দূরত্ব যত বেশি, ভাড়া তত কম ভারতে, দেশে কেন নয়

দূরত্ব যত বেশি, ভাড়া তত কম ভারতে, দেশে কেন নয়

দূরত্ব বেশি হলে বাস ভাড়ার হার ক্রমান্বয়ে কমানোর যৌক্তিকতা থাকলেও বাংলাদেশে তা মানা হয় না। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বাস ভাড়া নির্ধারণে দূরত্বের বিষয়টি হিসাব করা হয়। স্বল্প দূরত্বে ভাড়া বেশি, বেশি দূরত্বে কম। নগরে চার কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা ৭৫ রুপি। ২৪ কিলোমিটারের পর প্রতি কিলোমিটারে ২৫ পয়সা। আন্তজেলায় ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত এক হারে ভাড়া, এরপর প্রতি কিলোমিটারে ৭৫ পয়সা। কিন্তু বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কখনও আমলে নেয় না। ফলে চার কিলোমিটার দূরত্বে যাত্রী যে হারে ভাড়া দেবেন, ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বেও তাকে একই হারে ভাড়া দিতে হয়।

বাংলাদেশে দূরত্বভেদে বাস ভাড়ার হার একই থাকলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তা উল্টো। যাত্রী যত দূরের গন্তব্যে যাবে, বাস ভাড়ার হার তত কমে আসবে।

তবে বাংলাদেশে লঞ্চ ভাড়ার ক্ষেত্রে দূরত্বের হিসাবে ভাড়ার হার দুটি হলেও বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কখনও বিবেচনায় আনা হয় না।

ফলে কেউ ১০ কিলোমিটার দূরত্বে গেলে যে হারে ভাড়া দিতে হয়, ৪০০ কিলোমিটার গেলেও একই হারে ভাড়া দিতে হয়। অথচ বাংলাদেশের তুলনায় ডিজেলের দাম লিটারে অন্তত ২৪ টাকা বেশি হলেও কলকাতায় স্বল্প দূরত্বের তুলনায় দূরপাল্লায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবেই চার ভাগের এক ভাগেরও কম।

কলকাতায় নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা হলেও ঢাকায় নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায় করায় এই পার্থক্য আরও বেশি গিয়ে ঠেকে।

বাংলাদেশে ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর গত রোববার বাস ভাড়া বাড়িয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তাতে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১ টাকা ৮০ পয়সা, মহানগরে বড় বাসে কিলোমিটারে ২ টাকা ১৫ পয়সা আর মিনিবাসে ২ টাকা ৫ পয়সা বলে জানানো হয়েছে।

কোনো যাত্রী যদি ১০ কিলোমিটার যান, তাহলেও একই হার, আবার যদি ৪০০ কিলোমিটার যান, তাহলেও একই হারে ভাড়া দিতে হয়।

একই দিন লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, সেখানেও বিষয়টি এত সরল নয়। সেখানে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লঞ্চের ভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ৩০ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে কিলোমিটারে ২ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠন বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা লঞ্চ যখন দূরপাল্লায় যায়, যখন সেটি ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে যায়, তখন তার খরচ কমে আসে। তাই বড় দূরত্বে ভাড়া কম রাখা হয়। দূরপাল্লায় যাত্রীদের যদি একই হারে ভাড়া দিতে হয়, তাহলে সেটি তাদের জন্য চাপ হয়ে যায়। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের যাত্রীদের ভাড়ার হার কম নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দূরত্ব যত বেশি হয়, ভাড়ার হার ক্রমান্বয়ে কমে আসা উচিত। ভারত বা পাকিস্তানে যদি দূরপাল্লায় আপনি যান, তাহলে ভাড়া অর্ধেক কম।’

ভাড়ার হারে স্ল্যাব না থাকা বা বেশি হারে ভাড়া নির্ধারণের পেছনে পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাস নির্ভরতাকে দায়ী করেছেন এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ। তিনি ভারতের ট্রেন নেটওয়ার্কের বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, সেখানে সড়কপথের তুলনায় বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয় রেলে, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে তাই। কিন্তু বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ যাত্রী আর ৮৫ শতাংশ পণ্য পরিবহন সড়কনির্ভর। ফলে সড়ক পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের একাধিপত্য এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই ভোক্তা তথা যাত্রীদের রাখা উচিত। নইলে তাদের পক্ষ থেকে এসব কথা আসলে কেউ বলে না। কিন্তু আমাদের যে ভাড়া নির্ধারণের ১২ সদস্যের কমিটি, সেখানে কেবল মালিক এবং শ্রমিক পক্ষ আর সরকারের লোকজন।’

