‘আমি বাবাকে এভাবে কেন হারাব’

‘আমি বাবাকে এভাবে কেন হারাব’

চট্টগ্রামে নালায় ডুবে নিখোঁজ ছালেহ আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমার ভাই খুব সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। বুধবার সকালে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরিফে যাওয়ার জন্য তিনি চকবাজারের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আর দরবারেও যাওয়া হলো না, বাসায়ও ফিরলেন না। তার দুই সন্তান পড়াশোনা করে, এখন তাদের পড়াশোনা কীভাবে চলবে তাও চিন্তার বিষয়।’

ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরিফে যাওয়ার জন্য বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি বাবা ছালেহ আহমেদ। পথে মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তিনি। এরপর কেটে গেছে ২৮ ঘণ্টা। কিন্তু কেউ তার সন্ধান দিতে পারছে না।

কথাগুলো বলতে বলতে গলা ভারী হয়ে আসে মাহিনের। ১৮ বছরের এই তরুণ নিখোঁজ ছালেহ আহমেদের একমাত্র ছেলে। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা তার।

নগরীর মুরাদপুরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি বাবাকে ফিরে পেতে সকাল সকাল চাচা মনিরের সঙ্গে ছুটে আসেন দুর্ঘটনাস্থলে।

মাহিন জানান, বাবা ছালেহ আহমেদ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি নিজে পশ্চিম পটিয়া এ জে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। তার ছোট বোন জান্নাতুল মাওয়া মিতু পড়েন এ জে চৌধুরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। সংসারের খরচ মেটাতে তার বাবা নগরীর চকবাজারে একটি ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। লকডাউনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাঝে মাঝে শহরে এসে তিনিও বাবাকে সাহায্য করতেন।

কিন্তু হঠাৎ নালায় পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন বাবা। এরপর কেটে গেছে ২৮ ঘণ্টার বেশি। কিন্তু সন্ধান মেলেনি তার।

এত বড় নালার মুখ খোলা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাহিন। বলেন, ‘নালা এভাবে উন্মুক্ত হলো কীভাবে। আমি বাবাকে এভাবে কেন হারাব। তাকে ফিরিয়ে দাও।’

নালায় পড়ে সবজি ব্যবসায়ী ছালেহ আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন তার ছোট ভাই মনির আহমেদ।

‘আমি বাবাকে এভাবে কেন হারাব’
নিখোঁজ ব্যবসায়ী ছালেহ আহমেদের ছেলে মাহিন

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই খুব সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। বুধবার সকালে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরিফে যাওয়ার জন্য তিনি চকবাজারের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আর দরবারেও যাওয়া হলো না, বাসায়ও ফিরলেন না। তার দুই সন্তান পড়াশোনা করে, এখন তাদের পড়াশোনা কীভাবে চলবে তাও চিন্তার বিষয়।’

বুধবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন ছালেহ আহমেদ। তাকে উদ্ধারে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুই দফায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস।

ছালেহ আহমেদের বাড়ি পটিয়া উপজেলার মনসা চৌমুহনী এলাকায়। তিনি নগরীর চকবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার নাথ জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধ নালার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত পড়ে নিখোঁজ হন তিনি।

ওই দিন রাত হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস। পরদিন বুধবার সকাল ৭টা থেকে উদ্ধার অভিযান ফের শুরু হয়।

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় মরদেহ ভেসে উঠতে পারে। তাই ওই খালের যেসব জায়গায় আটকে থাকার সম্ভাবনা আছে, সেসব স্থানে সকাল ৭টা থেকে খোঁজ করা হচ্ছে।’

মুরাদপুর থেকে শমসেরপাড়া হয়ে কর্ণফুলীতে যাওয়া খালটির বিভিন্ন অংশে বুধবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ও রেসকিউ দলের মোট ১২ জন সদস্য উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

রাজৈর পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকায় বসানো ৫ শতাধিক সৌরবাতির অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। নিউজবাংলা

