জরায়ু ক্যানসারে দেশে মৃত্যুহার বেশি কেন

জরায়ু ক্যানসারে দেশে মৃত্যুহার বেশি কেন

দেশে জরায়ু ক্যানসারের মৃত্যুর হার বিশ্বে মৃত্যু হারের চেয়ে বেশি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর প্রতি বছর ১২ হাজার নারীর মৃত্যু হচ্ছে এই ক্যানসারে।

দেশে নারীদের জরায়ুমুখে ক্যানসারে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। এই হার বিশ্বে মোট মৃত্যুর হিসাবের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৫ লাখ ৭০ হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয় ৩ লাখ ১০ হাজার।

সংস্থাটি বলছে, এই মৃত্যুর ৯০ শতাংশের ঘটনাই ঘটছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

বাংলাদেশে এই ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যাও গত কয়েক বছর থেকেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ুমুখের ক্যানসাে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর প্রতি বছর ১২ হাজার নারীর মৃত্যু হচ্ছে এই ক্যানসারে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে জনসংখ্যা ৭৭৫ কোটি। এর অর্ধেক নারী ধরা হলে বিশ্বে প্রতি বছর জরায়ুমুখে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ০০৮ শতাংশ। সে হিসাবে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। যা বিশ্বের মৃত্যুর হার থেকে দ্বিগুণ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস-২০২১ উদযাপন ও জরায়ু ক্যানসার নির্ণয়ে এইচপিভি ল্যাবের উদ্বোধনে এমন তথ্য জানান শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘জরায়ুমুখে ক্যানসার বাংলাদেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ। নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ও নারীদের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, মহিলাদের জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে কার্যকরভাবে এ ক্যানসার নির্ণয়ে কাজ করছি আমরা।’

এই অধ্যাপক বলেন, ‘জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি ডিএনএ টেস্টের ভূমিকা অনেক। সেটি আরও ভালোভাবে নির্ণয়ের জন্যই এইচপিভি ল্যাবের যাত্রা।’

এই ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসায় ‘আর নয় জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার, নিরাপদে থাকবে নারী, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।

যে কারণে হয় জরায়ুমুখ ক্যানসার

ক্যানসারের এই ধরনকে বলা হয় ‘নীরব প্রাণঘাতক’। এটি বলার কারণ হচ্ছে, অনেক নারী বুঝতেই পারেন না তারা এ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই দেশে মৃত্যু হারও বাড়ছে।

এ ক্যানসারের অন্যতম কারণ বলা হয়, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসকে (এইচপিভি)। এই ভাইরাসের আবার ১০০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসবের মধ্যে দুটি প্রজাতি নারীদের জরায়ুমুখে ক্যানসারের কারণ।

অবশ্য ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পরই ক্যানসার আক্রান্ত হয় না। জীবাণু প্রবেশের পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগে জরায়ুমুখে ক্যানসার হতে। তাই এটি নির্ণয়েও সময় পাওয়া যায় অনেক।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সময় পাওয়া গেলেও এর একটি প্রধান সমস্যা হলো, একেবারে শেষ পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত এবং ব্যথা শুরু না হওয়া পর্যন্ত নারীরা এর কোনো লক্ষণ বুঝতে পারেন না। তাই অনেকেই এটিকে পিরিয়ডকেন্দ্রিক সমস্যা মনে করে গুরুত্ব দেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যানসার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভাইরাস। ভাইরাসটির নাম এইচডব্লিউপি। এই ভাইরাস আক্রান্ত হলেও সবাই কিন্তু ক্যানসারে আক্রান্ত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এই ভাইরাস চিকিৎসা ছাড়া ভালো হয়ে যায়। তবে এমন ভাইরাস দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।’

এ ছাড়া অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ৩৫ বছরের কোটায় এবং ৫০-৫৫ বছর বয়সের সময়৷

অল্প বয়সে বিয়ে হলে বা যৌনমিলনের ফলেও এটি হতে পারে।

২০ বছরের কম বয়সে গর্ভধারণ ও মা হওয়ার কারণেও এটি হতে পারে।

অধিক ও ঘনঘন সন্তান প্রসব করলে এবং বহুগামিতাতেও হতে পারে এ রোগ।

যেসব লক্ষণে বোঝা যায়

এ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে আচমকা ক্ষুধা কমে যেতে শুরু করে।

সবসময় বমি বমি ভাব কিংবা ঘন ঘন বমি হওয়া।

পেটে অতিরিক্ত ব্যথা কিংবা পেট ফুলে যাওয়া।

অ্যাসিডিটি, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য হতে শুরু করে। হালকা খাবারের পরও ভরপেট অনুভব হয়, পেটে অস্বস্তি লাগে। এ ছাড়া পেটের বিভিন্ন সমস্যা বাড়লেও সেটিও জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