বাসের ক্ষেত্রে দূরত্ব যা-ই হোক না কেন, একই হারে ভাড়া কেন- এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর বক্তব্য পাওয়া যায়নি সংস্থাটির চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার ফোন না ধরায়।

ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়া ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কম ভাড়ার ব্যবস্থা করা তো আমাদের দাবি। দূরে গেলে ভাড়া কমবে, এটা যুক্তিসংগত।’

তাহলে দূরের যাত্রীদের ভাড়ার হার কম রাখার বিষয়টি বিআরটিএ বিবেচনায় আনেনি কেন, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা ভাড়া নির্ধারণ করে, এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সেসব কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে।’

বৈঠকে প্রসঙ্গটি তোলা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে সংস্থাটির সভাপতি বলেন, তিনি সেখানে ছিলেন না। তাদের প্রতিনিধি বিষয়টি বলেছিলেন কি না, সেটি জানা নেই।

দূরত্ব যত বেশি, ভাড়া তত কম ভারতে, দেশে কেন নয়

পশ্চিমবঙ্গে যে পদ্ধতিতে বাস ভাড়া

সম্প্রতি কলকাতায় ডিজেলের দাম লিটারে ৫ রুপির মতো কমানো হলেও গত কয়েক মাসে ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

এখন প্রতি লিটারে দাম পড়ছে ৮৯ দশমিক ৭৮ রুপি। প্রতি রুপি বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ টাকা ১৬ পয়সা হারে দাম দাঁড়ায় ১০৪ টাকা ১৪ পয়সা। অর্থাৎ বাংলার দুই অংশে লিটারে দামে পার্থক্য ২৪ টাকা ১৪ পয়সা।

পশ্চিমবঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর কারণে বেসরকারি বাসমালিকরা ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। প্রাদেশিক সরকার এখনও সাড়া না দিলেও বাসমালিকরা নিজেদের মতো বিভিন্ন স্ল্যাবে ৫ থেকে ১০ টাকা ভাড়া বাড়িয়েছেন।

সেখানে সরকারি যে পরিবহন সেবা, তা চলছে পুরোনো ভাড়াতেই। পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগম নামে বাস সংস্থাটি কলকাতা ও শহরের উপকণ্ঠে সেবা দেয়।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমের জেলাগুলোর জন্য দক্ষিণবঙ্গ পরিবহন (এসবিএসটিসি)। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর জন্য উত্তরবঙ্গ পরিবহন নিগম (এনবিএসটিসি) রাজ্যব্যাপী পরিবহন পরিষেবা দেয়।

পাশাপাশি বেসরকারি বাস পরিষেবা চালু রয়েছে রাজ্যজুড়ে।

পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দপ্তরের বাস ভাড়া নিয়ে সবশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ২০১৮ সালের ৮ জুন। কলকাতা ও শহরতলির সাধারণ বাসের ভাড়ার চার্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চার কিলোমিটার পর্যন্ত ৭ রুপি। চার কিলোমিটার থেকে আট কিলোমিটার পর্যন্ত ৯ রুপি।

অর্থাৎ যাত্রী চার কিলোমিটার পর্যন্ত বাসে গেলে কিলোমিটারে ১ দশমিক ৭৫ রুপি ভাড়া দিতে হয়। অন্যদিকে কেউ চার কিলোমিটারের বেশি, অথচ আট কিলোমিটারের কম যান, তাহলে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার হার ১ টাকা সাড়ে ১২ পয়সা পর্যন্ত নেমে আসে।

আবার কেউ যদি ১২ কিলোমিটার থেকে ১৬ কিলোমিটার যান, তাহলে তাকে দিতে হয় ১০ রুপি। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে ভাড়ার হার কমে কিলোমিটারে ৬৩ থেকে ৮৩ পয়সা পর্যন্ত পড়ে।

আবার কেউ যদি ১৬ কিলোমিটার থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত যান, তাহলে এই বাড়তি গন্তব্যের জন্য দিতে হয় বাড়তি ১ টাকা। অর্থাৎ তখন কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া হয় ৫৫ থেকে ৬৯ পয়সা।

আবার কোনো যাত্রী যদি ২০ থেকে ২৪ কিলোমিটার যান, তাহলে তাকে ভাড়া দিতে হয় ১২ রুপি। সে ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া হয় ৫০ থেকে ৬০ পয়সা।

