চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ‘রাজনীতি নেই’, ছাত্রলীগ কীভাবে?

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ‘রাজনীতি নেই’, ছাত্রলীগ কীভাবে?

ছাত্রলীগের দাবি, ক্যাম্পাসে সংঘাতের ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। এটি ছাত্রলীগ নামধারী কিছু দুর্বৃত্তের কাজ। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা নির্দেশনা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ সভা-সমাবেশ, মিছিল, স্লোগান নিষিদ্ধ করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা আমলে নেয়নি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন।

তবে ছাত্রলীগের দাবি, ক্যাম্পাসে সংঘাতের ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। এটি ছাত্রলীগ নামধারী কিছু দুর্বৃত্তের কাজ। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা নির্দেশনা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শুক্রবার থেকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য শনিবার কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে চমেক কর্তৃপক্ষ। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষার্থী হোস্টেলগুলো। হঠাৎ করে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

কলেজ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক সংঘাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংঘাতের মূল কারণ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার, হল দখল, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, দলীয় পদ নিয়ে সমস্যা প্রভৃতি৷ আর ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি গ্রুপই এই সংঘাতের মূল কারণ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চমেকের ছাত্ররাজনীতি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। মেয়র হওয়ার পর ২০১৬ সাল থেকে পাঁচ বছর চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ২০ বছর তার অনুসারীদের দখলে ছিল এই ক্যাম্পাস। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সল ইকবাল চৌধুরী মূলত নাছির গ্রুপের নিয়ন্ত্রক।

সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনিই চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হন। মূলত এরপর থেকে নওফেলের অনুসারীরা মেডিক্যাল কলেজে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাতে থাকে। আর এর জেরেই নাছির ও নওফেল অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের আগস্টে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি হয়েছিল। সে সময় দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। এর মধ্যে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল রাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরদিন ২৮ এপ্রিলও উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে নাছির গ্রুপের অনুসারী দুই ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিলেন।

এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের বহিষ্কার, ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসে ইন্টার্নদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছিল।

রাজনীতি নিষিদ্ধের নির্দেশনা ছাত্রলীগ কেন মানছে না জানতে চাইলে চমেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শিমুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আদর্শের রাজনীতি করি। প্রকাশ্যে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও আমরা আদর্শ চর্চা করি। তবে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সংঘাতের ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। এটি ছাত্রলীগ নামধারী কিছু দুর্বৃত্তের কাজ। তারা ছাত্রলীগের নাম বিক্রি করে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চাইছে।’

নির্দেশনা যারা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাহেনা আক্তার। রোববার দুপুরে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। নির্দেশনা বাস্তবায়নে তদারকিও করছি। তার মধ্যেও ছেলেরা নির্দেশনা মানছে না। তদন্ত কমিটি করেছি। হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শাস্তি দেয়া হবে। পাশাপাশি রাজনীতি নিষিদ্ধের নির্দেশনা যারা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাথমিক শাস্তিতে তারা না শুধরালে আমরা আইনি ব্যবস্থার দিকে যাব।’

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

ভোটে হেরে ‘ফেরত নিলেন’ অনুদানের কম্বল

পরাজিত সদস্য প্রার্থী রমেছা খানম তার দেয়া অনুদানের কম্বল ফেরত নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কম্বল পাওয়া অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরীবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভোটে হেরে যাওয়ায় চারজনকে দেয়া অনুদানের কম্বল ফিরিয়ে নিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রমেছা খানম। ওই চারজন এমন অভিযোগ করেছেন।

তারা বলছেন রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ও সেই প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় ক্ষেপে গিয়ে রমেছা এ কাজ করেছেন।

রমেছা খানম সহদেবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য থাকাকালে দুই বছর আগে ইউপির অনুদানের টাকায় একটি করে কম্বল দেন আকুয়া গ্রামের মকবুল হোসেন, অনু মিয়া, মো. সংকু ও মো. বংকুকে। তারা চারজন ভাই।

ওই আসনের জন্য এবার রমেছার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জোসনা বেগম। ভোটে জয় হয় জোসনার। কম্বল পাওয়া চার ভাইয়ের বাড়ি জোসনার বাড়ির পাশেই। তারা জোসনার পক্ষে নির্বাচনে কাজও করেছেন বলে জানান।

এর মধ্যে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার পাশের বাড়ির জোসনা বেগম এ বছর নির্বাচন করলে আমরা তার পক্ষে কাজ করি। এজন্য রমেছা আমাদেরকে দেয়া কম্বলগুলো নিয়ে গেছেন।’