যৌনাঙ্গের চারপাশে চাপ বোধ হয়, ঘন ঘন মূত্রত্যাগ করা।

ওজন বাড়তে থাকে, কিংবা হঠাৎ করে ওজন অনেক কমে যেতে থাকে।

অভ্যস্ত থাকার পরেও যৌনমিলনের সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া।

অতিরিক্ত ক্লান্তি বা বিষাদবোধ হয়।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এক দিনে দ্বিতীয় ডোজ পাবেন ৮০ লাখ মানুষ

এক দিনে দ্বিতীয় ডোজ পাবেন ৮০ লাখ মানুষ

করোনারোধী টিকা নেয়ার জন্য টিকা কেন্দ্রে ভিড়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার টিকা ব্যবস্থা কমিটির সদস্য সচিব শামসুল হক  বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে কেন্দ্রে টিকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কালই সব জেলায় টিকা পাঠানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক দিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ক্যাম্পেইনে যে ৮০ লাখ মানুষ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছিলেন তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া শুরু হয়। প্রথম ডোজের ক্ষেত্রে দুই দিনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলেও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে এক দিনেই ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার টিকা ব্যবস্থা কমিটির সদস্য সচিব শামসুল হক বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে কেন্দ্রে টিকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

‘এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কালই সব জেলায় টিকা পাঠানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এক দিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া। সারা দেশে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলায় এই টিকা দেয়া হচ্ছে।’

প্রথম ডোজ যে যেই কেন্দ্র থেকে টিকা নিয়েছেন দ্বিতীয় ডোজও সেই কেন্দ্র থেকে নিতে হবে বলে জানান শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘তা না হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।’

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ৮০ লাখ মানুষকে একসঙ্গে টিকা দেয়ার কথা ছিল। তবে এক দিনে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। দুই দিন মিলিয়ে ৮০ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৬ জনকে প্রথম ডোজের টিকা দেয়া হয়।

৮০ লাখ লোককে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া সম্পন্ন হলে প্রায় ৩ কোটি মানুষ পূর্ণ দুই ডোজ টিকার আওতায় আসবেন। এর মাধ্যমে দেশের ১৭ শতাংশ মানুষ পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পাবেন।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকাদান শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল সে সময়।

এর মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগামী ৩০ অক্টোবর এই টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ৬ কোটি ২৬ লাখ ১ হাজার ১৫৩ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ৪ কোটি ১২ লাখ ৬৮ হাজার ৮১০ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ২ কোটি ১৩ লাখ ৩২ হাজার ২৮৯ জন।

এ ছাড়া এখন পর্যন্ত করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫৮ জন।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন

শিশুদের জন্য ফাইজারের ৩৫ লাখ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শিশুদের জন্য ফাইজারের ৩৫ লাখ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফাইজারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা। ফাইল ছবি

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরও ৩৫ লাখ ডোজ টিকা অনুদান দিতে পেরে আনন্দিত। এ ছাড়াও আমরা বাংলাদেশি শত শত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি, যাতে তারা ফাইজারের এ টিকাগুলো ১২ ও তদূর্ধ্ব বয়সী শিশুদের নিরাপদে দিতে পারে।’

বাংলাদেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ফাইজারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ৩৫ লাখ ডোজ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির ঢাকা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ নিয়ে দেড় কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দিতে যাচ্ছে দেশটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফাইজারের টিকা ১২ ও তদূর্ধ্ব বয়সী বাংলাদেশিদের টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশকে সক্ষম করে তুলবে।

এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করোনাভাইরাস সহায়তা ১২১ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৫২ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ফাইজার-বায়োটেকের টিকার অনুমোদন করে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরও ৩৫ লাখ ডোজ টিকা অনুদান দিতে পেরে আনন্দিত। এ ছাড়াও আমরা বাংলাদেশি শত শত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি, যাতে তারা ফাইজারের এ টিকাগুলো ১২ ও তদূর্ধ্ব বয়সী শিশুদের নিরাপদে দিতে পারে।

‘আমরা আশা করি এ টিকা কম বয়সী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা পেতে সহায়তা করবে এবং তারা পরিপূর্ণভাবে তাদের লেখাপড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে। দুটি বিভাগে এই হার সর্বোচ্চ হাজারে ১৪ জন করে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী বিভাগে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর হার সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। বিভাগটিতে এই হার ৭ দশমিক ৪০।