২৪ কিলোমিটারের পর থেকে প্রতি চার কিলোমিটারে ভাড়া ১ রুপি করে পড়ে। অর্থাৎ ২৪ কিলোমিটারের বেশি যাত্রায় কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া বাড়ে ২৫ পয়সা করে।

মিনিবাসের ক্ষেত্রে ভাড়ার হার কিছুটা বেশি। তবে সেখানেও দূরত্ব বাড়লে ভাড়ার হার কমে আসে।

সেখানে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া ৮ রুপি। তিন থেকে ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া ৯ রুপি। ৬ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া ১০ রুপি।

১০ থেকে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত ১১ রুপি আর ১৬ কিলোমিটারের পর থেকে প্রতি তিন কিলোমিটার অন্তর ভাড়া ১ রুপি করে বাড়বে।

দূরপাল্লার এক্সপ্রেস সার্ভিসের ক্ষেত্রে ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া সাড়ে ৮ রুপি। ছয় কিলোমিটারের পরে অতিরিক্ত কিলোমিটারপ্রতি ৭৫ পয়সা বাড়বে।

আন্তরাজ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রথম ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত ১২ রুপি। ছয় কিলোমিটারের পর অতিরিক্ত প্রতি কিলোমিটারের জন্য ৭৫ পয়সা বাড়বে।

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বাসের তুলনায় বেসরকারি বাসে ভাড়া কিছুটা বেশি। যেমন কলকাতার ধর্মতলা বাস টার্মিনাল থেকে সরকারি বাসে মালদা যেতে গেলে ২৫৬ রুপি, কিন্তু বেসরকারি বাসে ভাড়া পড়ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ রুপি।

রাজ্যের বেসরকারি কোনো বাসে ফেয়ার চার্ট নেই। দূরপাল্লার বেসরকারি বাসের ভাড়া বাসের সিট আর দূরত্বের ওপর নির্ধারণ হয়। সেখানেও দূরত্ব যত বেশি হয়, ভাড়ার হার তত কম।

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এএসপি নিয়োগে পরিবর্তন আসবে: আইজিপি

এএসপি নিয়োগে পরিবর্তন আসবে: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশ ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি জানান, প্রায় ৪০ বছর পর কনস্টেবল নিয়োগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। এবার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পুলিশ ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে পরিবর্তীত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ সম্পর্কিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

আইজিপি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ পুলিশকে উন্নত দেশের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশোধনের মধ্য দিয়ে এ পরিবর্তনের সূচনা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রায় ৪০ বছর পর কনস্টেবল নিয়োগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি নতুন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া কনস্টেবল নিয়োগ প্রসঙ্গে দেশের জনগণকে নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, কনস্টেবল পদে জব মার্কেট থেকে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ প্রার্থী নিয়োগে আমরা সক্ষম হয়েছি। আমরা মেধার পাশাপাশি শারীরিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করছি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে মানুষ এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখবে।

বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য টেলিটক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও টেলিটকের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ পুলিশ আগ্রহী।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, ‘সরকারি সংস্থা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশ পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে স্বচ্ছ নিয়োগে অবদান রাখছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে টেলিটক বিভিন্ন সরকারি সেবা স্বল্প খরচে সহজে জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

শনিবারের কর্মশালা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘টেলিটক পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে স্বচ্ছ নিয়োগে অবদান রাখছে।’

কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সব রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররাও।

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতা থাকলে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতা থাকলে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিম আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

গত ৩০ নভেম্বর বিকেলের দিকে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়। এর পরই অভিযোগ ওঠে কিছু ছাত্রের লাঞ্ছনা ও অপদস্তের শিকার হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদমাধ্যমে শনিবার পাঠানো বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশের কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত ৩০ নভেম্বর বিকেলের দিকে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়। এর পরই অভিযোগ ওঠে কিছু ছাত্রের লাঞ্ছনা ও অপদস্তের শিকার হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন সেলিম।

এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ছাত্র ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিম হোসেনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। পরে তারা সেলিমকে অনুসরণ করে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান। পরে অধ্যাপক সেলিম সেখান থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরেন।

ওই শিক্ষকের স্ত্রী জানান, বাসায় ফেরার পর সেলিম টয়লেটে যান। বের হতে দেরি হওয়ায় তিনি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন তার স্বামী। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কিছু ছাত্রের কারণে এ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে দাবি তুলে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ র‍্যালি ও সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের অপমান, অবরুদ্ধ ও মানসিক নির্যাতনে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন বলেও ঘোষণা দেন।