অনু মিয়া বলেন, ‘যে কাজটি রমেছা খানম করলেন তা এলাকাবাসী দেখলেন। গরীবদের প্রতি তার অবিচার আগে থেকেই। এ জন্য তার পক্ষে নির্বাচন করিনি। এ কারণেই তিনি আজ সকালে (সোমবার) এসে সব কম্বল নিয়ে গেছেন।’

অভিযোগ সত্য কি না জানতে রমেছা খানমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।’

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতা: আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু

নির্বাচনি সহিংসতা: আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু

সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকেরিয়া ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ৩নং ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত স্কুলছাত্র বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সুরতহাল শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে ইউপি নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ৭ জেলায় প্রাণ গেল ৯ জনের।

মৃত দেলোয়ার হোসেন সাগর মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও সলঙ্গা ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

হাটিকুমরুল ইউপি চেয়ারম্যার হেতায়েতুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার দুপুরে ভোট চলাকালে মাছিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী সেলিম রেজা মোল্লা ও হিরা সর্দারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ভোট দেখতে এসে মারধরের শিকার হন স্কুলছাত্র সাগর। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে ছেলেটি মারা যায়।

সংঘর্ষ দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান।

আহতদের মধ্যে হিরা মন্ডল, আমিরুল হোসেন সবুজ, হাদি, ইব্রাহিম, আশরাফুল, মতি, আমিরুল ইসলাম ও শফি খানকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকেরিয়া ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, ৩নং ওয়ার্ডের দুই মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত স্কুলছাত্র বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সুরতহাল শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রায়পুরায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

নরসিংদীর রায়পুরায় এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার আমিরগঞ্জ বাজারের একটি বিউটি পার্লারের ভেতর থেকে ফারজানা আক্তারের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃতের স্বামী মো. লোকমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ফারজানা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের টিপ্পিনগর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়দের বরাতে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল জব্বার বলেন, লোকমান-ফারজানা দম্পতি আমিরগঞ্জ বাজারের কাছে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। এরমধ্যে একটিতে তারা থাকতেন আরেকটিতে ফারজানা বিউটি পার্লার করেন।

রোববার রাত দুইটায় লোকমান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ফারজানাকে বিউটি পার্লারের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ দুপুরে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এসআই জব্বার বলেন, ‘আমরা ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারব।’

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

ভোটের পরদিনও লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরায় ইউপির ভোটে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের দিন সংঘর্ষ হয় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্রে। ভোট শেষের আগমুহূর্তে রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন। পরদিনও রায়পুরে ভোটে জয়ী-পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ান।

লক্ষ্মীপুরে ভোটের পরদিনও থেমে নেই সহিংসতা। ভোটের দিন সংঘর্ষে রামগঞ্জ উপজেলায় একজনের প্রাণহানির পর সোমবার আবারও রায়পুর উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই উপজেলায় ভোটের দিনও সংঘর্ষ হয়েছে।

রায়পুরের উত্তর চরবংশীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুচিয়া মোড় এলাকায় সোমবার দুপুরে সংঘর্ষে জড়ান নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় তারা অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।

সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, রোববারের নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের সদস্য হন জাহাঙ্গীর বকসি। পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ানের সমর্থকরা দুপুরে কুচিয়া মোড় এলাকায় জড়ো হন। জাহাঙ্গীরের লোকজন সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা পড়ে সংঘর্ষে গড়ায়।

তিনি বলেন, অন্তত ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহত অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী মফিজ দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, তার সমর্থকরা বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় জাহাঙ্গীর বকসির ভাই লিটন বকসির নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করে, একটি মাছ ধরার নৌকা ও জাল পুড়িয়ে দেয়।

জবাবে বিজয়ী প্রার্থী জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার মফিজের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা হামলা চালায় তার লোকজনের ওপর।

এর আগে ভোটের দিন রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশীর পশ্চিম চরলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন তার সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অন্য সদস্য পদপ্রার্থী খালেকুজ্জামান খালেক বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

এতে খালেকুজ্জামানসহ দুই পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন।

একই সময় রামগঞ্জের বাদুর ইউপির আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ হোসেনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে হানুবাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে।

