ফেসবুকে লাইভ করা সেই ফয়েজ কে?

ফেসবুকে লাইভ করা সেই ফয়েজ কে?

কুমিল্লার সেই আলোচিত ফেসবুক লাইভ। ডানে লাইভ করা ব্যক্তি ফয়েজ আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

ফয়েজের স্ত্রী নিউজবাংলাকে জানান, ২০০০ সালে তাদের বিয়ে হয়। এর দুই বছর পর ফয়েজ সৌদি আরব যান। গত বছর তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর নগরীর কান্দিরপাড়ের খন্দকার হক টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সে ‘মোবাইল সেবা’ নামে একটি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। 

কুমিল্লা নগরীর একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করা ফয়েজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে তাকে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার সকালে আলোচিত মণ্ডপ এলাকা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার পরই (ফেসবুক লাইভ) দেশের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দেখলে বোঝা যায়, একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিশেষভাবে ঘটনাস্থল থেকে যে লোক (ফয়েজ) ভিডিও করে ছড়িয়ে দিয়েছে, তাকে আটক করা হয়েছে। সে কোনো দলের কর্মী কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।’

ফয়েজ আহমেদ (৪০) বুধবার সকালে মণ্ডপ এলাকা থেকে ফেসবুক লাইভ করেন। এরপর রাত ৮টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনওয়ারুল আজিম।

ফয়েজ আহমেদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মৃত আবদুল করিমের ছেলে। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।

কোতোয়ালি থানার সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফয়েজের স্ত্রী নিউজবাংলাকে জানান, ২০০০ সালে তাদের বিয়ে হয়। এর দুই বছর পর ফয়েজ সৌদি আরব যান। গত বছর তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর নগরীর কান্দিরপাড়ের খন্দকার হক টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সে ‘মোবাইল সেবা’ নামে একটি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

ফয়েজের স্ত্রী দাবি করেন, বুধবার সকাল ৭টার দিকে নানুয়ার দিঘির পাড়ে হাঁটতে বের হন ফয়েজ। তখন পূজামণ্ডপের ঘটনাটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেন।

থানার সামনে অপেক্ষমাণ ফয়েজের ছোট ভাই মো. মহসিন বলেন, ‘আমরা চার ভাই ও দুই বোন। ফয়েজ আহমেদ মেজো। আমার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। মূলত আবেগের বশে সে ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছে।’

কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর খন্দকার হক টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, ফয়েজের মালিকানাধীন ‘মোবাইল সেবা’ দোকানটি বন্ধ।

তার সম্পর্কে আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করা হলে কেউ কথা বলতে চাননি।

তবে পাশের মদিনা টেলিকমের বিক্রয়কর্মী আরিফ জানান, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি আরিফ।

খন্দকার হক টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, ফয়েজ দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন৷ দেশে ফিরে মার্কেটের চতুর্থ তলায় ভাড়ায় একটি দোকান নেন। এরপর ৪/৫ মাস আগে তিনি দোকানটি কিনে নেন।

তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানেন কি না, প্রশ্ন করলে আনিস বলেন, ‘শুনেছি ফেসবুকে কী ভিডিও ছাড়ছে। তাই তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

মেহেরপুরের গাংনীর বামন্দী গ্রামে চাষ হচ্ছে ফিলিপিনো ব্ল্যাক জাতের আখ। ছবি: নিউজবাংলা

সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক।’

মেহেরপুরে গাংনীর বামন্দী গ্রামের দুই বন্ধু সাইফুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী। নিজ নিজ বাড়ির পাশের পৌনে দুই বিঘা জমিতে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ চাষ করে গ্রামে তারা এখন সুপরিচিত। লোকজন নতুন জাতের আখ দেখতে প্রায়ই তাদের বাড়ি যায়।

সাইফুল ও ইউসুফ বামন্দী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা জানালেন, শখ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই আখের চাষ করেছেন। খরচের দ্বিগুন লাভ হয়েছে বলে তারা উচ্ছ্বসিত।

নিউজবাংলাকে সাইফুল ও ইউসুফ জানান, দেশে সাধারণত যে আখ হয়, তার থেকে ফিলিপাইন ব্ল্যাক জাতের আখ বেশ নরম ও মিষ্টি। একটি আখ থেকে ৭ থেকে ১০ টি বীজ পাওয়া যায়। এ কারণে কম খরচে এর উৎপাদনও বেশি করা যায়।

দুই বন্ধু জানান, ভ্রাম্যমাণ আখ বিক্রেতারা তাদের জমি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দামে এক একটি আখ কিনে নেয়। বাজারে ক্রেতাদের বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাহিদা ও বাজার মুল্য ভালো থাকায় নতুন জাতের আখের বীজ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আসেন এখানে। চারা রোপনের দশ মাস পর থেকে জমি থেকে এই আখ সংগ্রহ করা যায়।

‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক। এ কারণে অনেকে এই নতুন জাতের আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছে।’

বামন্দী গ্রামের বাজার মাতাচ্ছে কালো আখ

ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমি আর সাইফুল আমাদের আরেক শিক্ষক ভাইয়ের আখ চাষ দেখে ফিলিপাইন ব্লাক আখ চাষে আগ্রহী হই। ইউটিউব দেখে শিখে নিয়েছি। জমিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে রসুন চাষ করি।

‘সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি এক লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ সাথী ফসল রসুন বেচে পেয়েছি পঞ্চাশ হাজার টাকা। সব ঠিকঠাক থাকলে প্রতি বিঘাতে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তাই বলি শিক্ষিত বেকার যুবক ভাইয়েরা বসে না থেকে যে কোনো কৃষি কাজ বা খামার করা উচিত।’

আখ বিক্রেতা মো. শানারুল বলেন, ‘আমি প্রায় আট বছর গেন্ডারি আখ বাজার ঘাটে বেইচি বেড়াই। তবে এ বছর কালো খয়েরী কালারের ফিলিপাইন গেন্ডারি কাস্টমারে বেশি চাইছে। কারণ এটি খাইতে অনেক মিষ্টি ও খুব নরম।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই উপজেলায় নতুন একটি ফসল সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে, তা হলো ফিলিপাইন ব্লাক গেন্ডারি। তিন বছরের মতো হবে এ ফসলটি বাণিজ‍্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে।

‘যারা এই আখ চাষ করছেন, তারা আমাদের জানিয়েছেন বিঘা প্রতি খরচ হয় ৭৫ থেকে এক লাখ টাকা। আর ফিডব‍্যাক হিসেবে পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মতো। বাজারেও চাহিদা বেশ ভালো। তাই এ উপজেলার জন‍্য এটি একটি অর্থকারী ফসল হয়ে উঠতে পারে।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই জমি দখল করে কলাগাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার মাকড়াই মৌজায় অবস্থিত স্কুলটির ২ দশমিক ৩৮ একর জমি স্থানীয় আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে আব্দুল মতিন দখল করে রেখেছেন। সেই জমিতে ১৭টি পরিবারকে টাকার বিনিময়ে থাকার অনুমতিও দিয়েছেন তারা। তবে আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, জমিটি লিজ নেয়া অনেক বছর ধরেই।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি ভুমিদস্যুদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন চেষ্টার পরও জমিটি উদ্ধার করতে পারেননি বলে জানান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার কবিরাজ।

বিদ্যুৎ কুমার নিউজবাংলাকে জানান, উপজেলার মাকড়াই মৌজায় অবস্থিত স্কুলটির ২ দশমিক ৩৮ একর জমি স্থানীয় আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে আব্দুল মতিন দখল করে রেখেছেন। সেই জমিতে ১৭টি পরিবারকে টাকার বিনিময়ে থাকার অনুমতিও দিয়েছেন তারা।

ওই শিক্ষক আরও জানান, জমিটির বর্তমান মূল্য আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হয়েছেন হুমকির শিকার।

জমি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ কুমার।

ওই শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জমি উদ্ধারে গেলে নানা ধরনের হুমকি দেয় আব্দুল হাকিম ও আব্দুল মতিন। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি জমিটি উদ্ধারের ব্যাপারে।'

‘কয়েক দিন আগে পুলিশ গিয়ে তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে বললে তারা ছেড়ে দেবে বলে জানায়। তবে তারা জায়গা ছেড়ে দেয় নাই।’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

বিদ্যুৎ কুমার আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ১০০টি চারা রোপনের নির্দেশনা দেয়া হয় সরকার থেকে। সে অনুযায়ী বিদ্যালয়ের দখল করা জমির এক অংশে আমরা চারা রোপণ করতে গেলে তারা আমাদের বাধা দেয়।

‘জমিটি ছেড়ে দেয়ার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর স্কুলের পক্ষ থেকে আব্দুল হাকিমসহ ১৯ জনকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর সকালে আব্দুল মতিন স্কুলে এসে আমিসহ অন্য শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে যায়। আমরা পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর বীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করি।’

প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযোগ দেয়ার পর আব্দুল হাকিম ও তার ছেলে ওই জমিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের রোপণ করা চারার সঙ্গে কলাগাছ রোপণ করেন।

অন্যদিকে আব্দুল মতিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিটি পাকিস্তান আমলের পর থেকে আমার বাবা লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছে। এখানে আরও অনেকেই লিজ নিয়ে ভোগদখল করছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের লিজের টাকা পরিশোধ আছে। সোনালী ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে স্কুলেরই একটি অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা করা হয়।

‘জমির যে অংশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে, সে জমিতে কলা আবাদ করেছি। আবাদ শেষ হলে ওই অংশ আমরা ছেড়ে দেব।’