এই প্রেক্ষাপটে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়েন রয়েছে।

৯ ছাত্র বহিষ্কার

কুয়েট শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কার হওয়া ছাত্রদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান আছেন।

কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার মজুমদার বলেন, সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ দেখে শিক্ষকের সঙ্গে ওই ৯ ছাত্রের অসদাচরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন সিএসই বিভাগের সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিই বিভাগের তাহমিদুল হক ইশরাক, এলই বিভাগের সাদমান সাকিব, আ স ম রাগিব আহসান মুন্না, সিই বিভাগের মাহমুদুল হাসান, এমই বিভাগের মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, সিএসই বিভাগের রিয়াজ খান নিলয়, এমই বিভাগের ফয়সাল আহমেদ রিফাত ও এমএসই বিভাগের নাইমুর রহমান অন্তু।

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের ডাক রাষ্ট্রপতির

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের ডাক রাষ্ট্রপতির

ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার দুপুরে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই জাতি, বর্ণ, ধর্ম এবং জাতিগত বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য সমান সুযোগ।’

সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে বিভেদের পথ ছেড়ে হাতে হাত রেখে শান্তির পথে চলতে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার দুপুরে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বঙ্গভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন তিনি।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ— এমন স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনের বিশ্ব শান্তি সম্মেলন।

পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের যে লড়াই, সেই বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছাতে চায় ঢাকা।

মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই জাতি, বর্ণ, ধর্ম এবং জাতিগত বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য সমান সুযোগ।’

বিশ্বের সব মানুষের জন্য একটি ‘সুষ্ঠু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাও অপরিহার্য’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আমরা সবাই একটি গ্রহে ভাগাভাগি করে বসবাস করি, যেখানে আমরা আমাদের দায়িত্বটাও ভাগ করে নিয়েছি।’

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ‘বিশ্ব শান্তি’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধান এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। বিভেদের পথ ছেড়ে হাতে হাত রেখে সবাইকে শান্তির পথে একসঙ্গে চলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

বর্তমান বিশ্ব অসংখ্য চ্যালেঞ্জ ও সংঘাতের মুখোমুখি বলে মনে করেন আবদুল হামিদ। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্য দিয়ে সিস্টেমের দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও মত দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই এবং পারস্পরিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত না করি, তাহলে আমাদের শিশুদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী সুরক্ষিত করতে পারব না। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও এর মধ্যে ঝুঁকি তৈরি করেছে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মিলিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাসের দুটি মাইলফলকে পৌঁছেছে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ঢাকায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলন বিশ্বের সব শান্তিকামী মানুষের জন্য একটি উপযুক্ত আয়োজন। আমরা যদি বিশ্বের কোথাও শান্তির প্রচার করতে কিছু করতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের সেবা প্রদান করতে পেরে খুশি হব। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই শান্তির পক্ষে আমাদের অবস্থান।’

শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা মানবজীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ বলেও মনে করেন আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি শান্তি হলো সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব এবং সংঘাতহীনতার একটি সর্বজনীন ধারণা। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা বা দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় শান্তি।’

৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই ডিসেম্বরে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অতএব আমরা জনগণ হিসেবে সব মানুষের গভীর আকাঙ্ক্ষা হিসেবে শান্তিকে মূল্য দিতে শিখেছি।’

স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের দিক উঠে আসে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি শান্তির প্রবক্তা ছিলেন, তিনি একটি সংবিধান প্রবর্তন করেন, যা সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং সংহতিকে সমর্থন দেয়।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শান্তিতে অবদান রেখেছিলেন বলেই তার স্বীকৃতি হিসেবে ‘শান্তির প্রতীক’ হিসেবে তাকে ১৯৭৩ সালে জুলিও-কিউরি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে ওয়ার্ল্ড পিস কাউন্সিল।”

এর মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিশ্ববন্ধুতে পরিণত হন বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন

নভেম্বরে সড়কে ‘নিহত ৪১৩’

নভেম্বরে সড়কে ‘নিহত ৪১৩’

নভেম্বরে সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

গত মাসে সড়কে মোট দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ১৫৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

দেশে চলতি বছরের নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৭৯টি। এতে প্রাণ গেছে ৪১৩ জনের, আহত ৫৩২ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে শনিবার এসব তথ্য দেয় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তাদের তথ্যসূত্র সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নভেম্বরে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে নারী ৬৭ জন, শিশু ৫৮ জন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ৯৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