দেশে প্রতি বছর হাজারে ১১ দশমিক ৪ জন রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স বিভাগ।

সে হিসাবে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরলে বছরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ১৮ লাখ ২৪ হাজারের বেশি রোগী।

দেশে ৬৪ জেলা থেকে স্ট্রোকের রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণার পর এমন তথ্য জানিয়েছে বিভাগটি।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে। দুটি বিভাগে এই হার সর্বোচ্চ হাজারে ১৪ জন করে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী বিভাগে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর হার সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। বিভাগটিতে এই হার ৭ দশমিক ৪০।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে নিউরো সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী
স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন ঢামেক পরিচালক।

তিনি জানান, এখন নানান কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তবে উচ্চ রক্তচাপের কারণে বেশিরভাগ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশে যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের রোগী।

ঢামেকের নিউরোসার্জান্সি বিভাগের অধ্যাপক রাজিউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।

ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৪৮ জনেরই উচ্চ রক্তচাপ থাকে। এ ছাড়া স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৩৬ রোগী অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন।

তিনি জানান, স্ট্রোকে আক্রান্ত ১৯ শতাংশ রোগীর দেহে অতিরিক্ত মেদ থাকে। ১৭ শতাংশ রোগী মানসিক চাপের শিকার। এ ছাড়া অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের কারণে স্ট্রোক হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ২০২০ সালের করা এক গবেষণার বরাতে ওই গবেষক বলেন, মানুষ তার জীবদ্দশায় প্রতি ৪ জনের ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। এর আগে ৬ জনের একজনের স্ট্রোকের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের কথা তুলে ধরে ঢামেকের ওই গবেষক জানান, দেশের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্ট্রোকের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের উপায়গুলো জানান তিনি। স্ট্রোক সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য। স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে ফাস্টফুড ও ধূমপান ত্যাগ করা, ব্লাডপেশার আর সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা না করে হাসপাতালে নেয়া ও সর্বোপরি জনসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

স্ট্রোকের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঢামেক অনেক অগ্রসর হয়েছে। এ রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সরকার আমাদের সবকিছু দিচ্ছে।’

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে ঢামেক হাসপাতালে এক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, চোখে ঘোর দেখা, চেহারা পরিবর্তন হওয়া, বাহু অবশ হওয়া, কথা বলার সময় জড়তা চলে আসা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে গোল্ডেন টাইম বা ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎশকের শরণাপন্ন হতে হবে।’

তিনি জানান, ১৯৮০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউরোপ বা আমেরিকাতে স্ট্রোকের ৪২ শতাংশ রোগী কমেছে। কিন্তু অনুন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই রোগ শতভাগ বেড়েছে।

ঢামেকের নিউরোসায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে অপারেশন লাগবে এমন ১০ জনের বেশি স্ট্রোকের রোগী আসে। তবে দিনে ৩ জন সার্জারি করা সম্ভব হয়। আমরা চাই ১০ জনকেই সময়মতো সার্জারি করাতে। স্ট্রোক রোগীদের আইসিইউ ও এসডিইউ অনেক বেশি প্রয়োজন। তবে ঢামেকে এখনও বসানো সম্ভব হয়নি। এটা দ্রুত সময়ের মধ্যে বসানোর ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘রোগীর সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিতে নিউরোলজি বিভাগের একটি আইসিইউ ইউনিট খুলতে হবে। তাহলে অনেক রোগীর জীবন বাঁচনো সম্ভব হবে। সঙ্গে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।’

কর্মশালায় ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, ‘স্ট্রোকের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জটিল রোগী এই হাসপাতালে আসেন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিভাগের চিকিৎসকরা।’

তিনি বলেন, ‘ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে গড়ে ছয় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। দিনে গড়ে ৫০ জনের মতো নতুন রোগী আসেন। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ৭-১০ জনের সার্জারি করা সম্ভব হয়। ’

ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘স্ট্রোকের চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে কিছু ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। আমরা এই ওষুধগুলোর বেশিরভাগ বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। ’

তিনি জানান, স্ট্রোকের রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০ শয্যার পৃথক স্ট্রোক সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখানে ১০টি আইসিইউ-এসডিইউ শয্যা থাকবে।

২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালুরও আশ্বাস দেন হাসপাতাল পরিচালক।

কর্মশালায় বলা হয়, স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা দেওয়া গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা নিয়ে পরদিনই রোগী হেঁটে বাসায় ফিরতে পারবেন। অনেকে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে হৃদ্‌রোগ ভেবে সময় নষ্ট করেন, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৩০৬

করোনায় মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৩০৬

গত এক দিনে দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ১৯ হাজার ৯৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩০৬ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৩ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮৪০ জনের।