এরপর ভোট শেষের আগমুহুর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে

ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বিপদে-আপদে সবার পাশে থাকেন ঋতু। তার কাছে নিরাপদ থাকবে ইউনিয়ন। ঋতু সরকারি বরাদ্দ নয়ছয় করবেন না, এমনটিও আশা ভোটারদের।  

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার নজরুল ইসলাম ঋতু। দেশে তিনিই প্রথম ট্রান্সজেন্ডার, যিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আনারস প্রতীকে ঋতুর বিশাল জয়ে উচ্ছ্বসিত তার সমর্থকরা। নৌকার প্রার্থীও পরাজয় মেনে নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঋতুকে।
নতুন চেয়ারম্যান বলছেন, সবাইকে পাশে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।

ইউপি নির্বাচনে ঋতু পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা হাতপাখার মাহবুবুর রহমান পেয়েছেন ৮০৯ ভোট।

ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের বদিলাপাড়ার ইউসুফ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে ঋতু অনেক ভালো। তিনি মানুষের উপকার করেন। তাই আমরা তাকে ভোট দিছি।’

বহিরগাছি গ্রামের শুকুর আলী বলেন, ‘ঋতু বিপদে-আপদে আমাদের পাশে থেকেছে। তাই আমরা তাকে ভোট দিয়েছি। তাকে আমরা জিতাইছি। এখন সে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করুক।’

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজিম শেখ বলেন, ‘ঋতুর ঘর নেই, সংসার নেই, তার কাছে ইউনিয়ন নিরাপদ। আশা করছি, আমাদের জন্য আসা সরকারি বরাদ্দ তিনি ঠিকমতো বিতরণ করবেন।’

আবুল কাশেম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘মানুষ বলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই। সে কথাটা ঠিক না। তার অন্যতম উদাহরণ আমাদের ইউনিয়ন।

‘‘মানুষ যদি যোগ্য হয় তাহলে তার স্থান ঠিকই পাবে। সারা দেশের ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের’ মানুষের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা ঋতুর মতো যোগ্য হন, মানুষের উপকার করেন। তাহলেও মানুষও আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’’

ট্রান্সজেন্ডার ঋতুর বিশাল জয় যে কারণে


বিজয়ী নজরুল ইসলাম ঋতু নিউজবাংলাকে জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার বয়স ৪৩ বছর। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হয়নি। অল্প বয়সে চলে যেতে হয়েছিল ঢাকায়। সেখানে ডেমরা থানায় দলের গুরুমার কাছেই তার বেড়ে ওঠা।

ঋতু বলেন, ‘ঢাকায় থাকলেও নিয়ম করে এলাকায় যেতাম। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতাম।

‘জনগণ আমার পক্ষে আছে। আমি একটা কথা জানি, অনেক মানুষের অনেক কথা থাকে। আমার কিচ্ছু নেই। আমার ঘর নেই, সংসার নেই। এই জন্য আমার লোভ-লালসা নেই। এই জনগণই আমার সব।’

আগামীর পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকেই সঙ্গে নিয়ে সব করতে চাই। জনগণ যা বলবে আমি তাই করব। জনগণ বলেছে, ওর ছেলে নেই মেয়ে নেই, ঘর সংসার নেই, ও আমাদের জন্যই কাজ করবে। আমি জনগণের পক্ষেই সব সময় থাকব। জনগণ আমাকে যেইটা বলে আমি সেইটা করব।’

ঋতু বলেন, ‘আমার এলাকায় অনেক কাজ এখনও হয়নি। রাস্তাঘাট ভাঙা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় এসব কাজ করার জন্য আমি চেষ্টা করব, প্রধানমন্ত্রী যেন একটু সুনজর দেন।’

পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভালো নিয়েছে। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’

পরাজয়ের কারণ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ভোট কিনেছেন।

তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই স্লোগান বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

মারধরে চালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৩

বাসচালক নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

চট্টগ্রামে মারধরে বাসচালক নিহতের মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নগরীর বায়েজিদ থানার আমিন কলোনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই তিনজন হলেন আনোয়ার হোসেন, মো. মোর্শেদ ও মো. রবিউল।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছিলেন, বায়েজিদ থানার আমিন জুট মিল এলাকায় ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নোহা গাড়িকে সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড মারধরের শিকার হন ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিম।

পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর সকালে হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিকরা।

সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে নগর পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে গাড়ি চলাচল শুরু করে।

ওইদিন রাতে বায়েজিদ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন আব্দুর রহিমের স্ত্রী জোছনা বেগম।

ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞাত মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী চৌধুরী হাট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ঘটনার সময় রাতে হওয়ায় গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবুও একপর্যায়ে ওই গাড়ি শনাক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’

কী হয়েছিল সেদিন?