১৫৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজধানীতে নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গটিও টেনে আনেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করছে, এটা তো ছাত্রদের করার কথা না। এটার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের এবং সরকারের। ছাত্ররা তো বাধ্য হচ্ছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করতে। এই আন্দোলনের প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন আছে এবং সবারই সমর্থন দেয়া উচিত।

‘তবে আন্দোলনের নামে অরাজকতা হোক, গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নি সংযোগ হোক সেটা আমরা চাই না। আমরা চাই মানুষ নিরাপদে সড়কে যাতায়াত করুক। পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত উন্নতির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করুক। পরিবহন মালিকরা দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সচেতন হোক। সবশেষে মানুষ সচেতন হোক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হন, নিখোঁজ ৫ জন। আর রেলপথে ১১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত ২ জন।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ১৮৪ জন, বাসযাত্রী ২৩ জন, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি যাত্রী ১২ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ যাত্রী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক-টেম্পু-লেগুনা) ৬৬ জন।

এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-বোরাক-মাহিন্দ্র-টমটম) ১৭ জন এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল আরোহী ৬ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৩১টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৩৫টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনাগুলোর ৮৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩৩টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯১টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেয়া, ৫৯টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

যানবাহন অনুযায়ী দুর্ঘটনার হার

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ৩০ দশমিক ৫৮ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

সংস্থাটি বলছে, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫৪৬টি। এর মধ্যে ট্রাক ৭৮, বাস ৬৩, কাভার্ডভ্যান ১২, পিকআপ ২৭, ট্রলি ৮, লরি ৩, ট্রাক্টর ৬, মাইক্রোবাস ১৩, প্রাইভেট কার ১১, অ্যাম্বুলেন্স ৩, জিপ ২, পুলিশ পিকআপ ২, ড্রাম ট্রাক ৪, মোটরসাইকেল ১৬৭, থ্রি-হুইলার ১০৯, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ২২ এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল ১৬টি।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৮৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ১০৪ জন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে; ২২টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৪ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২১টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত। সবচেয়ে কম লালমনিরহাট জেলায়। দুটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি। ঢাকায় ১৪টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছে।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বলছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশ

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্ট নির্দিষ্ট করতে হবে, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে হবে, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সর্বোপরি ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন

ওয়াসার ‘শতভাগ সুপেয়’ পানি ফুটিয়ে খেতে বললেন এমডি

ওয়াসার ‘শতভাগ সুপেয়’ পানি ফুটিয়ে খেতে বললেন এমডি

প্রায় ৩ মাস ধরে ওয়াসার পানিতে ময়লা আসার অভিযোগ করেন রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

আগের অবস্থান থেকে সরে এসে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ‘পানি ফুটিয়ে খাওয়া আপনার চয়েজ। কারণ আমরা ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি দিতে পারব না।’

ওয়াসার পানিকে ‌‘শতভাগ সুপেয়’ বলা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।

সংস্থাটির পানি এখনও শতভাগ সুপেয় হয়নি জানিয়ে তা ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির ‌‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, নিম্নমানের কারণে ঢাকা মহানগরীতে ওয়াসার ৯১ শতাংশ সেবাগ্রহীতা পানি ফুটিয়ে পান করেন।

২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পানি ফোটানোর কারণে ঢাকা মহানগরীতে গ্রাহকরা যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ করেছেন, তার অর্থমূল্য প্রায় ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬২০ টাকা।

টিআইবির এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান সে সময় বলেছিলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়।

ওই বক্তব্যের আড়াই বছর পর ঢাকা ওয়াসার কর্মকাণ্ড নিয়ে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এমডি।

এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (উন্নয়ন) আবুল কাশেম, ব্যবস্থাপক (কমার্শিয়াল) উত্তম কুমার, সচিব প্রকৌশলী শারমিন হক, এভারেস্টজয়ী নিশাত মজুমদার।

ঢাকা ওয়াসার কনফারেন্স সেন্টারের এ মতবিনিময় সভায় তাকসিম এ খান বলেন, রাজধানীর ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ জায়গায় ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ। সেটি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘…সমস্যা হচ্ছে পাইপ লাইনে, পাইপ লাইনে যদি না ভাঙা থাকে তাহলে পানি ফোটানোর প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়া সমস্যা আপনাদের পানি রিজার্ভের স্থানে। পানি রিজার্ভ করে রাখা স্থান পরিষ্কার রাখলে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পানি না ফুটিয়ে পান করতে পারে।’

পানি ফুটিয়ে পানের পরামর্শ দিয়ে ওয়াসার এমডি বলেন, ‘আমি জানি না কোন এলাকা বা স্থান এবং সময়ে ১০ শতাংশ খারাপ পানির অবস্থায় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ, পানি ফুটিয়ে খান।’