সরকারি স্কুলের ২ একর জমি ‘বেদখলে’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাকড়াই মৌজার জমিটি উদ্ধারের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। শিগগিরই জমিটি উদ্ধারে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে জমিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

পুকুরে বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ

পুকুরে বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ

খুলনায় পুকুর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

কয়রা থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে পুকুরে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি ও কন্যা টুনির মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

খুলনার কয়রায় একটি পুকুর থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে মাজেদের বাড়ির পুকুরে ভাসতে থাকা মরদেহগুলো মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে পুকুরে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি ও কন্যা হাবিবা টুনির মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, হাবিবুল্লাহ ছিলেন দিনমজুর। তার মেয়ে টুনি স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।

তিনি আরও জানান, তিনজনেরই মুখে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে রাতে তাদের হত্যা করে গুম করার জন্য মরদেহ পুকুরে ফেলা হয়।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

৬ মাসের সাজা থেকে বাঁচতে ৫ বছর পলাতক

৬ মাসের সাজা থেকে বাঁচতে ৫ বছর পলাতক

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলম

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

চেক প্রতারণার দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কোর্টপাড়ার মৃত শেখ আহমদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর খুলনার কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালের স্বত্বাধিকারী কামালের সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসার একপর্যায়ে কিছু টাকা আটকে ফেলেন তিনি। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় জাহাঙ্গীরকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়। চলতি বছরের ২ মার্চ ওই মামলায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয় আদালত।

এরপর থেকেই জাহাঙ্গীর পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই দুটি মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় আরও ৭-৮টি মামলা বিচারাধীন।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ

স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ছবি: নিউজবংলা

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রেজা জানান, ‘গত দুই দিন সুখি ও লামিয়া নামের দুই ছাত্রী স্কুলে আসেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’

বরগুনার পাথরঘাটায় স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেনের ১২ বছরের মেয়ে সুখি এবং আজাদ খানের একই বয়সের মেয়ে আয়শা আক্তার লামিয়া।

তারা পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় সোমবার রাত ৮টার দিকে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুই শিশুর অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানান, শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য তারা বাড়ি থেকে বের হয়। পাথরঘাটা হল রোড দিয়ে দুজন স্কুলের দিকে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়ি না ফেরায় খুঁজতে বের হন তাদের অভিভাবকরা। স্কুলে গিয়ে জানা যায়, তারা স্কুলে যায়নি।

তবে স্থানীয় লোকজন তাদের একসঙ্গে স্কুলের দিকে যেতে দেখেছে।

সুখির খালা নুর জাহান জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। কলটি রিসিভ করলে নারী কণ্ঠে হ্যালো বলে লাইনটি কেটে মোবাইলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রেজা জানান, ‘গত দুই দিন সুখি ও লামিয়া নামের দুই ছাত্রী স্কুলে আসেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।’

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘ছাত্রীদের অভিভাবকরা সোমবার সন্ধ্যায় থানায় আলাদা দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

লোহাগড়া থানার ওসি জানান, পলাশকে কী কারণে, কে বা কারা হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাকে মাথায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নড়াইলের লোহাগড়ায় পলাশ মাহমুদ নামের এক ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

উপজেলার চরমল্লিকপুর গ্রামে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

৩২ বছর বয়সী পলাশ ওই গ্রামের খোকন শেখের ছেলে। তিনি লোহাগড়া বাজারের ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলন জানান, পলাশকে কী কারণে, কে বা কারা হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

পলাশে মাথায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দাবি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দাবি

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর আন্দরকিল্লার মোড়ে সমাবেশ করে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা

পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা ইকবাল হোসেনকে পাগল সাজিয়ে আসল দুর্বৃত্তদের আড়াল করার অপচেষ্টা হচ্ছে।’

কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর আন্দরকিল্লার মোড়ে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সমাবেশে এ দাবি জানান পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত।

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। যারাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত হোক না কেন, সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা ইকবাল হোসেনকে পাগল সাজিয়ে আসল দুর্বৃত্তদের আড়াল করার অপচেষ্টা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৬৯ সালে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছিল। সেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাস্তায় নেমেছিলেন। কিন্তু এখনকার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতারা, প্রগতিশীল সুশীল সমাজ রাস্তায় নেই। পাকিস্তানি প্রেতাত্মা, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এসব প্রতিরোধে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের রাস্তায় নামতে হবে।’

সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলরা এগিয়ে আসেননি বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি।

তিনি বলেন, ‘এবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ আইজিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, নিরাপত্তায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। এরপরও মন্দির-পূজামন্ডপে হামলা হল, অগ্নিসংযোগ হল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হল।

‘আমরা দেখেছি, নোয়াখালীতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, প্রশাসন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা কোথায় ছিলেন? আমরা সরকারের আশ্বাস-প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নিতাই প্রসাদ ঘোষ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, জহর লাল হাজারী, পুলক খাস্তগীর, মহানগর পূজা পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদারসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

শেয়ার করুন