ওসি জানান, হাটহাজারী থেকে আসার সময় চৌধুরী হাটের আগে ওভারটেক করা নিয়ে মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সঙ্গে আব্দুর রহিমের ঝামেলা হয়। মিনিবাসে যাত্রী ওঠানামার কারণে মাইক্রোবাসের পথরোধ হয়েছিল।

এরপর চৌধুরী হাট এলাকায় পেট্রোল পাম্পের সামনে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা দ্রুতযান পরিবহনের আরেকটি বাসের চালক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। মারধরে ওই চালক অজ্ঞান হয়ে যান। ভুল চালককে মারধরের বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত অক্সিজেনের দিকে চলে যান।

বালুছড়া এলাকায় আব্দুর রহিমের বাসটি চিনতে পেরে পিছু করা শুরু করেন। আমিন জুট মিলের সামনে তারা বাসের গতিরোধ করে চালককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন

ছেলের প্রচারে জেল থেকেই নৌকা ডোবালেন স্বতন্ত্র

ছেলের প্রচারে জেল থেকেই নৌকা ডোবালেন স্বতন্ত্র

বায়েজিদ বলেন, ‘বাড়িতে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই আনন্দঘন মুহুর্তে বাবা জেলে।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান এস এম দীন ইসলাম কারাগারে দুই বছর। টানা দুইবারের চেয়ারম্যান হওয়ায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে জেলে থেকেই স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেন দীন ইসলাম। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে এস এম বায়েজিদ। রাজনীতিতে কোনো দক্ষতা না থাকলে বাবার হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন তিনি।

উঠান বৈঠক, পথসভা থেকে শুরু করে নির্বাচনি প্রচারে জনগণের মন কেড়েছেন। অবশেষে ২৮ নভেম্বর খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউপি নির্বাচনে প্রতিপক্ষ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে বাবাকে বিজয়ী করেছেন ছেলে।

নির্বাচনের পরদিন সোমবার কোদলা গ্রামে চেয়ারম্যান এস এম দীন ইসলামের বাড়িতে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ। তখন বাবার শূন্যতায় আবেগাপ্লুত ছেলে বায়েজিদ।

নিউজবাংলাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বায়েজিদ বলেন, ‘আমার বাবা ৮ বছর ধরে ছাগলাদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দুইবারের চেয়ারম্যানও তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালে এলাকায় একটি হত্যার ঘটনায় মামলা হয়। এজাহারে প্রথমে বাবার নাম না থাকলেও পরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেয়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয় বাবাকে।

‘আদালত থেকে কয়েকবার জামিন পেলেও জেলগেট থেকে তা বাতিল হয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কারণে কোনোভাবেই বাবাকে জামিনে মুক্ত করা যায়নি।’

ছেলের প্রচারে জেল থেকেই নৌকা ডোবালেন স্বতন্ত্র
বাবা জেলে থাকায় তার পক্ষে প্রচার চালান বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স প্রথম বর্ষে লেখাপড়া করছি। রাজনীতির কোনো বিষয় তেমন জানা নেই আমার। বাবা জেলে থাকার কারণে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাননি৷ কিন্তু এলাকার জনগণ বাবাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে জোরাল দাবি করেন।সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি বাবার হয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেই। মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে যাই।

‘পথসভা, উঠান বৈঠক সবকিছুতেই অংশ নেই। এলাকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। তবে প্রচারের সময় প্রতিপক্ষের অনেক বাধার মুখেও পড়েছি। কিন্তু আমরা কোনো প্রকার ঝামেলায় না গিয়ে শুধু মানুষের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। রোববারের নির্বাচনে জনগণ আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। জেলে থেকেও বাবা বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিজয় এলাকাবাসীর।’

বায়েজিদ বলেন, ‘বাড়িতে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী এসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই আনন্দঘন মুহুর্তে বাবা জেলে।’

আরও পড়ুন:
চমেকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: লাইফ সাপোর্টে আকিব
শুরু হচ্ছে ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন
চমেক বন্ধ: ‘আমরা এখন কই যাব?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সংঘর্ষ: থানায় অভিযোগ এক পক্ষের
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে বন্ধ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

শেয়ার করুন