ওয়াসা শতভাগ পানি ফোটানোর ব্যবস্থা করলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তাকসিম।

তিনি বলেন, ‘৫ থেকে ১০ শতাংশ আপনারা পান করার জন্য ফুটিয়ে ব্যবহার করেন। বাকি অন্য পানি ফুটিয়ে ছাড়া এমনিতেই ব্যবহার করছেন। ওয়াসা যদি ১০০ শতাংশ পানি ফুটিয়ে দেয়, তাহলে পানির দাম ৯ গুণ বাড়বে।’

আগের অবস্থান থেকে সরে এসে ওয়াসার এমডি বলেন, ‘পানি ফুটিয়ে খাওয়া আপনার চয়েজ। কারণ আমরা ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি দিতে পারব না।

‘পানি যেখানে রিজার্ভ করা হয়, রিজাভ স্থানগুলো থেকেও পানিতে জীবাণু ছড়ায়। ট্যাংকগুলো তিন মাস পরপর পরিষ্কার করতে হবে।’

শীতে পানি সংকট দেখা দিলেও সমস্যা হবে না জানিয়ে তাকসিম বলেন, ‘প্রতি বছর শীতে কিছু না কিছু স্থানে পানির সংকট দেখা দেয়, তবে এবার আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছি।

‘৯০০ ডিপ টিউবওয়েল নতুন করে বসানো হয়ছে। এটা এখন বন্ধ থাকে। শীতে পানি সংকট দেখা দিলে এই টিউবওয়েল ব্যবহার করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন

এলডিসির সুবিধা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘকে বাংলাদেশের আহ্বান

এলডিসির সুবিধা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘকে বাংলাদেশের আহ্বান

জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বৈঠক। ছবি: সৌজন্যে

এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বৈঠক করছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থাগুলোতে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো যেসব সুবিধা পায়, তা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও যেন অব্যহত থাকে— তা নিশ্চিত করার ওপর জাতিসংঘে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানায়।

এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বৈঠক করছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।

দুই সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

নিউ ইয়র্কে সরকারি সফরকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ সহিদ, জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সভাপতি কোলেন ভিক্সেন কিলাপাইল, স্বল্পোন্নত দেশ, ভূ-বেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহের উচ্চ প্রতিনিধি ও আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল কোর্টিনে র‌্যাট্রে, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির সচিব রোন্যাল্ড ম্যোলেরাসের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে আলাদা আলাদা করেন।

গত ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের রেজুলেশন গৃহীত হওয়ার পরপরই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বৈঠকগুলোতে কাতারের দোহায় ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় ৫ম এলডিসি সম্মেলনে গ্রহণের জন্য ‘এলডিসির দেশগুলোর পরবর্তী ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক ডকুমেন্টটির নেগোসিয়েশনে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যদিকে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জাতিসংঘের নতুন উদ্যোগ যেমন ‘সাসটেইন্যাবল গ্রাজুয়েশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি’ এবং ‘এনহ্যান্সড গ্রাজুয়েশন মনিটরিং’ সম্পর্কে অবহিত করেন; যা উত্তরিত দেশগুলোর যে কোনো সংকটে বা কাঙ্খিত অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ভূমিকা রাখবে।

দোহা কর্ম-পরিকল্পনার নেগোসিয়েশনে নেতৃত্বদানের জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি রবার্ট রে-এর প্রশংসা করেন জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হয়। শান্তি সরকারের একার পক্ষে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ প্যানেল আলোচনা শুরুর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মেলনে ৫০টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৬০ জন প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। আর বাকি ৪০ জন সশরীরে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রোববার বিকেলে এ সম্মেলন শেষ হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।

‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী যে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা দিয়েছেন, সম্মেলন থেকে আমরা পৃথিবীতে শান্তির বার্তা দিতে চাই। আমরা চাই, এই বার্তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ুক। পৃথিবীতে টেকসই শান্তির জন্য প্রয়োজন একে-অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, সহনশীলতা- এগুলো আমরা তুলে ধরব।’

আরও পড়ুন:
চিহ্নিত হবে সিএনজির বাস, ব্যবস্থা ওয়েবিলের বিরুদ্ধেও
ঢাকায় সিএনজিচালিত বাস আসলে কত?
বাস ভাড়া: কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কাদেরের ক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ডিজেল বিড়ম্বনা ও অপরাজনীতি

শেয়ার করুন