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে রাজৈর পৌরসভার সড়কে প্রায় ৫১৭টি সৌরবাতি বসায় পল্লী-দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকে বাতিগুলো নষ্ট হতে থাকে। বেশ কিছু সড়কের বাতি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভায় ৫ শতাধিক সৌরবাতি বসানো হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। এগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। অনেক বাতির অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সড়ক অন্ধকার থাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পৌর মেয়রের দাবি, জনবল সংকেটের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না সড়ক বাতিগুলো।

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে প্রায় ৫১৭টি সৌরবাতি স্থাপন করে পল্লী-দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। খরচ হয় ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকেই বাতিগুলো নষ্ট হতে থাকে। বেশ কিছু সড়কের বাতি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। সৌরবাতি ঠিকমত জ্বলছে কি-না মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও স্থাপনের পর কোনো খোঁজই রাখেনি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ রাজৈর পৌরসভা। ফলে সন্ধ্যা হলে সড়কে আঁধার নেমে আসে।

যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল, তা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই পৌরবাসীর।

পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কুন্ডুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইট-সুরকির রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি সৌরবাতির খুঁটি মাটিতে পড়ে আছে। খুঁটির সঙ্গে বাতি, তার ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য যন্ত্রাংশও পানি-কাদায় লেপ্টে আছে। কিছু খুঁটি দাড়িয়ে থাকলেও সেখানে বাতি অকেজো। কোনোটাতেই আলো জ্বলার ব্যবস্থা নেই।

এলাকাবাসী জানান, সৌরবাতি বসানোর কিছু দিন পর থেকেই আর বাতি জ্বলেনি। পৌরসভাকে বার বার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে একই চিত্র।

পৌরসভার মজুমদারকান্দি এলাকার বাসিন্দা পলাশ ফরাজী বলেন, ‘কোথাও সৌরবাতির খুঁটি পড়ে আছে, কোথাও খুঁটি চুরি হয়ে গেছে। নির্মাণের পর আর এসব বাতি কখনই জ্বলে নাই। সাবেক মেয়র শামীম নেওয়াজ মুন্সির আমলে কাজটি হয়েছে। এটা কীভাবে হলো আমরা বুঝি না।’

দীঘিরপাড় এলাকার রিপন মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে সৌরবাতির খুঁটি পড়ে থাকতে দেখছি। কেউ কোনো দিন খোঁজ খবরও নেয় নাই কেন এসব এভাবে পড়ে আছে। এতো দামি জিনিসপত্র পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথা নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কাগজে-কলমে পৌরসভার মধ্যে ৫১৭টি সৌরবাতি লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু তার অর্ধেক বাতিও লাগানো হয়নি। তারপরেও যেসব সৌরবাতি লাগানো হয়েছে, তার অধিকাংশই নিন্মমানের। যে কারণে লাগানোর কিছু দিন পরেই সে সব বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সড়ক অন্ধকারই হয়ে আছে।’

নাঈম হোসেন নামে এক এলাকাবাসী বলেন, ‘অন্ধকারে রাস্তার মোড়গুলো দেখা যায় না, যার ফলে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। যদি মোড়ে মোড়ে বাতিগুলো ঠিক মতো থাকত, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা কম হত। এ ছাড়া চুরি-ডাকাতিও বেড়ে গেছে। আলো থাকলে এমন হত না।’

রাজৈর পৌরসভার সচিব মো. মাসুদ আলম জানান, ‘২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সব বাতি লাগানো হয়েছিল। তারপরের দুই বছর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মেরামতের দায়িত্ব ছিল। এরপর রাজৈর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব। তবে ৬০ শতাংশ বাতি সচল আছে আর ৪০ শতাংশ বাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়ত নষ্ট হয়ে গেছে, যা মেরামতের চেষ্টা চলছে।’

অভিযোগের বিষয়ে রাজৈর পৌরসভার মেয়র নাজমা রশিদ বলেন, ‘বতমানে রাজৈর পৌরসভায় জনবলের অভাব রয়েছে। তবে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মাধ্যমে বাতিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করেছিলাম। তাতেও তেমন কোনো ফল আসেনি।’

নাজমা রশিদ আরো বলেন, ‘যে কোম্পানি এই বাতিগুলো স্থাপন করেছিল, আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, তাদের টেকনিশিয়ান দিয়ে নষ্ট বাতিগুলো ঠিক করা যায় কি না। তবে আমি নতুনভাবে সড়কবাতি স্থাপন করার জন্য আরো একটি প্রকল্প দিয়েছি। এটা কার্যকর হলে রক্ষণাবেক্ষণে আর সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন

অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আসামির ৭২ বছর কারাদণ্ড

অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আসামির ৭২ বছর কারাদণ্ড

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শুধু মোমিনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালত রায় দেয়। রায়ে আসামি মোমিনকে অপহরণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় এক আসামিকে ৬০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুস্তুম আলী এ রায় দেন। রায়ে আসামিকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দণ্ডিত মোমিন আকন্দ সদর উপজেলার ধারকি বড়াইল পাড়ার মামুন আকন্দের ছেলে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি মোমিন ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় স্কুলগেটের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে মোমিন ও তার ৬ সহযোগী অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তিন মাস পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শুধু মোমিনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালত রায় দেয়। রায়ে আসামি মোমিনকে অপহরণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

সরকারপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু আদালতের আইনজীবী ফিরোজা চৌধুরী। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেনা কবির।

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করেছেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। ছবি: নিউজবাংলা

পাবনা সরকারি শিশু পরিবারের ৮ বছরের এতিম বীথি। লাল রঙের নতুন ফ্রক আর রঙিন টুপি মাথায় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আয়োজনে যোগ দেয়। নতুন পোশাকের আনন্দে তার মুখে ছড়িয়ে পড়ছিল খুশির ঝিলিক। কিছুক্ষণ পরপর খুশিতে বলে উঠছিল ‘শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী’।

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপিত হচ্ছে। কেক কাটা, আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে নিবন্ধন ছাড়াই ৭৫ লাখ মানুষকে গণটিকা দেয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

পাবনা

ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাবনায় শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনের উৎসব আয়োজন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে সরকারি শিশু পরিবারের ৭৫ এতিম শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। এ সময় শিশুদের হাতে নানা উপহারও তুলে দেন তিনি।

পাবনা সরকারি শিশু পরিবারের ৮ বছরের এতিম শিশু বীথি। লাল রঙের নতুন ফ্রক আর রঙিন টুপি মাথায় দিয়ে সেই আয়োজনে যোগ দেয়। নতুন পোশাকের আনন্দে তার মুখে ছড়িয়ে পড়ছিল খুশির ঝিলিক। কিছুক্ষণ পরপর খুশিতে বলে উঠছিল ‘শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী’।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

শিশুদের কেক খাওয়া আর মিষ্টিমুখে পুরো স্বাধীনতা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। এ ছাড়া নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা।

সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্ববধায়ক সুবর্ণা সরকার জানান, করোনাকালে সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুরা বাইরে আসার সুযোগ পায়নি। তারা একঘেয়েমির মাঝে সময় পার করছিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নতুন পোশাকে বাইরে আসতে পেরে তারা ভীষণ খুশি।

পাবনা সমাজ সেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার পল্লব ইবনে শায়েখ বলেন, ‘দেশের সকল বড় আয়োজনে এতিম শিশুরা বঞ্চিত হয়। উৎসবের দিনগুলোতে স্বজনহারা শিশুদের ভীষণ মন খারাপ থাকে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উৎসবে আনন্দ আয়োজনে যোগ দিতে পেরে তারা সত্যিই উৎসবের আনন্দ পেয়েছে।’

পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নির্যাতিত, নিপীড়িত ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজে স্বজনহারা হয়েও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এখনও কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এতিম শিশুদের মুখে হাসি দিয়েই আমরা উৎসব শুরু করতে চেয়েছি। হাসিমাখা মুখে শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছে। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

পরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

খুলনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘দুর্বার বাংলা’ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি সাহসিকতা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে এ দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

রাজবাড়ী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে রাজবাড়ীতে ৩০০ রিকশা-ভ্যান শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসহায়তা দিয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল জব্বার।

এর মধ্যে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল ও ১ কেজি তেল রয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছে থেকে খাদ্যসহায়তা পেয়ে খুশি রিকশা-ভ্যান শ্রমিকরা।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল জব্বার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অসহায়দের খাদ্যসহায়তা করেছি। তারা খুশি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।’

মাগুরা

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে মাগুরায়ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জালাল উদ্দিন, মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়ার্দ্দারসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ব‌রিশা‌ল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বরিশালে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়সংলগ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন নেতা-কর্মীরা।

নগরীর সোহেল চত্বরে মঙ্গলবার সকালে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সেখানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

একই সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের পক্ষে প্যানেল মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, আয়শা তৌহিদা লুনাসহ কাউন্সিলররা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এ উপলক্ষে সকাল থেকে বরিশাল নগরীর ২৯টি টিকাদান কেন্দ্রে একযোগে চলছে গণটিকাদান কার্যক্রম।

এ ছাড়া বিকেলে নগরীর সোহেল চত্বরে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ।

এদিকে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, জন্মদিনের কেক কাটা, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকালে ফেরিঘাট রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে ও আতসবাজি ফুটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

জেলা শহরসহ ৫টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন তারা।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

পরে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘শেখ হাসিনা জনগণের আস্থার প্রতীক ৷ দেশের ক্রান্তিলগ্নে বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন। তার হাত ধরেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।’

এ সময় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারী

বর্ণিল আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন করেছে নীলফামারী পৌর আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।

আনন্দ শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিল্পকলা অডিটরিয়ামে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এতে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন বক্তব্য দেন।

এ সময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল মাসুদ আলাল, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান বুলেট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে নোয়াখালীর মাইজদীর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দোয়া, আলোচনা সভা ও কেক কাটা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

আলোচনা সভার আগে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

ভোলা

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ভোলার প্রান্তিক জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণটিকা দান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ কার্যক্রমে জেলার ৬৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় ১ লাখ ৬ হাজার জনকে টিকা প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় গড়ে দেড় হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

টিকাদান কেন্দ্রে বয়োজ্যেষ্ঠ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

টিকাদান কার্যক্রমে জনসাধারণকে অবহিত করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। ওয়ার্ড মেম্বর, গ্রাম পুলিশও সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে দেশব্যাপী ৭৫ লাখ মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হবে। এর আওতায় ভোলার ১ লাখ ৬ হাজার ৫০০ মানুষকে সিনোফার্ম টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হবে।’

এ ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে আনন্দ র‌্যালি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার পাবনা প্রতিনিধি ইমরোজ খন্দকার বাপ্পি, রাজবাড়ী প্রতিনিধি রবিউল আউয়াল, মাগুরা প্রতিনিধি ফয়সাল পারভেজ, ব‌রিশা‌ল প্রতিনিধি তন্ময় দাস, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন, নীলফামারী প্রতিনিধি নূর আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোহেল এবং ভোলা প্রতিনিধি আদিল তপু।

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে

সোমবার রাতে নালায় পড়ে নিখোঁজ সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়াস ফার্ভিস। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র বলেন, ‘অবহেলার জন্য, অসতর্কতার জন্য এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। নালার পাশে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনি) থাকলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটত না। সিটি করপোরেশনের রেলিং ছিল নালার ওপরে। নালায় স্ল্যাবও ছিল, তবে সিডিএ কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এ দুর্ঘটনা ঘটছে।’

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার মৃত্যুর জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অবহেলকে দায়ী করছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

সাদিয়া যেখানে নালায় পড়ে যান সেই আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকা মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পরিদর্শন শেষে এই অভিযোগ করেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘অবহেলার জন্য, অসতর্কতার জন্য এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। নালার পাশে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনি) থাকলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটত না। সিটি করপোরেশনের রেলিং ছিল নালার ওপরে। নালায় স্ল্যাবও ছিল, তবে সিডিএ কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এ দুর্ঘটনা ঘটছে।’

সিটি মেয়র রেজাউল করিম বলেন, ‘যে কোনো উন্নয়ন কাজ করতে গেলে মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। সিডিএর কাজের কারণে সব ময়লা গিয়ে নালায় পড়ছে। তাই নালায় ময়লা জমে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে সিডিএ। এগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় নেই। তাই কাজের সময় সবকিছু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।

‘যেসব সংস্থা উন্নয়ন কাজ করছে তাদের উচিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া। মানুষের জন্যই তো উন্নয়ন। মানুষকে রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন কীভাবে হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে স্ল্যাব বসানোর এখন কোনো সুযোগ নেই। এসব স্থানে সিটি করপোরেশনের স্ল্যাব ছিল। কিন্তু সিডিএ ফুটপাত কেটে ফেলেছে। ফুটপাত ছিল ছয়ফুটের মতো। কিন্তু কেটে সিডিএ দুই-আড়াই ফুট করে ফেলছে। এখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু নালায় কোনো ধরনের স্ল্যাবও দেয়নি।

‘দুদিন আগেও কথা সিডিএর সঙ্গে হয়েছে। তাদের বলেছি দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত মানুষ চলাচল করতে পারতেছে না। রাস্তাটা সংস্কার করে দেন। তারা ইটের সুরকি ফেলার কথা বলছে।’

মেয়রের অভিযোগের বিষয়ে সিডিএর অথোরাইজড অফিসার মো. হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। এ সময় তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে প্রধান ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় ছিলাম, বিষয়টা সম্পূর্ণ জানি না। তাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না এখন। আগে তো পুরো বিষয়টা আমার জানতে হবে, তিনি (মেয়র) কী বললেন সেটাও জানতে হবে ডিটেইলস।’

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় সোমবার রাত ১০টার দিকে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়া।

সাদিয়া নগরীর বড়পোল এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ত।

ফায়ার সার্ভিস রাত সোয়া ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে ওই নালা থেকেই মরদেহটি উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক নিউটন দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেন আমাদের ডুবুরিরা। সন্ধ্যা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ড্রেনে পানি জমে ছিল। তা ছাড়া ড্রেনটিতে ময়লার স্তূপ রয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সাদিয়ার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।’

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে
সাদিয়াকে খুঁজতে নালায় নামে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সাদিয়ার চাচাতো ভাই মো. রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামা জাকির হোসেন আর নানার সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে বের হয় সে। ফেরার সময় আগ্রাবাদ মাজার গেটের পাশে ড্রেনে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মামা জাকির এবং নানাও লাফ দেন ড্রেনে। কিন্তু তারা উদ্ধার করতে পারেননি।’

মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মারধর করে মরদেহ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন নিউটন দাশ।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের সদস্যদের মারধর করে মরদেহটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেছেন। এ সময় আমাদের এক কর্মীর মোবাইল ফোনও হারিয়ে গেছে।’

ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করতে দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাদিয়ার চাচা বেলাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সাদিয়া পড়ে গেছে ১০টায়, আমি খবর পেয়েছি সাড়ে ১০টায়। আমরা আসার পরও দেখি ফায়ার সার্ভিস আসেনি। খোঁজাখুঁজি করছি নিজেরা, অনেকক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস আসে। এখানকার কাউন্সিলরের অফিস খুব একটা দূরে না, তিনি পর্যন্ত একটু খবর নেননি।’

অভিযোগ নাকচ করে নিউটন দাশ বলেন, ‘আমরা সোয়া ১০টায় খবর পেয়ে দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। গণমাধ্যম কর্মীরা দেখেছেন, অনেকে লাইভেও ছিল। এখন বলেন, তারপরও কেউ যদি এভাবে বলে, আমাদের তো কিছুই করার নেই।’

এই ঘটনার আগে ২৫ আগস্ট নগরীর মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান মেলেনি।

তার আগে ৩০ জুন নগরীর ২ নম্বর গেইট এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা চশমা খালে পড়ে এক নারীসহ ২ জনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন

ডোবায় যুবকের মরদেহ

ডোবায় যুবকের মরদেহ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ডোবায় পড়ে ছিল এক যুবকের মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

কামরুলের পরিবার জানায়, সোমবার রাতে কামরুল নয়াবাড়ির আলআমিনের দোকানে যায়। রাত ৯টায় তাকে কল দিলেও রিসিভ করেনি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লায় তিতাস উপজেলায় দক্ষিণ বলরামপুর নয়াবাড়ি এলাকার পাশের একটি ডোবা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মৃত কামরুল ইসলামের বয়স ২৬ বছর। সে তিতাস উপজেলার উত্তর বলরামপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।

কামরুলের পরিবার জানায়, সোমবার রাতে কামরুল নয়াবাড়ির আলআমিনের দোকানে যায়। রাত ৯টায় তাকে কল দিলেও রিসিভ করেনি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিতাস থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, কামরুলের মৃগী রোগের সমস্যা ছিল।

তিনি জানান, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহার করা মোবাইল পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন

বাল্যবিয়ে ঠেকাতে থানায় হাজির স্কুলছাত্রী

বাল্যবিয়ে ঠেকাতে থানায় হাজির স্কুলছাত্রী

নিজের বিয়ে ঠেকাতে থানায় হাজির হন এক স্কুলছাত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে পুলিশের একটি দল তাদের বাসায় গিয়ে মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলার পর তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’

মা-খালা দিতে চান বিয়ে। বিয়ে দিতে ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণিতে পড়া মেয়েকে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। নাছড়বান্দা মেয়ে কোনোভাবেই রাজি হয়নি বিয়ের জন্য।

অবশেষে নিজের বিয়ে রুখতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে থানায় হাজির হয় চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। শেষে পুলিশ গিয়ে তার বাবা-মাকে বোঝানোর পর তারা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

পুলিশ জানায়, মেয়েটি বিজ্ঞান বিভাগে দশম শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবার চায়ের দোকান আছে। মা একটি মুড়ির কারখানায় চাকরি করেন।

ওই শিক্ষার্থী জানায়, তার মা ও খালা পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। বিয়ের জন্য পাত্র ঠিক করেন। এমন অবস্থায় তিনি থানায় যাওযার সিদ্ধান্ত নেন। কিছুদিন আগে ওই এলাকায় পুলিশ আরেকটি বাল্যবিয়ে ভেঙে দেয়ায় সে থানায় যাওয়ার উৎসাহ ও সাহস পায় বলে জানায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে পুলিশের একটি দল তাদের বাসায় গিয়ে মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলার পর তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

মংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

নির্ধারিত জুতো না পরায় বাগেরহাটের মোংলার একটি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

মোংলার সেন্ট পলস স্কুল নামের ওই বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ক্লাস শুরুর সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছে।

এর আগে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, স্কুলের পোশাক নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপাতত চাপ দেয়া যাবে না, সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি এ কথা বলেন। তারপরও সেন্ট পলস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থী এমনকি ওই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরাও।

শিক্ষার্থীরা নিউজবাংলাকে জানায়, সকালে বিভিন্ন ক্লাসরুম পরিদর্শনে আসেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ঠিক আছে কিনা তা দেখতে তিনি ক্লাস শিক্ষকদের নির্দেশ দেন। সে সময় দেখা যায়, কয়েক ছাত্রের পোশাক ঠিক থাকলেও জুতা ছিল ভিন্ন।

এমন শতাধিক ছাত্রকে তখনই স্কুল থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর কেউ বাড়ি ফিরে যায়, কেউ স্কুলের আশপাশে বসে থাকে।

মোংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। তিনি মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি, সু পরে আসার নির্দেশ দিয়েছি। ইউএনও স্যার আসছেন, আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি।’

স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক এই স্কুলে নতুন। যোগদানের পর থেকেই ইচ্ছেমতো স্কুলের সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। করোনাকালে মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের এসব কিছু অগ্রাহ্য করা উচিত, যা তিনি করেননি।

এ বিষয়ে ইউএনও কমলেশ বলেন, ‘অভিযোগ শুনে আমি ওই স্কুলে যাই। যা বলার প্রধান শিক্ষককে বলে এসেছি। এখন সমস্যা নাই।’

আরও পড়ুন:
খোঁজ মেলেনি নালায় ডুবে যাওয়া সেই ব্যবসায়ীর
এত বড় নালার মুখ খোলা থাকে কীভাবে
নালায় পড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী
বিষখালীতে ভাঙন: এক দিনেও খোঁজ মেলেনি সেই কিশোরের
নিখোঁজের জিডি হলে জানাতে হবে সিটিটিসিকে

শেয়ার করুন