গত এক দিনে দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ১৯ হাজার ৯৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় অনুযায়ী, কোনো দেশে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়। সে অনুযায়ী দেশে করোনা দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসিবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত একদিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩ জন, নারী ৪ জন। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ও ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এক জন করে মারা গেছে। এ ছাড়া খুলনাতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৮৮ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন

বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজ শুরু বৃহস্পতিবার

বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজ শুরু বৃহস্পতিবার

সেপ্টেম্বরে বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিনে টিকা দেয়া হয় ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৪ জনকে। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামসুল হক বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিশেষ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছিল প্রায় ৮১ লাখ মানুষকে। তাদের দ্বিতীয় ডোজ বৃহস্পতিবার দেয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার স্বাস্থ্য বুলেটিন এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিশেষ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহিত করেছি।

‘ইতোমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। টিকা কর্মকাণ্ডে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হবে না; শুধু দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘কাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন হলে ৩টার পরেও এই ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি চলমান থাকবে।’

তিনি বলেন, ওই দিন সারা দেশে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলায় বিশেষ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন হবে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনে ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯২ ডোজ টিকা দেয়া হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৪ ডোজ টিকা দেয়া হয়।

২৮ সেপ্টেম্বরের আগে গত ৭ আগস্ট থেকে প্রথম ধাপে গণটিকাদানের ঘোষণা দেয় সরকার। সে সময় পাঁচ দিনের জন্য চলে এ কার্যক্রম, তবে টিকা সংকটের কারণে সে কার্যক্রম চালু রাখতে পারেনি সরকার।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন

স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা সপ্তাহের মধ্যে, আশা মন্ত্রীর

স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা সপ্তাহের মধ্যে, আশা মন্ত্রীর

মানিকগঞ্জে স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হয়। ফাইল ছবি

দীপু মনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দিতে রেজিস্ট্রেশন চলছে। আশা করছি সপ্তাহখানেকের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সপ্তাহখানেকের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গবেষণা দিবসে বুধবার বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দীপু মনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দিতে রেজিস্ট্রেশন চলছে। আশা করছি সপ্তাহখানেকের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীকে গণটিকা দেয়া শুরুর কথা ছিল ৩০ অক্টোবর।

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জে ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

বড় পরিসরে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিট

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিট

নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা মোছলেহউদ্দিন তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিটের মাধ্যমে অত্যাধুনিক থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসার মাধ্যমে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুহার ও শারীরিক অক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসবে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে স্ট্রোকের রোগীদের চিকিৎসায় চালু হয়েছে বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিট।

নিউরোলজি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এই ইউনিট উদ্বোধন করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির।

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমানের নামে এর নাম রাখা হয়েছে ওয়াহিদুর রহমান মেমোরিয়াল স্ট্রোক ইউনিট।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘স্ট্রোক ইউনিটের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রোগীরা অত্যাধুনিক চিকিৎসা পাবেন। ঢাকার নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের পর সরকারিভাবে এই প্রথম চট্টগ্রাম মেডিক্যালে এ ইউনিট সংযোজন হতে যাচ্ছে। এখানে বিশেষায়িত সেবা দেয়ার জন্য হাসপাতালের ওয়ান স্টপ জরুরি সেবাকেন্দ্রে একটি নতুন সিটিস্ক্যান মেশিন শিগগির সংযোজন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিউরোলজি ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় লিফটের পাশে বারান্দায় রোগী রাখতে হয়; এটি অমানবিক। আমরা চেষ্টা করছি, এই ওয়ার্ডে একটি বর্ধিত ওয়ার্ড খুঁজে বের করার।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘এই স্ট্রোক ইউনিট গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো থ্রম্বোলাইটিক থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা দেয়া। এই থেরাপির মাধ্যমে স্ট্রোকের রোগীদের হাতে-পায়ে প্যারালাইসিস হওয়া রোধ করা যাবে। তবে স্ট্রোক হওয়ার সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি থেরাপি দেয়া না যায় তাহলে এটি ফলপ্রসূ হবে না।’

নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল আলম খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা মোছলেহউদ্দিন।

মোছলেহউদ্দিন তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, এই ইউনিটের মাধ্যমে অত্যাধুনিক থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসার মাধ্যমে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুহার ও শারীরিক অক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রয়াত চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমানের বাবা মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাহেনা আক্তার, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম এ হাছান চৌধুরী, রেডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সুভাষ মজুমদার, নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান শওকত হোসেন।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

শেয়ার করুন