারণ পদ্ধতিটি সহজ এবং বেশ আকর্ষণীয়।’

৫:২ ডায়েটিং প্রচলিত ওজন কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতির তুলনায় চমকে ওঠার মতো ফল দিতে না পারলেও গবেষকেরা বলছেন, এটি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। আর তাই ওজন কমানোর যুদ্ধে নেমে যারা জীবনকে বিপন্ন করে তুলছেন, তাদের জন্য এটি স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।

কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা তাদের নিবন্ধের উপসংহারে লিখেছেন, ‘দেহের ওজন ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দানকারী চিকিত্সকেরা ৫:২ ডায়েট সুপারিশ করার কথা বিবেচনায় নিতে পারেন। কৌশলটি প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অতি উচ্চতর না হলেও এটি অনেক সহজ এবং আকর্ষণীয়।’

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

গ্রহণে অপরূপ রক্তিম চাঁদ

গ্রহণে অপরূপ রক্তিম চাঁদ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে চন্দ্রগ্রহণের ছবিটি তুলেছেন পদার্থবিদ মুনীম হোসেন রানা।

গ্রহণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ টেক্সাসের শেরম্যান থেকে রক্তিম চাঁদের ছবিটি তুলেছেন মুনীম হোসেন রানা। পদার্থবিদ মুনীম হোসেন নিজেকে অ্যামেচার রেডিও হবিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন।

৫৮০ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম মেয়াদে চন্দ্রগ্রহণ শুক্রবার দেখেছে বিশ্ববাসী।

চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদে গিয়ে পড়ে, সেটাই হচ্ছে চন্দ্রগ্রহণ। এটি পূর্ণ কিংবা আংশিক হতে পারে। সাধারণত বছরে তিনবার চন্দ্রগ্রহণ ঘটে থাকে।

এবারের চন্দ্রগ্রহণটি অনেক দিক থেকে ছিল অনন্য। এটি প্রায় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ (৯৯.১%), সেই সঙ্গে ছিল অনেকটা রক্তিম।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যখন সূর্যের আলো প্রবেশ করে, তখন সব ডিরেকশনেই স্ক্যাটারিং ঘটে। তবে অন্যান্য রঙের তুলনায় নীল রং বেশি স্ক্যাটারিং হয়। এর কারণ এর ওয়েভলেংথ ছোট এবং স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করে। তাই বেশির ভাগ সময়ই আমরা আকাশ নীল দেখি।

তবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যের দূরত্ব বেশি থাকায় আলো আমাদের চোখে আসার আগে বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, তাই ছোট ওয়েভলেংথের (নীল রং) চেয়ে বড় ওয়েভলেংথের (লাল, হলুদ) আলো আমরা বেশি দেখি। এ কারণেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আকাশে লাল ও হলুদের মাত্রা বেশি দেখা যায়।

ঠিক এভাবেই চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের যে আলো চাঁদে পৌঁছায়, তাতে লালের প্রাধান্য থাকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যত বেশি ধূলিকণা অথবা মেঘ থাকবে, চাঁদে লাল আলো তত বেশি প্রতিফলিত হবে।

এবারের প্রায় সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের স্থায়িত্ব ছিল ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। এর আগে ১৪৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের চন্দ্রগ্রহণ দেখেছিল বিশ্ব। এরপর ২৬৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ ধরনেরই দীর্ঘ একটি চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে, সেটির স্থায়িত্ব হবে ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ২ সেকেন্ড।

এবারের গ্রহণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ টেক্সাসের শেরম্যান থেকে রক্তিম চাঁদের ছবিটি তুলেছেন মুনীম হোসেন রানা। পদার্থবিদ মুনীম হোসেন নিজেকে অ্যামেচার রেডিও হবিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। অবসরে পৃথিবী ও এর বাইরের রেডিও সিগন্যাল নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করেন।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এবং বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও লিগের (বিএলআরএল) মহাসচিব ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বসবাসরত মুনীম হোসেন ফেস রিকগনিশন-এর লেজার নিয়ে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

‘মহাকাশে হবে গ্যাসস্টেশন’

‘মহাকাশে হবে গ্যাসস্টেশন’

পৃথিবীর কক্ষপথে ধাবমান মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষের কম্পিউটার-জেনারেটেড একটি ছবি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

দ্রুতবেগে ধাবমান মহাজাগতিক বস্তু ঝুঁকি হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ও যোগাযোগে ব্যবহৃত স্যাটেলাইটের জন্য। তাই পরিত্যক্ত এসব ধ্বংসাবশেষকে নবায়নযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশ থেকে রকেটের জ্বালানি তৈরি করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান। সহজ ভাষায় ‘মহাকাশে গ্যাসস্টেশন’ নির্মাণের নতুন পরিকল্পনায় হাত দিয়েছেন বিশ্বের বিজ্ঞানীরা।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহাকাশে ভেসে বেড়ানো পরিত্যক্ত বস্তু, যেগুলো পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, সেগুলোকে নবায়ন করবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠানটি; পরিণত করবে রকেটের জ্বালানিতে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর কক্ষপথ পুরোনো মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষে ভরে যাচ্ছে। মৃত উপগ্রহ আর খরচের তালিকায় চলে যাওয়া রকেটের যন্ত্রাংশ ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটে বেড়াচ্ছে।

দ্রুতবেগে ধাবমান এসব মহাজাগতিক বস্তু ঝুঁকি হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ও যোগাযোগে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য। কারণ এমন গতিতে ছুটে বেড়ানো ছোট একটি স্ক্রু, এমনকি রঙের কণাও আইএসএসের মতো স্থাপনার জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ঝুঁকিমুক্ত নন সেখানে অবস্থান করা নভোচারীরাও।

গত সপ্তাহে মিসাইল ছুড়ে নিজেদের একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস করেছে রাশিয়া। স্যাটেলাইটটির ধ্বংসাবশেষ এমনই বিপজ্জনক ও ছুটন্ত মহাজাগতিক নোংরার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ‘বিশ্বের সব দেশের জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ’ ওই ধ্বংসাবশেষ।

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে মহাকাশে, পরিত্যক্ত বস্তুগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে কক্ষপথটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই অবস্থাটিকে বলা হয় ‘কেসলার ইফেক্ট’।

এমন পরিস্থিতিতে ‘ইন-স্পেস ইলেকট্রিক প্রোপালশন সিস্টেম’ নামে একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান নিউম্যান স্পেস। পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা মহাকাশযানের আয়ু বাড়াতে, স্যাটেলাইটগুলো নড়াতে কিংবা কক্ষপথ থেকে সরাতে ব্যবহার করা হবে এ প্রযুক্তি।

এরপর এই প্রোপালশন সিস্টেমের জন্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারে মহাকাশে পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশকে গ্যাসে পরিণত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নিউম্যান স্পেস। এ লক্ষ্যে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে নিউম্যান।

এরই মধ্যে স্যাটেলাইটের সাহায্যে কীভাবে মহাকাশে পরিত্যক্ত বস্তু ধরা যায়, তা দেখিয়েছে জাপানের স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোস্কেল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যানোরকস্ এসব ধ্বংসাবশেষকে কক্ষপথেই কেটে-ছেঁটে ছোট ছোট টুকরা করে সংরক্ষণ বা এক জায়গায় মজুতের পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে অত্যাধুনিক রোবট ব্যবহার করছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিজলুনার মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষকে গলিয়ে ধাতব রড তৈরির চেষ্টা করছে। এই ধাতব রডগুলোকেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে নিউম্যান স্পেসের প্রোপালশন সিস্টেম।

আরও পড়ুন:
এইডস রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র হবে যশোরে
যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন